- প্রচ্ছদ
- Topic
চাকরি
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পেশায় এখনো কর্মীর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খালি ছিল। একই সময়ে ন্যাশভিল, আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে বেকারত্বের হারও তুলনামূলক কম ছিল। তবে শুধু একটি দক্ষতা থাকলেই ৩০ দিনের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত হবে বা চাকরি নিজে থেকে খুঁজে আসবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ভাষাগত দক্ষতা, অবস্থান এবং নিয়োগকর্তার চাহিদার ওপর। চাহিদার দিক থেকে নার্সিং ও সেবাযত্নের কাজ এখনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে নিবন্ধিত নার্সদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ৫৫০ ডলার। আগামী ১০ বছর এ পেশায় কর্মসংস্থান আরও ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। নার্সিং সহকারীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৪২ হাজার ২৬০ ডলার। আগামী ১০ বছরে বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৩০০টি নার্সিং সহকারী ও রোগীসেবাকর্মীর পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নার্সিং সহকারী হিসেবে কাজ করতে অনেক রাজ্যে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রয়োজন। ট্রাক চালনাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় কর্মসংস্থানের একটি ক্ষেত্র। ভারী ট্রাক ও ট্রেইলার চালকদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। আগামী ১০ বছরে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের কাজে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল থাকতে হয়। কারিগরি পেশাগুলোর চাহিদাও কম নয়। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কারিগর এবং ওয়েল্ডারের মতো কাজে দক্ষ কর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন রয়েছে। এসব পেশায় সবসময় চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। তবে প্রশিক্ষণ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রাজ্যভেদে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা, তথ্যনিরাপত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো কাজে চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সালে কম্পিউটার সহায়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৬২ হাজার ৮৯০ ডলার। তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার। আগামী ১০ বছরে তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কর্মসংস্থান ২১ শতাংশ বাড়তে পারে। শহরভেদেও শ্রমবাজারের চিত্র আলাদা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বড় শহরগুলোর মধ্যে ন্যাশভিলে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ে তা ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং শার্লটে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে র্যালেইয়ে এক বছরে বেসরকারি ও সরকারি মিলিয়ে মোট বেতনভুক্ত চাকরি ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং শার্লটে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার সময় শুধু কোন শহরে বেশি চাকরি রয়েছে, সেটি দেখলেই হবে না। নিজের দক্ষতার চাহিদা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ইংরেজি দক্ষতা, বেতন, বাসাভাড়া, কর এবং যাতায়াত খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দক্ষতাই চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং বাস্তব কাজের দক্ষতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিজের চাকরির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ৫৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে সব খাতে চাকরির প্রবৃদ্ধি সমান হবে না। স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি, প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সেবার মতো কিছু খাতে নিয়োগ বাড়লেও প্রশাসনিক ও বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেশায় চাকরি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের এই পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি আসবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। স্বাস্থ্যসেবায় ২২ লাখ নতুন চাকরি আগামী দশকে সবচেয়ে বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। এ খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ। খাতটির কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হৃদ্রোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদাও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে নার্স প্র্যাকটিশনারের চাকরি পেশাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হতে পারে নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরিতে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় আরও রয়েছে সোলার ফটোভোলটাইক ইনস্টলার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, উইন্ড টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান এবং মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজার। মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের কর্মসংস্থান ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। এআই ও ডেটা সেন্টারে ইউটিলিটি খাতে নিয়োগ প্রবৃদ্ধির হারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ইউটিলিটি খাত। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ খাতে কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে খাতটির আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় নতুন চাকরি হবে প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০টি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে এই কর্মসংস্থান বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চাকরি ১৫৩ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রযুক্তি খাতেও বাড়বে চাকরি এআই-এর বিস্তারে প্রযুক্তি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা খাত ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে এবং প্রায় ৯ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। এআই-ভিত্তিক সিস্টেম, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি পরামর্শক সেবার চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হবে। ডেটা সায়েন্টিস্টদের কর্মসংস্থান প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এআই-এর চাপে কমবে কিছু চাকরি সব পেশায় অবশ্য চাকরি বাড়বে না। এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তা-সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান কমতে পারে। এই খাতে চাকরি প্রায় ৪ শতাংশ বা ৭ লাখ ৫২ হাজার ১০০টি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে ই-কমার্সের বিস্তার এবং ব্যবসায় এআই ব্যবহারের কারণে বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট পেশাতেও কর্মসংস্থান ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। ফলে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমে যেতে পারে। বিশেষ করে শিল্প, নকশা, বিনোদন, ক্রীড়া ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কিছু চাকরিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিক চাকরির প্রবৃদ্ধি হবে ধীর সব মিলিয়ে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মসংস্থান ১৭ কোটি ৬ লাখ থেকে বেড়ে ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ৫৯ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার হবে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের দশকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী দশকের মার্কিন চাকরির বাজারে তাই শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, চাকরির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, এআই, প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোই এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার সহায়তা, আইনি পরামর্শ ও ড্রাইভার লাইসেন্সের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি ও কমিউনিটি পর্যায়ে সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে কাছাকাছি বিভিন্ন সেবা খুঁজে পাওয়া যায়। চাকরি খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ক্যারিয়ারলিংক গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা। এখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি রেজিউমে তৈরি, চাকরির ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন সহায়তা পাওয়া যায়। অনলাইনে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে চাকরির জন্য আবেদনও করা যায়। স্থানীয় সরকারি ও সামাজিক সেবা খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ২১১ সেবা বেশ কার্যকর। ২১১ নম্বরে ফোন করে কিংবা নিজের জিপ কোড ৮৯৮-২১১ নম্বরে টেক্সট করে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সন্তানের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে আগে নিজের এলাকার স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সম্পর্কে জানা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ায় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট অব ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্লেসমেন্ট অফিস নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি এবং স্কুল সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে থাকে। বসবাসের ঠিকানা ও জিপ কোডের ভিত্তিতে কোন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সে তথ্যও পাওয়া যায়। ইংরেজি শেখার জন্য পেনসিলভেনিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে ইএসএল ক্লাস পরিচালিত হয়। অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য দ্য ওয়েলকামিং সেন্টারেও বিনামূল্যে ইংরেজি ও ডিজিটাল দক্ষতা শেখার সুযোগ রয়েছে। নতুন অভিবাসীদের জন্য ফ্রি লাইব্রেরি অব ফিলাডেলফিয়াও গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স। লাইব্রেরি কার্ডের মাধ্যমে বই পড়ার পাশাপাশি চাকরি খোঁজা, রেজিউমে তৈরি, ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিনামূল্যের সেবা ব্যবহার করা যায়। কিছু শাখায় নতুন আমেরিকানদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি ও ফুড ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ায় জিপ কোড বা ঠিকানা দিয়ে ফ্রি খাবার ও গ্রোসারি সহায়তার বিভিন্ন স্থান খুঁজে বের করা সম্ভব। কিছু প্রতিষ্ঠানে সহায়তা নিতে পরিচয়পত্র বা আয়ের প্রমাণের প্রয়োজন নাও হতে পারে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে জানতে ফিলাডেলফিয়ায় বেনিফিলির সহায়তা নেওয়া যায়। এসএনএপি, মেডিকেইড, এলআইএইচইএপি, এসএসআই ও এসএসডিআই-এর মতো সুবিধার যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাউন্সেলরদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজে আসতে পারে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসার ধরন, যোগ্যতা ও খরচ প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো। ইমিগ্রেশন, হাউজিং বা কর্মক্ষেত্রে নিজের অধিকার নিয়ে সমস্যায় পড়লে পেনসিলভেনিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের স্থানীয় সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ফ্রি বা কম খরচে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স সেন্টার ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে নিজের জিপ কোড দিয়ে কাছাকাছি সেন্টার খুঁজে প্রয়োজনীয় সেবার তথ্য এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করা সম্ভব। বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তাও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন ও মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে। ঈদ, বৈশাখী অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্য মেলা, সামাজিক সহায়তা এবং নতুন অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম এসব সংগঠনের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। পেনসিলভেনিয়ায় নতুন কেউ কোনো সেবা খুঁজলে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। যেমন, নিজের এলাকার জিপ কোড যোগ করে চাকরি বা বিনামূল্যের ইএসএল ক্লাসের জন্য অনলাইনে খোঁজ করলে কাছাকাছি সুযোগগুলো দ্রুত পাওয়া যায়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে তাদের বর্তমান সময়সূচি, যোগ্যতা এবং সেবা চালু আছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
লোডশেডিংয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বানিয়ে আলোচনায় আসা মাদারীপুরের বিদ্যুৎকর্মী সুমন হোসেন চাকরি হারানোর পর নতুন পেশা বেছে নিয়েছেন। নতুন কাজে মাত্র তিন ঘণ্টায় ২ হাজার টাকা আয় করার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। সুমন হোসেন ‘বিদ্যুৎ প্রতিদিন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিং নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করতেন। তার দাবি ছিল, বিদ্যুৎ অফিস কীভাবে লোডশেডিং পরিচালনা করে, তা সাধারণ মানুষকে বোঝানো এবং বিদ্যুৎ অফিস ও কর্মীদের ওপর ক্ষোভ থেকে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোই ছিল তার উদ্দেশ্য। তবে এসব ভিডিও প্রকাশের পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়েন বলে জানান। পরে ১২ আগস্ট তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মাদারীপুরের মিঠাপুকুর স্টেশনে লাইনম্যান গ্রেড-২ পদে কর্মরত ছিলেন। চাকরি হারানোর পর নিজের নতুন কর্মজীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন সুমন। সেখানে তিনি জানান, নতুন পেশায় মাত্র তিন ঘণ্টা কাজ করেই ২ হাজার টাকা আয় করেছেন। তবে নতুন পেশাটি কী, তার বিস্তারিত তথ্য নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে চাকরি হারানোর পর দেওয়া এক পোস্টে সুমন নিজের তৈরি ভিডিও নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকদের বোঝানো যে বিদ্যুৎ অফিসগুলো কীভাবে লোডশেডিং পরিচালনা করে। কিন্তু ভিডিওটি বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় পরিস্থিতি তার ধারণার বাইরে চলে যায় বলে দাবি করেন তিনি। সুমন আরও জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনো পোস্ট বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না। চাকরি হারানোর পর নতুন পেশায় তার এই আয়ের দাবি ফের তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
চাকরির কারণে ১৩ বছরের পরিচিত জীবন পেছনে ফেলে আমেরিকা থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার। পরিবার, বন্ধু, পরিচিত শহর আর অসংখ্য স্মৃতি ছেড়ে নতুন দেশে যাত্রা তার জন্য যেমন আবেগের, তেমনি নতুন অভিজ্ঞতারও। ভোর রাতে মিজৌরির সেন্ট লুইস এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হয় পঙ্কজের যাত্রা। সেন্ট লুইস থেকে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, এরপর বাল্টিমোর থেকে জার্মানির রামস্টেইন এয়ার বেস। সেখান থেকে আরও প্রায় ছয় ঘণ্টার বাসযাত্রা শেষে পৌঁছান নিজের নতুন ইউনিটে। অচেনা জায়গা আর অচেনা মানুষ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মনে ছিল নানা ভাবনা। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর রিসেপশনে পাওয়া আন্তরিক অভ্যর্থনা অনেকটাই স্বস্তি দেয় তাকে। সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল আলাদা একটি রুম, বাথরুম ও কিচেনসহ পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যে এই আয়োজনই যেন হয়ে ওঠে নতুন জীবনের প্রথম স্বস্তি। আগামী কয়েক বছর এই জায়গাটিই হবে পঙ্কজের ঠিকানা। অচেনা এই পরিবেশেই তৈরি হবে নতুন গল্প, নতুন অভিজ্ঞতা আর নতুন স্মৃতি। তবে নতুন জীবনের শুরু হলেও নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে আসার অনুভূতি সহজ নয়। শহরটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের দীর্ঘ ১৩ বছরের অসংখ্য স্মৃতি। নিউইয়র্কের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যেমন অনেক স্বপ্ন দেখেছেন, তেমনি সেখানে পেয়েছেন আনন্দের মুহূর্ত এবং কঠিন সময় পার করার অভিজ্ঞতাও। তাই নিউইয়র্ক ছেড়ে আসা তার কাছে কেবল একটি শহর ছেড়ে যাওয়া নয়। এটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সাময়িকভাবে পেছনে রেখে নতুন অধ্যায়ের পথে যাত্রা। প্রিয় নিউইয়র্ক এখন পেছনে, সামনে জার্মানি। নতুন দেশ, নতুন ঠিকানা, নতুন মানুষ আর নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো পঙ্কজ তালুকদারের জীবনের আরেকটি অধ্যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, ইউএস আর্মিতে যোগ দিতে আগ্রহীদের জন্য বর্তমানে ২০০টিরও বেশি সামরিক চাকরির সুযোগ রয়েছে। হেলথ কেয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রশাসন, পরিবহন, এভিয়েশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ থাকলেও পদভেদে যোগ্যতা ও বয়সসীমা আলাদা হতে পারে। ইউএস আর্মির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ এনলিস্টেড পদে আবেদনকারীর বয়স ১৭ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে হতে হবে। ইউএস আর্মিতে এনলিস্টেড হিসেবে যোগ দিতে হলে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ গ্রিন কার্ডধারী পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হতে হবে। পাশাপাশি হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি থাকতে হবে, মেডিক্যাল ও শারীরিকভাবে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত হতে হবে এবং সেনাবাহিনীর প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় স্কোর অর্জন করতে হবে। এই প্রবেশিকা পরীক্ষা হলো এএসভিএবি। ইউএস আর্মির তথ্য অনুযায়ী, এনলিস্ট হওয়ার জন্য এএফকিউটি স্কোর কমপক্ষে ৩১ প্রয়োজন। পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে একজন প্রার্থী কোন কোন সামরিক চাকরির জন্য যোগ্য হবেন, সেটিও নির্ধারিত হয়। তবে সব পদের নিয়ম এক নয়। যেমন এভিয়েশন বা স্পেশাল ফোর্সেসের মতো বিশেষায়িত পদে বয়স, নাগরিকত্ব, শারীরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অতিরিক্ত শর্ত থাকতে পারে। তাই শুধু সাধারণ বয়সসীমা পূরণ করলেই প্রতিটি পদে আবেদন করা যাবে, এমন নয়। বেতনের ক্ষেত্রে ইউএস আর্মির ২০২৬ সালের পে টেবিল অনুযায়ী, এনলিস্টেড সদস্যদের বেতন পদমর্যাদা ও চাকরির মেয়াদের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে, দুই বছরের কম চাকরির অভিজ্ঞতার একজন ই-১ সদস্যের বেসিক পে মাসে প্রায় ২ হাজার ১০০ ডলার থেকে শুরু হয়, আর একই পর্যায়ের ই-২ সদস্যের বেসিক পে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ডলার। এর বাইরে আবাসন, খাবার ও অন্যান্য ভাতা এবং বিশেষ দায়িত্বের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিয়োগের সময় যোগ্য প্রার্থীরা বিভিন্ন ধরনের বোনাসও পেতে পারেন। ইউএস আর্মির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট চাকরি, দক্ষতা এবং দ্রুত বেসিক ট্রেনিংয়ে যোগ দেওয়ার মতো শর্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন বোনাস মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই অর্থ সবার জন্য নিশ্চিত নয় এবং যোগ্যতা ও চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা রয়েছে। ইউএস আর্মির টিউশন অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সদস্যরা বছরে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত শিক্ষা বা পেশাগত প্রশিক্ষণের খরচে সহায়তা পেতে পারেন। এছাড়া আর্মির লোন রিপেমেন্ট কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সদস্যদের প্রায় ৬৫ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবাও সামরিক চাকরির অন্যতম বড় সুবিধা। পূর্ণকালীন সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিনা খরচে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরাও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। এর পাশাপাশি আবাসন, খাবার, পোশাক এবং অন্যান্য ভাতার সুযোগ রয়েছে। ইউএস আর্মির তথ্য অনুযায়ী, সদস্যরা বছরে ৩০ দিন পেইড ছুটিও পান। আবেদন করতে হলে প্রথম ধাপে স্থানীয় ইউএস আর্মি রিক্রুটারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এরপর এএসভিএবি পরীক্ষা, শারীরিক পরীক্ষা ও অন্যান্য যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সব শর্ত পূরণ হলে প্রার্থী নিজের যোগ্যতা ও পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চাকরির ক্ষেত্র বেছে নিয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বেসিক ট্রেনিংয়ের প্রস্তুতি নেন। তবে বেতন, বোনাস, পদভেদে যোগ্যতা এবং অন্যান্য সুবিধা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে বোনাসের পরিমাণ নির্দিষ্ট চাকরি ও চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার আগে ইউএস আর্মির সর্বশেষ অফিসিয়াল তথ্য এবং রিক্রুটারের কাছ থেকে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা উচিত।
পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, আবাসন ও আইনি সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন সরকারি ও কমিউনিটি সেবা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন আসা পরিবারের জন্য নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে এসব সেবা খুঁজে নেওয়া সহজ। সবার আগে কাজে লাগতে পারে পেনসিলভেনিয়া ২১১। ২১১ নম্বরে ফোন করে বা নিজের জিপ কোড জানিয়ে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি, শিক্ষা ও অন্যান্য সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সেবাটি বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। চাকরির জন্য পেনসিলভেনিয়ার সরকারি ক্যারিয়ারলিংক ব্যবহার করা যেতে পারে। সেখানে চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, চাকরি খোঁজার প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সহায়তা পাওয়া যায়। বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখার ক্লাস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার সুযোগও জিপ কোড অনুযায়ী খুঁজে নেওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিতে নতুন অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতির বিভিন্ন রিসোর্স রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি, বিনামূল্যের খাবার ও অন্যান্য খাদ্য সহায়তা খুঁজে পাওয়া যায়। একইভাবে আবাসন ও বাড়িভাড়ার সহায়তার তথ্যও পাওয়া যায়। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স ও ফটো সেন্টার জিপ কোড দিয়ে খুঁজে নেওয়া যায়। তাই পেনসিলভেনিয়ায় নতুন হলে নিজের জিপ কোড দিয়ে সরকারি ও স্থানীয় সেবাগুলো খুঁজে দেখুন। চাকরি, স্কুল, খাবার, আবাসন বা অন্যান্য সহায়তার জন্য ২১১ এবং ক্যারিয়ারলিংক হতে পারে ভালো শুরু।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য Resume পাঠানোর আগে এর ফরম্যাট, তথ্য ও শব্দচয়ন ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক প্রতিষ্ঠান Applicant Tracking System বা ATS ব্যবহার করে Resume স্ক্যান করে। এই সফটওয়্যার চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে থাকা নির্দিষ্ট Keyword, Skills ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রার্থীর Resume মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে আবেদন বাছাই করতে পারে। তবে ATS সব Resume একইভাবে যাচাই করে না এবং কোনো Resume-কে ‘১০০ শতাংশ পাস’ করানোর নিশ্চয়তাও নেই। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক Resume Guide এবং CareerOneStop-এর নির্দেশনায় ATS-এর উপযোগী সহজ ফরম্যাট ও চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিল রেখে তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, Resume-তে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিন। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ চাকরির Resume-তে ছবি, বয়স, জন্মতারিখ, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা বা বাবার নাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে নিজের নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল, City ও State এবং প্রয়োজন হলে LinkedIn প্রোফাইল দিতে পারেন। পুরো বাসার ঠিকানা দেওয়াও সাধারণত প্রয়োজন হয় না। দ্বিতীয়ত, Resume-এর দৈর্ঘ্য অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে ঠিক করুন। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক পৃষ্ঠা যথেষ্ট হতে পারে। তবে অভিজ্ঞ প্রার্থীর Resume প্রয়োজন অনুযায়ী দুই পৃষ্ঠা পর্যন্ত হতে পারে। CareerOneStop সাধারণত দীর্ঘ কর্মজীবনের ক্ষেত্রে গত ১২ থেকে ১৫ বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাই বহু বছর আগের অপ্রাসঙ্গিক চাকরির তথ্য দিয়ে Resume ভারী করার দরকার নেই। তৃতীয়ত, Job Description ভালোভাবে পড়ুন। সেখানে যে Skills ও যোগ্যতাগুলো চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা মিললে একই ধরনের Keyword Resume-তে ব্যবহার করুন। যেমন Customer Service, Cash Handling বা Inventory Management। তবে এমন কোনো Skill লিখবেন না, যা আপনার আসলে নেই। চতুর্থত, Resume-এর শুরুতেই নিজের পরিচয় ও পেশাগত যোগ্যতা পরিষ্কার করুন। নাম, যোগাযোগের তথ্যের পর একটি সংক্ষিপ্ত Professional Summary দেওয়া যেতে পারে। এতে আপনি কোন ধরনের কাজ করেন, কত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরুন। নতুন গ্র্যাজুয়েট বা অল্প অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে Summary প্রয়োজন না-ও হতে পারে। পঞ্চমত, কাজের অভিজ্ঞতা শুধু দায়িত্বের তালিকা হিসেবে লিখবেন না। সম্ভব হলে কাজের ফলাফল সংখ্যা দিয়ে তুলে ধরুন। যেমন ‘প্রতিদিন ১০০-এর বেশি কাস্টমারকে সেবা দিয়েছি’ বা ‘প্রতিদিন ৫ হাজার ডলারের ক্যাশ লেনদেন পরিচালনা করেছি’। CareerOneStop-ও কাজের বর্ণনায় সংখ্যা, শতাংশ, বিক্রি বা সাশ্রয়ের পরিমাণ এবং অর্জন তুলে ধরার পরামর্শ দেয়। ষষ্ঠত, Education অংশে বাংলাদেশের শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির জন্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করুন। ডিগ্রি, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রাসঙ্গিক হলে গ্র্যাজুয়েশনের বছর উল্লেখ করুন। বাংলাদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার যুক্তরাষ্ট্রে সমমান নির্ধারণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক credential evaluation করা থাকলে, চাকরির ক্ষেত্রে সেটি প্রাসঙ্গিক হলে উল্লেখ করা যেতে পারে। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে ভুলভাবে ‘High School Diploma’ বা অন্য কোনো মার্কিন ডিগ্রির নামে পরিবর্তন করা উচিত নয়। সপ্তমত, Skills অংশে চাকরিটির সঙ্গে সম্পর্কিত Technical বা Job-specific Skills আগে রাখুন। যেমন POS, Excel, QuickBooks বা Forklift। Soft Skills-এর ক্ষেত্রেও শুধু সাধারণ শব্দের তালিকা না দিয়ে, সম্ভব হলে Professional Summary বা কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেগুলোর প্রমাণ দেখানো বেশি কার্যকর। অষ্টমত, ATS-এর জন্য Resume-এর ডিজাইন যতটা সম্ভব সহজ রাখুন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বলছে, অনেক ATS টেবিল, কলাম, ছবি, চার্ট বা গ্রাফিক্স ঠিকভাবে পড়তে পারে না। তাই একটি পরিষ্কার Single-column Layout এবং প্রচলিত Section Heading ব্যবহার করা নিরাপদ। Resume-এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Header বা Footer-এর ভেতরে না রাখাও ভালো। নবমত, Resume-এর File Format চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দিন। শুধু ATS-এর কারণে সবসময় PDF বাদ দিয়ে DOCX ব্যবহার করতে হবে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের গাইডে বলা হয়েছে, Job Posting-এ যে Format চাওয়া হয়েছে সেটিই অনুসরণ করতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট Format না দেওয়া থাকে, CareerOneStop সাধারণত PDF ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, কারণ এতে ফরম্যাট ঠিক থাকে। File Name-এ নিজের নাম ও প্রয়োজনে Job Title রাখা যেতে পারে। দশমত, Resume-এর পাশাপাশি Cover Letter প্রয়োজন হলে সেটিও Job Description অনুযায়ী তৈরি করুন। কোন পদের জন্য আবেদন করছেন, আপনার কোন অভিজ্ঞতা ওই পদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে এবং কেন আপনি উপযুক্ত, তা সংক্ষেপে তুলে ধরা যায়। ChatGPT বা অন্য কোনো AI Tool দিয়ে খসড়া তৈরি করলেও তথ্য অবশ্যই নিজের হতে হবে এবং ভাষা নিজের মতো করে সম্পাদনা করা উচিত। CareerOneStop-ও Resume উন্নত করতে AI Tool ব্যবহারের সুযোগের কথা উল্লেখ করেছে। সবশেষে, ATS পাস করানোর কোনো নির্দিষ্ট ‘৯০+’ বা ‘১০০%’ স্কোর নিশ্চিত করার পদ্ধতি নেই। বরং চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক Keyword মিল রাখা, সত্য তথ্য ব্যবহার করা এবং সহজে পড়া যায় এমন Resume তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ২০২৬ সালের Resume Guide অনুযায়ী, ATS অনেক ক্ষেত্রে Keyword ও Formatting দেখে প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে বাছাই করতে পারে। তাই সুন্দর ডিজাইনের চেয়ে সঠিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা এবং পরিষ্কার ফরম্যাটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্রে ইমেইল শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একজন কর্মীর professional communication-এরও অংশ। তাই ম্যানেজার বা সহকর্মীকে ইমেইল করার সময় Subject থেকে Greeting, ভাষা, বানান এবং শেষের Signature পর্যন্ত কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের Department of Labor-এর বিভিন্ন গাইডলাইনেও professional email-এ পরিষ্কার Subject, উপযুক্ত Greeting, সংক্ষিপ্ত ভাষা, সঠিক বানান এবং পাঠানোর আগে ইমেইল পুনরায় পড়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইমেইলের শুরুতেই Subject Line পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। শুধু “Question” বা “Update” না লিখে কী বিষয়ে ইমেইল করা হচ্ছে, তা উল্লেখ করা ভালো। যেমন, “Request for Day Off - October 25” অথবা “Update on Inventory Task - Store #1234”। Greeting-এর ক্ষেত্রেও পেশাদার ভাষা ব্যবহার করা জরুরি। “Bro”, “Dude” বা অতিরিক্ত informal সম্বোধন এড়িয়ে চলুন। পরিচিত হলে “Hi John,” অথবা “Hello Mr. Smith,” ধরনের সম্বোধন ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিস্থিতি ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি অনুযায়ী Greeting কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ইমেইলের মূল বক্তব্য সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি হওয়া ভালো। প্রথমে কেন লিখছেন তা বলুন, এরপর প্রয়োজনীয় Details দিন এবং শেষে আপনি কী চান বা কী ধরনের Action আশা করছেন তা পরিষ্কার করুন। অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যার বদলে ছোট, সহজে বোঝা যায় এমন বাক্য ব্যবহার করা উচিত। ভদ্র ও professional শব্দের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। “Please”, “Thank you”, “I appreciate your time” এবং “Could you please...” এর মতো বাক্য ইমেইলের Tone-কে পেশাদার রাখতে সাহায্য করে। তবে একই শব্দ বারবার ব্যবহার করে ইমেইল কৃত্রিম করে তোলার প্রয়োজন নেই। অসুস্থতার কারণে কাজে যেতে না পারলে ইমেইল হতে পারে এমন: Subject: Sick Leave Today Hi [Manager Name], I am not feeling well today and am unable to come to work. I will keep you updated. Thank you for your understanding. Best, [Your Name] Day Off চাইতে হলে সরাসরি কারণ জানিয়ে অনুমোদন চাওয়া যায়। যেমন, কোনো family appointment থাকলে জানিয়ে বলতে পারেন যে আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো শেষ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে সহকর্মীর সঙ্গে কাজ সমন্বয় করবেন। দেরিতে অফিসে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যা না দিয়ে সংক্ষেপে জানানো ভালো। যেমন, “I am stuck in traffic and will be approximately 15 minutes late. I apologize for the inconvenience.” ইন্টারভিউয়ের পর Thank You Email পাঠানোও professional practice হিসেবে কাজে আসতে পারে। সেখানে ইন্টারভিউয়ের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে Position বা Team সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করা যায়। যেমন, “Thank you for taking the time to meet with me today. I enjoyed learning more about the team and am excited about the opportunity.” আরও কিছু বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত। ইমেইলে ALL CAPS ব্যবহার করলে তা অনেক সময় চিৎকার করার মতো মনে হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় Emoji, Joke, Sarcasm, Gossip বা আবেগপ্রবণ মন্তব্যও professional email-এ না রাখাই ভালো। Department of Labor-এর professional email etiquette guidance-এ সংক্ষিপ্ত, ব্যবসায়িক ভাষা ব্যবহার এবং পাঠানোর আগে spelling ও পুরো বার্তাটি আবার পড়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সবশেষে Send বাটনে চাপ দেওয়ার আগে অন্তত একবার To, Subject, নাম, বানান, Attachment এবং মূল বক্তব্য পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে ভুল ব্যক্তির কাছে ইমেইল চলে গেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ ইমেইল সবসময় নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের Department of Labor-এর সাম্প্রতিক Employment Workshop গাইডেও professional email-এর ক্ষেত্রে পরিষ্কার Subject Line, উপযুক্ত Greeting, সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি ভাষা, ভদ্র Tone এবং যথাযথ Closing ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই আমেরিকায় চাকরির ক্ষেত্রে ভালো ইমেইলের সহজ সূত্র হলো: পরিষ্কার Subject, professional Greeting, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ভদ্র ভাষা এবং Send করার আগে একবার ভালোভাবে Check।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ বা ব্যবসা করার অনুমতি থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তুলনামূলক কম পুঁজিতে বিভিন্ন ছোট ব্যবসা শুরু করার সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য, শহর ও এলাকার নিয়ম আলাদা হতে পারে। কোথাও ব্যবসার লাইসেন্স, কোথাও বিশেষ অনুমতি, বীমা বা পেশাগত সনদের প্রয়োজন হতে পারে। তাই ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় নিয়মকানুন যাচাই করা জরুরি। ১. ক্লিনিং ব্যবসা বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দিয়ে তুলনামূলক কম খরচে ব্যবসা শুরু করা যায়। একা কিংবা দুই-তিনজনের ছোট দল নিয়ে কাজ শুরু করে পরিচিতজন, স্থানীয় কমিউনিটি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কাস্টমার পাওয়া সম্ভব। তবে ব্যবসার লাইসেন্স বা স্থানীয় অনুমতি প্রয়োজন কি না, তা সংশ্লিষ্ট শহর বা অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করতে হবে। ২. ফুড কার্ট বা হালাল খাবারের ব্যবসা বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটিতে হালাল খাবারের চাহিদা থাকায় ফুড কার্ট একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও অনুমতির প্রয়োজন হয়। নিউইয়র্কে খাবারের কার্ট বা ট্রাক পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স, অনুমতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের শর্ত রয়েছে। ৩. রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি নিজস্ব গাড়ি থাকলে রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি কাজের মাধ্যমে আয় শুরু করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র, বীমা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। শুধু আইটিআইএন থাকলেই সব রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কাজ করা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ৪. বাসাভিত্তিক শিশু যত্নের ব্যবসা নিজের বাসা থেকে শিশুদের দেখাশোনার ব্যবসা করার সুযোগ কিছু এলাকায় রয়েছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রিত একটি সেবা এবং অঙ্গরাজ্য ও এলাকার নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্কে বাসাভিত্তিক পারিবারিক শিশু যত্নের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের সেবা সংশ্লিষ্ট শিশু ও পরিবারসেবা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ৫. কাপড়ের ব্যবসা ও অনলাইন বুটিক কম পরিসরে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। থ্রিফট স্টোর থেকে পোশাক কিনে অনলাইনে বিক্রি করা কিংবা বাংলাদেশি থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য পোশাক নিয়ে অনলাইন বুটিক চালু করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে স্থানীয় কাস্টমারের কাছে পণ্য পৌঁছানো যায়। ৬. নাপিত ও বিউটি সার্ভিস চুল কাটা, সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যসেবা দেওয়ার দক্ষতা থাকলে এই খাতে ব্যবসা করা যেতে পারে। কেউ বাসা থেকে সেবা দিতে পারেন, আবার চাইলে দোকানেও কাজ শুরু করতে পারেন। তবে নাপিত, কসমেটোলজি বা বিউটি সার্ভিসের লাইসেন্সের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। তাই প্রশিক্ষণ বা ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি। ৭. নোটারি ও ভাষা সহায়তা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিরা নোটারি সেবা এবং বৈধ অনুবাদ বা নথিপত্র প্রস্তুতিতে সহায়তার কাজ করতে পারেন। তবে নোটারি পাবলিকের দায়িত্ব ও ফি অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। একইভাবে ইমিগ্রেশন বিষয়ে আইনি পরামর্শ বা প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা পেশাগত যোগ্যতা ছাড়া ইমিগ্রেশন আইনজীবীর কাজ করা যাবে না। ৮. ট্যাক্স ও আইটিআইএন সহায়তা ট্যাক্স মৌসুমে ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত করা কিংবা আইটিআইএন আবেদনে অনুমোদিতভাবে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ অনুমোদিত গ্রহণকারী প্রতিনিধি কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইটিআইএন আবেদনে সহায়তার সুযোগ দেয়। তবে এ ধরনের কাজের জন্য নির্দিষ্ট আবেদন, যোগ্যতা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে। ৯. মুভিং হেল্প ও হ্যান্ডিম্যান সার্ভিস ফার্নিচার জোড়া লাগানো, বাসা বদলের কাজে সহায়তা এবং ছোটখাটো মেরামতের মতো দক্ষতাভিত্তিক সেবা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবসায় বড় ধরনের পণ্য মজুত রাখার প্রয়োজন না থাকায় প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং বা নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট সেবার জন্য স্থানীয় লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে। ১০. ইউটিউব ও টিকটক কনটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনযাপন, চাকরি, ব্যবসা, গাড়ি চালানো, স্কুল, অভিবাসন প্রক্রিয়া ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করেও দীর্ঘমেয়াদে আয়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আয় নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নীতিমালা পূরণ করতে হয়। ব্যবসা শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় আইন ও নিয়ম জানা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসার ধরন নির্বাচন, নিবন্ধন, কর শনাক্তকরণ নম্বর, লাইসেন্স, অনুমতি এবং ব্যবসায়িক বীমার বিষয়গুলো শুরুতেই যাচাই করা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ থেকে নিয়োগকর্তা শনাক্তকরণ নম্বর বা ইআইএন নেওয়া যায়। যোগ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে এই নম্বর নেওয়ার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। নতুন ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলো থেকেও পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, পরিচালনা ও অন্যান্য বিষয়ে এসব কেন্দ্র সহায়তা করতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে এক অঙ্গরাজ্যে যে ব্যবসা সহজে করা যায়, অন্য অঙ্গরাজ্য বা শহরে সেটির জন্য আলাদা লাইসেন্স, অনুমতি কিংবা এলাকার ব্যবহার সংক্রান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু কম পুঁজি দিয়ে শুরু করা যাবে কি না, সেটিই নয়, ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় আইন, কর, লাইসেন্স, অনুমতি ও বীমার বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) অতীতে যৌনকর্মীর সেবা নেওয়া ব্যক্তিদের চাকরির আবেদন সরাসরি বাতিল করার নীতি শিথিল করেছে। নতুন ব্যবস্থায় কিছু আবেদনকারীকে অতীত কর্মকাণ্ডের ধরন, সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে এফবিআই যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য করেছে। চলতি বছরের বসন্তে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১০ বছরের মধ্যে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, মোট তিনবার বা তার বেশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড করা অথবা জননিরাপত্তার মতো দায়িত্বশীল পদে থাকা অবস্থায় এতে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আবেদনকারীকে এখনও চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। এর বাইরে থাকা কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অতীত কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করার সুযোগ থাকবে। এ পরিবর্তনের ফলে অতীতে এমন ঘটনায় জড়িত ছিলেন এমন কিছু প্রার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়বেন না। এফবিআই জানিয়েছে, নীতির পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হলো এমন কিছু যোগ্য প্রার্থীকে বিবেচনার সুযোগ দেওয়া, যারা এমন দেশে অবস্থানকালে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন যেখানে বিষয়টি বৈধ ছিল। পাশাপাশি অল্প বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এফবিআই স্পষ্ট করেছে, অপরাধমূলক যৌন কর্মকাণ্ড এখনও চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ। সংস্থাটির ভাষ্য, আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক ও ভেটিং প্রক্রিয়া এখনও ব্যাপক ও কঠোর। এফবিআইয়ে চাকরির আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, বিস্তারিত প্রশ্নপত্র, ক্রেডিট চেক, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সঙ্গে ইন্টারভিউ এবং পলিগ্রাফ টেস্টের মতো একাধিক ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এমন ব্যক্তিগত তথ্যও যাচাই করা হয়, যা ভবিষ্যতে কোনো কর্মীকে চাপ বা ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ফেলোনি কনভিকশন, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের কনভিকশন, ইউরিনালাইসিসে ব্যর্থতা এবং সংস্থার ড্রাগ নীতির কিছু লঙ্ঘন এখনও স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। নীতির এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো, যখন এফবিআইসহ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জনবল পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। নিয়োগের মানদণ্ড শিথিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এফবিআই বলছে, সংস্থাটি এখনও আবেদনকারী ও কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম কঠোর উপযুক্ততা মানদণ্ড বজায় রেখেছে।
সন্তানের ভিডিও গেমের আসক্তি নিয়ে বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব অভিভাবকই কমবেশি চিন্তিত থাকেন। সন্তানকে গেম থেকে দূরে রাখতে বাবা মায়েরা বকাঝকা থেকে শুরু করে ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার মতো অনেক কিছুই করে থাকেন। তবে চীনের এক বাবা তার বেকার ছেলেকে গেমের নেশা থেকে বের করে কাজে ফেরাতে এমন এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন, যা শুনে যে কেউ অবাক হবেন। ছেলেকে গেমের ভার্চুয়াল জগতে প্রতিনিয়ত হত্যা করার জন্য রীতিমতো পেশাদার গেমার বা খেলোয়াড় ভাড়া করেছিলেন তিনি। চীনের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী তরুণ জিয়াও ফেং। কিছুদিন আগে তিনি তার চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে সারাদিন ভিডিও গেম খেলাতেই মগ্ন থাকতেন তিনি। তার বাবার অভিযোগ ছিল, ছেলে সারাদিন অনলাইনে গেম খেলে সময় নষ্ট করছে এবং নতুন কোনো চাকরি খোঁজার ব্যাপারে তার কোনো তাগিদই নেই। ছেলেকে স্বাভাবিকভাবে বুঝিয়ে কোনো লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি এক ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা করেন। তিনি ভেবেছিলেন, ছেলেকে যখন গেম থেকে বের করে আনা যাচ্ছে না, তখন তাকেই ওই গেমের ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। তবে নিজে গেম খেলা শুরু করার বদলে তিনি অন্য পথ ধরেন। তিনি ছেলের চেয়েও অনেক বেশি দক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন পেশাদার গেমারকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেন। তাদের কাজ ছিল একটাই, জিয়াও ফেং যখনই গেমে লগ ইন করবেন, তখনই তাকে খুঁজে বের করে গেমের ভেতরেই হত্যা করা। ওই বাবার মূল পরিকল্পনা ছিল, বারবার গেমে হেরে গিয়ে বা খুন হয়ে ছেলে হতাশ হয়ে পড়বে। এক পর্যায়ে গেমের প্রতি তার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে এবং সে বাধ্য হয়ে আবারও কাজের প্রতি মনোযোগী হবে। তবে বাবার এই গোপন পরিকল্পনা খুব বেশিদিন চাপা থাকেনি। জিয়াও ফেং বুঝতে পারেন যে গেমের ভেতরে অদ্ভুত কিছু একটা ঘটছে। তিনি লক্ষ্য করেন, তিনি যখনই গেম খেলতে ঢুকছেন, তখনই নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড় তাকে টার্গেট করে আক্রমণ করছে। এক পর্যায়ে তিনি আবিষ্কার করেন যে এই ডিজিটাল গুপ্তঘাতকদের পেছনে আসলে তার নিজের বাবাই রয়েছেন। বাবার এই কাণ্ড জানার পর জিয়াও ফেং তাকে নিজের চাকরি ছাড়ার পেছনের আসল কারণটি বুঝিয়ে বলেন। তিনি বাবাকে জানান, সারাজীবন গেম খেলার জন্য তিনি চাকরি ছাড়েননি। মূলত নিজের মনের মতো কোনো কাজ না পাওয়ার কারণেই তিনি আপাতত বেকার বসে আছেন এবং সময় কাটাচ্ছেন। তবে বাবার এই সুপরিকল্পিত এবং ব্যয়বহুল কৌশল শেষ পর্যন্ত খুব একটা কাজে আসেনি। পেশাদার গেমার লেলিয়ে দেওয়ার পরও জিয়াও ফেং স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় খুব একটা কমিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও ওই বাবা অন্তত এটুকু ভেবে সান্ত্বনা পেতে পারেন যে ছেলের নেশা ছাড়ানোর জন্য তিনি সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছেন। ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় গেমের ভেতরেই ছেলের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলার এই ঘটনাটি এখন নেট দুনিয়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদসূত্র: দ্য এপক টাইমস, কেএসএল, দ্য গার্ডিয়ান ও অন্যান্য সমসাময়িক প্রতিবেদন।
নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর সামনে রেখে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ দিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস। এসব পদের মধ্যে এমন কিছু স্কুলভিত্তিক চাকরি রয়েছে, যেখানে চার বছরের কলেজ ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে ব্যাচেলর ডিগ্রি না থাকলেও যোগ্যতা অনুযায়ী কিছু পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের চাকরির তালিকায় স্কুল সহকারী, পরিবার সহায়তাকর্মী এবং বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কোন পদের জন্য কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা বা অন্যান্য শর্ত প্রয়োজন, তা পদভেদে আলাদা। ডিগ্রি ছাড়াই স্কুলে কাজের অন্যতম সুযোগ হলো বিকল্প প্যারাপ্রফেশনাল পদ। এই পদের জন্য চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন নেই। তবে আবেদনকারীর হাইস্কুল ডিপ্লোমা, জিইডি অথবা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতিও থাকতে হবে। বিকল্প প্যারাপ্রফেশনাল হিসেবে কাজ করতে আগ্রহীদের কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই, প্রয়োজনীয় চাকরির কাগজপত্র, আই-৯ যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। নির্ধারিত যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়োগের পরবর্তী ধাপে যাওয়া যায়। এ ছাড়া স্কুল সহকারী ও পরিবার সহায়তাকর্মীর মতো কিছু পদেও কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি চাকরির যোগ্যতা আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। তবে ডিগ্রি না লাগলেও এসব চাকরিতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন নেই, এমন নয়। আবার স্কুলের সব ধরনের চাকরিতেও ডিগ্রি ছাড়া আবেদন করা যায় না। যেমন বিকল্প শিক্ষক পদে সাধারণত ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন। নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে যারা নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসে কাজের সুযোগ খুঁজছেন, তারা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদন করতে পারেন। বিশেষ করে যারা কলেজ ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি, তাদের জন্য স্কুল সহকারী, পরিবার সহায়তাকর্মী ও বিকল্প প্যারাপ্রফেশনালের মতো পদগুলো সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর বোইস শহরে এক মায়ের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক একটি প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনা রিজ নামে এক মা সন্তানদের ডে-কেয়ারে রেখে দ্বিতীয় চাকরিতে যাচ্ছেন, আর সেই বাড়তি আয় দিয়েই সন্তানদের ডে-কেয়ারের খরচ মেটাচ্ছেন। তবে ঘটনাটি বাস্তব সংবাদ নয়, এটি ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম বেবিলন বি -এর একটি রম্য প্রতিবেদন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনা তাঁর দুই ছোট সন্তানকে ‘Mountains of Fun Daycare’-এ রেখে দ্বিতীয় চাকরির শিফটে যান। সন্তানদের ডে-কেয়ারে রেখে যাওয়ার সময় তিনি মজা করে বলেন, তারা যেন ভালোভাবে থাকে, কারণ তাদের সেখানে রাখার খরচ জোগাতে তাঁকে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। পরে তাদের বাবা কর্মস্থল থেকে ছুটি পাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে যাবেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ব্যঙ্গাত্মক লেখাটিতে আরও বলা হয়, জেনা সন্ধ্যায় একটি সুপারমার্কেটের বেকারি বিভাগে পার্টটাইম কাজ করেন। তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনে ডে-কেয়ারের বাড়তি খরচের কারণে দ্বিতীয় চাকরি নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে আরও সময় কাটাতে না পারার বিষয়টিও হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির মূল বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ডে-কেয়ারের ব্যয় মেটাতে অনেক পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া আর্থিক চাপকে ব্যঙ্গ করে তুলে ধরা। তবে এতে বর্ণিত চরিত্র ও ঘটনাগুলোকে বাস্তব সংবাদ বা যাচাই করা ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। Babylon Bee নিজেই একটি ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম, যেখানে সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে রম্য প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে শুধু ডিগ্রির বদলে প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব কলেজেস অ্যান্ড এমপ্লয়ার্সের (এনএসিই) ২০২৬ সালের চাকরির বাজারবিষয়ক জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, তারা এন্ট্রি লেভেলের নিয়োগে দক্ষতাভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এক বছর আগে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ। এই পরিবর্তনের ফলে নতুন অভিবাসী, ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া ব্যক্তি এবং সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও পেশাভিত্তিক সনদের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে কোনো একটি সনদই চাকরি বা নির্দিষ্ট বেতন নিশ্চিত করে না। নিয়োগদাতারা সনদের পাশাপাশি প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতে কম্পটিআইএ সিকিউরিটি প্লাস, এডব্লিউএস ক্লাউড প্র্যাকটিশনার এবং গুগলের ক্লাউডভিত্তিক বিভিন্ন সনদ এন্ট্রি লেভেলের চাকরিতে দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য এসব সনদ কাজে আসতে পারে। তবে চাকরির চাহিদা, বেতন ও নিয়োগের সুযোগ পদ এবং অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। আরও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য এডব্লিউএস সার্টিফায়েড সলিউশনস আর্কিটেক্ট, সিআইএসএসপি এবং পিএমপির মতো পেশাগত সনদ ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা খাতে পিএমপি দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত একটি পেশাগত সনদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের বেতন জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পিএমপি সনদধারী পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। একই জরিপে পিএমপি না থাকা পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ১৫৭ ডলার। অর্থাৎ দুই দলের বেতনের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৪ শতাংশ। অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। ওই জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পিএমপি সনদ থাকা পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ১ লাখ ৭৩ হাজার ডলার। বিপরীতে পাঁচ বছরের কম সময় ধরে পিএমপি সনদধারীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার। তবে শুধু পরীক্ষায় পাস করে সনদ অর্জন করাই চাকরি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এনএসিইর তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগদাতারা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং দক্ষতার বাস্তব প্রমাণকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই জীবনবৃত্তান্তে শুধু সনদের নাম উল্লেখ করার পরিবর্তে সেই সনদ থেকে অর্জিত দক্ষতা কীভাবে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা তুলে ধরা বেশি কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সরকারি তথ্যেও দেখা যায়, সব চাকরির জন্য চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের পেশাগত প্রয়োজনীয়তা জরিপ অনুযায়ী, সব পেশা মিলিয়ে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়নি। ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে হাইস্কুল ডিপ্লোমা ছিল ন্যূনতম শিক্ষাগত শর্ত। আর ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রি ছিল ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে পেশাগত সনদকে ডিগ্রির সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখার চেয়ে নির্দিষ্ট চাকরির প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে সঠিক সনদের সঙ্গে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে পারলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করা সহজ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী হিসেবে আসার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুধু চাকরি খোঁজা বা বাসা গোছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, ড্রাইভার লাইসেন্স থেকে শুরু করে ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি, চাকরির প্রস্তুতি ও স্থানীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মতো বেশ কিছু কাজ শুরুতেই গুছিয়ে নেওয়া জরুরি। তবে কোন কাজটি কখন করতে হবে, তা ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রথম ৩০ দিনে অগ্রাধিকার দিয়ে যে ১০টি কাজ করা যেতে পারে, সেগুলো হলো: ১. সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের ব্যবস্থা করুন: চাকরি, কর প্রদান, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন কাজে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এসএসএন প্রয়োজন হতে পারে। অভিবাসী ভিসার আবেদন করার সময় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের জন্য আবেদন করলে আলাদাভাবে সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসে যেতে নাও হতে পারে। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে আবেদন করলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কার্ড ডাকযোগে পাঠানো হয়। যারা ভিসা আবেদনের সময় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের জন্য আবেদন করেননি, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসে আবেদন করতে হতে পারে। তাই প্রথম মাসেই নিজের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের আবেদন ও কার্ড পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ২. একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন: দৈনন্দিন খরচ, বেতন জমা, বিল পরিশোধ এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি চেকিং অ্যাকাউন্ট কাজে লাগে। তাই সম্ভব হলে প্রথম দিকেই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো ব্যাংক বা ক্রেডিট ইউনিয়নে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তুতি নিন। অ্যাকাউন্ট খোলার আগে ব্যাংক কী ধরনের পরিচয়পত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা অন্য কাগজপত্র গ্রহণ করে এবং ঠিকানার কী প্রমাণ প্রয়োজন, তা জেনে নেওয়া ভালো। নতুনদের ক্ষেত্রে ব্যাংকভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে। ৩. একটি মোবাইল নম্বর নিন: যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর দ্রুত একটি কার্যকর মোবাইল নম্বর নেওয়া জরুরি। ব্যাংক, চাকরির আবেদন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, স্কুলসহ নানা কাজে এই নম্বর ব্যবহার করতে হবে। শুরুতে প্রিপেইড সিম বা কম খরচের মোবাইল প্ল্যান নেওয়া যেতে পারে। পরে প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী প্ল্যান পরিবর্তন করা সম্ভব। ৪. ঠিকানার কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন: যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবায় বর্তমান ঠিকানা যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে। বাসার লিজ, ইউটিলিটি বিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন। নতুন ঠিকানায় আসার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক বিভাগের মাধ্যমে চিঠিপত্র অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থাও করা ভালো। ভবিষ্যতে ব্যাংক, ড্রাইভার লাইসেন্স, স্কুল বা অন্যান্য সেবায় ঠিকানা আপডেট করতে এসব কাগজ কাজে লাগতে পারে। ৫. স্টেট আইডি বা ড্রাইভার লাইসেন্সের প্রস্তুতি নিন: যুক্তরাষ্ট্রে ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র হিসেবে স্টেট আইডি বা ড্রাইভার লাইসেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন কাগজপত্র লাগবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। যারা গাড়ি চালাবেন, তারা নিজের অঙ্গরাজ্যের মোটরযান বিভাগ বা ডিএমভির নিয়ম দেখে ড্রাইভার লাইসেন্সের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। আর গাড়ি চালানোর প্রয়োজন না থাকলে স্টেট আইডি নেওয়া যেতে পারে। ৬. হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করুন: যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি হতে পারে। তাই নতুন দেশে আসার পর হেলথ ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অনেক অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে কভারেজ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। আয় অনুযায়ী প্রিমিয়ামে ছাড় বা অন্যান্য আর্থিক সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে। তবে যোগ্যতার নিয়ম ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও আয়ের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বসবাস শুরু করাও কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে স্বাস্থ্যবিমায় নাম লেখানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিরা সারা বছর মেডিকেইড বা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারেন। ৭. আমেরিকান ফরম্যাটে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করুন: বাংলাদেশে ব্যবহৃত দীর্ঘ সিভি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে ব্যবহার না করে পদের সঙ্গে মিল রেখে একটি সংক্ষিপ্ত, পরিষ্কার ও চাকরির আবেদন বাছাইয়ের সফটওয়্যার উপযোগী জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করা ভালো। নিজের আগের কাজের অভিজ্ঞতাকে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে প্রচলিত দায়িত্ব ও দক্ষতার ভাষায় উপস্থাপন করুন। পাশাপাশি পেশাগত যোগাযোগের অনলাইন প্রোফাইলও হালনাগাদ করে রাখা যেতে পারে। ৮. চাকরি খোঁজা শুরু করুন: পছন্দের চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে সময় লাগলেও শুরুতেই চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সাময়িক কাজের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। চাকরির ওয়েবসাইট ও পেশাগত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল থাকা চাকরি খুঁজুন। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক ও পরিচিতদের মাধ্যমেও চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে কাজের অনুমতি ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ওপর নির্ভর করে। তাই বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়া উচিত নয়। ৯. ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির দিকে নজর দিন: যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্রেডিট হিস্ট্রি ও ক্রেডিট স্কোর পরবর্তীতে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ির ঋণ, বাসা ভাড়া বা অন্যান্য আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। যারা যোগ্য, তারা ব্যাংক বা কার্ড কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী জামানতভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করতে পারেন। কার্ড ব্যবহার করলে সময়মতো বিল পরিশোধ করা এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে খরচ করা গুরুত্বপূর্ণ। ১০. স্থানীয় কমিউনিটি ও প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত হন: নতুন দেশে পরিচিত মানুষ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের নেটওয়ার্ক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার বা পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ইমিগ্রেশন, ট্যাক্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স বা সরকারি সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই করা উচিত। প্রথম মাসে এসব কাজ গুছিয়ে নিতে পারলে নতুন পরিবেশে দৈনন্দিন জীবন, চাকরি, ব্যাংকিং ও সরকারি সেবার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে। তবে সব অভিবাসীর পরিস্থিতি এক নয়। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, অঙ্গরাজ্য, আয় ও পারিবারিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও আলাদা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোতে শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক সহকারী, স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব চাকরির পেজ বা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলেও স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, অভিভাবক সমন্বয়কসহ বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরি খুঁজতে প্রথমে যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে কাজ করতে চান, সেটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। গুগলে শহর বা কাউন্টির নামের সঙ্গে ‘স্কুল ডিস্ট্রিক্ট চাকরি’ অথবা ডিস্ট্রিক্টের নামের সঙ্গে ‘চাকরি’ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির পেজ পাওয়া যায়। তবে আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটটি যে সত্যিই সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘চাকরি’, ‘নিয়োগ’, ‘মানবসম্পদ’ বা ‘চাকরির সুযোগ’ ধরনের বিভাগ খুঁজতে হবে। এরপর ‘বর্তমান শূন্যপদ’, ‘চাকরি খুঁজুন’ বা ‘আবেদন করুন’ অপশনে গিয়ে খালি পদগুলো দেখা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু শিক্ষক পদে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকতার লাইসেন্স না থাকলেও অনেক ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন সহায়ক পদে আবেদন করা যায়। যেমন স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীর পদ থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের চাকরির তালিকায় শিক্ষক ও স্কুল প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলভিত্তিক চাকরির আলাদা বিভাগও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী ও অভিভাবক সমন্বয়কের মতো পদও পাওয়া যায়। চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যোগ্যতার শর্ত পড়া। সেখানে সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ থাকে। কিছু পদে বিশেষ পেশাগত লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও সব স্কুলের চাকরিতে শিক্ষকতার লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। যোগ্যতা মিলে গেলে ‘আবেদন করুন’ অপশনে ক্লিক করে অনলাইন আবেদন শুরু করতে হবে। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, আবার কেউ অন্য নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন নেয়। আবেদন করার সময় সাধারণত একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে আপলোড করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পদে আবেদনকারীর কাছ থেকে কভার লেটার, শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। শুধু রেজুমে জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ডিস্ট্রিক্টে অনলাইন ফর্মের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শেষে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন করার আগে কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য রেজুমের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, অফিস পরিচালনা, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। আবেদনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রকৃত কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য অনুমান করে বা ভুলভাবে দেওয়া উচিত নয়। স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরির ক্ষেত্রে অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা পদে নিয়োগের আগে অতিরিক্ত যাচাই বা আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট পদে কী ধরনের যাচাই লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ নির্দেশনায় উল্লেখ থাকে। কিছু ডিস্ট্রিক্টে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর একই প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিক চাকরিতে আবেদন করা যায়। ফলে প্রথমবার আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও রেজুমে ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখলে পরবর্তী পদগুলোতে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ নয়। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অনলাইন পোর্টালে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। কোথাও আবার ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের খবর দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত ই-মেইল এবং অপ্রয়োজনীয় মেইলের ফোল্ডারও দেখা জরুরি। ডালাসের মতো বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি চাকরির মেলা ও নিয়োগ অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা রেজুমে ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার প্রমাণ নিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে পারেন। যারা শিক্ষক নন বা যাদের শিক্ষকতার লাইসেন্স নেই, তাদের জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সহায়ক কর্মী, অশিক্ষক পদ, স্কুলভিত্তিক পদ, প্রশাসনিক পদ, শ্রেণিকক্ষ সহকারী বা অন্যান্য কর্মী বিভাগের চাকরিগুলো বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে। এসব বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সব স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়োগের নিয়ম এক নয়। শিক্ষক, কাউন্সেলর, নার্স বা বিশেষায়িত পেশার ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স বা সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট পদের যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের এলাকার পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা, চাকরির বিভাগে গিয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল আছে এমন পদ বেছে নেওয়া, যোগ্যতার শর্ত পড়া, রেজুমে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং অনলাইনে আবেদন সম্পূর্ণভাবে জমা দেওয়া। শুধু শিক্ষক পদ খুঁজলে অনেক চাকরির সুযোগ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, অফিস কর্মী, বিকল্প শিক্ষক, পরিবারবিষয়ক কর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক পদও খুঁজে দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ও পরিচিত চাকরির খোঁজে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ইউএস পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএস হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মক্ষেত্র। শুধু মেইল ডেলিভারি নয়, ড্রাইভার, মেইল প্রসেসিং, কাস্টমার সার্ভিস, মেইনটেন্যান্সসহ বিভিন্ন ধরনের পদে প্রতিষ্ঠানটি সারা বছর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ দেয়। বর্তমানে ফুল টাইম, পার্ট টাইম ও সিজনাল চাকরির সুযোগও রয়েছে। ইউএসপিএসের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে নিয়োগের সময় সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। তবে হাইস্কুল ডিপ্লোমা থাকলে ১৬ বছর বয়সেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়া যায়। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারী অথবা আমেরিকান সামোয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্থায়ী আনুগত্য থাকা কোনো টেরিটরির নাগরিক হতে হবে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি স্ট্যাটাস থাকলেই ইউএসপিএসের চাকরির যোগ্যতা পূরণ হয় না। ইউএসপিএসের বর্তমান নিয়োগ নীতিতে শুধুমাত্র অ্যাসাইলাম, রিফিউজি বা কন্ডিশনাল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস থাকা ব্যক্তিদের চাকরির জন্য অযোগ্য বলা হয়েছে। ফলে আবেদন করার আগে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রাথমিক যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীর সাম্প্রতিক চাকরির ইতিহাস যাচাই করা হতে পারে। ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, ড্রাগ স্ক্রিনিং ও মেডিকেল অ্যাসেসমেন্টও নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। যেসব পদের সঙ্গে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স ও গ্রহণযোগ্য ড্রাইভিং রেকর্ড প্রয়োজন হতে পারে। প্রযোজ্য ব্যক্তিদের সিলেক্টিভ সার্ভিস রেজিস্ট্রেশনের শর্তও পূরণ করতে হয়। ইউএসপিএসে বহুল নিয়োগ পাওয়া পদের মধ্যে রয়েছে সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, রুরাল ক্যারিয়ার অ্যাসোসিয়েট, মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্ট, পিএসই মেইল প্রসেসিং ক্লার্ক, পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েট, মোটর ভেহিকল অপারেটর, অটোমোটিভ টেকনিশিয়ান এবং বিভিন্ন মেইনটেন্যান্স ও কাস্টডিয়াল পদ। বেতন পদ, লোকেশন এবং চাকরির ক্যাটাগরি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্টের ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২১ ডলারের বেশি, মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্টের প্রায় ১৯ ডলার এবং পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েটের বেতন ঘণ্টায় ২১ ডলারের বেশি ছিল। তবে এটিকে দেশজুড়ে সব পদের নির্দিষ্ট বেতন হিসেবে ধরা যাবে না। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট জব পোস্টিংয়ে উল্লেখ করা বেতনই চূড়ান্ত হিসেবে দেখতে হবে। অনেকের কাছে ইউএসপিএস চাকরির বড় আকর্ষণ বেতনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বেনিফিট। বিশেষ করে ক্যারিয়ার কর্মীরা যোগ্যতা অনুযায়ী হেলথ বেনিফিট, লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রিটায়ারমেন্ট সুবিধা, থ্রিফট সেভিংস প্ল্যান বা টিএসপি, অ্যানুয়াল লিভ এবং সিক লিভের মতো সুবিধা পেতে পারেন। টিএসপি ফেডারেল কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় ব্যবস্থার মতো একটি পরিকল্পনা। যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে ইউএসপিএস বেসিক পের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্ট্রিবিউট করে এবং নির্দিষ্ট নিয়মে কর্মীর নিজের কন্ট্রিবিউশনের বিপরীতেও অর্থ যোগ হতে পারে। তবে সব নন-ক্যারিয়ার বা অস্থায়ী পদের বেনিফিট ক্যারিয়ার পদের মতো নয়। তাই চাকরির অফার গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পদের বেনিফিট আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন করতে ইউএসপিএসের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে গিয়ে প্রথমে পছন্দের পদের নাম ও লোকেশন দিয়ে চাকরি খুঁজতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নতুন অনলাইন জব অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম চালু করছে। ফলে কিছু চাকরির আবেদন নতুন ইউএসপিএস ক্যারিয়ারস সিস্টেমে নেওয়া হচ্ছে, আবার কিছু পদ এখনো পুরোনো ই-ক্যারিয়ার সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্ট, সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, পিএসই মেইল প্রসেসিং ক্লার্ক এবং পিএসই সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস বা ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েটের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নতুন ইউএসপিএস ক্যারিয়ারস সিস্টেম ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। কোন সিস্টেমে আবেদন করতে হবে তা সংশ্লিষ্ট জব পোস্টিংয়ে উল্লেখ থাকে। কিছু এন্ট্রি লেভেল পদের জন্য ভার্চুয়াল এন্ট্রি অ্যাসেসমেন্ট বা ভিইএ দিতে হয়। এর মধ্যে মেইল ক্যারিয়ার পদের জন্য ভিইএ ৪৭৪, মেইল হ্যান্ডলার পদের জন্য ৪৭৫, মেইল প্রসেসিং পদের জন্য ৪৭৬ এবং কাস্টমার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট পদের জন্য ৪৭৭ ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউএসপিএসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী নির্দিষ্ট একটি ভিইএ পরীক্ষায় পাস না করলে সাধারণভাবে একই পরীক্ষাটি আবার দিতে ১২ মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে অন্য ধরনের পদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিন্ন ভিইএ পরীক্ষায় আবেদন করা যেতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় অ্যাসেসমেন্ট, বিভিন্ন প্রি-এমপ্লয়মেন্ট চেক এবং পদের শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যোগ্য প্রার্থীরা পরবর্তী ধাপে চাকরির অফার ও প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা অন্যান্য যাচাই প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, ইউএসপিএসের চাকরির জন্য আবেদন করতে কোনো আবেদন ফি লাগে না। ইউএসপিএস নিজেও স্পষ্টভাবে সতর্ক করে যে পোস্টাল চাকরির আবেদন করার জন্য টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে টাকা নিয়ে ইউএসপিএসের চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রস্তাব এলে তা থেকে দূরে থাকা উচিত। বিশেষ করে নতুন ইমিগ্র্যান্ট ও গ্রিন কার্ডধারী বাংলাদেশিদের জন্য ইউএসপিএসের অনেক এন্ট্রি লেভেল পদ ভালো একটি চাকরির পথ হতে পারে। তবে একই নামের চাকরিতেও লোকেশনভেদে বেতন, কাজের সময়, ড্রাইভিংয়ের প্রয়োজন, অ্যাসেসমেন্ট এবং বেনিফিট আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় শুধু পদের নাম নয়, পুরো জব পোস্টিং এবং যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে পড়েই অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনভিত্তিক একটি স্টার্টআপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের গ্রীষ্মকালীন চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ১০ লাখ (এক মিলিয়ন) মার্কিন ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 'নালানে গ্রিন সলিউশনস' নামক ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাথাটা "মো" এমপেলার বিরুদ্ধে এ নিয়ে একটি ফেডারেল ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার মহান উদ্দেশ্যের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাজে লাগিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের চরমভাবে শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এমপেলা তার 'গ্রিন অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম'-এর জন্য সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্ক (CUNY) এবং হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির ২০ জনেরও বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইস্ট নিউইয়র্কের ট্রানজিট টেক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বা গ্রিন টেক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তাদের ঘণ্টায় ২২ থেকে ৪০ ডলার বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে কাজ করতে অনেক শিক্ষার্থী দেশের অন্য প্রান্ত থেকে নিউইয়র্কে ছুটে আসেন এবং অন্যান্য লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও তাদের কাউকেই এক সেন্টও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থী জিওভান্নি লুটি জানান, এই প্রকল্পে কাজ করার জন্য তিনি 'কলিন্স অ্যারোস্পেস'-এর একটি বড় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে টেক্সাস থেকে ব্রঙ্কসের একটি ইঁদুর উপদ্রুত অ্যাপার্টমেন্টে চলে এসেছিলেন। তাকে দিয়ে একটি হাই স্কুলের বেসমেন্টে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চার্জার তৈরির অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা লেখানো হয়েছিল। সিইউএনওয়াই-এর স্নাতক শিক্ষার্থী জুলি লিউ জানান, মানুষের সেবা করার প্রতি তাদের যে অকৃত্রিম আগ্রহ ছিল, এমপেলা সেটাকে স্রেফ নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। আরেক শিক্ষার্থী আলানা মার্শিয়াল জানান, তিনি ৬৩৬ ঘণ্টা কাজ করেও কোনো বেতন পাননি। নিজেকে চরম শোষিত দাবি করে ক্ষুব্ধ এই শিক্ষার্থী বলেন, "এই প্রতারণা আর চলতে দেওয়া যায় না, এর শেষ এখানেই হতে হবে।" এদিকে অভিযুক্ত এমপেলা মজুরি না দেওয়ার পেছনে নিউইয়র্ক স্টেটের অনুদান পেতে দেরি হওয়াকে দায়ী করেছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন যে, শিক্ষার্থীদের কাছে তার দেনার পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ নয়, বরং মাত্র ৫৩ হাজার ডলার। তবে বাদীদের আইনজীবীরা তার এই দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর সিইউএনওয়াই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে নালানে গ্রিন সলিউশনসকে তাদের নিয়োগ ব্যবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, গত এপ্রিলে প্রথমবার মামলা হওয়ার পরও এমপেলা চলতি গ্রীষ্মে হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে নতুন করে আবারও শিক্ষার্থী নিয়োগ দিয়ে এই প্রতারণা চালিয়ে গেছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে জুলাইয়ে অপ্রত্যাশিত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে, যেখানে অর্থনীতিবিদেরা বরং নতুন চাকরি বাড়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ চাকরি কমলেও বেকারত্বের হার বেড়ে যায়নি। কর্মসংস্থানের দুর্বলতার পেছনে কয়েকটি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার শিক্ষা, খুচরা ব্যবসা ও অবসর-আতিথেয়তা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরি বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পতন কিছুটা সামাল দেওয়া হয়েছে। এদিকে মে ও জুনের কর্মসংস্থানের হিসাবও আগের তুলনায় নিচের দিকে সংশোধন করা হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে আসার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের এই দুর্বলতা ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ কর্মী এমন চাকরিতে থেকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যেটি তারা আর করতে চান না। কারণ চাকরি ছাড়লে হারাতে পারেন স্বাস্থ্যবিমা। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, নিয়োগদাতার দেওয়া স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী এই পরিস্থিতিতে রয়েছেন। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। ওয়েস্ট হেলথ–গ্যালাপ সেন্টার অন হেলথকেয়ার ইন আমেরিকা-এর গবেষণায় এই প্রবণতাকে ‘জব লক’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কায় কর্মীরা কাঙ্ক্ষিত চাকরি ছাড়তে বা নতুন চাকরিতে যেতে পারছেন না। ২০২১ সালের তুলনায় এ ধরনের কর্মীর হার ৮ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। গবেষণাটি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিয়োগদাতার দেওয়া স্বাস্থ্যবিমাকে প্রধান স্বাস্থ্যসুরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা ২ হাজার ৩২২ জন কর্মীর তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জরিপে প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ নিয়মিতভাবে বহন করতে তাদের সমস্যা হয়। একই সঙ্গে ৫১ শতাংশ মানুষ আগামী ১২ মাসে স্বাস্থ্যসেবার খরচ বহন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ হার। চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঋণে থাকা কর্মীদের মধ্যে ‘জব লক’-এর হার আরও বেশি। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক চিকিৎসা ঋণ রয়েছে এমন কর্মীদের ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য তারা এমন চাকরিতে থেকে যাচ্ছেন, যেটি তারা ছাড়তে চান। চিকিৎসা ঋণ নেই এমন কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার ২১ শতাংশ। স্বাস্থ্য ব্যয়কে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা মনে করেন এমন কর্মীদের মধ্যেও প্রায় ৪৮ শতাংশ চাকরি ছাড়তে পারছেন না স্বাস্থ্যবিমার কারণে। আর যাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে তীব্র মানসিক চাপ রয়েছে, তাদের মধ্যে এই হার ৫৩ শতাংশ। নারীদের মধ্যেও এই প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি। জরিপে ৩০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য তারা কাঙ্ক্ষিত চাকরি ছাড়ছেন না। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এক বা একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ২৯ শতাংশ স্বাস্থ্যবিমার কারণে চাকরি ছাড়তে পারছেন না। এমন কোনো রোগ নেই—এমন কর্মীদের মধ্যে এই হার ১৭ শতাংশ। তিন বা তার বেশি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে হার বেড়ে ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা অনেক ক্ষেত্রে চাকরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় এর প্রভাব শুধু চিকিৎসা পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। চাকরি পরিবর্তন, বেতন বৃদ্ধি, পেশাগত উন্নতি এমনকি নতুন ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্তেও স্বাস্থ্যবিমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখন এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে কেউ কেউ পছন্দের চাকরি ছেড়ে ভালো সুযোগ নেওয়ার বদলে বর্তমান চাকরিটিই ধরে রাখছেন—শুধু স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি এড়াতে। আর স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় যত বাড়ছে, এই ‘জব লক’ প্রবণতাও তত বেশি কর্মীর পেশাগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।