- প্রচ্ছদ
- Topic
#জীবনযাত্রারব্যয়
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতে মূল্যস্ফীতি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যান রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচকও ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যু দ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলটির বামপন্থী অংশের সমালোচনা করছেন। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে মানেই সব পণ্যের দাম একই হারে বেড়েছে, এমন নয়। কোনো কোনো পণ্যের দাম কমেছে, আবার জ্বালানির মতো কিছু খাতে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানে এই পার্থক্য স্পষ্ট। জ্বালানির ব্যয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির সামগ্রিক মূল্য আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই খাতের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। মার্চের পর এক মাসে এত বড় বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। মার্চ ছিল ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর প্রথম পূর্ণ মাস। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের খরচেও প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের আক্রমণ বেড়েছে। একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। এসব ঘটনার কারণে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রল ও ডিজেলের বাজারে। পেট্রলের দামেও বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে। সরকারি মূল্যসূচক অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে পেট্রলের দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ছিল। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির খরচ বৃদ্ধির অন্যতম বড় উদাহরণ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় দাম প্রায় ৪ ডলার ২৬ সেন্টে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক মাস আগে গড় দাম ছিল প্রায় ৪ ডলার ৪৮ সেন্ট। তবে এক বছর আগের তুলনায় এখন প্রতি গ্যালনে ১ ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৬ ডলারের ওপরে। ওয়াশিংটন ও নেভাডায় তা ৫ ডলার ছাড়িয়েছে। বিদ্যুতের বিলও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম গত এক বছরে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাম বেড়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগের মাসে একই পরিমাণ কমেছিল বিদ্যুতের দাম। ফলে মাসভিত্তিক ওঠানামা থাকলেও বার্ষিক হিসাবে বিদ্যুতের ব্যয় বেশি রয়েছে। নতুন ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় কিছু এলাকায় বিদ্যুতের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক প্রযুক্তি এবং বড় কম্পিউটিং অবকাঠামোর বিস্তারের সঙ্গে এসব কেন্দ্রের সংখ্যা ও বিদ্যুতের প্রয়োজন বাড়ছে। ট্রাম্প বলেছেন, বড় ও নতুন ডেটা সেন্টারগুলোকে নিজেদের বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকলে তা স্থানীয় জনগোষ্ঠী বা বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ কিংবা বিক্রি করার কথাও বলেছেন তিনি। তার বক্তব্য, এ ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহের খরচ সাধারণ গ্রাহকের বিলের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। খাদ্যপণ্যে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হলেও খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক দাম আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে অপরিবর্তিত ছিল। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় খাদ্যের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাবারের দাম মাসে ০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, রেস্তোরাঁ বা বাইরে খাবার খাওয়ার খরচ বেড়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। কিছু খাদ্যপণ্যের দামে স্বস্তি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরে এক ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ২ ডলার ২৭ সেন্ট। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের মার্চে ডিমের দাম প্রতি ডজনে ৬ ডলার ২৩ সেন্টে উঠেছিল, যা ছিল দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়। তবে মাংসের বাজারে চিত্র একরকম নয়। গরুর মাংসের কিমার দাম গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি ছিল। প্রতি পাউন্ডের দাম দাঁড়ায় ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট। যদিও জুনে দাম ছিল ৬ ডলার ৯৮ সেন্ট, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়গুলোর একটি। মুরগির মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রতি পাউন্ডের দাম ছিল ২ ডলার ৬ সেন্ট, যা এক বছর আগের দামের সমান। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে মুরগির মাংসের দাম প্রতি পাউন্ডে ২ ডলার ১ সেন্ট থেকে ২ ডলার ৯ সেন্টের মধ্যে ওঠানামা করেছে। পুরোনো গাড়ির দামে কিছুটা স্বস্তি সব খাতে দাম বাড়েনি। ব্যবহৃত গাড়ি ও ট্রাকের দাম গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে দাম বেড়েছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ। জুলাই ও আগস্ট—দুই মাসেই এই খাতে ০ দশমিক ৪ শতাংশ করে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। নেভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং বলেছেন, গাড়ি মেরামত ও সংশ্লিষ্ট শিল্প বর্তমানে একাধিক চাপের মুখে রয়েছে। যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি এবং দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার মতে, স্থানীয় মেরামতের দোকানগুলোতে গ্রাহকেরা যে বেশি খরচের মুখোমুখি হচ্ছেন, সেখানে বিভিন্ন মূল্যচাপ একসঙ্গে কাজ করছে। মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। ২০২২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশে উঠেছিল, যা ছিল প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর মূল্যস্ফীতি কমলেও সাম্প্রতিক বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ০ দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রেখেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হবে, নাকি বর্তমান পর্যায়ে রাখা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচ অনেক পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি করছে। খাদ্যপণ্যের কিছু দামে স্বস্তি থাকলেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যয় কমার স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্বের মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ঋণের এই বিশাল বোঝার সঙ্গে বাড়ছে সুদ পরিশোধের খরচও। সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার—সব পর্যায়েই ঋণের পরিমাণ বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তৈরি হচ্ছে নতুন চাপ। বিশেষ করে যেসব দেশের সরকারি ঋণ বেশি, সেসব দেশের জন্য বাড়তি সুদ পরিশোধ এখন বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে মোট ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে। জুনের শেষ নাগাদ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করা ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনীতির মোট উৎপাদনের তুলনায় এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩১১ শতাংশ। ঋণ বাড়ার পাশাপাশি সুদের হারও অনেক দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আগে কম সুদে নেওয়া ঋণের মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে ঋণ নিতে বা পুরোনো ঋণ নবায়ন করতে সরকারগুলোকে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। এতে বাজেটের বড় অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। ইউরোপের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এই চাপের সামাজিক দিকটিও সামনে এনেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়া আবাসন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থের অভাব নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন দেশে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভ হয়েছে। কিছু জায়গায় পরিস্থিতি সংঘর্ষ, দোকানপাটে লু ট পা ট ও অগ্নিসংযোগ পর্যন্ত গড়ালেও অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। ফ্রান্সে পরিস্থিতি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের আর্থিক সংকটও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ফ্রান্সের ঋণসংক্রান্ত পরিস্থিতি বোঝা জরুরি, কারণ দেশটির ঋণ নেওয়ার খরচ দ্রুত বেড়েছে। ২১ অক্টোবর দেশটির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ৫ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ। বিনিয়োগকারীরা যখন কোনো দেশের বন্ড কিনে সরকারকে ঋণ দেন, তখন তাঁরা নির্দিষ্ট সুদ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। সরকারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বেশি সুদ দাবি করেন। ফলে নতুন ঋণ নেওয়া সরকারের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে সরকারি বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বড় ঘাটতি এবং আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সরকারি আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান কমাতে দেশটির সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে জনসেবায় ব্যয় বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভকারীরা সরব। এই দুই বিপরীত চাপ সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সরকার কীভাবে ঋণ নেয় সরকার সাধারণত সরকারি বন্ড বিক্রি করে অর্থ ধার নেয়। বিনিয়োগকারীরা এসব বন্ড কিনে সরকারকে অর্থ দেন। বিনিময়ে সরকার নির্ধারিত হারে সুদ দেয় এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো বিনিয়োগকারী ১০ বছর মেয়াদি একটি সরকারি বন্ডের জন্য ১০০ ইউরো দিলে সরকার তাঁকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে সুদ দেবে। সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হলে বছরে ২ ইউরো ৫০ সেন্ট করে, ১০ বছরে মোট ২৫ ইউরো সুদ পাওয়া যাবে। কিন্তু সুদের হার ৫ শতাংশ হলে বছরে সুদ দাঁড়াবে ৫ ইউরো, আর ১০ বছরে মোট ৫০ ইউরো। মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী মূল ১০০ ইউরোও ফেরত পাবেন। অর্থাৎ, সুদের হার দ্বিগুণ হলে একই পরিমাণ ঋণের বিপরীতে সুদের ব্যয়ও দ্বিগুণ হতে পারে। সরকারের বিপুল ঋণ থাকলে এই পার্থক্য বাজেটে বড় প্রভাব ফেলে। পুরোনো ঋণ কম সুদে নেওয়া হলেও নতুন করে ঋণ নিতে গেলে বেশি সুদ দিতে হতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে সরকারের মোট সুদ পরিশোধের অঙ্ক বাড়তে থাকে। ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হারকে বিনিয়োগকারীরা বিশেষ গুরুত্ব দেন। এটি একটি দেশের ঋণ নেওয়ার খরচ এবং তার আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রতি বাজারের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে বন্ডের সুদের হার শুধু ঋণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; মূল্যস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এতে প্রভাব ফেলে। বিশ্বের মোট ঋণ বাড়লেও সব দেশের ঝুঁকি এক রকম নয়। কোনো দেশ উৎপাদন ও আয় বাড়িয়ে ঋণ সামলাতে পারে, আবার কোনো দেশের ক্ষেত্রে ঋণের সুদ পরিশোধই বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে। ঋণের মেয়াদ, সুদের ধরন, সরকারের রাজস্ব আয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় উদ্বেগ হলো, সরকারগুলোকে একই সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধ, বাজেটের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের জনসেবার চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। সুদের ব্যয় বেড়ে গেলে নতুন স্কুল নির্মাণ, হাসপাতালের সেবা উন্নয়ন, পেনশন দেওয়া কিংবা শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের জন্য হাতে থাকা অর্থ কমে যেতে পারে। এতে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামাজিক অসন্তোষও বাড়তে পারে। বিশ্বের ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ তাই শুধু একটি বড় সংখ্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যয়ের সক্ষমতা, পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার খরচ এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। ঋণ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং বাড়তি সুদের চাপ সামলে জনসেবায় অর্থের জোগান কীভাবে বজায় রাখা হবে, আগামী দিনে সেটিই বহু দেশের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের এই বিক্ষোভে দেশজুড়ে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। ফরাসি সরকারের ভাষায়, পরিস্থিতি ক্রমেই সহিংসতার দিকে গড়িয়েছে। এদিন অন্তত ৪০০ জনকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। প্যারিসে মূল বিক্ষোভ মিছিলের বেশির ভাগ সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু দল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালানো হয়, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লাস দে লা রিপাবলিক চত্বরেও এমন ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একদল তরুণ জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তন চান। তাঁদের ভাষায়, তাঁরা শান্তিবাদী এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলাচ্ছে না। তবে পরে কিছু বিক্ষোভকারী রাস্তায় আগুন জ্বালান, গাড়ি পুড়িয়ে দেন এবং দোকানপাটে ভাঙচুর চালান। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের নিজেদের মধ্যেও হাতাহাতির ঘটনা দেখা যায়। প্যারিসে অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘লা বারিক’ নামের একটি বারেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালানো হয়। ফ্রান্সের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। লিয়ঁ শহরে উনিশ শতকের একটি ঐতিহাসিক ভবনে থাকা পর্যটন তথ্যকেন্দ্রটি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। শহরটির মেয়র গ্রেগরি দুসেট ঘটনাটিকে ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ও সুপরিচিত এই ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শহরের মানুষের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য, একদল ‘বৈরী ব্যক্তি’ অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের নিরাপদে আগুন নেভানোর কাজে বাধা দিয়েছিলেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ছাড়াও মার্সেই, রেন, তুলুজ ও আঞ্জে শহরে মুখোশধারীদের লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গ্রেনোবল, আভিনিয়োঁ, পো, মনপেলিয়ে ও ভ্যালঁসসহ বিভিন্ন শহরে ভবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্যারিসে পোশাক ও খাবারের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। লিল শহরে একটি অ্যাপল স্টোরে ঢুকে পণ্য লুট করার ঘটনাও ঘটেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফ্রান্সের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীসংকট এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে আসছেন। দেশটির লিসে নামে পরিচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। শনিবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য ও অন্যান্য প্রতিবাদী গোষ্ঠী। শিক্ষা খাতে কর্মীর ঘাটতি, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর দুরবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকার শিক্ষা খাতে কিছু ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৮ অক্টোবর টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অতিরিক্ত ৩ হাজার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সেই ঘোষণার পরও বিক্ষোভ থামেনি; বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বিক্ষোভের সময়টি ফ্রান্সের রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালির নেতা মারিন লে পেন এবং বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা উঠে এসেছে। মেলঁশোঁ নিজেও বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলেন। তবে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নিন্দাও জানান। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু তাঁর বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও কৌশলী’ বলে সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে অত্যন্ত তীব্র সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিক্ষোভকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে কেউ নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে পারবে না। অন্যদিকে, মারিন লে পেনের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবিগুলোকে কট্টর বামপন্থীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে এবং মেলঁশোঁ সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট মাখোঁও সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি প্রশাসনিক কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নগর ভবনে হামলা এবং লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শিক্ষা খাতের সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও রাজপথের ক্ষোভ কমেনি। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন জেনারেশন জেড বা জেন জি প্রজন্মের তরুণেরা। তাঁদের বড় একটি অংশের গন্তব্য টেক্সাস। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের খরচ এবং নতুন জায়গায় বসবাসের সুযোগ নিয়ে বাড়তে থাকা আলোচনার মধ্যে প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে তরুণদের এই স্থানান্তরের চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই বছর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ৫৮ হাজার ১০৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজ্য থেকে এই প্রজন্মের মানুষের অন্যত্র চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। তাঁদের মধ্যে ১৯ হাজার ২৮৭ জন পাড়ি জমিয়েছেন টেক্সাসে। অর্থাৎ, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া তরুণদের জন্য টেক্সাস ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে শুধু ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে যাওয়ার হিসাব দেখলেই পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তরুণদের রাজ্য পরিবর্তনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি নিজ রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে অথবা ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে গেছেন। এই সংখ্যা দেশটির ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী জেন জি জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এই বয়সী প্রায় প্রতি চারজনের একজন ওই বছর রাজ্য বদলেছেন। নিট স্থানান্তরের হিসাবে জেন জিদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় রাজ্য ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা। সেখানে যতজন তরুণ এসেছেন, চলে গেছেন তার চেয়ে অনেক কম। ফলে রাজ্যটিতে এই প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ২২ হাজার ৮৪৩ জন। অন্যদিকে, টেক্সাসে তরুণদের আসা-যাওয়া—দুটিই বেশি হলেও রাজ্যটিতে নিট সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ৭২০ জন। এই হিসাবে টেক্সাসের অবস্থান ছিল সপ্তম। নিউইয়র্কও তরুণদের আকর্ষণ ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে জেন জি প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৬১ জন। বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি ও ইলিনয়েসসহ কয়েকটি রাজ্যে এই বয়সী মানুষের সংখ্যা কমেছে। জেন জিদের রাজ্য বদলের প্রবণতা আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মিলেনিয়ালদের ১৪ শতাংশ অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। জেনারেশন এক্সের ক্ষেত্রে এই হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, রাজ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জেন জির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। টেক্সাসে তরুণদের আগমন অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট একটি স্থানান্তর-তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে টেক্সাসে ৫ হাজার ৮১ জন জেন জি এসেছেন, বিপরীতে রাজ্যটি ছেড়েছেন ৩ হাজার ৫৫৫ জন। ফলে সেখানে নিট আগমন হয়েছে ১ হাজার ৫২৬ জনের। ওই বিশ্লেষণে অস্টিন, হিউস্টন ও ডালাস মহানগর এলাকাকে নতুন তরুণ বাসিন্দাদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে মানুষের স্থানান্তরও দীর্ঘদিনের প্রবণতা। ২০২৩ সালে এক লাখের বেশি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা টেক্সাসে চলে গিয়েছিলেন বলে আগের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছিল। একই সময়ে টেক্সাস থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার তুলনায় উল্টো পথে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে আবাসনের খরচ, গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সিলিকন ভ্যালি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে করা এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৮০১ জন প্রাপ্তবয়স্কের ৪৬ শতাংশ বলেছেন, বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে তাঁরা ওই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার চাপ অনুভব করছেন। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৩ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থা জয়েন্ট ভেঞ্চার সিলিকন ভ্যালির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী রাসেল হ্যানকক বলেছেন, আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ই মানুষকে ওই অঞ্চল ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করছে। তাঁর মতে, মৌলিক আবাসনসমস্যার সমাধান করতে না পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন ব্যয়ের প্রভাব দারিদ্র্যের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজ্যগুলোর মধ্যে আবাসন ব্যয়জনিত দারিদ্র্যের হারে ক্যালিফোর্নিয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। রাজ্যটিতে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার অত্যধিক খরচ সামগ্রিক দারিদ্র্যের ৩৪ শতাংশ এবং শিশুদের দারিদ্র্যের ৪২ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান থেকে বলা যায় না যে কেবল আবাসন ব্যয়ের কারণেই সব তরুণ ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ছেন। পড়াশোনা, চাকরি, ব্যক্তিগত পছন্দ ও অন্যান্য কারণও স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। তা সত্ত্বেও, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক তরুণের চলে যাওয়া এবং টেক্সাসে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশের নতুন ঠিকানা খোঁজা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ বা স্বপ্নের জীবন গড়তে একজন মানুষের জীবদ্দশায় খরচ হতে পারে প্রায় ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। নিজের বাড়ি, দুটি নতুন গাড়ি, দুই সন্তানকে বড় করা ও কলেজে পড়ানো, অবসরজীবন, চিকিৎসা, বিয়ে, পোষা প্রাণী এবং প্রতিবছর ছুটি কাটানোর মতো বিষয়গুলো হিসাব করলে এই বিপুল অঙ্ক দাঁড়ায়। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের জীবন গড়ার ব্যয় গত বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন ও মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে ভালো চাকরি, নিজের বাড়ি, পরিবার নিয়ে স্বচ্ছল জীবন এবং আর্থিক নিরাপত্তার যে স্বপ্ন বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর সময় দেখেন, তা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ‘আমেরিকান ড্রিম’ ধারণাটি নতুন নয়। ১৯৩১ সালে লেখক জেমস ট্রাসলো অ্যাডামস তাঁর ‘এপিক অব আমেরিকা’ বইয়ে এমন একটি দেশের স্বপ্ন তুলে ধরেছিলেন, যেখানে সবার জীবন আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকবে। সময়ের সঙ্গে ধারণাটির অর্থ বিস্তৃত হয়েছে। অনেকের কাছে এর মানে স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার, আবার অনেকের কাছে আর্থিক নিরাপত্তা, ভালো চাকরি এবং নিজের বাড়ির মালিক হওয়া। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবে অর্জন করা যাবে কি না, তা নিয়ে মানুষের আত্মবিশ্বাস কমছে। ২০২৬ সালের এক গ্যালাপ জরিপে ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকান ড্রিম অর্জন করতে পারবেন বলে মনে করেন। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরে আত্মবিশ্বাস কমেছে চার শতাংশ পয়েন্ট। যদিও অধিকাংশ মানুষ এখনো এই স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। জীবনভর ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে বাড়ির মালিক হতে। বাড়ি কেনা, ঋণের সুদ, সম্পত্তি কর, বিমা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮২ ডলার। একটি একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম মূল্য ৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি। ৩০ বছরের গৃহঋণের সুদের হার গড়ে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ ধরে হিসাব করা হয়েছে এই ব্যয়। ঋণের মূল অর্থ ও সুদ পরিশোধেই প্রায় ৮ লাখ ৩৭ হাজার ডলার লাগতে পারে। এর সঙ্গে কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যুক্ত হবে আরও প্রায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ডলার। দুটি নতুন গাড়ি কেনা ও দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ব্যয়ও কম নয়। গাড়ির ঋণ, বিমা, মেরামত, নিবন্ধন ও জ্বালানি মিলিয়ে জীবদ্দশায় খরচ হতে পারে প্রায় ১২ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ ডলার। নতুন গাড়ির গড় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। বছরে ১৫ হাজার মাইল গাড়ি চালানোর ব্যয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত। অবসরজীবনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে আরও প্রায় ১২ লাখ ৫ হাজার ১১৯ ডলার। বাড়ির ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে—এমন একটি বিবাহিত দম্পতির অবসরের পর ২০ বছরের স্বচ্ছল জীবনযাপনের ব্যয় ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। দুই সন্তানকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত লালন-পালন এবং পরে কলেজে পড়ানোর জন্য প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই খরচ বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। ব্যয়ের বড় অংশজুড়ে রয়েছে শিশুদের যত্ন নেওয়া। কেন্দ্রে শিশুদের দেখাশোনার জন্য বছরে প্রতি শিশুর পেছনে গড়ে ১৩ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে। এর বাইরে অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের পড়াশোনার জন্য হিসাব করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার ডলার। চিকিৎসার জন্য ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত পরিবারের নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৭১ ডলার। আটটি খাতের মধ্যে কেবল চিকিৎসাব্যয়েই গত বছরের তুলনায় সামান্য হ্রাস দেখা গেছে। এ ছাড়া ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিবছর একটি করে ছুটি কাটানোর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৯ ডলার। একটি কুকুর ও একটি বিড়াল পালনে খাবার, চিকিৎসা ও বিমাসহ আজীবন খরচ হতে পারে প্রায় ৪০ হাজার ৭৭২ ডলার। আর বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার ৮০০ ডলার। এত ব্যয়ের বিপরীতে একজন কর্মজীবী মানুষের আয় কতটা যথেষ্ট? বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী একজন পূর্ণকালীন কর্মী ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করে মধ্যম হিসাবে প্রায় ৩৬ লাখ ডলার আয় করতে পারেন। এর সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় গড়ে ২০ বছরের সুবিধা যোগ করলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪১ লাখ ডলার। তবুও আমেরিকান ড্রিমের আনুমানিক ব্যয়ের তুলনায় ঘাটতি থেকে যায় প্রায় ১২ লাখ ডলার। এই হিসাব সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। বসবাসের জায়গা, আয়, পরিবারের আকার, শিক্ষা, অবসরের পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ব্যয় অনেকটা বদলে যেতে পারে। তালিকার সব খরচও প্রত্যেক মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবু বিশ্লেষণটি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, সন্তানদের শিক্ষা, গাড়ি ও অবসরজীবনের মতো বড় ব্যয় সামলানোর চাপ স্পষ্ট করে। বেতন বৃদ্ধির চেয়ে জীবনযাপনের খরচ দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেকের জন্য স্বপ্নের জীবন গড়তে শুধু নিয়মিত চাকরি ও দীর্ঘ কর্মজীবনের আয় যথেষ্ট নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন সিনিয়র সিটিজেনস লিগ। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে দেশটির অবসরভোগী ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীদের মাসিক অর্থের পরিমাণ বাড়বে। বর্তমানে একজন গড় সুবিধাভোগী মাসে ১ হাজার ৯৪০ ডলার ৮ সেন্ট পান। সম্ভাব্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে এই অর্থ বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৭ ডলার ৯৮ সেন্ট হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ২০২৭ সালের জন্য ভাতা বৃদ্ধির প্রকৃত হার নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন সাধারণত প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পরবর্তী বছরের জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা (সিওএলএ) ঘোষণা করে। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেলে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে এই সমন্বয় করা হয়। অবসরভাতা ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকা অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীরা এই পরিবর্তনের সুবিধা পেতে পারেন। ২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চলতি বছরের মূল্যস্ফীতির তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউ জুলাই মাসে আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশে। সেপ্টেম্বরের তথ্য প্রকাশিত হলে পরবর্তী বছরের ভাতা সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তিন মাসের হিসাব সম্পূর্ণ হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বার্ষিক সমন্বয় নির্ধারণে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হিসাবের পরিবর্তে বিশেষভাবে সিপিআই-ডব্লিউ ব্যবহার করা হয়। চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের এই সূচকের পরিবর্তন বিবেচনা করে পরবর্তী বছরের জন্য সমন্বয়ের হার নির্ধারণ করা হয়। ফলে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ২০২৭ সালের সম্ভাব্য ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। সিনিয়র সিটিজেনস লিগ আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, এই হারে বৃদ্ধি হলে বর্তমানে গড়ে মাসে ১ হাজার ৯৪০ ডলার ৮ সেন্ট পাওয়া একজন সুবিধাভোগীর মাসিক অর্থ বেড়ে ২ হাজার ৭ ডলার ৯৮ সেন্ট হতে পারে। অর্থাৎ, মাসে প্রায় ৬৭ ডলার ৯০ সেন্ট বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ আলাদা হতে পারে। প্রত্যেক সুবিধাভোগীর বর্তমান ভাতার পরিমাণ অনুযায়ী বৃদ্ধির অঙ্কও ভিন্ন হবে। ২০২৬ সালের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ভাতায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই তুলনায় ২০২৭ সালের জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে তা হবে আগের বছরের তুলনায় বেশি। তবে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং সরকারি ঘোষণা প্রকাশের আগে এই হার নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা যুক্তরাষ্ট্রের বহু অবসরপ্রাপ্ত মানুষের নিয়মিত আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে যাঁরা অবসরকালীন জীবনযাপনের জন্য এই অর্থের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের কাছে বার্ষিক বৃদ্ধির হার গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচ বাড়লে মাসিক ভাতার প্রকৃত মূল্য কমে যেতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাই বার্ষিক সমন্বয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে ভাতা বাড়লেই সব সুবিধাভোগীর আর্থিক চাপ একইভাবে কমবে, এমন নয়। কারও চিকিৎসা ব্যয় বেশি হতে পারে, আবার কারও বাসাভাড়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। তাই ঘোষিত বৃদ্ধির হার এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ের পরিবর্তন এক বিষয় নয়। নতুন সমন্বয়ের হার ঘোষণা করা হলে সুবিধাভোগীরা সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের অনলাইন অ্যাকাউন্টে নিজেদের ব্যক্তিগত ভাতা বৃদ্ধির তথ্য দেখতে পারবেন। আগের বছরের ব্যবস্থায় অনলাইনে ব্যক্তিগত নোটিশ দেখার পাশাপাশি ডিসেম্বর মাসে ডাকযোগেও নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত সুবিধার সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন জানতে সরকারি ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট নোটিশের দিকে নজর রাখতে হবে। সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস অবসরভোগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। এই বৃদ্ধি কার্যকর হলে গড় সুবিধাভোগীর মাসিক অর্থ ২ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির হিসাব এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও উচ্চ ঋণের চাপ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং বাড়ি কেনার খরচ বাড়তে থাকায় অর্থনীতি নিয়ে ভোক্তাদের আস্থা কমছে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্টোবরের প্রাথমিক জরিপে দেশটির ভোক্তা আস্থার সূচক সেপ্টেম্বরের ৪৮ দশমিক ১ থেকে কমে ৪৬ দশমিক ৩-এ নেমেছে। এটি টানা তৃতীয় মাসের পতন এবং চলতি বছরের মে মাসে দেখা রেকর্ড সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষের মূল্যায়নও আরও খারাপ হয়েছে। জরিপে বর্তমান পরিস্থিতি-সংক্রান্ত সূচক সেপ্টেম্বরের ৫০ দশমিক ৯ থেকে কমে ৪৪ দশমিক ৭-এ দাঁড়িয়েছে, যা জরিপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার এবং শেয়ারবাজারে যাঁদের বিনিয়োগ কম, তাঁদের মধ্যে হতাশা বেশি দেখা গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের এই চাপের মধ্যে বাড়ি কেনাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ বা গৃহঋণের সুদের হার ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুদের হার বেশি থাকলে বাড়ির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ঋণের মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী ব্যক্তি এবং সীমিত বাজেটের পরিবারগুলোর জন্য নিজের বাড়ির মালিক হওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের তাই শুধু বাড়ির দাম দেখলেই চলে না। ঋণের সুদের হার, ডাউন পেমেন্ট, মাসিক কিস্তি, বাড়ির কর, বিমা এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও হিসাব করতে হয়। দীর্ঘ মেয়াদে এসব ব্যয় পরিবারের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মর্টগেজের সুদের হার ঋণের ধরন, মেয়াদ, ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও মানুষের কেনাকাটার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। জরিপে ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, যেসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, সেগুলোর কেনাকাটা তাঁরা কমাবেন। প্রায় ১৬ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা এসব পণ্য কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারেন। এমন মনোভাবের কারণে পরিবারগুলো অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে খাবার, বাসাভাড়া, জ্বালানি ও চিকিৎসার মতো জরুরি খরচকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সেপ্টেম্বরের আরেকটি জরিপেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে আগামী এক বছরে মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে মানুষের প্রত্যাশা ছিল। ২০২৩ সালের মে মাসের পর এটি সর্বোচ্চ। আগের মাসে এই প্রত্যাশা ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা খাবার, পেট্রল, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং কলেজে পড়াশোনার খরচ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে পরিবারগুলোর হাতে অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য অর্থ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি ঋণের কিস্তি ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া থাকলে আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে অর্থনৈতিক আস্থা কমে যাওয়ার প্রভাব সব পরিবারের ওপর সমান নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর ব্যয় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। বিপরীতে, মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বাজেটের চাপ বেশি অনুভব করছে। ফলে একই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একেকটি পরিবারের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ঋণের সুদের হার ও মাসিক কিস্তির পাশাপাশি অন্যান্য আবাসন ব্যয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঋণদাতাদের কাছ থেকে একাধিক প্রস্তাব তুলনা করা এবং ঋণের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হতে পারে। দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে মাসিক বাজেট তৈরি, বিভিন্ন দোকানে পণ্যের দাম তুলনা এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমানোর মতো পদক্ষেপ কাজে আসতে পারে। তবে ব্যক্তিগত আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণ ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনা করা জরুরি। সামগ্রিকভাবে, ভোক্তা আস্থার পতন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং উচ্চ আবাসন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর আর্থিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। আগামী মাসগুলোতে এসব চাপ কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি, ঋণের সুদের হার এবং পরিবারের আয়-ব্যয়ের পরিস্থিতির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালনের খরচ বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার ভাবছে, দুজনই চাকরি করবেন নাকি একজন বাড়িতে থেকে সন্তানের দেখাশোনা করবেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যে একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে বাড়িতে থাকলেও পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ তুলনামূলক কম আয়ে সামলানো সম্ভব। আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে ৫০টি রাজ্যে তিন সদস্যের একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আয় তুলনা করা হয়েছে। হিসাবটি করা হয়েছে এমন একটি পরিবার ধরে, যেখানে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি শিশু রয়েছে এবং একজন অভিভাবক চাকরি না করে বাড়িতে থেকে শিশুর যত্ন নিচ্ছেন। গবেষণাটি ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে কম আয়ে এমন পরিবার চালানো সম্ভব আরকানসাসে। সেখানে একজন কর্মজীবী অভিভাবকের বার্ষিক আয় প্রয়োজন প্রায় ৬৮ হাজার ৮৬৯ ডলার। এরপর রয়েছে মিসিসিপি, কেনটাকি, পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও নর্থ ডাকোটা। এসব রাজ্যে একজন অভিভাবক বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় তুলনামূলকভাবে কম। কেনটাকিতে এই পরিবারের জন্য একজন কর্মজীবী অভিভাবকের প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয় প্রায় ৭০ হাজার ১৭৯ ডলার। অন্যদিকে টেনেসিতে প্রয়োজন প্রায় ৭২ হাজার ৯৪৬ ডলার। টেনেসির ক্ষেত্রে দুজন অভিভাবক কাজ করলে পরিবারের মোট প্রয়োজনীয় আয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৩ হাজার ৭৫ ডলার। তবে সব রাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। হাওয়াইয়ে একজন অভিভাবককে বাড়িতে রেখে পরিবার চালাতে সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন—প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৬ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ২১৩ ডলার এবং ম্যাসাচুসেটসে প্রায় ৯৯ হাজার ৯৬৫ ডলার। অর্থাৎ বসবাসের রাজ্য অনুযায়ী একজন অভিভাবক ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনের আর্থিক বাস্তবতায় বড় পার্থক্য রয়েছে। স্মার্টঅ্যাসেটের হিসাব অনুযায়ী, একজন অভিভাবক বাড়িতে থাকলে পরিবারের বড় একটি ব্যয়—শিশুর দেখাশোনার খরচ—কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে একজনের বেতন, অবসরকালীন সঞ্চয়ে অবদান, সোশ্যাল সিকিউরিটির উপার্জনভিত্তিক সুবিধা এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া স্বাস্থ্যসুবিধার মতো বিষয় হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু আয় নয়, পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, এসব হিসাব রাজ্যভিত্তিক গড় মডেলের ওপর তৈরি। বসবাসের কাউন্টি, সন্তানের বয়স, কর ও সরকারি সুবিধার পার্থক্যের কারণে একটি পরিবারের প্রকৃত প্রয়োজনীয় আয় এর চেয়ে কম-বেশি হতে পারে। গবেষণার তথ্যের ভিত্তি হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্র: ডব্লিউকেআরএন, স্মার্টঅ্যাসেট, এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মোট ঋণ প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করছে। মানি ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের টেড রসম্যান বলেন, ঋণসংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের শুরুর তুলনায় আর্থিক পরামর্শ নেওয়ার সেশনও বেড়েছে ১৪৩ শতাংশ। রসম্যানের মতে, এই আর্থিক চাপের বড় কারণ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া। তিনি বলেন, মানুষ এখন প্রায় সবকিছুর জন্য আগের চেয়ে বেশি অর্থ দিচ্ছে। ২০১৯ সালের তুলনায় খাদ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। শুধু খাবার নয়, গাড়ি, জ্বালানি, চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিশুদের দেখাশোনার খরচও মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান রসম্যান। ফলে অনেক পরিবারকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে, সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে এবং কোন বিল আগে পরিশোধ করা হবে, তা নিয়েও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে ঋণের কারণে অনেকে লজ্জায় সাহায্য চাইতে চান না। রসম্যান বলেন, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক সংকোচ কাজ করে। তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতাদের কাছে অনেকেই জানতে চান, তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ কি না। রসম্যানের মতে, এই লজ্জা দূরে রাখা দরকার, কারণ একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন লাখো মানুষ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের প্রায় অর্ধেকই প্রতি মাসে পুরো ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না এবং এক মাসের ঋণ পরের মাসে বহন করেন। মানি ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের একজন গড় গ্রাহক প্রায় ৪০ হাজার ডলারের অনিরাপদ ঋণ নিয়ে সাহায্য চাইতে আসেন। এই ঋণ সাধারণত বিলাসী কেনাকাটা থেকে তৈরি হয় না; বরং গাড়ি মেরামত, চিকিৎসার বিল ও বাজার-সদাইয়ের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ থেকেই এর বড় অংশ তৈরি হয়। রসম্যান বলেন, তুলনামূলক কম ঋণের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ সুদের ব্যালান্স ট্রান্সফার সুবিধা কাজে লাগতে পারে। তবে বড় অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রে অলাভজনক ঋণ পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি তুলনামূলক কার্যকর সমাধান হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।