সন্তান পালনে এক অভিভাবক ঘরে থাকলে যেসব রাজ্যে খরচ কম
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালনের খরচ বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার ভাবছে, দুজনই চাকরি করবেন নাকি একজন বাড়িতে থেকে সন্তানের দেখাশোনা করবেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যে একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে বাড়িতে থাকলেও পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ তুলনামূলক কম আয়ে সামলানো সম্ভব।
আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে ৫০টি রাজ্যে তিন সদস্যের একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আয় তুলনা করা হয়েছে। হিসাবটি করা হয়েছে এমন একটি পরিবার ধরে, যেখানে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি শিশু রয়েছে এবং একজন অভিভাবক চাকরি না করে বাড়িতে থেকে শিশুর যত্ন নিচ্ছেন। গবেষণাটি ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।
গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে কম আয়ে এমন পরিবার চালানো সম্ভব আরকানসাসে। সেখানে একজন কর্মজীবী অভিভাবকের বার্ষিক আয় প্রয়োজন প্রায় ৬৮ হাজার ৮৬৯ ডলার। এরপর রয়েছে মিসিসিপি, কেনটাকি, পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও নর্থ ডাকোটা। এসব রাজ্যে একজন অভিভাবক বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় তুলনামূলকভাবে কম।
কেনটাকিতে এই পরিবারের জন্য একজন কর্মজীবী অভিভাবকের প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয় প্রায় ৭০ হাজার ১৭৯ ডলার। অন্যদিকে টেনেসিতে প্রয়োজন প্রায় ৭২ হাজার ৯৪৬ ডলার। টেনেসির ক্ষেত্রে দুজন অভিভাবক কাজ করলে পরিবারের মোট প্রয়োজনীয় আয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৩ হাজার ৭৫ ডলার।
তবে সব রাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। হাওয়াইয়ে একজন অভিভাবককে বাড়িতে রেখে পরিবার চালাতে সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন—প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৬ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ২১৩ ডলার এবং ম্যাসাচুসেটসে প্রায় ৯৯ হাজার ৯৬৫ ডলার। অর্থাৎ বসবাসের রাজ্য অনুযায়ী একজন অভিভাবক ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনের আর্থিক বাস্তবতায় বড় পার্থক্য রয়েছে।
স্মার্টঅ্যাসেটের হিসাব অনুযায়ী, একজন অভিভাবক বাড়িতে থাকলে পরিবারের বড় একটি ব্যয়—শিশুর দেখাশোনার খরচ—কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে একজনের বেতন, অবসরকালীন সঞ্চয়ে অবদান, সোশ্যাল সিকিউরিটির উপার্জনভিত্তিক সুবিধা এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া স্বাস্থ্যসুবিধার মতো বিষয় হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু আয় নয়, পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, এসব হিসাব রাজ্যভিত্তিক গড় মডেলের ওপর তৈরি। বসবাসের কাউন্টি, সন্তানের বয়স, কর ও সরকারি সুবিধার পার্থক্যের কারণে একটি পরিবারের প্রকৃত প্রয়োজনীয় আয় এর চেয়ে কম-বেশি হতে পারে। গবেষণার তথ্যের ভিত্তি হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
সূত্র: ডব্লিউকেআরএন, স্মার্টঅ্যাসেট, এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফোলসম শহরে হ্যালোইন উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করেছে প্রবীণদের আবাসনকেন্দ্র ব্রুকডেল সিনিয়র লিভিং। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সেখানে শিশু ও প্রবীণদের নিয়ে আয়োজন করা হয় আনন্দঘন মিলনমেলার। এই আয়োজনে স্থানীয় শিশুদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। শিশুরা হ্যালোইনের নানা রঙিন পোশাক পরে প্রবীণদের আবাসনে আসে। তারা ঘুরে ঘুরে মিষ্টি সংগ্রহ করে, আর প্রবীণ বাসিন্দারা শিশুদের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস উপভোগ করেন। আয়োজকদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু হ্যালোইন উদ্যাপন নয়, বরং প্রবীণদের দৈনন্দিন জীবনে আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করা। বিশেষ করে ছুটির দিন ও উৎসবের সময় অনেক বয়স্ক মানুষ একাকিত্ব অনুভব করেন। শিশুদের উপস্থিতি তাঁদের সেই একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করে। আবাসনকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক শারি ক্রানিগ বলেন, শিশু ও প্রবীণদের একসঙ্গে সময় কাটানো অত্যন্ত সুন্দর অভিজ্ঞতা। শিশুদের দেখে বাসিন্দারা আনন্দ পান। প্রবীণ বাসিন্দা জো অ্যান বডলাকও উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, শৈশবের আনন্দ উপভোগ করতে হয়, কারণ সেই সময় চিরকাল থাকে না।এবারের আয়োজনের জন্য প্রায় ৫০ পাউন্ড মিষ্টি কেনা হয়েছিল। অনুষ্ঠানটি শুধু আবাসনের বাসিন্দাদের পরিবারের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না; স্থানীয় সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। একদিকে শিশুরা পেয়েছে আনন্দ ও মিষ্টি, অন্যদিকে প্রবীণেরা পেয়েছেন নতুন প্রজন্মের সান্নিধ্য। বয়সের ব্যবধান পেরিয়ে এমন আয়োজন একটি এলাকার মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও ভালোবাসা বাড়াতে পারে।
বাগান খুলে দিলেন প্রতিবেশীদের জন্য, অসুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে হলেন এলাকার নায়ক
ইতিহাসে প্রথম পোপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিলেন চতুর্দশ লিও
নিজেই একসময় সাহায্য নিত, আজ অসহায় মানুষের ভরসা ১৫ বছরের এই কিশোরী
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের রিডলি পার্কে হ্যালোইন উপলক্ষে কুমড়া বিক্রির একটি আয়োজন এখন স্থানীয় মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার বড় উৎস হয়ে উঠেছে। গত ২৬ বছর ধরে চলে আসা এই উদ্যোগের আয় দিয়ে চারটি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্রাইস্ট চার্চ রিডলি পার্কের সামনে হাজার হাজার কুমড়া সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারগুলো সেখান থেকে কুমড়া কিনছে, শিশুরা পছন্দের কুমড়া বেছে নিচ্ছে। কিন্তু এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে আরও বড় উদ্দেশ্য—অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কুমড়া বিক্রির অর্থের একটি অংশ যাচ্ছে রিডলি পার্ক ইউনাইটেড মেথডিস্ট চার্চের খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রে। এই কেন্দ্র প্রতি মাসে প্রায় ২২০টি পরিবারকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে। দুধ, ডিম ও মাখনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কিনতেও এই অর্থ ব্যবহার করা হয়। খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত তিন মাসে সহায়তা চাওয়া পরিবারের সংখ্যা ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ও ছুটির মৌসুমের বাড়তি ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে। এই বিক্রির অর্থ আরও সহায়তা করছে রিডলি স্কুল জেলা, শিশুদের পড়াশোনার জন্য একটি তহবিল এবং নিউ মেক্সিকোর নাভাহো জাতিগোষ্ঠীর একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে। কুমড়াগুলোও সেখানকার কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা চার্লস হগি ও তাঁর স্ত্রী নিজেরাও খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা পরিবারের সঙ্গে এই গির্জার কুমড়া কিনতে আসতেন। কিন্তু সেই বিক্রির অর্থ যে তাঁদের মতো পরিবারের খাদ্য সহায়তায় কাজে লাগে, তা আগে জানতেন না। এবার বিষয়টি জানার পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, যে জায়গা থেকে তাঁরা বছরের পর বছর কুমড়া কিনেছেন, সেই জায়গার উদ্যোগই এখন তাঁদের মতো মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে কীভাবে পুরো এলাকার মানুষকে এক সুতোয় বাঁধা যায়, রিডলি পার্কের এই আয়োজন তারই উদাহরণ। এখানে কেউ কুমড়া কিনছেন, কেউ খাবার পাচ্ছেন, আবার কেউ শিশুদের শিক্ষার জন্য সহায়তা পাচ্ছেন।
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে নিউইয়র্ক ম্যারাথনে নামছেন ১৯ বছরের সাহসী তরুণ
ইবোলা আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রগামী সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম সিডিসির
নিজের পথে যাচ্ছিল, হঠাৎ আগুনের ঘরে আটকে থাকা ১৩ শিশুর জীবন বাঁচালেন অপরিচিত ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন স্থায়ী করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করলেও আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়বে না। ফলে নতুন অনুমোদন পেতে দেরি হলে অনেক অভিবাসীকে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে। এই পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এইচ-১বি ভিসাধারীদের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এবং গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য, যাঁরা আলাদা ওয়ার্ক পারমিটের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, ইউএসসিআইএস, নতুন চূড়ান্ত বিধিমালার মাধ্যমে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর প্রথম অন্তর্বর্তী নিয়ম কার্যকর করা হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শ্রেণির ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদনে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধের নীতি স্থায়ী রূপ পেয়েছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী তাঁদের এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করলে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারতেন। ইউএসসিআইএসের কাছে আবেদন বিচারাধীন থাকলেও যোগ্য আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট শর্তে চাকরি চালিয়ে যেতে পারতেন। এতে নতুন কার্ড হাতে পেতে দেরি হলেও অনেকের আয় বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমত। কিন্তু ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর বা তার পরে জমা দেওয়া নির্দিষ্ট শ্রেণির নবায়ন আবেদনের ক্ষেত্রে সেই স্বয়ংক্রিয় সুবিধা আর প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ সময়মতো আবেদন জমা দেওয়া এবং ইউএসসিআইএসের কাছ থেকে রিসিট নোটিশ পাওয়া মানেই কাজের অনুমতির মেয়াদ বেড়ে যাওয়া নয়। পুরোনো অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে, যদি তাঁর অন্য কোনো বৈধ কাজের অনুমতি না থাকে। নতুন নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে এইচ-৪ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ব্যক্তিদের ওপর। সাধারণত এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যরা এইচ-৪ স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। তবে সব এইচ-৪ ভিসাধারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতি পান না। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী স্বামী বা স্ত্রী ইউএসসিআইএসের কাছে আলাদা ইএডি কার্ডের আবেদন করতে পারেন। এইচ-৪ ভিসাধারী কোনো ব্যক্তির কাজের অনুমতি যদি ইএডি কার্ডের ওপর নির্ভর করে, তাহলে নবায়ন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব তাঁর চাকরির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাঁদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ইউএসসিআইএসের সিদ্ধান্ত পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদন জমা দেওয়া ব্যক্তিরা। তাঁদের মধ্যে অনেকে আই-৪৮৫ আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আলাদা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে চাকরি করেন। এই শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে আগে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা ছিল। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা বন্ধ হওয়ায় অনুমোদন পেতে দেরি হলে কর্মজীবনে বিরতি তৈরি হতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। যেসব অভিবাসী তাঁদের নিজস্ব ভিসা স্ট্যাটাসের ভিত্তিতেই কাজের অনুমতি পান, তাঁদের ক্ষেত্রে ইএডি কার্ডের নিয়ম আলাদা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী এল-২ এবং ই ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রীরা তাঁদের বৈধ স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে কাজের অনুমতি পেতে পারেন। ফলে ইএডি কার্ডের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ হওয়া মানেই তাঁদের সবার কাজের অনুমতি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। নতুন বিধিমালায় আগের আবেদনকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যাঁরা ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের আগে যোগ্য শ্রেণিতে সময়মতো ইএডি নবায়নের আবেদন করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আগের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বহাল থাকতে পারে। তবে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া, সঠিক ক্যাটাগরিতে থাকা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করা জরুরি। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য পুরোনো আবেদনকারীরা তাঁদের মেয়াদোত্তীর্ণ ইএডি কার্ডের সঙ্গে নির্দিষ্ট আই-৭৯৭সি রিসিট নোটিশ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধার প্রমাণ দেখাতে পারেন। তবে এই সুবিধা সব ধরনের ইএডি কার্ডের জন্য প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ক্যাটাগরি এবং রিসিট নোটিশের তারিখের ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে। এ ছাড়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের মতো নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় কিছু ব্যক্তির জন্য আলাদা আইন বা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নির্দেশনার মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা থাকতে পারে। এসব বিশেষ সুবিধা নতুন সাধারণ নিয়মের বাইরে বিবেচিত হতে পারে। তাই শুধু ইএডি কার্ডের মেয়াদ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো কাজের অনুমতি নবায়নের আগে আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই নিশ্চিত করা। সরকারের অবস্থান হচ্ছে, শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতে নতুন মেয়াদের কাজের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া উচিত নয়। নতুন সময়ের জন্য অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করতে চায় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এই পরিবর্তনের কারণে অভিবাসী কর্মী এবং তাঁদের নিয়োগকর্তাদের জন্য বাস্তব সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএসের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কোনো কর্মীর বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন অনুমোদন না এলে তাঁকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বিরত থাকতে হতে পারে। এতে পরিবারের নিয়মিত আয়, রেন্ট, মর্টগেজ এবং অন্যান্য খরচ পরিচালনায় চাপ তৈরি হতে পারে। নিয়োগকর্তাদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী নিয়োগের সময় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে কাজের অনুমতি যাচাই করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো কর্মীর বৈধ কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং অন্য কোনো অনুমোদন না থাকলে নিয়োগকর্তা তাঁকে আগের মতো কাজে বহাল রাখতে পারবেন না। ফলে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়েরই আগাম পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই পরিবর্তনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশি পেশাজীবী এইচ-১বি ভিসায় কাজ করেন এবং তাঁদের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এইচ-৪ স্ট্যাটাসে বসবাস করেন। আবার অনেকে গ্রিন কার্ডের আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ইএডি কার্ডের মাধ্যমে চাকরি করছেন। এসব পরিবারের কোনো সদস্যের কাজের অনুমতি নবায়নে বিলম্ব হলে তা পারিবারিক আয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যাঁদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হবে, তাঁদের এখন থেকেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসসিআইএস সাধারণত যোগ্য আবেদনকারীদের বর্তমান ইএডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ১৮০ দিন আগে নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়। তবে আবেদন আগে জমা দিলেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া নিশ্চিত নয়। নবায়নের জন্য সাধারণত ফর্ম আই-৭৬৫ ব্যবহার করা হয়। আবেদনকারীর বর্তমান অভিবাসন স্ট্যাটাস, কাজের অনুমতির ক্যাটাগরি এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির ওপর আবেদন প্রক্রিয়া নির্ভর করে। ভুল ক্যাটাগরি নির্বাচন, অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত বিলম্ব হতে পারে। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারীরা তাঁদের মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফর্মের প্রসেসিং টাইম এবং সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত যাচাই করা যেতে পারে। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে কেস ইনকোয়ারি করার সুযোগও রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু আবেদনকারী দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের অনুরোধ করতে পারেন। তবে এক্সপেডাইট রিকোয়েস্ট অনুমোদন করা হবে কি না, তা ইউএসসিআইএসের নিজস্ব নীতিমালা এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। শুধু চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকলেই দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি শেষ হয়ে যাওয়া সব সময় একই বিষয় নয়। কোনো ব্যক্তি বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস বজায় রেখেও সাময়িকভাবে কাজ করার অনুমতি হারাতে পারেন। আবার কিছু ভিসা ক্যাটাগরিতে ইএডি কার্ড ছাড়াও কাজের অনুমতি থাকতে পারে। তাই ব্যক্তির নির্দিষ্ট অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম বুঝতে হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে চূড়ান্ত করা এই বিধিমালা মূলত ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া পরিবর্তনকে স্থায়ী করেছে। এটি নতুন করে সব বিদেশি কর্মীর কাজের অনুমতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নয়। বরং নির্দিষ্ট শ্রেণির ইএডি নবায়ন আবেদনকারীদের জন্য আগের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে। যাঁরা বর্তমানে এইচ-৪, গ্রিন কার্ড আবেদনকারী কিংবা অন্য কোনো ইএডিনির্ভর ক্যাটাগরিতে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো কার্ডের মেয়াদ, আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ এবং নিজের ক্যাটাগরির নিয়ম যাচাই করা। প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আগেভাগে নবায়নের ব্যবস্থা করলে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মবিরতির ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।
বড় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে বিপুল গণকবর খোঁড়ার মহড়া শুরু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর
হ্যালোইন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের উড়োজাহাজের আকস্মিক উড্ডয়ন, চমকে গেলেন অনেকে