পশ্চিমবঙ্গ

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় I ছবি: সংগৃহীত
'আমাকে থামাতে হলে মেরে ফেলতে হবে', দলভাঙনের মাঝেও হুঙ্কার মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের চরম বিপর্যয়ের পর দলে আছড়ে পড়েছে ভাঙনের প্রবল সুনামি। দলের অধিকাংশ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা দল গঠন করেছেন এবং লোকসভা সাংসদদের একটি বড় অংশ তৃতীয় ব্লক তৈরি করে ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’-এর দাবি তুলেছেন। এমন নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও নিজের অনমনীয় মনোভাব বজায় রেখেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।   রাজনৈতিক বিরোধীদের দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে থামাতে হলে বিরোধীদের তাঁকে হত্যা করতে হবে। তৃণমূলের দলীয় প্রতীক তাঁর এবং তাঁর অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে বলে জোর দাবি করে মমতা দলত্যাগীদের 'বিশ্বাসঘাতক' আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলের প্রতীক কোথাও যাচ্ছে না এবং এটি পেতে হলে বিদ্রোহীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।   শনিবার তৃণমূল শিবিরে আরও একটি বড় ধাক্কা লাগে, যখন দলের রাজ্য সভাপতি ও মমতার অন্যতম শীর্ষ অনুগত নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেন। গত শুক্রবার তৃণমূলের মূল কার্যালয় দখল করে নেওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরেই পরবর্তীতে চন্দ্রিমাকে দেখা যায়।   চন্দ্রিমার পদত্যাগ প্রসঙ্গে মমতা জানান, ছেলে আগেই তৃণমূল বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ায় চন্দ্রিমা তাঁকে বাস্তব পরিস্থিতি এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছিলেন। তবে বিদ্রোহীদের তরফ থেকে আসা কোনো উপদেষ্টা পদের প্রস্তাব তিনি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কখনোই তাদের সাথে হাত মেলাবেন না।   দলের কার্যালয় দখলের এবং তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে মমতা মনে করিয়ে দেন, ওই অফিসটি ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের লিজ নেওয়া রয়েছে। কোনো ব্যক্তি দল ছাড়লেই দলের প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে যায় না। এটি দলের সম্পত্তি এবং ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর এই অধিকার কেউ জোর করে দখল করতে পারে না।   ২০১১ সালে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দলত্যাগীদের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, মূলত বিজেপির চাপের মুখেই বিদ্রোহীরা দল ছেড়েছেন, কিন্তু তিনি বা তাঁর দল কখনোই এমন চাপের কাছে মাথা নত করবেন না।   তৃণমূলের আদর্শ সম্পূর্ণ বিজেপি-বিরোধী—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি নিজেই যাঁদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তাঁরা কীভাবে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন! তিনি আরও বলেন, এখন যারা বিজেপির সাথে আছেন, তৃণমূলের বিজেপি-বিরোধী আদর্শের কারণে তাদের সাথে এভাবে চলতে পারে না।   দলের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিদায়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজেই এখন জাতীয় ও রাজ্য স্তরে দলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এখন থেকে তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে অবস্থিত কার্যালয়টিই তৃণমূলের মূল কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে।   উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই মমতার নেতৃত্ব এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলে এই ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যেই ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক এবং ২০ জনেরও বেশি লোকসভা সাংসদ মমতার নেতৃত্বাধীন দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দলত্যাগ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মমতার প্রতি তাঁর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা থাকলেও দলে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার অভাবেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: সংগৃহীত
মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণায় পশ্চিমবঙ্গে তোলপাড়, কবীরকে শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় 'মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামার' বিষয়ে দেওয়া এক সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যটির রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হুমায়ুন কবীরদের মতো ব্যক্তিদের এবার শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে এবং এই ধরনের কথা বলার আগে তাদের ২৫ বার ভাবা উচিত।   সম্প্রতি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর জেরে সোমবার বিধানসভায় 'পয়েন্ট অব অর্ডার' উত্থাপন করেন বিজেপি বিধায়ক উৎপল ব্রহ্মচারী। তিনি রেজিনগরের জনসভায় দেওয়া হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্পিকার রথীন বসু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে জানানোর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।   মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত বক্তব্যটি পড়ে শোনান। গত ২৬ তারিখ রেজিনগরের কাশীপুরের এক সভায় হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, তিনি যেদিন মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামবেন, সেদিন লাখে লাখে মানুষ রাস্তায় নামবে এবং প্রতিপক্ষের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। সেখানে তিনি পুলিশ প্রশাসন কিংবা মুখ্যমন্ত্রী কাউকেই পরোয়া না করে নিজেই সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া শক্তিপুরের আরেকটি সভায় তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গলা ধরে থানা থেকে বের করে আনার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।   এইসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রেজিনগরে ইতিমধ্যে দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভরতপুর ও রেজিনগরের পঞ্চায়েতগুলো নিজের দখলে নিতে না পেরে ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট নিজের দিকে টানতেই হুমায়ুন কবীর এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ও লাগামহীন বক্তব্য দিচ্ছেন। ভারতের আইনই শেষ কথা বলবে এবং এই ধরনের হুমকি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি জানান। একই সাথে তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ সফরের ঘোষণাও দেন।   অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বক্তব্যের জবাবে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, সব কিছুই আইনের পথে চলবে এবং তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। পূর্ববর্তী সিপিএম ও তৃণমূল সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হলেও কোনোটিতেই তার বিরুদ্ধে গুন্ডাগিরি বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রমাণ হয়নি দাবি করে তিনি দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। তবে বিরোধী দলের নেতা নওশাদ সিদ্দিকী হুমায়ুন কবীরের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, যে-ই এই ধরনের আপত্তিকর বা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করুন না কেন, তিনি তার সঙ্গে একমত নন।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে এসে মোদীর মুখে নোয়াখালীর দাঙ্গা ও বাংলাদেশ সীমান্ত প্রসঙ্গ

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং দেশভাগের পূর্বে অবিভক্ত বাংলার নোয়াখালীর দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে এক মহাসমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দিনের এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গে আসেন তিনি। মূলত পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফর। সফরের প্রথম দিনে তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি এই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বক্তব্য প্রদান করেন।   তারকেশ্বরের ওই জনসভা থেকে ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, পরাধীন থাকার সময় ভারতের এই বাংলা অঞ্চল কী পরিমাণ অত্যাচার ও রক্তপাত সহ্য করেছে, তা ইতিহাস সাক্ষী। দেশভাগের আগে ১৯৪৬ সালে কলকাতায় যে ভয়াবহ সহিংসতা হয়েছিল এবং বাংলাদেশের নোয়াখালীতে যে দাঙ্গা হয়েছিল, তাতে কত শত নির্দোষ বাঙালিকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। বাংলা নিজের মানুষকে হারিয়েছে এবং নিজের মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছে, কিন্তু নিজের সংস্কৃতি ও পরিচয়কে কখনো নষ্ট হতে দেয়নি।   সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে আরও বলেন, অতীতে পুরো বাংলা অঞ্চলকে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার জন্য একটি সুগভীর আন্তর্জাতিক চক্রান্ত করা হচ্ছিল। তবে তৎকালীন সময়ে ভারতের অংশ হিসেবে আলাদা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৈরি করার মাধ্যমে সেই চক্রান্তকে সফল হতে দেওয়া হয়নি। হাজার বছরের পুরোনো বাঙালি সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং এখানকার মূল আস্থা ও পরম্পরা অনেক লড়াই-আন্দোলনের পর অবশেষে রক্ষা পেয়েছে।   এরপর ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ আগের রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছিল। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরপরই সেই জটিলতা কেটে গেছে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়ে গেছে।   পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি নিশানা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, যারা বছরের পর বছর ধরে আপনাদের শোষণ ও অত্যাচার করেছে, তারা নিজেরাই এখন এসে আপনাদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া জনগণের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছে। রাজ্যের বড় বড় দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের একের পর এক জেলে পাঠানো হচ্ছে। যারা একসময় সিন্ডিকেট রাজ চালাত, তারা এখন জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে এবং অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করা গুন্ডারা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।   সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ রোববার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’-এর মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন নরেন্দ্র মোদী। তবে তার এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, যানজটের অজুহাত দেখিয়ে কলকাতার এই রেড রোডে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদের নামাজের জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার অনুমতি দেয়নি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ সেই একই রেড রোড আটকে এবার টানা ৭ দিন ধরে যোগ দিবস পালনের আয়োজন করছেন প্রধানমন্ত্রী।

তাবাস্সুম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
সংবিধান না মানলে মমতার বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত: দিলীপ ঘোষ

পশ্চিমবঙ্গে নামাজ পড়তে চাওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার দু’দিন পর, এবার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একই পরামর্শ দিয়েছেন বিজেপি সরকারের প্রভাবশালী পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বুধবার (১৭ জুন) মমতার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের আইন এবং সংবিধান না মানলে মমতার বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত।   প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (পিএসও) হিসেবে কর্মরত স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মমাফিক তাদের জায়গায় নতুন তিনজন পিএসও নিয়োগ করা হলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নতুন নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেন এবং সরকারি প্রটোকল প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেন।   এই ঘটনার পর কলকাতার নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিজেপি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মমতার পিএসও বদল নিয়ে ক্ষোভের প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার যখন তাকে নিরাপত্তারক্ষী দিয়েছিল, তখন তিনি নিজে কাউকে বেছে নেননি। তাহলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী নিরাপত্তারক্ষী দাবি করছেন?   মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ববর্তী শাসনকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, মমতা যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনিও প্রতি ছয় মাস পর পর সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি করতেন। অথচ তার নিজস্ব এলাকা কালীঘাট বা এয়ারপোর্ট থানায় কোনোদিন কোনো ওসি বদল করা হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে যিনি সরকারের নেতৃত্বে আছেন, আইন অনুযায়ী তারও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।   তিনি আরও যোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের এই আইনসম্মত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। তিনি ভারতের সংবিধান ও সরকারকে তোয়াক্কা করছেন না। দেশের নিয়মনীতি অমান্য করে এই দেশে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে তাকে সরাসরি বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন এই প্রভাবশালী বিজেপি নেতা।

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ | ছবি: সংগৃহীত
‘নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে যান’, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফর এবং কলকাতার রেড রোডে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চরম বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন রাজ্যটির শীর্ষ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রেড রোডে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে চলে যান।" তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গসহ পুরো ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।   আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার মূল অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কলকাতার রেড রোডের এই বিশেষ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। যোগ দিবসের এই বৃহৎ প্রস্তুতি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে রেড রোড টানা সাত দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। গত রবিবার রাত ১০টা থেকে আগামী ২১ জুন (রবিবার) পর্যন্ত এই রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল স্থগিত থাকবে এবং ইতিমধ্যে সেখানে মঞ্চ তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।   সপ্তাহজুড়ে এই ভিভিআইপি কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জবাব দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসলে সব রাস্তাই বন্ধ থাকে, তিনি যেখানেই যাবেন সেখানেই বন্ধ হবে। যেখানে যান চলাচল তুলনামূলক কম (রেড রোড), সেখানেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অন্য কোনো রাস্তায় করলে আরও বেশি সমস্যা হতো।   তবে মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ঈদের নামাজের জন্য রেড রোড ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আসে। বিষয়টি উঠতেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত উগ্র মনোভাব ব্যক্ত করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "ওনারা কোন হরি-দাস-পাল যে তাদের জন্য রাস্তা আটকাতে হবে? প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়—এটা ঠিকই আছে। প্রধানমন্ত্রী বছরে একবারই আসছেন।"   বিজেপির এই প্রবীণ নেতা আরও যোগ করে বলেন, "১০৭ বছর ধরে তো (নামাজ) চলেছে, এখন একবার বন্ধ করে দেওয়াতে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? যান বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যান, সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না। এখানে এসব আর চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে। এগুলো বন্ধ করার জন্যই লোকে সরকার পাল্টেছে। আর এগুলো বন্ধ হবেই।" পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পর এই ধরনের ধর্মীয় আচার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়ে তার দেওয়া এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ফাইল ফটো
ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য সমাপ্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলের বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দায়ের করেছেন তিনি। তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, ভোট গণনার সময় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি করা হয়েছে। আর এই কারণেই আদালতের মাধ্যমে পুরো বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় তার সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা, আইনজীবী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আদালত চত্বরে পৌঁছে তিনি নিয়ম অনুযায়ী শপথ কমিশনের কার্যালয়ে যান এবং পিটিশন দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।   এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচনেও ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনি ফলাফলে তৃণমূল নেত্রীর পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই দলের পক্ষ থেকে ভোট গণনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা হতে থাকে। অবশেষে আইনি পথ বেছে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফলকে আদালতের এজলাসে চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি।   এদিকে একই দিনে কলকাতা হাইকোর্টে পশ্চিমবঙ্গের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলার শুনানি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার দ্বিতীয় দফার শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলাটি দায়ের করেন। তার মূল দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধানসভার প্রচলিত নিয়মাবলী ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে বিধানসভার অধ্যক্ষের (স্পিকার) এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে এবং আদালত যেন এই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে।   আদালতে মামলার শুনানিতে তৃণমূলের প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জোরালো সওয়াল করে প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কোন নিয়মের ওপর ভিত্তি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি নিয়ম মেনে করা হয়নি এবং আদালতের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে জানান, স্পিকারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং এতে আদালতের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন নেই।   উল্লেখ্য, গত শুনানিতে আদালত এই বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি। যার ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবেই তার স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে মঙ্গলবারের এই দ্বৈত শুনানিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলনেতার পদের বৈধতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি একই দিনে হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকা বাংলা কোলাজ
ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালা ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নিহত ব্যক্তিকে হত্যার আগে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলমান ভয় ও বিদ্বেষের পরিবেশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো ভূমিকা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ জুন ৪৭ বছর বয়সী আকবর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। নিহতের ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার মণ্ডল জানান, তার বাবা বন্দওয়ান অঞ্চলে ফেরিওয়ালা হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি ঠেলাগাড়িতে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করতে বের হন।   জুলফিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপুরদিহি গ্রামের একটি বাড়িতে আকবরকে হঠাৎ করে টেনে নেওয়া হয় এবং সেখানে এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়, পরে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি আরও জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ঘটনাও ঘটে।   পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে বান্দওয়ান থানার একজন কর্মকর্তা ফোনে আকবরের মৃত্যুর খবর দেন এবং হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে তারা তার মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।   নিহতের ছেলে জুলফিকার অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং কিছু লোক তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হয়রানি করত। তিনি বলেন, দাড়ি থাকার কারণে তাদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হতো এবং ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতে বাধা দেওয়ার কথাও বলা হতো।   তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ বেড়েছে এবং তার পরিবারসহ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।   ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। অন্যদিকে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে।

Unknown জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
অভিনেত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কোয়েল মল্লিক | ছবি: সংগৃহীত
এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কোয়েল মল্লিক ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন। গত বেশ কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে চলা তীব্র গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে সরাসরি ইমেইল মারফত তিনি নিজের চূড়ান্ত পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় পরাজয়ের পর দলটির ভেতরে যে চরম অভ্যন্তরীণ জটিলতা তৈরি হয়েছে, মূলত সেই পরিস্থিতির মাঝেই কোয়েল মল্লিক এই সিদ্ধান্ত নিলেন।   তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান টালমাটাল ও জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে দলটির রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগের এক দীর্ঘ ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে। কোয়েল মল্লিকের এই ইস্তফা দেওয়ার ঠিক আগেই তৃণমূলের প্রভাবশালী রাজ্যসভা সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক একে একে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের সেই পথ অনুসরণ করে এবার পশ্চিমবঙ্গের এই প্রথম সারির জনপ্রিয় অভিনেত্রীও নিজের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার এই আকস্মিক পদত্যাগের ফলে ভারতের রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট আসন সংখ্যা ১৩ জন থেকে এক ধাক্কায় কমে মাত্র ৯ জনে এসে দাঁড়িয়েছে।   রাজনৈতিক মহলের অভ্যন্তরীণ খবর অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের এই বড় ধরনের ভাঙন বা সংকট এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দলটির আরও কয়েকজন প্রভাবশালী রাজ্যসভা সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর নাম যখন গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় দেখা গিয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলের ভেতরের অনেকেই বেশ অবাক হয়েছিলেন।   পরবর্তীতে গত এপ্রিল মাসে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি গিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেন। সে সময় সক্রিয় রাজনীতিতে আসা এবং জনপ্রতিনিধি হওয়া প্রসঙ্গে কোয়েল মল্লিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মানুষের সেবা করা এবং দেশের সেবার মতো মহৎ দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যেই তিনি এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি সদস্যপদ থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন।

তাবাস্সুম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
২ হাজার ৮৬০ জনের জাতীয়তা যাচাইয়ে বাংলাদেশকে ভারতের অনুরোধ

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার মধ্যে ২ হাজার ৮৬০ জন ব্যক্তির জাতীয়তা যাচাই করতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশকে ২ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তির জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য তথ্য পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।   তিনি জানান, বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হয় এবং জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পর ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়।   রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, এই ধরনের একাধিক অনুরোধ এখনো বাংলাদেশের কাছে ঝুলে রয়েছে। সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।   ভারতে সম্প্রতি অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্য সরকার এই কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০০ নথিবিহীন বাংলাদেশিকে আটক করার তথ্যও পাওয়া গেছে।   এদিকে রাজ্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার কারণে অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক পর্যায়ে ‘শনাক্ত, বাতিল ও বহিষ্কার’ নীতির কথাও উঠে এসেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

Unknown জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
কলকাতার ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নাখোদা মসজিদ—যার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ব্যস্ত শহরের জীবন।
পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ লাখ মানুষের ভোটাধিকার হরণ, নিশানায় মুসলিমরা!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে রাজ্যের কয়েক মিলিয়ন মানুষ। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিতর্কিত 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' (SIR) প্রক্রিয়ার পর রাজ্যের প্রায় ৯৩ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল সংখ্যক বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে একটি বড় অংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী। আল-জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গের ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে 'অনুপস্থিত' বা 'মৃত' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর বাকি ৩০ লাখের ভাগ্য ঝুলে আছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়ের ওপর। তবে ভোটের আগে এই বিশাল সংখ্যক মামলার শুনানি শেষ হওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগণা এবং মালদহের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে ভোটার বাতিলের হার সবচেয়ে বেশি। মুর্শিদাবাদে ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর ২৪ পরগণায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদহে ২ লাখ ৪০ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই মুসলিম। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নথিপত্রে নামের বানানে সামান্য অমিল বা ডাকনাম ব্যবহারের কারণে যুগ যুগ ধরে ভোট দিয়ে আসা মানুষগুলো আজ রাষ্ট্রহীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ৭৩ বছর বয়সী নবীজান মন্ডল জানান, গত ৫০ বছর ধরে ভোট দিলেও এবার তার নাম তালিকায় নেই। আধার কার্ডে 'নবীরুল' আর ভোটার কার্ডে 'নবীজান' থাকার অজুহাতে তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রক্রিয়াকে বিজেপির একটি 'পরিকল্পিত চক্রান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিকভাবে জিততে না পেরে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিরোধী ভোট ব্যাংক ধ্বংস করছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' ও 'রোহিঙ্গাদের' ভোটার তালিকা থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। নির্বাচন বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদবের মতে, এই প্রক্রিয়া নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের পর নারীদের নাম ও ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে তারা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ভোটের মুখে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের অধিকার হারানোর এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ন্যায়বিচারের আশায় হাজার হাজার মানুষ এখন ট্রাইব্যুনালের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, যদিও তাদের ভোট দেওয়ার স্বপ্ন এখন অনেকটাই ফিকে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মমতা ব্যানার্জী (বাঁয়ে) ও শুভেন্দু অধিকারী (ডানে)
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতার আসনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৯৫ শতাংশই মুসলিম: চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি সমাজ-গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই কেন্দ্র থেকে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯৫.৫ শতাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর এই নির্বাচনী এলাকায় এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্যে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গবেষণা সংস্থা 'সবর ইনস্টিটিউট'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে অতিরিক্ত তালিকা থেকে মোট ২,৮২৬ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭০০ জনই মুসলিম এবং মাত্র ১২৬ জন অমুসলিম। অথচ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তালিকায় দেখা গিয়েছিল, এই এলাকায় মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের তালিকায় মুসলিমদের হার ছিল মাত্র ৩৩.৩ শতাংশ। হঠাৎ করে এই বিশাল ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচন কমিশন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নামের বানান বা বয়সের অসঙ্গতি খুঁজে বের করতে গিয়ে এই জটিলতা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে আরবি বা ফার্সি নামের ইংরেজি বানানে পার্থক্যের কারণে অসংখ্য মানুষ ভোটার তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছেন। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে বাংলার নবাব মীর জাফরের পরিবারের উত্তরসূরী থেকে শুরু করে হতদরিদ্র দিনমজুররাও রয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় ৪৮.৯ শতাংশ নারী এবং ৫১.১ শতাংশ পুরুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা প্রমাণ করে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই হয়তো এই যান্ত্রিক ত্রুটিগুলো বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও বিজেপি দাবি করেছে এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং নথিপত্রের অমিলের কারণেই হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল ও বামফ্রন্টের অভিযোগ, বেছে বেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ নাম পুনর্দ্ধারের জন্য ট্রাইব্যুনাল ও সাইবার ক্যাফেগুলোতে ভিড় করছেন।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
মালাদা জেলায় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে চলছে বিক্ষোভ।
ভোটার তালিকা নিয়ে রণক্ষেত্র পশ্চিমবঙ্গ, সুপ্রিম কোর্টের কড়া পদক্ষেপ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মালদা জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও এবং জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।  এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজি), মালদার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককে শোকজ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার সকাল থেকেই মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং কালিয়াচকের মতো এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।  বিশেষ করে কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিসে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ চলাকালীন সাতজন বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাকে রাতভর ঘেরাও করে রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঝরাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআই (CBI) বা এনআইএ (NIA)-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিতে হবে। পাশাপাশি, বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং শুনানি চলাকালীন ভিড় নিয়ন্ত্রণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং ৬০ লক্ষ ভোটার 'বিবেচনাধীন' তালিকায় রয়েছেন। 'সবর ইনস্টিটিউট' নামক একটি সংস্থার দাবি, মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ পড়ার হার তুলনামূলক অনেক বেশি। গবেষক সাবির আহমেদের মতে, ২০০২ সালের তালিকার সাথে বর্তমান ম্যাপিং প্রক্রিয়ায় অসংগতির কারণেই মানুষের মধ্যে এই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে "রাষ্ট্রপতি শাসন জারির গেমপ্ল্যান" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে শান্তিপূর্ণ থাকার এবং প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে তৃণমূলের উসকানি বলে দাবি করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে ইতিমধ্যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচনের আগেই বড় পদক্ষেপ: একযোগে ২৩টি পদ ছাড়লেন মমতা

আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আইনি বাধ্যবাধকতা ও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, তিনি ১১টি সরকারি দপ্তরের অধীনে থাকা মোট ২৩টি বিভিন্ন সংস্থা, বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর এই পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি দপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। নির্বাচনের আগে 'অফিস অফ প্রফিট' বা লাভজনক পদের জটিলতা এড়াতে প্রতিবারই এই নিয়ম পালন করতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগপত্রের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা সংযুক্ত করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, তালিকার বাইরেও যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে তাঁর পদ থেকে থাকে, তবে সেখান থেকেও যেন তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেসব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, তথ্য ও সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্য, বিপর্যয় মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স এবং অরণ্য দপ্তর। উল্লেখিত এই দপ্তরগুলোর বিভিন্ন সংস্থায় তিনি চেয়ারপার্সন, মিশন হেড বা প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ২৫শে মার্চ বিকেল ৪টের মধ্যে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত 'কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট' জমা দিতে হবে।

তাবাস্সুম মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০