- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রবাসী বাংলাদেশি
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আদালতের নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, শুক্রবার ২৩ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্ট এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে ঠিকানা নিউজ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টায় আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিচারক নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। তবে কোন আবেদন বা কী ধরনের আইনি যুক্তির ভিত্তিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। নির্বাচন স্থগিতের খবরে প্রার্থী, তাঁদের সমর্থক এবং ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণার পর ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত আসায় নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ঠিকানা নিউজকে জানিয়েছেন, নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে নির্বাচন কমিশন সংবাদ সম্মেলন করবে। নির্বাচন কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ দুলালও জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানে আদালতের নির্দেশ এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালেও ভোটার তালিকা, নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটগ্রহণের নিয়মকানুন নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা হয়েছিল। সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী সে সময় আদালতের দ্বারস্থ হন। একই বছরের অক্টোবরে আরও কয়েকজন সদস্য পৃথক মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতার কারণে ওই বছরের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আট বছর পর আবারও নির্বাচনের ঠিক আগে আদালতের নির্দেশে ভোট স্থগিত হওয়ায় সংগঠনটির নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই শুনানিতে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশ সোসাইটির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র: ঠিকানা নিউজ।
নিউ জার্সির প্যাটারসনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ কনস্যুলেট সেবা আয়োজন করতে যাচ্ছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার নিউ জার্সির প্যাটারসনে এ সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত প্রচারপত্র অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (এনআইডি) বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি পাসপোর্ট পুনঃইস্যু, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ এবং জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ৩১ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জন এফ কেনেডি হাইস্কুলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানস্থলের ঠিকানা ৬১–১২৭ প্রিকনেস অ্যাভিনিউ, প্যাটারসন, নিউ জার্সি ০৭৫০২। প্রচারপত্রে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা গ্রহণের সুযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা পেতে যেভাবে নিবন্ধন করবেন প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা নিতে আগ্রহীদের প্রথমে বাসায় বসে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধন শেষ হলে নিবন্ধন নম্বরের স্ক্রিনশট হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এ জন্য যোগাযোগের নম্বর হিসেবে দেওয়া হয়েছে +১ (৯১৭) ৩৬২-২৪৪২। প্রচারপত্রে নিবন্ধনের নম্বর পাঠানোর শেষ সময় হিসেবে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত কোনো নথি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন নম্বর না পাঠালে ওই ক্যাম্পে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে প্রচারপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাই আগ্রহীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার ফি ও সময়সীমা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার প্রকাশিত প্রচারপত্রে বিভিন্ন সেবার জন্য যে ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো। ১. ভিসা ছাড়া প্রবেশের সনদ (এনভিআর): ফি ৮৮ ডলার। প্রচারপত্রে একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২. যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট পুনঃইস্যু—সাধারণ: ফি ১১০ ডলার। প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক ৩৫ কর্মদিবস লাগতে পারে। ৩. যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট পুনঃইস্যু—জরুরি: ফি ২২০ ডলার। প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক ২০ কর্মদিবসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৪. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন—সাধারণ: ফি ৪৪ ডলার। প্রচারপত্রে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকরণের কথা বলা হয়েছে; নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। ৫. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন—জরুরি: ফি ৮২ ডলার ৫০ সেন্ট। একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৬. দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ (ডিএনসি): ফি ৭৭ ডলার। প্রচারপত্রে প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখ করা হয়নি। ৭. জন্মনিবন্ধন: ফি ২ ডলার। একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখিত ফি ও সময়সীমা আয়োজকদের প্রচারপত্রে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ফি বা নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত সময়সীমা কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা প্রচারপত্রে আরও জানানো হয়েছে, সেবা গ্রহণকারীদের জন্য ফটোকপি, মানি অর্ডার এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে। তবে কোন সেবার জন্য কোন ধরনের অর্থ পরিশোধ গ্রহণ করা হবে, তা আয়োজকদের কাছ থেকে আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। আয়োজক ও যোগাযোগ এই বিশেষ কনস্যুলেট সেবা কার্যক্রমের আয়োজক হিসেবে রয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। প্রচারপত্রে সার্বিক সহযোগিতায় নিউ জার্সির প্যাটারসনের দ্বিতীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেবা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রচারপত্রে যোগাযোগের নম্বর হিসেবে (৯১৭) ৩৬২-২৪৪২ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের সভাপতি বদরুল খান-এর নম্বর (৬৪৬) ৮২৪-৮৮১৪ উল্লেখ রয়েছে। প্রবাসে বসবাস করেও বাংলাদেশের পরিচয় ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তাই নির্ধারিত তারিখে সেবা নিতে আগ্রহীদের আগাম নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সুগার ল্যান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আগামী ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ দূতাবাসের মোবাইল কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ-আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের (বাস্গ) উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ই-পাসপোর্টের আবেদনসংক্রান্ত বায়োমেট্রিক কার্যক্রম, নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর), পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং বিভিন্ন নথি সত্যায়নের আবেদন গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সুগার ল্যান্ডের বাস্গ হোমে এ কার্যক্রম চলবে। ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬৬৪২ অ্যালিস ফস্টার স্ট্রিট, সুগার ল্যান্ড, টেক্সাস ৭৭৪৯৮। নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ইস্যু করা ১৬ বা ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন সনদের একটি অনুলিপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। আয়োজকদের প্রচারপত্রে মূল সনদ প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ক্যান করা বা ফ্যাক্সের মাধ্যমে পাঠানো কপিও গ্রহণযোগ্য বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র, ছবি, নির্ধারিত ফি এবং সংশ্লিষ্ট সেবার অন্যান্য কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। কোন সেবার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন এবং কত ফি দিতে হবে, তা জানতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের প্রচারপত্রে যোগাযোগের জন্য লাভলি (৮৩২-৪৬৬-৮২৩৮), পপি (৮৩২-৫৬৭-৬৩৩৬), শিপলু (৪০৯-৭২৮-৯২৬২), নাহিদ (৮৪৩-৫৮৪-৩৮০২), পাভেল (২৮১-৮২৭-৭৯৮০) এবং মালার (৮৩২-৭০১-৩৯৩২) নম্বর দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংগঠনটির ওয়েবসাইট www.basgh.net ভিজিট করা যাবে। সেবা নিতে যাওয়ার আগে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সঠিক সময়, স্থান এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: বাংলাদেশ-আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের প্রচারপত্র ও ওয়েবসাইট।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গু লি বি দ্ধ হয়ে নি হ ত হয়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মারুফ বেপারি। বুধবার, ২১ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, চাঁদার টাকা নিয়ে বি রো ধের জেরে তাঁকে হ ত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃ ত্যুর খবর শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। মারুফ শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের পশ্চিম সিড্যা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মৃত আব্দুস সোবহান বেপারি। তিন সন্তানের জনক মারুফ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা করছিলেন। তাঁর মৃ ত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। নি হ তের ভাতিজা কামরুজ্জামান বেপারির অভিযোগ, ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় একটি গোষ্ঠী মারুফের কাছে প্রতি মাসে ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড দাবি করত। গত তিন মাসের মধ্যে দুই মাস দোকান বন্ধ থাকায় মারুফ শুধু এক মাসের টাকা দিতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর কথা কা টা কা টি হয়। কামরুজ্জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই গোষ্ঠীর লোকজন প্রথমে ৫০০ র্যান্ড নিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তারা মারুফকে গু লি করে। তবে হামলার এই বিবরণ এবং চাঁদা নিয়ে বি রো ধের অভিযোগ পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ ত্যা কাণ্ডের কারণ সম্পর্কে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে আ ট ক করা হয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন সংবাদমাধ্যমকে মারুফের মৃ ত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। স্বজনরা তাঁর ম র দে হ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
আমেরিকায় বসেই বাংলাদেশের জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা অনলাইনে পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি ভূমিসেবা ব্যবস্থায় নিবন্ধন করে সংশ্লিষ্ট জমির হোল্ডিং যুক্ত থাকলে করের দাবি দেখা, পেমেন্ট করা এবং দাখিলা সংগ্রহ করা যায়। তবে প্রথমবার নিবন্ধন, জমির তথ্য যাচাই ও হোল্ডিং তৈরির কাজ বাকি থাকলে পুরো প্রক্রিয়া পাঁচ মিনিটে শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টাল অনুযায়ী, হোল্ডিং নিবন্ধনের জন্য সচল মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পরিচয়পত্রে থাকা জন্মতারিখ এবং দাখিলা বা নামজারি খতিয়ানের তথ্য প্রয়োজন। পুরোনো দাখিলা ও জমির খতিয়ান হাতের কাছে রাখলে তথ্য দেওয়ার কাজ সহজ হয়। প্রথমে সরকারি ভূমিসেবা পোর্টালের নাগরিক নিবন্ধন ও লগইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এরপর ভূমি উন্নয়ন কর সেবায় গিয়ে খতিয়ানের তথ্য জমা দিতে হবে। সরকারি ব্যবহারকারী নির্দেশিকায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির জন্য মালিকানার ধরন হিসেবে উত্তরাধিকার নির্বাচন করে ওয়ারিশের তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থাও উল্লেখ রয়েছে। তাই বাবার নামে খতিয়ান থাকলে তাঁর পরিচয়পত্র দিয়ে নিজের পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার পরিবর্তে প্রযোজ্য মালিকানা ও প্রতিনিধিত্বের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এমন প্রবাসী ভূমিমালিকদের জন্যও সরকারি নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। অভিভাবক বা প্রতিনিধির মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে অনলাইনে কর আদায়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। অ্যাকাউন্টে হোল্ডিং যুক্ত হলে তার বিস্তারিত অংশ থেকে অনলাইন পেমেন্টে যেতে হবে। সেখানে প্রদর্শিত পেমেন্ট গেটওয়ে নির্বাচন করে কর পরিশোধ করা যায়। তবে আমেরিকার মোবাইল নম্বরে নিবন্ধনের ওটিপি পাওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে ইস্যু করা যেকোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করার নিশ্চয়তা পাওয়া সরকারি নির্দেশিকায় নেই। পেমেন্টের সময় প্রদর্শিত ও কার্যকর পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। কর পরিশোধ সম্পন্ন হলে অ্যাকাউন্টের দাখিলা অংশে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের রশিদ পাওয়া যায়। সেটি সংরক্ষণ করা জরুরি। সরকারি পোর্টাল বলছে, জমির নামজারি ও কেনাবেচাসহ বিভিন্ন কাজে দাখিলা প্রয়োজন হতে পারে। টাকা কাটা গেলেও দাখিলা না এলে সরকারি নির্দেশিকায় পেমেন্ট সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। খাজনা সময়মতো না দিলেই জমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাস হয়ে যায়, এমন বক্তব্য সঠিক নয়। ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, কোনো বছরের কর সেই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ না হলে তা বকেয়া হিসেবে গণ্য হয়। টানা তিন বছর বকেয়া থাকলে প্রথম থেকে তৃতীয় বছর পর্যন্ত বার্ষিক ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে জরিমানাসহ তা আদায়যোগ্য। তৃতীয় বছর শেষে বকেয়া আদায়ে সার্টিফিকেট মামলা করা যেতে পারে। একই আইনে বকেয়া ও চলতি কর পরিশোধের সঙ্গে অথবা পরে সর্বোচ্চ তিন বছরের কর অগ্রিম দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নিয়মিত কর পরিশোধের পাশাপাশি প্রবাসী মালিকেরা অগ্রিম পরিশোধের সুবিধাও বিবেচনা করতে পারেন। নিবন্ধন বা হোল্ডিংয়ের তথ্য নিয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশে ভূমিসেবা সহায়তার জন্য ১৬১২২ নম্বর চালু রয়েছে। অনলাইনে কর দেওয়ার সুবিধা থাকলেও মালিকানা, খতিয়ান কিংবা হোল্ডিংয়ের ভুল সংশোধনে আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগ এনওয়াইপিডিতে পুলিশ অফিসার হওয়ার পরীক্ষায় আবেদন চলছে। ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএসের বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ৭৩১৪ নম্বর পরীক্ষায় আবেদনের শেষ দিন ১৪ অক্টোবর ২০২৬। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২ থেকে ৭ নভেম্বর। আবেদন ফি নেই। তবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরি পেতে স্বাস্থ্য, মানসিক সক্ষমতা, শারীরিক যোগ্যতা ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের ধাপগুলো পেরোতে হবে। আবেদন করতে হবে ডিসিএএসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম ওএসিসে। সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে পুলিশ অফিসার পরীক্ষাটি নির্বাচন করে নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হবে। ফি দেওয়ার পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে হবে ‘নো ফি’। বয়সের শর্তে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষার দিনে বয়স অন্তত ১৭ বছর হতে হবে। নিয়োগের জন্য ন্যূনতম বয়স ২০ বছর ছয় মাস। আবেদন জমা দেওয়ার দিনে বয়স ৪৩ বছরের নিচে থাকতে হবে। যোগ্য সামরিক সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত বয়স থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা সমমানের সনদের পাশাপাশি স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত ২৪ সেমিস্টার ক্রেডিট এবং ন্যূনতম ২.০ জিপিএ প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে সম্মানজনকভাবে দুই বছরের পূর্ণকালীন সেবা গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো দেশে পড়াশোনা করলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান মূল্যায়ন করাতে হবে। নিয়োগের সময় ইউএস সিটিজেন হতে হবে এবং বৈধ, বিধিনিষেধমুক্ত নিউইয়র্ক স্টেট ড্রাইভার লাইসেন্স থাকতে হবে। বাসস্থান হতে হবে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর কোনো একটিতে অথবা নাসাউ, সাফোক, রকল্যান্ড, ওয়েস্টচেস্টার, পুটনাম কিংবা অরেঞ্জ কাউন্টিতে। চাকরির প্রক্রিয়া শুরু হয় লিখিত প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে। এরপর মেডিকেল পরীক্ষা, লিখিত ও মৌখিক সাইকোলজিক্যাল মূল্যায়ন, ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্ত, শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা এবং ড্রাগ ও অ্যালকোহল স্ক্রিনিং সম্পন্ন করতে হয়। এনওয়াইপিডির নিয়োগ নির্দেশনায় এসব ধাপ সফলভাবে শেষ করার শর্ত রয়েছে। মেডিকেল ও সাইকোলজিক্যাল মূল্যায়নে পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব পালনের উপযোগিতা পরীক্ষা করা হয়। ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্তে প্রার্থীর চরিত্র ও পূর্ববর্তী আচরণ বিবেচনায় আসে। ফেলনি বা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সসংক্রান্ত মিসডিমিনরে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং সামরিক বাহিনী থেকে ডিসঅনারেবল ডিসচার্জ অযোগ্যতার কারণ। খারাপ আচরণের জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া, সহিংসতার প্রবণতা কিংবা আইন অমান্যের ইতিহাসও অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার কারণ হতে পারে। শারীরিক পরীক্ষাটির নাম জব স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট বা জেএসটি। এনওয়াইপিডির প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, একটানা পরীক্ষাটি চার মিনিট ২৮ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে হয়। এতে ৫০ ফুট স্প্রিন্ট করে বেড়া পার হওয়া, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, কাউকে শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মহড়া এবং ধাওয়ার দৌড় রয়েছে। পাশাপাশি ১৭৬ পাউন্ড ওজনের ম্যানিকুইন ৩৫ ফুট টেনে নেওয়া ও গুলিবিহীন আগ্নেয়াস্ত্রের ট্রিগার একাধিকবার টানার কাজ করতে হয়। নিয়োগের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে ক্যান্ডিডেট অ্যাসেসমেন্ট সেন্টারে ৭১৮ ৩১২ ৪২২৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। নিয়োগের পর পুলিশ একাডেমিতে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সেখানে আইন, অপরাধ তদন্ত, সাংবিধানিক অধিকার ও সংকট মোকাবিলার মতো বিষয় শেখানো হয়। কলেজ ক্রেডিটের শর্ত ৬০ থেকে ২৪ করার সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে। একই ঘোষণায় একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এক দশমিক পাঁচ মাইল দৌড় ১৪ মিনিট ২১ সেকেন্ডের কম সময়ে শেষ করার শর্ত পুনর্বহালের কথা জানানো হয়। বেতন সম্পর্কে এনওয়াইপিডির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুরুর বার্ষিক বেতন ৫৮ হাজার ৫৮০ ডলার এবং সাড়ে পাঁচ বছর পর ১ লাখ ২১ হাজার ৫৮৯ ডলার। এই অঙ্কে ওভারটাইম ও রাতের ডিউটির অতিরিক্ত পারিশ্রমিক অন্তর্ভুক্ত নেই। একাডেমির প্রশিক্ষণের প্রথম দিন থেকেই পূর্ণ বেতন ও সুবিধা পাওয়া যায়। সুবিধার মধ্যে রয়েছে হেলথ বেনিফিটের বিভিন্ন প্যাকেজ, প্রেসক্রিপশন, ডেন্টাল ও ভিশন কভারেজ, বেতনসহ অসুস্থতাজনিত ছুটি এবং অবসর সঞ্চয়ের ব্যবস্থা। ছয় বছর চাকরির পর বছরে ২৭ দিন বেতনসহ ভ্যাকেশন পাওয়া যায়। পদোন্নতির মাধ্যমে সার্জেন্ট, লেফটেন্যান্ট ও ক্যাপ্টেন হওয়ার সুযোগও রয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করেছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। নিহত দুজন হলেন বগুড়ার শাহেদ আহমেদ ও কুমিল্লার নাসরুল্লাহ বদরপুরী। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। হামলার পর বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় রিয়াদে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীও আটকা পড়েছিলেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হামলায় বিভিন্ন দেশের অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি রয়েছেন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার সঙ্গে জড়িত বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিহত শাহেদ আহমেদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের সাদ আল-ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দার একটি প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটাতে বাংলাদেশে এসেছিলেন শাহেদ। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অন্য নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরীর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তিনি। রিয়াদ বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় সেখান থেকে জেদ্দাগামী সংযোগ ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময়ই হামলার ঘটনা ঘটে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাসরুল্লাহ ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার সহকারী উপপরিচালক বা সহকারী মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁদের বৈধ আবাসন ও কাজের অনুমতিপত্র রয়েছে। বাকি ১৩ জন ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব গিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকে রিয়াদে যাত্রাবিরতির সময় জেদ্দাগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা, পরিচয় ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তাঁর বাবা ইসহাক ও মা কামালা বেগম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামের কাজী নুরুল্লাহর বাবা কাজী জয়নাল মিয়া এবং মা শিউলি বেগম। দুজনই ওমরাহ পালনে গিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় আহত হন। মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং কাজের উদ্দেশ্যে জেদ্দা যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামের সাফফাত রহমান ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. দাউদুল ইসলাম রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সাফফাতের বাবা মোখলেছার রহমান ও মা রোকেয়া বেগম। দাউদুলের বাবা মো. মহিব উল্লাহ এবং মা রোকেয়া বেগম। দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাফফাত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকার মো. সাইদুল ইসলাম সোরভ এবং মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকার আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাইদুলের বাবা মো. আবদুল হাই এবং মা রহিমা বেগম। রিয়াজ উদ্দিনের বাবা মো. আবুল ফজল এবং মা তাজকেরা বেগম। দুজনই ওমরাহ পালনে গিয়ে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকার ডেমরার পূর্ব বক্সনগর এলাকার মো. আবদুল্লাহ প্রিন্স সুলতান সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর বাবা মো. মোখতার আহমেদ এবং মা ফজিলাতুন নেসা। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকার আরমান হোসেন এবং মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ আবদুল হক সুলাইমান আল-হাবিব হাসপাতালের তাখাসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন। আরমানের বাবা মজিবুল হক এবং মা শামসুন নাহার। সৌদি আরবে কর্মরত রফিক মিয়া কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, ইসমাইল হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন হীরা ও রায়হানুল ইসলাম কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসাধীন। ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। মিসবাহ উদ্দিনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সালমা আক্তার, শাহাদাত হোসেন, মোশাদ আহমেদ সাইকাত, জাহিদ আহমেদ এবং সবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তাঁরা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত এবং তাঁদের বৈধ আবাসন ও কাজের অনুমতিপত্র রয়েছে। এ ছাড়া আসাদুল ইসলাম ও জামাল অ্যাস্টার সানাদ হাসপাতালে, নাজমা আক্তার সুলাইমান ফাকিহ হাসপাতালে এবং উমাইর ও আবদুল্লাহ কামিল সুলাইমান আল-হাবিব হাসপাতালের আল সাহাফা শাখায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের কয়েকজনের পূর্ণ পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য এখনো নিশ্চিত করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যাওয়া যাত্রী, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন। তাঁদের দুর্ভোগ কমাতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করে। দূতাবাসের উদ্যোগে টার্মিনাল-৩-এ থাকা প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য ম্যারিয়ট ও র্যাডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া ইহরাম পরিহিত অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পালনে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানো হয়। রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ওই ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদি এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশি কর্মীকেও সহায়তা করেছে দূতাবাস। তাঁদের আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইনে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দূতাবাস আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আটকে পড়া যাত্রীদের বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বেসামরিক মানুষের জীবন ও বেসামরিক অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলে এমন হামলা অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশ সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকেরা বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। এ জন্য বাংলাদেশে যাওয়া ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে আবেদন ও বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া ঘরে বসে সম্পন্ন করা যায় না। অনলাইনে আবেদন করার পর নির্ধারিত দিনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস, ছবি ও স্বাক্ষর দিতে হয়। ধাপ ১: আবেদনের যোগ্যতা যাচাই করুন - দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁদের আগে বাংলাদেশের এনআইডি নেই এবং যাঁরা বাংলাদেশে এনআইডির জন্য আবেদন করেননি, তাঁরাই নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হবে। এ জন্য বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা নির্ধারিত ঘোষণাপত্র এবং ১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মধ্যে মিল থাকতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রে দূতাবাসের ওয়েবপেজ ও নির্দেশিকার পিডিএফে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে বয়সের যোগ্যতা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। ধাপ ২: অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করুন - প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ । এরপর নতুন নিবন্ধনের আবেদনপত্র ফরম-২(ক) পূরণ করুন। আবেদনপত্রে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সঠিক তথ্য দিতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের তথ্য এবং বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা লেখার সময় জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। আবেদন করার সময় একটি সচল বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর দিতে হবে, কারণ পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে যোগাযোগ করা হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ফরমটির মুদ্রিত কপি সংরক্ষণ করুন এবং পোর্টালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন - আবেদনের জন্য অনলাইনে পূরণ করা ফরম-২(ক)-এর মুদ্রিত কপি, ১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদের মূল কপি ও ফটোকপি, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের এক কপি ছবি প্রস্তুত রাখুন। পাসপোর্ট না থাকলে দূতাবাসের নির্ধারিত ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে; সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তিনজন বাংলাদেশি এনআইডিধারীর সত্যায়ন প্রয়োজন। এ ছাড়া বাবা-মায়ের এনআইডি, বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, মৃত্যু সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), উত্তরাধিকার সনদ, নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ—প্রযোজ্য নথিগুলোর কপি সঙ্গে রাখতে হবে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার আবেদনকারীদের অতিরিক্ত বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হবে। ধাপ ৪: নির্ধারিত দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হন - অনলাইনে আবেদন করলেই নিবন্ধন সম্পন্ন হয় না। অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন আবেদনকারীকে নিজে বাংলাদেশ দূতাবাস বা তাঁর এলাকার জন্য প্রযোজ্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিসের তথ্য, ছবি ও স্বাক্ষর নেওয়া হবে। নিবন্ধন শেষে একটি স্লিপ দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে স্মার্ট এনআইডি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই স্লিপটি যত্ন করে সংরক্ষণ করুন। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, সেবার সময় এবং অতিরিক্ত কাগজপত্রের নির্দেশনা যাচাই করে নিন। ধাপ ৫: বাংলাদেশের নির্বাচন অফিসের যাচাই সম্পন্ন করুন - বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পর আবেদনকারীর তথ্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। এর মধ্যে এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ, জেএসসি বা পিএসসি সনদ, দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ, বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর, বিবাহ বা তালাকের নথি, স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি, জাতীয়তা সনদ এবং বাংলাদেশের ঠিকানাসংবলিত ইউটিলিটি বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ রয়েছে। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সব নথি লাগবে এমন নয়; যাচাইকারী অফিসের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র দিতে হবে। ধাপ ৬: এনআইডি ডাউনলোড ও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করুন - যাচাই সম্পন্ন হলে সিস্টেমে এনআইডি প্রস্তুত হলে আবেদনকারী তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। এ জন্য আবেদন করার সময় ব্যবহৃত ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা জরুরি। স্মার্ট কার্ড বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ছাপানো হয়ে দূতাবাস বা কনস্যুলেটে পৌঁছালে সংগ্রহ করা যাবে। কার্ড প্রস্তুত হতে কত দিন লাগবে, তা নির্দিষ্ট নয়; বাংলাদেশের যাচাইপ্রক্রিয়া ও কার্ড পাঠানোর সময়ের ওপর এটি নির্ভর করে। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এই সেবা মূলত নতুন এনআইডি নিবন্ধনের জন্য। আগে থেকেই এনআইডি থাকলে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যাবে না। আবেদনপত্রে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বয়সের যোগ্যতা, ফি এবং নির্দিষ্ট কাগজপত্র সম্পর্কে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা নিশ্চিত করুন। সরকারি তথ্যসূত্র * বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি: https://washington.mofa.gov.bd/pages/static-pages/6952668935ce18e1c05a9de3 * বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/
উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐক্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রবাসী কমিউনিটির উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকার (ফোবানা) ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটির যাত্রা শুরু হয়েছে। নতুন কমিটির শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির পরবর্তী মেয়াদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০২৭ সালে হিউস্টনে ফোবানার ৪১তম সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। সম্মেলনটি ২০২৭ সালের ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর হিউস্টনের উইন্ডহাম হোটেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলে আয়োজকসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। ফোবানার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন নির্বাহী কমিটিতে পাঁচজন কর্মকর্তা, নয়জন আউটস্ট্যান্ডিং সদস্য এবং ১৭টি সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধি রয়েছেন। কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ এম. রহমান (জহির)। ভাইস চেয়ারপারসন আবির আলমগীর, নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার, যুগ্ম নির্বাহী সচিব অ্যান্থনি পিউস গোমেজ এবং কোষাধ্যক্ষ নাহিদা নাসের ইয়াসমিন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির সামনে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং আগামী সম্মেলনকে সফল করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নতুন নির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বলে ৬ অক্টোবর প্রকাশিত ফোবানার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শপথ পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুবুর রহিম রেজা। এতে সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক নেতৃত্ব, সাবেক চেয়ারপারসন, সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধি, উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশনের সদস্য এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন নেতৃত্বের ঘোষিত অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা। ফোবানার নতুন কমিটির নয়জন আউটস্ট্যান্ডিং সদস্য হলেন রাবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদিন, মোহাম্মদ ইকবাল, শাম সুদ্ধুহা সাগর, ড. মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর ভূঁইয়া, মকবুল এম. আলী এবং বাবুল হাই। পাশাপাশি ১৭টি সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের তালিকায় টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়া, কানসাস, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, মেরিল্যান্ড ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংগঠনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। আগামী বছরের সম্মেলন ফোবানার নতুন কমিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন হতে যাচ্ছে। হিউস্টনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে টেক্সাসের বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংগঠক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফোবানার বার্ষিক সম্মেলন সাধারণত বাংলাদেশি সংস্কৃতি, সংগীত, সাহিত্য, সামাজিক যোগাযোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। নতুন কমিটির সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা এবং সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতিকে এগিয়ে নেওয়া। এর পাশাপাশি যুবসমাজ ও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক জোরদার করা এবং কমিউনিটির সেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অঙ্গীকারও রয়েছে। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সদস্য সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফোবানার ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন কমিটির যাত্রা এবং আগামী বছরের হিউস্টন সম্মেলনকে ঘিরে এখন সংগঠনটির পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর থাকবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের। নতুন নেতৃত্বের ঘোষিত অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং ২০২৭ সালের সম্মেলনের প্রস্তুতি কীভাবে এগোয়, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।
উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে প্রায় তিন দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বাংলাদেশি প্রবাসী কাজী আজিজুল হক খোকন। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে বসবাস করেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি তাঁর। শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার আগেই মৃত্যু হলো এই প্রবাসীর। নিউইয়র্কে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। এখন তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। কাজী আজিজুল হক খোকন যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি নিউইয়র্কের কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকায় একাই বসবাস করতেন। জ্যাকসন হাইটসের একটি দোকানে কাজ করতেন তিনি। তাঁর দেশের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরা জেলায়। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুবাদে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন খোকন। স্থানীয় সময় শনিবার থেকে খোকনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিচিতজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কর্মস্থল ও বাসায়ও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। কয়েক দিন ধরে খোঁজ নেওয়ার পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। এই খবরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন খোকন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিখোঁজ হওয়ার দিনই খোকনের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান তিনি। পরে নিউইয়র্ক সিটির একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পরপরই খোকনের পরিচয় ও স্বজনদের তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাঁর মরদেহ নিউইয়র্ক সিটির চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পাঠানো হয়। পরিচিতজনদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের ৯৯ উইনথ্রপ স্ট্রিটে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে মরদেহ রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন একই শহরে বসবাস করার পরও মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। খোকন জ্যাকসন হাইটসের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টসংলগ্ন অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ওই এলাকায় কাজ করার সুবাদে স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক কর্মী ও কমিউনিটির অনেকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতেন তিনি। খোকনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন পরিচিতজনেরা। কমিউনিটি নেতা মহিউদ্দিন দেওয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ব্রুকলিনের একটি ফিউনারেল হোমে স্থানান্তরের কথা ছিল। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে খোকনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মেডিকেল পরীক্ষা ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাঁর মৃত্যুতে কোনো অপরাধমূলক ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও খোকনের গ্রিন কার্ড হয়নি বলে পরিচিতজনদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পাওয়া তাঁর অন্যতম আক্ষেপ ছিল। তবে কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে আবেদন করেছিলেন কিংবা তাঁর আবেদন কোন পর্যায়ে ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত নথি প্রকাশিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য আইনি শর্ত পূরণ করতে হয়। খোকনের ক্ষেত্রে কেন এত বছরেও গ্রিন কার্ড হয়নি, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। একইভাবে গ্রিন কার্ড না থাকার কারণেই তিনি দেশে ফিরতে পারেননি, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্যও পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে নিউইয়র্কেই কাজ করেছেন খোকন। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেছেন এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তিন দশকের প্রবাসজীবন শেষে তাঁর স্থায়ী বসবাসের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে যায়। পরিচিতজনদের কাছে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর তাই গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন খোকনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা জানাজার আনুষ্ঠানিক সূচি নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন দশক যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর যে মানুষটির জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরার স্বপ্ন ছিল, শেষ পর্যন্ত তাঁর ফেরার আয়োজন চলছে কফিনবন্দি হয়ে।
মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মোট প্রায় ২ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সহায়তা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশ তিনটির জন্য আলাদা তিনটি সম্ভাব্য বিদেশি সামরিক বিক্রির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে মিসরের জন্য জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র, কুয়েতের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আমিরাতের জন্য নির্ভুল নিশানার অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। তিনটি চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে বড়টি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে। দেশটি সর্বোচ্চ ১০ হাজার অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম-২ বা এপিকেডব্লিউএস-২-এর নির্দেশনা ব্যবস্থা কিনতে পারবে। এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১ দশমিক ০৪১ বিলিয়ন ডলার। এসব নির্দেশনা ব্যবস্থা আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে স্থলে ব্যবহারের উপযোগী করে চাওয়া হয়েছে। এপিকেডব্লিউএস-২ মূলত সাধারণ রকেটকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তরের একটি নির্দেশনা ব্যবস্থা। এতে লেজার-নির্দেশনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রস্তাবিত প্যাকেজে নির্দেশনা ব্যবস্থার পাশাপাশি ওয়ারহেড, রকেট মোটর, ফিউজ, প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম এবং কারিগরি ও সরবরাহ সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলায় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। মিসরের জন্য প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজের মূল্য ৮৩২ মিলিয়ন ডলার। এর আওতায় কায়রো সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০টি এফজিএম-১৪৮এফ জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সর্বোচ্চ ২০০টি জ্যাভেলিন লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট কিনতে পারবে। এর মধ্যে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। প্যাকেজে প্রশিক্ষণ, সিমুলেশন সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, কারিগরি সহায়তা ও অন্যান্য সহায়ক ব্যবস্থাও রয়েছে। জ্যাভেলিন একটি বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা সাঁজোয়া যান ও ট্যাংকের মতো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তৈরি। মিসরের জন্য এই প্রস্তাবিত বিক্রিটি দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য জ্যাভেলিন ব্যবস্থার প্রথম সম্ভাব্য অধিগ্রহণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদন মানেই চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেছে এমন নয়। আলোচনার পর অস্ত্রের চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। কুয়েতের জন্য অনুমোদিত প্যাকেজটির ধরন কিছুটা ভিন্ন। দেশটি নতুন করে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র না কিনে বিদ্যমান প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মেরামত ও পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার সেবা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পাবে। এ প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পরিবহন, মেরামতের যন্ত্রাংশ, সহায়ক সরঞ্জাম, পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের সরঞ্জাম, কারিগরি তথ্য, প্রশিক্ষণ এবং মার্কিন সরকারের ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল ও কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কুয়েতের এই সহায়তা দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে ব্যবহার করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে কুয়েত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তাই এই প্যাকেজের মূল বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনটি সম্ভাব্য বিক্রিই দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এসব অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা সরবরাহের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন হবে না বলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন রয়েছে। তবে এই বিক্রিগুলো চূড়ান্ত করতে কংগ্রেসের পরবর্তী প্রক্রিয়া এবং ক্রেতা দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘোষণার সময়টিও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। আঞ্চলিক সংঘাত ও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকির মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে কুয়েতের প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সচল রাখা এবং আমিরাতের জন্য তুলনামূলক কম ব্যয়ের নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহের উদ্যোগ সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মিসর, কুয়েত ও আমিরাতের জন্য অনুমোদিত তিনটি প্যাকেজের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ দশমিক ২৭৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমিরাতের প্যাকেজ ১ দশমিক ০৪১ বিলিয়ন, মিসরের ৮৩২ মিলিয়ন এবং কুয়েতের ৪০০ মিলিয়ন ডলার। তবে এগুলো সম্ভাব্য বিদেশি সামরিক বিক্রির অনুমোদন হওয়ায় চূড়ান্ত চুক্তির পরিমাণ ও সরঞ্জামের সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, আনাদোলু এজেন্সি ও ডিফেন্স নিউজ।
নিউইয়র্কে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি ও শ্রমিক লীগ নেতা আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার নিখোঁজ হওয়ার দিনই খোকনের মৃত্যু হয়। সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত শনিবার থেকে খোকনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। খোকনকে নিউইয়র্ক সিটির একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তিনি। সিদ্দিকুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিচয় ও স্বজনদের সন্ধান নিশ্চিত করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খোকনের মরদেহ ব্রুকলিনের উইনথ্রপ স্ট্রিটে চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে পাঠায়। তাঁর মরদেহ সেখানে রয়েছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। খোকন নিউইয়র্কের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টের পাশের অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন। কিউ গার্ডেনসের বাসায় একা থাকতেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরায়। প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন খোকন। তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। শ্রমিক লীগের রাজনীতির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
জর্জিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য আবারও কনস্যুলার সেবা নিয়ে আসছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সেবার তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। জর্জিয়া বা পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত যেসব বাংলাদেশি কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহী, তাদের নির্ধারিত তারিখ দুটি ক্যালেন্ডারে রেখে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আরিফিন বাবুল আমেরিকা বাংলাকে জানান, কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত দিনে যথাসময়ে সেবাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসার পাশাপাশি আয়োজকদের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের সহযোগিতায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। এবারের আয়োজনে শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরিফিন বাবুল জানান, কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। সবাইকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সেবা গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদেরও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কনস্যুলার সেবা অনুষ্ঠিত হবে 3150 Holcomb Bridge Road, 1st Floor, Norcross, GA 30071 ঠিকানায়। আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর দুই দিন সেখানে মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে সেবা দেওয়া হবে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা এই আয়োজনে পাওয়া যাবে না। এনআইডি সেবার জন্য সংশ্লিষ্টদের মায়ামিতে অবস্থিত কনস্যুলেটে যেতে হবে। জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডা থেকেও বাংলাদেশিরা এই কনস্যুলার সেবা নিতে পারবেন বলে জানান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। তিনি বলেন, এসব অঙ্গরাজ্য থেকে যারা আটলান্টায় এসে কনস্যুলার সেবা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তথ্য ভালোভাবে দেখে প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন। নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সেবাকেন্দ্রে আসার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনস্যুলার সেবার বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও অন্যান্য নির্দেশনা পরবর্তীতে জানানো হবে। তাই সেবা নিতে আগ্রহীদের এখন থেকেই ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখ নিজেদের ক্যালেন্ডারে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সেবা গ্রহণ করলে পুরো কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। কনস্যুলার সেবা আয়োজনসংক্রান্ত প্রয়োজনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুলের সঙ্গে 404-552-3241 নম্বরে এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আহসান শান্তর সঙ্গে 404-542-0717 নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জর্জিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর বাংলাদেশিদের নির্ধারিত দুই দিন মনে রাখার এবং কনস্যুলার সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলীকে মৃ ত অবস্থায় পেয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁর মৃ ত দে হ উদ্ধারের খবর জানানো হয়। এক শোকবার্তায় মোহাম্মদ আলীর মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ঠিক কোথায় এবং কীভাবে তাঁর মৃ ত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। মোহাম্মদ আলীর মৃ ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডালাসের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ আলী চারটি ছোট সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। শোকবার্তায় আরও তাঁর মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন সময় পার করার জন্য ধৈর্য, শক্তি ও সান্ত্বনা কামনা করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলীর মৃ ত্যুর কারণ বা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমান করা হচ্ছে না। তদন্তের অগ্রগতি বা নতুন তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। ডালাসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এটি একটি বেদনাদায়ক ঘটনা। চার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁর জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: ডালাস বাংলাদেশ
ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোস শহরে নিজের বাড়ির আঙিনায় দেশীয় নানা ফলের গাছ লাগিয়ে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান। আম, জাম, কাঁঠাল, জামরুল, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ও আখসহ বাংলাদেশের পরিচিত নানা ফলের গাছে ভরে উঠেছে তাঁর বাড়ির আঙিনা। প্রবাসের জীবনে এই বাগানই হয়ে উঠেছে তাঁর শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম। বরিশালে জন্ম নেওয়া জলিল খান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কর্মজীবনে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রান্সপোর্টেশন ডিপার্টমেন্টে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোস শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় কাটালেও বাংলাদেশের মাটি, প্রকৃতি, দেশীয় ফল ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ভালোবাসা কমেনি। সেই টান থেকেই নিজের বাড়ির আঙিনায় একে একে লাগাতে শুরু করেন দেশের পরিচিত ফলের গাছ। সময়ের সঙ্গে সেই শখের বাগান এখন পরিণত হয়েছে বড় পরিসরের একটি দেশীয় ফলের বাগানে। এই বাগানে শুধু আম, জাম বা কাঁঠালই নয়, রয়েছে জামরুল, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ও আখসহ নানা ধরনের ফল। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাগানের উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বিলিয়ে দেন জলিল খান। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার আবহাওয়া দেশীয় কিছু ফল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় বাগানে ভালো ফলনও পাচ্ছেন তিনি। জলিল খানের দাবি, চলতি বছর তাঁর একটি জামগাছ থেকেই প্রায় ৪০ মণ জাম পাওয়া গেছে। এত বিপুল পরিমাণ জামের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন জায়গা থেকে বাংলাদেশিরা তাঁর বাগানে আসতে শুরু করেন। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও বাংলাদেশিরা জলিল খানের বাড়িতে এসে বাগানের জাম সংগ্রহ করেছেন। ফলে তাঁর বাড়ির এই ফলের বাগান এখন শুধু পরিবারের শখের বিষয় নয়, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছেও এটি হয়ে উঠেছে পরিচিত একটি জায়গা। দেশের প্রতি ভালোবাসার আরেকটি নিদর্শন রয়েছে তাঁর বাড়ির নামেও। জলিল খান নিজের বাড়ির নাম দিয়েছেন ‘নাচ মহল’। সন্তানদেরও বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করে বড় করছেন তিনি। প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন তিনি। জলিল খানের কাছে এই বাগান শুধু ফল চাষের জায়গা নয়। এটি তাঁর শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার একটি মাধ্যম। হাজার মাইল দূরে থেকেও বাংলাদেশের পরিচিত ফল, গাছপালা ও সংস্কৃতিকে নিজের জীবনের অংশ করে রেখেছেন তিনি। ভবিষ্যতে বাগানে আরও দেশীয় ফলের গাছ লাগানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে জলিল খানের। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিও তাঁর আহ্বান, সুযোগ ও জায়গা থাকলে বাড়ির আঙিনায় ফলের গাছ লাগানো। তাঁর বিশ্বাস, সবুজের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার পাশাপাশি এভাবেই নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের শিকড়ের গল্পও পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
লন্ডন থেকে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে হ্রদের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম (২০) নামে এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৬ সেপ্টেম্বর এ দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাঈম লন্ডন থেকে দুই বাংলাদেশি বন্ধুর সঙ্গে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আরটিভি অনলাইন জানিয়েছে, একটি লেকের পাশে ওজু করার সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান তিনি। নাঈম সাঁতার জানতেন না বলে জানা গেছে। নাঈম পানিতে পড়ে যাওয়ার পর পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তিনি পানিতে নেমে নাঈমকে খুঁজতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ লেকে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে।y প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধানের পর নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ওয়েলসের একটি হ্রদে ২০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ অনুসন্ধান চালানোর কথা জানানো হয়েছিল। নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। নাঈমের মামা মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পরিবার জানতে পারে স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে। খবর পাওয়ার পর নাঈমের বাবা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম পূর্ব লন্ডন থেকে দ্রুত ওয়েলসের উদ্দেশে রওনা হন। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান নাঈম যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার বাবা কেন্দ্রীয় কৃষক দলের একজন সদস্য বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নে। নাঈমের মরদেহ ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়েলস থেকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তার জানাজার সময় ও স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে। ওয়েলসের প্রাকৃতিক হ্রদ ও জলাশয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নিয়মিত সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে ঠান্ডা পানি, প্রবল বাতাস, পানির গভীরতা এবং তলদেশের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সাঁতার জানা ব্যক্তিদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সূত্র: আরটিভি অনলাইন, দ্য ডেইলি ড্যাজলিং ডন
যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে আসা বাংলাদেশিরা বৈধ বাংলাদেশি ড্রাইভার লাইসেন্স দিয়ে কিছু স্টেটে গাড়ি চালাতে পারেন। তবে সারা দেশে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। ভিজিটর হিসেবে এসেছেন, নাকি ওই স্টেটের বাসিন্দা হয়েছেন, তার ওপরও নিয়ম বদলায়। নিউইয়র্ক স্টেট ডিএমভি জানিয়েছে, অন্য দেশের বৈধ লাইসেন্সধারী ভিজিটর নিউইয়র্কে গাড়ি চালাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ভিজিটরদের জন্য নির্দিষ্ট ‘১২ মাসের’ সীমা ডিএমভির নির্দেশনায় নেই। তবে নিউইয়র্কের বাসিন্দা হলে ৩০ দিনের মধ্যে সেখানকার ড্রাইভার লাইসেন্স নিতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৮ বছরের বেশি বয়সী ভিজিটর নিজ দেশের বৈধ লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালাতে পারেন। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা হলে ১০ দিনের মধ্যে স্টেটের লাইসেন্স নিতে হয়। টেক্সাসের নির্দেশনায় বিদেশি লাইসেন্স ব্যবহারের সর্বোচ্চ মেয়াদ এক বছর অথবা টেক্সাসের বাসিন্দা হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটে। নতুন বাসিন্দাকে সেখানে ৯০ দিনের মধ্যে টেক্সাসের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট বা আইডিপি নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। নিউইয়র্কে বিদেশি লাইসেন্সের সঙ্গে আইডিপি বাধ্যতামূলক নয়, তবে লাইসেন্সের তথ্য বুঝতে এটি সহায়ক বলে জানিয়েছে ডিএমভি। আইডিপি মূল ড্রাইভার লাইসেন্সের বিকল্প নয়। বাংলাদেশে আইডিপি ইস্যুর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। তাই ‘বাংলাদেশি লাইসেন্সে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১২ মাস গাড়ি চালানো যায়’ কিংবা ‘আইডিপি না থাকলে কোনো ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যায় না’—এমন একক নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। গাড়ি চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্টেটের ডিএমভির নিয়ম এবং গাড়ি ভাড়া নিলে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সসংক্রান্ত শর্ত দেখে নেওয়াই নিরাপদ। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর দ্রুত ভবনের ছাদ থেকে নিচে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে সৌরভ ইসলাম নামে ২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দিন জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়। নিহত সৌরভ ইসলাম নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলাম ও রেনু বেগমের একমাত্র ছেলে। তিনি জেদ্দায় আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি জেদ্দায় ছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এক বছর আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি। পরিবারের ভাষ্য, মঙ্গলবার ভোরে সৌরভ যে আবাসিক ভবনে থাকতেন, তার ছাদে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জেদ্দায় সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা আসে। মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন তিনি। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার পায়ে তার বা রশি পেঁচিয়ে গেলে তিনি পড়ে যান বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সকালে একই বাসায় থাকা অন্যরা সৌরভকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনার দিন বিকেলে সৌদি আরবে থাকা সৌরভের এক সহকর্মী ফোন করে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর জানান। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর নরসিংদীর রায়পুরার মুছাপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। বুধবার সকালে স্বজন ও স্থানীয়রা সৌরভের বাড়িতে জড়ো হন। সৌরভের মা রেনু বেগম ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার এবং নিজের হাতে দাফন করার সুযোগ চেয়েছেন। বাবা আমির ইসলামও ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। নিহতের স্বজনেরা যোগাযোগ করলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান। সৌরভের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে যে সতর্কবার্তাটি ছিল, সেটিও ওই দিনের আঞ্চলিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জেদ্দা, মক্কা ও তাইফসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে। এসব সতর্কতা অল্প সময়ের মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইয়েমেন থেকে আগের দিন চালানো ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে জেদ্দার সতর্কবার্তার সময় সেখানে সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল কি না, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি হলেও ওই এলাকাগুলোতে কোনো প্রজেক্টাইল আঘাত করেছিল কি না সে বিষয়ে তখন কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে সৌরভ ঠিক কোন সতর্কবার্তা দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন এবং সেটি তার মৃত্যুর সঙ্গে কীভাবে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে পরিবারের বর্ণনাই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্য। সৌদি আরবে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই জেদ্দার মতো বড় শহরেও এমন সতর্কতা জারি হওয়ায় সেখানে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌরভ ইসলামের মৃত্যু সেই আতঙ্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। পরিবারের এখন প্রধান দাবি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির রেসিডেন্স ও কাজের ভিসা বাতিল হওয়ায় দেশে ফিরে আসা অনেক প্রবাসী আর ইউএইতে ফিরতে পারছেন না। এতে চাকরি, ব্যবসা ও পরিবারের সঙ্গে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সূত্রে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৪ হাজার ৮০০ জনে পৌঁছানোর কথা জানা গেলেও, ইউএই কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ ছুটিতে বা পারিবারিক কারণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা ইমেইল, মোবাইল মেসেজ অথবা ইউএইতে থাকা স্পনসরের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাদের ভিসা বাতিল হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, বাতিলের নোটিশে এর নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এমনই একজন আবুল কালাম আজাদ। প্রায় ২৭ বছর ইউএইতে থাকার পর তিনি গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন। ২৪ জুলাই ইমেইলের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তার দাবি, ওই বার্তায় ভিসা বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ ছিল না। তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ভুক্তভোগী প্রবাসীদের একটি কর্মসূচিতেও অংশ নেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে শুধু শ্রমিক নন, ইউএইতে ব্যবসা ও দোকান পরিচালনাকারী এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের পরিবার ও ব্যবসা ইউএইতেই রয়েছে। ভিসা বাতিল হওয়ায় তারা দেশে আটকে পড়েছেন এবং নিজেদের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে ইউএইর কাছে তুলেছে এবং বাতিল হওয়া ভিসাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগীদের একটি অংশ সরকারকে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও দিয়েছে। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৬২৬ জন বলা হয়েছিল। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তখন জানিয়েছিলেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ঘটছে না এবং পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপালসহ অন্য দেশের নাগরিকরাও এ ধরনের ভিসা বাতিলের মুখে পড়েছেন। তখন ৪১৭ জনের তথ্য ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে ভিসা নবায়নের জন্য পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে আগস্টের শুরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ৯৮৫ জন ভুক্তভোগীর তথ্য যাচাই করে ইউএই সরকারের কাছে পাঠায়। তাদের ভিসা বাতিলের কারণ, পুনর্বহালের প্রক্রিয়া এবং ইউএইতে থাকা ব্যবসা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। ভিসা বাতিলের কারণ নিয়ে এখনো সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধি ইউএইতে ভিসা ও কাগজপত্রের যাচাই আরও কঠোর হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভিসা নবায়নে দেরি, কাগজপত্রের সমস্যা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব কারণই যে ভিসা বাতিলের সরাসরি কারণ, তা তিনি দাবি করেননি। ভুক্তভোগী প্রবাসীরা সরকারকে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে তাদের আগের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মাসে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা এবং ইউএইতে ফেরা সম্ভব না হলে বিকল্প দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশের জন্য ইউএই দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। ১৯৭৬ সালে দেশটিতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান শুরু হওয়ার পর গত কয়েক দশকে সেখানে বড় একটি বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। ফলে ভিসা বাতিলের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চাকরি ও ব্যবসার ওপর নয়, তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রবাসী অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর মাদারীপুরের ধুরাইল ইউনিয়নে অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে তার মা, ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য বাড়িটিতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে খালাসীকান্দি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরগুলোর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বাড়িতে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তবে তারা ঠিক কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না। মনিরুল হাওলাদার ধুরাইল ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান মনিরুল। অভিনেত্রী বাঁধন অভিযোগ করেছেন, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে গেলে একদল ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করেন। তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং ফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে মনিরুল হাওলাদারের নামও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা ইতালির পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য মনিরুল প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন এবং এখনো সেই ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা মনিরুলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একমত নন। ওবায়দুল বলেন, “ওর বিচার হোক, আমরা ওর সঙ্গে নেই। ওর মা-বোন-ভাই সবাই পালিয়েছে।” স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মনিরুলের বাড়ির সামনে এসেছিলেন। তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়িতে হামলা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। চেয়ারম্যানকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য জানানো হয়েছে। সূত্র: চ্যানেল ২৪
সৌদি আরবে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তায়েফ থেকে জেদ্দাগামী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তাদের মৃত্যু হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনেরই বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। নিহত অপর দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যুতে সৌদি আরবে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিহতদের নিজ এলাকা কানাইঘাটেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। নিহত অপর দুজনের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।