- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রবাসী বাংলাদেশি
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর মাদারীপুরের ধুরাইল ইউনিয়নে অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে তার মা, ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য বাড়িটিতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে খালাসীকান্দি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরগুলোর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বাড়িতে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তবে তারা ঠিক কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না। মনিরুল হাওলাদার ধুরাইল ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান মনিরুল। অভিনেত্রী বাঁধন অভিযোগ করেছেন, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে গেলে একদল ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করেন। তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং ফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে মনিরুল হাওলাদারের নামও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা ইতালির পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য মনিরুল প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন এবং এখনো সেই ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা মনিরুলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একমত নন। ওবায়দুল বলেন, “ওর বিচার হোক, আমরা ওর সঙ্গে নেই। ওর মা-বোন-ভাই সবাই পালিয়েছে।” স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মনিরুলের বাড়ির সামনে এসেছিলেন। তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়িতে হামলা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। চেয়ারম্যানকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য জানানো হয়েছে। সূত্র: চ্যানেল ২৪
সৌদি আরবে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তায়েফ থেকে জেদ্দাগামী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তাদের মৃত্যু হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনেরই বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। নিহত অপর দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যুতে সৌদি আরবে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিহতদের নিজ এলাকা কানাইঘাটেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। নিহত অপর দুজনের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর ফেডারেশন ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। এতে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান এবং ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব নির্বাচিত হয়েছেন। রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে ফোবানার বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে নতুন কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফোবানার ৪০তম সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক বছরের জন্য ২০২৬–২৭ মেয়াদের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব রেজা রহিমের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোবানার নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেন অ্যাটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর ও ডিউক খান। নির্বাচনে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান, আবীর আলমগীর ভাইস চেয়ারম্যান, ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব, অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি এবং নাহিদা নাসের ইয়াসমিন ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন। ফোবানার নতুন নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এম. রহমান জহির ফ্লোরিডার, ভাইস চেয়ারম্যান আবীর আলমগীর নিউইয়র্কের, নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার ও জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ ভার্জিনিয়ার এবং ট্রেজারার নাহিদা নাসের ইয়াসমিন হিউস্টন, টেক্সাসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। নতুন কমিটির পাশাপাশি নয়জনকে আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন রবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদীন, মো. ইকবাল, শামসুদ্দোহা সাগর, মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর ভূঁইয়া, মকবুল এম. আলী, বাবুল হাই এবং ড. আব্দুস সাত্তার। তারা পেনসেলভেনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, ইলিনয়, ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ ছাড়া ফোবানার সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্য থেকে ১৭ জনকে এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার কানসাস সিটির রেহান রেজা এবং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির আবু রুমি রয়েছেন। এ তালিকায় আরও রয়েছেন ভার্জিনিয়ার বিএআইটিপিওর শামসুদ্দিন মাহমুদ, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি ডিএমভির আক্তার হোসাইন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার শফিকুল ইসলাম জুয়েল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের হাশমত মবিন, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ মেলা ইনকের তৌফিক সুলেমান খান তুহিন এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নুরুল আমিন। এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের দিলশাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন হিউস্টনের আজমল খান, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি হিউস্টনের নাদিম ভূঁইয়া, ভার্জিনিয়ার সুন্দরবনের করিম সালাউদ্দিন, বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সায়েদুল হক এবং জর্জিয়ার বেঙ্গলি বয়েজ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের রাসেল ভূঁইয়াও এক্সিকিউটিভ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। ফোবানার অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ মেয়াদে রবিউল করিম বেলাল চেয়ারম্যান এবং এম. রহমান জহির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জহির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসছেন এবং সংগঠনটির নেতৃত্বে নতুন এক বছরের মেয়াদ শুরু হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনটি ফোবানার ৪০তম কনভেনশন গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন নির্বাহী কমিটি আগামী এক বছর ফোবানার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংগঠনটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রয়েছে
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পদে নির্ধারিত মনোনয়ন ফি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। সভাপতি পদে প্রার্থী হতে ৬ হাজার ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলার দিতে হবে। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও মনোনয়ন ফি ৫ হাজার ডলার। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এবারের নির্বাচন। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন ফি ৪ হাজার ৫০০ ডলার, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ৩ হাজার ৫০০, ট্রেজারার ৩ হাজার এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি পদে ২ হাজার ৫০০ ডলার। এছাড়া একাধিক সম্পাদকীয় পদে ফি ২ হাজার ডলার এবং ছয়টি এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদের প্রত্যেকটির জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ফি নগদে জমা দিতে হবে এবং অর্থ গ্রহণের পর প্রার্থীকে অফিসিয়াল রসিদ দেওয়া হবে। কমিশন ও নির্বাহী কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে এসব মনোনয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কমিশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। বাংলাদেশ সোসাইটি নিজেদের পরিচিতিতে সংগঠনটিকে নন-পলিটিক্যাল, নন-প্রফিট ও নন-রিলিজিয়াস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির ২০২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ প্রকাশ্য ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ওই বছর সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারারের কমপেনসেশন শূন্য ডলার দেখানো হয়েছে। একই ফাইলিংয়ে সংগঠনটির মোট আয় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬০৭ ডলার এবং ব্যয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫ ডলার দেখানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মনোনয়ন ফি এর পরিমাণ নিয়ে কমিউনিটিতে মূল আলোচনা হচ্ছে, নন-প্রফিট সংগঠনের নির্বাচিত নেতৃত্বের পদগুলো বেতনভুক্ত না হলে প্রার্থী হতে এত বেশি অর্থ নির্ধারণের কারণ কী এবং এই অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মতামত আসছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিত অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল ও ইমিগ্রেশন লয়ার মইন চৌধুরী এক ফেসবুক পোস্টে সভাপতি পদে ৬ হাজার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলারের মনোনয়ন ফি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, নিউইয়র্কের অলাভজনক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির মনোনয়ন ফি হিসেবে এই পরিমাণ অর্থ তাঁর কাছে অনৈতিক মনে হয়। কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও নিউইয়র্কের পরিচিত মুখ তারিকুল ইসলাম মিঠুও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ সোসাইটির দুই বছর মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়ানোর জন্য শুধু মনোনয়ন পেপারের ফি হিসেবে ৬ হাজার ডলার দিতে হচ্ছে। তিনি নির্বাচনে মোট খরচ কত হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এত অর্থ ব্যয় করেও নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা নেই। একই পোস্টের শেষদিকে তিনি প্রশ্ন করেন, “এর মধ্যে কি মধু আছে ভাই?” এদিকে মনোনয়ন ফি নির্ধারণের কারণ ও এ অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে আমেরিকা বাংলা থেকে যোগাযোগ করা হলে কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশ সোসাইটির সর্বশেষ ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সংগঠনটির ১০০ শতাংশ আয় কনট্রিবিউশন হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং এক্সিকিউটিভ কমপেনসেশন ছিল শূন্য ডলার। সংগঠনটির ওই বছরের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৬৭৪ ডলার। এদিকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা, ৯ সেপ্টেম্বর আপিল, ১০ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর। মনোনয়ন ফি নিয়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটির অনেকের আগ্রহ এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে এই অর্থের ব্যবহার ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেদিকে।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয় নিয়ে যে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, চার দশকের মাথায় এসে সেই ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা’ বা ফোবানা এখন চার ভাগে বিভক্ত। বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা ও প্রবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বদলে সংগঠনটি এখন নেতৃত্বের কোন্দল ও সাংগঠনিক বিভক্তির কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছে। এবারের লেবার ডে উইকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চার শহর—নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, অরল্যান্ডো এবং টরন্টোতে একই সময়ে পৃথক চারটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আয়োজকদের প্রায় প্রতিটি পক্ষই নিজেদের আয়োজনকে ‘৪০তম ফোবানা সম্মেলন’ হিসেবে দাবি করছে, যা সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে চরম বিস্ময় ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। চার শহরে আয়োজিত এই সম্মেলনগুলোর প্রতিপাদ্য ও আয়োজন ভিন্ন। নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ায় ‘এনআরবি অ্যাসোসিয়েশন’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে ৫৪টি নিবন্ধিত সংগঠনের অংশগ্রহণে দ্বিতীয় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফ্লোরিডার কিসিমি এলাকায় তৃতীয় আয়োজনে থাকছে চলচ্চিত্র ও সংগীত তারকাদের অংশগ্রহণে জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। আর কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত চতুর্থ সম্মেলনে জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ ও অভিনেত্রী ববিতাসহ বিশিষ্টজনদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিনোদন ও উৎসবের আমেজ থাকলেও এই দৃশ্যমান বিভক্তি ফোবানার মূল উদ্দেশ্যকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সচেতন প্রবাসীদের অভিযোগ, ফোবানা এখন কেবলই সামাজিক মর্যাদা ও প্রভাব প্রদর্শনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। নেতৃত্বের এই প্রতিযোগিতার নেপথ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত অহমিকা। এর পাশাপাশি ‘দাওয়াত বাণিজ্য’ নিয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ। ফোবানা সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে অনেকেই দাবি করছেন। যদিও আয়োজকরা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের স্বচ্ছতার কথা জানিয়েছেন। ১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে যে ঐক্যের বার্তা নিয়ে ফোবানার জন্ম হয়েছিল, তা আজ ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বন্দ্বে ম্লান। উৎসবের আমেজে প্রবাসীরা সাময়িক আনন্দ পেলেও, সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ফোবানা কি আবারও তার পুরনো জৌলুস ফিরে পেয়ে প্রবাসীদের সত্যিকারের ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম হতে পারবে?
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করা ব্যক্তিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। নতুন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড স্পনসরদের ক্রেডিট-সংক্রান্ত তথ্য ভোক্তা রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে সংগ্রহ করার সুযোগ পেয়েছে সংস্থাটি। পরিবর্তনটি মূলত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পরিবারের সদস্যকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করার ক্ষেত্রে এই ফর্মে স্বাক্ষর করে স্পনসরকে ওই অভিবাসীর আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়। নতুন ফর্মে যুক্ত করা হয়েছে একটি প্রাইভেসি রিলিজ বা তথ্য সংগ্রহের অনুমতিসংক্রান্ত ধারা। এর মাধ্যমে ইউএসসিআইএস এক বা একাধিক কনজিউমার রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে স্পনসরের তথ্য চাইতে পারবে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি। নতুন ব্যবস্থাটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে যারা এখন পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিচ্ছেন, তাদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট শুধু একটি সাধারণ ফর্ম নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এটি স্পনসর ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি আইনগতভাবে কার্যকর চুক্তি। স্পনসরকে নির্দিষ্ট শর্তে অভিবাসীর আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব নিতে হয়। স্পনসরকে সাধারণত নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। কেউ সেই আয়সীমা পূরণ করতে না পারলে যোগ্য জয়েন্ট স্পনসর ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, জয়েন্ট স্পনসরকে নিজস্ব আয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। স্পনসরশিপের দায়িত্বও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। সাধারণভাবে স্পনসর করা ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া, ৪০টি কোয়ালিফাইং কোয়ার্টারের কাজের ক্রেডিট অর্জন করা, স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব বহাল থাকতে পারে। শুধু বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্পনসরশিপের দায়িত্ব শেষ হয় না। নতুন ক্রেডিট-তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে আরও তথ্য ব্যবহারের পথ তৈরি করতে পারে। তবে বর্তমানে ইউএসসিআইএস প্রতিটি স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্ট কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেনি। ফলে গ্রিন কার্ডের জন্য পরিবারের সদস্যকে স্পনসর করতে যাওয়া ব্যক্তিদের নতুন ফর্মের সর্বশেষ সংস্করণ এবং ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে এক লাখ ডলার বেতন শুনতে বেশ বড় অঙ্ক মনে হলেও, চারজনের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এই অর্থ দিয়ে স্বচ্ছন্দে সংসার চালানো সবসময় সহজ নয়। স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে একটি পরিবারে যদি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বছরে এক লাখ ডলার আয় করেন, তাহলে কর, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসর সঞ্চয়, রেন্ট, খাবার, গাড়ি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দেওয়ার পর মাস শেষে কতটা অর্থ হাতে থাকে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে বড় প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সারা বছর পূর্ণকালীন কাজ করা কর্মীদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশের বার্ষিক আয় ছিল এক লাখ ডলার বা তার বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ কর্মীর আয় ছিল এক লাখ ডলারের নিচে। অন্যদিকে, শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যম সাপ্তাহিক আয় ছিল ১ হাজার ২০৪ ডলার, যা বছরে প্রায় ৬২ হাজার ৬০০ ডলারের সমান। অর্থাৎ এক লাখ ডলার আয় করা একজন কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পূর্ণকালীন কর্মীর তুলনায় বেশি আয় করেন। কিন্তু চারজনের পরিবারের সব খরচ একা বহন করতে হলে সেই বাড়তি আয় কতটা স্বস্তি দেয়, তা নির্ভর করে পরিবারের জীবনযাত্রার ওপর। ধরা যাক, পরিবারের একজনই কাজ করছেন এবং তার বার্ষিক বেতন এক লাখ ডলার। মাসে কর কাটার আগের মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ ডলার। স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিচ্ছেন এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বেতন থেকে ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্সের পাশাপাশি সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার কর কেটে নেওয়া হবে। এর সঙ্গে যদি কর্মী বেতনের ৫ শতাংশ, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৪১৭ ডলার, ৪০১(কে) তে জমা রাখেন এবং পরিবারের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের জন্য মাসে প্রায় ৫০০ ডলার খরচ হয়, তাহলে কর ও এসব কাটাকাটির পর মাসে ব্যবহারযোগ্য আয় আনুমানিক ৬ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার ডলারের মতো হতে পারে। তবে প্রকৃত পেচেক নির্ভর করবে করের অবস্থা, হেলথ ইন্স্যুরেন্সের পরিকল্পনা, ৪০১(কে)-তে জমার পরিমাণ এবং পরিবারের অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর। এবার চারজনের পরিবারের মাসিক খরচের একটি বাস্তবসম্মত হিসাব ধরা যাক। রেন্ট ২ হাজার ২০০ ডলার, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি মিলিয়ে ইউটিলিটি ৩৫০ ডলার, ইন্টারনেট ৭০ ডলার এবং ফোন বিল ১২০ ডলার হলে এসব খাতেই চলে যায় ২ হাজার ৭৪০ ডলার। চারজনের পরিবারের বাজার ও খাবারের জন্য মাসে ১ হাজার ডলার ধরলে মোট খরচ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৪০ ডলার। এর সঙ্গে গাড়ির কিস্তি ৭০০ ডলার, গাড়ির ইন্স্যুরেন্স ২৫০ ডলার এবং গ্যাসের জন্য ২০০ ডলার যোগ হলে পরিবহন খাতে আরও ১ হাজার ১৫০ ডলার চলে যায়। হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ৫০০ ডলারসহ পোশাক, ব্যক্তিগত প্রয়োজন, ঘরের জিনিসপত্র, সন্তানদের স্কুল ও বিভিন্ন কার্যক্রম, ওষুধ এবং বিনোদনের খরচ ধরলে মাসিক ব্যয় আরও বেড়ে যায়। এই হিসাব অনুযায়ী, পোশাক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য ২০০ ডলার, ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য ২০০ ডলার, সন্তানদের স্কুল ও বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ৩০০ ডলার, ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য ১০০ ডলার এবং বিনোদন ও বিভিন্ন সদস্যতার জন্য ৫০ ডলার ধরলে সব মিলিয়ে মাসিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ২৪০ ডলার। অর্থাৎ মাসে ব্যবহারযোগ্য আয় যদি ৬ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার ডলারের মধ্যে থাকে, তাহলে নিয়মিত এসব খরচ মেটানোর পর মাস শেষে হাতে থাকতে পারে আনুমানিক ৫৬০ থেকে ৭৬০ ডলার। তবে এই অর্থকে পুরোপুরি সঞ্চয়যোগ্য অর্থ বলা যাবে না। কারণ এই হিসাবের মধ্যে বড় কোনো গাড়ি মেরামত, জরুরি চিকিৎসা, বাড়ির মেরামত, ছুটিতে যাওয়া, উৎসবের কেনাকাটা, সন্তানদের বড় কোনো খরচ কিংবা অন্য কোনো অপ্রত্যাশিত ব্যয় ধরা হয়নি। এমন একটি বড় খরচ এলেই মাসের অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক বাংলাদেশি শুধু নিজেদের পরিবারের খরচই বহন করেন না, বাংলাদেশে থাকা বাবা-মা, সন্তান বা অন্যান্য স্বজনের জন্যও নিয়মিত অর্থ পাঠান। এর বাইরে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সহযোগিতা, মসজিদ-মাদ্রাসায় অনুদান, পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব এবং সময়-সময় বাংলাদেশে যাতায়াতের বিমানভাড়ার মতো অতিরিক্ত খরচও অনেক পরিবারের বাজেটে থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ডলার আয় করা একটি বাংলাদেশি পরিবারের হাতে মাস শেষে কয়েকশ ডলার থাকলেও, সেখান থেকে দেশে অর্থ পাঠানো ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করলে সঞ্চয়ের জন্য অবশিষ্ট অর্থ আরও কমে যেতে পারে। আর এখানেই উঠে আসে বড় প্রশ্ন। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ শতাংশ পূর্ণকালীন ও সারা বছর কাজ করা কর্মীর আয় এক লাখ ডলারের নিচে, সেখানে তারা কীভাবে রেন্ট, খাবার, গাড়ি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, সন্তানদের খরচ এবং পরিবারের অন্যান্য দায়িত্ব সামলাচ্ছেন? আর বাংলাদেশি প্রবাসীদের ক্ষেত্রে যখন দেশের পরিবারের জন্যও নিয়মিত অর্থ পাঠাতে হয়, তখন ভবিষ্যতের সঞ্চয় বা জরুরি সময়ের জন্য অর্থ রাখার সুযোগই বা কতটুকু? বাস্তবে অবশ্য সবার পরিস্থিতি এক নয়। কেউ কম রেন্টের এলাকায় থাকেন, কেউ গাড়ির ঋণমুক্ত, কেউ দুইজনের আয় দিয়ে সংসার চালান, আবার কেউ চাকরিদাতার কাছ থেকে তুলনামূলক ভালো হেলথ ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পান। অন্যদিকে বেশি রেন্ট, গাড়ির ঋণ, শিশুদের যত্নের খরচ বা বড় চিকিৎসা ব্যয় থাকলে এক লাখ ডলার আয় করেও পরিবারের বাজেট বেশ চাপে পড়ে যেতে পারে। কাগজে এক লাখ ডলার ছয় অঙ্কের বেতন। কিন্তু চারজনের পরিবার, তার সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের দায়িত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ যোগ করলে মাস শেষে কতটা অর্থ সত্যিই হাতে থাকে, সেই হিসাবই প্রবাসী জীবনের বাস্তব আর্থিক চিত্রটি সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছেন ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ এর প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, টাইটেল স্পন্সর মুনিরুল ইসলাম, চিফ প্যাট্রন শিপার চৌধুরীসহ হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল, ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সাধারণ সম্পাদক এম. ওয়াহিদ রহমান, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মুনিম, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রীর নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অবস্থিত ইউনিভার্সল হিলটন এ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুটির ঠিকানা ৫৫৫ Universal Hollywood Drive, Universal City, California কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত ফোবানা কনভেনশন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রদেশ থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান ও বাংলাদেশি-কানাডিয়ানরা এ আয়োজনে অংশ নেন। এবারের ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড সংলগ্ন ইউনিভার্সাল সিটিতে আয়োজন হওয়ায় এবারের কনভেনশনকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদেরা জানান, তিন দিনের এই কনভেনশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন প্রতিভা প্রদর্শন, যুব কার্যক্রম, সম্মাননা ও কমিউনিটি গ্যাদারিংয়ের পাশাপাশি খাবার, পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মশালার ব্যবস্থা থাকবে। ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসীদের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করাও এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকে তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ফোবানা হোস্ট কমিটি ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কনভেনশনকে সফল করতে আয়োজকরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে ঘিরে বড় ধরনের প্রবাসী মিলনমেলা। বাংলাদেশ-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার, লাইভ সংগীত, ফ্যাশন শো, বিভিন্ন ধরনের গেমস, র্যাফেল ড্র এবং নানা বিনোদনমূলক আয়োজন। রোববার, ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার-০০এ১-এ অনুষ্ঠিত হবে অনুষ্ঠানটি। এর ঠিকানা ৮৯৯৯ ফোর্ট হান্ট রোড, আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া ২২৩০৮। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকা ছাড়াও ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেটের বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পারফরম্যান্স। আয়োজকরা জানান, ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় প্রথমবারের মতো নকীব খান এই অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করবেন। তার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানও মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করবেন। নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। তার গান বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সংগীত পরিবেশনাকে ঘিরে বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মেজবানির মূল আকর্ষণ থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক অতিথির জন্য খাবার প্রস্তুতের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আগের দিন থেকেই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অনুষ্ঠানস্থলে অতিথিদের স্বাগত জানানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হবে। দুপুরের দিকে মেজবানি খাবার পরিবেশন করা হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, পারিবারিক মিলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক আয়োজন। আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়া জানান, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে কেন্দ্র করে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি সংযোগ তৈরি করতেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। আয়োজক শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, মেজবান সফল করতে আগের দিন থেকেই খাবার প্রস্তুতি ও অন্যান্য আয়োজনের কাজ শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে সংগীত পরিবেশনাও থাকবে। মেজবানি ও সংগীতের পাশাপাশি এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে বিশেষ র্যাফেল ড্র। প্রথম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি হিরের আংটি। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৪কে টেলিভিশন এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ গেমসের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ ফ্যাশন শোরও আয়োজন থাকছে।সারাহ, দিশা ও স্মিতার নাম ফ্যাশন শোর অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পুট দ্য মাস্ট্যাশ অন আঙ্কেল স্যাম’ নামে একটি বিনোদনমূলক আয়োজনও থাকছে। এটি এনায়েত খান ও আবু রুমি আয়োজন করছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মেজবানকে আগের আয়োজনগুলোর তুলনায় আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু খাবার বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, পুরো দিনটিকে পরিবার ও কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি আনন্দময় মিলনমেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্য তুলে ধরাও এবারের আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য। মেজবানের খাবার, সংগীত, ফ্যাশন ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের একসঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগাম রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রচারপত্রে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে রিজার্ভেশন করা যাবে। জেল-এর মাধ্যমে যোগাযোগ বা অর্থ প্রদানের জন্য baitpodc@gmail.com ইমেইল ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানসংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়ার ফোন নম্বর ৭০৩-৩৩২-৫৯৫৮ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক মেজবানি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আগামী ২৩ আগস্ট, রোববার আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেজবানি। আয়োজন ঘিরে এরই মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের সঙ্গীত পরিবেশনা করবেন। আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন বা বাইটপোর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেজবানি প্রতি বছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়। এর আগে আমেরিকা বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ: মেজবানির প্রধান আকর্ষণই থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই মেজবানির জন্য গরু জবাই ও রান্নার প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু হবে। বিপুলসংখ্যক অতিথির খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিষয়টি মাথায় রেখে আগেভাগেই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করবেন স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকরা। রোববার সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে অতিথিদের জন্য মেজবানির খাবার পরিবেশন শুরু হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, মিলন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন। নকীব খানকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ: এবারের আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। তার পাশাপাশি সঙ্গীত পরিবেশনায় থাকছেন প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী। নকীব খানের গান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের জন্য এবারের আয়োজনটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। র্যাফেল ড্রতে থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার: মেজবানি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে র্যাফেল ড্র। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে র্যাফেল ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে এবং প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি হিরের আংটি। ফলে মেজবানির খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সঙ্গীত পরিবেশনার পাশাপাশি র্যাফেল ড্র নিয়েও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রস্তুতি নিয়ে যা জানালেন স্যাম রিয়া ও শামসুদ্দিন মাহমুদ: আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্যাম রিয়া এবং তার স্বামী শামসুদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, মেজবানিকে সফল করতে প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই গরু জবাইসহ মেজবানির মূল প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। দুপুরের পর শুরু হবে মেজবানির খাবার পরিবেশন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে চলবে সঙ্গীত পরিবেশনা। প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্যের যোগসূত্র: আয়োজকদের অন্যতম লক্ষ্য শুধু একটি খাবারের আয়োজন করা নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক জায়গায় এনে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি, চট্টগ্রামের মেজবানি এবং দেশের সামাজিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান আয়োজকরা। স্যাম রিয়া এর আগে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছিলেন, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসীদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিসি, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশিদের আহ্বান: আয়োজকদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেট থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই ও আমেরিকা বাংলা: এবারের মেজবানি আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আই এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম আমেরিকা বাংলা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির এই বড় আয়োজনের খবর, প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিভিন্ন আপডেট বৃহত্তর দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে দুই গণমাধ্যমই মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে। আগামী ২৩ আগস্টের এই আয়োজন তাই শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ নয়। প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার পাশাপাশি নকীব খান ও অন্যান্য শিল্পীর সঙ্গীত উপভোগেরও সুযোগ থাকছে। আর মাত্র পাঁচ দিন পরই আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বসছে এই মিলনমেলা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের মেজবানি স্মরণীয় একটি কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত হবে।
সন্তানের কাছে ভালো থাকবেন, শেষ বয়সটা কাটবে নিশ্চিন্তে - এমন আশা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু নিউইয়র্কে তাদের কারও কারও জীবনের বাস্তবতা নাকি একেবারেই ভিন্ন। সন্তানদের কাছে থাকার পরও দিনের বেলা ঘরের বাইরে কাটানো, পার্কে বসে কান্না করা, এমনকি পরিচিত মানুষের কাছে চা-খাবারের জন্য এক থেকে দশ ডলার চাওয়ার মতো ঘটনা দেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি লাকি খানম। নিউইয়র্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাকি খানম বলেন, রাস্তাঘাট ও পার্কে চলাফেরার সময় এমন একাধিক বয়স্ক বাংলাদেশির সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ সরাসরি তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন। লাকি খানম বলেন, “আমাদের কাছেই হাত পাতে। বলে, দশটা টাকা দেবেন, চা খাব। একটা টাকা দেবেন - এমন কথাও শুনতে পাই।” তার দাবি, এসব বৃদ্ধের অনেককেই ছেলে-মেয়েরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছেন। তাদের দেখাশোনার জন্য হোম কেয়ার সুবিধাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা সেই সুবিধার সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজের দেখা একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লাকি খানম। নিউইয়র্কের একটি পার্কের পাশে এক বৃদ্ধের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বসে কথা বলেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই ব্যক্তি শিক্ষিত ও ভালো অবস্থানে ছিলেন। মেয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কেঁদেছিলেন। আরেকটি ঘটনার বর্ণনায় লাকি খানম দাবি করেন, এক বৃদ্ধ তাকে জানিয়েছেন, মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে বাসায় খাওয়াদাওয়া করার পর চলে যান। পরে তাকেই থালা-বাসন পরিষ্কার করতে হয়। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বৃদ্ধ বা তাদের পরিবারের বক্তব্য নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে নিউইয়র্কের সব বাংলাদেশি পরিবারের চিত্র হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। লাকি খানম বিশেষভাবে পরিষ্কার করেছেন, তার অভিযোগ হোম কেয়ার ব্যবস্থা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, হোম কেয়ার কর্মীরা পরিশ্রম করেন এবং বয়স্কদের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তার অভিযোগ সেইসব সন্তানের বিরুদ্ধে, যারা বাবা-মায়ের জন্য পাওয়া সুবিধা ব্যবহার করলেও তাদের যথাযথ যত্ন নেন না। লাকি খানম বলেন, “এজেন্সিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না। অভিযোগ হচ্ছে ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে। টাকা দিচ্ছে, কিন্তু এরা পায় না।” নিউইয়র্কের আইনে বিষয়টি গুরুতর। বয়স্ক ব্যক্তির অর্থ বা সম্পদ অন্য কেউ অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করা কিংবা তাকে নিজের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করাও আর্থিক শোষণের আওতায় পড়তে পারে। একইভাবে খাবার, আশ্রয় বা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত করা অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্যও দেখাচ্ছে, বয়স্কদের নির্যাতন ও অবহেলা নিউইয়র্কে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিংয়ের হিসাবে, রাজ্যটিতে প্রতিবছর আনুমানিক তিন লাখ ষাটোর্ধ্ব মানুষ কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে আর্থিক শোষণ এবং পরিচর্যাকারীর অবহেলাও রয়েছে। লাকি খানম নিজেও আগে হোম কেয়ারে কাজ করেছেন। তার বক্তব্য, সন্তানদের কর্মব্যস্ততা বাস্তব সমস্যা। কিন্তু বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সময় দেওয়া, যত্ন নেওয়া এবং সম্মানের সঙ্গে রাখার সামর্থ্য আছে কি না - সেটিও ভাবা প্রয়োজন। এ কারণেই বাংলাদেশে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উদ্দেশে কঠিন একটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি - শুধু আমেরিকায় আসার সুযোগ আছে বলেই চলে আসবেন না, আগে ভাবুন এখানে এসে জীবনটা কেমন হবে। তার মতে, বাংলাদেশে হয়তো অর্থনৈতিক সুযোগ কম, কিন্তু পরিচিত পরিবেশে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে দিনের বড় অংশ একাকী কাটাতে হলে শেষ বয়সে সেই প্রবাসজীবন অনেকের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে অবহেলা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় খাবার-আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না কিংবা আর্থিকভাবে শোষণ করা হচ্ছে বলে সন্দেহ হলে নিউইয়র্ক সিটির অ্যাডাল্ট প্রোটেকটিভ সার্ভিসেসে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সংস্থাটি নির্যাতন, অবহেলা ও আর্থিক শোষণের ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত লাকি খানমের সাক্ষাৎকার নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে - বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে আসাই কি সন্তানের দায়িত্বের শেষ কথা? নাকি শেষ বয়সে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ, একটু সময় এবং সম্মানের জীবন নিশ্চিত করাটাই আসল দায়িত্ব? এই নিউজটি একজন অনলাইনভিত্তিক ব্লগারের সাক্ষাৎকারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আমেরিকা বাংলা সরাসরি এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ পায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো তথ্য বা আপডেট পাওয়া গেলে তা পাঠকদের জানানো হবে।
ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে ফোর্ট হান্ট পার্কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিএমভি এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের লাইভ সংগীত পরিবেশনার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের পাশাপাশি থাকবে সংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাফেল ড্র এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি বড় একটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নকীব খানের পাশাপাশি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন। ফলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন সরাসরি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। প্রায় পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে তিনি সোলস ও রেনেসাঁর মতো ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের ব্যান্ড সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর সংগীতজীবন ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাইটপো যুক্তরাষ্ট্রের ডিএমভি অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের একটি সংগঠন। সংগঠনটি পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও করে থাকে। এর আগে ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর আয়োজনে মেজবান ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। এবারের র্যাফেল ড্রতেও থাকছে নানা আকর্ষণ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, হীরার আংটি, ল্যাপটপ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকছে অংশগ্রহণকারীদের জন্য। আয়োজক কমিটি থেকে স্যাম রিয়া বলেন, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের সঙ্গে সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও র্যাফেল ড্র যুক্ত করায় পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দিনটি আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় আরও গভীরভাবে তৈরি করা সম্ভব। চট্টগ্রামের মেজবান শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। প্রবাসের মাটিতে সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আগামী ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার এ-০০১-এ অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। মেজবানের স্বাদ, নকীব খানের লাইভ সংগীত এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনাকে ঘিরে উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১–২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিজেদের শুধু বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেন। আর ২০২৩ সালের মার্কিন আদমশুমারির হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশির বসবাস নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। একাই দেশটির মোট বাংলাদেশি-একক জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষের আবাস নিউইয়র্কে। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য ও বিভিন্ন জনসংখ্যাগত অনুমানের ভিত্তিতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতির দিক থেকে শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল হলো: ১. নিউইয়র্ক — প্রায় ১,১৫,০০০ ২. মিশিগান — প্রায় ২০,০০০ ৩. ক্যালিফোর্নিয়া — প্রায় ১৮,০০০ ৪. টেক্সাস — প্রায় ১৭,০০০ ৫. নিউ জার্সি — প্রায় ১২,০০০ ৬. জর্জিয়া — আনুমানিক ১৫,০০০ (বিভিন্ন কমিউনিটি অনুমান) ৭. ফ্লোরিডা — আনুমানিক ৮,০০০–১০,০০০ ৮. পেনসিলভানিয়া — আনুমানিক ৭,০০০–৮,০০০ ৯. নর্থ ক্যারোলাইনা — আনুমানিক ৫,০০০–৭,০০০ ১০. ম্যাসাচুসেটস — কয়েক হাজার বাংলাদেশির বসবাস, কমিউনিটি ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকা প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশির আবাস হলেও এটি কোনো একক অঙ্গরাজ্য নয়। এই সংখ্যা ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ডিসি—এই তিনটি প্রশাসনিক এলাকার সম্মিলিত হিসাব। তাই অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তালিকায় এটিকে আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একক জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। ২০২৩ সালে তা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। বর্তমানে বাংলাদেশিদের ৭১ শতাংশই অভিবাসী এবং তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বেশি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান কেনাকাটার কেন্দ্র। এখানকার দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি দোকানগুলোতে প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার হয়। তবে গত এক বছরে খাদ্যপণ্য ও কাঁচাবাজারের দাম বেড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণ অর্থে আগের তুলনায় কম পণ্য কিনতে পারছেন বলে জানাচ্ছেন অনেক ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যুরো অফ ল্যাবর স্ট্যাটিসটিক্স ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক-নিউয়ার্ক-জার্সি সিটি অঞ্চলে গত এক বছরে ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) বেড়েছে। একই সময়ে খাদ্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও অনেক পরিবারের জন্য চাপের কারণ হয়ে রয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি দোকানে চাল, ডাল, ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, তেল, পেঁয়াজ, আলু, টমেটো ও অন্যান্য সবজির দাম দোকানভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি। ফলে মাসিক বাজারের বাজেটও বেড়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, প্রায় ১০০ ডলারের বাজেটে একটি পরিবারের জন্য ১০ পাউন্ড চাল, এক গ্যালন দুধ, এক ডজন ডিম, কয়েক পাউন্ড মুরগির মাংস, কিছু ডাল, সীমিত পরিমাণ সবজি, ফল এবং প্রয়োজনীয় কিছু মসলা কেনা সম্ভব। তবে এক বছর আগে একই অর্থে আরও বেশি পরিমাণ পণ্য কেনা যেত বলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে। নিয়মিত বাজার পর্যালোচনা করেন তাদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে বাজারদর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। বরং দাম বৃদ্ধির গতি কমলেও পণ্যের মূল্য সাধারণত উচ্চ অবস্থানেই থেকে যায়। এ কারণে ভোক্তারা এখনও উচ্চ বাজারদরের প্রভাব অনুভব করছেন। এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান্ডি হারিগ বলেন, খুচরা বিক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ দামে কেনা পণ্যের মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন না। ফলে পাইকারি বাজারে পরিবর্তন এলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পৌঁছাতে সময় লাগে। একই প্রতিবেদনে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ও সম্পদ অর্থনীতির অধ্যাপক মাইক ওয়ালডেন বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কমলেও ভোক্তারা সাধারণত আগের দামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাম একটি নতুন উচ্চ স্তরে স্থিতিশীল হয়ে যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ব্যয়, পরিবহন খরচ, শ্রম ব্যয় এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে খাদ্যপণ্যের দাম এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। ফলে জ্যাকসন হাইটসের অনেক প্রবাসী পরিবার এখন বাজার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় প্যাকেটে পণ্য কেনা, বিভিন্ন দোকানের মূল্য তুলনা করা এবং সাপ্তাহিক ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তবুও অনেক পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউইয়র্কের এক বাংলাদেশি প্রবাসী আমেরিকা বাংলাকে বলেন, “এক বছর আগেও ৮০ ডলার দিয়ে মোটামুটি এক সপ্তাহের কাঁচাবাজার হয়ে যেত। এখন একই ধরনের কাঁচাবাজার করতে প্রায় ১৫০ ডলার লেগে যায়। তবে শুধু কাঁচাবাজার নয়, পরিবারের অন্যান্য নিয়মিত খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে আমার চার সদস্যের পরিবারের মাসিক ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই বেড়েছে। সংসারের বাজেট সামলানো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসেও খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও দ্রুত আগের স্তরে নেমে আসার সম্ভাবনা কম। তাই নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসী পরিবারকে উচ্চ বাজারদরের বাস্তবতার মধ্যেই তাদের মাসিক বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা গেছে, সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) শহর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি দোকানের ভেতরে থাকা আবাসিক কক্ষে সাতজন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই পুরো কক্ষ ধোঁয়া ও আগুনে ছেয়ে যায়। ঘুমন্ত অবস্থায় অধিকাংশই বের হওয়ার সুযোগ পাননি। ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত অপর একজনকে দ্রুত উদ্ধার করে কুইন্সটাউনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নিহতদের সবাই বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তাদের স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, গ্যাসের লিকেজ কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেকেই ছোট ব্যবসা ও খুচরা দোকান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার্থে অনেক প্রবাসী দোকানের ভেতরেই বসবাস করেন। ফলে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা এবং আহত ব্যক্তির চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রবাসীরা। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অসুস্থ এক মেধাবী শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড প্রবাসী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ কাজল। সোমবার বিকেলে বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অভিজিৎ মজুমদারের পরিবারের হাতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। অভিজিৎ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। অসুস্থতার কারণে তার চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান মোহাম্মদ কাজল। তার পক্ষ থেকে অভিজিতের বাবা শ্যামল মজুমদারের হাতে নগদ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুলতান-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খাজা নজরুল ইসলাম, বসুরহাট পৌরসভা যুবদল নেতা খাজা কামরুল ইসলাম স্বপন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্যামল দাস। মোহাম্মদ কাজল দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বসবাস করছেন। তিনি সেখানকার একজন ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি তিনি সুলতান-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি মেরিল্যান্ড বাংলাদেশি ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসে বসবাস করলেও নিজ এলাকা কোম্পানীগঞ্জের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ রেখে চলেছেন মোহাম্মদ কাজল। সুলতান-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসচ্ছল পরিবার, অসুস্থ ব্যক্তি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি। দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে অসহায় মানুষের সহায়তা, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অসুস্থ শিক্ষার্থী অভিজিৎ মজুমদারের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় মোহাম্মদ কাজলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা।
ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুততর করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট, অনলাইনের নানা জটিলতা এবং সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নিরসনে এই বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সেবার প্রথম দিনেই ৮৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত জরুরি সেবা গ্রহণ করেছেন। ফরাসি প্রেফেকচারে রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে অনেকে এই দিনে সেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে আগামী ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবারে এই বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু থাকবে। সম্প্রতি ইমেইলভিত্তিক আবেদন পদ্ধতি পরিবর্তন করে ওয়েবসাইটভিত্তিক নতুন অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে দূতাবাস। তবে সীমিত সংখ্যক স্লট এবং অতিরিক্ত আবেদনকারীর চাপের কারণে অনেক প্রবাসী যথাসময়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি ওয়েবসাইটের কিছু কারিগরি সমস্যার কথাও জানান অনেকে। এসব সমস্যা এবং প্রবাসীদের ভোগান্তি দূর করতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সেবার মান বাড়াতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল বলেন, ই-পাসপোর্ট হলো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া। আবেদনকারীর ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষরসহ যাবতীয় তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাইয়ের পরেই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। অতিরিক্ত আবেদনকারীর চাপে কিছুটা কাজের চাপ তৈরি হলেও প্রবাসীদের নির্বিঘ্ন সেবা দিতে দূতাবাস সবসময় সচেষ্ট রয়েছে। এই বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রমে দূতাবাসের পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের স্বেচ্ছাসেবীরাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন। আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে পুরো কার্যক্রমটিকে তারা আরও সুশৃঙ্খল করে তুলেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দূতাবাসের এই সাময়িক উদ্যোগের পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও হয়রানিমুক্ত করা হলে এই সেবা আরও জনবান্ধব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় আবাস এখনো নিউইয়র্ক। তবে গত কয়েক বছরে বাড়িভাড়া, বাড়ির মূল্য, সম্পত্তি কর, গাড়ির বীমা, ডে-কেয়ার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাংলাদেশি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছেন। বিশেষ করে যারা প্রথম বাড়ি কিনতে চান, সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াতে চান কিংবা অবসরের পর তুলনামূলক শান্ত ও সাশ্রয়ী জীবন কাটাতে চান, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরো, আবাসন বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের তুলনায় দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে এসব এলাকায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মুসলিম কমিউনিটি এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বসতির মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা বাংলার বিশ্লেষণে আবাসন ব্যয়, মধ্যম পারিবারিক আয়, চাকরির সুযোগ, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হালাল ব্যবসা, সন্তানের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিউইয়র্কের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনা করে বাংলাদেশি পরিবারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ১০টি অঙ্গরাজ্যের চিত্র তুলে ধরা হলো। জর্জিয়া: দক্ষিণের নিউইয়র্ক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি জর্জিয়া। আটলান্টা মেট্রো এলাকার ডুলুথ, লিলবার্ন, ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, টাকার, নরক্রস, আলফারেটা, কামিং ও ডিকেটর গত এক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৯০ থেকে ৪১০ হাজার ডলারের মধ্যে। নিউইয়র্কে যে দামে একটি ছোট কনডো কেনা যায় না, সেই অর্থে জর্জিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চার বা পাঁচ বেডরুমের বাড়ি কেনা সম্ভব। বাংলাদেশি ব্যবসার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আটলান্টা মেট্রো এলাকায় অসংখ্য বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল সুপারমার্কেট, মাছ-মাংসের দোকান, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অনেক বাংলাদেশি মার্কেট সপ্তাহের সাত দিন গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে, এমনকি কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টা সেবাও দেওয়া হয়। ধর্মীয় পরিবেশও সমৃদ্ধ। আটলান্টা অঞ্চলে ডজনখানেক বড় মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, হিফজ প্রোগ্রাম এবং সানডে মাদ্রাসা রয়েছে। ঈদ জামাত, রমজানের ইফতার, ইসলামিক কনফারেন্স এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হয়। এ কারণেই অনেক বাংলাদেশি এখন আটলান্টাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে “দক্ষিণের নিউইয়র্ক” বলে উল্লেখ করেন। ফ্লোরিডা: বাংলাদেশের আবহাওয়ার কাছাকাছি, অবসরজীবনের নতুন গন্তব্য নিউইয়র্ক থেকে স্থানান্তরিত হওয়া বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য এখন ফ্লোরিডা। ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো, কিসিমি, জ্যাকসনভিল ও মায়ামিতে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর নেই। মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৭৫ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৪২০ হাজার ডলার । বাংলাদেশি পরিবারের কাছে ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর আবহাওয়া। বছরের অধিকাংশ সময় উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিরাজ করায় অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। এখানকার প্রকৃতি, সবুজ পরিবেশ এবং দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল নতুন অভিবাসীদের সহজে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। ফ্লোরিডায় আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, নারিকেল, লিচুসহ বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় ফলের চাষ হয় এবং স্থানীয় বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এমনকি অনেক বাংলাদেশি পরিবারের ব্যাকয়ার্ডে এসব ফলমূলের বাগান রয়েছে। যারা এই অঙ্গরাজ্যে থাকেন তারা মনে করেন, খাবার ও আবহাওয়ার দিক থেকে ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বাংলাদেশের কাছাকাছি অনুভূতি দেয়। অবসরপ্রাপ্তদের কাছেও ফ্লোরিডা অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজ্য আয়কর না থাকা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কারণে অনেক বাংলাদেশি সিনিয়র নাগরিক অবসরের পর এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো ও জ্যাকসনভিলে বর্তমানে একাধিক মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, উইকএন্ড মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। টেক্সাস: চাকরি ও কর সুবিধার বড় কেন্দ্র ডালাস, হিউস্টন, প্লানো, আরভিং, অস্টিন ও সুগার ল্যান্ডে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার। একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৬০ হাজার ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর না থাকায় অনেক পরিবার টেক্সাসকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন। প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ এবং ব্যবসায়িক খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামিক সেন্টার, ইসলামিক একাডেমি, মসজিদ, হালাল সুপারমার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিউ জার্সি: নিউইয়র্কের সবচেয়ে কাছের বিকল্প যারা নিউইয়র্কে চাকরি বা ব্যবসা বজায় রাখতে চান কিন্তু বসবাসের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ খুঁজছেন, তাদের জন্য নিউ জার্সি অন্যতম সেরা বিকল্প। জার্সি সিটি, প্যাটারসন, এডিসন, উডব্রিজ ও নর্থ ব্রান্সউইকে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নিউইয়র্কে যাতায়াত করেন। অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং কমিউনিটি সংগঠনের কারণে নতুন অভিবাসীদের জন্য এখানকার পরিবেশ বেশ পরিচিত। মেরিল্যান্ড: নিউইয়র্কের কাছাকাছি, চাকরির বড় বাজার বাল্টিমোর, সিলভার স্প্রিং, এলিকট সিটি ও ডিসি মেট্রো এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত বাড়ছে। মধ্যম পারিবারিক আয় এক লাখ ডলারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্বাস্থ্যসেবা, বায়োটেক, শিক্ষা, সরকারি সংস্থা এবং ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। বাল্টিমোর থেকে কয়েক ঘণ্টার ড্রাইভেই নিউইয়র্কে পৌঁছানো যায়। এখানেও বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল ব্যবসা, ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে। নর্থ ক্যারোলাইনা: প্রযুক্তি খাতের নতুন গন্তব্য র্যালি, ক্যারি, মরিসভিল ও শার্লটে তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের চাকরির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সংখ্যা বাড়ছে। ভালো পাবলিক স্কুল, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটি এই অঙ্গরাজ্যকে পরিবারগুলোর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। মিশিগান: পুরোনো বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্ত ঘাঁটি হ্যামট্রাম্যাক, ট্রয়, ক্যান্টন ও ওয়ারেনে বহু বছর ধরেই বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ২৬০ হাজার ডলার, যা তালিকার অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় কম। মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিফজ মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট সহজেই পাওয়া যায়। পেনসিলভানিয়া: কম খরচে নিউইয়র্কের কাছাকাছি ফিলাডেলফিয়া, হ্যারিসবার্গ ও পিটসবার্গে বাংলাদেশি কমিউনিটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ৩০০ হাজার ডলারের কাছাকাছি। নিউইয়র্কের তুলনায় আবাসন ব্যয় অনেক কম হওয়ায় অনেক পরিবার এই অঙ্গরাজ্য বেছে নিচ্ছেন। ভার্জিনিয়া: উচ্চ আয় ও উন্নত শিক্ষা ফেয়ারফ্যাক্স, অ্যাশবার্ন, আলেকজান্দ্রিয়া ও উডব্রিজ এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ফেডারেল সরকারের চাকরির বড় বাজার রয়েছে। মধ্যম পারিবারিক আয় ১ লাখ ডলারের কাছাকাছি। উন্নত পাবলিক স্কুল, ইসলামিক স্কুল এবং শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ্য। মিনেসোটা: নিরাপদ পরিবেশ ও ইসলামিক কমিউনিটি মিনিয়াপোলিস, ব্লুমিংটন ও ইডেন প্রেইরিতে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে বাংলাদেশি পরিবারের আগ্রহ বাড়ছে। সোমালি, দক্ষিণ এশীয় ও অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটির উপস্থিতির কারণে অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, হালাল ব্যবসা এবং ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়া নয়, চাকরির সুযোগ, সন্তানের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তি কর, গাড়ি ও বাড়ির বীমা, নিকটস্থ মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সাপোর্ট—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের স্বপ্নের ঠিকানা ছিল শুধু নিউইয়র্ক। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও মিনেসোটায় দ্রুত গড়ে উঠছে নতুন বাংলাদেশি জনপদ। ফলে অনেক প্রবাসী এখন মনে করছেন, আমেরিকায় ভালো জীবন মানেই শুধু নিউইয়র্ক নয়; বরং যেখানে কম খরচে নিজের বাড়ি, সন্তানের জন্য ভালো স্কুল, শক্তিশালী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ রয়েছে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের নতুন প্রবাসী বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে বোয়াল, আইড়, পাবদা, টেংরা, শিং ও মাগুর মাছের চাহিদা বরাবরই বেশি। তবে কয়েক বছর ধরে এসব দেশীয় মাছ যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি গ্রোসারি স্টোরগুলোতে প্রায় দেখা যায় না। ফলে অনেক প্রবাসী কানাডা, বিশেষ করে টরন্টো থেকে এসব মাছ সংগ্রহ করছেন। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ থেকে এসব মাছ কেন আর যুক্তরাষ্ট্রে আসছে না? আবার কি আমদানি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিষয়টি কোনো একক নিষেধাজ্ঞার কারণে নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা আইন, আমদানি নীতিমালা এবং নির্দিষ্ট কিছু মাছের ক্ষেত্রে কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে Siluriformes বা ক্যাটফিশ-জাতীয় মাছের আমদানার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অধীন Food Safety and Inspection Service (FSIS)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই শ্রেণির মধ্যে বোয়াল, আইড়, মাগুর, শিংসহ বাংলাদেশে জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি মাছ অন্তর্ভুক্ত। এসব মাছ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মানের সমতুল্য (Equivalent) হিসেবে স্বীকৃত হতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ এখনো সেই সমতুল্য স্বীকৃতি পায়নি। ফলে বাংলাদেশ থেকে এসব ক্যাটফিশ-জাতীয় মাছ যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানির অনুমতি নেই। এ কারণেই দেশীয় বাজারে জনপ্রিয় হলেও বোয়াল, আইড়, শিং বা মাগুর মাছ যুক্তরাষ্ট্রের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় না। অন্যদিকে পাবদা ও টেংরা মাছের ক্ষেত্রেও খাদ্য নিরাপত্তা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, লেবেলিং এবং আমদানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। অতীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া কিছু মাছে খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নজরদারি আরও কঠোর করে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ থেকে নিষিদ্ধভাবে ক্যাটফিশ-জাতীয় মাছ আমদানির অভিযোগে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলাও হয়। ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া এসব মাছ আমদানি করা আইনবিরোধী। বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি অংশ জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এসব মাছ না পাওয়ায় অনেকে কানাডার টরন্টো থেকে ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে সীমান্ত পার হয়ে খাদ্যপণ্য আনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (CBP) নিয়ম প্রযোজ্য। তাই অনুমতি ছাড়া বা ঘোষণা না দিয়ে এসব খাদ্যপণ্য বহন করলে তা জব্দ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাহলে কি ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশ থেকে এসব মাছ যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে? খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তার জন্য বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের FSIS-এর নির্ধারিত খাদ্য নিরাপত্তা, পরিদর্শন, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ-সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ করে সমতুল্য স্বীকৃতি অর্জন করতে হবে। এরপরই বাণিজ্যিকভাবে এসব মাছ রপ্তানির পথ খুলতে পারে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশ—কোনো দেশের কর্তৃপক্ষই বাংলাদেশ থেকে বোয়াল, আইড়, পাবদা, টেংরা, শিং বা মাগুর মাছের বাণিজ্যিক আমদানি পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে আপাতত এসব দেশীয় মাছ আবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফিরবে কি না, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতে দুই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও আমদানি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ছিনতাইকারীর বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সুপরিচিত ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ খোরশান। বর্তমানে তিনি স্থানীয় পেন প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে ফিলাডেলফিয়ার ৫১০০ মার্কেট স্ট্রিট এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শেখ খোরশান এই হামলার শিকার হন। একজন ছেলে ও একজন মেয়েসহ দুই অল্পবয়সী ছিনতাইকারী পেছন থেকে আচমকা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে শক্ত মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর তারা তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২০০ ডলার নগদ অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় একজন প্রত্যক্ষদর্শী তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশের অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত খোরশানকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মাটিতে পড়ে যাওয়ার কারণে তাঁর হাতের বুড়ো আঙুল ভেঙে গেছে এবং তিনি ঘাড়েও মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রবাসীদের পাশে থাকা এই প্রিয় মুখের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। সূত্র: ফিলাডেলফিয়া পেপার
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় খাবার সরবরাহের কাজ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মো. মাহফুজুল হক (৪৩)। তিনি বাংলাদেশের রাজশাহীর সন্তান এবং বর্তমানে ফিলাডেলফিয়ার নর্থইস্ট এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে ফিলাডেলফিয়ার কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজুল হকের ব্যবহৃত গাড়িটি চালু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ এবং গুলির ব্যবহৃত খোসাও উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। কমিউনিটি সূত্রের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। স্থানীয় পত্রিকা ফিলাডেলফিয়া পেপারের সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (আরিফ) আমেরিকা বাংলাকে জানান, ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে ঘটেছে। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা গভীর শোকাহত। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাহফুজুল হকের জানাজার সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রেই দাফন করা হবে—সেই সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি। কমিউনিটি সূত্র জানায়, মাহফুজুল হক এর আগে উইলো গ্রোভ এলাকার আল-শাম রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরে ডোরড্যাশে খাবার সরবরাহের কাজ শুরু করেন। তিনি স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন। ঘটনার পর ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। প্রবাসীরা দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।