- প্রচ্ছদ
- Topic
ফিলিস্তিনি
ইস্তাম্বুলে ট্যাক্সিতে যাত্রা শেষে ভাড়া দিতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন দুই ফিলিস্তিনি নারী। ট্যাক্সিচালক তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ জানতে চাইলে তিনি তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ভাই। আপনারা আমার বোন।’ দুই নারী ট্যাক্সি থেকে নামার সময় ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চালক টাকা নিতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি তাদের নিজের বোনের মতো উল্লেখ করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা দেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অল্প সময়ের এই ঘটনাকে অনেকে তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের মানুষের মধ্যকার সামাজিক ও মানবিক সংহতির একটি ছোট্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তুরস্কের জনগণের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে বসবাসকারী ও ভ্রমণকারী ফিলিস্তিনিরাও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ওই ট্যাক্সিচালকের পরিচয়, ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে এবং ভিডিও বা পোস্টটির মূল উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটির বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক দলের নেতা হাকিম জেফরিসকে ‘এআইপ্যাকের বানর’ বলে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও লেখক রুলা জিবরিয়েল। জেফরিস কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় তাঁর এই মন্তব্যকে বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাসসহ একাধিক ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা। পরে নিজের ব্যবহৃত শব্দকে ‘অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর’ বলে ক্ষমা চেয়েছেন জিবরিয়েল। শুক্রবার বামপন্থী ভাষ্যকার ওয়াজাহাত আলীর ‘দ্য লেফট হুক’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে জিবরিয়েল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিসের ইসরায়েল-সমর্থন নিয়ে সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি জেফরিসকে আমেরিকান-ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা এআইপ্যাকের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগ তুলে ‘এআইপ্যাকের কেনা ও বেতনভুক্ত বানর’ বলে অভিহিত করেন। জিবরিয়েল বলেন, ‘হাকিম’ একটি আরবি নাম, যার অর্থ নিরাময়কারী। কিন্তু তাঁর ভাষায়, জেফরিস নিরাময়কারী নন, বরং বিভাজন তৈরি করছেন। এরপরই তিনি ওই বিতর্কিত শব্দ ব্যবহার করেন। একই আলোচনায় জেফরিসকে ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ অর্থাৎ অন্যের হয়ে কাজ করা ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন। মন্তব্যটি করার পর পডকাস্টের সঞ্চালক ওয়াজাহাত আলী বিষয়টির বর্ণবাদী অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, ‘বানর’ শব্দটির সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভয়াবহ বর্ণবাদী অর্থ জড়িয়ে আছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জিবরিয়েল নিজেই বলেছেন যে তাঁর মন্তব্যের পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল না। এরপর নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জিবরিয়েল বলেন, তিনি জাপানের ‘তিন জ্ঞানী বানর’-এর কথা মনে করে ওই শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেই প্রচলিত প্রতীকে তিনটি বানরকে যথাক্রমে না দেখা, না শোনা এবং না বলার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা কংগ্রেসের কৃষ্ণাঙ্গ সদস্যদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস এক বিবৃতিতে জিবরিয়েলের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হাকিম জেফরিসকে ‘বানর’ বা ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ বলা বর্ণবাদমুক্ত কোনো বক্তব্য হতে পারে না। তাদের ভাষায়, রাজনৈতিক ডান বা বাম, কোনো পক্ষ থেকেই কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে জেফরিসের পক্ষে সরব হন নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি রিচি টরেসও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে ‘বানর’ বলা বর্ণবাদী। রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, এ ধরনের ভাষার নিন্দা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জিবরিয়েলের মন্তব্যের পর তাঁর সমালোচনায় শুধু কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস বা টরেসই নন, আরও কয়েকজন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা যোগ দেন। প্রতিনিধি পিট আগুইলারও বলেন, জেফরিসকে ‘বানর’ ও ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ বলা স্পষ্টতই বর্ণবাদী এবং বিপজ্জনক। সমালোচনার মুখে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের বক্তব্য নিয়ে ক্ষমা চান জিবরিয়েল। তবে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি তিনি জেফরিসের এআইপ্যাক-সম্পর্কিত সমালোচনাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি লেখেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে জেফরিস এআইপ্যাকের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন বলে তিনি ক্ষুব্ধ। এরপর তিনি স্বীকার করেন, জেফরিসকে বর্ণনা করতে যে শব্দ ব্যবহার করেছিলেন তা অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর ছিল এবং সেটি ব্যবহার করা উচিত হয়নি। শেষে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে এই ক্ষমা চাওয়াকেও অনেকে পুরোপুরি গ্রহণ করেননি। কারণ, ক্ষমা চাওয়ার বক্তব্যেই জিবরিয়েল জেফরিস ও এআইপ্যাক নিয়ে তাঁর মূল রাজনৈতিক সমালোচনা আবারও তুলে ধরেছেন। ফলে বিতর্কটি শুধু একটি শব্দের ব্যবহার নিয়ে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক রাজনীতিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু, রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমা এবং বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। হাকিম জেফরিস বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক দলের সংখ্যালঘু নেতা এবং কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিক। তাঁর ইসরায়েলনীতি নিয়ে বামপন্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী মহলে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। তবে সমালোচকেরাও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার করলে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হয়। এদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে জেফরিসের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৬৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৫ জন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গাজ্জার চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা। চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজ্জার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ১৭ জন নিহতের মরদেহ পৌঁছেছে। এর মধ্যে নতুন করে নিহত হয়েছেন ৫ জন। এছাড়া আগের হামলায় আহত হয়ে পরে মারা গেছেন আরও একজন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ জনের মরদেহ। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজ্জায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। ওই সময়ের পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ জনে এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৬৪ জনে পৌঁছেছে। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, নিহতের তালিকা যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে গত আগস্ট মাসে আরও ১৬০ জনের নাম সামগ্রিক নিহতের পরিসংখ্যানে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে গাজ্জায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে। চিকিৎসা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, গাজ্জার বিভিন্ন এলাকায় এখনো বহু নিহত ও আহত ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং সড়কে পড়ে আছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারছে না। ফলে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক আহত মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে উদ্ধারকারী ও চিকিৎসাকর্মীদের। চিকিৎসা সূত্রগুলোর আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হলে গাজ্জায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ফিলিস্তিনি এক বন্দির ওপর গুরুতর নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা দেশটির রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ শেকেল, প্রায় ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদেরসহ পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করার কয়েক মাস পর এ মামলা করা হলো। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ‘ফোর্স ১০০’ রিজার্ভ ইউনিটের ওই তিন সেনা ডানপন্থি আইনি সহায়তা সংগঠন হনেনুর মাধ্যমে জেরুজালেমের একটি আদালতে মামলাটি করেছেন। মামলায় ইসরায়েল রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী, সামরিক পুলিশ, ইসরায়েল পুলিশসহ মোট ১৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই দক্ষিণ ইসরায়েলের স্দে তেইমান সামরিক আটককেন্দ্রে এক ফিলিস্তিনি বন্দির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ঘটনায় পাঁচ রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো অবস্থায় ওই বন্দিকে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে লাথি মারা, পায়ে মাড়ানো, লাঠি দিয়ে পেটানো এবং মাটিতে টেনে নেওয়া হয়। তাকে বারবার টেজারও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এক সেনা ধারালো বস্তু দিয়ে বন্দির মলদ্বারের কাছে আঘাত করেন, এতে তার রেকটামে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়। বন্দির সাতটি পাঁজর ভেঙে যায়, ফুসফুসে ছিদ্র হয় এবং শরীরের ভেতরে ব্যাপক আঘাত লাগে। পরে তার বৃহদান্ত্রে অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং সাময়িকভাবে স্টোমা স্থাপন করা হয়েছিল। ঘটনার ভিডিও পরে প্রকাশ্যে আসে। ২০২৪ সালের আগস্টে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২তে আটককেন্দ্রের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সম্প্রচার করা হলে ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ফুটেজটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছিল। তবে চলতি বছরের ১২ মার্চ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মিলিটারি অ্যাডভোকেট জেনারেল ইতাই অফির পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের প্রমাণভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মামলার প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং আসামিদের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্দি গাজায় ফিরে যাওয়ায় তার সাক্ষ্য ও মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর এবার ওই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন উল্টো রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন। মামলায় তারা দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মিথ্যা সন্দেহ তৈরি করা হয়েছে, বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও অন্যায়ভাবে মামলা করা হয়েছে। মামলায় বিভিন্ন দাবির মধ্যে যৌন অপরাধের অভিযোগের কারণে ক্ষতির জন্য ১৫ লাখ শেকেল, ১৫ দিনের কথিত বেআইনি আটকের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার শেকেল, মানহানির জন্য ৩০ লাখ শেকেল এবং কথিত অন্যায় অভিযোগপত্রের জন্য ১০ লাখ শেকেল চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি ১ কোটি ৮০ লাখ শেকেল। এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রমাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন ক্ষতিপূরণ মামলার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ইসরা আল-হিসি নামে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব দেইর আল-বালাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে ফ্রান্স ২৪ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় গুলি চালালে ইসরা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, নিহত ইসরা আল-হিসির বয়স ছিল সাত বছর। তার মরদেহ দাফনের আগে পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানান। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই দিনে গাজায় আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, পৃথক একটি হামলায় অন্তত দুই শিশু ও এক নারী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় দুটি গাড়িও হামলার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরা আল-হিসির মৃত্যুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। সূত্র: ফ্রান্স ২৪, বিবিসি আরবি
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় আরও নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে নয়জনের মরদেহ পৌঁছেছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর আহত ফিলিস্তিনির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জনে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে আরও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলা বা অন্যান্য লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩১৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৬১ জন আহত হয়েছেন। এদিকে গাজায় নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্রের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে গাজায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। সংগঠনটি ৩১৭টি নথিভুক্ত ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই অনুমান করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিশ্লেষণ করা ৩১৭টি ঘটনার মধ্যে ৩০২টি ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তি ছিলেন পুরুষ এবং ১৫টি ঘটনায় ছিলেন নারী। এসব ঘটনার মধ্যে ৪১ জন শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ১৭ জন মানুষও ছিলেন। গাজা শহরে নথিভুক্ত ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি ৮৯টি। এরপর উত্তর গাজায় ৭৪টি, খান ইউনিসে ৫৯টি, মধ্য গাজায় ৩৭টি এবং রাফাহতে ৩২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে ৭৬টি ঘটেছে বাড়িতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বা কোনো এলাকার অবরোধের সময়। আরও ৬০টি ঘটনা ঘটেছে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের সময়। বাস্তুচ্যুতি কিংবা সামরিক তল্লাশিচৌকি অতিক্রমের সময় ৪২টি এবং খাবার খোঁজা বা মানবিক সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় ৩৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র অবরোধ বা দখল এবং রোগী স্থানান্তরের সঙ্গে ২২টি ঘটনা যুক্ত ছিল। সাংবাদিক বা মাঠপর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটি আলাদাভাবে জানিয়েছে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মানুষ চাপা পড়ে নিখোঁজ থাকতে পারেন। তবে এসব ঘটনাকে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। নিখোঁজ ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে এর আগে ফিলিস্তিনের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ১১ হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ বা জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি নারী ও শিশু ছিলেন। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্র নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পেতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। যুদ্ধের ফলে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। সূত্র: ডেইলি সাবাহ
ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টের শুরু পর্যন্ত প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের অধিকাংশকে মেগিদ্দো ও ওফার কারাগারে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা ৯ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তির মধ্যে এসব শিশুও রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে শিশুদের আটক এখন নিয়মিত গ্রেপ্তার অভিযানের অংশ হয়ে উঠেছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম থেকে ২৭৬ ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক আটক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে আটক রাখা যায় এবং পরবর্তী সময়ে সেই মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি আটককেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বন্দিদের মারধর, পর্যাপ্ত খাবার ও পানি না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার বিষয় রয়েছে। তবে এসব তথ্য ও অভিযোগ মূলত ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। আটক শিশুদের সংখ্যা এবং তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের উম্ম আল-খায়ের গ্রামে এক ব্রিটিশ অধিকারকর্মীকে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা আটক করে পরে ইসরায়েলি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই কর্মীর নাম ফিন জফিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মাসাফের ইয়াত্তায় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলার মধ্যে তাদের পাশে থাকার জন্য পরিচালিত একটি ‘প্রটেকটিভ প্রেজেন্স’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার (WAFA) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসতিস্থাপনকারীরা ওই বিদেশি কর্মীকে উম্ম আল-খায়ের থেকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থাপিত একটি ইসরায়েলি বসতিতে নিয়ে যায়। এ সময় এক বসতিস্থাপনকারী তার মুখে পিপার স্প্রে করলে ওই কর্মীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আহতদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানায় ওয়াফা। পরে ইসরায়েলি পুলিশ ওই কর্মীকে আটক করে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যায়। তবে ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, মাওন এলাকার একটি বসতির নিরাপত্তা দলের প্রধান ওই ব্যক্তিকে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের সন্দেহে আটক করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইসরায়েলি সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নাদাভ ওয়েইমান অবশ্য বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ওই কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, বসতির শিশুরা উম্ম আল-খায়েরের ফিলিস্তিনি শিশুদের একটি বল নিয়ে নেয়। এরপর সশস্ত্র প্রাপ্তবয়স্কদের ডেকে এনে ওই কর্মীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার দিন অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকাতেও ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে ব্রিটিশ কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি পুলিশের অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যই আলাদাভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে; বিষয়টির স্বাধীন যাচাই এখনো স্পষ্ট নয়।
ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক অর্থোডক্স ইহুদি ব্যক্তি ব্যক্তির গালে চুমু দিচ্ছেন এক মুসলিম ব্যক্তি - এমন একটি মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে । ছবিতে থাকা ইহুদি ব্যক্তি ইসরায়েলবিরোধী ও জিওনিজমবিরোধী সংগঠন নেটুরেই কার্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নেটুরেই কার্তা একটি ছোট অর্থোডক্স ইহুদি গোষ্ঠী, যারা জিওনিজম এবং আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের বিরোধিতা করে। সংগঠনটির সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তারা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছে। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে নেটুরেই কার্তার সদস্যদের ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২২ সালে নিউইয়র্কে আল-আকসা ইস্যুতে একটি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও মিছিলে সংগঠনটির ধর্মীয় ইহুদিরা অংশ নিয়েছিলেন। তবে ভাইরাল হওয়া ছবিটির নির্দিষ্ট সময়, স্থান এবং ছবিতে থাকা দুই ব্যক্তির পরিচয় নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ছবিটিকে কোনো নির্দিষ্ট সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঘটনা হিসেবে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন না করে, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে মুসলিম ও ইহুদি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংহতির একটি প্রতীকী দৃশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেটুরেই কার্তার সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনপন্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আসছেন। ২০২২ সালে লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল কুদস ডে উপলক্ষে মুসলিম ও ইহুদি ফিলিস্তিনপন্থীরা একসঙ্গে কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন।
গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় পানি সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে একটি ইসরায়েলি সামরিক কোয়াডকপ্টার থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে পানি বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুরা ট্রলিতে জেরিক্যান নিয়ে পানি সংগ্রহ করছিল। এ সময় আকাশে থাকা কোয়াডকপ্টারটি তাদের দিকে গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বেইত লাহিয়া উত্তর গাজার অন্যতম সংঘাতপ্রবণ এলাকা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও সেখানে ড্রোন ও সামরিক বাহিনীর গুলিতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ২১ আগস্ট বেইত লাহিয়ায় একটি বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আহত ১৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর পরে মারা যায় বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছিল। গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে নিরাপদ পানি পাওয়াও সাধারণ মানুষের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, বাস্তুচ্যুতি এবং পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে গাজায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। পানি সংগ্রহের মতো দৈনন্দিন ও মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেও বেসামরিক মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিশুদের পানি সংগ্রহের সময় গুলি চালানোর এই অভিযোগ সেই ঝুঁকিরই নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ঘটনার স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের উত্তরে আল-রাম এলাকার ১৫ বছর বয়সী কিশোরী হুর আবদিন একটানা এক বসায় সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মুখস্থ থেকে তেলাওয়াত করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ফিলিস্তিনে অনুষ্ঠিত এই তেলাওয়াতে তার নির্ভুলতা, মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাস স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি অনলাইনের দর্শকদেরও নজর কেড়েছে। সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ থেকে একটানা তেলাওয়াত করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। এর জন্য দীর্ঘদিনের অনুশীলন, শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি, গভীর মনোযোগ এবং কোরআনের আয়াত ও সূরাগুলোর ওপর ব্যাপক দখল প্রয়োজন। ইসলামি পরিভাষায়, যিনি সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করেন তাকে হাফেজ বা হাফেজা বলা হয়। আর এক বসায় পুরো কোরআন তেলাওয়াত সম্পন্ন করা হিফজ করা ব্যক্তির জন্যও বিশেষ ধরনের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। হুর আবদিনের এই তেলাওয়াতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তার অধ্যবসায় ও কোরআন মুখস্থ করার দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। ফিলিস্তিনে চলমান নানা সংকটের মধ্যে কিশোরী হুরের এই অর্জন স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে এক বসায় পুরো কোরআন তেলাওয়াতের নির্দিষ্ট সময় বা আনুষ্ঠানিক কোনো রেকর্ডের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম মাদামায় ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় একটি ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙার ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টির আইনপ্রণেতা জভি সুকোট হাতুড়ি দিয়ে স্মৃতিসৌধটি ভাঙেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ওই স্থাপনা ভাঙার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সুকোট অনুমোদিত সফরের পরিকল্পনা লঙ্ঘন করেছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের কয়েকটি গ্রামে স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের জন্য সুকোট ও তার সহযোগীদের সফর অনুমোদিত ছিল। সেই সফরে নিরাপত্তা দিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে মাদামা গ্রামে গিয়ে সুকোট ও তার সহযোগীরা অনুমোদিত পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে স্মৃতিসৌধটি ভাঙতে শুরু করেন বলে সেনাবাহিনীর দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সুকোট ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে স্মৃতিসৌধে আঘাত করছেন। আশপাশে ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানও দেখা যায়। পরে সুকোট নিজেই স্মৃতিসৌধটি ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সুকোটের দাবি, স্মৃতিসৌধটি ইসরায়েলিদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে নির্মিত এবং সেখানে এমন ব্যক্তিদের স্মরণ করা হচ্ছে, যাদের তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেন। এর আগে তিনি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন গ্রামে থাকা এ ধরনের স্মৃতিসৌধ সরানোর দাবি জানিয়েছিলেন। এক সপ্তাহ আগেও তিনি মাদামার স্মৃতিসৌধটি ধ্বংস করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য জানিয়েছে, সুকোটের সফরটি অনুমোদিত হলেও স্মৃতিসৌধ ধ্বংসের কোনো অনুমতি ছিল না। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বুঝতে পেরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনারা তাদের কমান্ডারদের বিষয়টি জানান। পরে তাদের মাদামা গ্রাম থেকে সুকোট ও তার সহযোগীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী সুকোটের কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তাবাহিনীর দেওয়া সুরক্ষার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও বলেছে, পশ্চিম তীরে উসকানিমূলক প্রতীক বা স্থাপনা সরানোর জন্য অনুমোদিত অভিযান তারা নিয়মিত পরিচালনা করে। তবে এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। মাদামার ঘটনায় সেই অনুমোদন ছিল না বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। মাদামা গ্রামটি নাবলুস শহরের দক্ষিণে অবস্থিত। স্মৃতিসৌধটিতে কয়েক দশকে নিহত ফিলিস্তিনিদের নাম ছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, বসতি স্থাপনকারী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দুই দেশ। সোমবার প্যারিসে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে হবে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা। ইরান ইস্যুতে দুই দেশ আরও উত্তেজনা এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স ইরানের পরমাণু কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তেহরানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং নৌপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকিরও নিন্দা জানিয়েছে দুই দেশ। বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে আগের স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা, নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিবহন এবং কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ কর কিংবা চলাচলে বাধা না থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চুক্তির ঘোষণা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় টেকসই যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি এবং বেসামরিক মানুষের কাছে দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তারা। দুই দেশ ফিলিস্তিনি জনগণের ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রম ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ সুগম করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার পরিস্থিতিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। লেবাননের ক্ষেত্রে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং সব অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির ভূখণ্ডে হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি ও পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছে প্যারিস। সুদানের ক্ষেত্রে সংকট দ্রুত সমাধান, বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। সিরিয়ার ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি সৌদি-সিরীয়-ফরাসি ব্যবসায়ী পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদি আরব ও ফ্রান্স অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের পরিকল্পনাও করেছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। এবার দুই দেশ পারস্পরিক বিনিয়োগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতেও নতুন সহযোগিতার ঘোষণা এসেছে। দুই দেশ অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণসহ ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও উদীয়মান প্রযুক্তিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সৌদি আরবের আলউলা অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে যৌথ সহযোগিতা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া ফ্রান্স রিয়াদ এক্সপো ২০৩০-এ অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের নেতারা মনে করছেন, এই আয়োজন সৌদি আরব ও ফ্রান্সের সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে। বৈঠকের সময় প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও বিনোদন খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি-ফরাসি বিনিয়োগ গোলটেবিল বৈঠক থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ঘোষণা এসেছে। সব মিলিয়ে, সৌদি আরব ও ফ্রান্সের নতুন যৌথ উদ্যোগ শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইরান, হরমুজ প্রণালি, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যুতেও দুই দেশ নিজেদের সমন্বয় আরও জোরদার করতে চাইছে।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার বেইজিংয়ে বৈঠকে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি জনগণের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন। চীন সফরে বাদশাহ আবদুল্লাহ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে জর্ডান ও চীনের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক আলোচনার পর বেইজিংয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী বছর জর্ডান ও চীন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও খনিজ, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, মানবসম্পদ ও সামাজিক কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ জানায়, তাদের অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে সবুজ অর্থনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উন্নত শিল্পখাতেও সম্প্রসারিত হবে। বৈঠকে জর্ডান চীনের ‘ওয়ান-চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং। এদিকে, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। জর্ডান ও চীন অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের পথেই এগোতে হবে। এ বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে জর্ডান ও চীনের অভিন্ন অবস্থানের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
দীর্ঘ ৩০ মাস ইসরায়েলি কারাগারে বিনা বিচারে (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিটেনশন) আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক আব্দুল জাব্বার জারার। তবে তাঁর এই মুক্তি কোনো স্বস্তি বা আনন্দ বয়ে আনেনি, বরং সামনে এনেছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। জীবনের বিভিন্ন সময়ে ৩০ বারেরও বেশি গ্রেপ্তার হওয়া জারার তাঁর জীবনের মোট ১৬টি বছরই কাটিয়েছেন ইসরায়েলি বন্দিশালায়। মুক্তির পর সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি জানান, ২০২৪ সালে সর্বশেষ গ্রেপ্তারের আগে তাঁর শারীরিক ওজন ছিল ১৪০ কেজি। কিন্তু দীর্ঘ এই বন্দিজীবনে চরম অবহেলা ও অমানবিক পরিস্থিতির কারণে তিনি এতটাই শুকিয়ে গেছেন যে, তাঁকে এখন চেনাই দায়। তবে শারীরিক এই কষ্টের চেয়েও তাঁকে বেশি কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে স্ত্রীর মৃত্যুশোক। জারার যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন, তখন তাঁর স্ত্রী ওয়াফা জারারকেও ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছিল। পরবর্তীতে আটক অবস্থায় একটি বিস্ফোরণে ওয়াফা নিহত হন। কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি থাকার কারণে প্রিয় স্ত্রীকে শেষ বিদায়টুকুও জানাতে পারেননি এই হতভাগ্য ফিলিস্তিনি। তাঁর এই করুন পরিণতি ও চোখের জল ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর চলা নির্মম অমানবিকতার এক জীবন্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্প্রদায়কে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়। যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে। গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে। হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না। আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে। এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।
গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকের ঘটনায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুলের ১১তম হাই ক্রিমিনাল কোর্ট—উচ্চ ফৌজদারি আদালত—এ নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। মামলাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজাগামী মানবিক সহায়তা বহরের কর্মীদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি নাগরিক আফেক মস্কোভিচের বিরুদ্ধে গত ১৪ জুলাই ২০২৬ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। তুরস্কের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে জেনোসাইড—গণহত্যা, ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, বেআইনিভাবে আটক, ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করা, নির্যাতন, সম্পত্তির ক্ষতি, গুরুতর চুরি এবং নৌযান ছিনতাই। তুরস্কের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া বেসামরিকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হস্তক্ষেপ ও তাদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তুরস্ক রেড নোটিশ চেয়েছে; ইন্টারপোল এখনো নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে—এমন তথ্য নেই। ইন্টারপোলকে এখন তুরস্কের অনুরোধ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইন্টারপোলের নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। এটি সদস্য দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের এবং প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে আটক করার জন্য পাঠানো একটি আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা। ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব আইনের ওপর নির্ভর করে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক বলেছেন, গাজায় সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইনের আওতায় পাওয়া সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করবে আঙ্কারা। অন্যদিকে ইসরায়েল তুরস্কের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের এই উদ্যোগকে ইসরায়েলি নেতা ও সেনাদের ভয় দেখানোর একটি ‘প্যাথেটিক’ করুণ বা হাস্যকর প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মামলার সূত্রপাত গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকের ঘটনা থেকে। তুরস্কের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলায় থাকা মানবিক সহায়তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর পদক্ষেপের ঘটনায় তাদের আদালতে এই বিচার চলছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু তুরস্ক-ইসরায়েল কূটনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; ইন্টারপোলের সম্ভাব্য রেড নোটিশের আবেদন আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে তুরস্কের আবেদন গ্রহণ করে ইন্টারপোল শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শুরু করা ফৌজদারি তদন্তে আস্থা নেই তার মা ওয়েসাম হামাদার। তার আশঙ্কা, এই তদন্ত প্রকৃত সত্য উদঘাটনের বদলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা হয়ে উঠতে পারে। এ সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালানোর ঘটনায় সামরিক পুলিশের মাধ্যমে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হবে। এর আগে ওই এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল আইডিএফ। শুক্রবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিন্দের মা ওয়েসাম হামাদা বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, সরকার কিংবা দেশটির বিচারব্যবস্থার ওপর তার কোনো আস্থা নেই। তিনি এমন কোনো তদন্ত চান না, যার উদ্দেশ্য হবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায় এড়িয়ে তাদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা। হামাদা বলেন, তার দাবি করা তদন্ত কোনো ‘বন্ধ সামরিক তদন্ত’ হওয়া উচিত নয়। তিনি চান স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং যারা দায়ী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক। তার ভাষায়, হিন্দ শুধু একটি সংবাদঘটনা নয়, সে তার সন্তান। হিন্দ রাজাবের হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। গাজা সিটিতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি গাড়িতে ছিল পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ। গাড়িটিতে থাকা অন্য কয়েকজন স্বজন নিহত হওয়ার পরও হিন্দ কিছু সময় জীবিত ছিল। পরে সে জরুরি সেবাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সাহায্যের জন্য আকুতি জানায়। সেই ফোনালাপের রেকর্ডিং পরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দকে উদ্ধারের জন্য ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যাওয়ার পর উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১২ দিন পর হিন্দ, তার পরিবারের সদস্য এবং তাকে উদ্ধারে যাওয়া দুই প্যারামেডিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথমে ওই এলাকায় তাদের কোনো সেনা উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রমাণে ঘটনাস্থলের আশপাশে ইসরায়েলি সামরিক যান ও সেনাদের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সামনে আসে। চলতি সপ্তাহে আইডিএফ প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে তাদের সেনারা হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল। আইডিএফের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কথিত ব্যর্থতার বিষয়টি পর্যালোচনার পর ফৌজদারি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তটি সামরিক পুলিশ পরিচালনা করবে। এই তদন্তকে হিন্দের পরিবারের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মীরাও যথেষ্ট মনে করছেন না। তাদের প্রশ্ন, দুই বছরেরও বেশি সময় পর ইসরায়েলি বাহিনী কেন নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে তদন্ত শুরু করল এবং এই তদন্ত আদৌ স্বাধীনভাবে দায় নির্ধারণ করতে পারবে কি না। হিন্দের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহির দাবি উঠেছে। তার মৃত্যুর আগে জরুরি সেবাকর্মীদের কাছে করা ফোনকলের রেকর্ডিং ঘটনাটিকে গাজা যুদ্ধের অন্যতম আলোচিত বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিণত করে। ঘটনাটি নিয়ে পরে নির্মিত ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ চলচ্চিত্রটিও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক মনোযোগ পায় এবং অস্কারের মনোনয়ন লাভ করে। আইডিএফ একই সময়ে গাজায় আরও একটি বহুল আলোচিত ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে রাফাহ এলাকায় ১৫ ফিলিস্তিনি প্যারামেডিক নিহত হওয়ার ঘটনাটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তবে গাজায় ত্রাণকর্মীদের নিহত হওয়ার আরও কয়েকটি ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। হিন্দের মায়ের দাবি, তার পরিবারের জন্য শুধু একটি অভ্যন্তরীণ সামরিক তদন্ত যথেষ্ট নয়। তিনি এমন একটি প্রক্রিয়া চান, যেখানে তদন্তকারীরা স্বাধীনভাবে প্রমাণ পর্যালোচনা করবেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন আইডিএফের সামরিক পুলিশের তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং এর ভিত্তিতে কোনো সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হিন্দের পরিবার অবশ্য শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা শুধু তদন্তের ঘোষণা নয়, ঘটনার পূর্ণ সত্য ও দায়ীদের জবাবদিহি দেখতে চায়।
ইংল্যান্ডের পশ্চিম সাসেক্স উপকূলে সাগরে ডুবে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ৫৫ বছর বয়সী হোসাম আল-খাওয়াস, তার স্ত্রী ৩৭ বছর বয়সী জেইনা আলায়ন এবং তাদের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে সারা। পরিবারের আরেক কিশোরীকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে শোরহ্যাম-বাই-সি এলাকার শোরহ্যাম ফোর্টের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টা ৪০ মিনিটে পানিতে কয়েকজনের বিপদে পড়ার খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড, উদ্ধারকারী নৌযান, অ্যাম্বুলেন্স ও আকাশপথের জরুরি চিকিৎসা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। চারজনকে পানি থেকে তীরে তোলা হলেও তিনজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটি লন্ডন থেকে শোরহ্যাম-বাই-সি এলাকায় বেড়াতে এসেছিল। পানিতে নামার পর তারা বিপদে পড়েন। ঘটনাটিকে এখন পর্যন্ত একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবেই তদন্ত করা হচ্ছে। তৃতীয় কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিহত হোসাম আল-খাওয়াস ছিলেন ফিলিস্তিনি শরণার্থী। ফিলিস্তিনি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, তার পরিবারের শিকড় দক্ষিণ লেবাননের রাশিদিয়েহ শরণার্থী শিবিরে। পরিবারটি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে লন্ডনে বসবাস করত। ১৪ বছর বয়সী সারা যে স্কুলে পড়ত, সেই পশ্চিম লন্ডনের এলিং এলাকার এলেন উইলকিনসন স্কুল ফর গার্লসও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সারাকে মিষ্টি স্বভাবের এবং শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে জনপ্রিয় একজন ছাত্রী হিসেবে স্মরণ করেছে। এই ঘটনায় ব্রিটেনে বসবাসরত ফিলিস্তিনি কমিউনিটির মধ্যেও শোক নেমে এসেছে। ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরীর দ্রুত সুস্থতার জন্যও তারা শুভকামনা জানিয়েছে। ঘটনার পর খোলা পানিতে সাঁতারের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রের স্রোত, পানির তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি কমিউনিটির সদস্যরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন জমি ও বসতবাড়ি দখল এবং বাসিন্দাদের উচ্ছেদের ঘটনায় কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তিনি বলেছেন, অন্যের জমি ও বাড়ি জোরপূর্বক দখল করা শুধু মানবিক ও আইনি নীতির লঙ্ঘন নয়, এটি ধর্মীয় দৃষ্টিতেও গুরুতর অন্যায়। সম্প্রতি পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিক লুই রিদির বাড়িসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে রাখে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে বাড়িগুলোর বাইরে অবস্থান নিয়ে তারা বাসিন্দাদের চলাচলে বাধা দেয়। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর হাকাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন। তিনি বলেন, কোনো পরিবার যদি কোনো জমি ও বাড়ির বৈধ মালিক হয়, তাহলে অন্য কেউ সেখানে গিয়ে জোর করে দখল নিতে পারে না এবং ভয় দেখিয়ে পরিবারটিকে সরিয়ে দিতে পারে না। ধর্মীয় দৃষ্টান্ত টেনে হাকাবি ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মীয় ঐতিহ্যের ‘দশ আজ্ঞা’র কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। অন্যের সম্পত্তি চুরি বা লোভ না করার নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যা নিজের নয়, তা জোর করে নেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। কুসরার ঘটনায় এর আগে হাকাবি আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করে বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। মার্কিন দূতাবাসের অনুরোধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সেখানে গিয়ে অবৈধভাবে স্থাপিত বসতিগুলো সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। কুসরা পশ্চিম তীরের এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বেসামরিক প্রশাসনিক দায়িত্ব রয়েছে এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অনুমোদিত নয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও সেখানে বসতিস্থাপনকারীদের স্থাপিত কাঠামোগুলোকে অবৈধ ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছে। এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে ইসরায়েলকে জেরুজালেমের পূর্বে ই-১ এলাকায় নতুন বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশগুলো বলেছে, এই পরিকল্পনা পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক সংযোগ আরও দুর্বল করে ভবিষ্যৎ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবারের প্রাণঘাতী হামলার পর গাজায় যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার মার্কিন উদ্যোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তুরস্ক, মিসর ও কাতার যৌথভাবে ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে। তিন দেশ বলেছে, গাজায় হামলা জোরদার হলে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে গাজায় সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ৫০ ফিলিস্তিনির মরদেহ নিয়ে গণদাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতরা তিনটি পরিবারের সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের সময় তাদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব এটি স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ যাচাই করা সম্ভব নয়।এর মধ্যেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় প্রথমবারের মতো ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাব ও তার পরিবারের সদস্যদের এবং ১৫ জন ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে গাজায় হামলা অব্যাহত থাকা এবং যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের কারণে নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।