হাকিম জেফরিসকে ‘বানর’ বলায় সমালোচনার মুখে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক রুলা জিবরিয়েল
মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক দলের নেতা হাকিম জেফরিসকে ‘এআইপ্যাকের বানর’ বলে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও লেখক রুলা জিবরিয়েল। জেফরিস কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় তাঁর এই মন্তব্যকে বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাসসহ একাধিক ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা। পরে নিজের ব্যবহৃত শব্দকে ‘অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর’ বলে ক্ষমা চেয়েছেন জিবরিয়েল।
শুক্রবার বামপন্থী ভাষ্যকার ওয়াজাহাত আলীর ‘দ্য লেফট হুক’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে জিবরিয়েল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিসের ইসরায়েল-সমর্থন নিয়ে সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি জেফরিসকে আমেরিকান-ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা এআইপ্যাকের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগ তুলে ‘এআইপ্যাকের কেনা ও বেতনভুক্ত বানর’ বলে অভিহিত করেন।
জিবরিয়েল বলেন, ‘হাকিম’ একটি আরবি নাম, যার অর্থ নিরাময়কারী। কিন্তু তাঁর ভাষায়, জেফরিস নিরাময়কারী নন, বরং বিভাজন তৈরি করছেন। এরপরই তিনি ওই বিতর্কিত শব্দ ব্যবহার করেন। একই আলোচনায় জেফরিসকে ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ অর্থাৎ অন্যের হয়ে কাজ করা ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন।
মন্তব্যটি করার পর পডকাস্টের সঞ্চালক ওয়াজাহাত আলী বিষয়টির বর্ণবাদী অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, ‘বানর’ শব্দটির সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভয়াবহ বর্ণবাদী অর্থ জড়িয়ে আছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জিবরিয়েল নিজেই বলেছেন যে তাঁর মন্তব্যের পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল না।
এরপর নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জিবরিয়েল বলেন, তিনি জাপানের ‘তিন জ্ঞানী বানর’-এর কথা মনে করে ওই শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেই প্রচলিত প্রতীকে তিনটি বানরকে যথাক্রমে না দেখা, না শোনা এবং না বলার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা কংগ্রেসের কৃষ্ণাঙ্গ সদস্যদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস এক বিবৃতিতে জিবরিয়েলের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হাকিম জেফরিসকে ‘বানর’ বা ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ বলা বর্ণবাদমুক্ত কোনো বক্তব্য হতে পারে না। তাদের ভাষায়, রাজনৈতিক ডান বা বাম, কোনো পক্ষ থেকেই কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে জেফরিসের পক্ষে সরব হন নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি রিচি টরেসও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে ‘বানর’ বলা বর্ণবাদী। রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, এ ধরনের ভাষার নিন্দা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জিবরিয়েলের মন্তব্যের পর তাঁর সমালোচনায় শুধু কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস বা টরেসই নন, আরও কয়েকজন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা যোগ দেন। প্রতিনিধি পিট আগুইলারও বলেন, জেফরিসকে ‘বানর’ ও ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ বলা স্পষ্টতই বর্ণবাদী এবং বিপজ্জনক।
সমালোচনার মুখে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের বক্তব্য নিয়ে ক্ষমা চান জিবরিয়েল। তবে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি তিনি জেফরিসের এআইপ্যাক-সম্পর্কিত সমালোচনাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি লেখেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে জেফরিস এআইপ্যাকের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন বলে তিনি ক্ষুব্ধ। এরপর তিনি স্বীকার করেন, জেফরিসকে বর্ণনা করতে যে শব্দ ব্যবহার করেছিলেন তা অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর ছিল এবং সেটি ব্যবহার করা উচিত হয়নি। শেষে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তবে এই ক্ষমা চাওয়াকেও অনেকে পুরোপুরি গ্রহণ করেননি। কারণ, ক্ষমা চাওয়ার বক্তব্যেই জিবরিয়েল জেফরিস ও এআইপ্যাক নিয়ে তাঁর মূল রাজনৈতিক সমালোচনা আবারও তুলে ধরেছেন। ফলে বিতর্কটি শুধু একটি শব্দের ব্যবহার নিয়ে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক রাজনীতিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু, রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমা এবং বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
হাকিম জেফরিস বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক দলের সংখ্যালঘু নেতা এবং কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিক। তাঁর ইসরায়েলনীতি নিয়ে বামপন্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী মহলে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। তবে সমালোচকেরাও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার করলে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হয়।
এদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে জেফরিসের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের একটি সুশি রেস্তোরাঁয় কর্মীরা তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করছেন, এমনটা মনে হওয়ায় খাবারের বিল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক রূপান্তরকামী নারী। ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওতে কর্মীরা ওই গ্রাহককে নিয়ে উপহাস করছেন, এমন কোনো স্পষ্ট দৃশ্য দেখা যায়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের কিপস বে এলাকার নোবি সুশি রেস্তোরাঁয়। রেস্তোরাঁটির ঠিকানা ৪৩৭ থার্ড অ্যাভিনিউ। এটি জাপানি খাবার ও সুশির জন্য পরিচিত একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁ। প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, ওই নারী রেস্তোরাঁয় বসে খাবার অর্ডার করেন এবং হ্যান্ড রোল খান। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, রেস্তোরাঁর কাউন্টারের পেছনে থাকা কর্মীরা তাঁর দিকে তাকাচ্ছেন এবং হাসছেন। এতে তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন বলেও জানান। এরপর তিনি কর্মীদের জানান, তিনি খাবারের বিল পরিশোধ করবেন না। একই সঙ্গে কর্মীদের কাছে জানতে চান, তাঁরা কি পুলিশ ডাকবেন। ভিডিওতে থাকা কর্মী শান্তভাবে বিষয়টির জবাব দেন। তাঁকে উত্তেজিত হতে বা উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ওই নারী বিল না দিয়েই রেস্তোরাঁ থেকে চলে যান বলে ভিডিওসংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে অভিযোগের পক্ষে ভিডিওতে থাকা দৃশ্যমান প্রমাণের অভাব। ওই নারী কর্মীদের আচরণকে উপহাস হিসেবে দেখলেও ভিডিওতে কর্মীদের তাঁর সঙ্গে হাসাহাসি করা বা তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করার কোনো স্পষ্ট দৃশ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে দুটি ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে। এক পক্ষের বক্তব্য, কেউ কোনো জায়গায় নিজেকে অপমানিত বা অস্বস্তিকর মনে করলে তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে রূপান্তরকামী মানুষদের সামাজিকভাবে নানা ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। অন্য পক্ষের দাবি, শুধু একজনের অনুভূতি বা ধারণার ভিত্তিতে রেস্তোরাঁর কর্মীদের বিরুদ্ধে উপহাসের অভিযোগ নিশ্চিত করা যায় না। তাঁদের মতে, খাবার খাওয়ার পর বিল না দেওয়ার সিদ্ধান্তও প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভিডিওতে অভিযোগের পক্ষে পরিষ্কার প্রমাণ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভিডিওতে রেস্তোরাঁর কর্মীকে শান্ত থাকতে দেখা যায়। তিনি ওই গ্রাহকের সঙ্গে তর্কে জড়াননি এবং পুলিশ ডাকার বিষয়েও উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখাননি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আর না বাড়িয়ে তাঁকে চলে যেতে দেওয়া হয়। নোবি সুশি ম্যানহাটনের ৪৩৭ থার্ড অ্যাভিনিউতে অবস্থি
হাকিম জেফরিসকে ‘বানর’ বলায় সমালোচনার মুখে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক রুলা জিবরিয়েল
ফ্লোরিডায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়িতেই কন্যাসন্তান প্রসব, বাবার সহায়তায় রক্ষা পেলেন মা-সন্তান
ক্যালিফোর্নিয়ায় দয়া দেখিয়ে ঘরে আশ্রয়, সেই বৃদ্ধাকেই বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সর্বস্ব লুট
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিদেশি সরকারি কর্মীদের দেশটিতে জন্ম নেওয়া সন্তানদের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। ৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত নিয়মের অধীনে, বাবা-মায়ের অন্তত একজন যদি সন্তান জন্মের সময় বিদেশি সরকারি কর্মী হন এবং দুজনের কেউই মার্কিন নাগরিক না হন, তবে সেই সন্তান এই সুবিধার আওতাভুক্ত হতে পারবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৪৪১৮ নম্বর নির্বাহী আদেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের 'বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা' সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করে 'বিদেশি সরকারি কর্মী' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক, নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নির্দিষ্ট কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ইমিউনিটি পাওয়া সংস্থার কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে বিদেশি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পরিচারক, তৃতীয় কোনো দেশের নাগরিক যারা বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কর্মী বা দাপ্তরিক কাজের বদলে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সরকারি কর্মীরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন। এই পরিবর্তনের ফলে আগের কঠোর কূটনৈতিক সংজ্ঞার বাইরে থাকা অনেক বিদেশি সরকারি কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানরা সরাসরি লাভবান হতে পারবেন। এ ছাড়া ডিএইচএস তাদের ইমিগ্রেশন নথিপত্রেও (যেমন: ফর্ম আই-৪৮৫ এবং ফর্ম জি-৩২৫আর) প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে, যাতে নতুন নিয়মের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মটি কেবল ওই দিন বা তার পর জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় আইনি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মেরিল্যান্ডের মার্কিন জেলা আদালতে চলমান 'কাসা ইনকর্পোরেটেড বনাম ট্রাম্প' মামলার একটি আদেশের কারণে ডিএইচএস এখনই এই নিয়মের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ করতে পারছে না। আদালত থেকে আইনি বাধা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট শ্রেণিভুক্তদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছে বিভাগটি। চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে নতুন এই নিয়মটি ভবিষ্যতে কতটা ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া স্ট্রিট রেসিংয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ শতাধিক গাড়ি
চার দশকের ঐক্যের ফোবানা এখন চার ‘টুকরো’, নেতৃত্বের কোন্দলে হারাচ্ছে জৌলুস
লস অ্যাঞ্জেলেসে টেসলার ভ য়াবহ ধাক্কায় নিহত ১, আহত ৪; চালকের দাবি, ব্রেক কাজ করেনি
সন্তান কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হওয়ার পর তার দুপুরের খাবারের খরচ হিসাব করে রীতিমতো হতবাক হয়ে গেছেন দুই সন্তানের জননী ক্যাথরিন ভন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ পশ্চিম টেনেসির একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকা এই নারী স্থানীয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ। কিন্তু বড় ছেলে উইন্টন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরই তিনি শিক্ষার্থীদের খাবারের এই বিশাল খরচের বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তার ছেলে পড়াশোনা ও নতুন ভাষা শিখতে ভালোবাসে এবং স্কুলের পরিবেশে দারুণ করবে বলে তিনি ও তার স্বামী ল্যান্স সবসময় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু সন্তানের জন্য স্কুলে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে খরচের অঙ্ক দেখে তিনি চিন্তায় পড়ে যান। টিপটন কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অধীনে থাকা ক্যাথরিনের স্কুলে একসময় শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পেত। কিন্তু চলতি গ্রীষ্মে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। ক্যাথরিন হিসাব করে দেখেন, বছরে ১৮০ দিন স্কুল খোলা থাকে এবং প্রতিদিন খাবারের দাম বেড়ে ৩ ডলার হয়েছে। অর্থাৎ, ছেলের স্কুলের খাবারের জন্য তার নির্ধারিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত ৫৪০ ডলারের ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহামারির সময়ের ভর্তুকি শেষ হয়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টিপটন কাউন্টি স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট রেবেকা বার্ড জানান, তারা ফেডারেল ও রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনেই চলছেন এবং নির্দিষ্ট আয়ের শর্ত পূরণ করা পরিবারগুলো এখনো বিনামূল্যে বা কম মূল্যে খাবারের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে ক্যাথরিন মনে করেন, প্রতিদিন তিন ডলার খুব বড় অঙ্ক না হলেও অনেক পরিবার এই সামান্য খরচ মেটাতেও হিমশিম খায়। বিনামূল্যে খাবারের আবেদনের ক্ষেত্রে অনেকেই সামাজিক লজ্জার সম্মুখীন হন, আবার অনেক অভিভাবকের নানাবিধ মানসিক বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের বিল বকেয়া পড়ার হার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ‘স্কুল নিউট্রিশন অ্যাসোসিয়েশন’-এর ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯৬.৮ শতাংশ স্কুল ডিস্ট্রিক্টই বকেয়া বিলের সমস্যায় ভুগছে। এমনকি বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের রিপোর্ট কার্ড আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে। একটি শিশুর সুষ্ঠু শিক্ষার জন্য পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত জরুরি। ২০২১ ও ২০২৪ সালের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাসা থেকে আনা খাবারের চেয়ে স্কুলের খাবার বেশি পুষ্টিকর হয়, যা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পরীক্ষার ফলাফল উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের পেটে ক্ষুধা রেখে শিক্ষা প্রদানকে ক্যাথরিন টেনেসির পরিবারগুলোর প্রতি অবিচার বলে মনে করেন। বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ হয়েও কেন শিশুদের খাবারের দায়িত্ব নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি অবিলম্বে রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের সব শিশুর জন্য বিনামূল্যে স্কুলের খাবার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্লোরিডায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়িতেই কন্যাসন্তান প্রসব, বাবার সহায়তায় রক্ষা পেলেন মা-সন্তান
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় বৃষ্টিতে কাদার সাগরে পরিণত বার্নিং ম্যান উৎসব, ৬ মাইল হেঁটে ফিরলেন ডিজে ডিপলো