অতীতের শারীরিক সম্পর্কের স্মৃতি মুছে ফেলে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে এক অভিনব পথে হাঁটছেন নারীরা। ১৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে নিজেদের 'বডি কাউন্ট' শূন্যে নামিয়ে আনার এক বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণ করতে তারা ছুটে যাচ্ছেন সুদূর ব্রাজিলে। সেখানে তথাকথিত এক 'বডি কাউন্ট রিকভারি সেন্টার' নারীদের আধ্যাত্মিকভাবে শুদ্ধ করার এই ব্যয়বহুল ও অদ্ভুত সুযোগ দিচ্ছে। এই বিশেষ চিকিৎসায় বেশ কিছু আধ্যাত্মিক আচার ও রীতিনীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেন্টারটির কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীরা তাদের অতীতের সঙ্গীদের এনার্জি বা মানসিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে অংশ নেওয়া নারীরা নিজেদের পুনরুজ্জীবিত এবং বিশুদ্ধ অনুভব করেন। মূলত, অতীত সম্পর্কের সমস্ত মানসিক ও আধ্যাত্মিক ছাপ মুছে ফেলে তাদের 'বডি কাউন্ট' বা শারীরিক সম্পর্কের সংখ্যা পুনরায় শূন্যে ফিরিয়ে আনাই এই থেরাপির প্রধান লক্ষ্য। ১৩ হাজার ডলারের এই বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে সেন্টারটি নারীদের একটি পরিপূর্ণ 'স্পিরিচুয়াল রিসেট' বা আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অতীত সম্পর্কের গ্লানি বা স্মৃতি চুকিয়ে যারা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ নতুন এক জীবন শুরু করতে চাইছেন, তাদের কাছে বিপুল খরচের এই থেরাপি এখন ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। জাপানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ২-১ গোলের জয় পেয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে একই দিনে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে জাপান, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস—যাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল ব্রাজিলের জন্য। ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে নকআউট পর্বে জাপানের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না লাতিন আমেরিকার দলটির জন্য। ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। সেই লিড ধরে রেখে ম্যাচ জয়ের আশা জাগিয়েছিল তারা। দ্বিতীয়ার্ধে এসে খেলার মোড় ঘুরে যায়। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর গোল ব্রাজিলকে সমতায় ফেরায়। এরপর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। জয়ের কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় জাপানকে। এই জয়ের ফলে সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পায় ব্রাজিল। গ্রুপে অবস্থানের ভিত্তিতে রানার্সআপ হলে তাদের খেলতে হতো নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, আর তৃতীয় হলে পড়তে পারত জার্মানির মুখে। তবে নাটকীয়ভাবে এই দুই দলই নিজেদের ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। ব্রাজিলের ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে জার্মানি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও পরে সমতা ফেরায়। কিন্তু টাইব্রেকারে আর ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় জার্মানি। অন্য ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে। নির্ধারিত সময়ে ৭২ মিনিটে কোডি খাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ডাচরা। কিন্তু যোগ করা সময়ে ইসা দিওপের গোলে সমতা ফেরায় মরক্কো। এরপর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। সব মিলিয়ে একদিনেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দেখা গেছে একাধিক নাটকীয়তা। ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়ে স্বস্তিতে থাকলেও বিদায়ের বেদনাই সঙ্গী হয়েছে জাপান, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের।
সব শঙ্কা, স্নায়ুচাপ আর নাটকীয়তার অবসান ঘটল শেষ মুহূর্তের এক দুর্দান্ত আক্রমণে। নির্ধারিত সময়ের খেলা যখন ১-১ সমতায় শেষ হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল জাপানের দখলে। ২৯ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাইশু সানো দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে জাপানকে এগিয়ে দেন। গোলের পর কোচ হাজিমে মোরিয়াসু দলকে আরও রক্ষণাত্মক করে তোলেন। ৫-৪-১ ছকে গড়ে ওঠা জাপানের শক্ত রক্ষণে প্রথমার্ধজুড়ে ছন্দ খুঁজে পায়নি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে আটকে রাখে ব্লু সামুরাইরা। বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে কাসেমিরো দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে সমতায় ফেরান পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৫৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ প্রচেষ্টা গোলরক্ষক জিওন সুজুকির স্পর্শে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও জাপানের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না ব্রাজিল। ম্যাচের শেষভাগে একের পর এক পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ৬৫ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। এনদ্রিক ও রায়ানের গতিময় ফুটবলে ক্রমেই চাপে পড়ে জাপানের রক্ষণভাগ। ৮৫ মিনিটে রায়ানের ফ্রি-কিক এবং পরে ব্রুনো গিমারাইসের প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে অতিরিক্ত সময়ই যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এরই মধ্যে ৮৯ মিনিটে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়েন কাসেমিরো। তার জায়গায় নামেন ফাবিনিও। তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত পাস ধরে জাপানি ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান মার্তিনেল্লি। জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির কিছুই করার ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি জাপান। ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। নেইমারকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রেখেই গুরুত্বপূর্ণ এই জয় তুলে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
জাপানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ নক-আউট লড়াইয়ে মাঠের রণকৌশলে কোনো রকম ঝুঁকি বা পরিবর্তন আনতে রাজি নন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে আজ জাপানের বিরুদ্ধে হুবহু একই এবং অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর আগে ফুটবল বিশ্লেষকদের আলোচনায় ব্রাজিলের রক্ষণভাগের যে ফুল-ব্যাক পজিশন নিয়ে দুর্বলতার কথা উঠেছিল, সেই দানিলো এবং দগলাস সান্তোসের ওপরই ফের আস্থা রেখেছেন আনচেলত্তি। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে মার্কিনহোস ও গাব্রিয়েলের শক্তিশালী জুটির সামনে গোলপোস্টের নিচে যথারীতি দেয়াল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন আলিসন বেকার। মিডফিল্ডে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখতে কাসেমিরোর অভিজ্ঞতার সাথে খেলছেন ব্রুনো গিমারায়েস এবং লুকাস পাকেতা। আর আক্রমণভাগে চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারকে বেঞ্চে রেখে শুরুর একাদশে ভিনিসিউস জুনিয়র এবং মাথেউস কুনহার সাথে রাইট উইংয়ে থাকছেন তরুণ তুর্কি রায়ান। জাপানের গতিময় উইং-ব্যাক ও কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলকে রুখে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে আনচেলত্তির এই চেনা ‘উইনিং কম্বিনেশন’ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ব্রাজিলের শুরুর একাদশ: গোলরক্ষক: আলিসন বেকার ডিফেন্ডার: দানিলো, মার্কিনহোস, গাব্রিয়েল মাগালায়েস, দগলাস সান্তোস মিডফিল্ডার: ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, লুকাস পাকেতা ফরোয়ার্ড: রায়ান, ম্যাথিউস কুনহা, ভিনি জুনিয়র
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ। বুধবার (২৪ জুন) বিভিন্ন দেশের নেতারা ত্রাণ, উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সবার আগে প্রতিক্রিয়া জানায় বলিভিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই দুর্যোগের সময়ে বলিভিয়ার জনগণ ভেনেজুয়েলার পাশে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে দেশটি প্রস্তুত। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারাকাসে অবস্থিত ব্রাজিলীয় দূতাবাসকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ভেনেজুয়েলার প্রয়োজনীয় মানবিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়গুলো মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট যমন্দু ওরসি এক বার্তায় ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলা যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে, উরুগুয়ে তা দিতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মানবিক সহায়তার বার্তা দিয়েছে আর্জেন্টিনাও। দেশটির প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই এক বিবৃতিতে বলেন, কূটনৈতিক মতভেদ থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আর্জেন্টিনা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভেনেজুয়েলার এই সংকটময় সময়ে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সংহতি ও সহায়তার আশ্বাস আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মায়ামিতে দাপুটে ফুটবল খেলেই ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই সময়ে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শেষ ৩২-এ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। অন্যদিকে রানার্সআপ মরক্কো খেলবে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে। বর্তমানে ওই গ্রুপে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেনের মধ্যে শেষ ষোলোর সমীকরণ জমে উঠেছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক ছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অপর গোলটি করেন ম্যাথুস কুনহা। অন্য ম্যাচে মরক্কোর হয়ে গোল করেন আশরাফ হাকিমি, ইসমাইল সাইবারি, সুফিয়ান রহিমি ও গেসিমে ইয়াসিন। মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। সপ্তম মিনিটেই ভিনিসিউস জুনিয়র দলকে এগিয়ে দেন। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার ক্লিয়ার করা বল গোলরক্ষকের সামনে থাকা ভিনিসিউসের কাছে চলে এলে তিনি ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। ২২ মিনিটে আবারও বল জালে পাঠান ভিনিসিউস। তবে জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার সময় ফাউল করার কারণে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়। তবে বিরতির ঠিক আগে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। ব্রুনো গিমারাইসের ভাসিয়ে দেওয়া নিখুঁত ক্রসে হেডে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে এটি ছিল ভিনিসিউসের চতুর্থ গোল। এর আগের কাতার বিশ্বকাপে তিনি করেছিলেন একটি গোল। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে ব্রাজিল। ম্যাচের ৬০ মিনিটে রক্ষণভেদী আক্রমণ থেকে সহজ একটি সুযোগ তৈরি করেন ব্রুনো গিমারাইস। নিজে শট না নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ম্যাথুস কুনহার দিকে। ব্রাজিলের এই স্ট্রাইকার সহজেই বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল। এর আগে হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে মাঠে ফিরলেও গোল কিংবা অ্যাসিস্টের দেখা পাননি এই তারকা ফরোয়ার্ড। অন্য ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় তুলে নেয় মরক্কো। দলটির হয়ে আশরাফ হাকিমি, ইসমাইল সাইবারি, সুফিয়ান রহিমি ও গেসিমে ইয়াসিন একটি করে গোল করেন। এই জয়ে ব্রাজিলের সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠতে হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটিকে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও মরক্কো দুটিই অপরাজিত থেকেছে। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ‘সি’ গ্রুপের সেরা দল হিসেবে শেষ ষোলোয় পা রাখল ব্রাজিল। এখন নকআউট পর্বে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ফুটবল, সাম্বা, আমাজনের বিস্তীর্ণ অরণ্য এবং মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকতের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশটির পরিচিতি সাধারণত এসব বিষয় ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এই পরিচিত চিত্রের আড়ালে দেশটিতে নীরবে বিস্তার লাভ করছে ইসলাম, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষক ও ধর্মীয় পর্যবেক্ষকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিম সম্প্রদায় এখন আর কেবল অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের মধ্যেও ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে, যা দেশটির ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ব্রাজিলের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা আইবিজিই এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৬৭ হাজার থেকে ১৫ লাখের মধ্যে রয়েছে। যদিও বিভিন্ন গবেষণায় সংখ্যাগত কিছু পার্থক্য দেখা যায়, ইসলামিক সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় ১৫ লাখ সক্রিয় মুসলিম বসবাস করছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ। গবেষকদের মতে, সরকারি আদমশুমারিতে ধর্ম পরিবর্তনের তথ্য অনেক সময় দ্রুত হালনাগাদ না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ব্রাজিলে মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশজুড়ে প্রায় ১৫১টি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে। এর পাশাপাশি শতাধিক নামাজকেন্দ্র এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে সাও পাওলো, পারানা, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, কুরিতিবা এবং ফোজ দো ইগুয়াসু অঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যা এবং মসজিদের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলে ইসলামের প্রসারের পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমটি হলো অভিবাসন। গত শতাব্দীতে সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন থেকে বিপুল সংখ্যক আরব মুসলিম ব্রাজিলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মুসলিম অভিবাসীরা সেখানে আসেন। দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের ইসলাম গ্রহণের প্রবণতাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কারণে অনেক ব্রাজিলীয় ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফেডারেশন অব মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনস ইন ব্রাজিলের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশটিতে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি স্থানীয় ব্রাজিলীয় ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সংগঠনটির দাবি। ব্রাজিলের ইসলামি ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো সাও পাওলোর মেসকিতা ব্রাজিল। ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদকে শুধু ব্রাজিল নয়, সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম এবং সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশটিতে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া ফোজ দো ইগুয়াসু শহরের ওমর ইবনুল খাত্তাব মসজিদও মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা। ১৯৮৩ সালে নির্মিত এই মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী এবং বিশাল মিনার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পারানা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কুরিতিবায় অবস্থিত ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদ এবং রাজধানী ব্রাসিলিয়ার ইসলামিক সেন্টারও মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রাজিলের প্রায় সব মুসলিমই নগরাঞ্চলে বসবাস করেন। সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, ফোজ দো ইগুয়াসু, কুরিতিবা এবং বেলো হরিজন্তে শহরগুলো মুসলিম জনসংখ্যার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের অন্যতম বড় হালাল মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও ব্রাজিলের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। দেশটির বিশাল হালাল খাদ্যশিল্প শুধু স্থানীয় মুসলিমদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও বিপুল পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রাজিলে ইসলাম এখন আর শুধুমাত্র অভিবাসীদের ধর্ম হিসেবে বিবেচিত হয় না। স্থানীয় সমাজে মুসলিমদের অংশগ্রহণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামের প্রতি আগ্রহ দেশটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। ফুটবলপ্রেমী এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিমরা এখন একটি ছোট কিন্তু ক্রমবর্ধমান সম্প্রদায় হিসেবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলেছেন। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে ব্রাজিলে ইসলামের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
ডান পায়ের কাফ মাসলের (পেশি) চোটের কারণে দীর্ঘ এক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। বুধবার (১৭ জুন) নিউ জার্সির মরিসটাউনে চলমান বিশ্বকাপের প্রথমবারে মতো ব্রাজিল দলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। অনুশীলনে মাঠে নেমে সতীর্থ রাফিনহা, ব্রুনো গুইমারেস, গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহেস এবং ফাবিনহোর সঙ্গে হালকা গা গরম করেন এই ফরোয়ার্ড। সেখানে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে রসিকতা করে নেইমার বলেন, "তোমরা কি আমাকে মিস করেছ?" অবশ্য দলের সঙ্গে প্রাথমিক কিছু কাজ করার পর তিনি মাঠের একপাশে গিয়ে কোচিং স্টাফদের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করেন। এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর প্রথমবারের মতো একাকী রানিং ড্রিল এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তির সহকারী স্টাফের সাথে কাজ করেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় কাফ মাসলে চোট পান নেইমার, তবে চোট থাকা সত্ত্বেও দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তাকে বিশ্বকাপের দলে রাখা হয়। এদিকে নেইমারকে ছাড়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে। গ্রুপ 'সি-তে শুক্রবার তারা হাইতির এবং আগামী ২৪ জুন বুধবার স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। সোমবার গ্রেড টু পেশির চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য নেইমারের পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে, যদিও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) এখনও এর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, নকআউট পর্বের আগে নেইমার পুরোপুরি ফিট হবেন বলে আশা করছে মেডিকেল টিম, যার অর্থ হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে তিনি খেলতে পারবেন না। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ হাঁটুর এসিএল (ACL) এবং মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে আর মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ট্রান্সফারমার্কেট’-এর তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে চোট, পুনর্বাসন ও বিশ্রামের কারণে প্রায় ৭০০ দিন মাঠের বাইরে কেটেছে তার। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের বেঞ্চে উপস্থিত থাকলেও ম্যাচ খেলার মতো কিট বা জার্সি পরেননি তিনি। নেইমারের ফেরা প্রসঙ্গে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "নেইমার দ্রুত সেরে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আগামী সপ্তাহে সে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দেবে বলে আমরা আশা করছি। তার প্রশ্নাতীত কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের কারণেই তাকে দলে রাখা হয়েছে।" সূত্র: ইএসপিএন
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে দাপুটে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। তার এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেসির বর্তমান ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাস্যরসের ভঙ্গিতে লুলা বলেন, তিনি মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলানোর জন্য সই করানোর কথা ভাবছেন। ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এটি রসিকতা হিসেবে বলা, তবুও মেসির পারফরম্যান্স যে প্রতিপক্ষ দেশের নেতাদেরও মুগ্ধ করছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লুলার বক্তব্যে। এদিকে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ব্রাজিল ড্র দিয়ে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। এই প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন লুলা। তিনি বলেন, স্পেন কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করেছে, সেটি আরও খারাপ ফলাফল। এবারের বিশ্বকাপ মেসির জন্যও বিশেষ হয়ে উঠেছে। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা তাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার পাশে বসিয়েছে সর্বাধিক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার পর গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ২২ জুনের ওই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে মেসির দল।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এক তরুণীর বাঞ্জি জাম্পিংয়ের সময় দড়ি ছাড়া নিচে পড়ে মৃত্যুর ঠিক পরদিনই পাহাড়ি ট্রেইলে মশার স্প্রে করতে গিয়ে ১০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরেক নারী। গত রবিবার (১৪ জুন) ব্রাজিলের মারিকাহ এলাকার ‘গ্রুটাস ডো স্পার’ পাহাড়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত ওই নারীর নাম রোসমারি সুজার্ট গার্সিয়া (৫৯)। তিনি রিও ডি জেনিরোর বাসিন্দা এবং একদল পর্যটকের সাথে ওই পাহাড়ে ট্র্যাকিং করতে গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ের একটি উঁচু পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রোসমারি মশার কামড় থেকে বাঁচতে পায়ে স্প্রে করার জন্য এক পা ওপরে তোলেন। কিন্তু উঁচু ও খাড়া পাহাড়ের ওপর একক পায়ে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদের দিকে পড়ে যান। দলের ট্যুর গাইড তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত ধরলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তীব্র টানে গাইড নিজেও পড়ে যাচ্ছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তে একটি গাছের শিকড় ধরে তিনি নিজেকে সামলে নেন। চোখের পলকে ১০০ ফুট নিচে পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়েন রোসমারি। উদ্ধারকর্মীরা পাহাড়ের নিচ থেকে রোসমারির নিথর দেহ উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, পাহাড়ে হাঁটার জন্য হেলমেট ও গ্লাভসসহ সমস্ত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম তার শরীরে ছিল। পুলিশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এর ঠিক আগের দিন শনিবার (১৩ জুন) ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আরও একটি ভয়ংকর কাণ্ড ঘটে। একটি সেতু থেকে ২৩ বছর বয়সী মারিয়া এদুয়ার্দো নামের এক তরুণী বাঞ্জি জাম্পিং করতে গেলে আয়োজকরা তার পায়ে দড়ি না বেঁধেই তাকে নিচে ফেলে দেয়। ১৩০ ফুট নিচে পড়ে তাৎক্ষণিকভাবেই তার মৃত্যু হয়। পরপর দুই দিনে এমন দুটি মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো দেশটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ও বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা এবং দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের তদবির করার দায়ে ব্রাজিলের সাবেক উগ্র-ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারোকে (৪১) কারাদণ্ড দিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালত। সাবেক এই ব্রাজিলীয় কংগ্রেস সদস্যের অনুপস্থিতিতেই সুপ্রিম কোর্ট তাকে ৪ বছর ২ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, গত বছর তার বাবা জেইর বলসোনারোর অভ্যুত্থান মামলার বিচার চলাকালে এদুয়ার্দো মার্কিন প্রশাসনের ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল, তিনি ব্রাজিলের ওপর মার্কিন শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ওয়াশিংটনের কাছে তদবির করছিলেন, যেন সাজা থেকে তার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাবাকে কোনোভাবে সুবিধা দেওয়া যায়। উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল শাসন করা জেইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনি পরাজয় উল্টে দেওয়ার এবং সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বাবার এই রায় আসার আগেই, ২০২৫ সালে এদুয়ার্দো ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কারাদণ্ডের এই রায়কে ‘ভিত্তিহীন ও অর্থহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এদুয়ার্দো বলসোনারো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তিনি যেন ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেজন্যই বিচারকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রায় দিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই মামলায় তাকে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেই তিনি প্রথম মামলার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এর আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, ব্রাজিলে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্বেচ্ছা নির্বাসনে’ বসবাস করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন এদুয়ার্দো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তার বাবার জন্য জনসমক্ষে সমর্থন চেয়ে অনুরোধ জানান। ট্রাম্প প্রশাসনও সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে চলা এই মামলাকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি' হিসেবে তুলনা করেছিল এবং বলসোনারোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে গত বছরের জুলাই মাসে ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন এবং একপর্যায়ে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসের ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিল। সে সময় ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মার্কিন শুল্ক আরোপকে 'অযৌক্তিক' এবং তাদের বিচারপতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে দেশের বিচার ব্যবস্থায় 'অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ' বলে তীব্র নিন্দা জানান। পরবর্তীতে অবশ্য তীব্র আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়।
ব্রাজিলে বাঞ্জি জাম্পিং করতে গিয়ে আয়োজকদের মারাত্মক অবহেলায় প্রাণ হারিয়েছেন মারিয়া এদুয়ার্দা রদ্রিগেস দে ফ্রেইতাস নামের ২১ বছর বয়সী এক তরুণী। দড়ি ছাড়াই ১৩০ ফুট উঁচু একটি পরিত্যক্ত ব্রিজ থেকে তাকে লাফ দিতে দেওয়া হয়েছিল। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার পরপরই তিনি বেঁচে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাকে উদ্ধার করতে ছুটে যাওয়া একজন নার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার সাও পাওলোর কাছে ওই ব্রিজ থেকে লাফ দেওয়ার আগে অবহেলাবশত কর্মীরা তরুণীর শরীরে বাঞ্জি জাম্পের দড়ি বাঁধতে ব্যর্থ হন। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন ডিউটির বাইরে থাকা নার্স রাইজা দিয়াস। তিনি অবৈধভাবে পরিচালিত ওই বাঞ্জি জাম্পিং সাইট বা ‘স্কেলিটন ব্রিজ’-এর নিচে তরুণীকে বাঁচাতে দ্রুত ছুটে যান। ব্রাজিলের টিভি নেটওয়ার্ক ‘ডোমিঙ্গো এসপেকটাকুলার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিয়াস জানান, নিচে নামার পথটি অত্যন্ত খাড়া এবং কাদামাটিতে ভরা ছিল। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামার সময় তার হাত ছিলে যায়। কাদামাখা পথ পেরিয়ে তিনি যখন নিচে পৌঁছান, তখনো মারিয়া জীবিত ছিলেন। আবেগাপ্লুত হয়ে ওই নার্স আরও জানান যে তিনি আহত মারিয়ার সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। তাকে সাহস দেওয়ার জন্য তিনি বলেছিলেন, "দুদা (এদুয়ার্দা), আমার শিফটে কেউ মারা যায় না।" যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে তার কোনো ডিউটি ছিল না, তবুও তিনি মুমূর্ষু তরুণীকে বাঁচানোর এবং মানসিকভাবে জোর দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। এদিকে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বাঞ্জি জাম্প পরিচালনাকারী তিনজনকে গ্রেপ্তার করে রোববার তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন পালানোর চেষ্টা করলে একটি সামরিক হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাদের ট্র্যাক করে ধরা হয়। এছাড়া এই অবৈধ সাইটে কাজ করা আরও তিন সন্দেহভাজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হলেও পরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর পশ্চিমাঞ্চলে মাঝ আকাশে দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় দুটি উড়োজাহাজই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর একটি হেলিকপ্টার একটি গাড়ি বিক্রয়কেন্দ্রের পার্কিং এলাকায় আছড়ে পড়ে আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে মার্কিন গায়ক ও কৌতুক অভিনেতা অলিভার ট্রি এবং আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ইউটিউবার গ্যাসপার প্রিম দিয়াজ, যিনি ‘গ্যাসপি’ নামে পরিচিত, রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার পর মরদেহগুলোর আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কর্তৃপক্ষ শুরুতে সতর্ক অবস্থান নেয়। পরে বিভিন্ন সূত্র নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে। দুর্ঘটনাটি ঘটে রিও ডি জেনিরোর রেক্রেইও দোস বান্দেইরান্তেস এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের পর একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই একটি হেলিকপ্টার বৈদ্যুতিক গাড়ি রাখা একটি পার্কিং এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে সেখানে থাকা একাধিক গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান, সংঘর্ষের পর তিনি একটি হেলিকপ্টারকে আগুনে জ্বলতে দেখেন। একই সঙ্গে একজন যাত্রীকে নিচে লাফ দিতে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ওই ব্যক্তির ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ৩২ বছর বয়সী অলিভার ট্রি সংগীত জগতে তার ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা ও জনপ্রিয় গান ‘লাইফ গোজ অন’ এবং ‘মিস ইউ’-এর জন্য পরিচিত ছিলেন। দুর্ঘটনার আগে তিনি বিশ্ব সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে ২৩ বছর বয়সী গ্যাসপি আর্জেন্টিনার অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা ছিলেন। তার ইউটিউব চ্যানেলের অনুসারী ছিল কয়েক মিলিয়ন। দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ব্রাজিলের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা এবং আকাশপথে চলাচল নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিও ডি জেনিরোতে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহারের হার তুলনামূলক বেশি। ফলে শহরের আকাশপথে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হেলিকপ্টার চলাচল করে। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন অলিভার ট্রি ও গ্যাসপির অসংখ্য ভক্ত। সংগীত ও ডিজিটাল কনটেন্ট জগতের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল ব্রাজিলকে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, তারকাবহুল স্কোয়াড এবং সমর্থকদের আস্থার কারণে দলটির প্রতি প্রত্যাশাও ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই সেই প্রত্যাশার পুরোটা পূরণ করতে পারেনি সেলেসাওরা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিউস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারেনি ব্রাজিল। ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল ব্রাজিল। মাঝমাঠে সমন্বয়ের অভাব, ভুল পাস এবং রক্ষণে অনিশ্চয়তা তাদের খেলায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিপরীতে মরক্কো ছিল অনেক বেশি গোছানো ও আত্মবিশ্বাসী। দ্রুত আক্রমণ, সঠিক পাসিং এবং সংগঠিত রক্ষণভাগের মাধ্যমে তারা বারবার ব্রাজিলকে চাপে ফেলে। বিশেষ করে মাঝমাঠে ব্রাহিম দিয়াসের উপস্থিতি মরক্কোর খেলায় বাড়তি গতি যোগ করে। বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের ২১তম মিনিটে সেই প্রচেষ্টারই ফল পায় উত্তর আফ্রিকার দলটি। দিয়াসের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে ডি-বক্সের দিকে ছুটে যান ইসমায়েল সাইবারি। গোলরক্ষক আলিসন বেকার সামনে এগিয়ে এলেও তাকে পরাস্ত করতে ভুল করেননি মরক্কোর এই ফরোয়ার্ড। চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে ব্রাজিল। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো ব্রাজিল সমর্থকের মধ্যে তখন নেমে আসে হতাশা। তবে অভিজ্ঞ দল হিসেবে দ্রুতই ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে নেয় তারা। ৩২তম মিনিটে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতা ফেরান ভিনিসিউস জুনিয়র। বাঁ প্রান্ত দিয়ে মরক্কোর রক্ষণভাগে ঢুকে একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তার ৫০তম ম্যাচে করা স্মরণীয় গোলগুলোর একটি। এই গোলের পর ব্রাজিল কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি। প্রথমার্ধের বাকি সময় এবং দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দলই তুলনামূলক সতর্ক ফুটবল খেলেছে। ফলে গোলের সুযোগও কম তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের আক্রমণে প্রত্যাশিত ধার দেখা যায়নি। রাফিনিয়া, পাকেতা কিংবা ইগোর থিয়াগো কেউই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেননি। অন্যদিকে মরক্কোও নিজেদের লিড পুনরুদ্ধারের জন্য ঝুঁকি নিতে আগ্রহী ছিল না। পরিসংখ্যানেও দুই দলের লড়াইয়ের প্রতিফলন দেখা যায়। মরক্কো ১৩টি শট নেয়, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। ব্রাজিলের আটটি শটের মধ্যে চারটি লক্ষ্যে ছিল। তবে দুই গোলের পর ম্যাচে বড় কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। ম্যাচে ব্রাজিলের কাসেমিরো ও রজার ইবানিয়েজ হলুদ কার্ড দেখেন। মাঝমাঠ ও রক্ষণে তাদের ওপর চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বকাপ ইতিহাসে মরক্কোর বিপক্ষে এটি ছিল ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়ে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল সেলেসাওরা। সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন রোনালদো ও রিভালদো। প্রায় তিন দশক পর আবার দেখা হলেও এবার জয় তুলে নিতে পারেনি ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় একটি বিষয় হয়ে উঠেছে নেইমারের অনুপস্থিতি। চোটের কারণে মাঠে নামতে পারেননি ব্রাজিলের এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। গ্যালারিতে বসে সতীর্থদের খেলা দেখেছেন তিনি। আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার ঘাটতি এবং শেষ তৃতীয়াংশে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব দেখে অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিল স্পষ্টভাবে অনুভব করেছে। তবে বিশ্বকাপের পথ এখনও দীর্ঘ। গ্রুপ পর্বে সামনে রয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আগামী ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে নেইমার ফিরতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েও অনেক দল শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছে। কিন্তু মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর একটি প্রশ্ন ইতোমধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে, ব্রাজিল কি এবার সত্যিই তাদের বহু প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ মিশন সফল করতে পারবে?
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় কোনোটিই দেখেনি ফুটবলপ্রেমীরা। মরক্কোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল, তবে ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো দলই ব্যবধান গড়তে না পারায় ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। ম্যাচের শুরুটা ছিল মরক্কোর দখলে। আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে তারা প্রথম থেকেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে দেখা যায় কিছুটা অগোছালো ছন্দে। প্রথম কয়েক মিনিটে খেলার বেশিরভাগ সময়ই বল ছিল ব্রাজিলের অর্ধে। ষষ্ঠ মিনিটেই প্রথম সুযোগ তৈরি করে মরক্কো। নাইল এল আইনাউইয়ের শট শেষ মুহূর্তে বাধা দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। ১২তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পান ইগোর থিয়াগো। তবে ভিনিসিউস জুনিয়রের দারুণ ক্রস থেকে পাওয়া হেডটি লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। সুযোগ নষ্টের মাশুল গুনতে হয় ব্রাজিলকে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে ব্রাহিম দিয়াসের চমৎকার থ্রু বল ধরে দৌড়ে যান ইসমায়েল সাইবারি। গোলরক্ষক আলিসন ডি-বক্সের বাইরে চলে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত চিপ শটে বল জালে পাঠান পিএসভি আইন্দহোভেনের এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই গোলের দেখা পান ২৫ বছর বয়সী সাইবারি। তার গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও অনেকটা নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মরক্কো। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি ব্রাজিলকে। ৩২তম মিনিটে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা ভিনিসিউস জুনিয়র অসাধারণ এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতায় ফেরান দলকে। ব্রুনো গিমারেসের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শটে গোল করেন রেয়াল মাদ্রিদ তারকা। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল ভিনিসিউসের দশম গোল এবং বিশ্বকাপ মঞ্চে দ্বিতীয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাওয়া এই গোল ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় ব্রাজিল। লুকাস পাকেতার দুর্দান্ত ভলি শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। প্রথমার্ধে গোলের জন্য নেওয়া শটের সংখ্যায় স্পষ্ট এগিয়ে ছিল মরক্কো। তারা ১২টি শট নেয়, যেখানে ব্রাজিলের শট ছিল ছয়টি। তবে উভয় দলই লক্ষ্যে রাখতে পারে দুটি করে শট। বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলানোর প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে দুই দলই অনেক বেশি সতর্ক ফুটবল খেলে। ফলে খেলার গতি কমে যায় এবং আক্রমণভাগে ধারও দেখা যায়নি তেমন। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বেশি আক্রমণ করলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বারবার ভুল পাস ও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তহীনতায় নষ্ট হয়েছে সম্ভাবনাময় আক্রমণ। ৭৯তম মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগটি পান রাফিনিয়া। ভিনিসিউসের পাস থেকে ডি-বক্সে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি বার্সেলোনা তারকা। তার দুর্বল শট সহজেই সামলে নেন বোনো। কিছুক্ষণ পর মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা দিওপের ভুল ব্যাকপাস থেকে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হলেও দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন বোনো। যোগ করা সময়ের শেষদিকে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয় ব্রাজিলের বক্সে। প্রতিপক্ষের একটি শট প্রথমে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি আলিসন। ফিরতি বলে শট নেন আইনাউই। তবে দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় আবারও বল আটকে দিয়ে সম্ভাব্য বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করেন লিভারপুলের এই গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে জয় না পেলেও হার এড়ানোয় কিছুটা স্বস্তি পাবে ব্রাজিল। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে মরক্কো। পরিসংখ্যানের একটি দিকও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ম্যাচের দুই গোলদাতা ইসমায়েল সাইবারি ও ভিনিসিউস জুনিয়র জাতীয় দলের হয়ে যেসব ম্যাচে গোল করেছেন, সেসব ম্যাচে তাদের দল কখনও হারেনি। নিউ জার্সির এই ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকল। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী শনিবার হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। একই দিনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে মরক্কো। দুই দলের জন্যই পরের ম্যাচগুলো গ্রুপের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নেমেই শুরুতে ধাক্কা খায় ব্রাজিল। তবে পিছিয়ে পড়ার সেই প্রাথমিক ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোলে ১-১ সমতায় থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমারকে ছাড়া খেলতে নামা ব্রাজিল ম্যাচের শুরু থেকেই কিছুটা ছন্নছাড়া ছিল। অন্যদিকে, প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই দারুণ গোছানো ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল করার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল তারা। ডান প্রান্ত থেকে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণে উঠে ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়ে যান তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। তার নেওয়া শট শেষ মুহূর্তে সেলেসাও ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস আটকে দিলে সে যাত্রায় রক্ষা পায় ব্রাজিল। পরবর্তীতে ব্রাজিলও ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ইগর থিয়াগো দারুণ সুযোগ পেলেও বলের সঙ্গে সঠিক সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন। ব্রাজিল যখন কেবল গুছিয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ২১তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের দারুণ এক পাসে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে নেন ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি। তবে এই লিড খুব বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি মরক্কো। গোল হজমের মাত্র ১১ মিনিট পরই ব্রাজিলকে জাদুকরী এক গোলে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৩২তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির এক শটে জাল কাঁপান তিনি। দৃষ্টিনন্দন এই গোলের মাধ্যমেই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৫০তম গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধের এই সমতা দ্বিতীয়ার্ধের লড়াইকে যে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলবে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কোনো সন্দেহ নেই।
টেলিভিশনের পর্দায় সাধারণ দর্শকেরা কেবল ৯০ মিনিটের মাঠের লড়াইটাই দেখতে পান। কখনো কখনো সম্প্রচারকদের সৌজন্যে ম্যাচ শুরুর আগের গা-গরমের দৃশ্যও চোখে পড়ে। কিন্তু ড্রেসিংরুমের সেই রহস্যময় দরজার ওপারে আসলে কী হয় কিংবা ম্যাচের ঠিক আগের মুহূর্তে ফুটবলাররা কেমন থাকেন, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতুহলের শেষ নেই। আজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সার মিশনে নামছে ব্রাজিল। আর এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শুরুর আগে সেলেসাওদের ড্রেসিংরুমের ভেতরের না-বলা গল্পগুলো সামনে এনেছেন ব্রাজিল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রধান সহকারী পল ক্লেমেন্ট। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ আসলে কেমন থাকে। পল ক্লেমেন্টের বর্ণনাতে, ম্যাচ শুরুর ঠিক আগের দৃশ্যটি দেখলে মনে হবে যেন কোনো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের ফুটবল বিজ্ঞাপনের শুটিং চলছে। সেখানে ড্রেসিংরুমের কোথাও কোনো খেলোয়াড় বল শূন্যে ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা বা ‘কিপ-আপ’ করছেন, কেউ কেউ হেডফোন কানে দিয়ে চুপচাপ গান শুনছেন, কেউ স্ট্রেচিং করছেন, কেউবা সারছেন শেষ মুহূর্তের ‘ট্রিটমেন্ট’। আবার কেউ কেউ কেবলই নিজের ভাবনায় মগ্ন থাকেন এবং এই সবকিছুর আবহ তৈরির জন্য ব্যাকগ্রাউন্ডে সবসময় বাজতে থাকে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী কোনো সুর। ক্লেমেন্টের ভাষায়, সবচেয়ে জাদুকরি মুহূর্তটি আসে দল যখন মাঠের উদ্দেশ্যে ড্রেসিংরুম ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়। ম্যাচের সময় যতই ঘনিয়ে আসে, ভেতরের চেনা পরিবেশটা পুরোপুরি বদলে যায়। গান বন্ধ হয়ে যায়, কমে আসে কোলাহল এবং পুরো দল তখন প্রার্থনার জন্য একসঙ্গে মিলিত হয়। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও ম্যাচ শুরুর আগের এই মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখে। সহকারী কোচ বলেন, তখন অত্যন্ত ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক একটি পরিবেশ তৈরি হয়। ম্যাচের আগে এবং পরে ফুটবলাররা সবাই মিলে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেন। সাধারণত এই প্রার্থনার আগে দলের অধিনায়ক, কোনো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, কোচ কিংবা ফেডারেশনের কেউ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এই সুন্দর ঐতিহ্যই খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করে এবং এটি দলের মধ্যে একতা ও সৌহার্দ্য তৈরি করে সবাইকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। ব্রাজিল দলের সহকারী কোচের মতে, এবারের সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব। মার্কিনিওস, আলিসন, কাসেমিরো এবং দানিলোর মতো নামগুলোকে তিনি দলের মূল চালিকাশক্তি এবং মেরুদণ্ড হিসেবে মনে করেন। ক্লেমেন্টের ভাষায়, এই দলের যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভালো লাগে, তা হলো সুদৃঢ় নেতৃত্ব। যেসব খেলোয়াড়ের ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খেলার অনেকদিনের অভিজ্ঞতা আছে, তাঁদের প্রতি দলটিতে অগাধ সম্মান রয়েছে। এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কারণে দলের ভেতরে একটি চমৎকার ‘চেইন অব কমান্ড’ বা শৃঙ্খলা তৈরি হয়, যা বিভিন্ন প্রজন্মের ফুটবলারদের একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে সাহায্য করে। তরুণ খেলোয়াড়রা যাঁরা ব্রাজিলের হয়ে ৮০, ৯০ বা একশর বেশি ম্যাচ খেলেছেন, তাঁদের ভীষণ সমীহ করেন। ক্লেমেন্ট বিশ্বাস করেন, তারকাখচিত ড্রেসিংরুম সামলানোর ক্ষেত্রে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য একটা বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড চেলসি, পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে বড় বড় সব মহাতারকাদের অবলীলায় সামলেছেন। এবারের ব্রাজিল দলেও অনেক তারকা ফুটবলার আছেন। তবে আনচেলত্তির জন্য তাঁদের সামলানো কঠিন হবে না। ক্লেমেন্টের ভাষায়, কার্লো কখনোই দ্বন্দ্বে জড়াতে চান না, তিনি মানুষের ভেতরের সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করেন। ব্রাজিলের প্রায় আড়াই দশকের দীর্ঘ শিরোপাখরাটা হয়তো এই ইতালিয়ান কোচের হাত ধরেই কাটবে—মেটলাইফের ড্রেসিংরুমে এখন সেই প্রার্থনারই সুর।
১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবুও দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো ফুটবল পরাশক্তিদের এমন কিছু কট্টর সমর্থকের আবাসস্থল, যাদের উন্মাদনা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ফুটবল ভক্তদের সহজেই হার মানাবে। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও এদেশের মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের রাস্তাঘাট রঙিন জাতীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে। সাধারণ দৃষ্টিতে একে স্বাভাবিক মনে হলেও একটি বিষয় বেশ অদ্ভুত—এই পতাকাগুলোর সব কটিই ভিনদেশের। মে মাস থেকেই ফুটবল ভক্তরা একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় দুই চিরদ্বন্দী দেশের বিশাল সব পতাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এটি এক বিরল সময়, যখন প্রচণ্ড দেশপ্রেমিক এই জাতি ভিনদেশের রঙকে সম্পূর্ণ নিজের করে নেয়। ঢাকার গুলশানের মতো অভিজাত এলাকার স্পোর্টস মার্কেটগুলোতে প্রায় ৫০০ টাকায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের রেপ্লিকা জার্সি কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য ভক্ত। লাতিন আমেরিকার এই দুটি দেশের প্রতি বাংলাদেশের ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক কোনো বিশেষ সম্পর্ক না থাকলেও তাদের প্রতি এদেশের মানুষের ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসছে। বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ চলাকালীন এই ভালোবাসাই মাঝেমধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও বড় শত্রুতে পরিণত করে। চলতি মাসের শুরুর দিকে হবিগঞ্জে একটি স্থানীয় ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। অন্য দিকে শরীয়তপুর এলাকায় একদল যুবক এক অভিনব ঘোষণা দিয়েছেন যে, ২০০২ সালের পর ব্রাজিলের ট্রফি জেতার দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কেউ বিয়ে করবেন না। যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এই উন্মাদনার মূল কেন্দ্রে থাকে, তবে মাঝেমধ্যে অন্যান্য দেশের প্রতিও মানুষের ভিন্ন রকম আগ্রহ দেখা যায়। ৭২ বছর বয়সী আমজাদ হোসেন এ সপ্তাহে গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন নিজের পৈতৃক জমির একটি অংশ বিক্রি করে সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করার মাধ্যমে। দৈনিক প্রথম আলো জানিয়েছে, আমজাদ হোসেনের মূল স্বপ্ন হলো এই বিশাল আকৃতির পতাকাটি জার্মানির কোনো বড় জাদুঘরে স্থান পাবে। এদিকে দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া নরওয়ে বাংলাদেশের এই ফুটবল উন্মাদনাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। দেশটি বাংলাদেশি সমর্থকদের তাদের দল 'ভাইকিং'দের সমর্থন দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। নরওয়েজিয়ান দূতাবাস সমর্থকদের কাছে করা আবেদনে দুই দেশের ঐতিহাসিক গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে উল্লেখ করেছে যে, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল নরওয়ে। এবারের বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের প্রথম আসর যেখানে মোট ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এবং আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ২০২২ সালে ফিফা এবং আর্জেন্টিনার মূল খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও মিলেছে। নিজ দেশ থেকে প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার দূরের একটি জাতির কাছ থেকে পাওয়া এমন অবিশ্বাস্য সমর্থন তাদের ভীষণভাবে অভিভূত করেছিল। আর্জেন্টিনার প্রতি এই ভালোবাসার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফুটবল খেলাটি ১৯ শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা অবিভক্ত ভারতের তৎকালীন রাজধানী কলকাতায় প্রবর্তন করেছিল। ষাট ও সত্তরের দশকে যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল, তখন হতোদ্যম যুবসমাজ আশা ও নায়কদের খুঁজছিল। সেই সময়ে তরুণরা ব্রাজিলের মধ্যে সেই অনুপ্রেরণা খুঁজে পায়, যারা ছিল সেই প্রজন্মের সেরা দল। পেলে হয়ে ওঠেন এদেশের প্রিয় ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশে কয়েক প্রজন্মের ফুটবলারদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেশে টেলিভিশনের মালিকানা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ক্রিকেট পাগল দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাংলাদেশির কাছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ছিল রঙিন পর্দায় দেখা বিশ্বকাপের প্রথম ঝলক। সেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার আইকনিক গোলগুলো নিছক ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক সময়ের ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী বিজয় হিসেবে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যায়। তরুণ ভক্তদের কাছে ম্যারাডোনার রেখে যাওয়া সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি, আর ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন নেইমার। তবে এই উন্মাদনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগেও বেশ কয়েকবার সহিংস রূপ নিয়েছে, এমনকি তা প্রাণঘাতীও প্রমাণিত হয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সমর্থকদের পারস্পরিক সংঘর্ষে ২৩ জন মানুষ মারা গেছেন। ২০১৪ সালে বৈদ্যুতিক তারে পতাকা টানাতে গিয়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল বলে 'টাইম' ম্যাগাজিন জানিয়েছে। ২০১৮ সালে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় এবং সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মিছিলের সময় সংঘর্ষে এক ব্যক্তি ও তার ছেলে গুরুতর আহত হন।
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো ফুটবল দল। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও ইনজুরি বা চোট দল গঠনে বড় প্রভাব ফেলে। আর সেই ইনজুরির কারণেই এবার মরক্কোর মূল দল থেকে ছিটকে গেছেন দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা খেলোয়াড়। যার ফলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দলে দুটি বড় পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে মরক্কোকে। জানা গেছে, সম্প্রতি নরওয়ের বিরুদ্ধে খেলা একটি প্রীতি ম্যাচে হাঁটুর মারাত্মক ইনজুরিতে পড়েন রিয়াল বেটিসের তারকা ফরোয়ার্ড আবদে এজালজুলি। তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর তার পরিবর্তে জরুরি ভিত্তিতে মরক্কো দলে ডাক পেয়েছেন এ্যাঙ্গার্সের তরুণ ফুটবলার আমিনে সাবাই। অন্যদিকে, উরুর অস্ত্রোপচারের কারণে গত মার্চ মাসের পর থেকে আর কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ বা মাঠে নামতে পারেননি মার্সেইর অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক নায়েফ অগার্ড। দলের এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারকে নিয়ে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কোনো ধরনের বাড়তি ঝুঁকি নিতে চায়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। যে কারণে মূল টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই অগার্ডের পরিবর্তে দলে ডেকে নেওয়া হয়েছে মারওয়ানে সাদানেকে। দলের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বা খেলোয়াড়দের চোটের বিষয়ে অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমি ইনজুরি আক্রান্ত দুই সতীর্থের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। পিএসজি তারকা হাকিমি তার ব্যক্তিগত পোস্টে লিখেছেন, ফুটবল খেলাটা অনেক সময় সত্যিই ভীষণ নিষ্ঠুর হতে পারে। প্রথম দিন থেকে তোমরা এই দলটিকে যা দিয়েছো, তার জন্য তোমাদের দুজনকে অনেক ধন্যবাদ। মাঠে আমরা সবাই তোমাদের জন্য লড়াই করব এবং জয় ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করব। আমরা তোমাদের দুজনকে অনেক ভালোবাসি। উল্লেখ্য, আগামী রোববার (১৪ জুন) ভোররাত চারটায় গ্রুপ-সি’র প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচে নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও ব্রাজিল। ২৪ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়ে হেক্সা তথা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মরক্কো এই নতুন দল নিয়ে কেমন প্রতিরোধ গড়ে তোলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিশ্বকাপে দীর্ঘ চব্বিশ বছরের ট্রফি খরা কাটানোর অভিযানে শুরুতেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে নামবে তারা। তবে এই কঠিন পরীক্ষার ম্যাচে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ফুটবলার নেইমারকে পাচ্ছে না পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। খেলাটি বাংলাদেশ সময় আগামী রবিবার ভোর চারটায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত এই ম্যাচের আগে ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের না খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আসন্ন প্রথম ম্যাচে নেইমারকে পাওয়া নিয়ে অবশ্য আগে থেকেই বড় ধরণের শঙ্কা ছিল। ৩৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরে পায়ের পেশির চোটে ভুগছেন। এই চোটের কারণে তিনি এখনও দলের সাথে পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। কোচ আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার আগামী সপ্তাহে দলের সাথে নতুন করে অনুশীলন শুরু করবেন। যার অর্থ দাঁড়ায়, আগামী ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেও তার মাঠে নামা নিয়ে বড় ধরণের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ব্রাজিল আগামী ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ করবে। সংবাদ সম্মেলনে কোচ আনচেলত্তি বলেন, নেইমার দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাকে দলে নেওয়ার কারণ কেবল তার টেকনিক্যাল দক্ষতা নয়, বরং তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ তৈরি করার ক্ষমতাও এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পর থেকে ব্রাজিলের জাতীয় দলে আর মাঠে নামেননি নেইমার। তবে এবারের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে তার ওপর আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাকে দলে জায়গা দিতে গিয়ে চেলসির জোয়াও পেদ্রো এবং টটেনহ্যামের রিচার্লিসনের মতো তারকাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের মালিক নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে তিনি এ পর্যন্ত ১২৮টি ম্যাচ খেলে মোট ৭৯টি গোল করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ফুটবল কিংবদন্তি পেলের করা ৭৭ গোলের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছেন। সান্তোসের সাবেক এই ফরোয়ার্ডের সামনে এবার চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ রয়েছে। এর আগে তিনি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। এবার চোট কাটিয়ে তিনি কত দ্রুত মাঠে ফিরতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা চার বছর আগে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। এবারও শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। অন্যদিকে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। দলের অভিজ্ঞ তারকা Neymarকে ছাড়াই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে হচ্ছে সেলেসাওদের। ফলে আক্রমণভাগে দায়িত্ব আরও বেশি করে এসে পড়েছে Vinícius Júniorর কাঁধে। তবে মরক্কোর অধিনায়ক Achraf Hakimi জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রাজিলিয়ান তারকাকে সামলাতে তিনি প্রস্তুত। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাকিমি বলেন, ভিনিসিয়ুসের সামর্থ্য সম্পর্কে তাদের কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় এবং ক্লাব ফুটবলে একাধিকবার তার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। মরক্কো অধিনায়কের ভাষায়, ভিনিসিয়ুস একজন অসাধারণ ফুটবলার, তবে তাকে ঠেকানোর প্রস্তুতি নিয়েই তারা মাঠে নামবেন। হাকিমি বলেন, "ভিনিসিয়ুস কী ধরনের খেলোয়াড়, সেটা আমরা সবাই জানি। তার বিরুদ্ধে আমি বেশ কয়েকবার খেলেছি। সে দুর্দান্ত একজন ফুটবলার। তবে আমি তার জন্য প্রস্তুত আছি। আশা করছি আমরা ভালো পারফরম্যান্স করতে পারব।" বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের বিপক্ষে খেলতে নামলেও নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবে দেখতে রাজি নন মরক্কোর অধিনায়ক। ২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার ইতিহাস গড়া মরক্কো এবারও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখছে। হাকিমির মতে, বিশ্বকাপের মতো আসরে শুধু নাম বা অতীতের সাফল্য কোনো ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে না। মাঠের লড়াইয়ে দুই দলই সমান সুযোগ নিয়ে নামে এবং সেদিনের পারফরম্যান্সই পার্থক্য গড়ে দেয়। তিনি বলেন, "বিশ্বকাপে ফেভারিট বলে কিছু নেই। আমরা দুই দলের সামর্থ্যই জানি। এটি সমানে-সমানে একটি ম্যাচ হবে। আশা করি ভাগ্য আমাদের পক্ষে থাকবে এবং আমরা নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারব।" এই ম্যাচের আরেকটি আকর্ষণ হতে যাচ্ছে হাকিমি ও ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। ক্লাব ফুটবলে তারা বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন। Paris Saint-Germainর হয়ে হাকিমি এবং Real Madridর হয়ে ভিনিসিয়ুস ইউরোপের বড় মঞ্চে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে শুরু করে ক্লাব বিশ্বকাপ, নানা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই দুই তারকার লড়াই দর্শকদের নজর কেড়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ক্লাব নয়, জাতীয় দলের জার্সিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। একদিকে ব্রাজিলের আক্রমণের প্রধান ভরসা ভিনিসিয়ুস, অন্যদিকে মরক্কোর রক্ষণভাগের নেতা হাকিমি। ফলে ম্যাচের ফল নির্ধারণে এই ব্যক্তিগত লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুসের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে মরক্কোর রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেওয়া হাকিমির জন্যও এটি হতে যাচ্ছে বড় পরীক্ষা। বিশ্বকাপের শুরুতেই তাই দুই তারকার এই দ্বৈরথ নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।