অতীতের শারীরিক সম্পর্কের স্মৃতি মুছে ফেলে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে এক অভিনব পথে হাঁটছেন নারীরা। ১৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে নিজেদের 'বডি কাউন্ট' শূন্যে নামিয়ে আনার এক বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণ করতে তারা ছুটে যাচ্ছেন সুদূর ব্রাজিলে। সেখানে তথাকথিত এক 'বডি কাউন্ট রিকভারি সেন্টার' নারীদের আধ্যাত্মিকভাবে শুদ্ধ করার এই ব্যয়বহুল ও অদ্ভুত সুযোগ দিচ্ছে।
এই বিশেষ চিকিৎসায় বেশ কিছু আধ্যাত্মিক আচার ও রীতিনীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেন্টারটির কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীরা তাদের অতীতের সঙ্গীদের এনার্জি বা মানসিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে অংশ নেওয়া নারীরা নিজেদের পুনরুজ্জীবিত এবং বিশুদ্ধ অনুভব করেন। মূলত, অতীত সম্পর্কের সমস্ত মানসিক ও আধ্যাত্মিক ছাপ মুছে ফেলে তাদের 'বডি কাউন্ট' বা শারীরিক সম্পর্কের সংখ্যা পুনরায় শূন্যে ফিরিয়ে আনাই এই থেরাপির প্রধান লক্ষ্য।
১৩ হাজার ডলারের এই বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে সেন্টারটি নারীদের একটি পরিপূর্ণ 'স্পিরিচুয়াল রিসেট' বা আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অতীত সম্পর্কের গ্লানি বা স্মৃতি চুকিয়ে যারা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ নতুন এক জীবন শুরু করতে চাইছেন, তাদের কাছে বিপুল খরচের এই থেরাপি এখন ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এবার চরম দুঃসংবাদ নিয়ে আসছে ব্রিটিশ সরকার। প্রস্তাবিত নতুন ও কঠোর অভিবাসন আইন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্র পরিচালিত আবাসন ও থাকা-খাওয়ার খরচের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বা ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ না করলে তারা দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের (সেটেলমেন্ট) অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ-সংক্রান্ত নতুন ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল’ উত্থাপনের কথা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা নতুন এই আয়ভিত্তিক পরিশোধ ব্যবস্থাকে অনেকটা শিক্ষা ঋণ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন বা দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা অসহায় মানুষদের ওপর এটি কার্যত এক ধরনের অতিরিক্ত কর বা বোঝা চাপানোর শামিল। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তার পেছনে সরকারের বছরে প্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হচ্ছে। তিনি বলেন, আশ্রয় পাওয়া যেমন একটি অধিকার, তেমনি এটি একটি দায়িত্বও। মানুষ যখন আয় করতে সক্ষম হবে, তখন ব্রিটিশ জনগণের উদারতার প্রতিদান হিসেবে তাদের কাছ থেকে সরকার এই আর্থিক অবদান প্রত্যাশা করে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ আর্থিকভাবে খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন জানান, তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী পাঁচ বছর আগে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশের বার্ষিক আয় ২০ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি। তাই খুব অল্পসংখ্যক মানুষই এই অর্থ পরিশোধের মতো আয়ের স্তরে পৌঁছাতে পারবেন। উল্টো এই নিয়মের কারণে অনেকেই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে না থেকে বিকল্প বাসস্থানের পথ খুঁজতে পারেন এবং বেশি কর দেওয়ার ভয়ে বৈধভাবে কাজ করার প্রতি নিরুৎসাহিত হতে পারেন। হোম অফিস জানিয়েছে, আয়সীমাসহ বিস্তারিত বিষয়গুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিমালায় চূড়ান্ত করা হবে। প্রস্তাবিত এই বিলে শুধু অর্থ পরিশোধের নিয়মই নয়, বরং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ যুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৮-এর প্রয়োগ, অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং ‘আধুনিক দাসত্ব’ বা মডার্ন স্লেভারি-সংক্রান্ত আইনি কাঠামো সংশোধনের পরিকল্পনাও এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি যে আগামীতে নজিরবিহীন কঠোর হতে যাচ্ছে, তা এই নতুন বিল থেকেই স্পষ্ট।
স্পেনের বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ মো. মেহেদী হাসান 'ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬'-এ সম্মানজনক ‘রাইজিং স্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছেন। লন্ডনের ওয়ান মরগেট প্লেসে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। একই বছর তিনি প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘ডিরেক্টর অব দ্য ইয়ার’ বিভাগেও অন্যতম ফাইনালিস্ট হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। মেহেদী হাসানের মূল বাড়ি নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে হলেও তিনি ঢাকার দক্ষিণখানে বেড়ে উঠেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সফটওয়্যার প্রকৌশলের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তার পেশাজীবন শুরু করেন। এরপর ব্যবসায়িক দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি স্পেনের একটি নামী বিজনেস স্কুল থেকে উচ্চতর এমবিএ ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশে থাকাকালে মেহেদী হাসান বিশ্বব্যাংক ও গ্রামীণফোনে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তিনি স্থায়ীভাবে স্পেনে পাড়ি জমান। ২০২২ সালে একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিখ্যাত ফোর্বস টেকনোলজি কাউন্সিলে যোগদানের বিরল আমন্ত্রণ পান। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কাজ করার পাশাপাশি ছয়টি মহাদেশের ৬০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণের এক দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০২৪ সালের শেষ দিকে মেহেদী হাসান প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে 'হাসটি লিমিটেড' নামক প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। সেখানে তার দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়, যার চালিকাশক্তি ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। এই বিশেষ প্রকল্পের ৬০ শতাংশের বেশি কোড এআই দিয়ে তৈরি করার ফলে সফটওয়্যারটি তৈরির সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক কমে আসে। প্রযুক্তি খাতে মেধার এমন অনন্য ও যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এই বছর ইউরোপীয় আসরে সেরা উদীয়মান তারকা নির্বাচিত হন। ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস মূলত পুরো মহাদেশজুড়ে জমা পড়া শত শত আবেদন থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে মোট ২৩টি বিশেষ বিভাগে কয়েকজনকে চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচন করে। বিখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ফিনটেক ইন্টেল’ প্রতি বছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আয়োজন ও পরিচালনা করে থাকে। এবারের আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলে সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র এবং হাঙ্গেরিসহ ১০টিরও বেশি দেশের জাতীয় ফিনটেক সংস্থার শীর্ষস্থানীয় নেতারা যুক্ত ছিলেন।
গবেষণাগারে জীবন্ত মানব নিউরন বা স্নায়ুকোষ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে একটি কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করেছে ইরান। মানুষের মস্তিষ্কের মতোই নিজে নিজে নতুন তথ্য শিখতে সক্ষম এই নিউরাল নেটওয়ার্ক। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে উদীয়মান 'অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স' (ওআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক দৌড়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। ইরানের কগনিটিভ সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস ডেভেলপমেন্ট টাস্কফোর্সের সেক্রেটারি আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী মেহর নিউজ এজেন্সিকে জানান, মানবদেহের বাইরে স্নায়ুকোষ কৃত্রিম উপায়ে বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ করার সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করেছে ইরান। শরীরের বাইরেও এই কোষগুলো মানুষের স্বাভাবিক মস্তিষ্কের মতোই সিন্যাপস তৈরি করতে পারছে এবং নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী বলেন, এটি মূলত মানুষের মস্তিষ্কের কোষের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রজন্মের কম্পিউটার প্রসেসর তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি। ইরানের একটি নলেজ-বেজড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির একটি পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গেই ইরান সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন এই প্রযুক্তির দুটি যুগান্তকারী সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি প্রসেসিং বা তথ্য বিশ্লেষণের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রচলিত সিলিকন চিপের তুলনায় এর বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার প্রায় ১০ লাখ গুণ কম। এই দুটি অনন্য সুবিধার কারণে সিলিকন চিপের বিকল্প হিসেবে কোষ-ভিত্তিক প্রসেসরের দিকে ঝুঁকে পড়া এখন বিশ্বব্যাপী প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বে 'অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স' বা জৈবিক প্রক্রিয়াকরণ মূলত এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে জীবন্ত মানব নিউরন ব্যবহার করে চিপ তৈরি করা হয়। এটি মানুষের মস্তিষ্কের অবিশ্বাস্য রকমের কম শক্তি খরচ করার অসাধারণ প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে হুবহু অনুকরণ করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উচ্চ বিদ্যুৎ খরচের বিকল্প হিসেবে এই জৈবিক চিপের সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিকীকরণের পর্যায়ে যেতে অবশ্য এখনো কিছুটা সময় লাগবে।