- প্রচ্ছদ
- Topic
মেডিকেয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ও হিউমানা ২০২৭ সালের জন্য তাদের কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার গ্রাহক প্রভাবিত হতে পারেন। এর মধ্যে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং হিউমানার প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক রয়েছেন। আগামী বছর থেকে তাঁদের বর্তমান বিমা পরিকল্পনা আর কার্যকর থাকবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা সরকারি মেডিকেয়ার সুবিধা হারাবেন। তাঁদের নতুন বিমা পরিকল্পনা বেছে নিতে হবে অথবা প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিকল্প বিবেচনা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইক ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিমা সুবিধা ব্যবহারের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করছে। ইউনাইটেড হেলথকেয়ার জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে বিমা কার্যক্রম টেকসই রাখার লক্ষ্যেই ২০২৭ সালের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বজায় রাখার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, হিউমানা জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে প্রভাবিত অধিকাংশ গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির অন্য কোনো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই পরিবর্তনের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের মেডিকেয়ার বিমার বার্ষিক নিবন্ধন ও পরিকল্পনা পরিবর্তনের সময় চলছে। ১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সময়সীমা শেষ হবে ৭ ডিসেম্বর। এ সময় গ্রাহকেরা নিজেদের বর্তমান বিমার সুবিধা পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নিতে পারবেন। বন্ধ হতে যাওয়া পরিকল্পনাগুলো ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং নতুন পরিকল্পনা সাধারণত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তাই যাঁদের বিমা পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মেডিকেয়ার কর্মসূচির অধীনে বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্ক, ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের খরচ এবং কখনো কখনো দাঁত ও চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে পরিকল্পনাভেদে এসব সুবিধা ও খরচের পার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় গেলে গ্রাহকদের চিকিৎসক বা হাসপাতাল বদলাতে হতে পারে, ওষুধের আওতা পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা নিজের পকেট থেকে খরচ বাড়তে পারে। ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের পরিবর্তন মূলত পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও চিকিৎসা নেওয়ার তুলনামূলক বেশি সুযোগ দেওয়া পিপিও পরিকল্পনাগুলোকে কেন্দ্র করে। অন্যদিকে, হিউমানা কম লাভজনক কিছু পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের প্রধান সেলেস্তে মেলেট আগে জানিয়েছিলেন, প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন, যা তাদের মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ গ্রাহকের প্রায় ৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রভাবিত গ্রাহকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে নিজেদের অন্য পরিকল্পনায় ধরে রাখার চেষ্টা করবে। স্বাস্থ্যবিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ব্যয় ও ওষুধের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনার সংখ্যা কমাচ্ছে, কিছু অতিরিক্ত সুবিধা সীমিত করছে এবং গ্রাহকদের নিজস্ব খরচের অংশ বাড়াচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালেও দেশের ৯৯ শতাংশের বেশি মেডিকেয়ার গ্রাহকের অন্তত একটি মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় প্রবেশের সুযোগ থাকবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ ব্যবস্থায় গড় মাসিক প্রিমিয়াম ২০২৬ সালের ১৪ দশমিক ৩৭ ডলার থেকে ২০২৭ সালে ১২ ডলারে নেমে আসতে পারে। যাঁদের বর্তমান পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের চিকিৎসক, হাসপাতাল, ওষুধের আওতা, মাসিক প্রিমিয়াম এবং চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে দিতে হবে এমন অর্থের পরিমাণ তুলনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ নতুন মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যেতে পারেন, আবার কেউ প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে গিয়ে আলাদা ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের বিমা নিতে পারেন। কোন বিকল্পটি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজন ও আর্থিক সামর্থ্যের ওপর। সূত্র: নিউজউইক, সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বিচার বিভাগ। তাঁদের মধ্যে ছয়জন চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঘোষিত অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো মাদকাসক্তির চিকিৎসাকেন্দ্র, রক্তনালির চিকিৎসা, জীবনাবসান পর্যায়ের রোগীদের সেবাকেন্দ্র বা হসপিস এবং ফার্মেসির বিলসংক্রান্ত কয়েকটি পৃথক মামলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মামলায় ভুয়া মাদকাসক্তি চিকিৎসার নামে বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানে ১৬০ কোটি ডলারের বেশি বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে গৃহহীন ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্ন স্থান থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আনার অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, যাতায়াত, থাকার জায়গা, অর্থ ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের আনা হতো। পরে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়েও বিমা প্রতিষ্ঠানে সেবার বিল পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট আরেক মামলায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ায় সহায়তার অভিযোগ স্বীকার করেছেন এক ব্যক্তি। পৃথক মামলায় একজন সার্জন ও একজন কাইরোপ্র্যাক্টরের বিরুদ্ধে রোগীদের প্রয়োজন ছাড়াই রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করিয়ে মেডিকেয়ারে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগের দাবি, এসব অস্ত্রোপচারে কিছু রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া তিনটি হসপিস সেবাসংক্রান্ত মামলায় মোট ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি ভুয়া বিলের অভিযোগ রয়েছে। আরেকটি মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিকেইড কর্মসূচি ‘মেডি-ক্যাল’-এ প্রায় ২৭ কোটি ডলারের ভুয়া ওষুধের বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে আগে অভিযুক্ত এক নারীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ; ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেস।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা আর দেবে না ব্লু ক্রস অ্যান্ড ব্লু শিল্ড অব টেক্সাস। প্রতিষ্ঠানটির এ সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে এসব পরিকল্পনার আওতায় থাকা গ্রাহকদের নতুন বিমা বেছে নিতে হবে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের পরিকল্পনা বছরে তাদের এসব বিমা আর চালু থাকবে না। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বন্ধ হতে যাওয়া পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্লু ক্রস মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ, ব্লু ক্রস মেডিকেয়ারআরএক্স প্রেসক্রিপশন ড্রাগ প্ল্যান এবং ব্লু ক্রস মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ ডুয়াল কেয়ার প্লাস এইচএমও বিশেষ পরিকল্পনা। এসব পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকদের ২ অক্টোবরের আগেই ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। চিঠিতে বিকল্প বিমা বেছে নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যও দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির ভাষ্য, বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে নিজেদের মেডিকেয়ার পণ্য ও বাজারের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে। কোন পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখা সম্ভব, তা বিবেচনা করেই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্লু ক্রস অ্যান্ড ব্লু শিল্ড অব টেক্সাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাজারে তারা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ারের বার্ষিক উন্মুক্ত নিবন্ধনপর্ব চলছে ১৫ অক্টোবর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময় গ্রাহকেরা ২০২৭ সালের জন্য নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে অন্য পরিকল্পনায় যেতে পারবেন। এ সময়ে করা পরিবর্তন কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মেডিকেয়ার কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা। এতে সাধারণত মেডিকেয়ারের আওতাভুক্ত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দাঁত, চোখ ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের মতো অতিরিক্ত সুবিধাও থাকতে পারে। তবে সুবিধা, খরচ এবং চিকিৎসক বা হাসপাতালের নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাভেদে আলাদা হয়। যেসব গ্রাহকের বর্তমান পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাঁদের বিকল্প বিমা বেছে নেওয়ার আগে সুবিধা, খরচ এবং নিজেদের চিকিৎসকের সঙ্গে পরিকল্পনার সামঞ্জস্য যাচাই করা উচিত। প্রয়োজন হলে তাঁরা মেডিকেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, লাইসেন্সধারী বিমা পরামর্শকের সহায়তা নিতে পারেন অথবা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরামর্শকেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সূত্র: ব্লু ক্রস অ্যান্ড ব্লু শিল্ড অব টেক্সাস, ফক্স ২৬ হিউস্টন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ ও যোগ্য ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের জন্য বিমা পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার এই সময়ে ওষুধের খরচ, মাসিক প্রিমিয়াম এবং নিজস্ব পকেট থেকে দেওয়া অর্থের সীমায় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেডিকেয়ারের পার্ট ডি কর্মসূচির আওতায় ওষুধ কেনা ব্যক্তিদের কারও কারও ব্যয় বাড়তে পারে। তবে সব গ্রাহকের খরচ বাড়বে না। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অনেক গ্রাহকের প্রিমিয়ামে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। তাই নিবন্ধনের সময় নিজের ওষুধের তালিকা, চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক এবং পরিকল্পনার খরচ তুলনা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন ১৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে গ্রাহকেরা প্রচলিত মেডিকেয়ার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের বিমা পরিকল্পনার মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারবেন। এ সময়ে নির্বাচিত নতুন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ফলে বর্তমান পরিকল্পনায় থাকা ব্যক্তিদেরও পরবর্তী বছরের প্রিমিয়াম, ওষুধের আওতা এবং অন্যান্য খরচ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেডিকেয়ারের পার্ট ডি কর্মসূচিতে ওষুধের জন্য নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয়ের বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ২০২৬ সালের ২ হাজার ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে ২ হাজার ৪০০ ডলার হচ্ছে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির সাধারণ বাৎসরিক কর্তনযোগ্য অর্থের পরিমাণ ৬১৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭০০ ডলার হবে। কর্তনযোগ্য অর্থ হলো সেই পরিমাণ, যা বিমা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সুবিধা কার্যকর হওয়ার আগে গ্রাহককে নিজের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হয়। ফলে যাঁদের নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়, তাঁদের জন্য পরিকল্পনার শর্তগুলো ভালোভাবে বোঝা জরুরি। ২০২৭ সালে কিছু জনপ্রিয় ওষুধের বিমা পরিকল্পনায় মাসিক প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এএআরপি ব্র্যান্ডের ইউনাইটেডের পার্ট ডি পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকেরা পরিকল্পনা পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই মাসে অন্তত ৫০ ডলার অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের মুখে পড়তে পারেন। এর মধ্যে ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে মাসিক বৃদ্ধি ৭৫ ডলারের বেশি হতে পারে এবং চারটি অঙ্গরাজ্যে তা ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। এএআরপি মেডিকেয়ার আরএক্স সেভার পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ৩৩টি অঙ্গরাজ্যে মাসিক প্রিমিয়াম অন্তত ৫০ ডলার বাড়তে পারে। দুটি পরিকল্পনা মিলিয়ে গ্রাহকসংখ্যা ২০ লাখের বেশি। তবে কেএফএফ জানিয়েছে, পার্ট ডির অধিকাংশ গ্রাহক প্রিমিয়ামের পরিবর্তনে একই মাত্রায় প্রভাবিত হবেন না এবং অনেকের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নাও ঘটতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প পরিকল্পনা থাকলেও অনেক গ্রাহক নিবন্ধনের সময় অন্য পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনা করেন না বা পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন না। এএআরপির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা ন্যান্সি লিমন্ড বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় বয়স্ক মার্কিনিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, খরচ ও বিমার আওতা প্রতিবছর বদলানোর কারণে বিকল্পগুলো যাচাই করে নিজের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা বেছে নেওয়া আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেয়ারের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত নতুন দামে ১৫টি ওষুধ পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওজেম্পিক, রাইবেলসাস ও ওয়েগোভির পাশাপাশি ট্রেলেজি এলিপ্টা, এক্সটান্ডি, পোমালিস্ট, আইব্র্যান্স, ওফেভ, লিনজেস, ক্যালকুয়েন্স, অস্টেডো, ব্রিও এলিপ্টা, ট্রাডজেন্টা, জিফ্যাক্সান, ভ্রেলার, জানুমেট ও ওটেজলার মতো ওষুধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, নতুন মূল্যব্যবস্থার ফলে ২০২৭ সালে মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ব্যয় প্রায় ৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমতে পারে। প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচে পরিবর্তন আসায় নিবন্ধনের সময় শুধু মাসিক কিস্তি দেখে পরিকল্পনা বেছে না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞরা। কোন ওষুধ বিমার আওতায় রয়েছে, ওষুধের জন্য কত টাকা দিতে হবে, বার্ষিক ব্যয়ের সীমা কত এবং চিকিৎসক বা ফার্মেসি পরিকল্পনার নেটওয়ার্কে রয়েছে কি না, সেগুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে পরিবর্তন করা গেলে নতুন সুবিধা বা খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব। নতুন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, কেএফএফ ও ফক্সের স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার খরচ সামাল দিতে নির্দিষ্ট কিছু প্রবীণ ও অন্যান্য যোগ্য গ্রাহক এককালীন ৯০ ডলারের ফেরত পাচ্ছেন। মার্কিন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে। তবে এই অর্থ সবার জন্য নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর প্রায় ২০.৮ মিলিয়ন গ্রাহক নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। যাঁদের মেডিকেড থেকে প্রিমিয়াম দেওয়া হয় অথবা যাঁরা আয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন, তাঁরা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা গ্রাহকেরাও এই নির্দিষ্ট ফেরতের যোগ্য নন। যোগ্য ব্যক্তিদের অধিকাংশের অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা। যাঁদের সরাসরি জমার ব্যবস্থা নেই, তাঁদের নিবন্ধিত ঠিকানায় চেক পাঠানো হতে পারে। টাকা না পেলে বা নিজের যোগ্যতা যাচাই করতে চাইলে মেডিকেয়ারের সরকারি নম্বর ১-৮০০-৬৩৩-৪২২৭-এ যোগাযোগ করা যায়। অর্থের অবস্থা জানতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সঙ্গে ১৫ অক্টোবর থেকে যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের সতর্ক থাকতে হবে—এই অর্থ পাওয়ার নামে কেউ ফোন করে ব্যাংক পাসওয়ার্ড, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর বা অর্থ দাবি করলে তা দেবেন না। ব্যক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করুন।
যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থের উদ্দেশ্য হলো যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি চিকিৎসাবিমার নির্দিষ্ট মাসিক খরচ মেটাতে সহায়তা করা। কর্মসূচিটির মোট ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি ডলার। তবে দেশটির মোট ৬ কোটি ৪২ লাখ মেডিকেয়ারভুক্ত মানুষের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য। এই সহায়তা মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা প্রচলিত মেডিকেয়ার কর্মসূচির ‘পার্ট বি’ অংশের আওতায় রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন এবং নির্দিষ্ট অতিরিক্ত সহায়তা বা আয়ভিত্তিক বাড়তি মাসিক প্রিমিয়াম দেন না। ‘পার্ট বি’ সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার মতো চিকিৎসাব্যয়ের অংশবিশেষ বহন করে। এই কর্মসূচির মাসিক খরচ সাধারণত প্রায় ২০০ ডলার থেকে শুরু হয়; ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হতে পারে। যাঁরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ’ পরিকল্পনায় যুক্ত, তাঁরা এই এককালীন অর্থ পাবেন না। কম আয়ের যেসব প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অন্য সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে ইতিমধ্যে তাঁদের চিকিৎসাবিমার মাসিক খরচে সহায়তা পান, তাঁরাও এই অর্থের বাইরে থাকবেন। এ ছাড়া আয়ভিত্তিক বাড়তি মাসিক প্রিমিয়াম প্রদানকারী নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাও যোগ্য নন। ফলে শুধু মেডিকেয়ার কার্ড থাকলেই ৯০ ডলার পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিদের অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়ার কথা। অধিকাংশ যোগ্য ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে; অন্যদের কাছে অক্টোবরের পরবর্তী সময়ে ডাকযোগে সরকারি চেক পৌঁছানোর কথা। অর্থ পাঠানোর সময়সূচি ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। এই সহায়তার অর্থ আসছে কংগ্রেসের তৈরি মেডিকেয়ার উন্নয়ন তহবিল থেকে। তহবিলটি মূলত সরকারি চিকিৎসাবিমা কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসনের সময়ে এই তহবিল থেকে সরাসরি সুবিধাভোগীদের অর্থ দেওয়ার ঘটনা প্রথম বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে এককালীন অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসাব্যয়ের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের তুলনায় ৯০ ডলারের সহায়তা সীমিত। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য হলো, যোগ্য মানুষকে সরাসরি অর্থ দিলে তাঁদের চিকিৎসাবিমার খরচ মেটাতে কিছুটা সুবিধা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁদের চিকিৎসাবিমার ধরন যাচাই করা। পরিবারের কেউ মেডিকেয়ারভুক্ত হলে তিনি প্রচলিত কর্মসূচির আওতায় আছেন, নাকি বেসরকারি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনায় যুক্ত—তা জানা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি অন্য কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা পান কি না, সেটিও যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অর্থ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরকারি মেডিকেয়ার সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। অর্থ পাওয়ার আশায় অপরিচিত কাউকে ব্যাংক হিসাবের গোপন তথ্য, পাসওয়ার্ড বা পরিচয়সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া উচিত নয়। এই অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা আবেদন প্রয়োজন নেই বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে; তাই অর্থ ছাড়ের নামে কেউ টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সতর্ক থাকা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য প্রবীণদের জন্য এককালীন ৯০ ডলারের সহায়তা চিকিৎসাবিমার খরচে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু এই অর্থ সবার জন্য নয় এবং এটি নিয়মিত মাসিক ভাতা নয়। তাই খবরটি দেখেই অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা ধরে না নিয়ে নিজের চিকিৎসাবিমার ধরন ও যোগ্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান, ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন—সব মিলিয়ে দেশটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সরব হয়ে কংগ্রেসের কাছে ঋণসংকট মোকাবিলার দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন ফক্স নিউজের এক মতামত লেখক। লেখাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিকে একটি জ্বলন্ত বাড়ির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। লেখকের বক্তব্য, বাড়িতে আগুন লাগলে সন্তানদের বিপদের মুখে রেখে কেউ অসহায়ভাবে বসে থাকে না। একইভাবে জাতীয় ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চাপ তৈরি করার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। লেখকের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ নিয়ে সতর্কবার্তা শুনতে শুনতে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার কেউ মনে করেন, একজন সাধারণ নাগরিকের পক্ষে এত বড় সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হলেও ক্রমাগত ঋণ বৃদ্ধি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সমস্যাটির গুরুত্ব শুধু ঋণের বিশাল অঙ্কে নয়, বরং যে হারে ঋণ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে তা সামাল দিতে সরকারকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, সেখানেও। ঋণের সুদ বাড়াচ্ছে সরকারের আর্থিক চাপ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি বছর রাজস্বের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে বড় বাজেট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সরকারের আয় ও ব্যয়ের এই ব্যবধান মেটাতে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে, যার ফলে ঋণের মোট পরিমাণ আরও বাড়ছে। ঋণের সুদ পরিশোধও সরকারের ব্যয়ের বড় একটি অংশ হয়ে উঠেছে। বছরে এ খাতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে মতামত লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যয় কেন্দ্রীয় সরকারের মোট রাজস্বের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি। অর্থাৎ জনগণের কাছ থেকে কর হিসেবে সংগ্রহ করা অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশই ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের বাজেট পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে জনগণের হাতে থাকা কেন্দ্রীয় ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০১ শতাংশের সমান হতে পারে। বর্তমান আইন ও নীতির ভিত্তিতে করা দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে ২০৩৬ সালে এই অনুপাত ১২০ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। লেখকের আশঙ্কা, ঋণ বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হতে পারে। তখন সরকারকে ঋণ নিতে আরও বেশি সুদ দিতে হতে পারে, যা বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে। তবে এমন আর্থিক সংকট অবশ্যম্ভাবী বা আসন্ন—এমন সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি। এটি ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সম্পর্কে লেখকের সতর্কতা। সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বয়স্ক নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা মেডিকেয়ারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লেখক। তাঁর মতে, এসব কর্মসূচির ভবিষ্যৎ ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি রয়েছে, অথচ সেই ব্যবধান কমানোর কোনো কার্যকর সমাধান এখনো নিশ্চিত হয়নি। ২০২৬ সালের একটি বাজেট পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তার অবসর ও উত্তরাধিকারী সুবিধা তহবিলের অর্থ ২০৩২ অর্থবছরে শেষ হয়ে যেতে পারে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, তখন তহবিলের নিজস্ব আয় দিয়ে সব নির্ধারিত সুবিধা পরিশোধ করা সম্ভব না হলে সুবিধার পরিমাণ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে যাওয়া মানেই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এরপরও করসহ নির্ধারিত উৎস থেকে অর্থ আসতে থাকবে। কিন্তু সেই অর্থ দিয়ে সব প্রতিশ্রুত সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন। লেখকের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সমস্যার সমাধান না হলে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ও ভবিষ্যতে এসব সুবিধার ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। তাই সংকট আরও গভীর হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সমাধানে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কারের আহ্বান লেখকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণসংকট মোকাবিলার সহজ কোনো পথ নেই। সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাজেট ঘাটতি কমানো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সংস্কার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব সিদ্ধান্তের কিছু অংশ ভোটারদের কাছে অজনপ্রিয় হতে পারে। তবু দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন। তাঁর যুক্তি, এখন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। বিপরীতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মানুষের সঞ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি পূরণে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঋণ কমানোর উপায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ সরকারি ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেন, আবার কেউ রাজস্ব বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের পক্ষে মত দেন। ফলে কোন খাতে ব্যয় কমানো হবে, কোন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসবে এবং রাজস্ব কীভাবে বাড়ানো হবে—এসব বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব লেখাটির শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। লেখকের মতে, অর্থনীতিবিদদের প্রতিবেদন প্রকাশ কিংবা প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের মাধ্যমে একা এই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং জনগণ যখন ঋণসংকটের গুরুত্ব বুঝে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহি চাইবে, তখনই কংগ্রেসের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, একজন নাগরিকের কণ্ঠস্বর হয়তো একা ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না। কিন্তু লাখো নাগরিক একই দাবিতে সোচ্চার হলে তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। সবশেষে লেখক সতর্ক করেছেন, বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব শুধু নিজেদের সময়ের অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করা নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি রেখে যাওয়া। তাঁর মতে, ঋণের বোঝা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে দেরি হলে তার মূল্য পরবর্তী প্রজন্মকে দিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের একাংশকে এককালীন ৯০ ডলারের প্রিমিয়াম রিবেট দেওয়া শুরু হয়েছে। মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর প্রিমিয়াম পরিশোধে সহায়তা করতে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস সেন্টার (সিএমএস) জানিয়েছে, যোগ্য প্রায় ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ অক্টোবর ২০২৬-এ এই অর্থ পাবেন। সব মিলিয়ে এই কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। তবে মেডিকেয়ারের মোট সুবিধাভোগীদের বড় একটি অংশ এই অর্থ থেকে বাদ পড়ছেন। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এই রিবেট পাবেন না। একইভাবে মেডিকেইডের মাধ্যমে প্রিমিয়াম সহায়তা পাওয়া নিম্নআয়ের বয়স্ক মানুষ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও এই অর্থ দেওয়া হবে না। ফলে মেডিকেয়ারের মোট প্রায় ৬৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুবিধাভোগীর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম মানুষ এই এককালীন অর্থ পাওয়ার যোগ্য হচ্ছেন। সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী Original Medicare Part B-এর ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন সুবিধাভোগী এই অর্থ পাবেন, যদি তারা মেডিকেইড থেকে প্রিমিয়াম সহায়তা না পান এবং আয়ভিত্তিক অতিরিক্ত মাসিক প্রিমিয়ামও পরিশোধ না করেন। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা ব্যক্তিরা এই কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। পার্ট বি সাধারণত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও অন্যান্য বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা ব্যয়ের মতো সেবা কাভার করে। যোগ্য সুবিধাভোগীদের অধিকাংশের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ৯০ ডলার জমা হবে। সিএমএস জানিয়েছে, বেশিরভাগ অর্থ ৮ অক্টোবরের আশপাশে সরাসরি জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। যাদের সরাসরি অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা নেই, তাদের অক্টোবরের পরের দিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে ডাকযোগে কাগজের চেক পাঠানো হবে। সুবিধাভোগীদের আলাদাভাবে আবেদন বা নিবন্ধন করতে হবে না, অর্থাৎ যোগ্যতা থাকলে অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পাওয়ার কথা। এই অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ২০০৮ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে গঠিত Medicare Improvement Fund। মূলত Original Medicare-এর ফি-ভিত্তিক সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য এই তহবিল তৈরি করা হয়েছিল। সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে বিভিন্ন আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই তহবিল থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে এই তহবিল থেকে প্রায় ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ওবামাকেয়ার বাস্তবায়নের ব্যয়ে ব্যবহার করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এবারের অর্থ সরাসরি মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছে দিয়ে তাদের স্বাস্থ্যসেবার খরচ কিছুটা কমানোই উদ্দেশ্য। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমেরিকানদের নিজেদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার পাশাপাশি মেডিকেয়ার রোগীদের হাতে সরাসরি অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে মেডিকেয়ারকে আরও সাশ্রয়ী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অর্থ বিতরণকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। সিনেটের অর্থ কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ওরেগনের সিনেটর রন ওয়াইডেন এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, এককালীন ৯০ ডলারের অর্থ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও প্রশাসনিক সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকটের সমাধান করবে না। স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেএফএফও বলছে, এককালীন এই অর্থ অনেক সুবিধাভোগীর জন্য সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ের তুলনায় এর প্রভাব সীমিত হতে পারে। কেএফএফের মেডিকেয়ার নীতি বিষয়ক পরিচালক জুলিয়েট কিউবানস্কি উল্লেখ করেছেন, মানুষ যখন খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপ অনুভব করছেন, তখন ৯০ ডলারের এই অর্থ কিছুটা সহায়তা করলেও তা খুব বেশি দূর এগিয়ে নিতে নাও পারে। যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীরা ১-৮০০-MEDICARE বা ১-৮০০-৬৩৩-৪২২৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। আর অর্থ পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ১-৮০০-৭৭২-১২১৩ নম্বরে ১৫ অক্টোবর থেকে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছে সিএমএস। এদিকে, এই এককালীন অর্থ বিতরণের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ৩০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১০ লাখ ওবামাকেয়ার সুবিধাভোগীর জন্য ৫০০ ডলারের রিবেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। ফলে ৯০ ডলারের মেডিকেয়ার রিবেটকে ঘিরে অর্থনৈতিক সহায়তা ও নির্বাচনী রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস সেন্টার (সিএমএস), কেএফএফ।
যুক্তরাষ্ট্রে লাখো বয়স্ক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এ সপ্তাহে ৯০ ডলারের এককালীন পেমেন্ট পৌঁছাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠানো এই অর্থ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কেন এই টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং কারা এটি পাওয়ার যোগ্য? এই ৯০ ডলারের অর্থ মূলত মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে দেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০ মিলিয়নের বেশি মেডিকেয়ার সদস্যকে এই এককালীন অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে মেডিকেয়ারে থাকা সব বয়স্ক মানুষ এই অর্থ পাবেন না। প্রায় ৪ কোটি পার্ট বি সদস্য এই পেমেন্টের জন্য যোগ্য নন। মেডিকেয়ার পার্ট বি সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ, বহির্বিভাগের চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, ল্যাব পরীক্ষা ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা ব্যয় কভার করে। এর মাসিক প্রিমিয়াম আয় ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৬ সালে পার্ট বি প্রিমিয়ামে বছরে ২০০ ডলারের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। আগামী বছরও প্রিমিয়াম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ৯০ ডলারের এই পেমেন্ট অনেকের জন্য কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে, যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের পুরোটা এটি সামাল দিতে পারবে না। কারা পাবেন এই ৯০ ডলার? সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি সদস্যরা এই পেমেন্টের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে তাদের প্রিমিয়ামের খরচ মেডিকেইডের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে না এবং আয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত মাসিক প্রিমিয়ামও দিতে হবে না। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা সদস্যরাও এই অর্থ পাবেন না। সিএমএসের হিসাবে, মোট ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন আমেরিকান এই পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্য। অর্থাৎ পার্ট বি-তে থাকা প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ সদস্যের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৪ কোটি মানুষ বিভিন্ন কারণে এর বাইরে থাকছেন। যারা মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে আছেন, যাদের প্রিমিয়াম মেডিকেইডের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়, যারা আয়ের কারণে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন না—তারা এই ৯০ ডলারের পেমেন্টের আওতায় পড়বেন না। কীভাবে পাওয়া যাচ্ছে টাকা? যোগ্য অধিকাংশ সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯০ ডলার পাবেন। সিএমএস জানিয়েছে, বেশির ভাগ যোগ্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ৮ অক্টোবরের আশপাশে এই অর্থ জমা হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে কিছু সদস্যের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে বা জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাদের সরাসরি ব্যাংক জমার ব্যবস্থা নেই, তারা ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে কাগজের চেক পাবেন। এসব চেক অক্টোবরের পরের দিকে ডাকযোগে পাঠানো হবে। চেকের সঙ্গে পেমেন্টটির উদ্দেশ্য উল্লেখ করা থাকবে। এই অর্থ আসছে কোথা থেকে? ৯০ ডলারের পেমেন্টের অর্থ আসছে মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে। কংগ্রেস ২০০৮ সালে এই তহবিল তৈরি করে অরিজিনাল মেডিকেয়ারের কার্যক্রম ও সেবা উন্নত করার জন্য। তহবিলে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। এবারই প্রথম এই তহবিল থেকে সরাসরি মেডিকেয়ার সদস্যদের প্রিমিয়াম কমাতে অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে অতীতে তহবিলটি একেবারে ব্যবহার করা হয়নি—এমন নয়। কেএফএফের স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ল্যারি লেভিট জানিয়েছেন, আগের প্রশাসনগুলো সরাসরি এই ধরনের পেমেন্ট না দিলেও কংগ্রেস বিভিন্ন সময় অন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বাজেট সংক্রান্ত কাজে তহবিল থেকে অর্থ সরিয়েছে। ২০১০ সালে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ওবামাকেয়ার বাস্তবায়নের অর্থায়নেও প্রায় ২০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ৯০ ডলারের পেমেন্ট এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য ৫০০ ডলারের রিবেট পেমেন্টের কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে মেডিকেয়ার সদস্যরা ১-৮০০-মেডিকেয়ার নম্বরে ফোন করে ৯০ ডলারের পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে পারবেন। আর পেমেন্ট পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ১-৮০০-৭৭২-১২১৩ নম্বরে ১৫ অক্টোবর থেকে যোগাযোগ করা যাবে। অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ ৯০ ডলার জমা পড়লে সেটি কোনো ভুল বা অতিরিক্ত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নয়। যোগ্য মেডিকেয়ার পার্ট বি সদস্যদের জন্য এটি অক্টোবর মাসের প্রিমিয়াম খরচ কিছুটা কমাতে দেওয়া এককালীন পেমেন্ট। তবে মেডিকেয়ারের ধরন, আয় এবং প্রিমিয়াম সহায়তার অবস্থার ওপর নির্ভর করে সবাই এই অর্থ পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি-তে থাকা ২ কোটি ৮ লাখ মানুষ অক্টোবরে একবারের জন্য ৯০ ডলার করে পাবেন। তবে পার্ট বি-তে নথিভুক্ত প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি এই অর্থ পাবেন না। মঙ্গলবার সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৯০ ডলার দেওয়া হচ্ছে অক্টোবরের পার্ট বি প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে। পার্ট বি-তে চিকিৎসকের সেবা, হাসপাতালের বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা ও কিছু প্রতিরোধমূলক সেবা অন্তর্ভুক্ত। এটি মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট বৃদ্ধি নয়; অর্থ আসছে মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে। মেডিকেয়ার পরিচালনাকারী সরকারি সংস্থা সিএমএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি-র যোগ্য সদস্যরা অর্থ পাবেন। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ প্ল্যানে থাকা ব্যক্তিরা এই অর্থের আওতায় নেই। যাঁদের পার্ট বি প্রিমিয়াম মেটাতে মেডিকেইড সহায়তা দেয়, যাঁরা আয়ের কারণে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন অথবা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন, তাঁরাও যোগ্য নন। সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ যোগ্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের মাধ্যমে ৮ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে ৯০ ডলার জমা হওয়ার কথা। অন্যদের কাছে অক্টোবরের পরের দিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কাগজের চেক পৌঁছাবে। চেকের সঙ্গে থাকা বার্তায় এটি মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে অক্টোবরের প্রিমিয়াম খরচ কমানোর অর্থ বলে উল্লেখ থাকবে। এই এককালীন অর্থ চলতি বছরের প্রিমিয়াম বৃদ্ধির পুরোটা মেটায় না। সিএমএসের হিসাবে, ২০২৬ সালে পার্ট বি-র সাধারণ মাসিক প্রিমিয়াম ১৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ২০২ ডলার ৯০ সেন্ট হয়েছে। অর্থাৎ মাসে ১৭ ডলার ৯০ সেন্ট বেশি দিতে হচ্ছে। নিজের যোগ্যতা জানতে 1-800-MEDICARE নম্বরে ফোন করা যাবে। অর্থ পাঠানোর অবস্থা জানতে ১৫ অক্টোবর থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের 1-800-772-1213 নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছে সিএমএস। সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিএমএস
যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করলে এবার কঠোর শা স্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এ ধরনের অ প রা ধে দো ষী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে লের মেয়াদ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে জা লি য়া তির বিষয়টি জানার পরও তা ঠেকাতে ব্যর্থ রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। শনিবার প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প কংগ্রেসকে এ বিষয়ে নতুন আইন করার আহ্বান জানান। তার প্রস্তাব কার্যকর হলে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি থেকে অর্থ আ ত্ম সা ৎ করে দো ষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্যারোল বা প্রবেশনে সাজা এড়ানোর সুযোগ থাকবে না। ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানদের অর্থ নি য়ে যারা জা লি য়া তি করবে, তাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য জে লে যেতে হবে। চু রি করা অর্থের পরিমাণ যত বেশি হবে, শা স্তির মেয়াদও তত বাড়বে বলে জানান তিনি। একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার একই ধরনের অ প রা ধে দো ষী হলে তার শা স্তি দ্বিগুণ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। শুধু জা লি য়া তিকারীদের বিরুদ্ধেই নয়, বিষয়টি জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়া রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা যদি জা লি য়া তির বিষয়টি জানেন এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমেরিকান করদাতাদের যে অর্থ ক্ষ তি হয়েছে, তার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য, এই উদ্যোগের দুটি লক্ষ্য রয়েছে—একদিকে সরকারি সুবিধা কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করা ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করা, অন্যদিকে যেসব কর্মকর্তা এসব অ নি য় ম দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড হলো যোগ্য আমেরিকানদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। অন্যদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির আওতায় অবসরকালীন আয়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তার প্রশাসন সরকারি সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত জা লি য়া তির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে অ ভি য়ো গ আনে। এসব মামলায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি জড়িত থাকার কথা জানানো হয়েছিল। মার্চে ট্রাম্প ফেডারেল সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি, অপচয় ও অ প ব্যবহারের বিরুদ্ধে কাজ করতে ‘টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড’ গঠন করেন। এর লক্ষ্য হলো সরকারি বিভিন্ন সুবিধা কর্মসূচিতে অ নি য় ম শনাক্ত করা এবং করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখা। তবে ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব এখনো আইন হয়নি। বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে ল এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়ের বিধান কার্যকর করতে কংগ্রেসকে আইন পাস করতে হবে। ভিডিও বার্তার শেষ দিকে জা লি য়া তিকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এখন থেকে তাদের ওপর নজর রাখা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি পোর্টালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় এবার জবাব দিতে হবে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে। দেশটির সিনেটের একটি তদন্ত কমিটি অল্টম্যানকে প্রকাশ্য শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানিয়েছে। একই শুনানিতে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইকেও উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় এ শুনানি হওয়ার কথা। এআই প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা, তথ্যের স্বচ্ছতা, অস্ট্রেলিয়ার জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন শিল্পে এর প্রভাব এবং পানি ও জ্বালানি ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে সিনেট কমিটি। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংস্থা সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার অধীনে থাকা মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান প্রতিবেদন পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানান, ১৮ জুন ওপেনএআইয়ের গবেষণা দল অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি ওষুধ ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতে একটি অভ্যন্তরীণ মডেল ব্যবহার করছিল। তথ্য খোঁজার সময় এআই এজেন্টটি বারবার বাধার মুখে পড়ে। এরপর সেটি ওই বাধা এড়িয়ে বিকল্প উপায়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত মেডিকেয়ারের একটি সরকারি পোর্টালের কিছু অংশে অননুমোদিত প্রবেশ করে। সেখানে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—দুই ধরনের ফাইলেই প্রবেশ করা হয়। সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এজেন্টটি একটি অভ্যন্তরীণ সার্ভারে ফাইল লেখার কাজও করেছিল। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার বা চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঘটনাটি যে পোর্টালে ঘটেছে সেখানে মূলত স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ও ব্যয়সংক্রান্ত অ-সংবেদনশীল তথ্য ছিল। একই সঙ্গে ফরেনসিক তদন্ত চলছে এবং সরকারি নেটওয়ার্কের আরও কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ জানান, ঘটনার পর ওপেনএআই সরকারকে জানাতে দীর্ঘ সময় নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানায় ওপেনএআই। সেটিও পাঠানো হয়েছিল সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ একটি পাবলিক মেইলবক্সে। পরে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। ঘটনাটি প্রকাশের দিনই অ্যালবানিজ স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা জানান এবং ঘটনাটি জানাতে এত দেরি হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অ্যালবানিজের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্টম্যানও স্বীকার করেছেন যে এ ঘটনায় ওপেনএআইয়ের প্রক্রিয়া যথেষ্ট ভালো ছিল না। এরপর অস্ট্রেলিয়া ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে। এতে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী, এআই দপ্তর, অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেট, অস্ট্রেলিয়ান এআই সেফটি ইনস্টিটিউট এবং সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা রয়েছেন। ভবিষ্যতে এআই-সম্পর্কিত সাইবার ঘটনা মোকাবিলায় বর্তমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না এবং প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার আরও কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে একই ধরনের এআই কার্যক্রমের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যুরো অব ক্রাইম স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড রিসার্চ এবং ভিক্টোরিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু সিস্টেমও সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ নিশ্চিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো দেওয়া হয়নি। সিনেটের আসন্ন শুনানিতে তাই এআই এজেন্টের স্বায়ত্তশাসিত কর্মকাণ্ড, সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। শুনানির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও জবাবদিহির কাঠামো নিয়েও আরও তথ্য নিতে চাইছে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। গত জুনে ঘটানো এই ঘটনায় এআই এজেন্টটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কিছু ফাইল অ্যাক্সেস করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার তথ্য বা রোগীর ব্যক্তিগত নথি অ্যাক্সেস করা হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যালবানিজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ১৮ জুন ঘটেছিল এবং Services Australia পরিচালিত Medicare Statistics Reporting Service নামের একটি সরকারি পোর্টালে এআই এজেন্টটি অননুমোদিত প্রবেশ করে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা এতে প্রভাবিত হয়েছে কি না, তা জানতে অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের সহায়তায় ফরেনসিক তদন্ত চলছে। অস্ট্রেলীয় সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি মূলত মেডিকেয়ার কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার মতো তথ্যের পরিবর্তে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচির গড় হিসাব, প্রবণতা ও পরিসংখ্যান রাখা হয়। এর মধ্যে বাল্ক বিলিং, টিকাদান, ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিটস স্কিম এবং অঙ্গদাতা-সংক্রান্ত কিছু সামগ্রিক তথ্যও ছিল। অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, এআই এজেন্টটি শুধু প্রকাশ্য তথ্যই দেখেনি, এমন কিছু ফাইলেও প্রবেশ করেছিল যেগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত ছিল না। তবে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য এতে প্রকাশ বা চুরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার বিষয়ে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি জানান, ঘটনাটি জুনে ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটি আগস্টে বিষয়টি শনাক্ত করে। সে সময় কোম্পানিটি তাদের এআই মডেলগুলোর কার্যক্রম নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালাচ্ছিল। সেই পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবার সঙ্গে মডেলগুলোর অস্বাভাবিক কার্যক্রমের বিষয়টি তাদের নজরে আসে। ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মডেলগুলো অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও পরিসংখ্যান খুঁজতে গিয়ে সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবাগুলোতে এমন কিছু কাজ করেছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশিত আচরণের মধ্যে ছিল না। কোম্পানিটি পরে ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলীয় সরকারকে বিষয়টি জানায়। অস্ট্রেলীয় সরকারের কাছে ঘটনাটি জানানোর সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অ্যালবানিজ বলেছেন, জুনে ঘটনা ঘটার পর সেপ্টেম্বর ১০ তারিখে সরকারকে জানানো পর্যন্ত প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। তিনি এই দেরিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি। সরকারি তথ্যমতে, এআই এজেন্টটি মূলত অস্ট্রেলিয়ায় ওষুধের সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজছিল। একটি সাধারণ গবেষণামূলক কাজের অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানের সময় এজেন্টটি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যানের পোর্টালে যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য সরাসরি না পাওয়ার পর এটি এমন কিছু ফাইলে প্রবেশ করে, যেগুলো সাধারণভাবে উন্মুক্ত থাকার কথা ছিল না। ঘটনাটিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মূলত এআই এজেন্টগুলোর স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সক্ষমতার কারণে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য সংরক্ষণকারী কোনো ব্যবস্থা নয়। তবু একটি এআই এজেন্ট কীভাবে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সক্ষম হলো, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ব্যবস্থার আরও কয়েকটি ওয়েবসাইট এ ধরনের কার্যক্রমের আওতায় এসেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি অস্ট্রেলীয় সরকার বা ওপেনএআই। এ ঘটনার সময়ের কাছাকাছি ওপেনএআইয়ের কিছু এআই এজেন্টের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারের বিষয়ও সামনে এসেছে। এবিসি নিউজের পৃথক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু এআই এজেন্ট সরকারি স্বাস্থ্যতথ্য পাওয়ার উপায় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিল এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধা এড়িয়ে তথ্য খোঁজার চেষ্টা করেছিল। তবে ওই কার্যক্রম এবং মেডিকেয়ার পোর্টালে অননুমোদিত প্রবেশ একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ প্রচলিত সাইবার হামলার ক্ষেত্রে সাধারণত মানুষ বা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামকে আক্রমণ পরিচালনা করতে দেখা যায়। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে তার নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এই ঘটনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এখন ঘটনার পূর্ণ পরিধি, কোন কোন ফাইল অ্যাক্সেস করা হয়েছিল এবং সরকারি অন্য কোনো ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত রোগী বা মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য অ্যাক্সেসের প্রমাণ নেই। তবে ফরেনসিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে না। সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এবিসি নিউজ, রয়টার্স
মিশিগানের ৬২ বছর বয়সী এমোরি ম্যাথিউজকে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজের মালিকানাধীন ডেট্রয়েটের একটি প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টারে দেওয়া হয়নি এমন সাইকোথেরাপি সেবার বিল মেডিকেয়ারে জমা দেওয়া হয়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এমোরি ও তাঁর স্ত্রী মিলে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি মেডিকেয়ারে জমা দেন। এমন রোগীদের নামেও বিল করা হয়েছে, যারা ওই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা মারা গিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক কর্মীদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। এমোরি ম্যাথিউজ এর আগে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবৈধ ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং সেই কারণে মেডিকেয়ারে বিল করার ওপর তাঁর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টারে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার বিষয়টি গোপন করে তিনি ওই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই মামলায় তাঁর স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজ আগেই স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এমোরি ম্যাথিউজের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং আরও তিনটি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক চিকিৎসককে মেডিকেয়ার জালিয়াতির মামলায় ৪২ মাস বা সাড়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হেলেন বোরম্যান নামে ওই চিকিৎসক প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার দাবি জমা দিয়েছিলেন এবং এর মধ্যে প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। আদালত তাকে প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। টেনেসির ব্রেন্টউড এলাকায় নিজের চক্ষু চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে বোরম্যান এই জালিয়াতি করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এমন ক্ষত চিকিৎসার পণ্যের জন্য মেডিকেয়ারে অর্থ দাবি করেন, যেগুলো তিনি বাস্তবে কেনেননি বা ব্যবহার করেননি। একবার ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসা পণ্য ভাগ করে একাধিক চিকিৎসায় ব্যবহারের পরও সেগুলো নতুন পণ্য হিসেবে দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মে মাসে দুইজন মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে একাধিক তারিখে ক্ষত চিকিৎসার পণ্য ব্যবহারের দাবি জমা দেওয়া হয়েছিল। দাবিতে ২০, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মে চিকিৎসা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, তাদের নির্ধারিত সাক্ষাৎ ছিল শুধু ২০, ২৪ ও ২৭ মে। অভিযোগ অনুযায়ী, যেসব দিনে রোগীদের কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল না, সেসব তারিখের দাবিকে সমর্থন করতে চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্মীদের দিয়ে অতিরিক্ত নথি তৈরির নির্দেশ দেন বোরম্যান। এভাবে চিকিৎসার রেকর্ড ও মেডিকেয়ার দাবির মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি হয়। পরে তিনি মামলায় দোষ স্বীকার করে স্বীকার করেন যে, পুরো সময়কালে প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার দাবি জমা দিয়েছিলেন এবং প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের মে মাসের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, বোরম্যানের বিরুদ্ধে মেডিকেয়ার ছাড়াও টেনেসির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি এবং ফেডারেল কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসুবিধা কর্মসূচিতে ভুয়া দাবি জমা দেওয়ার বিষয়ও উঠে এসেছে। এসব দাবির সময়কাল ছিল ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। বোরম্যান ২০২৬ সালের মে মাসে আদালতে দোষ স্বীকার করেন। সে সময় তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি ছিলেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর টেনেসির মধ্যাঞ্চলের ফেডারেল আদালতে তার সাজা ঘোষণা করা হয়। বিচারক উইলিয়াম এল. ক্যাম্পবেল জুনিয়র তাকে ৪২ মাসের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের সাজা ঘোষণার তথ্য অনুযায়ী, বোরম্যানকে সঙ্গে সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়নি। তাকে বড়দিনের ছুটির পর কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে তার কারাদণ্ড শুরু হওয়ার কথা। মামলার আর্থিক হিসাবেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বোরম্যান প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া দাবি জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেসব দাবির বিপরীতে তিনি প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। আদালতের নথিতেও প্রায় ৬.৯৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকৃত ক্ষতির হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শিরোনামে ৬.৯ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির কথা বলা হলেও মামলায় জমা দেওয়া ভুয়া দাবির মোট অঙ্ক ছিল প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলার। সূত্র: ডব্লিউকেআরএন
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেয়ার’ থেকে অর্ধবিলিয়ন বা ৫৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দীর্ঘ তিন বছর ধরে পলাতক থাকা এক শীর্ষ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ (ডিঅ্যান্ডজে) জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তির নাম খালিদ সাতারি (৫৪)। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির তদন্তের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতারণার ঘটনা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা যায়, খালিদ সাতারি ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি মেডিকেল ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার পরিচালনা করতেন। এই পরীক্ষাগারগুলোর মাধ্যমে তিনি রোগীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল বংশাণুক্রমিক (জেনেটিক) পরীক্ষার ভুয়া বিল তৈরি করে মেডিকেয়ার কর্মসূচির কাছে পাঠাতেন। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য তিনি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দাবি করতেন। এই বিশাল জালিয়াতি চক্রটি পরিচালনা করতে সাতারি একাধিক রোগী সংগ্রহকারী এজেন্ট, টেলিমার্কেটিং কল সেন্টার এবং অনলাইন চিকিৎসাসেবা (টেলিমেডিসিন) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করেছিলেন। লোভনীয় বিপণন কৌশল, বিপুল অর্থ ঘুষ এবং অবৈধ কমিশন বা ‘কিকব্যাক’ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি এই চক্র সচল রাখতেন। তিনি চিকিৎসক ও এজেন্টদের কোটি কোটি ডলার ঘুষ দিয়েছেন বলে তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রাথমিক অভিযোগের পর তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে জামিনে থাকা অবস্থাতেই তিনি হিউস্টন ও টেক্সাসভিত্তিক কয়েকটি ল্যাবরেটরির সঙ্গে পুনরায় হাত মিলিয়ে একই ধরনের জালিয়াতি চালিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তার বিরুদ্ধে বিচারিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে তিনি জালিয়াতির বিপুল অর্থ নিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালিয়ে যান। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সাতারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে একটি ভুয়া মেক্সিকান পাসপোর্ট পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাকে উন্নত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। খালিদ সাতারির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা, তারযোগে জালিয়াতি, রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা, অবৈধ ঘুষ লেনদেন এবং অর্থ পাচারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মেডিকেয়ারকে লক্ষ্য করে সংঘটিত সবচেয়ে বড় বোটক্স জালিয়াতির একটি মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক ভায়োলেটা মাইলিয়ান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ফেডারেল জুরির রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি অপ্রয়োজনীয় এবং অনেক ক্ষেত্রে কখনোই দেওয়া হয়নি এমন বোটক্স ইনজেকশনের নামে মেডিকেয়ারের কাছে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভায়োলেটা মাইলিয়ান ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেনডেলে অবস্থিত ‘হেলদি ওয়ে মেডিকেল সেন্টার’-এর মালিক ও পরিচালনাকারী ছিলেন। মেডিকেয়ার দীর্ঘস্থায়ী মাইগ্রেনের মতো নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত প্রয়োজনে বোটক্সের খরচ বহন করলেও, তিনি হাজার হাজার রোগীর নামে এমন চিকিৎসার বিল করেন যা হয় কখনো দেওয়া হয়নি, নয়তো চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় ছিল না। এ ছাড়া কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে দেওয়া বোটক্স চিকিৎসার বিলও মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বিচার চলাকালে উপস্থাপিত প্রমাণে দেখা যায়, মাইলিয়ান বিদেশ ভ্রমণ ও বিলাসবহুল ছুটিতে থাকা অবস্থাতেও রোগীদের বোটক্স ইনজেকশন দেওয়ার দাবি করে বিল করেছেন। এমনকি যেসব দিনে তার ক্লিনিক বন্ধ ছিল, সেদিনও চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একটি ক্ষেত্রে ফেডারেল কারাগারে বন্দি থাকা একজন মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর নামেও বোটক্স চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা আরও জানান, ফেডারেল তদন্ত শুরু হওয়ার পর তিনি রোগীদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, সম্মতিপত্র এবং অন্যান্য মেডিকেল রেকর্ড জাল করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি তাকে নয়টি ওয়্যার ফ্রড এবং স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তে বাধা দেওয়ার তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই জালিয়াতির সূত্রপাত ধরা পড়ে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে। স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন বিভাগের ডেটা অ্যানালিটিক্স টিম লক্ষ্য করে যে, যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার থেকে বোটক্স চিকিৎসার বাবদ সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছেন মাইলিয়ান। গত চার বছরে তিনি ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ পেয়েছিলেন, যা একই খাতে পরবর্তী সর্বোচ্চ অর্থপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ছিল। এই অস্বাভাবিক তথ্যই তদন্তের ভিত্তি তৈরি করে। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি জুরি তার বেশ কয়েকটি সম্পদ জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি টেসলা মডেল এক্স, একটি সাইবারট্রাক, একাধিক ব্যাংক ও বিনিয়োগ হিসাব এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কয়েকটি মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি, যেগুলো জালিয়াতির অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে বলে প্রসিকিউটরদের দাবি। ভায়োলেটা মাইলিয়ানের সাজা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি ওয়্যার ফ্রড অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল আদালতের বিচারক।
যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার কর্মসূচিতে শত শত মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (DOJ)। অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন ছিল না এমন ক্ষত চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অ্যালোগ্রাফট (Allograft) প্রয়োগ করে তিনি মেডিকেয়ারের কাছে বিপুল অঙ্কের ভুয়া বিল জমা দেন এবং সেই অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে দায়ের করা মামলায় ওই নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিটি রোগীর নামে গড়ে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি বিল মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়, যদিও এসব অ্যালোগ্রাফট চিকিৎসার কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল না। তদন্তে আরও জানা গেছে, জালিয়াতির অর্থ দিয়ে অভিযুক্ত ফিলিপাইনে ৪.৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি বিলাসবহুল গাড়ি, মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি এবং দামি গয়না কেনেন। তদন্তের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এছাড়া ৫৯৪ হাজার ডলার মূল্যের একটি Ferrari 296 GTS, আরও সাতটি বিলাসবহুল গাড়ি, ৮৬৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি কাস্টম Bulgari হীরার নেকলেস এবং প্রায় ১০ লাখ ডলার মূল্যের অন্যান্য বিলাসবহুল গহনাও জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ১১৮ মিলিয়ন ডলারের পৃথক একটি অ্যালোগ্রাফট জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। সেখানে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রতারণার অর্থ দিয়ে একটি এনএফএল স্টেডিয়ামের বিলাসবহুল স্যুট ভাড়া নেন এবং ৪ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন ইউনিটের ডেটা অ্যানালিটিক্স টিম অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ার থেকে অস্বাভাবিক হারে অর্থ পরিশোধের প্রবণতা শনাক্ত করার পর এই তদন্ত শুরু হয়। এদিকে, Centers for Medicare & Medicaid Services (CMS) ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ারের পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে ১২৭ ডলার নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ না নিলে শুধু অ্যালোগ্রাফট খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর মাসিক পার্ট-বি প্রিমিয়াম গড়ে ১১ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারত। বিচার বিভাগ বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির পরিকল্পনাকারীদের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব ও শপথ ভঙ্গ করে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির একটি বড় চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম হিলমি নামের এক ব্যক্তিকে সাইপ্রাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, হিলমি দক্ষিণ ফ্লোরিডার ডেলরে বিচ এলাকায় 'সানশাইন সিনিয়র সলিউশনস' নামক একটি মেডিকেল সাপ্লাই স্টোর এবং এর পাশাপাশি আরও একটি কোম্পানি পরিচালনা করতেন। এই জালিয়াতির খবরটি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য মেডিকিয়ারের কাছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল বা ক্লেম জমা দেওয়া হয়েছিল। অথচ বাস্তবে রোগীরা এসব চিকিৎসা সামগ্রী কখনোই পাননি। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হংকং-ভিত্তিক একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে। হিলমির এই গ্রেপ্তার মূলত মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী চলমান বড় মাপের একটি ক্র্যাকডাউনের অংশ। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে মোট ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোতে সব মিলিয়ে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ঘটনা এই মামলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন বিচার বিভাগের মতে, ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা বিরোধী সর্ববৃহৎ অভিযানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। প্রতারক চক্রের শেকড় এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত এক বৃহৎ অভিযানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) মঙ্গলবার জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া দাবি দাখিলের অভিযোগ রয়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক, বিপণনকর্মী এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। দেশটির ৪৫টি অঙ্গরাজ্য এবং একাধিক ফেডারেল জেলাজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে শত শত পৃথক মামলার তদন্ত করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোকে লক্ষ্য করে সংঘটিত প্রতারণার বিরুদ্ধে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তিনি বলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ডিওজে জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেখিয়ে বিল আদায়, রোগীদের তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া দাবি দাখিল, অবৈধ কমিশন গ্রহণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অনিয়ম। সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটিতে অ্যারিজোনাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহযোগীর বিরুদ্ধে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রতারণামূলক বিলিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কম দামে কেনা চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট পণ্য নতুনভাবে বাজারজাত করে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে মেডিকেয়ারে বিল করত। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিচার বিভাগের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়েছে। তদন্তে উচ্চমূল্যের গাড়ি, দামি গয়না, বিলাসবহুল আবাসন এবং বিদেশে বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে। এদিকে ফ্লোরিডার একটি মামলায় এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া পরিচালনার মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলারের প্রতারণা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের প্রকৃত চিকিৎসার প্রয়োজন না থাকলেও তাদের বিভিন্ন ব্যয়বহুল পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছিল। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতিই করে না, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের নিরাপত্তা ও জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে নগদ অর্থ, ব্যাংক হিসাব, বিলাসবহুল সামগ্রী এবং অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে শত কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ বা জব্দের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান এবং ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ দায়ের হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার এক পলাতক আসামিকে ফিলিপাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, ৬০ বছর বয়সী হারবার্ট লিওন কিম্বলকে ফিলিপাইনে আটক করা হয়েছে। তিনি গত বছর নির্ধারিত সাজা ঘোষণার শুনানিতে হাজির না হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কিম্বল একটি জটিল মেডিকেয়ার জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার মাধ্যমে ১.২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বিল সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, এই প্রতারণামূলক কার্যক্রমে মূলত বয়স্ক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পরিচালিত এই চক্র বিভিন্ন কল সেন্টার, টেলিমেডিসিন সেবা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোগীদের কাছে অর্থোপেডিক ব্রেস ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য বিপুল পরিমাণ দাবি জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরঞ্জামের বড় একটি অংশ ছিল চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় বা যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই বিল করা। কিম্বল ২০১৯ সালে জালিয়াতি-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তার সাজা ঘোষণার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাকে পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। সম্প্রতি এফবিআই “মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স” নামে একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক ও স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিম্বল ওই তালিকার অন্যতম সদস্য ছিলেন। তার গ্রেপ্তার এ তালিকা প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কিম্বলকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে আদালতের মুখোমুখি হয়ে তাকে সাজা শুনতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসে। এসব অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, কিম্বলের গ্রেপ্তার শুধু একটি বড় মামলার অগ্রগতি নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে আত্মগোপনে গেলেও আর্থিক অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।