সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মিশিগান

মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার
মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি নদীতে তলিয়ে যাওয়া জিপ থেকে ভ্যানেসা বাউতিস্তা (২৪) এবং অ্যালেক্সা নাভারো (২৩) নামের দুই তরুণী মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেন্ট জোসেফ নদী থেকে তাদের ডুবন্ত গাড়িটি টেনে তোলার পর এই মর্মান্তিক পরিণতি সামনে আসে।   ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ডের বাসিন্দা এই দুই নারী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপক খোঁজ করা হচ্ছিল। সম্প্রতি ভ্যানেসার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হৃদয়বিদারক শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাকে দুই সন্তানের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক স্নেহময়ী মা হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।   শোকবার্তায় বলা হয়, ভ্যানেসার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল তার মাতৃত্ব। তিনি তার দুই ছেলে জাইরে ও জেসিয়াহকে নিজের পৃথিবী মনে করতেন এবং তাদের নিঃশর্ত ভালোবাসতেন। সন্তানদের প্রতিটি প্রয়োজন মেটাতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি সবসময় সচেষ্ট থাকতেন।   উষ্ণ ও সুন্দর মনের অধিকারী ভ্যানেসা তার বোনের অনাগত সন্তানের আগমনের অপেক্ষায়ও প্রহর গুনছিলেন। এমনকি ৯ সেপ্টেম্বর নিজের জন্মদিনের আগে বোনকে মজা করে বলেছিলেন, সন্তান যেন তার জন্মদিনের দিন পৃথিবীতে না আসে। কিন্তু জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন পরই এমন মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করতে হলো তাকে।   নাইলস পুলিশের প্রধান জেমস মিলিন জানিয়েছেন, গত রবিবার ভোর ৪টার দিকে জিপটি একটি বাঁধের ওপর দিয়ে প্রায় ৭০ ফুট নিচে নদীতে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকেই ইন্ডিয়ানা সীমান্তবর্তী মিশিগানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শহরে তাদের সন্ধানে জোরালো তল্লাশি শুরু হয়েছিল।   নিখোঁজ হওয়ার রাতে এই দুই মাকে অন্য কোনো গাড়ি তাড়া করেছিল কি না বা কেউ তাদের অনুসরণ করেছিল কি না, তদন্ত কর্মকর্তারা এখন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের ব্লেয়ার টাউনশিপে প্রশিক্ষণের সময় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হাসপাতালে পাইলট

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির ব্লেয়ার টাউনশিপের গ্রামীণ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   দুর্ঘটনাটি ঘটে কাউন্টি রোড ৬৩৩ ও ব্লেয়ার টাউনহল রোডের কাছাকাছি এলাকায়। বিমানটি ছিল টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের। ইউনিটটি টেক্সাসের সান আন্তোনিও-ল্যাকল্যান্ড ঘাঁটি থেকে মিশিগানে প্রশিক্ষণের জন্য অবস্থান করছিল।   বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটির সঙ্গে থাকা আরেকটি এফ-১৬-এর পাইলট বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করেন। লাইভএটিসি-তে প্রকাশিত রেডিও যোগাযোগের রেকর্ডিং অনুযায়ী, ‘বাক ১১’ কলসাইনের ওই পাইলট জানান, তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য পাইলটের বিমান সম্ভবত একটি পাখির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর তিনি জরুরি সহায়তার জন্য সতর্ক করতে বলেন এবং জানান, তাঁর সহযাত্রী পাইলটকে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে হতে পারে।   রেডিও যোগাযোগে ওই পাইলটকে বলতে শোনা যায়, তাঁর উইংম্যানকে বিমান থেকে বের হতে হবে এবং ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটতে যাচ্ছে, তিনি তখন সেই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ছিলেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কাছাকাছি বিমানবন্দরে যাওয়ার পথ দেখানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে।   তবে পাখির আঘাতই দুর্ঘটনার কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের মুখপাত্র সার্জেন্ট ডেরেক গুতিয়েরেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তিনি সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি। ফলে রেডিও যোগাযোগে উঠে আসা তথ্যকে আপাতত সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়।   দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টি জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রথমে নির্দিষ্ট এলাকায় ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেয়। পরে দুর্ঘটনাস্থলের এক মাইলের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাউন্টি রোড ৬৩৩-এর একটি অংশে যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়।   কর্তৃপক্ষের এই সতর্কতার পেছনে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও ছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এফ-১৬ বিমানে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় হাইড্রাজিন নামে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। এ কারণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।   স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তাঁরা।   ব্লেয়ার টাউনশিপের সুপারভাইজার নিকোল ব্লনশাইন জানিয়েছেন, মাটিতে থাকা কারও আহত হওয়ার খবর তিনি পাননি এবং কোনো বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন না। অন্যদিকে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির শেরিফ মাইকেল ডি. শিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালে পাইলট সচেতন ছিলেন এবং কথা বলছিলেন।   এফ-১৬টি মিশিগানের আলপেনা কমব্যাট রেডিনেস ট্রেনিং সেন্টারে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল। টেক্সাস থেকে আসা ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের একাধিক এফ-১৬ এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিল। বিমানটি দুর্ঘটনার সময় নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল বলে সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   দুর্ঘটনার পর এফ-১৬ ইউনিটের নির্ধারিত অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের ফুটবল ম্যাচের আগে আকাশে উড্ডয়ন প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল এই ইউনিটের যুদ্ধবিমানগুলোর। দুর্ঘটনার পর সেই কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নেবে।   এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। ১৯৭৯ সাল থেকে এ ধরনের বিমান পরিচালিত হয়ে আসছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর নিরাপত্তা তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে এফ-১৬ নিয়ে অন্তত ১৪টি ‘ক্লাস এ’ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় সাধারণত বিমান ধ্বংস হওয়া, প্রাণহানি বা ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতির মতো গুরুতর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকে।   মিশিগানের সর্বশেষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়টি রেডিও যোগাযোগে উঠে এলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেটিকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস ডেট্রয়েট ও ১৪৯তম ফাইটার উইং।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে নদী থেকে উদ্ধার দুই নিখোঁজ নারীর ম রদেহ, ৭০ ফুট নিচে গাড়ি পড়া নিয়ে রহস্য
মিশিগানে নদী থেকে উদ্ধার দুই নিখোঁজ নারীর ম রদেহ, ৭০ ফুট নিচে গাড়ি পড়া নিয়ে রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নাইলস শহরের সেন্ট জোসেফ নদী থেকে নিখোঁজ দুই মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভ্যানেসা বাউতিস্তা (২৪) এবং অ্যালেক্সা নাভারো (২৩) নামের ওই দুই নারী ইন্ডিয়ানার সাউথ বেন্ড এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার রাতে নদীর পানিতে তলিয়ে থাকা একটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়া জিপের ভেতর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।   ঘটনাস্থলটি তাদের নিজ শহর থেকে প্রায় ১১ মাইল উত্তরে অবস্থিত। গত বৃহস্পতিবার ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটির মেডিকেল এক্সামিনার অফিস মৃতদেহ দুটির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি।   নাইলস শহরের পুলিশ প্রধান জেমস মিলিন জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে গত রোববার ভোর ৪টার দিকে তাদের গাড়িটি একটি উঁচু বাঁধের ওপর থেকে প্রায় ৬০-৭০ ফুট নিচে খাড়া ঢাল বেয়ে নদীতে পড়ে যায়। নিচে পড়ার সময় গাড়িটি বেশ কয়েকটি গাছে ধাক্কা খায়, যে কারণে এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ওই রোববারই এই দুই নারীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার সময় তারা যে পোশাক পরা ছিলেন, উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলোতেও একই পোশাক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত ২০২০ সালের ধূসর রঙের জিপ গ্র্যান্ড চেরোকি গাড়িটি তারা নিজেরাই চালাচ্ছিলেন।   এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনের কারণ নিয়ে বেশ রহস্য তৈরি হয়েছে। কেউ তাদের তাড়া করছিল কি না—এমন গুঞ্জন উঠলেও পুলিশ প্রধান মিলিন জানিয়েছেন, তারা সবদিক বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রাথমিকভাবে গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো কোনো 'বাহ্যিক শক্তির' প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   নিহতদের ময়নাতদন্ত এবং টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফলাফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সাউথ বেন্ড পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাদের দুজনকে সর্বশেষ এলখার্টে দেখা গিয়েছিল এবং তাদের ফোনের সর্বশেষ লোকেশন ছিল নাইলসে। বর্তমানে মামলাটির সম্পূর্ণ তদন্তভার নাইলস পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ডে-কেয়ার সেন্টারে মিথ্যা সেবায় ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি
ডে-কেয়ার সেন্টারে মিথ্যা সেবায় ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে মিশিগানে গ্রেপ্তার

মিশিগানের ৬২ বছর বয়সী এমোরি ম্যাথিউজকে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজের মালিকানাধীন ডেট্রয়েটের একটি প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টারে দেওয়া হয়নি এমন সাইকোথেরাপি সেবার বিল মেডিকেয়ারে জমা দেওয়া হয়।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এমোরি ও তাঁর স্ত্রী মিলে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি মেডিকেয়ারে জমা দেন। এমন রোগীদের নামেও বিল করা হয়েছে, যারা ওই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা মারা গিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক কর্মীদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। এমোরি ম্যাথিউজ এর আগে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবৈধ ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং সেই কারণে মেডিকেয়ারে বিল করার ওপর তাঁর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টারে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার বিষয়টি গোপন করে তিনি ওই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।   এই মামলায় তাঁর স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজ আগেই স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এমোরি ম্যাথিউজের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং আরও তিনটি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সমাবর্তন মঞ্চে সদ্যজাত কন্যা অ্যানাবেলকে কোলে নিয়ে ডিগ্রি গ্রহণ করছেন গ্রেস শিমচ্যাক। ছবি: সংগৃহীত
সিজারিয়ান সন্তান জন্মের ১০ দিন পর নবজাতককে কোলে নিয়েই গ্র্যাজুয়েশনে মা

মিশিগানের ২৪ বছর বয়সী গ্রেস শিমচ্যাকের গ্র্যাজুয়েশন হওয়ার কথা ছিল ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩। এর তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিকল্পনার আগেই ৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর আলো দেখে মেয়ে অ্যানাবেল।   তবু দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্জিত ডিগ্রির গুরুত্বপূর্ণ দিনটি গ্রেস হাতছাড়া করতে চাননি। সন্তান জন্মের মাত্র ১০ দিন পর ১৫ ডিসেম্বর তিনি মিশিগানের বিগ র‌্যাপিডসে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে হাজির হন। সঙ্গে ছিল তার সদ্যোজাত মেয়ে অ্যানাবেল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে।    সমাবর্তনে গ্রেস তার ছোট মেয়েকে একটি বেবি ক্যারিয়ারে নিজের শরীরের সঙ্গে রেখে তার ওপর গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরেছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অ্যানাবেল ঘুমিয়েই ছিল। গ্রেসের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।    গ্রেস ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ম্যাগনা কাম লডে সম্মান পান। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ, বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব সামলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি মিশিগানের ট্রাভার্স সিটিতে তিন বছর বয়সী শিশুদের জন্য একটি স্টেট ফান্ডেড প্রি-স্কুলে ফুলটাইম শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন।    গ্রেস জানিয়েছিলেন, ডিগ্রির জন্য তিনি দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাই অ্যানাবেল নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নিলেও সহপাঠীদের সঙ্গে মঞ্চে হেঁটে ডিগ্রি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। একই সঙ্গে সদ্যোজাত মেয়েকে নিজের কাছ থেকে দূরে রাখতেও প্রস্তুত ছিলেন না।    গ্রেসের এই বিশেষ মুহূর্তের ছবি পরে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রকাশ করে। ছবিতে তাকে গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরা অবস্থায় দেখা যায়, আর গাউনের ভেতরে তার ছোট্ট মেয়ে অ্যানাবেল। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক মনোযোগ পায়।    গ্রেস পরে জানান, তার এই অভিজ্ঞতা অন্য মা-বাবাকে পড়াশোনা শেষ করার স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করুক, সেটিই তিনি চান। ২০২৪ সালে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিজের গল্প দেখে অন্যরা যেন বুঝতে পারেন, জীবনের নানা দায়িত্বের মধ্যেও নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করা সম্ভব।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে ৬ দিনের পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক, লাগবে না  অ্যাপয়েন্টমেন্ট
মিশিগানে ৬ দিনের পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক, লাগবে না অ্যাপয়েন্টমেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের স্টার্লিং হাইটস সিটি হলে আগামী ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ছয় দিনব্যাপী পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীরা কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সরাসরি সিটি হলে গিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন। স্টার্লিং হাইটস সিটির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধা শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি অন্য এলাকার বাসিন্দারাও নিতে পারবেন।    পাসপোর্ট আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রসেসিং ফি পরিশোধের জন্য দুটি পৃথক চেক অথবা মানি অর্ডার সঙ্গে আনতে হবে। একটি পেমেন্ট দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নামে এবং অন্যটি স্টার্লিং হাইটস সিটির নামে। নগদ টাকা গ্রহণ করা হবে না।    ওয়াক-ইন সেবার সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেবা দেওয়া হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে।    আবেদনকারীদের পূরণ করা পাসপোর্ট অ্যাপ্লিকেশন সঙ্গে আনতে হবে, তবে আবেদনপত্রে আগে থেকে স্বাক্ষর করা যাবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং বর্তমান ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নথির তালিকা স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।    স্টার্লিং হাইটস সিটির পাসপোর্ট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট বুকের জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফি ১৩০ ডলার। এর সঙ্গে সিটি কর্তৃপক্ষের পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফ্যাসিলিটি ফি ৩৫ ডলার এবং পাসপোর্ট ছবির জন্য ২০ ডলার দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপেডাইটেড সার্ভিস ও দ্রুত ডেলিভারির জন্য অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।    পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক অনুষ্ঠিত হবে স্টার্লিং হাইটস সিটি হলে, ৪০৫৫৫ ইউটিকা রোড, স্টার্লিং হাইটস, মিশিগান। বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা স্টার্লিং হাইটস সিটির পাসপোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে আবেদনকারীদের প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
মুসলিম পরিচয় ঘিরে আক্রমণের মাঝেও মিশিগান থেকে সিনেটের পথে এগিয়ে আবদুল এল-সাইদ
মুসলিম পরিচয় ঘিরে আক্রমণের মাঝেও মিশিগান থেকে সিনেটের পথে এগিয়ে আবদুল এল-সাইদ

মিশিগানের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে ঘিরে মুসলিম পরিচয় ও তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ তীব্র হলেও সাম্প্রতিক জরিপে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এল-সাইদ জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন।   ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সাইদ কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। প্রাইমারিতে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া স্টিভেনসকে অল্প ব্যবধানে হারান। তার এই জয় জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ নির্বাচনের আগে এল-সাইদের প্রচারণার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের বাইরের অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল।   প্রাইমারি জয়ের পর এল-সাইদকে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণের বড় একটি অংশ তার মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে চলে আসে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে প্রচারে গিয়ে এল-সাইদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাকে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এল-সাইদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসবাদ ও ৯/১১ হামলার নিন্দা করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার সমর্থক হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও রয়েছে। এসব দাবির কিছু ইতোমধ্যে ফ্যাক্টচেকের মুখে পড়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে এল-সাইদের অবস্থানও রিপাবলিকান ও প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।   এল-সাইদ ইসরায়েলের গাজা নীতির কঠোর সমালোচক। তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামোয় অর্থ ব্যয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার এই অবস্থানের কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর বিরোধিতারও মুখে পড়েছেন তিনি।   তবে এসব আক্রমণের মধ্যেও সাধারণ নির্বাচনের লড়াইয়ে এল-সাইদের অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। একই জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশে ছিলেন।   অন্যদিকে, বিভিন্ন জরিপে ব্যবধান এক নয়। ফক্স নিউজের আগস্টের জরিপে রজার্স ৫১ শতাংশ এবং এল-সাইদ ৪৭ শতাংশে ছিলেন। পরে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এল-সাইদ আবার এগিয়ে যান। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্সের সাম্প্রতিক গড় হিসাবে এল-সাইদ ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থনে রয়েছেন। ফলে মিশিগানের এই লড়াই এখনো টস-আপ বা অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।   এল-সাইদের প্রচারণায় মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি দীর্ঘদিন মিশিগানে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন।   অন্যদিকে, সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। রিপাবলিকান প্রচারণায় এল-সাইদের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান, স্বাস্থ্যনীতি, করনীতি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী অংশের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।   মিশিগানের এই নির্বাচন শুধু একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়। ২০২৬ সালের মিডটার্মে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে চাইছে। ফলে এল-সাইদ ও রজার্সের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।   এল-সাইদ জয়ী হলে শুধু মিশিগান থেকেই একজন নতুন সিনেটর নির্বাচিত হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে নির্বাচনের এখনও প্রায় দুই মাস বাকি এবং জরিপে ব্যবধান খুব বেশি নয়। মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের মনোভাব শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন
মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন

অ্যামেরিকায় বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পেশাগত অর্জন, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে মিশিগানের ডিট্রইটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস—আবিয়ার ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক কনভেনশন ও সেমিনার। এ উপলক্ষে মিশিগানের স্টার্লিং হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, আগামী ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ডিট্রইট ডাউনটাউনের রেনেসাঁ সেন্টার ও হান্টিংটন প্লেইসে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনের এই আয়োজন। মিশিগানের ডিট্রইটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া- আবিয়ার ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক কনভেনশন ও সেমিনারে নর্থ অ্যামেরিকা, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকৌশলী, স্থপতি, শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীরা সপরিবারে অংশ নেবেন। অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবে ক্যারিয়ার ও স্টেম ফেয়ার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষা এবং পেশায় আগ্রহী শিক্ষার্থী- তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার ও পেশাগত উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সেশন থাকবে বলে জানান, আবিয়ার প্রেসিডেন্ট মনির জামান ও সেক্রেটারি সাদেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং এবং নতুন প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন আয়োজকরা। তিন দিনের আয়োজনে থাকবে মিট অ্যান্ড গ্রিট, গালা ডিনার ও সানসেট রিভার ক্রুয। সংগঠনটির মিশিগান চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ফয়েজুল মোমেন জানান, এ সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন সামিনা চৌধুরী, দিলশাদ নাহার কণা, প্রতীক হাসান ও ইমরানসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী। আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশি-অ্যামেরিকান প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পেশাগত সাফল্য, উদ্ভাবন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৌশল, স্থাপত্য ও স্টেম পেশায় উৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখবে। সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার ড. নাজমুল হাসান শাহীন, জাকিরুল হক, গোলাম মর্তুজা, মাহমুদ সালাম, কাজী সোহেল আহমেদ ও মৌলি আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানার এজিএমে ২০২৮ সালের ৪২তম সম্মেলনের হোস্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বিএএম। ছবি: সংগৃহীত
২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানার আয়োজক মিশিগানের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন

২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা হোস্ট করবে মিশিগানের সবচেয়ে সুসংগঠিত সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগান।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগান প্রতিবছর মিশিগানে দুই দিনের বড় ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করে থাকে। সেই ফেস্টিভ্যালে ১০ থেকে ১৫ হাজার প্রবাসী অংশ নেন।   গত ৬ সেপ্টেম্বর ৪০তম লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানার এজিএমে ৪২তম ফোবানার হোস্ট হিসেবে বিএএম নির্বাচিত হয়। মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার কয়েকটি সংগঠন ৪২তম ফোবানার হোস্ট হওয়ার আগ্রহ দেখালেও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানকে সবাই ৪২তম ফোবানার হোস্ট হিসেবে নির্বাচিত করেন। এজিএমে বিএএমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি জাবেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জনাব নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক তাহমিদ, অ্যাডভাইজার সুমন কবির ও ইঞ্জিনিয়ার আহাদ চৌধুরী।     ২০২৭ সালের ৪১তম ফোবানা হবে হিউস্টনে। বিএএমের সভাপতি জাবেদ চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মিশিগানে মানসম্পন্ন ফোবানা হচ্ছে না। মিশিগানে লাখের ওপর প্রবাসী বসবাস করেন। নিউইয়র্কের পর সবচেয়ে বড় প্রবাসীবান্ধব জনপদ মিশিগান। আমরা এবার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এজিএমে এসেছিলাম। আমাদের ৪২তম ফোবানার পুরো পরিকল্পনা আমরা নিয়ে এসেছি এবং উপস্থাপন করেছিলাম।   সবচেয়ে বড় ভেন্যুসহ একটি চমৎকার ফোবানা করার প্রস্তুতি আমাদের। আমরা হিউস্টনের মতোই ২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা করতে পারব। এই আশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে ইসি আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা এর পূর্ণ মর্যাদা রাখব।   আগাম শুধু এটাই বলব, আমাদের ফোবানা মানসম্মত হবে। অতীতে যতগুলো ভুল হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি হবে না। সবাই সহযোগিতা করবেন। মিশিগানে এলে সবাই পাশের কানাডা ঘুরে যাবেন। আমরা সব ধরনের ট্যুরের ব্যবস্থা রাখব।   বিএএমের অ্যাডভাইজার সুমন কবির জানান, মিশিগানে আমাদের ক্রাউডের জন্য চিন্তা করতে হয় না। আমাদের একটি মানসম্পন্ন ফোবানা উপহার দেওয়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, আমরা তা বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে করে দেখাব।   বিএএমের সাধারণ সম্পাদক জনাব নয়ন বলেন, কোনো মিথ্যা আশ্বাস বা ভুল প্রচারণা বিএএম করবে না। আমরা একটি কোয়ালিটি ফোবানা উপহার দেব।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগান সিনেট দৌড়ে এগিয়ে আবদুল এল-সাইয়েদ, ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনাও পারেনি থামাতে

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির নতুন জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের সমর্থন ৫০ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ জরিপে এল-সাইয়েদ রজার্সের চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এই আসনটি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   এল-সাইয়েদের বর্তমান অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ গত ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি দলীয় নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে মাত্র প্রায় ১ শতাংশ ব্যবধানে হারিয়ে মনোনয়ন পান। ফল ঘোষণার সময় এল-সাইয়েদের ভোট ছিল ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্টিভেন্সের ভোট ছিল ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অল্প ব্যবধানে পাওয়া এই জয় তাকে নভেম্বরের মূল নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।   প্রাইমারির পর এল-সাইয়েদকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের একাংশের সমালোচনা আরও তীব্র হয়। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে তাঁর অবস্থান, ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য এবং কিছু বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে দলের মধ্যেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এসব সমালোচনার মধ্যেই তিনি সাধারণ নির্বাচনের প্রচারে এগিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি মিশিগানের একটি সিনাগগে হামলা নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যের জন্যও তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।   এল-সাইয়েদ নিজেকে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেয়ার ফর অল, করপোরেট অর্থের রাজনৈতিক প্রভাব কমানো এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য করের বোঝা কমানোর মতো নীতি। ২০২৬ সালের প্রাইমারিতে তিনি সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পেয়েছিলেন। এসব নীতিগত অবস্থানকে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন।   এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স সাবেক মিশিগান কংগ্রেসম্যান এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। মিশিগানের বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় এবার আসনটি উন্মুক্ত হয়েছে। ফলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের কাছেই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প মিশিগানে প্রায় ২ শতাংশ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় রাজ্যটি এবারের সিনেট লড়াইয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয় এবং এবার সিনেট আসনটি উন্মুক্ত থাকার কারণে নভেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন।   নতুন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির জরিপে শুধু সামগ্রিক ব্যবধানই নয়, বয়সভিত্তিক ভোটারদের মধ্যেও এল-সাইয়েদের শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন বেশি। অন্যদিকে বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে রজার্স তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। ফলে বয়সভেদে দুই প্রার্থীর সমর্থনের পার্থক্যও জরিপে উঠে এসেছে।   এর আগে আরেকটি সাম্প্রতিক জরিপেও এল-সাইয়েদকে এগিয়ে দেখা যায়। ইপিক-এমআরএ-এর জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৩ শতাংশ। ওই জরিপেও এল-সাইয়েদ ৪ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। অর্থাৎ প্রাইমারির পর বিতর্ক ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সমালোচনা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জরিপে তিনি রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।   প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে মনোনয়ন পাওয়ার পর এল-সাইয়েদকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের একাংশের সমালোচনা তৈরি হলেও নতুন জরিপগুলোতে তার প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না। বরং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির জরিপে তিনি রজার্সের চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে ইপিক-এমআরএ-এর জরিপেও তাঁর এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।   তবে নভেম্বরের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে এবং দুই প্রার্থীর ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম। ফলে বর্তমান জরিপের ফলাফল চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল নির্দেশ করছে না। নির্বাচনের আগে ভোটারদের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে এবং দুই প্রার্থীর প্রচারও অব্যাহত থাকবে।   মিশিগানের এই সিনেট লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এল-সাইয়েদ বর্তমানে কয়েকটি জরিপে এগিয়ে থাকলেও রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও শক্তিশালী। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে রজার্সের তুলনামূলক ভালো অবস্থান নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   এদিকে তরুণ ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের বেশি সমর্থন এবং সামগ্রিকভাবে জরিপে তার এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাট শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে প্রাইমারির পর তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় অভ্যন্তরীণ সমালোচনা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত তা জরিপে তাঁর অবস্থানকে পিছিয়ে দিতে পারেনি।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
ভ্যান্সের কড়া আক্রমণ, আবদুল এল-সায়েদকে বললেন ‘আমার স্ত্রীর নাম মুখে আনবেন না’

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। সোমবার ডেট্রয়েটের একটি উপশহরে নির্বাচনী সমাবেশে এল-সায়েদকে ‘অত্যন্ত খারাপ’ বা ‘ভেরি এভিল’ বলে আখ্যা দেন ভ্যান্স।   ভ্যান্সের সবচেয়ে কড়া মন্তব্য আসে তার স্ত্রী উষা ভ্যান্সকে ঘিরে এল-সায়েদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে। এল-সায়েদ ভ্যান্সের প্রয়াত দাদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু উষাকে বিয়ে করার বিষয়টি নিয়ে।   এর জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘আবদুল, আমার স্ত্রীর নাম মুখে আনার আগে সাবধান হও।’ এরপর আরও কড়া ভাষায় তিনি বলেন, উষা তার ‘ধারেকাছেও নেই’।   ভ্যান্স অভিযোগ করেন, মুসলিম প্রার্থী এল-সায়েদ নিজের ধর্মের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি তার সেই সহানুভূতি নেই। তিনি এল-সায়েদের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব, শরিয়াহ আইন এবং ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।   এল-সায়েদের প্রচারণার সঙ্গে রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার হাসান পিকার ঘনিষ্ঠতারও সমালোচনা করেন ভ্যান্স। পিকার ২০১৯ সালের এক লাইভস্ট্রিমে যুক্তরাষ্ট্র ‘৯/১১ হামলার প্রাপ্য ছিল’—এমন মন্তব্য করেছিলেন বলে ভ্যান্স উল্লেখ করেন। এল-সায়েদ পিকারের ওই মন্তব্যের নিন্দা বা তাকে প্রত্যাখ্যান করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও ভ্যান্স দাবি করেন।   ভ্যান্স বলেন, এল-সায়েদ ও পিকারের রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থের পরিবর্তে একটি গোষ্ঠীর স্বার্থকে অন্য গোষ্ঠীর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার দিকে যাচ্ছে।   তবে ভ্যান্সের বক্তব্যের জবাবে এল-সায়েদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাল্টা মন্তব্য করেন। তিনি ভ্যান্সের ‘আমরা বনাম তারা’ ধরনের রাজনীতির সমালোচনাকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তিনি মূলত শ্রমজীবী মানুষ বনাম বিলিয়নিয়ার এবং মিশিগান বনাম ওহাইও নিয়ে একই ধরনের বিভাজনের কথা ভাবেন।   এর আগে সোমবার ভ্যান্সের মিশিগান সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন এল-সায়েদ। তিনি ওহাইওর বাসিন্দা ভ্যান্সকে মিশিগানে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘মিশিগানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে ওহাইওর জেডি ভ্যান্সের চেয়ে ভালো আর কাকে পাওয়া যায়?’   ভ্যান্স ওই সমাবেশে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সকে সমর্থনের আহ্বান জানান।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
লেবার ডে ছুটির আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ১৭ সেন্টে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
লেবার ডে ছুটির আগে মিশিগানে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, চড়া খরচের আশঙ্কা!

লেবার ডে ছুটির আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির গড় দাম গ্যালনপ্রতি ১ সেন্ট বেড়েছে। এএএ-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মিশিগানে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম এখন গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ১৭ সেন্ট। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার জ্বালানির দাম ৮৪ সেন্ট বেশি।   এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় দাম সামান্য বাড়লেও এক মাস আগের তুলনায় মিশিগানে গ্যাসের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ১১ সেন্ট কম। তবে গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকায় লেবার ডে ছুটিতে সড়কপথে ভ্রমণকারীদের জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   বর্তমান গড় দামে মিশিগানে ১৫ গ্যালনের একটি গাড়ির জ্বালানি ট্যাংক পূরণ করতে প্রায় ৬২ ডলার খরচ হচ্ছে। এএএ-এর হিসাবে, গত বছরের লেবার ডেতে অঙ্গরাজ্যটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৩ ডলার ৩০ সেন্ট।   অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানির দামে পার্থক্য রয়েছে। এ সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি গড় দাম রয়েছে জ্যাকসনে, যেখানে গ্যালনপ্রতি দাম ৪ ডলার ২৬ সেন্ট। এরপর অ্যান আর্বারে ৪ ডলার ২২ সেন্ট এবং ল্যান্সিংয়ে ৪ ডলার ২০ সেন্ট।   অন্যদিকে, তুলনামূলক কম দামের এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মারকেটে, যেখানে গ্যালনপ্রতি গড় দাম ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট। ট্রাভার্স সিটিতে গড় দাম ৪ ডলার ৪ সেন্ট এবং ফ্লিন্টে ৪ ডলার ৭ সেন্ট।   এএএ বলছে, লেবার ডে ছুটির আগে মিশিগানে গ্যাসের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও গত বছরের তুলনায় এবার চালকদের পাম্পে বেশি অর্থ খরচ করতে হবে। ফলে ছুটির সময়ে সড়কপথে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা চালকদের জ্বালানি ব্যয় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল
ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিজ দলের সম্মেলন এড়ালেন মিশিগানের ইহুদি অ্যাটর্নি জেনারেল

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল ইহুদিবিদ্বেষী হয়রানির আশঙ্কায় নিজের দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলনে অংশ নেননি। গত ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলটির অঙ্গরাজ্য সম্মেলনে তার অনুপস্থিতি নতুন করে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামনে এনেছে।    নেসেল আগেই জানিয়েছিলেন, সম্মেলনে গেলে তাকে ধাওয়া করা, হয়রানি করা, চিৎকার করে বাধা দেওয়া কিংবা দুয়োধ্বনি দেওয়ার আশঙ্কা করছেন। তার দাবি, অতীতের দলীয় আয়োজনে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।    ঘটনার পেছনে মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তীব্র মতপার্থক্য কাজ করছে। দলটির প্রগতিশীল অংশের অনেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে নেসেলসহ ইসরায়েলপন্থী ডেমোক্র্যাটরা দলটির ভেতরে ইহুদিবিদ্বেষ বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।    এরই মধ্যে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থান এবং অতীতের কিছু মন্তব্যের কারণে দলটির ইহুদি নেতাদের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে এল-সাইয়েদ ইহুদিদের নিরাপত্তার প্রতি তার অঙ্গীকারের কথা বলেছেন এবং সম্প্রতি একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।    এদিকে নেসেলের সম্মেলন বর্জনের পর প্রায় ২০০ জন ইহুদি নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেলকে চিঠি দিয়ে সম্মেলনে ইহুদি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।    পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্মেলনে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবেশপথে তল্লাশি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের হয়রানি বা বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।    ফলে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলন শুধু প্রার্থী বাছাইয়ের আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু, ইহুদি নিরাপত্তা এবং দলটির অভ্যন্তরীণ মতাদর্শগত বিভাজনও সামনে নিয়ে এসেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ডাক্তার বলেছিল,এই ওজন খুব শীঘ্রই কবরে নিয়ে যাবে! ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ মঞ্চে অ্যাম্বার উহলার,
ডাক্তার বলেছিল,এই ওজন খুব শীঘ্রই কবরে নিয়ে যাবে! ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ মঞ্চে অ্যাম্বার উহলার,

মিশিগানের মিস ইউএসএ ২০২৬ অ্যাম্বার উহলার মাত্র পাঁচ বছর আগেও প্রায় ৩০০ পাউন্ড ওজনের ছিলেন। তিন সন্তানের মা উহলারকে তখন এক চিকিৎসক সতর্ক করে বলেছিলেন, তিনি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন এবং এভাবে চলতে থাকলে অকালমৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। সেই সতর্কবার্তার পর জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে তিন বছরের বেশি সময় ধরে ডায়েট ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ১৭০ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন তিনি। এখন ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিযোগী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন তিনি।   পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উহলার জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বড় ধরনের সতর্কবার্তা পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক তাকে স্থূলতা ও প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকির কথা জানান এবং সন্তানদের হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত বেঁচে থাকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   এর কিছুদিন পর সন্তানদের সঙ্গে একটি ট্রাম্পোলিন পার্কে গিয়ে আরও একটি ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ফোমের একটি গর্তে লাফ দেওয়ার পর সেখান থেকে তিনি নিজে বের হতে পারছিলেন না। তিনজন শক্তিশালী ব্যক্তি তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ফায়ার ডিপার্টমেন্টকে ডাকতে হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।   উহলার বলেন, ওই অভিজ্ঞতার পর তিনি বুঝতে পারেন, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জীবনযাপন যেমন কঠিন, তেমনি ওজন কমানোর পথও কঠিন। এরপর তিনি নিজের জন্য একটি লক্ষ্য ঠিক করেন - সুস্থ হয়ে একদিন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।   তবে শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল না ১৭০ পাউন্ড ওজন কমানো। বরং তিনি সুস্থ জীবনযাপন শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কঠোর ডায়েট ও ব্যায়ামের পর ২০২৪ সালে তিনি মিসেস ফ্লোরিডা ইউনিভার্স খেতাব জেতেন। পরে ফ্লোরিডার প্রতিনিধিত্ব করে মিসেস ইউনিভার্স ইউএসএ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মিসেস ইউনিভার্স খেতাবও অর্জন করেন।   তবে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি ওপেন কাস্টিং কলের মাধ্যমে তাকে মিস মিশিগান ইউএসএ ২০২৬ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২৭ আগস্ট মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার ৭৫তম আসরে মিশিগানের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।   ৪১ বছর বয়সী উহলার এবার প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বয়স্ক অংশগ্রহণকারী। শুরুতে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, বিশের কোঠায় থাকা তরুণ প্রতিযোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি অনুভব করবেন। কিন্তু মিয়ামিতে এসে তার অভিজ্ঞতা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন।   উহলার জানান, অন্য প্রতিযোগীরা তাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করছেন। এমনকি তরুণ প্রতিযোগীরাও তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। ফলে নিজের বয়সকে এখন তিনি দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখছেন।   তার মতে, বয়সের সঙ্গে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ ওজন কমানোর যাত্রা তাকে আত্মবিশ্বাস, পরিপক্বতা ও প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক প্রস্তুতি দিয়েছে। তিনি মনে করেন, মিস ইউএসএ এখন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়; একজন প্রতিযোগী সমাজ ও মানুষের জন্য কী নিয়ে আসতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।   উহলারের কাছে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার স্বপ্ন পূরণ নয়। তার নিজের ভাষায়, এটি তার জীবনের নতুন অধ্যায়। যে নারী কয়েক বছর আগে নিজের স্বাস্থ্যের জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন, তিনিই এখন দেশের অন্যতম বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে চান।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে স্থায়ী পদে কর্মী নিয়োগের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে সরকারি চাকরির সুযোগ! ঘণ্টায় প্রায় ২২ থেকে ৩০ ডলার আয়

মিশিগানে সরকারি চাকরি খুঁজছেন এমন প্রার্থীদের জন্য ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে নতুন নিয়োগের সুযোগ এসেছে। আগস্টে প্রকাশিত একাধিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড ৬-ই৮ পদে স্থায়ী ফুলটাইম কর্মী নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি বিজ্ঞপ্তিতে বেতন প্রতি দুই সপ্তাহে ১,৭৫৩.৬০ থেকে ২,৪১৭.৬০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।   মিশিগান সিভিল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড পদে মূলত সেক্রেটারি অব স্টেটের শাখা অফিসে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা দিতে হয়। গ্রাহকের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা, বিভিন্ন ট্রানজেকশন প্রসেস করা, সেবার নিয়ম ও বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া এবং নির্ভুলতার সঙ্গে কাজ করা এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।   তবে একটি বিষয় চাকরিপ্রার্থীদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার। ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড ৬ হলো এন্ট্রি লেভেল পদ, যেখানে সাধারণত হাই স্কুল শেষ করার সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন এবং নির্দিষ্ট ধরনের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু ৬-ই৮ গ্রেডটি অভিজ্ঞ পর্যায়ের পদ।   মিশিগান সিভিল সার্ভিসের বর্তমান চাকরির স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ই-৮ পর্যায়ে পৌঁছাতে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড সিরিজে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি থাকলেই ৬-ই৮ পদে সরাসরি যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না।   এই পদে গাড়ির লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, গাড়ির টাইটেলসহ মিশিগান সেক্রেটারি অব স্টেটের বিভিন্ন সেবা সংক্রান্ত কাজও থাকতে পারে। কাজের ধরন অনুযায়ী গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং বিপুলসংখ্যক ট্রানজেকশন সামলানোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।   আগস্টে প্রকাশিত একটি ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড ৬-ই৮ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী ফুলটাইম পদ হিসেবে প্রতি দুই সপ্তাহে ১,৭৫৩.৬০ থেকে ২,৪১৭.৬০ ডলার বেতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে বার্ষিক ৪৫,৫৯৩.৬০ থেকে ৬২,৮৫৭.৬০ ডলার পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়েছে। পদ, লোকেশন ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বেতন ও শেষ তারিখ ভিন্ন হতে পারে।   মিশিগান স্টেট গভর্নমেন্টের ফুলটাইম কর্মীরা চাকরির ধরন ও যোগ্যতা অনুযায়ী হেলথ ইন্স্যুরেন্স, রিটায়ারমেন্ট সুবিধা, পেইড লিভসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান। এছাড়া রাজ্য সরকারের চাকরিতে কর্মীদের জন্য অন্যান্য আর্থিক ও ক্যারিয়ার সুবিধাও রয়েছে।   আবেদন করতে হলে মিশিগান স্টেটের সরকারি চাকরির পোর্টালে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজে আবেদন করতে হয়। আবেদন সাধারণত নিওগভ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে জমা দিতে হয়। চাকরিপ্রার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট জব স্পেসিফিকেশন, পজিশন ডেসক্রিপশন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।   মিশিগানের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের চাকরিতে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকসহ অতিরিক্ত নিয়োগ শর্তও থাকতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট পদে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত যাচাই করা উচিত।   আগস্টে প্রকাশিত কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শেষ তারিখ ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে একই গ্রেডের নতুন পদ আগস্টেই প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু বিজ্ঞপ্তির আবেদন সময়ও চলমান রয়েছে। ফলে মিশিগানে সরকারি চাকরি খুঁজছেন এমন প্রার্থীদের জন্য প্রতিটি নতুন পোস্টিং আলাদাভাবে দেখে দ্রুত আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ।

তাবাস্সুম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক স্কুলের তালিকায় শীর্ষ ১২-তে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক স্কুলের তালিকায় শীর্ষ ১২-তে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক হাইস্কুলগুলোর বার্ষিক তালিকায় এবার রাজ্যের শীর্ষস্থান দখলের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম ১২-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি। গত ১৮ আগস্ট Patch-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৮ হাজার পাবলিক স্কুলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এই তালিকা প্রকাশ করেছে ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট।   মিশিগানের ব্লুমফিল্ড হিলস, হোয়াইট লেক এবং ট্রয়—এই তিনটি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত এই পাবলিক ম্যাগনেট স্কুলটি সারা দেশের মধ্যে ১২তম স্থান অর্জন করেছে।   ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট মূলত কলেজ প্রস্তুতি, রাজ্যভিত্তিক মূল্যায়নে দক্ষতা, স্নাতক পাসের হার এবং পাঠ্যক্রমের বিস্তৃতির মতো ছয়টি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এই র‍্যাংকিং তৈরি করে থাকে। ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতক পাসের হার ৯৯ শতাংশ।   সব মিলিয়ে ১০০-এর মধ্যে ৯৯.৯৩ স্কোর অর্জন করেছে স্কুলটি। হুরন ভ্যালি স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট পল সালাহ এক ইমেইল বার্তায় এই সাফল্যকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের অসামান্য প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্যের সেরা এবং জাতীয় পর্যায়ে ১২তম স্বীকৃতি পাওয়াটা একটি অসাধারণ অর্জন, যা শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার একাডেমিক সুযোগের বিষয়টি তুলে ধরে।   ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের মূল্যায়নে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেরা পাবলিক হাইস্কুল নির্বাচিত হয়েছে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মুরফ্রিজবোরোতে অবস্থিত সেন্ট্রাল ম্যাগনেট স্কুল।   তবে মিশিগানের অন্যান্য স্কুলগুলোও এই জাতীয় তালিকায় বেশ ভালো অবস্থান তৈরি করেছে। WZZM13-এর সংবাদ অনুযায়ী, ক্লিনটন টাউনশিপের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ম্যাকম্ব জাতীয় পর্যায়ে ২১তম এবং গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসের সিটি হাই মিডল স্কুল ৬০তম স্থানে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ফলাফল মিশিগানের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নেরই একটি ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের হর্টনে পাইন হিল লেকের তীরে নির্মিত বিলাসবহুল বাড়িটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে লেকের নীল পানির পাশে একটি বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়, দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১৩ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হর্টনে লেকের পাড়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়। চারপাশে নির্মল পানি, প্রশস্ত খোলা জায়গা এবং আধুনিক সব সুবিধা থাকা পাঁচ শয়নকক্ষের এই বাড়িটির বর্তমান তালিকামূল্য ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান, যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী টাকার অঙ্কে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। বাড়িটির ঠিকানা ২৬০ পাইন হিল লেক ড্রাইভ। রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটি বিক্রির জন্য সক্রিয় রয়েছে।   জ্যাকসন কাউন্টির হর্টনে অবস্থিত বাড়িটি পাইন হিল লেকের তীরে তৈরি। বিক্রির বিজ্ঞাপনে এটিকে এমন একটি আবাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মিশিগানের উত্তরাঞ্চলের অবকাশযাপনের আবহ পাওয়া যাবে, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হবে না।   বাড়িটির আয়তন ৩ হাজার ৩৫৩ বর্গফুট। এতে পাঁচটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং দুই গাড়ি রাখার গ্যারেজ রয়েছে। ২০১৭ সালে নির্মিত বাড়িটির নকশাকে আধুনিক প্রেইরি-ধাঁচের বিলাসবহুল স্থাপত্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমানে বাড়িটি বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রিয়েলম্যাক্স মিড-মিশিগান।   বাড়িটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর লেকমুখী অবস্থান। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির প্রায় ৭৭ ফুট দীর্ঘ জলসীমা রয়েছে এবং এটি ফারওয়েল ও পাইনহিল হ্রদশ্রেণির সঙ্গে যুক্ত এলাকায় অবস্থিত। পাইন হিল লেকের পানি বসন্তের প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসা এবং স্বচ্ছ বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের দিক থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।   বাড়ির পেছনে রয়েছে বড় আচ্ছাদিত প্যাটিও বা বসার জায়গা। সেখানে আরামদায়ক চেয়ার, পানিতে ডুবে আরাম করার জন্য স্থায়ী গরম পানির ব্যবস্থা, ঘোরানো যায় এমন টেলিভিশন এবং বাইরের রান্নাঘর রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্য বা অতিথিদের নিয়ে দীর্ঘ সময় বাইরে বসে লেকের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে।   প্যাটিও থেকে ইটের তৈরি একটি পথ গিয়ে পৌঁছেছে আরেকটি আলাদা বসার জায়গায়। সেখানে রয়েছে অগ্নিকুণ্ড এবং খোলা আকাশের নিচে বসার ব্যবস্থা। ফলে সন্ধ্যায় লেকের পাশে বসে সময় কাটানো থেকে শুরু করে অতিথিদের নিয়ে আয়োজন, সবকিছুর জন্যই জায়গাটি উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।   বাড়ির ভেতরে ঢুকলে বড় প্রবেশপথ থেকে একটি উন্মুক্ত নকশার বসার জায়গায় যাওয়া যায়। উঁচু ছাদ এবং লেকের দিকে থাকা বড় বড় জানালা ঘরগুলোতে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জানালাগুলো থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।   প্রধান তলায় রয়েছে বসার ঘর, যেখানে পাথর দিয়ে তৈরি অগ্নিকুণ্ড রয়েছে। এর পাশেই আধুনিক রান্নাঘর। রান্নাঘরে রয়েছে ক্যামব্রিয়া কোয়ার্টজের প্রশস্ত দ্বীপ, স্টেইনলেস স্টিলের সরঞ্জাম এবং কাচের টাইলসের পেছনের দেয়াল। রান্নাঘর ও বসার জায়গার উন্মুক্ত বিন্যাস পুরো তলাটিকে আরও প্রশস্ত দেখায়।   এই তলাতেই রয়েছে লেকমুখী দুটি শয়নকক্ষ এবং দেড়টি বাথরুম। ভেতরের সিঁড়িটি প্রচলিত সিঁড়ির মতো নয়। ভাসমান কাঠামোর এই সিঁড়ি একটি খোলা সংযোগপথের ওপর দিয়ে দ্বিতীয় তলায় পৌঁছেছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে আরও তিনটি শয়নকক্ষ ও দুটি পূর্ণাঙ্গ বাথরুম। বাড়িটির প্রধান শয়নকক্ষটি দ্বিতীয় তলায়। এর সঙ্গে রয়েছে আলাদা পোশাক রাখার ঘর এবং ব্যক্তিগত বাথরুম। বাথরুমে রয়েছে আলাদা রাখা বড় পানিতে ভেজার টব এবং ওপর থেকে বৃষ্টির মতো পানি পড়ার ব্যবস্থা করা ঝরনা।   বাড়িটির নকশায় অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক বিনোদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেতর ও বাইরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা, তারবিহীন রেলিং, রান্নাঘরের ওপরে ঝুলন্ত ছাদ, বিশেষ নকশার আলোকসজ্জা এবং রঙ পরিবর্তন করা যায় এমন কলসহ বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশস্ত কংক্রিটের প্রবেশপথ, সংরক্ষণাগার এবং পুরো বাড়ির জন্য স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ জেনারেটরও রয়েছে। এসব সুবিধার কারণে বাড়িটি শুধু ছুটির দিনে ব্যবহারের জন্য নয়, সারা বছর বসবাসের উপযোগী হিসেবেও বাজারজাত করা হচ্ছে।   লেকের আশপাশেও রয়েছে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগ। কাছেই নৌযানের জ্বালানি নেওয়ার জন্য একটি জলপথের ঘাট, আইসক্রিমের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং গলফ কোর্স রয়েছে। ফলে বাড়িতে থাকার পাশাপাশি আশপাশে বিনোদনের সুযোগও পাওয়া যাবে। বাড়িটি একটি ব্যক্তিগত শান্ত পরিবেশের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। একই সঙ্গে মিশিগানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকার সঙ্গে এর যোগাযোগও তুলনামূলক সহজ। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, মনরো, টলেডো, নোভাই, নর্থভিল, ল্যান্সিং ও অ্যান আরবার থেকে বাড়িটি প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে।   বাড়িটি প্রথমবার ২০২৬ সালের ৬ জুন ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ১৮-১৯ জুন এর দাম কমিয়ে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার করা হয়। বর্তমানে সেটিই তালিকাভুক্ত মূল্য হিসেবে রয়েছে।   লেকের পানির দৃশ্য, ব্যক্তিগত জলসীমা, বড় প্যাটিও, গরম পানির ব্যবস্থা, বাইরের রান্নাঘর এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ নকশা মিলিয়ে বাড়িটি মিশিগানের লেকফ্রন্ট আবাসনের একটি বিলাসবহুল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তাই যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান, তাদের জন্য বাড়িটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে ইসলামবিদ্বেষী উগ্র ডানপন্থীদের সমাবেশে পুলিশের অভিযান
মিশিগানে ইসলামবিদ্বেষী উগ্র ডানপন্থীদের সমাবেশে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ২২

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরে আয়োজিত এক উগ্র ডানপন্থী ও ইসলামবিদ্বেষী সমাবেশে অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় জড়িত জেইক ল্যাংয়ের নেতৃত্বে একদল খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী ওই সমাবেশে অংশ নেন।   এ সময় তারা হেনরি ফোর্ড সেন্টেনিয়াল লাইব্রেরি ভবন ঘেরাও করেন, যেখানে সিটি কাউন্সিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। সমাবেশের কথা আগেই জানতে পেরে কর্মকর্তারা তাদের নিয়মিত স্থান থেকে বৈঠকটি এই লাইব্রেরিতে সরিয়ে নিয়েছিলেন।   ‘খ্রিষ্টান ক্রুসেডার মার্চ’ নামের এই বিতর্কিত সমাবেশের নেতৃত্বে জেইক ল্যাংয়ের পাশাপাশি ডেট্রয়েটের যাজক লরেঞ্জো সিওয়েলও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ভবনের বাইরে জড়ো হওয়া শত শত বিক্ষোভকারী একপর্যায়ে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালান।   ডিয়ারবর্নের পুলিশপ্রধান ইসা শাহিন এক বিবৃতিতে জানান, পুলিশ অত্যন্ত পেশাদারির সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিটি কাউন্সিলকে নির্বিঘ্নে তাদের কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ করে দিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে শান্তি ভঙ্গ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের অনেকেই বহিরাগত এবং তারা নিউইয়র্ক ও টেনেসিসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছিলেন।   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আরব-আমেরিকান ও মুসলিম অধ্যুষিত শহর হিসেবে পরিচিত ডিয়ারবর্ন। সেখানে এ ধরনের উসকানিমূলক সমাবেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট পদপ্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। তিনি বহিরাগত এই আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে বলেন, তারা মিশিগানের চমৎকার সম্প্রীতি ও আমেরিকার আদর্শকে অবমাননা করে এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এসেছে।   জেইক ল্যাং, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাইক রজার্সের মতো ব্যক্তিরা আমেরিকাকে ছোট করে দেখাতে চান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মানুষ কীভাবে প্রার্থনা করে তার চেয়ে তারা কীসের জন্য প্রার্থনা করে, সেটিই সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মিশিগান থেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছেন আবদুল এল সাইদ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়তে চলেছেন এল সাইদ!

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছেছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আবদুল এল সাইদ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে মিশিগান থেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। নভেম্বরে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ইউএস সিনেটর।   মিশিগানে ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ফল পরদিন নিশ্চিত হয়। ভোট গণনা রাত পেরিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত খুব অল্প ব্যবধানে স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলেন এল সাইদ। ফল ঘোষণার পর স্টিভেন্সও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সাধারণ নির্বাচনে সমর্থনের ঘোষণা দেন।   এল সাইদের এই জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়। মিশিগানের ওপেন সিনেট আসনটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি এবার উন্মুক্ত হয়েছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে আসনটি ধরে রাখা ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   প্রাইমারি জয়ের পর নিজের পারিবারিক ইতিহাসও সামনে আনেন এল সাইদ। মিশরীয় বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের সন্তান তিনি। তার বাবা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে ডেট্রয়েটে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। এল সাইদ বলেছেন, তার বাবার সেই সিদ্ধান্ত না থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো হয়তো তার জীবনও মিশরেই কাটত।   কিন্তু অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক অবস্থানই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতিতে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব কমানো, শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ইসরায়েলসহ বিদেশি সামরিক বাহিনীতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিরোধিতা তার প্রচারণার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল।   বিশেষ করে ইসরায়েল ইস্যুতে এল সাইদ ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্সের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য ছিল। স্টিভেন্স ইসরায়েলের প্রতি জোরালো সমর্থনের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে এল সাইদ ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ দেশের স্কুল, রাস্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন পূরণে ব্যয় হওয়া উচিত।   এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রাইমারিতে বিপুল পরিমাণ বাইরের অর্থও খরচ হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, এল সাইদের বিরুদ্ধে এবং স্টিভেন্সের পক্ষে কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করে বাইরের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। এর মধ্যে ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলোর ব্যয়ও ছিল উল্লেখযোগ্য।   তারপরও অর্থের লড়াইয়ে অনেক পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছেন এল সাইদ। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে স্টিভেন্সের তুলনায় তিনি বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। এই ফলকে তাই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এল সাইদকে সমর্থন করেছিলেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজসহ প্রগতিশীল রাজনীতির কয়েকজন পরিচিত নেতা। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের একটি বড় অংশ স্টিভেন্সের পাশে ছিল। মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও প্রাইমারির শেষ দিকে স্টিভেন্সকে সমর্থন করেন।   এ কারণে এল সাইদের জয়কে দলের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রগতিশীল অংশের একটি বড় সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থান অবশ্য তাকে রাজনৈতিক আক্রমণের মুখেও ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা তার বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। এল সাইদ ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনা এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এক বিষয় নয়। নিজের নির্বাচনী এলাকার ইহুদি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।   রাজনীতিতে আসার আগে এল সাইদের পরিচিতি তৈরি হয়েছিল জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তিনি চিকিৎসক নন, বরং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষিত একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও প্রশাসক। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট হেলথ ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো শহরের জনস্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন এল সাইদ।   ডেট্রয়েটে দায়িত্ব পালনের সময় শিশু মৃত্যুহার কমানো, স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং স্কুলে সীসার ঝুঁকি শনাক্ত করার মতো বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে কাজ করেন তিনি।   ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পান এল সাইদ। সেই নির্বাচনেও তার প্রচারণার মূল বিষয় ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং রাজনীতিতে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব হ্রাস করা। সে প্রাইমারিতে তিনি গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন।   আট বছর পর এবার ইউএস সিনেটের প্রাইমারিতে সেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নিয়েই বড় জয় পেয়েছেন তিনি।   তবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা এখনো সামনে। নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে এল সাইদের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে রজার্স বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনয়ন পেয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনও তার সঙ্গে রয়েছে।   মিশিগানকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পেলেও সাধারণ নির্বাচনে এল সাইদের সামনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে।   নভেম্বরের ফলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ও জড়িয়ে আছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মুসলিম ইউএস সিনেটর নির্বাচিত হননি।   সেই ইতিহাস পরিবর্তনের সুযোগ এখন আবদুল এল সাইদের সামনে। মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের এই সন্তান শুধু মিশিগানের নতুন সিনেটরই হবেন না, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে ইউএস সিনেটে প্রবেশ করবেন।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জেক ল্যাংয়ের আগমন ঘিরে ডিয়ারবর্নে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষে জড়াল দুই পক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের সিটি কাউন্সিলের বৈঠককে ঘিরে উভয় পক্ষের বিক্ষোভকারীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বৈঠকের বাইরে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে নাৎসি প্রতীকসংবলিত পোশাক পরতেও দেখা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মী জেক ল্যাং। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিয়ারবর্ন সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি হেনরি ফোর্ড সেন্টেনিয়াল লাইব্রেরিতে যান। ল্যাংয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি তার বিরোধিতাকারীরাও সেখানে জড়ো হন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ২ ডেট্রয়েটের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলার পর ল্যাং ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি দল লাইব্রেরির দিকে ছুটে যায়। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে নামে।   বৈঠকের ভেতরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ল্যাং খ্রিস্টান শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে অন্যরা প্রতিস্থাপন করছে বলে দাবি করেন। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবাদ জানান এবং তাকে উদ্দেশ করে কটূক্তিও করা হয় বলে ফক্স ২ জানিয়েছে। বাইরে একই সময়ে ল্যাংয়ের সমর্থক এবং তার ইসলামবিরোধী অবস্থানের বিরোধীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়।   পরিস্থিতির মধ্যে ডিয়ারবর্নের মেয়র আবদুল্লাহ হামুদ শহরের বহুত্ববাদী চরিত্রের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ডিয়ারবর্নকে মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া একটি শহর হিসেবে উপস্থাপন করা হলে শুধু মুসলিম ও আরবদেরই আক্রমণ করা হয় না, বরং শহরের খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের অবদানও অস্বীকার করা হয়।   ডিয়ারবর্নের কর্মকর্তারা আগে থেকেই বাসিন্দাদের সতর্ক করেছিলেন, যেন সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে প্রয়োজনীয় কাজ না থাকলে সেখানে না যান। পুলিশের পক্ষ থেকেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ প্রধান ইসা শাহিন জানিয়েছিলেন, শহরের বাইরের বিভিন্ন গোষ্ঠী বৈঠকে আসতে পারে বলে তারা খবর পেয়েছেন। এ কারণে বৈঠকের স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছিল।   এর আগে স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারাও মেয়র ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা ডিয়ারবর্নকে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের শহর হিসেবে তুলে ধরেন এবং ঘৃণার পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেন।   ডিয়ারবর্নের ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ শহরটিতে বড় আরব-আমেরিকান ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এর আগেও শহরটি জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। এবার ল্যাংয়ের ঘোষিত ‘ক্রিশ্চিয়ান ক্রুসেডার মার্চ’কে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করে।   জেক ল্যাং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় অংশ নেওয়ার পর কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান। এরপর তিনি ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ আয়োজন করে আসছেন।   ডিয়ারবর্নের পুলিশ জানিয়েছে, ল্যাংয়ের বক্তব্য দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মতপ্রকাশের অধিকার বজায় রেখেই সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো এবং অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি মিশিগান স্টেট পুলিশ, ওয়েইন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়।   ল্যাংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ডেট্রয়েটের যাজক ও ট্রাম্প সমর্থক লরেঞ্জো সেওয়েলেরও। সেওয়েল দাবি করেন, তিনি ইসলামবিরোধী নন; বরং ডিয়ারবর্নে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের জন্য সমান সুযোগের প্রশ্ন তুলতেই তিনি ল্যাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।   তবে শহরের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছিলেন, বাইরের বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি স্থানীয় পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ডিয়ারবর্ন পুলিশ ও মিশিগানের আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিলের মিশিগান শাখাও বাসিন্দাদের বৈঠক এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল।   মঙ্গলবারের ঘটনাকে ঘিরে ডিয়ারবর্নে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী, পুলিশ ও সংবাদকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান থেকে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে গভীর জঙ্গল থেকে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার মা-ছেলে, বেঁচেছিলেন গাছের ছাল-পিঁপড়া খেয়ে
মিশিগানে গভীর জঙ্গল থেকে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার মা-ছেলে, বেঁচেছিলেন গাছের ছাল-পিঁপড়া খেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম মিশিগানে টিউবিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক মা, তাঁর ৯ বছরের ছেলে এবং এক আত্মীয়কে প্রায় তিন দিন পর গভীর জঙ্গল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মাসকিগন নদীতে টিউবিং করার সময় গাছের গুঁড়ির ধাক্কায় তাদের টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা নদীর এক দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন।   নিখোঁজ এই তিনজন হলেন ২৮ বছর বয়সী সারাহ ভিদা, তাঁর ছেলে কেডেন কোভালসিক এবং সারাহর ২৮ বছর বয়সী খালাতো বোন জ্যাজমিন হক। উদ্ধার অভিযানের হৃদয়স্পর্শী ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে।   গত ৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে খবর দেন। নদীর তীরে তাদের গাড়ি পাওয়ার পর পুলিশ, প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, উদ্ধারকারী দল ও কুকুর ইউনিট ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। টানা তিন দিন পর কাদা-মাটিতে পায়ের ছাপ, ভাঙা ডালপালা, নুয়ে যাওয়া ঘাস ও নদীর পাশে পড়ে থাকা টিউবের সূত্র ধরে উদ্ধারকারীরা জঙ্গলের গভীরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন।   উদ্ধারকারীদের চিৎকারের জবাবে শিশু কেডেনের আওয়াজ শুনে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তখন তারা চরম ক্লান্তি, পানিশূন্যতা, শরীরজুড়ে কাটা-ছেঁড়া ও পোকামাকড়ের কামড়ে জর্জরিত ছিলেন। জানা যায়, এই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার জন্য তারা নদীর পানি পানের পাশাপাশি ফুল, গাছের ছাল এবং পিঁপড়া পর্যন্ত খেয়েছেন।   উদ্ধারের সময় ৯ বছরের শিশু কেডেনকে এক কর্মকর্তা পিঠে করে জঙ্গল থেকে বের করে আনেন এবং চরম দুর্বল দুই নারীকে স্ট্রেচারে করে আনা হয়। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে বর্তমানে তারা সবাই সুস্থতার পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা ক্যামেরন রাইট এই ঘটনাকে ‘প্রায় অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিন দিন ধরে জঙ্গলের মাঝে ভয়, ক্ষুধা আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর পরিবারের সঙ্গে তাদের পুনর্মিলনের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ও স্বস্তিদায়ক।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০