সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারের রিডিংয়ে প্রবীণদের ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস নিয়ে বিরোধের অবসানে বাসা ছাড়তে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশি শহিদুল হক। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে প্রবীণদের নির্ধারিত ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস, বাংলাদেশি শহিদুল হকের পরিবারেকে ছাড়তে হল ফ্ল্যাট

যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারের রিডিংয়ে প্রবীণদের জন্য নির্ধারিত একটি ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস নিয়ে বিরোধের অবসানে বাসা ছাড়তে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশি শহিদুল হক। হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন সাউদার্ন হাউজিংয়ের সঙ্গে আদালতের বাইরে এই সমঝোতা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বি রেডিওর ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিডিং কাউন্টি কোর্টে পরবর্তী শুনানিতে মামলার খরচের বিষয়টিও নিষ্পত্তি হয়েছে। বিচারক ক্যাথরিন ফিশার কোনো পক্ষকে অন্য পক্ষের কাছ থেকে আইনি খরচ দেওয়ার আদেশ দেননি।    প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহিদুল হক ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ডেভিড স্মিথ কোর্টের এক বেডরুমের ফ্ল্যাটটিতে ওঠেন। কয়েক মাস পর তাঁর স্ত্রী ও দুই যমজ সন্তান সেখানে বসবাস শুরু করেন। আবাসনটি ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত এবং সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটটি একজনের বসবাসের জন্য বরাদ্দ ছিল। পরিবার নিয়ে সেখানে থাকা চুক্তির শর্তের পরিপন্থী বলে সাউদার্ন হাউজিং ফ্ল্যাটটির দখল ফিরে পেতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।    আবাসন কর্তৃপক্ষের আদালতে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরিবারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শব্দ ও প্রতিবেশীদের অসুবিধা সৃষ্টির অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। কয়েকজন বাসিন্দাও সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁদের অসন্তোষ জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই। শহিদুল হকের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিরোধিতা এবং পরিবারটির আবাসনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল।    শহিদুল হকের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, তাঁকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে তাঁর স্বাস্থ্য ও পারিবারিক জীবনে গুরুতর প্রভাব পড়বে। তাঁরা ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সীমিত ইংরেজি দক্ষতা এবং সিলেটি ভাষায় চুক্তি ব্যাখ্যা না করার কারণে তিনি শর্তগুলো যথাযথভাবে বুঝতে পারেননি বলেও দাবি করা হয়। সাউদার্ন হাউজিং এসব যুক্তির বিরোধিতা করে চুক্তির শর্ত মেনে চলার প্রশ্ন তোলে।    বি রেডিও জানিয়েছে, বুধবার ২১ অক্টোবরের শুনানিতে শহিদুল হকের পক্ষে আইনি খরচ পাওয়ার আবেদন করা হয়। বিপরীতে সাউদার্ন হাউজিংয়ের প্রতিনিধি জানান, প্রতিষ্ঠানটি আদালতের বাইরে সমঝোতায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্যের পর বিচারক কাউকেই আইনি খরচ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া উপযুক্ত হবে না বলে সিদ্ধান্ত দেন। এই সমঝোতা মানবাধিকারসংক্রান্ত যুক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
তরুণী এরিন বেনেট
গোয়েন্দা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণীর

যুক্তরাজ্যে পুলিশের গোয়েন্দা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ২২ বছর বয়সী তরুণী এরিন বেনেট। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে স্বপ্নের চাকরিও পেয়েছিলেন তিনি। আর কিছুদিন পরই নর্থামব্রিয়া পুলিশে গোয়েন্দা হওয়ার প্রশিক্ষণ শুরু করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু নতুন কর্মজীবন শুরুর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণী। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের নর্থাম্বারল্যান্ডে তিনটি গাড়ির সংঘর্ষে নিহত হন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরিন বেনেট নর্থাম্বারল্যান্ডের ক্রামলিংটন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজি ও সাইকোলজি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। পড়াশোনা শেষে নর্থামব্রিয়া পুলিশে চাকরির সুযোগ পান। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের। সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাওয়ায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন এরিন। কিন্তু প্রশিক্ষণ শুরু করার আগেই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।   নর্থামব্রিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১২টার কিছু পর নর্থাম্বারল্যান্ডের ফেলটন এলাকার কাছে এ১ মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে তিনটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল একটি সাদা রঙের নিসান কাশকাই, একটি লাল রঙের রেনল্ট ক্লিও এবং একটি সাদা টেসলা মডেল থ্রি। নিসান গাড়িটি উত্তর দিকে এবং অন্য দুটি গাড়ি দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। কোন পরিস্থিতিতে গাড়িগুলোর সংঘর্ষ হয়, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।   পুলিশ জানিয়েছে, এরিন লাল রঙের রেনল্ট ক্লিও গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। সংঘর্ষের পর জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। দুর্ঘটনায় নিসান গাড়ির চালক সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। একই গাড়ির একজন যাত্রী গুরুতর আহত হলেও পরে হাসপাতাল ছাড়েন। অন্যদিকে টেসলা গাড়িতে থাকা চারজন আহত হন। তবে তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।   দুর্ঘটনার পর এ১ মহাসড়কের সংশ্লিষ্ট অংশ প্রায় নয় ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। জরুরি সেবার একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নর্থামব্রিয়া পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চালকের বিরুদ্ধে দুর্ঘটনার দায় নিশ্চিত করা হয়নি।   বুধবার (২১ অক্টোবর) পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এরিনকে অত্যন্ত যত্নশীল, চিন্তাশীল ও প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। স্বজনেরা জানান, পরিবারের কাছে তিনি শুধু একজন মেয়ে কিংবা বড় বোন ছিলেন না, ছিলেন তাঁদের সবচেয়ে কাছের বন্ধুও। তাঁর হাসি এবং আন্তরিক আচরণ আশপাশের মানুষকে আনন্দ দিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে নিজের পছন্দের পেশায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।   পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নর্থামব্রিয়া পুলিশে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি এরিনের জন্য ছিল বিশেষ আনন্দের। গোয়েন্দা হওয়ার প্রশিক্ষণ শুরু করার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে এমন এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় যাঁরা সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন এবং জরুরি সেবার কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই কঠিন সময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্মান করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।   এরিনের প্রেমিক ক্রেগও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এরিনকে নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। ক্রেগ জানান, এরিনের হাসি ও ব্যক্তিত্ব তাঁকে সব সময় আনন্দ দিত। তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি সারা জীবন ধরে রাখবেন তিনি। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার আগেই এরিনকে হারানোর ঘটনা তাঁর কাছের মানুষদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।   এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তা চেয়েছে নর্থামব্রিয়া পুলিশ। তদন্তকারীরা বিশেষ করে দুর্ঘটনার আগে সংশ্লিষ্ট তিনটি গাড়ির চলাচলের সিসিটিভি কিংবা ড্যাশক্যামের ফুটেজ খুঁজছেন। সার্জেন্ট গ্রেগ হান্টলি জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে ছোট কোনো তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দুর্ঘটনার সময় এ১ মহাসড়কের ওই অংশ দিয়ে যাঁরা যাতায়াত করছিলেন, তাঁদের কাছে কোনো তথ্য বা ভিডিও থাকলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   এরিনের মৃত্যু উত্তর ইংল্যান্ডের এ১ মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নর্থাম্বারল্যান্ডের এ১ মহাসড়কে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালে এই সড়কে নিহতের সংখ্যা এরিনকে নিয়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ায় সড়কটির নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে এরিনের মৃত্যুর সঙ্গে সড়কের কাঠামোগত কোনো ত্রুটির সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   মাত্র ২২ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন এবং স্বপ্নের চাকরি পাওয়ার পর জীবনের নতুন পথচলা শুরু করার অপেক্ষায় ছিলেন এরিন বেনেট। পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল অনেক আশা। সেই প্রস্তুতির মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন শেষ হয়ে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে পরিবার এখন এরিনের স্মৃতি নিয়েই এই আকস্মিক ক্ষতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েও ধরা সৎবাবা
যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে হ ত্যা করে আ ত্মহ ত্যার নাটক সাজিয়েও ধরা সৎবাবা

যুক্তরাজ্যের প্রেস্টনে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী কার্লা জর্জেস্কুকে হত্যার দায়ে তাঁর সৎবাবা নাথান ওয়েন্সকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালতের জুরি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রায় দেওয়া হয়। ল্যাঙ্কাশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন ৩৪ বছর বয়সী ওয়েন্স। ২৩ অক্টোবর তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।   কার্লা ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ারে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রেস্টনের শিক্ষার্থী আবাসন থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়। সেদিন ছিল তাঁর ২০তম জন্মদিন। রোমানিয়ার বুখারেস্টে জন্ম নেওয়া কার্লা ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসাসেবায় কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন বলে তাঁর শিক্ষকেরা জানিয়েছিলেন।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে হার্টলপুল থেকে প্রেস্টনে যান ওয়েন্স। কার্লার মায়ের ফেলে আসা পার্স নিতে যাচ্ছেন বলে তাঁকে বার্তা দেন। মায়ের সঙ্গে আসছেন বলেও বোঝান তিনি। এই অজুহাতে কার্লার আবাসনে প্রবেশ করে তাঁর কক্ষে যান ওয়েন্স।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সেখানে কার্লার ওপর সহিংস ও যৌন হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল সাজিয়ে আত্মহত্যার ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন ওয়েন্স। পুলিশ প্রথমে সেই সম্ভাবনা বিবেচনা করলেও ঘটনাস্থলে অসংগতি দেখে আরও তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভির ফুটেজও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   ওয়েন্স হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করায় মামলাটি বিচারে যায়। তিনি আদালতে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দেননি। সব সাক্ষ্যপ্রমাণ শোনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনার শেষে জুরি তাঁকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। তদন্তে কার্লার প্রতি তাঁর যৌন আসক্তির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।   কার্লার মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে স্মরণ করে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর শিক্ষকেরা তাঁকে আন্তরিক, মেধাবী ও উৎসাহী শিক্ষার্থী হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শোক প্রকাশ করে এবং ঘটনায় প্রভাবিত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সহায়তা দেওয়ার কথা জানায়।   সূত্র: ল্যাঙ্কাশায়ার পুলিশ ও আইটিভি নিউজ

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে পেনশন বাড়ছে প্রায় ৫০০ পাউন্ড
ট্রিপল লক নীতিতে ২০২৭ সালে বাড়ছে যুক্তরাজ্যের পেনশন, বার্ষিক আয় ছাড়াবে ১৩ হাজার পাউন্ড

যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর এসেছে। ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশনের বার্ষিক পরিমাণ প্রায় ৪৮৯ পাউন্ড বাড়তে যাচ্ছে। এতে পূর্ণ পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৩ হাজার ৩৬ পাউন্ডে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় ‘ট্রিপল লক’ নীতির আওতায় এই বৃদ্ধি নির্ধারিত হয়েছে। তবে পেনশনের অঙ্ক বাড়লেও আয়কর নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বুধবার, ২১ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর নতুন মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশের পর পেনশন বৃদ্ধির হিসাবটি স্পষ্ট হয়। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। পেনশন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই দুই হারের পাশাপাশি ন্যূনতম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির নিয়মও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তিনটি সূচকের মধ্যে সর্বোচ্চ হার অনুসরণ করায় ২০২৭ সালের পেনশন বৃদ্ধির ভিত্তি হচ্ছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি। বর্তমান হিসাবে, পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা সপ্তাহে ২৪১ পাউন্ড ৩০ পেন্স পান। ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে তা বেড়ে সপ্তাহে প্রায় ২৫০ পাউন্ড ৭০ পেন্স হতে পারে। বছরে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪৮৮ পাউন্ড ৮০ পেন্স, অর্থাৎ প্রায় ৪৮৯ পাউন্ড। এর ফলে পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশনের বার্ষিক পরিমাণ বর্তমান প্রায় ১২ হাজার ৫৪৮ পাউন্ড থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৩৬ পাউন্ডে পৌঁছাবে। পেনশন বৃদ্ধির এই খবর অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বস্তির হলেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে আয়করের বিষয়টি। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ব্যক্তিগত আয়ের করমুক্ত সীমা বছরে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড। ২০২৭ সালে পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশনের পরিমাণ এই সীমা ছাড়িয়ে যাবে। ফলে করমুক্ত সীমা ও বর্তমান নিয়ম অপরিবর্তিত থাকলে শুধু রাষ্ট্রীয় পেনশন থেকে আয় করা কিছু ব্যক্তিরও করের দায় তৈরি হতে পারে। তবে শুধু রাষ্ট্রীয় পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের কর দিতে হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সরকার আগে ইঙ্গিত দিয়েছে, যাঁদের একমাত্র আয় রাষ্ট্রীয় পেনশন, তাঁদের ওপর করের বোঝা চাপানোর কথা নয়। সে কারণে করমুক্ত সীমা বা সংশ্লিষ্ট নিয়মে পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সেন্ট জেমসেস প্লেসের পরামর্শ বিভাগের প্রধান ক্লেয়ার ট্রট বলেছেন, পেনশনের পরিমাণ বাড়ায় অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপকৃত হবেন। তবে পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশন প্রথমবারের মতো ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডের ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর মতে, যাঁদের রাষ্ট্রীয় পেনশনের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের পেনশন, ব্যক্তিগত পেনশন, সঞ্চয় থেকে আয় কিংবা চাকরি করে পাওয়া অর্থ রয়েছে, তাঁদের করের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তিনি অবসরপ্রাপ্তদের আগামী এপ্রিলের আগে নিজেদের মোট অবসরকালীন আয় পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে নতুন পরিবর্তন তাঁদের আর্থিক অবস্থায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা আগে থেকেই বোঝা সম্ভব হবে। হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের অবসরকালীন বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হেলেন মরিসিও বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পেনশন অবসরকালীন আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও এটি দিয়ে সাধারণত মৌলিক প্রয়োজনগুলোই মেটানো সম্ভব। কর্মজীবনে যে জীবনযাত্রার মান ছিল, অবসরের পরও তা ধরে রাখতে চাইলে অতিরিক্ত পেনশন সঞ্চয়ের প্রয়োজন হতে পারে। বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতির পর ব্যক্তিগত পেনশনে জমার পরিমাণ বাড়ানো এবং নিয়োগকর্তা অতিরিক্ত অর্থ দিলে সেই সুবিধা কাজে লাগানোর মতো পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা এখনো অবসর নেওয়ার বয়স থেকে কয়েক বছর দূরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় পেনশন পাওয়ার বয়সও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এজে বেলের জননীতি বিভাগের প্রধান র‍্যাচেল ভেহি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পেনশনের বয়স ৬৭ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করার সিদ্ধান্ত কবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সরকারের সামনে এখনো কঠিন প্রশ্ন রয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এমন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মানুষকে অন্তত ১০ বছর আগে জানানো প্রয়োজন। তাই পরিবর্তনটি ২০৩০-এর দশকের শেষভাগে কার্যকর করতে চাইলে সরকারকে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যুক্তরাজ্য সরকার ২০৩০ সালের এপ্রিল থেকে ট্রিপল লক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে ২০২৭ সালের পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মই প্রযোজ্য থাকবে। নতুন বৃদ্ধি অবসরপ্রাপ্তদের আয় বাড়ালেও করমুক্ত সীমা, ভবিষ্যতে পেনশন পাওয়ার বয়স এবং এই ব্যবস্থার ব্যয় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মনজুরুল হক
যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে, শিশু যৌন নির্যাতন মামলায় দণ্ডিত অপরাধী মনজুরুল

যুক্তরাজ্যে শিশুকে গ্রুমিংয়ের পর যৌন উদ্দেশ্যে দেখা করার চেষ্টার দায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মনজুরুল হককে ৩২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন চেলমসফোর্ড ক্রাউন কোর্ট। ৪১ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বাংলাদেশে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে সাজা ঘোষণা করেন বিচারক ক্রিস্টোফার মর্গ্যান। ২০ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য ডেইলি ড্যাজলিং ডনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনজুরুল অনলাইনে এমন একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, যেটির ব্যবহারকারীকে তিনি ১৩ বছরের কিশোরী বলে বিশ্বাস করতেন। তবে অ্যাকাউন্টটি আসলে শিশুদের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে সক্রিয় একটি দলের পরিচালিত ছদ্মপরিচয় ছিল। ফলে ঘটনাটি বাস্তব কোনো কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগের নয়, বরং অপ্রাপ্তবয়স্ক মনে করে যোগাযোগ ও দেখা করার চেষ্টার মামলা।  আদালতে প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে ওই যোগাযোগ চলে। কথোপকথনে অপর পক্ষের বয়স সম্পর্কে অবগত থাকার পরও মনজুরুল যৌন উদ্দেশ্যে দেখা করার পরিকল্পনা করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হার্লোতে যাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।    মনজুরুলের আইনজীবী আদালতকে জানান, অসুস্থ বাবার দেখাশোনার জন্য তিনি ২০২৩ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে যান। তাঁর আগে কোনো অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার ইতিহাস নেই এবং মোবাইল ফোন পরীক্ষায় শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কোনো ছবি পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিরক্ষা পক্ষ জানায়।  ড্যাজলিং ডনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে যাওয়ার পর মনজুরুল প্রথম দিকে বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে দূর থেকে যোগাযোগ রাখলেও পরে তা বন্ধ করে দেন। তিনি আদালতে হাজির হতে যুক্তরাজ্যে ফেরেননি এবং ইমেইলেরও উত্তর দিচ্ছিলেন না। এরপর আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতেই কারাদণ্ড ঘোষণা করেন।    তাঁকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যার্পণ ও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন, নির্দিষ্ট চুক্তির ব্যবহার কিংবা কোনো কার্যকর পদক্ষেপের সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।   

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় ই-গেটে পাসপোর্ট না রেখে ফেসিয়াল রিকগনেশন ক্যামেরায় পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ চালু করেছে বর্ডার ফোর্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের ১২ বিমানবন্দরে পাসপোর্ট চেকিংয়ে আসছে নতুন প্রযুক্তি, চেহারা দেখেই পার হওয়া যাবে গেট

যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় যোগ্য যাত্রীদের আর ই গেটের রিডারে পাসপোর্ট রাখতে হবে না। ক্যামেরায় তোলা মুখের ছবি দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটির বর্ডার ফোর্স। গত ৬ অক্টোবর ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দরে শুরু হওয়া এই সুবিধা পর্যায়ক্রমে মোট ১৩টি বিমানবন্দরে সম্প্রসারণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে শুধু ব্রিটিশ নাগরিকেরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন।    ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বর্ডার ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রী ই গেটের সামনে গেলে ক্যামেরা তাঁর মুখের ছবি তুলবে। সেই ছবি আগে থেকে যাচাই করা অভিবাসন, ভ্রমণ ও পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই সফলভাবে শেষ হলে গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।    তবে এই সুবিধা চালুর অর্থ পাসপোর্ট ছাড়া ভ্রমণের অনুমতি নয়। যাত্রীদের অবশ্যই বৈধ পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হবে। মুখের ছবি দিয়ে যাচাই সম্পন্ন না হলে বা বাড়তি পরীক্ষা প্রয়োজন হলে রিডারে পাসপোর্ট রাখতে বলা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তার কাছেও যেতে হবে।    সরকারি তালিকায় ইস্ট মিডল্যান্ডসসহ মোট ১৩টি বিমানবন্দর রয়েছে। বাকি ১২টি হলো বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, কার্ডিফ, এডিনবরা, গ্যাটউইক, গ্লাসগো, হিথ্রো, লন্ডন সিটি, লুটন, ম্যানচেস্টার, নিউক্যাসল ও স্ট্যানস্টেড। অর্থাৎ একটি বিমানবন্দরে শুরু হওয়া ব্যবস্থা আরও ১২টিতে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।    বর্ডার ফোর্স জানিয়েছে, ধাপে ধাপে প্রযুক্তিটি চালু করে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বিমানবন্দরগুলোর সব ই গেট হালনাগাদ করার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বর্তমানে ই গেট ব্যবহারের যোগ্য অন্য দেশের নাগরিকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। নতুন প্রযুক্তির কারণে ই গেট ব্যবহারের বিদ্যমান যোগ্যতা পরিবর্তন হচ্ছে না।    প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আমাডেউসও ১৯ অক্টোবর জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের ১৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের ব্যবস্থার মাধ্যমে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য চালুর পর পর্যায়ক্রমে যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।    ব্রিটিশ সরকারের দাবি, পরীক্ষায় নতুন ব্যবস্থাটি পাসপোর্ট রিডারে রেখে ই গেট ব্যবহারের তুলনায় সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ দ্রুত কাজ করেছে। তবে অভিবাসন ও নিরাপত্তার সব পরীক্ষা বহাল থাকবে। ই গেটগুলোও বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
দুর্গন্ধযুক্ত বায়ূত্যাগের কারণে চাকরি হারানো বাসচালকের মামলা খারিজ করল ব্রিটিশ আদালত
দুর্গন্ধযুক্ত বায়ূত্যাগের কারণে চাকরি হারানো বাসচালকের মামলা খারিজ করল ব্রিটিশ আদালত

যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে কর্মক্ষেত্রে দুর্গন্ধ নিয়ে সহকর্মীর অভিযোগের পর চাকরি হারানো বাসচালক স্টেফানি ব্রায়ানের করা বৈষম্য ও হয়রানির মামলা খারিজ করেছেন কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শারীরিক অক্ষমতার কারণে নয়, গাড়ি চালানোর মান সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেফানি বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান দ্য বিগ লেমনে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যোগ দেওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর চাকরি শেষ হয়। পরীক্ষামূলক চাকরির মেয়াদ সফলভাবে শেষ করতে না পারার পর তিনি শারীরিক অক্ষমতাজনিত বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ আনেন।    শুনানিতে জানানো হয়, স্টেফানির পালা শেষে দায়িত্ব নিতে এসে বাসের চালকের আসনের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ পান সহকর্মী সামান্থা বিংহাম। তাঁর ধারণা হয়েছিল, স্টেফানির পোশাক নোংরা হয়ে থাকতে পারে। সামান্থা জানান, বাড়ি ফেরার পরও দুর্গন্ধ থাকায় তাঁকে ইউনিফর্ম ধুতে এবং গোসল করতে হয়।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেফানি বলেন, সবারই বায়ুত্যাগের প্রয়োজন হয়। পরে সামান্থা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।    টিভিথ্রি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেফানি দাবি করেছিলেন, মূত্রথলির সমস্যার কারণে তাঁর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনাল সামান্থার অভিযোগকে কর্মক্ষেত্রের একটি প্রকৃত উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর পদক্ষেপের সঙ্গে স্টেফানির শারীরিক অক্ষমতাকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।   বরখাস্তের বৈঠকে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনা হলেও ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তে জানান, স্টেফানির গাড়ি চালানোর মান নিয়ে উদ্বেগই চাকরি হারানোর মূল কারণ ছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মিথ্যা অভিযোগের ঘটনায় কাউন্সিলর মতিন আলীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জিবি নিউজের উপস্থাপক। ছবি: সংগৃহীত
দাঙ্গার মিথ্যা অভিযোগে মামলা, মতিন আলীকে ক্ষতিপূরণ দেবেন জিবি নিউজের উপস্থাপক

যুক্তরাজ্যের লিডসে ২০২৪ সালের দাঙ্গায় অংশ নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানোর ঘটনায় মুসলিম কাউন্সিলর মতিন আলীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জিবি নিউজের উপস্থাপক অ্যালেক্স আর্মস্ট্রং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষ্যকার বার্নাডেট স্পফোর্থ। মানহানির মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে তাঁরা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ দিতে সম্মত হয়েছেন। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর লন্ডনের হাইকোর্টে সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।   মতিন আলী লিডস সিটি কাউন্সিলের গিপটন অ্যান্ড হেয়ারহিলস এলাকার কাউন্সিলর। তিনি ২০২৫ সাল থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের গ্রিন পার্টির উপনেতার দায়িত্বও পালন করছেন। এক্সে প্রকাশিত পোস্টে তাঁকে দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরায় আর্মস্ট্রং ও স্পফোর্থের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি।   মতিনের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান বিন্ডম্যানস জানিয়েছে, বাস্তবে পুলিশের অনুরোধে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং উত্তেজনা কমাতে সারা রাত সেখানে ছিলেন। মামলা নিষ্পত্তির পর দুই বিবাদী তাঁর কাছে ক্ষমা চান এবং ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ দিতে সম্মত হন।    আদালতে পক্ষগুলোর সম্মতিতে পাঠ করা বিবৃতিতে জানানো হয়, একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা পরিস্থিতি শান্ত করতে মতিনের সহায়তা চেয়েছিলেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের বিপদ থেকে সরিয়ে নেওয়া, পুলিশ ও কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং আগুন নেভানোর কাজ করেন।   বার্তা সংস্থা পিএর আদালতবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্মস্ট্রংয়ের দুটি পোস্ট মোট ৩১ লাখের বেশি বার দেখা হয়। স্পফোর্থের পোস্ট দেখা হয় প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার বার। আর্মস্ট্রংয়ের দ্বিতীয় পোস্টে এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল যে মতিন অসৎভাবে দাঙ্গা থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।   দুই বিবাদীর পক্ষে আইনজীবী সামান্থা থম্পসন আদালতকে জানান, মতিনের সুনামের গুরুতর ক্ষতি ও মানসিক কষ্টের জন্য তাঁরা ক্ষমা চাইছেন।    মতিনের আইনজীবী আদালতে বলেন, অভিযোগগুলো অন্যরাও ছড়িয়ে দেওয়ায় তাঁকে একাধিকবার রাস্তায় থামিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলা হয়। অনলাইনেও তিনি বর্ণবাদী গালাগালের শিকার হন।   আদালতের বাইরে মতিন বলেন, কমিউনিটির ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কাজ করলেও তাঁকেই দাঙ্গায় জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর সততা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এসব পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর পরিবার আতঙ্কে ছিল এবং তাঁর গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান তিনি।   গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি মতিনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল কাউন্সিলরের মতোই তিনি উত্তেজনা কমাতে ও বিভেদ দূর করতে কাজ করেছিলেন। এই নিষ্পত্তিকে বর্ণবাদী হয়রানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মতিনসহ সংখ্যালঘু রাজনীতিকদের জন্য একটি জয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
লন্ডনে ম্যাকলেমোরের কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক, অর্থ পাবে ৭ অক্টোবরের  হা ম লাকে সমর্থনকারী সংগঠন
লন্ডনে ম্যাকলেমোরের কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক, অর্থ পাবে ৭ অক্টোবরের হা ম লাকে সমর্থনকারী সংগঠন

বিখ্যাত র‍্যাপার ম্যাকলেমোরের আসন্ন যুক্তরাজ্য ট্যুরের আয়ের একটি অংশ এমন একটি গোষ্ঠীর তহবিলে যাচ্ছে, যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের জিম্মি করার ঘটনাকে 'বৈধ' এবং 'কার্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছিল। দ্য জিউইশ ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ অক্টোবর লন্ডনের ১২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার ওয়েম্বলি অ্যারেনায় ম্যাকলেমোরের একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে।   লাইভ নেশন পরিচালিত এই কনসার্টের আয় থেকে 'প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট'সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টের যুক্তরাজ্যের মুখপাত্র জেনিন হুরানি ৭ অক্টোবরের হামলা ও জিম্মি করার ঘটনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন এবং সংগঠনটি এই হত্যাযজ্ঞকে 'কারাগার ভাঙার' (prison break) সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছিল।   এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে দ্য জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল (জেএলসি)। তারা সতর্ক করে বলেছে, কনসার্টের আয়ের মাধ্যমে প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টকে অর্থায়ন করার অর্থ হলো ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতাকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়া।   জেএলসি কনসার্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান লাইভ নেশনের কাছে তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইহুদি কর্মী ও দর্শকদের সুরক্ষায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।   উল্লেখ্য, বেঞ্জামিন হ্যাগারটি, যিনি সংগীতাঙ্গনে ম্যাকলেমোর নামেই বেশি পরিচিত, সম্প্রতি পপ তারকা অ্যাড শিরানের মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুটি পারফরম্যান্সের সময় তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' স্লোগান দেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন।   যদিও ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তার এই মন্তব্যের পর জিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটসহ বেশ কয়েকজন ভেন্যু মালিক আয়োজকদের জানিয়ে দেন যে তারা ম্যাকলেমোরকে তাদের ভেন্যুতে পারফর্ম করতে দেবেন না। ফলশ্রুতিতে আয়োজক সংস্থা মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ তাকে ট্যুর থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়।   ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল। তারা একে 'ইহুদি-বিদ্বেষী বক্তব্য' থেকে হাজার হাজার দর্শককে বাঁচানোর একটি সঠিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটির মতে, বাকস্বাধীনতার অধিকার থাকলেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর কোনো অধিকার তার নেই।   তবে মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়ার পর ম্যাকলেমোর দমে যাননি, বরং নিজস্ব উদ্যোগে 'ম্যাকলেমোর অ্যান্ড ফ্রেন্ডস — ফ্রি প্যালেস্টাইন ট্যুর' নামের এই নতুন কনসার্ট সিরিজের ঘোষণা দিয়েছেন, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
হামজা মোহাম্মদ
যুক্তরাজ্যে ব্যাংককর্মী সেজে প্রবীণ নারীদের কার্ড হাতিয়ে নেয়ায় হামজা মোহাম্মদের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যে ব্যাংককর্মী পরিচয়ে দুই প্রবীণ নারীর কার্ড ও পিন সংগ্রহ করে ৫ হাজার ২২২ পাউন্ডের ক্ষতি করার ঘটনায় হামজা মোহাম্মদকে তিন বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। লেস্টারের ৩০ বছর বয়সী এই বাসিন্দাকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়ারউইক ক্রাউন কোর্টে সাজা দেওয়া হয়। থেমস ভ্যালি পুলিশ মামলার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ১৬ অক্টোবর।    পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হামজা বাকিংহামশায়ারের হাই উইকম্ব ও অক্সফোর্ডে বসবাসকারী আশি বছরের বেশি বয়সী দুই নারীকে তাঁদের ল্যান্ডফোনে কল করেন। নিজেকে তাঁদের ব্যাংকের কর্মী পরিচয় দিয়ে বলেন, ব্যাংক হিসাবের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। অর্থ সুরক্ষিত রাখতে কার্ডগুলো সংগ্রহ করা প্রয়োজন বলে তাঁদের বিশ্বাস করান এবং কথোপকথনের সময় পিনসহ গোপন তথ্য জেনে নেন।   এরপর কার্ড সংগ্রহ করতে লেস্টার থেকে দুই নারীর বাড়িতে যান হামজা। পুলিশ বলছে, ফেরার পথে কার্ডগুলো ব্যবহার করে এটিএম থেকে টাকা তোলা ও দামি পণ্য কেনা হয়। কার্ড বাতিল হওয়ার পর এসব লেনদেন বন্ধ হয়। দুই নারীর মোট আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় ৫ হাজার ২২২ পাউন্ড।    তদন্তের পর ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই হামজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০২৬ সালের ২৬ জুন। পরে মিথ্যা পরিচয়ে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের দুটি অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তদন্ত কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট ব্যারন বলেন, এ ধরনের অপরাধে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আত্মবিশ্বাসেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে।    হামজার মামলাটি যুক্তরাজ্যে পরিচিত ‘কুরিয়ার প্রতারণা’র একটি উদাহরণ। সিটি অব লন্ডন পুলিশের হিসাবে, ২০২৫ সালে এ ধরনের প্রতারণার ১ হাজার ৮৯১টি অভিযোগ জমা পড়ে এবং নথিভুক্ত আর্থিক ক্ষতি ২ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড ছাড়ায়। প্রবীণ ব্যক্তিরা এ অপরাধের বিশেষ লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।    পুলিশ ও জাতীয় প্রতারণা অভিযোগ সেবা রিপোর্ট ফ্রড জানিয়েছে, ব্যাংক বা পুলিশ কার্ড ও নগদ অর্থ নিতে বাড়িতে কুরিয়ার পাঠায় না এবং ফোনে পিন জানতে চায় না। কেউ ইতিমধ্যে কার্ড বা ব্যাংকের তথ্য দিয়ে থাকলে দ্রুত ব্যাংকে যোগাযোগ করে কার্ড বাতিল করতে হবে। সন্দেহজনক কলের পর একই ল্যান্ডফোন ব্যবহার করে ব্যাংকে ফোন দেওয়ার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করা বা অন্য ফোন ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রতারণার অভিযোগ রিপোর্ট ফ্রডের ওয়েবসাইটে⁠  অথবা ০৩০০ ১২৩ ২০৪০ নম্বরে জানানো যায়।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষক আবুসালি রহমান
ইংল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের গোপনে ছবি তোলার দায়ে বাঙালি বংশোদ্ভূত শিক্ষকের ছয় বছরের কারাদণ্ড

ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারে স্কুলছাত্রীদের পোশাকের নিচের অংশের ছবি গোপনে তোলা এবং শিশুদের ছবি ব্যবহার করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এআই ছবি তৈরিসহ একাধিক অপরাধে সাবেক সাপ্লাই শিক্ষক আবুসালি রহমানকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বল্টন ক্রাউন কোর্ট এ সাজা ঘোষণা করেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সালফোর্ডের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী রহমান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক।    রহমান বল্টন, বুরি ও সালফোর্ডের সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাপ্লাই শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ক্লাস চলার সময় এবং স্কুলের অন্য স্থানেও আইফোন ব্যবহার করে ছাত্রীদের অজান্তে ছবি তুলতেন। তদন্তে এ ধরনের শতাধিক ছবি পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা ছবিও তিনি এআই দিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবিতে রূপান্তর করেছিলেন।    গত ২৮ মে রহমান আদালতে মোট ২১টি অপরাধের দায় স্বীকার করেন। এর মধ্যে শিশুদের গোপনে তোলা অশালীন ছবিসংক্রান্ত ১২টি অভিযোগ ছাড়াও এআই ছবি তৈরি ও প্রকাশ এবং একটি ছবি অন্যের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। অপরাধগুলো ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।    এক অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সন্তানের স্কুলের পোশাক পরা ছবি ছড়িয়ে পড়তে দেখে উদ্বেগ জানানোর পর তদন্ত শুরু হয়। ২০২৫ সালের জুনে রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কোনো স্কুলে কাজ করেননি বলে জানিয়েছে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে যৌন অপরাধীদের নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২০ বছরের জন্য স্কুলে কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
লন্ডনের রাস্তায় কোকেনের নেশায় অচেতন আমিরাতের রাজবধূ
লন্ডনের রাস্তায় কোকেনের নেশায় অচেতন আমিরাতের রাজবধূ, পাশে অরক্ষিত ৩ বছরের শিশু

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের রাস্তায় কোকেনের নেশায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে আবুধাবি রাজপরিবারের এক সদস্যকে। মেহরাহ আল নাহিয়ান (৩২) নামের ওই নারীর পাশে সে সময় তিন বছর বয়সী এক শিশু অরক্ষিত অবস্থায় ব্যস্ত রাস্তার পাশে খেলছিল। গত জুনে পশ্চিম লন্ডনের রাস্তায় ঘটা চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর সম্প্রতি আদালতে তিনি শিশু অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। বৈবাহিক সূত্রে তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী আবুধাবি রাজপরিবারের সদস্য।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, জুনের ওই দিন খালি পায়ে রাস্তার পাশের রেলিংয়ে হেলান দিয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন মেহরাহ। পথচারীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তার পাশেই আরেকজন ব্যক্তিও অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল, ব্যস্ত যানজটপূর্ণ রাস্তার খুব কাছেই স্কুটার নিয়ে জুতো ছাড়া একাই খেলছিল তিন বছরের ওই শিশুটি। শিশুটির সাথে মেহরাহের সম্পর্ক কী, তা প্রকাশ করা হয়নি। পরে পথচারীদের সহায়তায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।   আদালতে শুনানির সময় জানানো হয়, ঘটনার আগের দিনগুলোতে মেহরাহ কোকেন নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। নেশার ঘোরে তিনি এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে, পুলিশের ডাকে প্রায় আধা ঘণ্টা কোনো সাড়া দেননি। পরে হুশ ফিরলে তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলেন, "এটি কোনো কসাইখানা নয়, আপনারা কেন এত চিন্তা করছেন?" তল্লাশি করে তার কাছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও কোনো অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি।   প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক আবুধাবি রাজপরিবারের এই সদস্য তার ভুল স্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে মেহরাহ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তিন মাসের একটি পুনর্বাসন কোর্স শেষ করার পর্যায়ে আছেন। বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি তাকে দুই বছরের কমিউনিটি অর্ডার, পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের নির্দেশ এবং প্রায় ৮ হাজার ডলার জরিমানা করেছেন। আদালতকে জানানো হয়, মেহরাহ বর্তমানে প্রতি মাসে ১০ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি ভাতা পেয়ে থাকেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
বাঘের হামলায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও শেয়ারের পর বাঘের সঙ্গে খেলার কৃত্রিম ভিডিও পোস্ট করে বিতর্কে ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় বাঘের হামলায় শিশুশিল্পীর মৃত্যুর পর বাঘ বশ করার এআই ভিডিও পোস্ট ট্রাম্পের

যুক্তরাজ্যের একটি ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও শেয়ার করার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সঙ্গে বাঘের খেলার একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৩ অক্টোবর রাতে ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে নিহত তরুণের পরিবার অনলাইনে ঘটনার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়ানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।    ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভিডিওতে ট্রাম্পকে বাঘ তাড়াতে এবং প্রাণীটির সঙ্গে খেলার ছলে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়। শেষে তাঁকে বাঘটি জড়িয়ে ধরতে দেখানো হয়। পুরো দৃশ্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি, বাস্তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বাঘের এমন কোনো ঘটনার ভিডিও নয়।    এর আগে ট্রাম্প ইংল্যান্ডের ডনকাস্টারের কাছে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলার ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তাঁর বার্তার অর্থ ছিল, প্রকৃতির সঙ্গে কখনো খেলতে যেও না। আইটিভি নিউজ জানিয়েছে, ওই ভিডিওতে হামলার দৃশ্য থাকলেও তরুণের মৃত্যুর মুহূর্ত দেখানো হয়নি।    নিহত তরুণের নাম উইলিয়াম চ্যাপম্যান, বয়স ২৩ বছর। সাউথ ইয়র্কশায়ার পুলিশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর তিনি বাঘের ঘেরের ভেতরে প্রবেশ করার পর হামলার শিকার হন। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বাঘটি ঘেরের ভেতরেই ছিল এবং আহত হয়নি।    উইলিয়ামের পরিবার জানিয়েছে, শোকের এই সময়ে আপত্তিকর অনলাইন কনটেন্টের প্রচার তাঁদের গভীর মানসিক কষ্ট দিচ্ছে। তাঁরা এ ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধ করতে এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে অনুরোধ করেছেন।    আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ডনকাস্টারের করোনার আদালতে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পার্কটির লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ডনকাস্টার সিটি কাউন্সিলও স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তদন্ত শুরু করেছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
অক্সফোর্ডে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর পড়তে ২৫ লাখ ডলারের বৃত্তি চালু
অক্সফোর্ডে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর পড়তে ২৫ লাখ ডলারের বৃত্তি চালু

যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের সুযোগ করে দিতে নতুন একটি বৃত্তি চালু করা হয়েছে। ‘উইডেনফেল্ড-হফম্যান ট্রাস্ট’-এ প্রদান করা ২৫ লাখ মার্কিন ডলারের এই অনুদানের মাধ্যমে প্রতি বছর একজন আফগান নারী অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পাবেন।   আফগান শিক্ষাবিদ এবং অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাবানা বাসিজ-রাসিখ এই অনুদান দিয়েছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আফগান নারীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার এবং নেতৃত্ব বিকাশে একটি দীর্ঘস্থায়ী সুযোগ তৈরি করবে।   এই বৃত্তির আওতায় প্রথম বা দ্বিতীয় প্রজন্মের আফগান বংশোদ্ভূত নারীরা আবেদন করতে পারবেন, যদি তারা অক্সফোর্ডের স্নাতকোত্তর কোর্সের সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ বা উপবৃত্তি এবং অক্সফোর্ডে আসার আগের আনুষঙ্গিক ভ্রমণ ব্যয়ও এই বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   মাত্র ১৮ বছর বয়সে 'স্কুল অব লিডারশিপ, আফগানিস্তান' (SOLA) প্রতিষ্ঠা করা শাবানা বাসিজ-রাসিখ নারী শিক্ষার অন্যতম বড় প্রবক্তা। তিনি নিজেও উইডেনফেল্ড-হফম্যান ট্রাস্টের বৃত্তির মাধ্যমে ২০১৯-২০ সালে অক্সফোর্ড থেকে পাবলিক পলিসিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।   নতুন এই অনুদান সম্পর্কে শাবানা বলেন, তারা কারও করুণা চান না, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ ও সাফল্য নিজে হাতে গড়ে তোলার জন্য শুধু প্রয়োজনীয় সুযোগটুকু চান। তাঁর মতে, অক্সফোর্ডে এক বছর একজন আফগান নারীর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হবে, আর এরপর বছরের পর বছর ধরে অন্য নারীরাও একইভাবে এই সুযোগ পেতে থাকবেন।   তালেবান শাসনে আফগান নারীদের শিক্ষার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার এই কঠিন সময়ে এমন একটি উদ্যোগ পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিতে থাকা মেধাবী ছাত্রীদের জন্য এক অনন্য আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
বাঘের খাঁচায় ঢুকে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃ ত্যু
বাঘের খাঁচায় ঢুকে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃ ত্যু, প্রকাশ্যে তরুণের শেষ ভিডিও

যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের খাঁচায় ঢুকে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন উইলিয়াম চ্যাপম্যান নামের এক তরুণ। গত শনিবার ঘটা এই ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ওই তরুণ তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ৪২০ পাউন্ড ওজনের 'আলতাই' নামের একটি সাইবেরিয়ান বাঘের দিকে তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় খাঁচার বাইরে থাকা দর্শনার্থীদের আতঙ্কে চিৎকার করতে শোনা যায়।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা অন্যান্য ভিডিওতে দেখা যায়, বাঘটি যখন তাকে আক্রমণ করছে, তখনও চ্যাপম্যান অদ্ভুত আচরণ করছিলেন। আক্রমণের এক পর্যায়ে তিনি বাঘটির দিকে আঙুল তুলে বকা দেওয়ার ভঙ্গিতে 'দুষ্টুমি কোরো না' বলে নির্দেশ দেন! দর্শনার্থীদের মতে, ওই মুহূর্তে চ্যাপম্যানকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি বাস্তব জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।   পুলিশ তাকে ২০-এর কোঠায় থাকা একজন 'মানসিকভাবে সংবেদনশীল' বা ভালনারেবল তরুণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর আগেও তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অদ্ভুত সব ছবি দেখা গেছে, যার একটিতে তিনি হাতে বাইবেল এবং মুখে তিরসহ একটি ক্রসবো ধরে ছিলেন।   ভয়ংকর এই ঘটনার আগে পার্কে তাকে বেশ আনন্দিত অবস্থায় নাচতে দেখা যায়। এমনকি তিনি ডেল টেইলর নামের এক অপরিচিত দর্শনার্থীকে বাঘটিকে পেছনে রেখে তার কয়েকটি ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধও করেছিলেন। ডনকাস্টার শহরের বাসিন্দা এই তরুণ একাই ওই পার্কে ঘুরতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে বাঘের খাঁচায় ঢুকে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।   বাঘের আক্রমণ থেকে চ্যাপম্যানকে বাঁচাতে পার্কের কর্মীরা শটগান দিয়ে দুটি সতর্কতামূলক গুলি ছোড়েন। এতে বাঘটি পিছু হটে নিজের ডেরায় ফিরে গেলেও চ্যাপম্যানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি; ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রোববার পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, 'আলতাই' নামের বাঘটি সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে এবং এই ঘটনার জেরে সেটিকে ইউথেনাইজ (ঘুম পাড়িয়ে হত্যা) করা হবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়

কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি হারানোর ঝুঁকি এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ১২ অক্টোবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট দেশ থেকে শিক্ষার্থী নেওয়া কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।    যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের তথ্য নিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে। আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। পাকিস্তানি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তা ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। নাইজেরিয়ার আবেদনকারীদের প্রত্যাহারের হার ছিল ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।    তবে আবেদন প্রত্যাহার ও ভিসা প্রত্যাখ্যান আলাদা বিষয়। ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়। অন্যদিকে আবেদন প্রত্যাহার হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। আবেদনকারী নিজে আবেদন তুলে নিতে পারেন, আবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তাব বা প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ প্রত্যাহার করলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে বাংলাদেশিদের ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে, তাঁদের সবার ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়েছে।    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার নতুন শর্ত। হোম অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন বা তার পরে করা বার্ষিক কমপ্লায়েন্স মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকতে হবে। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশের নিচে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার অনুমতিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে সীমা অতিক্রম করলেই তাৎক্ষণিকভাবে সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয় না।    স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপট্যান্স ফর স্টাডিজ বা সিএএস প্রয়োজন হয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিএএস প্রত্যাহার করলে সেটি প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কায় আগেই স্পনসরশিপ তুলে নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপ্লায়েন্স হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।    নতুন নিয়মে স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ৯৫ শতাংশকে সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তি হতে হবে। বর্তমানে কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার ৮৫ শতাংশ। ২০২৭ সালের ১ জুন বা তার পরে করা মূল্যায়নে সেটি বেড়ে ৯০ শতাংশ হবে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর শুধু ভিসা আবেদন যাচাই নয়, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পড়াশোনা শেষ করার বিষয়েও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সতর্ক করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে বাংলাদেশসহ উল্লিখিত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের ওপর যুক্তরাজ্যজুড়ে সামগ্রিক ভর্তি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বিধিনিষেধগুলো মূলত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে তারা সরকারি শর্ত ভঙ্গের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে।    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়েও চাপ বাড়তে পারে। ইউনিভার্সিটি অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী ভ্যানেসা উইলসন সতর্ক করেছেন, এই চাপ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, চাকরি কমানো এবং কোর্স বা ক্যাম্পাস বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে হোম অফিস বলেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে ইতিবাচক অবদান রাখেন, তবে অভিবাসন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দায়িত্বশীলভাবে শিক্ষার্থী নিতে হবে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
আশ্রয়ের আবেদনের জন্য ভুয়া প্রমাণ তৈরির অভিযোগে লন্ডনে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি সংগঠন ‘আপনজন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদ মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
সমকামী সাজিয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনে সহায়তার অভিযোগ বাংলাদেশি ট্রান্স নারীর বিরুদ্ধে

সমকামী নন এমন ব্যক্তিদের সমকামী পরিচয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের জন্য ভুয়া প্রমাণ তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি সংগঠন ‘আপনজন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার লন্ডনে অভিযানের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়। ৪২ বছর বয়সী এই ট্রান্স নারী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর সংগঠন কোনো ভুয়া কাগজপত্র দেয়নি।    যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ, একটি চক্র বাংলাদেশি পুরুষদের আশ্রয় আবেদনের পক্ষে সাজানো ছবি, সমর্থনপত্র ও সম্পর্কের ভুয়া বিবরণ সরবরাহ করত। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রমাণ তৈরির জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘আপনজন’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আশ্রয় আবেদন এখন তদন্তের আওতায়।    বিবিসিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্তবিষয়ক আঞ্চলিক কর্মকর্তা ক্রিস ফস্টার বলেন, আশ্রয় আবেদনের নথিতে একই ধরনের কিছু তথ্য বারবার দেখতে পেয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কয়েক মাসের তদন্তের পর অভিযান চালানো হয়। সন্দেহজনক প্রমাণের মধ্যে ‘আপনজন’-এর সমর্থনপত্র, সমকামী পরিচয় বোঝাতে তোলা ছবি এবং একই লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের দাবি করে লেখা চিঠি রয়েছে বলে জানান তিনি। এগুলো ভুয়া কি না, সেটিই তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।    বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার লন্ডনের বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণা ও অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে অবস্থান না করার সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ফোন, গয়না ও কয়েক হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করেন কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম দুজনের একজন সাজ্জাদ মিয়া।    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট ১০০টির বেশি আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনা করছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, সন্দেহজনক আবেদনগুলোর কোনো কোনোটি আগে অনুমোদনও পেয়ে থাকতে পারে। তবে পর্যালোচনাধীন সব আবেদন ভুয়া, এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে আবেদনকারীদের যৌন পরিচয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ও তার পক্ষে তৈরি করা প্রমাণ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।    বাংলাদেশে যৌন পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের আশঙ্কার কথা জানিয়ে সাজ্জাদ মিয়া ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পান। পরে তিনি বাংলাদেশি এলজিবিটি ব্যক্তিদের সহায়তার উদ্দেশ্যে ‘আপনজন’ প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাউকে সমর্থনপত্র দেওয়ার আগে সংগঠনটি ছয় মাস ধরে তাঁর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। তাঁর দাবি, সংগঠনটি প্রকৃত সহায়তাপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ায় এবং অর্থের বিনিময়ে ভুয়া প্রমাণ দেয় না।    অভিযানে জব্দ হওয়া অর্থ ও গয়না সম্পর্কেও সাজ্জাদ মিয়া নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, অর্থটি বাড়িভাড়ার জন্য রাখা ছিল এবং গয়নাগুলো তাঁর বোনের। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি, তবে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। খবর প্রকাশের পর প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।    এই তদন্তের আগে কয়েকটি আশ্রয় মামলায় ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠেছিল। যুক্তরাজ্যের একটি অভিবাসন ট্রাইব্যুনালের রায়ে একজন আবেদনকারীর জমা দেওয়া ছবিকে সাজানো বলে বর্ণনা করা হয়। ওই মামলায় বিচারক আবেদনকারীর বক্তব্যের অসংগতিসহ অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনা করেছিলেন। রায়টি নির্দিষ্ট সেই আশ্রয় আবেদনসংক্রান্ত; সাজ্জাদ মিয়ার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের নিষ্পত্তি নয়।    চলতি বছরের এপ্রিলে বিবিসির পৃথক এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, কিছু আইনবিষয়ক পরামর্শদাতা ও মধ্যস্থতাকারী আশ্রয়প্রার্থীদের সমকামী পরিচয়ে আবেদন করতে ভুয়া বিবরণ ও প্রমাণ জোগাড়ের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সেই অনুসন্ধানের সূত্র ধরে মে মাসে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ‘আপনজন’-কে ঘিরে বর্তমান তদন্তটি আলাদা বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।    যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি আশ্রয় আবেদন আবেদনকারীর নিজস্ব পরিস্থিতি ও উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হয়। ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো পুনরায় পরীক্ষা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় পড়ে আল আমিন এবার যোগ দিলেন যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় পড়ে আল আমিন এবার যোগ দিলেন যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে

বাংলাদেশের হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো আল আমিন এবার দেশটির বিমানবাহিনী রয়্যাল এয়ার ফোর্সে (আরএএফ) যোগ দিয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের আরএএফ হালটনের এভিয়েটর ট্রেনিং একাডেমিতে পাসিং আউট প্যারেডের মাধ্যমে প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে এয়ার রিক্রুট (এআর) পদে রয়েছেন এই বাংলাদেশি তরুণ।   হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বেড়ে ওঠা আল আমিনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় স্থানীয় বিদ্যালয়ে। ২০১৩ সালে নালমুখের সাবিহা চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে। সেখান থেকে ২০১৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক এবং ২০১৯ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলা বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন।   স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় সিলেটের এমসি কলেজের বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হন আল আমিন। তবে সেখানে পড়াশোনা শেষ করা হয়নি তাঁর। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা থেকে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি।   যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটিতে ইন্টার্নশিপসহ ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করেন আল আমিন। বাংলাদেশে বাংলা বিষয়ে পড়াশোনা করলেও বিদেশে গিয়ে ব্যবসা ব্যবস্থাপনার মতো ভিন্ন একটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথ বেছে নেন তিনি।   পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের কর্মজীবন নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করতে থাকেন আল আমিন। একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল রয়্যাল এয়ার ফোর্সে কাজ করার সুযোগ পাওয়া। তবে এই বাহিনীতে যোগদানের জন্য তাঁকে বেশ কয়েকটি বাছাই ও পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে।   নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়ার পর শুরু হয় তাঁর প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ। সামরিক জীবনের নিয়মশৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা, দায়িত্ববোধ এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করেন তিনি।   অবশেষে গত ৭ অক্টোবর আরএএফ হালটনের এভিয়েটর ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেন আল আমিন। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এর ফলে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে তাঁর পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।   রয়্যাল এয়ার ফোর্স যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম প্রধান শাখা। দেশটির আকাশসীমার নিরাপত্তা, সামরিক বিমান পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে এই বাহিনী। রয়্যাল এয়ার ফোর্সে সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য আরএএফ হালটন একটি পরিচিত প্রশিক্ষণকেন্দ্র।   আল আমিন বর্তমানে এয়ার রিক্রুট পদে রয়েছেন। এটি তাঁর সামরিক ক্যারিয়ারের প্রাথমিক পর্যায়। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ভবিষ্যতে কোন নির্দিষ্ট শাখা বা দায়িত্বে তিনি কাজ করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   বাংলাদেশে বাংলা বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যে ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় উচ্চশিক্ষা এবং সেখান থেকে সামরিক বাহিনীতে যোগদান, আল আমিনের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। প্রতিটি পর্যায়েই তাঁকে নতুন পরিবেশ এবং ভিন্ন ধরনের কাজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে।   বিশেষ করে বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়া এবং প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভিন্ন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।   হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের নালমুখ থেকে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, সেখান থেকে সিলেটের এমসি কলেজ এবং পরবর্তী সময়ে লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি হয়ে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে পৌঁছেছেন আল আমিন।   দেশের মাটিতে শুরু হওয়া শিক্ষাজীবন থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ বিমানবাহিনীতে যোগদানের এই পথচলা তাঁর জীবনে নতুন মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হলো। প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর এখন রয়্যাল এয়ার ফোর্সে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরবর্তী ধাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন হবিগঞ্জের এই তরুণ। সূত্র: পাবলিকিয়ান

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে বাড়ি সংস্কারের ভুল সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারী। ছবি: সংগৃহীত
টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ঠিকাদার, বিপদে শ্রবণ প্রতিবন্ধী আলী দম্পতির পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন স্বেচ্ছাসেবীরা

যুক্তরাজ্যে বাড়ি সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে ৭২ হাজার পাউন্ড দিয়েও শেষ পর্যন্ত বিপাকে পড়েছিলেন শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক দম্পতি। নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হন তাঁরা। একপর্যায়ে বাড়িটির কাঠামো এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে দীর্ঘ দুর্ভোগের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ডিআইওয়াই এসওএস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় নতুনভাবে সাজানো হয়েছে পরিবারটির বাড়ি।   ঘটনাটি ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন শহরের বিটার্ন এলাকার। ভুক্তভোগী দম্পতির নাম আহমেদ আলী ও রিফাত আলী। তাঁরা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী এবং ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তিন সন্তানকে নিয়ে নিজেদের বাড়িটি আরও আরামদায়ক ও পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই স্বপ্নই একসময় বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।   বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ির নিচতলায় নতুন অংশ নির্মাণের জন্য নিজেদের সঞ্চয় থেকে ৭২ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেন আহমেদ ও রিফাত। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তী সময়ে অসমাপ্ত কাজের বিভিন্ন অংশ এতটাই ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া যায় যে সেগুলো ব্যবহার অনিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।   বাড়ির নিচতলার অধিকাংশ জায়গা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে ওপরতলায় সীমিত পরিসরে বসবাস করতে বাধ্য হন দম্পতি। রান্নাঘর ও বাগানও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছিলেন না তাঁরা। ফলে নিজেদের বাড়িতে থেকেও প্রতিদিন নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল পাঁচ সদস্যের পরিবারটিকে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এন্টারটেইনমেন্ট ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িটির বিভিন্ন স্থানে অসমাপ্ত নির্মাণকাজ, খোলা বৈদ্যুতিক তার এবং কাঠামোগত ত্রুটি ছিল। দম্পতির অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে ঠিকাদারের কর্মীরা মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ করে চলে যেতেন এবং দীর্ঘ সময় আর ফিরে আসতেন না।   রিফাতের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণসামগ্রী কেনার কথা বলে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত অর্থও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে সামগ্রী কেনার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো বাড়িতে পৌঁছায়নি। পরে স্থপতির কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এর আগেও আদালতে মামলা হয়েছিল। তবে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   নিজেদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়ে দম্পতি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে ছোট তিন সন্তানকে নিয়ে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাসের অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। আহমেদ জানান, পুরো পরিস্থিতি তাঁদের জন্য এতটাই মানসিক চাপের ছিল যে একপর্যায়ে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।   পরিবারটির দুরবস্থার খবর পৌঁছায় বিবিসির জনপ্রিয় বাড়ি সংস্কারবিষয়ক অনুষ্ঠান ডিআইওয়াই এসওএসের কাছে। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক নিক নোলস এবং তাঁর টিম পরিবারটির বাড়ি পরিদর্শন করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা নির্মাণকাজের গুরুতর ত্রুটিগুলো দেখতে পান।   পরিদর্শনের সময় নিক নোলস বাড়িটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দেয়ালের নিচে বড় ফাঁক দেখতে পান। এতে ভবনটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি পরিবারটিকে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।   নিক নোলস জানান, ডিআইওয়াই এসওএস অনুষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতায় কোনো পরিবারকে নিরাপত্তার কারণে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলার ঘটনা তাঁর জন্যও ছিল ব্যতিক্রমী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রথমেই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোকে নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   এরপর শুরু হয় বাড়িটি নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ। স্থানীয় নির্মাণকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে আসেন। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজের প্রথম দিনেই দেড় শতাধিক দক্ষ কর্মী উপস্থিত হন। কয়েক মাসের কাজ অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ শুরু করেন।   এ উদ্যোগে অংশ নেন বেসিংস্টোক কলেজ অব টেকনোলজির নির্মাণবিষয়ক শিক্ষার্থীরাও। তাঁরা অভিজ্ঞ নির্মাণকর্মীদের সঙ্গে কাঠের কাজ, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং পানির পাইপ স্থাপনের কাজে সহযোগিতা করেন। কলেজটির তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়িটিকে নিরাপদ ও আধুনিক বাসস্থানে রূপান্তর করা হয়।   বাড়িটি সংস্কারের সময় পরিবারটির বিশেষ প্রয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। আহমেদ ও রিফাত দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী হলেও তাঁদের সন্তানরা শুনতে পারে। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ঘরের ভেতরের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়।   বিশেষ করে ঘরের বিভিন্ন অংশে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে নজর রাখা যায়। পাশাপাশি বাড়িতে বিশেষ সতর্কসংকেত ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়। কোনো সমস্যা হলে শব্দের পরিবর্তে বিভিন্ন রঙের আলো জ্বলে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করবে। এতে শ্রবণপ্রতিবন্ধী বাবা-মায়ের জন্য ঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।   বাড়ি সংস্কারের প্রস্তুতিতে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাসা এনভায়রনমেন্টাল সার্ভিসেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে অ্যাসবেস্টস সংক্রান্ত জরিপ পরিচালনা করে। পুরোনো ভবনের সংস্কারকাজে ক্ষতিকর উপাদানের সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।   বাড়ির সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর নতুন পরিবেশ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আহমেদ ও রিফাত। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।   ডিআইওয়াই এসওএস অনুষ্ঠানের ডিজাইনার গ্যাবি ব্ল্যাকম্যান বলেন, সমাজে বিভেদ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও এই প্রকল্পে তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখেছেন। বিপদে পড়া একটি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বহু মানুষ একসঙ্গে কাজ করেছেন।   পরিবারটির বাড়ি সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। তবে সেই উদ্যোগের পুরো ঘটনা নিয়ে নির্মিত ডিআইওয়াই এসওএসের বিশেষ পর্বটি বিবিসি ওয়ানে প্রচারিত হয় ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর।   ৭২ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেও যে পরিবারটি নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারছিল না, স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগে সেই পরিবার এখন নতুনভাবে সাজানো বাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি বাড়ি নির্মাণে ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের মান যাচাই এবং নির্মাণকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে এনেছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কলেজে সারোয়ার দম্পতির ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কলেজে সারোয়ার দম্পতির ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ, পরিচালকের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে অবস্থিত কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজের তহবিল থেকে অন্তত ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাতের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক দম্পতি নাদিম সারোয়ার ও ইয়াসমিন সারোয়ার। নাদিম সারোয়ার ইতোমধ্যে কলেজের অর্থ আত্মসাতের দায় স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে তার সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিন সারোয়ার নিজের বিরুদ্ধে আনা নয়টি চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে মারথার টিডফিল ক্রাউন কোর্টে বিচার মোকাবিলা করছেন।    মঙ্গলবার আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ করে, একসময় যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এ লেভেল কলেজ হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহার করেছিলেন সারোয়ার দম্পতি। প্রসিকিউটর মার্ক কটার কেসি জুরিদের বলেন, তারা কলেজের তহবিলকে নিজেদের ‘ব্যক্তিগত পিগি ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করে সম্পত্তি কেনা, বিদেশে অর্থ পাঠানো এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।    নাদিম সারোয়ার গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজ থেকে কমপক্ষে ৫০ লাখ পাউন্ড চুরির দায় স্বীকার করেন। একই মামলায় কলেজের সাবেক হিসাবরক্ষক রাগু শিবাপালান অডিট রিপোর্টে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অপরাধও স্বীকার করেছেন। তাদের সাজা পরে ঘোষণা করা হবে।    তবে ইয়াসমিন সারোয়ার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তিনি কলেজের পরিচালক ও ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং পরে সেই লেনদেনের তথ্য গোপন করার প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, কর্মচারী হিসেবে চুরি এবং অপরাধলব্ধ অর্থ গোপন বা স্থানান্তরসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া প্রায় ১০ সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।    এই মামলার সূত্রপাত অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। সাউথ ওয়েলস পুলিশ ২০২৫ সালের মার্চে জানায়, কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত সন্দেহভাজন বহু মিলিয়ন পাউন্ডের প্রতারণা ও চুরির ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে চ্যারিটি কমিশন ফর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করেছিল। তখন নাদিম ও ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ডের চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ এবং রাগু শিবাপালানের বিরুদ্ধে মিথ্যা হিসাব তৈরির অভিযোগ আনা হয়।    কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোট পরিসরে। ইয়াসমিন সারোয়ার প্রথমে নিজের বাড়িতে এ লেভেল শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। পরে সেই কার্যক্রমই বড় হয়ে কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজে রূপ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ফলাফলের কারণে যুক্তরাজ্যের অন্যতম সফল স্বাধীন সিক্সথ ফর্ম কলেজ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১৬ সালে বিবিসির ‘ব্রিটেনস ব্রেইনিয়েস্ট স্কুল’ তথ্যচিত্রেও কলেজটি স্থান পায়।    প্রসিকিউশনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দাতব্য সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হলেও ট্রাস্টি ও পরিচালনা কাঠামোর দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের নামে থাকা মূল অ্যাকাউন্টের বাইরে অন্য অ্যাকাউন্টেও শিক্ষার্থীদের ফি জমা নেওয়া হতো এবং সেই অর্থের একটি অংশ পরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়।   আদালতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কলেজের অর্থ ব্যবহার করে কার্ডিফে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি কেনা এবং মালয়েশিয়ায় অর্থ পাঠানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বড় অংশ এখনো ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে চলমান বিচারাধীন মামলার অংশ এবং আদালত এখনো সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।   মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নাদিম সারোয়ারের দায় স্বীকারের ফলে ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাতের অন্তত একটি অংশ এখন আর শুধু অভিযোগের পর্যায়ে নেই। তবে ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। তার দোষ বা নির্দোষ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবে।   এদিকে কলেজটির বর্তমান পরিচালনা ও মালিকানা আগের সময়ের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান বিচার মূলত প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালনা পর্বের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েই চলছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশিদের ভুয়া সমকামী পরিচয়ে অ্যাসাইলাম আবেদন
বাংলাদেশিদের ভুয়া সমকামী পরিচয়ে অ্যাসাইলাম আবেদন, লন্ডনে গ্রেফতার ৩

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভুয়া সমকামী পরিচয় দেখিয়ে অ্যাসাইলাম পেতে সহায়তার অভিযোগে একটি সন্দেহভাজন চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ব্রিটিশ হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর লন্ডনের বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে প্রতারণা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে এবং তৃতীয় ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহে আটক করা হয়েছে।   বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন চক্রটি বাংলাদেশি পুরুষদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নিয়ে তাদের অ্যাসাইলাম আবেদনের পক্ষে ভুয়া বা সাজানো প্রমাণ তৈরিতে সহায়তা করত বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে জাল নথি, সাজানো ছবি এবং সমলিঙ্গের সম্পর্কের পক্ষে তৈরি করা চিঠিসহ বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র থাকার অভিযোগ তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।   অভিযানে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার এবং কয়েক হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।   হোম অফিসের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক কর্মকর্তা ক্রিস ফস্টারের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন এসব আবেদনের সঙ্গে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক বাংলাদেশি কমিউনিটির এলজিবিটি সংগঠন ‘আপনজন’-এর যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফস্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে ভুয়া চিঠি ও অন্যান্য নথি সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে।   তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   হোম অফিসের অ্যাসাইলাম কেসওয়ার্কাররা একাধিক আবেদনের মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক মিল শনাক্ত করার পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করেন। এখন ‘আপনজন’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শতাধিক অ্যাসাইলাম আবেদন নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।   কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, সন্দেহভাজন ভুয়া প্রমাণের ভিত্তিতে করা কয়েকটি আবেদন ইতোমধ্যে অনুমোদনও পেয়ে থাকতে পারে। ফলে শুধু চলমান আবেদন নয়, আগে নিষ্পত্তি হওয়া কিছু মামলাও নতুন করে যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।   যুক্তরাজ্যের কয়েকটি ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনাল মামলাতেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যৌন পরিচয়সংক্রান্ত দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক একটি মামলায় এক বাংলাদেশি নাগরিক নিজেকে সমকামী দাবি করে দেশে ফেরত গেলে ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলে অ্যাসাইলাম চেয়েছিলেন। হোম অফিস তার দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা গ্রহণ করেনি এবং ট্রাইব্যুনালও মামলার তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। তবে প্রতিটি অ্যাসাইলাম আবেদন আলাদাভাবে তার নিজস্ব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়।   এ ঘটনার পেছনে চলতি বছরের এপ্রিলে বিবিসির একটি গোপন অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠে, কিছু ইমিগ্রেশন পরামর্শক ও মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি পেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের ভুয়া সমকামী পরিচয় তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সাজানো ছবি, সংগঠনের সমর্থনপত্র এবং অন্যান্য নথি তৈরি করে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাসাইলাম কেস দাঁড় করানোর কথাও উঠে আসে প্রতিবেদনে।   সে সময় ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অ্যাসাইলাম ব্যবস্থার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। যৌন পরিচয় বা লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে প্রকৃত নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের জন্য থাকা সুরক্ষা ব্যবস্থার অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।   ব্রিটিশ হোম অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, যৌন অভিমুখিতা বা লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে করা অ্যাসাইলাম আবেদন অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে এবং প্রতিটি ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়। কেবল নিজেকে সমকামী হিসেবে পরিচয় দিলেই কোনো আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয় না।   আবেদনকারীর বক্তব্য, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, দেশে ফিরে গেলে সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সামগ্রিক তথ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ২০২৬ সালের বাংলাদেশবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এলজিবিটি জনগোষ্ঠীর সদস্যরা সামাজিক বৈষম্য, হয়রানি বা অরাষ্ট্রীয় পক্ষের কাছ থেকে গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এ কারণে ভুয়া আবেদন ও সংগঠিত প্রতারণার অভিযোগকে প্রকৃত যৌন সংখ্যালঘু আশ্রয়প্রার্থীদের বৈধ দাবির সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।   যুক্তরাজ্যের আইনে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণামূলক নথি ব্যবহার গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রতারণামূলক মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের অপরাধ ক্রাউন কোর্টে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশত্যাগের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।   লন্ডনে মঙ্গলবারের অভিযানের পর এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য সন্দেহভাজন চক্রটির কার্যক্রমের পরিধি, কতজন আবেদনকারী এর মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং কোনো আবেদন ভুয়া প্রমাণের ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়েছিল কি না তা নির্ধারণ করা। শতাধিক আবেদন পর্যালোচনার ফলেই এই অভিযোগের প্রকৃত ব্যাপ্তি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০