সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাজ্য

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে জানান, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।   ব্রিটিশ সরকারের নতুন পদক্ষেপের আওতায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নির্মাণ, অবকাঠামো, অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেট কার্যক্রমে জড়িত নির্দিষ্ট কোম্পানি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে সরকার।   ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইসরায়েল নয়, বরং অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি ও এর সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বীকৃত সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।   লন্ডনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা তৈরি করছে।   বিশেষ করে পশ্চিম তীরের E1 এলাকায় নতুন বসতি প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, ওই এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সংযোগ দুর্বল করে দিতে পারে।   নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি মঙ্গলবার থেকেই বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা সমর্থন বা উসকানির সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।   যুক্তরাজ্য একা এই পদক্ষেপ নেয়নি। একই দিনে ফ্রান্স ও কানাডাও অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ বসতি-সম্পর্কিত বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।   যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর জানিয়েছেন, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওই কনস্যুলেট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত কনস্যুলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য, বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করাই নতুন পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তবে যুক্তরাজ্য একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকার এবং হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
১৬ বছর বয়সী মুহাম্মদ ইসমাইল আলুম
লন্ডনে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় নি হত হাফেজ কিশোর

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে ফজরের নামাজ শেষে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় ১৬ বছর বয়সী মুহাম্মদ ইসমাইল আলুমের মৃত্যু হয়েছে। ২৮ আগস্ট ভোরে স্মল হিথ এলাকায় ক্যাটেল রোড ও টেম্পলফিল্ড স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরদিন তিনি মারা যান।    ইসমাইল ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য বার্মিংহামের গ্রিন লেন মসজিদ অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষে সাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় বার্মিংহাম সিটির ফুটবল স্টেডিয়ামের কাছাকাছি এলাকায় গাড়ির সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়।   দুর্ঘটনার ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী ক্লাইড কেরিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ হওয়া, দুর্ঘটনাস্থলে না থামা এবং বিমাহীন গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৩১ আগস্ট তিনি বার্মিংহাম ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হন এবং তাকে ২৮ সেপ্টেম্বর ক্রাউন কোর্টে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।    ইসমাইলের মৃত্যুতে তার স্কুল দারুল উলুম বার্মিংহাম ইসলামিক হাই স্কুলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলের ডেপুটি হেড শিক্ষক হাম্মাদ আজহার তাকে অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী, দায়িত্বশীল, দৃঢ়চেতা ও অন্যের প্রতি গভীরভাবে যত্নশীল একজন শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করেছেন।    স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ইসমাইল পুরো কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। তিনি কোরআন তিলাওয়াদের দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দুটি ইজাজাহ বা আনুষ্ঠানিক সনদ অর্জন করেছিলেন এবং মসজিদে তারাবির নামাজেও ইমামতি করেছিলেন। পাশাপাশি জিসিএসই পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমেও অংশ নিতেন।    তবে শিক্ষকদের কাছে ইসমাইলের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তার বিনয় ও মানবিকতা। হাম্মাদ আজহারের ভাষ্য অনুযায়ী, এত অল্প বয়সে অনেক অর্জন করেও তিনি কখনো অহংকারী হয়ে ওঠেননি। বরং সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন, করমর্দন করতেন এবং কেউ কথা বললে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।   শিক্ষকেরা জানান, ইসমাইলের এমন স্বাভাবিক সৌজন্য ছিল, যা অন্যদের তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত মনে করাত। পড়াশোনা, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং খেলাধুলাতেও তার আগ্রহ ছিল।    মাত্র ১৬ বছর বয়সে এমন একজন শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তার স্কুল। পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ইসমাইলের অর্জন এবং মানুষের প্রতি তার সদয় আচরণ তার রেখে যাওয়া স্মৃতি হয়ে থাকবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
কুকুর দিয়ে মুসলিম ট্যাক্সিচালককে ভয় দেখানোর ভিডিও ঘিরে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক সমালোচনা
যুক্তরাজ্যে মুসলিম ট্যাক্সি চালককে কুকুর দিয়ে হেনস্তা! ভিডিও ভাইরাল

যুক্তরাজ্যে এক মুসলিম ট্যাক্সি চালককে যাত্রীদের কুকুর দিয়ে ভয় দেখানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি চলন্ত অবস্থায় পেছনের আসনে থাকা যাত্রীরা একটি ছোট কুকুরকে চালকের দিকে এগিয়ে দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে চালক গাড়ি থামিয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চালক কুকুরটি দেখে স্পষ্টভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে যাত্রীদের একজন কুকুরটিকে চালকের মাথার দিকে এগিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চালক গাড়ি থামিয়ে বাইরে চলে যান এবং আর গাড়িতে ফিরতে রাজি হননি। যাত্রীরা ঘটনাটিকে ‘প্র্যাঙ্ক’ বা মজা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।  ভিডিওটি ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে ঘটনাটিকে মুসলিম পরিচয়ের কারণে চালককে লক্ষ্য করে হয়রানি হিসেবে দাবি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে চালকের নাম, ঘটনাস্থলের নির্দিষ্ট শহর কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে ঘটনাটিকে নিছক মজা নয়, বরং চালকের জন্য বিপজ্জনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ গাড়ি চলন্ত অবস্থায় চালককে ভয় দেখানো হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্ল্যারিসা স্ট্রিটকে সংযোগহীন অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
রোগীর কষ্টকে 'অজুহাত' ভেবে অক্সিজেন ছাড়াই মাস্ক পরিয়ে দিলেন নার্স, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তরুণ

যুক্তরাজ্যে অসুস্থ এক তরুণীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী ক্ল্যারিসা স্ট্রিটকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে এমন একটি অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হয়েছিল, যা কোনো অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। পরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় হাসপাতালের করিডরে থাকার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।   ঘটনাটি ২০২৪ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে ঘটে। চলতি বছরের মে মাসে রোচডেল কোরোনার আদালতে অনুষ্ঠিত তদন্তে তাঁর চিকিৎসার শেষ সময়ের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে। ক্ল্যারিসা ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। তাঁর গবেষণার জন্য তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সৃজনশীল, প্রাণবন্ত এবং মানুষের সঙ্গে মিশুক তরুণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ক্ল্যারিসার প্রেমিক অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। আদালতে বলা হয়, এর আগের দুই দিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। মাথা ঘোরা, বমি এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাঁকে রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের একজন তাঁকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এবং আতঙ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলে মনে করেছিলেন বলে তদন্তে জানানো হয়।   এরপর দায়িত্বে থাকা নার্স মিশেল নিল ক্ল্যারিসাকে একটি অক্সিজেন মাস্ক দেন। কিন্তু সেটি কোনো অক্সিজেনের উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। নিল আদালতে স্বীকার করেন, কেন তিনি এমন একটি মাস্ক দিয়েছিলেন তা তিনি জানেন না এবং এমনটি করা উচিত হয়নি। তিনি অবশ্য দাবি করেন, মাস্কটি ক্ল্যারিসার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল এবং তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন।   তদন্তে আরও জানা যায়, ক্ল্যারিসার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং তাঁর হৃদস্পন্দনও দ্রুত ছিল। এরপরও তাঁকে চিকিৎসাকক্ষের পরিবর্তে হাসপাতালের করিডরে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। নিল জানান, তিনি ক্ল্যারিসার জন্য ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা এবং শিরার রক্তের গ্যাস পরীক্ষা করার অনুরোধ করেছিলেন। পরে তাঁর বিষয়টি একজন জ্যেষ্ঠ নার্সের কাছে তোলা হয়। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ নার্স ক্ল্যারিসা বয়সে তরুণ হওয়ায় তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁকে তরল দেওয়া হয় এবং পরে আবার পরীক্ষা করার কথা ছিল।   কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। তবে ১৪ আগস্ট ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্তে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পালমোনারি এমবোলিজম বা ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাটের কথা বলা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাটি লিভার রোগের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   ক্ল্যারিসার এর আগেও ২০১৭ সালে পালমোনারি এমবোলিজম ও গভীর শিরায় রক্ত জমাটের সমস্যা হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ঘটনাটি সে সময়ের চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়েছিল। তাই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা তখন ছিল না।   তদন্তে অবশ্য এটিও স্বীকার করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলে তাঁর শরীরে কোনো অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ২০১৭ সালের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের পালমোনারি এমবোলিজম সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে জরুরি বিভাগে রোগী মূল্যায়ন, রোগীর উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে বয়স বা প্রাথমিক ধারণার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাকক্ষে নেওয়া হয়নি।   তবে ক্ল্যারিসার মৃত্যুর জন্য সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে এমনটি বলা ঠিক হবে না। কোরোনারের তদন্তের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পরিস্থিতি ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা। অক্সিজেনের সঙ্গে সংযোগহীন মাস্ক দেওয়ার বিষয়টি নার্স নিজেই ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের অবস্থান পর্যালোচনার ইঙ্গিতের পর ফকল্যান্ড নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলোইয়ের তৎপরতা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড দাবিতে ট্রাম্পের সমর্থনের ইঙ্গিত, বিপাকে যুক্তরাজ্য

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পর্যালোচনার কথা বলার পর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলোই আবারও দ্বীপগুলোর ওপর আর্জেন্টিনার দাবিকে জোরালো করেছেন।   দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর্জেন্টিনায় এগুলো ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্বের বিরোধের সবচেয়ে বড় অধ্যায় ছিল ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন এবং ব্রিটেনের ২৫৫ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। জুনে আর্জেন্টিনার বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধের অবসান ঘটে।   তবে যুদ্ধের পরও আর্জেন্টিনা দ্বীপগুলোর ওপর নিজের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাহার করেনি। অন্যদিকে দ্বীপের বাসিন্দারা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালের গণভোটে ভোট দেওয়া ১ হাজার ৫১৭ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জনই ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।   সম্প্রতি ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যালোচনা করছেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি। ঐতিহাসিকভাবে ওয়াশিংটন দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে, যদিও বাস্তবে ব্রিটিশ প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে।   ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে দ্রুত নিজের দেশের দাবির পক্ষে কাজে লাগান আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলোই। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার জন্য দ্বীপগুলো পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি দ্বীপগুলোর আশপাশে তেল অনুসন্ধান নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান।   মিলোইয়ের সরকার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘সি লায়ন’ তেল প্রকল্পকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। আর্জেন্টিনা এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে অবৈধ বলে মনে করলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বলছে, তাদের অনুমোদন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকার এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া।   মিলোইয়ের বক্তব্যে সামরিক সংঘাতের সরাসরি হুমকি না থাকলেও দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি তাঁর সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তিনি একই সঙ্গে দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলে আর্জেন্টিনার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেছেন।   এর মধ্যে ট্রাম্প ও মিলোইয়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কও বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মিলোই নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চয়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সময় মিলোইয়ের রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী সাফল্যও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   অন্যদিকে ব্রিটেন দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং তারা ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকতে চায়। দ্বীপবাসীদের এই অবস্থানের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।   ফকল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের প্রত্যাশিত মাত্রায় সহযোগিতা না পাওয়ায় ট্রাম্পের অসন্তোষের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতেও ব্রিটেনের অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ফকল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন নীতি পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।   ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পর ফকল্যান্ড ইস্যুতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত আর হয়নি। কিন্তু আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি কখনো শেষ হয়নি। এখন ট্রাম্পের মন্তব্য, মিলোই সরকারের নতুন তৎপরতা এবং দ্বীপগুলোর সম্ভাব্য তেলসম্পদকে ঘিরে বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পুরোনো এই ভূখণ্ডগত বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে সরাসরি হামলার হুমকি রাশিয়ার, যুক্তরাজ্যকেও সতর্ক করলেন পুতিন

ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন স্থাপনায় সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় রাশিয়া হামলা চালাতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বিষয়টি ‘সামরিক গোপনীয়তা’।   জার্মানি গত মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, গত মাসে লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশি তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।   এর পরই মেদভেদেভ জার্মানির বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলো সরাসরি হামলার লক্ষ্য হতে পারে। বার্লিনের আরও কিছু স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   গত ৪ আগস্ট লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এলাকায় একটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন পাওয়া যায়। জার্মান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমানের কাছে ছিল এবং এতে বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর ছিল। পরে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। জার্মান সরকার ঘটনাটিকে রাশিয়ার বৃহত্তর ‘হাইব্রিড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে দেখছে।   অভিযোগের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জার্মানি। পাশাপাশি বন শহরে রাশিয়ার কনস্যুলেট বন্ধ এবং বার্লিনে রাশিয়ান হাউসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রুশ নাগরিকদের প্রবেশে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।   তবে মস্কো জার্মানির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, বার্লিনের অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। পুতিনও জার্মানির পদক্ষেপকে গুরুতর ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   এদিকে যুক্তরাজ্যকে নিয়েও রাশিয়ার হুঁশিয়ারি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি দীর্ঘপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে আরও সক্ষম করে তুলতে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর মস্কো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।   কিরগিজস্তানে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিনকে প্রশ্ন করা হয়, রাশিয়া ব্রিটিশ ভূখণ্ডে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা বিবেচনা করছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এটি ‘সামরিক গোপনীয়তা’। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইউক্রেনকে ব্রিটিশ অস্ত্র সরবরাহের কারণে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।   সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জার্মানির পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপে রাশিয়ার কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা জোরদারের আলোচনা চলছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
তামিম চৌধুরী
ক্যানসার তহবিল চুরি করে বিয়ে-হানিমুন, ব্রিটিশ বাংলাদেশির কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যে স্তন ক্যানসার গবেষণায় অর্থায়নকারী দাতব্য প্রতিষ্ঠান ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড আত্মসাতের দায়ে ২৯ বছর বয়সী তামিম চৌধুরীকে দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের আদালত। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, বিলাসবহুল কেনাকাটা, বিয়ে ও হানিমুনের খরচে ব্যয় করেছিলেন তিনি।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিসে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর তামিমকে এই সাজা দেওয়া হয়। সিটি অব লন্ডন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনিতে বসবাস করতেন এবং ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অর্থ বিভাগে কাজ করতেন।   আদালতে বলা হয়, ২০২৩ সালে রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কাছ থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের ৯১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৭২ পাউন্ড ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। ওই অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তামিম ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে রয়্যাল মার্সডেনকে পরিবর্তিত ব্যাংক তথ্য পাঠান। ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অফিসিয়াল প্যাডে দেওয়া ওই ব্যাংক হিসাবটি ছিল তার নিজের।   পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট পুরো অর্থ তার ব্যক্তিগত স্যানটান্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এরপর দ্রুত ওই অর্থ খরচ করতে শুরু করেন তিনি।   তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তামিম প্রায় ৪৯ হাজার পাউন্ড খরচ করেন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, কাতারের বিমানের টিকিট, বিলাসবহুল কেনাকাটা, স্বজনদের অর্থ পাঠানো এবং বিয়ে ও হানিমুনের খরচ ছিল। একটি বিলাসবহুল আংটির পেছনেও প্রায় ১৪ হাজার পাউন্ড খরচ করেন তিনি।   পুলিশের তদন্তে তার মোবাইল ফোনের বার্তাতেও আর্থিক সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। চুরির আগে তিনি নিজেকে চরম আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানায় পুলিশ।   অর্থের অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর স্যানটান্ডার তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে। ওই সময় অ্যাকাউন্টে থাকা ৪২ হাজার ৮৬৬ দশমিক ২৫ পাউন্ড জব্দ করা হয়।   ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি অব লন্ডন পুলিশের প্রতারণা তদন্তকারী দল তদন্ত শুরু করে। পরে ২০২৫ সালের জুনে তামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।   সিটি অব লন্ডন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা বলেন, ক্যানসার গবেষণায় অর্থায়নকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগকে তামিম ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহার করেছেন। দাতাদের অর্থের ওপর মানুষের আস্থার সঙ্গে তার এই কর্মকাণ্ড বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   ব্রেস্ট ক্যানসার নাও জানিয়েছে, পুলিশ তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের পুরোটা উদ্ধার হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত কোনো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েনি।   ব্রেস্ট ক্যানসার নাও স্তন ক্যানসার গবেষণা, আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা এবং এ রোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থের একটি অংশ রয়্যাল মার্সডেনের মতো গবেষণা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সের হাসপাতালে শিশুমৃত্যু, ১ হাজারের বেশি ঘটনা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিশন

যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস সাসেক্স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের মাতৃ ও নবজাতক সেবায় শিশুমৃত্যু ও ক্ষতির অভিযোগ নিয়ে বড় পরিসরে স্বাধীন তদন্ত শুরু হচ্ছে। তদন্তে ২০১৮ সাল থেকে এক হাজারের বেশি পরিবার ও ঘটনার তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ ধাত্রী ও তদন্তকারী ডোনা ওকেন্ডেন।  এই তদন্তের পেছনে রয়েছে কয়েক বছর ধরে চলা শোকাহত পরিবারগুলোর অভিযোগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় উঠে আসে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মারা যাওয়া অন্তত ৫৫ শিশুর ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা পেলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট ২২৭টি মাতৃমৃত্যু-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করেছিল।    এর পরই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত তদন্তের দাবি জোরালো হয়। যুক্তরাজ্য সরকার মে মাসে নিশ্চিত করে, তদন্তটি ২০১৮ সাল থেকে মাতৃ ও নবজাতক সেবার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উদ্বেগও এতে বিবেচনায় নেওয়া হবে।  সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী দল আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শোকাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করবে। তদন্তের কাঠামো নির্ধারণে পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে জবাবের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।  তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাতৃসেবা নিরাপদ করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। চারটি মাতৃসেবা ইউনিটে ৪০ জন অতিরিক্ত ধাত্রী নিয়োগ, পরিকল্পিত সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য থিয়েটার সুবিধা বাড়ানো এবং জরুরি টেলিফোন ট্রায়াজ সেবা চালুর কথা জানিয়েছে তারা।    হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাদের প্রতি এক হাজার জন্মে প্রসবকালীন ও নবজাতক মৃত্যুর হার ২ দশমিক ১৯, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। তবে পশ্চিম সাসেক্সের দুটি মাতৃসেবা ইউনিটকে গত মাসে আবারও ‘উন্নতি প্রয়োজন’ হিসেবে রেটিং দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।    সরকারি তদন্তের লক্ষ্য শুধু অতীতের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করা নয়, বরং মাতৃ ও নবজাতক সেবায় কোথায় কাঠামোগত সমস্যা ছিল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যায়, সেটিও নির্ধারণ করা। তদন্তের আওতায় এক হাজারের বেশি ঘটনা আসায় এটিকে সাসেক্সের মাতৃসেবা নিয়ে অন্যতম বড় স্বাধীন পর্যালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জিভের ক্যানসারকে সাধারণ ঘা ভেবে ভুল রোগ নির্ণয়, অবশেষে পা কেটে জিভ পুনর্গঠন
জিভের ক্যানসারকে সাধারণ ঘা ভেবে ভুল রোগ নির্ণয়, অবশেষে পা কেটে জিভ পুনর্গঠন

যুক্তরাজ্যের এক নারীর মুখের ক্যানসারকে প্রাথমিকভাবে ‘মাউথ থ্রাশ’ বা সাধারণ ঘা হিসেবে ভুল রোগ নির্ণয় করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভয়াবহ এই ক্যানসার থেকে বাঁচতে ১৩ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পায়ের একটি অংশ কেটে জিভ পুনর্গঠন করতে হয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী এলেইন সয়্যার নামের ওই নারী বর্তমানে ক্যানসারমুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।   ২০২৩ সালের অক্টোবরে এলেইন প্রথম তার জিভে একটি ছোট ঘা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি লক্ষ্য করেন। শুরুতে এক চিকিৎসক এটিকে ‘মাউথ থ্রাশ’ বলে চালিয়ে দিলেও নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের ওপর ভরসা করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দ্বিতীয় একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। নতুন চিকিৎসক তাকে কুইন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ ওয়ার্ডে পাঠান।   সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার জিভে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা বা ক্যানসার ধরা পড়ে, যা ততদিনে তার গলার লিম্ফ গ্ল্যান্ড বা লসিকাগ্রন্থি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।   রোগ নির্ণয়ের পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে এলেইনের জিভের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলা হয় এবং পায়ের একটি অংশ দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। পায়ের টিস্যু হওয়ায় অস্ত্রোপচারের পর তার জিভে সামান্য চুলও গজিয়েছিল, যা টানা ছয় সপ্তাহের ‘নির্মম’ রেডিওথেরাপির কারণে পরে ঝরে যায়।   এলেইন জানান, অস্ত্রোপচারের পর পায়ের মাংসপেশি কেটে নেওয়ায় তাকে নতুন করে হাঁটা শিখতে হয়েছিল। কথা বলার জন্য তাকে একটি হোয়াইটবোর্ড দেওয়া হলেও জিভ সচল রাখতে তিনি জোর করেই কথা বলার চেষ্টা করতেন।   গলার লসিকাগ্রন্থিগুলো ফেলে দেওয়ায় এবং জিভের অর্ধেক অংশ পায়ের টিস্যু দিয়ে তৈরি হওয়ায় এখন তার মাংস, সালাদ, মসলাযুক্ত খাবার বা ওয়াইন পানে বেশ কষ্ট হয়।   কেন্ট-এর টুনব্রিজ ওয়েলসের সাবেক এই ক্যাটারিং ব্যবসায়ী জীবনে কখনো ধূমপান বা মদ্যপান করেননি, তাই কেন তার এই ক্যানসার হলো তা নিয়ে চিকিৎসকরাও বিস্মিত। ২০২৫ সালের শরতে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে মুখের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ২৯৩-এ পৌঁছেছে, যা গত এক দশকে ৩৭ শতাংশ বেশি।   তরুণদের মধ্যে এই ক্যানসারের প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে না যাওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করেছেন এলেইন। শুরুতে সাধারণ ঘায়ের মতো দেখতে এই মারণব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের রাস্তায় কয়েকজন ইসরায়েলি পর্যটকের সঙ্গে করা একটি স্ট্রিট ইন্টারভিউয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
‘আমরা ইসরায়েলি, সবাই ঘৃণা করে কেন বুঝি না’, পর্যটকদের স্ট্রিট ইন্টারভিউ ভাইরাল

যুক্তরাজ্যের রাস্তায় কয়েকজন ইসরায়েলি পর্যটকের সঙ্গে করা একটি স্ট্রিট ইন্টারভিউয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে তাদের ইসরায়েলি পরিচয় এবং দেশটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়।   ভিডিওটির কিছু অংশে সাক্ষাৎকারদাতাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে অপ্রস্তুত বা অনিশ্চিত মনে হতে দেখা যায়। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।   তবে ভিডিওটির মূল উৎস, ধারণের সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় এবং পুরো সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির বক্তব্যকে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মানুষের সামগ্রিক মতামত কিংবা সব ইসরায়েলি নাগরিকের অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে অনেক সময় প্রশ্নের পুরো অংশ, আগের বক্তব্য বা পরবর্তী আলোচনার অংশ বাদ পড়ে যেতে পারে। তাই কোনো ব্যক্তির বক্তব্য থেকে বৃহত্তর কোনো জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি।   বর্তমান সময়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণ, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশে তাদের নিয়ে সামাজিক প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে তৈরি প্রতিটি ভিডিও বা পোস্টের তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির | ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের পর কীভাবে নিশ্চিত হয় নাগরিকত্ব আর নেই

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কেউ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করলেই কি তা নিশ্চিত হওয়া যায়, নাকি এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি নথি রয়েছে? যুক্তরাজ্যের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন, তা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব কার্যকরভাবে শেষ হওয়ার সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।   হুমায়ুন কবির ২১ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২৪ আগস্ট সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি সরাসরি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তিনি নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছেন বলে জানান।    এর পরদিন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তার শপথ গ্রহণে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট বক্তব্য।    কিন্তু ব্রিটিশ আইনে নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হয়? যুক্তরাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হলে নির্ধারিত ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র’ দাখিল করতে হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হয়। তবে শুধু আবেদন জমা দেওয়া, ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার বন্ধ করা কিংবা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব শেষ হয়ে যায় না।    ব্রিটিশ সরকারের জাতীয়তা-সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদন গ্রহণের পর স্বরাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র নিবন্ধন করে। এই নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পরই নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হয়। অর্থাৎ, কেউ যেদিন আবেদন করেছেন, সেটি নাগরিকত্ব শেষ হওয়ার তারিখ নাও হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হলো ঘোষণাপত্রটি যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।    ব্রিটিশ সরকারের আবেদন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আবেদন গ্রহণ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একটি ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র’ দেওয়া হয়, যা তিনি ব্রিটিশ নাগরিক নন, সেটি প্রমাণ করতে ব্যবহার করতে পারেন। সরকারি আবেদনপত্রের নির্দেশনায় নিবন্ধিত ঘোষণাপত্রের আবেদনকারীর কপিকে আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।    ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ে কাজ করা আইনজীবী ড্যানিয়েল কোহেনও তার আইন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ব্যাখ্যায় একই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র স্বরাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর ব্রিটিশ নাগরিক থাকেন না। নিবন্ধিত ঘোষণাপত্রে নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হওয়ার তারিখও উল্লেখ থাকে।    এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্য একটি দেশের নাগরিকত্ব থাকা অথবা অন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা সাধারণত প্রয়োজন। এর উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্ব ত্যাগের ফলে একজন ব্যক্তি যাতে রাষ্ট্রহীন হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা।    এখন প্রশ্ন হলো, একজন সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ কি যুক্তরাজ্য সরকারের কোনো উন্মুক্ত অনলাইন তথ্যভান্ডারে গিয়ে নাম লিখে দেখে নিতে পারেন যে কোনো ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না?   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এমন কোনো উন্মুক্ত নামভিত্তিক সরকারি তথ্যভান্ডারের ব্যবস্থা নেই। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের নিবন্ধিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকে। ফলে বাইরে থেকে যে কেউ শুধু নাম দিয়ে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্বের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে পারেন না। এ কারণেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার নিবন্ধিত নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হয়ে ওঠে।   অর্থাৎ, হুমায়ুন কবির যদি শপথ নেওয়ার আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে তার নাগরিকত্ব ত্যাগের কার্যকর তারিখ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হবে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরে নিবন্ধিত সেই ঘোষণাপত্র। সেখানে উল্লেখ থাকা নিবন্ধনের তারিখই দেখাবে তিনি ঠিক কবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারিয়েছেন।   আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তার নিয়োগে কোনো আইনগত সমস্যা নেই। তবে তার নাগরিকত্ব ত্যাগের নিবন্ধিত ঘোষণাপত্র বা কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, সেটিই এখন বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাচাইযোগ্য বিষয়।   ফলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত শুধু তিনি ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন কি না, কিংবা তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে কি না, তা নয়। বরং তিনি যদি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে সেটি কখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে এবং সেই নিবন্ধনের প্রমাণ কী, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ
অ্যাসাইলামপ্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহার কমাচ্ছে যুক্তরাজ্য, ছোট নৌকায় পারাপারেও নিয়ন্ত্রণ

যুক্তরাজ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা গত এক বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সময়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সংখ্যাও কমেছে। নতুন পরিসংখ্যানের বরাতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা কমিয়ে বড় আবাসনকেন্দ্র ও সাবেক সামরিক স্থাপনায় তাদের সরিয়ে নিচ্ছে।   সরকারি হিসাবে, জুনে প্রায় ১৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থী হোম অফিস পরিচালিত হোটেলগুলোতে ছিলেন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় দ্বিগুণ। জুনের শেষ দিকে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছিল, হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। ২০২৩ সালে হোটেলগুলোতে প্রায় ৫৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। জুন ২০২৬-এ এ সংখ্যা প্রায় ২১ হাজারে নেমে এসেছিল।    হোটেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার সাবেক সামরিক ব্যারাকসহ বড় আবাসনকেন্দ্র ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তির বসবাসের উপযোগী বাড়ি, অর্থাৎ এইচএমওতেও আশ্রয়প্রার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জুনের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা ১৭০টির নিচে নেমে আসে, যেখানে আগের সরকারের সময় এই সংখ্যা প্রায় ৪০০-তে পৌঁছেছিল।    সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬-এর শেষে যুক্তরাজ্যে মোট ৯৮ হাজার মানুষ আশ্রয় সহায়তা পাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২১ হাজার ছিলেন হোটেলে। এক বছর আগের তুলনায় হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৩৫ শতাংশ কমেছিল।    এদিকে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ১৫ হাজার ৮৯৭ জন ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৪৪ শতাংশ কম বলে বিবিসির সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে।    হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে এ পথে আসা মানুষের ৯৫ শতাংশই পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।    যুক্তরাজ্যের হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ছোট নৌকায় পারাপার কমলেও সরকার এ বিষয়ে আত্মতুষ্ট নয়। ফ্রান্সের উপকূলে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ বাড়ানো এবং অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে আসার প্রবণতা কমাতে নতুন আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   আশ্রয় ব্যবস্থায় চাপ কমানোর পাশাপাশি সরকার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই, তাদের ফেরত পাঠানোর ওপরও জোর দিচ্ছে। মার্চ ২০২৬-এর শেষে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৪৯ হাজারে নেমে আসে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কম।    তবে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। নীতিবিশেষজ্ঞদের মতে, হোটেলে থাকা মানুষের সংখ্যা কমলেও আবেদন নিষ্পত্তি ও আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত না হলে অনেক আশ্রয়প্রার্থীকে দীর্ঘ সময় সরকারি আবাসনে থাকতে হতে পারে। অন্যদিকে সরকার বলছে, হোটেলনির্ভর ব্যবস্থা বন্ধ করে আরও স্থায়ী ও কম ব্যয়বহুল আবাসন ব্যবস্থায় যাওয়াই তাদের লক্ষ্য।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মসজিদে হা মলার হুমকি দিয়ে ২৮ মাসের কারাদণ্ড পেলেন ২১ বছর বয়সী ইহুদি যুবক
মসজিদে হা মলার হুমকি দিয়ে ২৮ মাসের কারাদণ্ড পেলেন ২১ বছর বয়সী ইহুদি যুবক

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি সিনাগগে প্রাণঘাতী হামলার জেরে দুটি মসজিদে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অপরাধে গ্যাব্রিয়েল লেভি নামের ২১ বছর বয়সী এক যুবককে ২৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার লিডস ক্রাউন আদালতে হত্যার হুমকির বিষয়টি স্বীকার করার পর বিচারক তাকে দুই বছরেরও বেশি সময়ের এই সাজা প্রদান করেন।   ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর বিকেলে ম্যানচেস্টারের চিথাম হিলের আল-সুন্নাহ মসজিদে বেনামে ফোন করেন লেভি।   ফোন ধরা ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আমি তোমাদের মসজিদে এসে তোমাদের হত্যা করব।"   একই দিন বিকেলে তিনি ম্যানচেস্টারের ইকরা মসজিদেও ফোন করে সেখানকার এক কর্মীকে বলেন, "আমি তোমাকে হত্যা করব, মুসলিম।" গ্রেপ্তারের পর ইহুদি ধর্মাবলম্বী এই যুবক পুলিশকে জানান, মাত্র দুদিন আগে ম্যানচেস্টারের একটি সিনাগগে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এই ফোন কলগুলো করেছিলেন। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে ইসলামোফোবিক ও বর্ণবাদী ঘৃণামূলক বার্তাও পায় পুলিশ।   এর আগে, গত ২ অক্টোবর ইহুদিদের পবিত্র দিন 'ইয়োম কিপুর' চলাকালে ক্রাম্পসালের হিটন পার্ক হিব্রু কনগ্রেগেশন সিনাগগে ভয়াবহ ওই হামলাটি ঘটে। জিহাদ আল-শামি নামের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে সিনাগগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভুয়া আত্মঘাতী বেল্ট পরে ছুরি দিয়ে হামলা চালায়।   পরে সশস্ত্র পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। ওই হামলায় দুজন পুণ্যার্থী প্রাণ হারান। ৬৬ বছর বয়সী মেলভিন ক্রাভিটজ আল-শামির ছুরিকাঘাতে এবং ৫৩ বছর বয়সী আদ্রিয়ান ডলবি ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা এক পুলিশ কর্মকর্তার ভুল গুলিতে বুকে আঘাত পেয়ে মারা যান।   এই মামলার রায়ের বিষয়ে সিনিয়র ক্রাউন প্রসিকিউটর আমির সাজাদ বলেন, নিজের দায়িত্ব পালনের সময় কাউকে হত্যার হুমকি দিয়ে আতঙ্কিত করার অধিকার কারও নেই।   গ্যাব্রিয়েল লেভি যখন বেপরোয়াভাবে ফোন করে এই হুমকিগুলো দিচ্ছিলেন, তখন তিনি একবারও ভাবেননি অপর প্রান্তে কে আছেন। হত্যার হুমকি এবং ইসলামোফোবিক যেকোনো ঘৃণামূলক অপরাধকে আইনিভাবে সব সময়ই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস
সন্তান থাকলে দম্পতিদের বিয়ে করা উচিত, বললেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার

যুক্তরাজ্যে সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতিদের সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস। নতুন আবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, সন্তানদের বিবাহিত বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা আদর্শ পরিস্থিতি এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা উচিত।    রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সী ব্রিটিশ নাগরিকদের সামাজিক আবাসনের অপেক্ষমাণ তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতি, কর্মরত ব্যক্তি ও সাবেক সেনাসদস্যদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।    টাইসকে জিজ্ঞেস করা হলে, সন্তানসহ বিবাহিত ব্রিটিশ দম্পতি একক ব্রিটিশ নাগরিকের চেয়ে সামাজিক আবাসনে অগ্রাধিকার পাবেন কি না, তিনি বলেন, হ্যাঁ। তাঁর যুক্তি, পরিবার সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন।   একক অভিভাবকদের প্রসঙ্গে টাইস বলেন, বাস্তব জীবনে অনেক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তবে তাঁর মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে সন্তানদের বিবাহিত দম্পতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা বেশি কাম্য এবং এ বিষয়টি উৎসাহিত করা উচিত।    রিফর্ম ইউকের এই পরিকল্পনায় ব্রিটিশ নাগরিকদের আবাসনের তালিকায় এগিয়ে রাখার পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগের একটি প্রস্তাবও রয়েছে। দলটির দাবি, বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার বাড়ি খালি হতে পারে।    তবে প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করেছে গৃহহীনতা নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা শেল্টার। সংস্থাটির মতে, এমন নীতি বাস্তবায়ন হলে অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় অস্থায়ী আবাসনে আটকে থাকতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের জন্য এটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, সামাজিক আবাসনের সুযোগ নির্ধারণে আবাসনের প্রয়োজনের পরিবর্তে জাতীয়তা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিলে আরও বেশি পরিবার গৃহহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   এর আগে জুন মাসে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আনেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে সামাজিক আবাসনে থাকা বিদেশি নাগরিকদের বেসরকারি ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হবে। তা না হলে তাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়ার কথা বলা হয়েছিল।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে কার্বন ছড়াবে নিউইয়র্কগামী ৮,৪৮০ ফ্লাইটের সমান
যুক্তরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে কার্বন ছড়াবে নিউইয়র্কগামী ৮,৪৮০ ফ্লাইটের সমান

লন্ডনের নর্থ অকেন্ডনে প্রস্তাবিত ১৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার চালু হলে বছরে ১২ লাখ টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ হতে পারে বলে পরিকল্পনা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিমাণ নিঃসরণ লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে প্রায় ৮ হাজার ৪৮০টি ফ্লাইটের বার্ষিক কার্বন ফুটপ্রিন্টের সমান।    ইস্ট হ্যাভারিং ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নামে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ইউরোপের অন্যতম বড় ডেটা সেন্টারে পরিণত হতে পারে। ২১৮ হেক্টর গ্রিন বেল্ট জমিতে গড়ে ওঠার কথা রয়েছে এই ক্যাম্পাসের। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের অবকাঠামো হিসেবে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, ডেটা সেন্টারটির সম্ভাব্য ৬০ বছরের আয়ুষ্কালে মোট কার্বন নিঃসরণ ৭ কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি হতে পারে। আর ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হলেও বছরে প্রায় ২৬৫ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাজ্যের ১০ লাখের বেশি পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাছাকাছি।    প্রকল্পটির জন্য জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের সংযোগ প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতার সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট গ্রিড অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে।   কার্বন নিঃসরণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা নথিতে প্রকল্পটির কার্বন নিঃসরণ যুক্তরাজ্যের ২০৫০ সালের নেট-জিরো লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৮ সালের হিসাবে প্রকল্পটির পরিচালনাগত কার্বন নিঃসরণ হ্যাভারিং এলাকার পুরো কার্বন বাজেটের প্রায় ২০ গুণ এবং যুক্তরাজ্যের মোট কার্বন বাজেটের প্রায় ১ শতাংশের সমান হতে পারে।    তবে প্রকল্পটির পক্ষে অর্থনৈতিক সুবিধার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ডেভেলপারদের দাবি, ক্যাম্পাসটি স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি হ্যাভারিংয়ের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। প্রকল্পের পরিকল্পনায় ১১৩ হেক্টরের একটি ইকোলজি পার্ক, ইনডোর হর্টিকালচার সুবিধা এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গার কথাও রয়েছে।    হ্যাভারিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্থানীয় উন্নয়ন আদেশের খসড়া নিয়ে জনমত গ্রহণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব ও কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বড় ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনার জন্য বিপুল বিদ্যুৎ, জমি ও শীতলীকরণ অবকাঠামোর প্রয়োজন হওয়ায় পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইস্ট হ্যাভারিং প্রকল্পকে ঘিরে সেই বিতর্কই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
একই আইন, ভিন্ন বিচার: যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ

যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইন, বিশেষ করে 'টেররিজম অ্যাক্ট ২০০০'-এর চরম বৈষম্যমূলক প্রয়োগ নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি 'ফিলিস্তিন অ্যাকশন'-কে সমর্থন করে যুক্তরাজ্যের অনেক সাধারণ ও শ্বেতাঙ্গ নাগরিক, বিশেষত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ বা চিকিৎসকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন।   ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে তারা সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে জেনেও স্বেচ্ছায় এই আইন অমান্য করছেন। এর জেরে মিডল্যান্ডসসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ। তবে শ্বেতাঙ্গদের ওপর পুলিশের এই অভিযানের দৃশ্য যুক্তরাজ্যের বিচারব্যবস্থার একটি পুরনো ও অন্ধকার দিককে নতুন করে সামনে এনেছে।   মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকরা অভিযোগ করছেন, গত ২৫ বছর ধরে এই একই সন্ত্রাসবিরোধী আইন যুক্তরাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্দয়ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। কোনো ধরনের সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই বিমানবন্দরে হয়রানি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া বা বিনা বিচারে আটকে রাখার মতো ঘটনাগুলো মুসলিমদের জন্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।   একজন শ্বেতাঙ্গ বৃদ্ধ যখন প্ল্যাকার্ড হাতে গ্রেপ্তার হন, তখন সমাজ সেটিকে রাষ্ট্রীয় বাড়াবাড়ি ও অযৌক্তিকতা হিসেবে দেখে। কিন্তু একই অপরাধে একজন মুসলিম গ্রেপ্তার হলে তাকে সরাসরি 'সন্ত্রাসী' হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। অধিকারকর্মীরা একেই ‘শ্বেতাঙ্গ বিশেষাধিকার’ (White Privilege) হিসেবে আখ্যায়িত করে বলছেন, রাষ্ট্রের চোখে মুসলিমরা যেন জন্মগতভাবেই সন্দেহভাজন।   ফিলিস্তিনের পক্ষে বর্তমান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শ্বেতাঙ্গদের সাহস প্রশংসিত হলেও, বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আইনি ব্যবস্থার এই অন্তর্নিহিত বৈষম্য দূর করা না হলে প্রকৃত ন্যায়বিচার আসবে না। গণমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে যখন বলা হয়, "এরা তো চেনা সন্দেহভাজন (Usual Suspects) নয়", তখন তার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মুসলিমদের ওপর চলমান নিপীড়নকেই বৈধতা দেওয়া হয়।   অধিকারকর্মীদের মতে, সত্যিকারের সংহতি হলো বৈষম্যমূলক এই সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে আংশিক নয়, বরং পুরোপুরি বাতিল করার দাবি তোলা এবং ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব ও গণহত্যার অবসান না হওয়া পর্যন্ত সবার মুক্তির জন্য এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ
যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিমদের অজুর সময় এবং এশীয় সম্প্রদায়কে চাল ধোয়ার ক্ষেত্রে পানির অপচয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফওয়াট'। 'ওয়াটার এফিসিয়েন্সি ইন ফেইথ অ্যান্ড ডাইভার্স কমিউনিটিজ' শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সাউথ স্টাফোর্ডশায়ার ওয়াটার, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিনিটি অনুষদ এবং কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পে দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের অভ্যাসে পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   কেমব্রিজে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে মুসলিমদের নামাজের আগে অজুর জন্য মাত্র এক লিটার পানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়। অফওয়াটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অনেকেই কল ছেড়ে অজু করতে গিয়ে ১২ লিটার পর্যন্ত পানি খরচ করেন। সংস্থাটির মতে, অজুর সময় এক লিটারের বোতল ব্যবহার করলে প্রতিদিন একজনের প্রায় ৫৫ লিটার পর্যন্ত পানি সাশ্রয় হতে পারে।   এই প্রচারণার মাধ্যমে কেমব্রিজে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ৯০০ লিটার পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, এশীয়দের চাল ধোয়ায় পানি সাশ্রয়ের কৌশল শেখাতে করদাতাদের প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড খরচ করে যুক্ত করা হয় ২০১৪ সালের মাস্টারশেফ বিজয়ী শেফ পিং কুম্বসকে। তিনি এক ভিডিও বার্তায় জানান, অনেকেই পরিষ্কার পানি বের না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ-সাতবার চাল ধুয়ে থাকেন, যা আদতে অপ্রয়োজনীয়।   তবে অফওয়াটের এই অভিনব উদ্যোগটি ব্রিটেনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসে পরিবর্তনের উপদেশ দেওয়ার চেয়ে পানি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর উচিত নিজেদের ত্রুটিপূর্ণ পাইপ ও অবকাঠামো মেরামতের দিকে নজর দেওয়া।   গত জুলাইয়ে গ্রিনপিস ইউকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রতিদিন ছিদ্রযুক্ত পাইপের কারণে প্রায় ২.৮৭ বিলিয়ন লিটার পানি অপচয় হয়, যা দিয়ে এক হাজার ১৫০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল ভর্তি করা সম্ভব।   ক্যাবিনেট অফিসের শ্যাডো মিনিস্টার মাইক উড এই প্রকল্পের পেছনে করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করে জানান, মানুষ এমনিতেই পানির বিল বৃদ্ধিতে চাপে আছে; সেখানে এমন প্রকল্পে জনগণের টাকা খরচ করা মোটেও যৌক্তিক নয়।   তীব্র বিতর্কের মুখে অফওয়াটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ায় জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যেই একাধিক ধর্মীয় গোষ্ঠী ও দাতব্য সংস্থার সঙ্গে এই পাইলট প্রকল্পটি চালানো হয়েছিল।   এটি কারও ওপর বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেয়নি বা ধর্মীয় রীতিনীতিতে হস্তক্ষেপ করেনি। উল্লেখ্য, দেশজুড়ে পানির ব্যবহার কমাতে গত জুন মাসে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে ‘লেটস সেভ ওয়াটার’ নামে একটি পৃথক প্রচার অভিযানও শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথে এক নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সিরীয় তরুণ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রসৈকতের টয়লেটে তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, সিরীয় শরণার্থীর ৬ বছরের জেল

যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথে এক নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সিরীয় তরুণ মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। ২০২৫ সালের ৬ জুলাই ভোরে সমুদ্রসৈকতের কাছে একটি অস্থায়ী টয়লেটে ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। মামলার শুনানিতে আবদুল্লাহ দাবি করেছিলেন, তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্কটি সম্মতিতে হয়েছিল। তবে বোর্নমাউথ ক্রাউন কোর্টের জুরি তাকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।    আদালতে বলা হয়, ঘটনার রাতে ওই নারী এক বন্ধুর সঙ্গে বাইরে ছিলেন। পরে তারা আলাদা হয়ে গেলে তিনি বাড়ি ফেরার জন্য সমুদ্রসৈকত ধরে হাঁটছিলেন। তার ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ায় ট্যাক্সি ডাকতেও সমস্যায় পড়েন তিনি।   এ সময় আবদুল্লাহ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে ওই নারীর দেখা হয়। বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে আবদুল্লাহ তাকে বৈদ্যুতিক বাইকে তুলে নেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি তাকে একটি অস্থায়ী টয়লেটের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে যৌন নিপীড়ন এবং পরে টয়লেটের ভেতরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।   আদালতে আরও জানানো হয়, ঘটনার পর ওই নারী জুতা খুলে দৌড়ে পালিয়ে সাহায্য চান। পরে এক পথচারীর ফোন ব্যবহার করে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন তাকে ঘটনার পর অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখেছিলেন বলে আদালতে জানান।   আবদুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই নারী নিজেই তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চেয়েছিলেন এবং তাদের যৌন সম্পর্ক সম্মতিতে হয়েছিল। তবে জুরি তার বক্তব্য গ্রহণ করেননি এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।    মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ২০২৩ সালে সিরিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন। তিনি পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি পান এবং পরে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকারও দেওয়া হয়।    আদালত তাকে হেফাজতে পাঠিয়েছেন। বিচারক রবার্ট পসন জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে সাজা নির্ধারণ করা হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
৫২ বছর বয়সেই চাকরি ছেড়ে অবসর নেওয়া নারী
৫২ বছরেই অবসরের পরিকল্পনা! মাসে ৩ হাজার পাউন্ড আয়ের স্বপ্ন কতটা বাস্তব?

যুক্তরাজ্যে ৫২ বছর বয়সেই চাকরি ছেড়ে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এক নারী। তার লক্ষ্য, নিজের বাড়ি ধরে রেখে পেনশন ও বিনিয়োগ থেকে মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার পাউন্ড আয় করা এবং অবসরের কিছুটা সময় ভারতে কাটানো। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা সম্ভব, সেটিই এখন তার সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রশ্ন।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের ‘মানি মেকওভার’ বিভাগে প্রকাশিত আর্থিক পরিকল্পনা বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প বয়সে অবসর নিতে চাইলে শুধু বর্তমান সঞ্চয় বা পেনশনের পরিমাণ দেখলেই হবে না। অবসর-পরবর্তী দীর্ঘ সময়ের জীবনযাত্রার ব্যয়, বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য আয়, মূল্যস্ফীতি এবং বাড়ি সংক্রান্ত খরচও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।   বিশেষ করে ৫২ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার অর্থ হলো প্রচলিত অবসর বয়সের তুলনায় অনেক বেশি সময় চাকরি ছাড়া জীবনযাপন করতে হবে। ফলে পেনশন পাওয়ার বয়স হওয়ার আগের সময়টুকুর খরচ কীভাবে চালানো হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পেনশনের পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে নিয়মিত অর্থ তুলতে হলে সেই বিনিয়োগের মূলধন কতদিন টিকবে, সেটিও হিসাব করতে হবে।   অবসরে মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার পাউন্ড খরচের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। কারণ আজকের ২ হাজার পাউন্ডের ক্রয়ক্ষমতা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির কারণে একই থাকবে না। একই সঙ্গে বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়ও প্রতি বছর একই থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   নিজের বাড়ি ধরে রাখার সিদ্ধান্তও এই অবসর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাড়ির ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করা থাকলে মাসিক ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। তবে গৃহঋণ, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, স্থানীয় কর, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন পরিষেবার বিল এবং অন্যান্য আবাসন ব্যয় থাকলে সেগুলোও অবসরকালীন বাজেটে আলাদাভাবে ধরতে হবে।   ভারতে বছরের একটি অংশ কাটানোর পরিকল্পনা অবসরকালীন ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় দুই দেশে বসবাস করলে যাতায়াত, চিকিৎসা, বিমা এবং করসংক্রান্ত খরচও আগে থেকেই হিসাব করা প্রয়োজন।   আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫২ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার লক্ষ্য থাকলে এখন থেকেই পেনশন ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ঋণ কমানো এবং অবসর পর্যন্ত কত অর্থ প্রয়োজন হবে তার একটি বাস্তবসম্মত হিসাব তৈরি করা জরুরি। শুধু মাসে কত টাকা আয় করতে চান তা নির্ধারণ করলেই হবে না, সেই অর্থ কত বছর ধরে প্রয়োজন হবে সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।   তাই ৫২ বছর বয়সে অবসর নেওয়া অসম্ভব নয়। তবে বাড়ি ধরে রাখা, মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার পাউন্ড খরচ করা এবং একই সঙ্গে ভারতের মতো অন্য দেশে নিয়মিত সময় কাটানোর পরিকল্পনা থাকলে পর্যাপ্ত পেনশন ও বিনিয়োগের ভিত্তি তৈরি না করে চাকরি ছেড়ে দেওয়া বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
সামাজিক মাধ্যমে আত্মহ ত্যার ভিডিও দেখতে দেখতে, ১৩ বছরের কিশোরী নিজেই আত্মহ ত্যা করল
সামাজিক মাধ্যমে আত্মহ ত্যার ভিডিও দেখতে দেখতে, ১৩ বছরের কিশোরী নিজেই আত্মহ ত্যা করল

যুক্তরাজ্যের কেন্ট শহরের নর্থফ্লিটে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী ব্লেক গ্যালিয়ার। গত বছরের ৩০ অক্টোবর, নিজের ১৩তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর সে এই চরম পথ বেছে নেয়। তার শোকাহত পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম তাকে ধারাবাহিকভাবে এমন সব ভিডিও দেখাচ্ছিল, যা আত্মহত্যার মতো বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরে।   বাইরে থেকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও হাসিখুশি স্বভাবের ব্লেকের মধ্যে মানসিক অবসাদের কোনো লক্ষণই ছিল না বলে জানিয়েছেন তার মা জেমা বেস্ট।   ৪৭ বছর বয়সী জেমা বেস্ট জানান, মৃত্যুর পর ব্লেকের ফোন ঘেঁটে তারা দেখতে পান সে নিয়মিত উদ্বেগজনক সব কন্টেন্ট দেখত এবং রিপোস্ট করত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "সব বন্ধুর ফোন ছিল, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক বয়সও ছিল ১৩, তাই আমি বোকামি করে কখনোই বিষয়টি খতিয়ে দেখিনি।   এখন বুঝতে পারছি, সামাজিক মাধ্যমই ব্লেকের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।" এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জেমা এবং ব্লেকের ১৯ বছর বয়সী বড় বোন টায়লা গ্যালিয়ার এখন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার ‘রেইজ দ্য এজ’ (Raise The Age) ক্যাম্পেইনের জোরালো সমর্থক। উল্লেখ্য, তরুণদের অনলাইনে সুরক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য সরকার আগামী ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে, যা বড়দিনের আগেই পাস হতে পারে।   এদিকে, অন্য কোনো শিশুকে যেন ব্লেকের মতো পরিণতি ভোগ করতে না হয়, সেজন্য তার মা ও বোন 'ব্লেকস পিংক প্রমিস' নামে একটি দাতব্য সংস্থা গড়ে তুলেছেন। আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় থাকা এই সংস্থাটি ইতিমধ্যেই গ্রেভসেন্ডের চারটি স্কুলের ৭ থেকে ১৩ বছর বয়সী ৭৬ জন শিক্ষার্থী এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ককে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংয়ের জন্য অর্থায়ন করেছে।   টায়লা জানান, তাদের পুরো জীবন এলোমেলো হয়ে গেলেও অন্তত একটি শিশুকেও যদি তারা সাহায্য করতে পারেন, তবে এই উদ্যোগ সার্থক হবে। চলতি বছরের শেষের দিকে ব্লেকের মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা ইনকুয়েস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে অবিবাহিত দম্পতিদের অধিকার বাড়ানোর নতুন প্রস্তাব নিয়ে শঙ্কিত ক্লেয়ার লংহার্স্ট ও তাঁর পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে না করেও সংসার, নতুন আইনি প্রস্তাবে সঞ্চয় নিয়ে শঙ্কায় ব্রিটিশ নারী

যুক্তরাজ্যে বিয়ে না করে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসকারী দম্পতিদের আর্থিক ও উত্তরাধিকার অধিকার বাড়ানোর সরকারি প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।   এর মধ্যেই ৩৭ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী ক্লেয়ার লংহার্স্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রস্তাবিত আইনি পরিবর্তন কার্যকর হলে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাঁর নিজের উপার্জন ও সঞ্চয়ের ওপরও আর্থিক দাবি তৈরি হতে পারে।   দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লেয়ার ও তাঁর সঙ্গী ইউসুফ আব্রাকি ২০২২ সালে বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। বিয়ের পোশাক, অনুষ্ঠানস্থল, তিন স্তরের কেক, আলোকচিত্রগ্রাহক এবং প্রায় ৬৫ জন অতিথির প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁরা আইনগতভাবে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন। অনুষ্ঠানটি বিয়ের মতো হলেও সেখানে আইনগত নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা ছিলেন না। ক্লেয়ার ও ইউসুফের বয়সের ব্যবধান সাত বছর। ক্লেয়ারের বয়স ৩৭ এবং ইউসুফের ৩০। তাঁদের পরিচয় হয় ইউসুফ যখন ক্লেয়ারের কর্মস্থল ডেভিড লয়েড জিমে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করতেন। ক্লেয়ার জানিয়েছেন, তিনি ইউসুফকে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন না; বরং নিজের আর্থিক স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা থেকেই আইনগত বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর বাবা-মায়ের তিক্ত বিবাহবিচ্ছেদের অভিজ্ঞতাও তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে তাঁদের তিন বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে এবং ক্লেয়ার দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। ক্লেয়ার বছরে প্রায় এক লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি আয় করেন এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সঞ্চয় গড়ে তুলেছেন।    অন্যদিকে ইউসুফ সপ্তাহান্তে একটি বেকারিতে খণ্ডকালীন কাজ করেন। তাঁদের তিন কক্ষের ভাড়া বাসার ভাড়া, বিভিন্ন বিল ও স্থানীয় করের বড় অংশ ক্লেয়ারই বহন করেন।ক্লেয়ারের বক্তব্য, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবেই বিয়ে করেননি এবং এই সিদ্ধান্ত তাঁদের সম্পর্কের প্রতি অনাস্থার প্রকাশ নয়। বরং দুজনের সম্মতিতেই তাঁরা এমন একটি সম্পর্ক বেছে নিয়েছেন যেখানে প্রত্যেকে নিজের আর্থিক অবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন।    তিনি আশঙ্কা করছেন, নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর হলে ভবিষ্যতে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাঁর সঞ্চয় বা অন্যান্য সম্পদের একটি অংশ নিয়ে আইনি দাবি উঠতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রস্তাবটি এসেছে ‘এ ফেয়ারার এন্ড টু রিলেশনশিপস’ নামে একটি বিস্তৃত পারিবারিক আইন সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে। ৫ জুন ২০২৬ সরকার এ বিষয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ১৪ আগস্ট তা শেষ হয়। প্রস্তাবের আওতায় বিয়ে না করা দম্পতিদের বিচ্ছেদ এবং কোনো একজনের মৃত্যুর পর আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো দম্পতি অন্তত তিন বছর একসঙ্গে বসবাস করলে অথবা তাঁদের সন্তান থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় আসতে পারেন। তবে শুধু একসঙ্গে বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবাহিত দম্পতির সমান অধিকার পাওয়া যাবে না। আদালতকে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে তাঁরা একটি স্থায়ী পারিবারিক সম্পর্কে ছিলেন।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সম্পর্ক ভেঙে গেলে আদালত প্রয়োজনের ভিত্তিতে সম্পদ, বাসস্থান, পেনশন বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ নিয়ে আদেশ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে সরকারের নথিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তি আইনগতভাবে নিজের মালিকানাধীন সম্পদের মালিকানা বজায় রাখবেন; বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ও পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনায় আদালত সম্পদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে। সন্তানের কল্যাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।   সরকারের যুক্তি হলো, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৩৫ লাখের বেশি দম্পতি বিয়ে বা নাগরিক অংশীদারত্ব ছাড়াই একসঙ্গে বসবাস করছেন। ২০২৫ সালে এমন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখে পৌঁছায়, যা মোট পরিবারের ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমান আইনে এসব পরিবারের অনেকেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে পর্যাপ্ত আর্থিক সুরক্ষা পান না। বর্তমান আইনে বিয়ে না করা কোনো দম্পতির একজনের সম্পত্তি, সঞ্চয় বা পেনশনের ওপর অন্যজনের বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রীর মতো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নেই। একইভাবে, কেউ উইল না করে মারা গেলে তাঁর সহবাসকারী সঙ্গীও বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রীর মতো স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকারী হন না। নতুন প্রস্তাবে এই বিষয়গুলোও সংস্কারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।   সরকার বলছে, সংস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া, যারা সন্তান লালন-পালনের জন্য চাকরি বা আয় কমিয়ে দেন কিংবা সম্পর্কের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা এবং সঙ্গীর মৃত্যুর পর আর্থিক অনিশ্চয়তার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান আইনে যে ঘাটতি রয়েছে, তা কমাতে চায় সরকার। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, অনেক মানুষ সচেতনভাবেই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তাঁরা নিজেদের সম্পদ ও আর্থিক স্বাধীনতা আলাদা রাখতে চান। তাঁদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নতুন আইনি কাঠামো অনিচ্ছাকৃতভাবে বিয়ের মতো আর্থিক দায় তৈরি করতে পারে। দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে ক্লেয়ার লংহার্স্টের ঘটনাকে এই বিতর্কের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ জুলিয়ান হকহেডও বিষয়টিকে জটিল বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে এমন মানুষদের সিদ্ধান্ত ও আর্থিক স্বাধীনতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে, যারা সচেতনভাবে আইনগত বিয়ে না করার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনের মতো নতুন আইন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। ১৪ আগস্ট ২০২৬-এ সরকারের পরামর্শ গ্রহণের সময়সীমা শেষ হয়েছে; এখন সরকার মতামত ও তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। সরকারের ঘোষণাতেও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সংস্কার সংসদীয় সময়সূচি ও পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।   ফলে ক্লেয়ার লংহার্স্টের উদ্বেগটি বর্তমানে কোনো কার্যকর আইনের কারণে তাঁর সঞ্চয় হারানোর ঘটনা নয়; বরং ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তাঁর আশঙ্কা। যুক্তরাজ্যে বিয়ে না করে একসঙ্গে বসবাসকারী লাখো দম্পতির আর্থিক অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করা হবে, সেই প্রশ্নই এখন সংস্কার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০