মসজিদে হা মলার হুমকি দিয়ে ২৮ মাসের কারাদণ্ড পেলেন ২১ বছর বয়সী ইহুদি যুবক
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি সিনাগগে প্রাণঘাতী হামলার জেরে দুটি মসজিদে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অপরাধে গ্যাব্রিয়েল লেভি নামের ২১ বছর বয়সী এক যুবককে ২৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার লিডস ক্রাউন আদালতে হত্যার হুমকির বিষয়টি স্বীকার করার পর বিচারক তাকে দুই বছরেরও বেশি সময়ের এই সাজা প্রদান করেন।
ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর বিকেলে ম্যানচেস্টারের চিথাম হিলের আল-সুন্নাহ মসজিদে বেনামে ফোন করেন লেভি।
ফোন ধরা ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আমি তোমাদের মসজিদে এসে তোমাদের হত্যা করব।"
একই দিন বিকেলে তিনি ম্যানচেস্টারের ইকরা মসজিদেও ফোন করে সেখানকার এক কর্মীকে বলেন, "আমি তোমাকে হত্যা করব, মুসলিম।" গ্রেপ্তারের পর ইহুদি ধর্মাবলম্বী এই যুবক পুলিশকে জানান, মাত্র দুদিন আগে ম্যানচেস্টারের একটি সিনাগগে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এই ফোন কলগুলো করেছিলেন। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে ইসলামোফোবিক ও বর্ণবাদী ঘৃণামূলক বার্তাও পায় পুলিশ।
এর আগে, গত ২ অক্টোবর ইহুদিদের পবিত্র দিন 'ইয়োম কিপুর' চলাকালে ক্রাম্পসালের হিটন পার্ক হিব্রু কনগ্রেগেশন সিনাগগে ভয়াবহ ওই হামলাটি ঘটে। জিহাদ আল-শামি নামের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে সিনাগগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভুয়া আত্মঘাতী বেল্ট পরে ছুরি দিয়ে হামলা চালায়।
পরে সশস্ত্র পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। ওই হামলায় দুজন পুণ্যার্থী প্রাণ হারান। ৬৬ বছর বয়সী মেলভিন ক্রাভিটজ আল-শামির ছুরিকাঘাতে এবং ৫৩ বছর বয়সী আদ্রিয়ান ডলবি ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা এক পুলিশ কর্মকর্তার ভুল গুলিতে বুকে আঘাত পেয়ে মারা যান।
এই মামলার রায়ের বিষয়ে সিনিয়র ক্রাউন প্রসিকিউটর আমির সাজাদ বলেন, নিজের দায়িত্ব পালনের সময় কাউকে হত্যার হুমকি দিয়ে আতঙ্কিত করার অধিকার কারও নেই।
গ্যাব্রিয়েল লেভি যখন বেপরোয়াভাবে ফোন করে এই হুমকিগুলো দিচ্ছিলেন, তখন তিনি একবারও ভাবেননি অপর প্রান্তে কে আছেন। হত্যার হুমকি এবং ইসলামোফোবিক যেকোনো ঘৃণামূলক অপরাধকে আইনিভাবে সব সময়ই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক শুল্ক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কানাডীয় পর্যটকরা। ২০২৫ সালে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে কানাডীয় পণ্য ও সেবার ওপর চড়া শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য বানানোর মতো বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কানাডার মদ ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডায় তৈরি স্টিল এবং অটো পার্টসের ওপর আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর কড়া জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। দুই দেশের এই বাণিজ্য যুদ্ধের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতে, যেখানে ২০২৫ সাল থেকে কানাডীয় পর্যটকদের স্থলপথে আগমন ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে গেছে। কানাডীয় পর্যটকদের এই বিশাল ঘাটতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্যমতে, গত বছর কানাডীয়রা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রমোদভ্রমণ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি ট্যুরিজম ইকোনমিকস নামের একটি সংস্থার গবেষণায় পর্যটক কমার কারণে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির একটি হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে কানাডীয় দর্শনার্থীদের ব্যয় হ্রাসের প্রাক্কলন এবং সেন্সাস ব্যুরোর জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি দেখিয়েছে, এই পর্যটক খরার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মাথাপিছু সম্ভাব্য গড় আর্থিক ক্ষতি হবে ১১ ডলার। তবে এর মধ্যে ১৪টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ মোট ১৫টি স্থানের ক্ষতি জাতীয় গড়ের চেয়েও অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তাদের অর্থনীতিতে কানাডীয় পর্যটকদের ওপর প্রবল নির্ভরশীলতারই ইঙ্গিত দেয়। ক্ষতির শিকার হওয়া এই ১৫টি স্থানের তালিকায় সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে আলাস্কা। কানাডার সঙ্গে সবচেয়ে বড় (১,৫৩৮ মাইল) সীমান্ত থাকা এই অঙ্গরাজ্যটি মাথাপিছু ১১৪ ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা নেভাডার (৭৭ ডলার) ক্ষতির প্রায় দ্বিগুণ। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজধানী ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া (ওয়াশিংটন ডিসি) এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে কানাডা থেকে প্রায় আড়াই হাজার মাইল দূরে অবস্থিত হাওয়াই (৪৫ ডলার)। অর্থাৎ, কেবল সীমান্তবর্তী অঞ্চল নয়, বরং কানাডীয় পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় অন্যান্য দূরবর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোও এই বাণিজ্য উত্তেজনার চরম মূল্য চোকাচ্ছে। তালিকায় থাকা অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে ভার্মন্ট (মাথাপিছু ক্ষতি ৩৭ ডলার), মেইন (৩২ ডলার), ক্যালিফোর্নিয়া (৩১ ডলার) ও ফ্লোরিডা (২৩ ডলার)। ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী আগে কানাডিয়ানরাই ছিলেন। এছাড়া অ্যারিজোনা (২২ ডলার), নর্থ ডাকোটা (১৮ ডলার), নিউইয়র্ক (১৫ ডলার), ওরেগন ও মন্টানা (উভয়ই ১৪ ডলার), নিউ হ্যাম্পশায়ার (১৩ ডলার) এবং ম্যাসাচুসেটস (১২ ডলার) অঙ্গরাজ্যও এই ক্ষতির তালিকায় স্থান পেয়েছে। পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতেও বাড়তে থাকবে।
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে ৪৭ মার্কিন পর্যটকসহ নিখোঁজ শত শত, প্রাণহানি ১৫৭ জনের
মসজিদে হা মলার হুমকি দিয়ে ২৮ মাসের কারাদণ্ড পেলেন ২১ বছর বয়সী ইহুদি যুবক
মরুভূমির নিচে ৭ কোটি বছরের প্রাচীন হাঙরের জগতের সন্ধান
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে হাসপাতালের মাতৃসদনের নবজাতক ওয়ার্ডে আগুন ছড়িয়ে পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ওয়ার্ডে থাকা ১৫ নবজাতকের মধ্যে একজনকে একজন চিকিৎসক উদ্ধার করতে সক্ষম হন। আগুনটি হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালটি ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালগুলোর একটি। ভোরের দিকে আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ও আগুন পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে থাকা অনেক নবজাতক ইনকিউবেটরে ছিল অথবা অক্সিজেনের সহায়তায় চিকিৎসাধীন ছিল বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ডা. আনিজা জলিল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার সময় ওয়ার্ডে ১৫টি শিশু ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে একজন চিকিৎসক উদ্ধার করেন। আগুন থেকে বাঁচতে সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদেরও কয়েক তলা সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে যেতে হয়। ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনার সোহেল আশরাফ জানান, সকাল ৭টার কিছু আগে জরুরি ফোন পেয়ে উদ্ধারকারী ও পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর শিশুদের দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আগুনের ঘটনায় হাসপাতালের আশপাশে নিহত শিশুদের স্বজনেরা জড়ো হন। পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, আগুনের সময় অনেক নবজাতক ইনকিউবেটর ও অক্সিজেনের ওপর ছিল। অক্সিজেনের সিলিন্ডার আগুনকে আরও তীব্র করে থাকতে পারে বলে তিনি জানান। আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কথা বলা হলেও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন এবং আগুনের চূড়ান্ত কারণ তখনো নিশ্চিত করা হয়নি। হাসপাতালটিতে সংস্কার ও নির্মাণকাজ চলছিল বলেও জানানো হয়েছে। এ কারণে আগুনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিহত শিশুদের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, শিশুদের জড়িত এমন পরিস্থিতির ক্ষতি অপূরণীয়। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামাবাদের এই অগ্নিকাণ্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের অন্যতম ভয়াবহ হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ড হিসেবে সামনে এসেছে। দেশটিতে বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে এবং দুর্বল অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবন নির্মাণবিধির যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া ও নিরাপত্তা তদারকির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় নবজাতকদের মৃত্যুতে হাসপাতালের বাইরে স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
পুলিশকে ফাঁকি দিতে ল্যাব্রাডরকে ফেলে পালালেন, কুকুরই ধরিয়ে দিল মালিককে
৩ দশমিক ৩ টন গাঁজা পুড়িয়ে বিপাকে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ, ধোঁয়ায় ‘হাই’ বাসিন্দারা
স্যুট পরে ফ্রাইড রাইস বিক্রি করে মাসে আয় প্রায় ৭ হাজার ৪০০ ডলার! তরুণ রাঁধুনি ভাইরাল
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম মাদামায় ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় একটি ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙার ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টির আইনপ্রণেতা জভি সুকোট হাতুড়ি দিয়ে স্মৃতিসৌধটি ভাঙেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ওই স্থাপনা ভাঙার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সুকোট অনুমোদিত সফরের পরিকল্পনা লঙ্ঘন করেছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের কয়েকটি গ্রামে স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের জন্য সুকোট ও তার সহযোগীদের সফর অনুমোদিত ছিল। সেই সফরে নিরাপত্তা দিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে মাদামা গ্রামে গিয়ে সুকোট ও তার সহযোগীরা অনুমোদিত পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে স্মৃতিসৌধটি ভাঙতে শুরু করেন বলে সেনাবাহিনীর দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সুকোট ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে স্মৃতিসৌধে আঘাত করছেন। আশপাশে ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানও দেখা যায়। পরে সুকোট নিজেই স্মৃতিসৌধটি ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সুকোটের দাবি, স্মৃতিসৌধটি ইসরায়েলিদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে নির্মিত এবং সেখানে এমন ব্যক্তিদের স্মরণ করা হচ্ছে, যাদের তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেন। এর আগে তিনি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন গ্রামে থাকা এ ধরনের স্মৃতিসৌধ সরানোর দাবি জানিয়েছিলেন। এক সপ্তাহ আগেও তিনি মাদামার স্মৃতিসৌধটি ধ্বংস করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য জানিয়েছে, সুকোটের সফরটি অনুমোদিত হলেও স্মৃতিসৌধ ধ্বংসের কোনো অনুমতি ছিল না। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বুঝতে পেরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনারা তাদের কমান্ডারদের বিষয়টি জানান। পরে তাদের মাদামা গ্রাম থেকে সুকোট ও তার সহযোগীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী সুকোটের কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তাবাহিনীর দেওয়া সুরক্ষার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও বলেছে, পশ্চিম তীরে উসকানিমূলক প্রতীক বা স্থাপনা সরানোর জন্য অনুমোদিত অভিযান তারা নিয়মিত পরিচালনা করে। তবে এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। মাদামার ঘটনায় সেই অনুমোদন ছিল না বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। মাদামা গ্রামটি নাবলুস শহরের দক্ষিণে অবস্থিত। স্মৃতিসৌধটিতে কয়েক দশকে নিহত ফিলিস্তিনিদের নাম ছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, বসতি স্থাপনকারী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানি সাইবার হা মলা, সামনে আরও ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে নিশানা করতে চীনের নতুন হাইপারসনিক ক্ষে পণাস্ত্র