যুক্তরাজ্যের সাসেক্সের হাসপাতালে শিশুমৃত্যু, ১ হাজারের বেশি ঘটনা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিশন
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস সাসেক্স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের মাতৃ ও নবজাতক সেবায় শিশুমৃত্যু ও ক্ষতির অভিযোগ নিয়ে বড় পরিসরে স্বাধীন তদন্ত শুরু হচ্ছে। তদন্তে ২০১৮ সাল থেকে এক হাজারের বেশি পরিবার ও ঘটনার তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ ধাত্রী ও তদন্তকারী ডোনা ওকেন্ডেন।
এই তদন্তের পেছনে রয়েছে কয়েক বছর ধরে চলা শোকাহত পরিবারগুলোর অভিযোগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় উঠে আসে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মারা যাওয়া অন্তত ৫৫ শিশুর ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা পেলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট ২২৭টি মাতৃমৃত্যু-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করেছিল।
এর পরই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত তদন্তের দাবি জোরালো হয়। যুক্তরাজ্য সরকার মে মাসে নিশ্চিত করে, তদন্তটি ২০১৮ সাল থেকে মাতৃ ও নবজাতক সেবার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উদ্বেগও এতে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী দল আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শোকাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করবে। তদন্তের কাঠামো নির্ধারণে পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে জবাবের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাতৃসেবা নিরাপদ করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। চারটি মাতৃসেবা ইউনিটে ৪০ জন অতিরিক্ত ধাত্রী নিয়োগ, পরিকল্পিত সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য থিয়েটার সুবিধা বাড়ানো এবং জরুরি টেলিফোন ট্রায়াজ সেবা চালুর কথা জানিয়েছে তারা।
হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাদের প্রতি এক হাজার জন্মে প্রসবকালীন ও নবজাতক মৃত্যুর হার ২ দশমিক ১৯, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। তবে পশ্চিম সাসেক্সের দুটি মাতৃসেবা ইউনিটকে গত মাসে আবারও ‘উন্নতি প্রয়োজন’ হিসেবে রেটিং দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সরকারি তদন্তের লক্ষ্য শুধু অতীতের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করা নয়, বরং মাতৃ ও নবজাতক সেবায় কোথায় কাঠামোগত সমস্যা ছিল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যায়, সেটিও নির্ধারণ করা। তদন্তের আওতায় এক হাজারের বেশি ঘটনা আসায় এটিকে সাসেক্সের মাতৃসেবা নিয়ে অন্যতম বড় স্বাধীন পর্যালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreসৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছে কনস্যুলেটের একটি সূত্র। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠানো হয়। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। শুক্রবার বিকেলে কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, বুধবার, ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে যেসব কর্মকাণ্ডকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ‘অনৈতিক ও অশালীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, সেসব ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়। প্রকাশিত বিবৃতিতে কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ও তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। সৌদি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, অপরাধের গুরুত্ব, মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় এ রায় দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে তা কার্যকর করা হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে মামলাটির বিচার চলছিল। বিচারপ্রক্রিয়ায় দুজন বাংলাদেশি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁদের ভূমিকা ও অভিযুক্তদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে আটক কোনো ব্যক্তি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিলম্ব না করে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয়। আটক ব্যক্তিকে এ অধিকার সম্পর্কেও অবহিত করার বিধান রয়েছে। কনস্যুলার কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ, সাক্ষাৎ এবং আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে পারেন। নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তাঁদের এ অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁরা কী ধরনের আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া বিস্তারিত তথ্য এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অভিজিতের পর নেহা বোরাকেও আটক করল দিল্লি পুলিশ, তিরঙ্গা মিছিল ঘিরে উত্তেজনা
ইংল্যান্ডের পার্কে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ, টহল বাড়াল পুলিশ
‘ভারতীয়দের মা রতে তর সইছে না’, মন্দিরে হা মলার দুই বছরের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক শিকাগোর তরুণ
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হুতিদের হামলায় অন্তত পাঁচজন নি হ ত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হামলার সময় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। হুতিদের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সৌদি আরবের সামরিক অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি বেড়েছে। জোটের দাবি, চলতি মাসে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে প্রায় ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭ জন নি হ ত এবং ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জোটের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন। সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনজন নি হ ত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জোট। তবে এসব হামলার প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আরও দাবি করেছে, সামরিক অভিযানে হুতিদের ১২৭টি অস্ত্রের গুদাম ও হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। অন্যদিকে, হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত শহরের কাছে ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি নাজরান ও জিজান এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব এলাকা ইয়েমেনের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়লে এর প্রভাব শুধু দেশটির নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য হামলার হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সৌদি আরব ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, ইরান হুতিদের সামরিক সহায়তা দেয়। তবে তেহরান হুতিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে। পরের বছর, ২০১৫ সালে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো মানুষ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত কিছুটা কমলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আবারও লড়াই ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থানও এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশটির কাছেই বাব আল-মান্দেব প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার অভিযোগ—দুটি ঘটনাই আঞ্চলিক উত্তেজনার বিস্তারের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
‘হিজাব আমার শিক্ষার বাধা নয়, আমি শহীদ কন্যা, কখনো হিজাব ছাড়ব না’: আজারবাইজানে পোশাকবিধি বিতর্ক
আগাম ভিসা ছাড়াই ইউএই যেতে পারবেন ৪৬ দেশের নাগরিক, তালিকায় নেই বাংলাদেশ
টিকটকে প্রেমিকের ছবি পোস্ট করলেন তরুণী, ২০ জনের বেশি নারীর সাথে সম্পর্কের অভিযোগ
কানাডার টরন্টোয় নিজেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে একটি স্কুলে প্রবেশের পর দুই শিক্ষার্থীকে যৌ ন নিপীড়নের অভিযোগে ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাংলাদেশি শাফফাত হুসেইন। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে টরন্টো পুলিশ সার্ভিস তাঁর গ্রে প্তার ও অভিযোগ আনার তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শাফফাত একটি স্কুলে ঢুকে নিজেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তিনি দুই শিক্ষার্থীকে যৌ ন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ড্যানফোর্থ অ্যাভিনিউ ও বার্চমাউন্ট রোড এলাকায় সংঘটিত যৌ ন নিপীড়নের খবর পেয়ে ৯ অক্টোবর পুলিশ সাড়া দেয়। টরন্টোর বাসিন্দা শাফফাতের বিরুদ্ধে যৌ ন নিপীড়নের দুটি এবং ‘সেক্সুয়াল ইন্টারফেয়ারেন্স’-এর একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৪ অক্টোবর সকালে টরন্টো রিজিওনাল বেইল সেন্টারে তাঁকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। বিজ্ঞপ্তিতে শুনানির ফল জানানো হয়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, আরও কেউ একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের শনাক্ত করতে অভিযুক্তের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য থাকলে টরন্টো পুলিশের ৪১ ডিভিশনে ৪১৬-৮০৮-৪১০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তের জাতীয়তা বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার তথ্যও এতে নেই।
‘আমরা প্রতিযোগিতাকে ভয় পাই না’, ইলন মাস্কের অভিযোগের জবাব দিল আম্বানির রিলায়েন্স
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত মানেই বিপদ শেষ নয়, ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকি এড়াতে থাকুন নিরাপদ আশ্রয়ে