সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যের সাসেক্সের হাসপাতালে শিশুমৃত্যু, ১ হাজারের বেশি ঘটনা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিশন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৭:৫
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস

যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস সাসেক্স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের মাতৃ ও নবজাতক সেবায় শিশুমৃত্যু ও ক্ষতির অভিযোগ নিয়ে বড় পরিসরে স্বাধীন তদন্ত শুরু হচ্ছে। তদন্তে ২০১৮ সাল থেকে এক হাজারের বেশি পরিবার ও ঘটনার তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ ধাত্রী ও তদন্তকারী ডোনা ওকেন্ডেন। 

এই তদন্তের পেছনে রয়েছে কয়েক বছর ধরে চলা শোকাহত পরিবারগুলোর অভিযোগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় উঠে আসে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মারা যাওয়া অন্তত ৫৫ শিশুর ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা পেলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট ২২৭টি মাতৃমৃত্যু-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করেছিল। 

 

এর পরই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত তদন্তের দাবি জোরালো হয়। যুক্তরাজ্য সরকার মে মাসে নিশ্চিত করে, তদন্তটি ২০১৮ সাল থেকে মাতৃ ও নবজাতক সেবার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উদ্বেগও এতে বিবেচনায় নেওয়া হবে। 

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী দল আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শোকাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করবে। তদন্তের কাঠামো নির্ধারণে পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে জবাবের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাতৃসেবা নিরাপদ করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। চারটি মাতৃসেবা ইউনিটে ৪০ জন অতিরিক্ত ধাত্রী নিয়োগ, পরিকল্পিত সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য থিয়েটার সুবিধা বাড়ানো এবং জরুরি টেলিফোন ট্রায়াজ সেবা চালুর কথা জানিয়েছে তারা। 

 

হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাদের প্রতি এক হাজার জন্মে প্রসবকালীন ও নবজাতক মৃত্যুর হার ২ দশমিক ১৯, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। তবে পশ্চিম সাসেক্সের দুটি মাতৃসেবা ইউনিটকে গত মাসে আবারও ‘উন্নতি প্রয়োজন’ হিসেবে রেটিং দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। 

 

সরকারি তদন্তের লক্ষ্য শুধু অতীতের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করা নয়, বরং মাতৃ ও নবজাতক সেবায় কোথায় কাঠামোগত সমস্যা ছিল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যায়, সেটিও নির্ধারণ করা। তদন্তের আওতায় এক হাজারের বেশি ঘটনা আসায় এটিকে সাসেক্সের মাতৃসেবা নিয়ে অন্যতম বড় স্বাধীন পর্যালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সের হাসপাতালে শিশুমৃত্যু, ১ হাজারের বেশি ঘটনা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিশন

যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস সাসেক্স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের মাতৃ ও নবজাতক সেবায় শিশুমৃত্যু ও ক্ষতির অভিযোগ নিয়ে বড় পরিসরে স্বাধীন তদন্ত শুরু হচ্ছে। তদন্তে ২০১৮ সাল থেকে এক হাজারের বেশি পরিবার ও ঘটনার তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ ধাত্রী ও তদন্তকারী ডোনা ওকেন্ডেন।  এই তদন্তের পেছনে রয়েছে কয়েক বছর ধরে চলা শোকাহত পরিবারগুলোর অভিযোগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় উঠে আসে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মারা যাওয়া অন্তত ৫৫ শিশুর ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা পেলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট ২২৭টি মাতৃমৃত্যু-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করেছিল।    এর পরই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত তদন্তের দাবি জোরালো হয়। যুক্তরাজ্য সরকার মে মাসে নিশ্চিত করে, তদন্তটি ২০১৮ সাল থেকে মাতৃ ও নবজাতক সেবার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উদ্বেগও এতে বিবেচনায় নেওয়া হবে।  সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী দল আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শোকাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করবে। তদন্তের কাঠামো নির্ধারণে পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে জবাবের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।  তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাতৃসেবা নিরাপদ করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। চারটি মাতৃসেবা ইউনিটে ৪০ জন অতিরিক্ত ধাত্রী নিয়োগ, পরিকল্পিত সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য থিয়েটার সুবিধা বাড়ানো এবং জরুরি টেলিফোন ট্রায়াজ সেবা চালুর কথা জানিয়েছে তারা।    হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাদের প্রতি এক হাজার জন্মে প্রসবকালীন ও নবজাতক মৃত্যুর হার ২ দশমিক ১৯, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। তবে পশ্চিম সাসেক্সের দুটি মাতৃসেবা ইউনিটকে গত মাসে আবারও ‘উন্নতি প্রয়োজন’ হিসেবে রেটিং দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।    সরকারি তদন্তের লক্ষ্য শুধু অতীতের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করা নয়, বরং মাতৃ ও নবজাতক সেবায় কোথায় কাঠামোগত সমস্যা ছিল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যায়, সেটিও নির্ধারণ করা। তদন্তের আওতায় এক হাজারের বেশি ঘটনা আসায় এটিকে সাসেক্সের মাতৃসেবা নিয়ে অন্যতম বড় স্বাধীন পর্যালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৭:৫
ইরানের লারাক দ্বীপে হা মলার প্রতিশোধে জর্ডানে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হা মলা

ইরানের লারাক দ্বীপে হা মলার প্রতিশোধে জর্ডানে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হা মলা

ট্রাম্পের নির্দেশে গুগল ম্যাপে ‘লেক অন্টারিও’র নাম বদলে রাখা হলো ‘লেক আমেরিকা’

ট্রাম্পের নির্দেশে গুগল ম্যাপে ‘লেক অন্টারিও’র নাম বদলে রাখা হলো ‘লেক আমেরিকা’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক খামেনির

নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩ দিন আটকে থাকার পর, কান্নার শব্দ শুনে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু
নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩ দিন আটকে থাকার পর, কান্নার শব্দ শুনে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে টানা তিন দিন পর ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি উপচে জেলার তিমুরে গ্রামে আকস্মিক ও ভয়ংকর বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাদামাটি ও আবর্জনার নিচ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা।   উদ্ধারকাজ পরিচালনার সময় মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান তারা। এরপর দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে খননকাজ চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। অলৌকিক এই উদ্ধারের ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নেটিজেনরা উদ্ধারকর্মীদের অসীম সাহসিকতার ব্যাপক প্রশংসা করছেন।   উদ্ধারের পর জানা যায়, সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরা এই শিশুটির নাম মানিশা মাগার। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ তার পরিবার ও স্বজনদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারের পরপরই তিমুরেতে এপিএফের সীমান্ত চৌকিতে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।   তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডু নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। খারাপ আবহাওয়া ও দৃষ্টিসীমা কম থাকায় সেদিন তা সম্ভব হয়নি।   পরদিন শনিবার দুপুরে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।   এদিকে, ভয়াবহ এই বন্যায় নেপালজুড়ে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত বন্যার ছোবলে ৭৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ। দেশজুড়ে উদ্ধারকাজ এখনও পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে।   নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দেশের সার্বিক পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। উদ্ভূত এই বিশাল মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৬:৪০
প্রবাসী বাংলাদেশি কামরুল জামান

সৌদির তায়েফে প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হ ত্যা, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়েও রক্ষা পেলেন না

দুর্দান্ত ফলাফল নিয়েও ১৬ নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, সেই মেধাবী তরুণকেই লুফে নিল গুগল

দুর্দান্ত ফলাফল নিয়েও ১৬ নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, সেই মেধাবী তরুণকেই লুফে নিল গুগল

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো

যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজত থেকে ছবি প্রকাশ করলেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরো

ইয়াইর নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইরানি গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে ফেরানো হলো নেতানিয়াহু-পুত্রকে

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট তাকে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।   মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থানকালে তিনি ইরানের গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারেন—এমন গুরুতর আশঙ্কার কারণেই তড়িঘড়ি করে এই সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েলি প্রশাসন।   কয়েকদিন আগেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'নিউজম্যাক্স'-এর এক প্রতিবেদনে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় অবস্থান করার সময় তিনি ইরানি গুপ্তঘাতকদের প্রধান নিশানায় পরিণত হয়েছিলেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তার নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে তাকে ত্বরিতগতিতে দেশে ফেরানো হলো।   অন্যদিকে, ইয়াইর নেতানিয়াহুর পিতা ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও বর্তমানে মারাত্মক আন্তর্জাতিক আইনি চাপের মুখে রয়েছেন।   ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের দায়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।   একদিকে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, অন্যদিকে ছেলের ওপর সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার শঙ্কা—সব মিলিয়ে নেতানিয়াহু পরিবার এখন বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:৩৯
প্রচলিত অস্ত্রে ব্যর্থ হলে ইরানে পারমাণবিক হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

প্রচলিত অস্ত্রে ব্যর্থ হলে ইরানে পারমাণবিক হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

উত্তর সাইপ্রাসের কাছে ২৬৭ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর সাইপ্রাসের কাছে ২৬৭ আরোহী নিয়ে যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ৭

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণ স্টুডেন্ট ভিসা ও গ্র্যাজুয়েট ভিসার আবেদন ফি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ভিসার ফি দ্বিগুণ হয়ে ৫ হাজার ৭৫০ ডলার, শিক্ষার্থী ভিসায় ২ হাজার ৫০০

0 Comments