- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্র সংবাদ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চিকিৎসকের চরম অবহেলায় চার বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের ভুলে মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক বা সিডেটিভ প্রয়োগের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই দন্ত চিকিৎসককে (ডেন্টিস্ট) গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেডিএফডব্লিউ (KDFW)-এর প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, নিহত শিশুটির নাম আইথানা আরিয়াগা। গত ১ এপ্রিল টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় অবস্থিত 'কাডল কিডস ডেন্টাল' নামের একটি ক্লিনিকে জিহ্বার চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে গিয়েছিল তার পরিবার। সেখানে ৪৮ বছর বয়সী দন্ত চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিল শিশুটির চিকিৎসা করছিলেন। চিকিৎসা শুরুর আগে তিনি আইথানাকে মেপেরিডিন (যা ডেমেরল নামেও পরিচিত) নামক একটি চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তিনি শিশুটির শরীরে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় এই ওষুধ পুশ করেছিলেন। চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিল শিশুটি জ্ঞান ফিরলে তাকে খাওয়ার জন্য একটি পপসিকল (বরফ আইসক্রিম) এগিয়ে দেন। কিন্তু তখনই শিশুটির মাথা পেছনের দিকে ঢলে পড়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে হেম্পিল এবং ক্লিনিকে উপস্থিত অন্য একজন ডেন্টিস্ট মিলে দ্রুত শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জরুরি সেবায় (৯১১) কল করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তদন্তে নেমে মেডিকেল পরীক্ষকরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেন। তারা জানান, চিকিৎসক হেম্পিল শিশু আইথানাকে যে পরিমাণ মেপেরিডিন প্রয়োগ করেছিলেন, তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্যও যথেষ্ট বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক। তদন্তকারী কর্মকর্তারা আরও জানান, শিশুটির যখন জ্ঞান ফিরছিল না, তখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য হেম্পিলের 'নারক্যান' ব্যবহার করা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি ভুল করে 'ফ্লুমাজেনিল' নামের অন্য একটি ওষুধ ব্যবহার করেন। এছাড়া, শিশুটির নাড়ি বা পালস সচল থাকা সত্ত্বেও তিনি পালস পরীক্ষা করার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে এইডি (AED) মেশিন ব্যবহার করেছিলেন। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগের কারণে শিশুটির যে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল, চিকিৎসক হিসেবে হেম্পিল তা খেয়াল করতেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। চিকিৎসায় এমন ভয়াবহ অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর গত ১৫ জুলাই (বুধবার) পুলিশ চিকিৎসক ক্রিশেল হেম্পিলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে একটি শিশুকে গুরুতর শারীরিক আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফোর্ট ওয়ার্থ পুলিশের মুখপাত্র ব্র্যাড পেরেজ সংবাদমাধ্যম কেডিএফডব্লিউ-কে জানিয়েছেন, এই ঘটনার আগে চিকিৎসক হেম্পিলের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ বা রেকর্ড ছিল না এবং টেক্সাস স্টেট বোর্ড অফ ডেন্টাল এক্সামিনার্সের অধীনে তার একটি সক্রিয় লাইসেন্সও ছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুলিশের এই মুখপাত্র অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলেন, "আমি একটি বিষয় সবাইকে পরামর্শ দেব, যদি আপনার সন্তানের কোনো চিকিৎসার সময় আপনি ভেতরে থাকতে চান, তবে সে বিষয়ে জোরালো দাবি জানাবেন। আমি বিশ্বাস করি, এই শিশুটির মা হয়তো ভেতরে গিয়ে সন্তানের অবস্থা দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু চিকিৎসা চলার কারণে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। মা যদি ভেতরে থাকতেন, তবে হয়তো তিনি এমন কিছু লক্ষণ খেয়াল করতে পারতেন, যা ওই সময় চিকিৎসক বুঝতে পারেননি।" এই ঘটনায় পুরো ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অভিভাবকরা শিশুদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার দাবি তুলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের মানডান শহরে নিজ সন্তানদের ওপর এক মায়ের ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মানসিক অস্থিরতা ও পারিবারিক বিবাদের জেরে ২২ বছর বয়সী কাইলি এরহার্ট নামে এক নারী তাঁর দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এবং অপর এক সন্তানকে গুরুতর জখম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। আদালত ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন কাইলি এরহার্ট তাঁর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বামীর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হন এবং আত্মহত্যার হুমকি দেন। সে সময় তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। স্বামী সাহসিকতার সঙ্গে তাঁর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিতে সক্ষম হলেও ধস্তাধস্তির সময় কাইলি তাঁকে কামড়ে ও আঁচড়ে রক্তাক্ত করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে শিশুদের দাদিও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে তাড়া করে ঘরের বাইরে বের করে দেন এবং এরপরই নিজের তিন শিশু সন্তানের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। এই হামলায় কাইলির ৫ মাস এবং ৩ বছর বয়সী দুই শিশু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। অন্যদিকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় তাঁর ১ বছর বয়সী অপর সন্তান। তবে তাকে অত্যন্ত গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মানডান শহর পুলিশ প্রধান জেসন জিগলার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ কর্মকর্তারা যে দৃশ্য দেখেছেন, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। তিনি বলেন, এমন দৃশ্য কারো কখনোই দেখা উচিত নয়। জীবনের অন্যতম এক সংকটময় ও ভয়াবহ মুহূর্তে পুলিশ সদস্যরা যেভাবে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তিনি গর্বিত। এই ঘটনা কেবল ভুক্তভোগী পরিবার নয়, পুরো স্থানীয় সমাজ এবং প্রথম সাড়া দেওয়া উদ্ধারকর্মীদের মানসিকভাবে গভীরভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাইলি এরহার্টের বিরুদ্ধে আদালতে ৯টি ফৌজদারি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যা এবং একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন শুক্রবার জেলা জজ মেরিনা স্পার অভিযুক্তের জামিন হিসেবে নগদ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ধার্য করেন। জেলা জজ তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্তের সহিংসতার মাত্রা এবং সমাজ ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই উচ্চ জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেঁচে যাওয়া শিশু ও স্বজনদের সঙ্গে কাইলির সব ধরনের যোগাযোগের ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। ঘটনার পর আদালতে কাইলি এরহার্ট নিজের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেননি। মামলাটির প্রাথমিক শুনানি এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে মানডান পুলিশ বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে ৪০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের মাত্র একদিন পর নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। নিউ হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে উইলমিংটনে অবস্থিত নিজ বাড়ি থেকে স্টিফেন লার্নেল উইলেটস এবং তার স্ত্রী ট্রেসি পার্কার উইলেটসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের ধারণা, ট্রেসি প্রথমে তার স্বামী স্টিফেনকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজের ওপরও গুলি চালান। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তদন্ত এখনো চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডব্লিউএওয়াই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দম্পতির একটি স্মার্টওয়াচ হঠাৎ পড়ে যাওয়ার ঘটনা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল পাঠায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সতর্কবার্তা বাতিল না হওয়ায় জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। এরপরই বাড়ির ভেতরে দুইজনের মরদেহ পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিবারের শেয়ার করা তথ্য থেকে জানা যায়, বুধবারই স্টিফেন ও ট্রেসি তাদের ৪০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দম্পতি প্যাডেলবোর্ডিং খেলায় আগ্রহী ছিলেন এবং রাইটসভিল বিচ এলাকার প্যাডেলবোর্ডিং সম্প্রদায়ে সুপরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রতিবেশীদের একজন স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউইসিটি-কে জানান, স্টিফেন উইলেটস মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে, ট্রেসির আত্মীয় পরিচয় দেওয়া ফুলার রয়্যাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, স্টিফেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবাকর্মী (ইএমটি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রয়্যাল আরও জানান, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মধ্যে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দম্পতি তাদের দুই ছেলেকে হারিয়েছিলেন। তিনি লেখেন, “এত বড় শোক তারা কীভাবে সহ্য করেছেন, তা কল্পনা করাও কঠিন। আমি প্রার্থনা করি, তারা যেন আবার তাদের সন্তানদের সঙ্গে শান্তিতে মিলিত হন।” নিউ হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা হচ্ছে না।
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে দুই আইনজীবীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই আইন প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নতুন দাবি সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াচটেল, লিপটন, রোজেন অ্যান্ড কাটজের সাবেক জ্যেষ্ঠ অংশীদার উইলিয়াম "বিল" স্যাভিট এবং প্রতিষ্ঠানটির আরেক জ্যেষ্ঠ অংশীদার সারাহ এডির মধ্যেও একসময় পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে স্যাভিট এ সম্পর্ককে "পরকীয়া" হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিতে সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরুদ্ধে কোনো নীতিমালা ছিল না। এছাড়া সারাহ এডি স্যাভিটের সরাসরি অধীনস্থ কর্মী ছিলেন না। ফলে অভিযোগে উল্লিখিত সম্পর্কটি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। উইলিয়াম স্যাভিট সম্প্রতি ওয়াচটেল ছেড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী আইন প্রতিষ্ঠান গিবসন ডানে যোগ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিষ্ঠানের আরও পাঁচজন অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট আইন অঙ্গনে বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্ট দাবি করেছে, স্যাভিটের নতুন চুক্তির আর্থিক মূল্য তিন বছরে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার হতে পারে। তবে এ বিষয়ে স্যাভিট প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। একই প্রতিবেদনে স্যাভিটের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এই অঙ্ক সঠিক নয় বলেও দাবি করেছে। ফলে পারিশ্রমিকের প্রকৃত পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাভিট ও এডি দুজনই ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের পক্ষে ইলন মাস্কের করা বহুল আলোচিত মামলায় কাজ করেছিলেন। ওই মামলায় তাদের ভূমিকার জন্য তারা আইনি অঙ্গনে প্রশংসাও পেয়েছিলেন। নতুন এই দাবি এমন সময় সামনে এলো, যখন একই প্রতিষ্ঠানের দুই আইনজীবী ন্যাথানিয়েল কালারটন ও কেলসি বোরেনজওয়েইগের সেন্ট্রাল পার্কের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনার পর কালারটনকে সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং গিবসন ডানে তার সম্ভাব্য নিয়োগও বাতিল হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের পেছনে তাদের কর্মস্থলের দায়িত্বগত সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রশ্নের জবাবে স্যাভিট বলেন, সারাহ এডির সঙ্গে তার সম্পর্ককে "পরকীয়া" হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক নয়। অন্যদিকে গিবসন ডান, ওয়াচটেল লিপটন এবং সারাহ এডির কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনটি মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। সম্পর্কসংক্রান্ত দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য বা স্বাধীন যাচাই এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে আইন অঙ্গন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে সড়কে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানোর প্রবণতা ঠেকাতে অভিনব কৌশল নিয়েছে একটি পুলিশ বিভাগ। ঝোপের ছদ্মবেশ ধারণ করে সড়কের পাশে অবস্থান নেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাত্র ছয় ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ৭৪ জন চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মিডলসেক্স কাউন্টির ডানেলেন পুলিশ বিভাগ ২৯ জুলাই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। শহরের নর্থ ওয়াশিংটন অ্যাভিনিউর ১০০ নম্বর ব্লকে অভিযানটি চালানো হয়। এলাকাটি যানবাহন ও পথচারীদের ব্যস্ত চলাচলের জন্য পরিচিত। পুলিশ জানায়, নিউ জার্সির হাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। অভিযানে এক পুলিশ কর্মকর্তা ঝোপের মতো পোশাক পরে রাস্তার পাশে অবস্থান নেন। তার সঙ্গে ছিল দূরবীন। তিনি গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী চালকদের শনাক্ত করেন। এরপর সামনে অবস্থান নেওয়া অন্য পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট যানবাহন থামিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন। অভিযানের আরও একটি ছবিতে একজন কর্মকর্তাকে "আমি পুলিশ নই" লেখা টি-শার্ট পরেও দেখা যায়, যা অভিযানের গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যবহার করা হয়েছিল। ডানেলেন পুলিশ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, মাত্র ছয় ঘণ্টায় ৭৪টি জরিমানার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগটি মজার ছলে লিখেছে, "আমাদের 'ঝোপ' কিন্তু বেশ ব্যস্ত ছিল।" একই সঙ্গে চালকদের উদ্দেশে বার্তায় বলা হয়, "কোনো বার্তা বা নোটিফিকেশন অপেক্ষা করতে পারে। সড়কে গাড়ি চালানোর সময় দৃষ্টি রাখুন রাস্তায়, মোবাইলের পর্দায় নয়।" নিউ জার্সির আইনে গাড়ি চালানোর সময় হাতে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রথমবার এ আইন ভঙ্গ করলে ২০০ থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ এবং অন্যান্য শাস্তিও বাড়তে পারে। রাজ্যের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, বিভ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মাঝে মধ্যেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। কোথাও সাধারণ পোশাকে, কোথাও আবার ভিন্ন ধরনের ছদ্মবেশ ব্যবহার করে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করা হয়। ডানেলেন পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে সড়কে আইন মেনে চলার বিষয়ে কার্যকর সচেতনতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বিদ্যালয়ের লকডাউন মহড়ার সময় শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিতে তাদের পিঠের ওপর পা রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে দুই বছরের প্রবেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে থাকা শিক্ষকতার লাইসেন্স স্বেচ্ছায় জমা দিতে হবে। এছাড়া রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়নে অংশ নেওয়া, ৯০ ঘণ্টা সমাজসেবা করা, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি লেখা এবং জরিমানা ও আদালতের বিভিন্ন ফি হিসেবে ২ হাজার ২৫০ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিনেসোটার অটার টেইল কাউন্টির আন্ডারউড এলাকার ৪৯ বছর বয়সী শিক্ষক জেসন লাওয়েল রজার্সের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক শাস্তি দেওয়ার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। স্থানীয় আদালত মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে তার বিরুদ্ধে 'স্টে অব অ্যাডজুডিকেশন' মঞ্জুর করেন। অর্থাৎ তিনি দোষ স্বীকার করলেও আপাতত আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকবে। প্রবেশন চলাকালে আদালতের সব শর্ত মেনে চললে অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যাবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্ডারউড স্কুলে লকডাউন মহড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তদন্তকারীদের জানান, মহড়ার সময় তিনি উপুড় হয়ে মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। তখন শিক্ষক জেসন রজার্স তার পিঠের ওপর দুই পা দিয়ে দাঁড়ান। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, রজার্সের ওজন ৩৫০ পাউন্ডেরও বেশি, যা প্রায় ১৫৯ কিলোগ্রামের সমান। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী তীব্র পিঠের ব্যথায় ভুগতে থাকে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে রজার্স স্বীকার করেন, তিনি শুধু ওই একজন নন, আরও দুই শিক্ষার্থীর পিঠেও পা রেখেছিলেন। তার দাবি ছিল, কয়েকজন শিক্ষার্থী লকডাউন মহড়াকে গুরুত্ব দিচ্ছিল না। তাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই তিনি এমনটি করেছিলেন। তবে তদন্তকারী সংস্থার মতে, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা শিশুদের প্রতি শারীরিক শাস্তির শামিল। ঘটনার পর ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আন্ডারউড স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এরপর থেকে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রবেশন চলাকালে রজার্সকে শিক্ষকতার লাইসেন্স ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি তাকে রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে, সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে স্থগিত থাকা অভিযোগে আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ কার্যকর হতে পারে। মার্কিন শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যালয়ে জরুরি পরিস্থিতির মহড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালিত হলেও তা পরিচালনার সময় শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিকর কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের আচরণবিধি এবং বিদ্যালয়ের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের কুলিজ শহরে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে লাইফ সাপোর্টে থাকা ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে এক মায়ের নিরলস লড়াইয়ের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্র একে একে বন্ধ হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মার্কিন গণমাধ্যম পিপল এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি জানিয়েছে, গত ২৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ২টার দিকে কুলিজের বড় একটি এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। ওই বিভ্রাটে কয়েক হাজার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, মৌসুমি ঝড়ের সময় বজ্রপাতের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। কারেন গ্লেজারের ছেলে ডেভিড গ্লেজার ২০২০ সালের ৯ মে ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার শরীরের প্রায় সব হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। চিকিৎসকেরা প্রথমে তাকে ঘাড়ের নিচ থেকে সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসাধীন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক চিকিৎসা যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। পরিবারটি তার সম্ভাব্য স্টেম সেল চিকিৎসার জন্যও অর্থ সংগ্রহ করছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডেভিডের বিশেষ চিকিৎসা শয্যা, পালস অক্সিমিটারসহ একাধিক জরুরি যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। কারেন জানান, ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও কাজ করেনি। ফলে মুহূর্তের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, ছেলের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে গেছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যায়। ডেভিড নিজের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পারেন না। তাই কারেন বারবার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ছেলের শরীর মুছে তাকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে তিনি হাতে করে ডেভিডের মুখ থেকে লালা পরিষ্কার করেন, যাতে শ্বাসরোধের ঝুঁকি তৈরি না হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় শহরে শীতলীকরণ কেন্দ্র (কুলিং সেন্টার) চালু করা হলেও সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি কারেনের। তিনি ছেলেকে একা রেখে বের হতে পারেননি। বরফ সংগ্রহ করতেও যেতে পারেননি। পরে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায় এবং নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমনকি জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। কারেনের ভাষ্য, তাদের বাসা জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের তালিকায় থাকলেও কর্তৃপক্ষ কয়েক দফায় বিদ্যুৎ ফেরার সম্ভাব্য সময় পরিবর্তন করে। এতে উদ্বেগ আরও বাড়ে। অবশেষে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রোববার সকালে বিদ্যুৎ ফিরে এলে ডেভিডের চিকিৎসা যন্ত্রগুলো আবার চালু হয় এবং তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করে। ঘটনার পর কারেন বলেন, এই অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তার ভাষায়, "এ ধরনের পরিস্থিতি আর কখনো ঘটতে দেওয়া যায় না।" দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা যন্ত্র বন্ধ থাকলে গুরুতর রোগীদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম গরমের সময়ে যেসব পরিবারে বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাদের জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ব্যাটারি এবং জরুরি যোগাযোগ পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে একটি বাড়িতে আগুন লাগার পর একই পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছয় শিশু রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটিকে "সন্দেহজনক" হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের রিভারসাইড ট্রেইলের একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলে তারা একে একে আটজনের মরদেহ দেখতে পান। অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ক্যাপ্টেন জ্যাকব স্পার্কস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বা কতজনের শরীরে এ ধরনের আঘাত ছিল, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তিনি বলেন, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত জটিল। আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সহায়তা করছে মিশিগান স্টেট পুলিশের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিট। তদন্তকারীরা এ মুহূর্তে কোনো বাইরের সন্দেহভাজনকে খুঁজছেন না। তাদের ধারণা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই ওই বাড়ির ভেতরেই ছিলেন। তবে এটি হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী আত্মহত্যা ছিল কি না, নাকি অন্য কোনো ঘটনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্বজনদের অবহিত করার প্রক্রিয়া এবং মরদেহ শনাক্তের কাজ শেষ হওয়ার পর পরিচয় জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, পরিবারটি এলাকায় পরিচিত ছিল এবং প্রায়ই শিশুদের বাড়ির সামনে খেলতে দেখা যেত। এমন একটি ঘটনার খবর পেয়ে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপ লেক মিশিগানের পূর্ব তীরে অবস্থিত একটি আবাসিক এলাকা। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর সেখানে নিরাপত্তা ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ফল পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ট্যাম্পায় নিখোঁজ হওয়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (University of South Florida)–এর দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা ব্রিস্টিকে খুঁজে বের করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল তাদের সর্বশেষ আলাদাভাবে দেখা যায়। জামিল লিমনকে সকাল ৯টার দিকে তার বাসার কাছে এবং নাহিদা ব্রিস্টিকে সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যাম্পা ক্যাম্পাসে শেষবার দেখা গেছে। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সহপাঠীদের কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানা গেছে। পরদিন ১৭ এপ্রিল, এক পারস্পরিক পরিচিত ব্যক্তি তাদের নিখোঁজের রিপোর্ট করলে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। এরপর থেকে স্থানীয় পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো যৌথভাবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ অবস্থান, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সম্ভাব্য চলাচলের পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণ প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের ছবি ও নিখোঁজ সংক্রান্ত পোস্ট শেয়ার করছেন। অনেকে দ্রুত তাদের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেউ তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা পেতে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা ফাঁস হয়েছে। সিনেমাকেও হার মানানো পরিকল্পনায় সশস্ত্র ডাকাতির ভুয়া নাটক সাজিয়ে বিশেষ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে ১০ ভারতীয় নাগরিকের একটি চক্র। ঘটনাটি ঘটেছে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্ত সংস্থাগুলোকেও বিস্মিত করেছে। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সশস্ত্র ডাকাত সেজে দোকানে হামলা চালানো হতো। একই সময়ে দোকানের কর্মীরা ভয়ে আতঙ্কিত হওয়ার অভিনয় করতেন। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হতো, যাতে নিজেদের সশস্ত্র হামলার শিকার দাবি করে বিশেষ অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। এই অভিনব প্রতারণার কৌশল দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে। ২০২৩ সালে সংঘটিত ওই সাজানো ডাকাতির ঘটনার তদন্তে একে একে বেরিয়ে আসে চক্রের সব তথ্য। ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস জানিয়েছে, দোকানের ক্যাশ থেকে অর্থ লুটের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। মামলাটি আদালতে গড়ালে জুরি বোর্ড অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাজা ভোগের পর তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য এমন জালিয়াতি শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি গোটা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাকে ক্ষুণ্ন করে। বোস্টনের আদালতের নথিতে ঘটনাটি এখন একটি নজিরবিহীন প্রতারণার উদাহরণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি গ্যাস স্টেশনের বাইরে বাংলাদেশি অভিবাসী নারী নিলুফা ইয়াসমিনের হত্যাকারীকে'পশু' বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিবাসন নিয়ে বক্তব্যের ধরনকে ঘিরে এবং গ্রাফিক ও আনসেন্সরড ভিডিও পোস্ট করার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি। ২ এপ্রিল ফোর্ট মায়ার্সে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাংলাদেশি অভিবাসী নিলুফা ইয়াসমিন নামে এক দোকানকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সন্দেহভাজন হামলাকারী রোলবার্ট জোয়াচিন, যিনি গৃহহীন এক হাইতিয়ান অভিবাসী। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তাকে 'অবৈধ অভিবাসী' ও 'পশু' বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, বাইডেন প্রশাসনের সময় হাইতিয়ানদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) দেওয়া হয়েছিল। তিনি ভিডিওটিকে 'আপনি জীবনে দেখবেন এমন সবচেয়ে নৃশংস ঘটনার একটি' বলে উল্লেখ করেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগভিডিওটির একটি ঝাপসা সংস্করণ প্রকাশ করেছিল। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, এই পোস্টটি ট্রাম্পের একটি পরিচিত ধারার অংশ তিনি বারবার সহিংস অপরাধের ঘটনাকে অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরেছেন, যা অনেক সময় সঠিক নয়। উদাহরণস্বরূপ, স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি নর্থ ক্যারোলিনায় ইউক্রেনীয় অভিবাসী ইরিনা জারুতস্কার হত্যাকাণ্ডকে 'ওপেন বর্ডার' নীতির ফল হিসেবে বর্ণনা করেন, যদিও ওই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প একাধিকবার হাইতিয়ানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, এমনকি ভুলভাবে দাবি করেন যে তারা 'ওহাইওতে পোষা প্রাণী খাচ্ছে।' হাইতিয়ানদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা একটি ফেডারেল বিচারক আটকে দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প যুক্তি দেন, ফ্লোরিডার এই হত্যাকাণ্ডই 'র্যাডিক্যাল বিচারকদের' তার অভিবাসন নীতিতে বাধা দেওয়া বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত। সমালোচকরা বলছেন, এই ভিডিও শেয়ার করার উদ্দেশ্য হলো ভয় সৃষ্টি করা এবং অভিবাসীবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া। আমেরিকান অভিবাসন পরিষদ-এর অ্যারন রাইখলিন-মেলনিক বলেন, এটি জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার একটি কৌশল। ৪০ বছর বয়সী জোয়াচিনকে হত্যাকাণ্ডের দিনই গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, ভাঙচুর ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার একদিন আগে তিনি এটিএম থেকে টাকা তুলতে না পেরে দোকানকর্মীর কাছে অর্থ দাবি করেছিলেন।
ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী জেমস স্ট্রাহলার নারীদের ভয় দেখানো ও হয়রানির উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে যৌনউত্তেজক ভুয়া ছবি তৈরি করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। ওহাইওর দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, তিনি সাইবারস্টকিং, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট তৈরির ভিজ্যুয়াল তৈরি এবং ডিজিটাল জালিয়াতি প্রকাশের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। স্ট্রাহলারের বিরুদ্ধে 'ডিজিটাল ফোরজারি' প্রকাশের অভিযোগটি ২০২৫ সালে পাস হওয়া 'টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট' আইনের আওতায় পড়ে। এই আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া তিনিই প্রথম ব্যক্তি বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ ওহাইওর ইউএস অ্যাটর্নি ডোমিনিক জেরেস। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ট্রাহলার এআই ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে সম্মতি ছাড়া ৭০০টিরও বেশি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করেন এবং ভুক্তভোগীদের কাছে হুমকিমূলক বার্তা পাঠান। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি একাধিক এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেন। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও সহকর্মীদের কাছেও এসব কনটেন্ট পাঠিয়ে হয়রানি করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে তাকে ফেডারেল অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন। তার সাজা পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে। 'টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট' আইন অনুযায়ী, সম্মতি ছাড়া তৈরি বা প্রকাশ করা অন্তরঙ্গ ছবি যার মধ্যে এআই-নির্ভর ডিপফেকও অন্তর্ভুক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব কনটেন্ট অপসারণের বাধ্যবাধকতাও এই আইনে রয়েছে। এই আইনটি রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার যৌথভাবে উত্থাপন করেন এবং দুই দলের সমর্থনে পাস হয়। প্রথম লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও এই আইনের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের আইনি অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' বাতিলের যে কঠোর অভিবাসন নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করেছিল, তা বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত এজেন্ডার বিরুদ্ধে একটি বিরল স্থগিতাদেশ জারি করেছে দেশটির আদালত। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, এই প্রথাটি মার্কিন সংবিধানের সঠিক প্রতিফলন নয় এবং এটি 'বার্থ ট্যুরিজম' বা অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। তবে আদালতের এই সাম্প্রতিক রুলিংয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, চাই তার বাবা-মায়ের আইনি অবস্থান যাই হোক না কেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানান, কয়েক দশকের আইনি নজির এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা কেবল একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার অভিবাসী পরিবার, যারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তারা আপাতত স্বস্তি পেলেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউস এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল এই নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করা, যা নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি বন্ধ করলে তা সীমান্তে অনুপ্রবেশ কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মী এবং আইনবিদরা শুরু থেকেই একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে আসছিলেন। আদালতের এই নতুন আদেশের ফলে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানেও যদি এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকে, তবে তা হবে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এই খবরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এর ওপর নির্ভর করছে দেশটিতে জন্ম নেওয়া তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।