যুক্তরাষ্ট্র সংবাদ।

জামিল লিমন ও নাহিদা ব্রিস্টি | ছবি: সংগৃহীত
ট্যাম্পায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর খোঁজে জোর তৎপরতা, এখনো মেলেনি সন্ধান

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ট্যাম্পায় নিখোঁজ হওয়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (University of South Florida)–এর দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা ব্রিস্টিকে খুঁজে বের করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল তাদের সর্বশেষ আলাদাভাবে দেখা যায়। জামিল লিমনকে সকাল ৯টার দিকে তার বাসার কাছে এবং নাহিদা ব্রিস্টিকে সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যাম্পা ক্যাম্পাসে শেষবার দেখা গেছে। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সহপাঠীদের কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানা গেছে।   পরদিন ১৭ এপ্রিল, এক পারস্পরিক পরিচিত ব্যক্তি তাদের নিখোঁজের রিপোর্ট করলে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। এরপর থেকে স্থানীয় পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো যৌথভাবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করছে।   তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ অবস্থান, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সম্ভাব্য চলাচলের পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণ প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।   এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের ছবি ও নিখোঁজ সংক্রান্ত পোস্ট শেয়ার করছেন। অনেকে দ্রুত তাদের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেউ তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভিসার লোভে সাজানো ‘ডাকাতি’ নাটক, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ ভারতীয় দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা পেতে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা ফাঁস হয়েছে। সিনেমাকেও হার মানানো পরিকল্পনায় সশস্ত্র ডাকাতির ভুয়া নাটক সাজিয়ে বিশেষ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে ১০ ভারতীয় নাগরিকের একটি চক্র। ঘটনাটি ঘটেছে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্ত সংস্থাগুলোকেও বিস্মিত করেছে।   তদন্ত সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সশস্ত্র ডাকাত সেজে দোকানে হামলা চালানো হতো। একই সময়ে দোকানের কর্মীরা ভয়ে আতঙ্কিত হওয়ার অভিনয় করতেন। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হতো, যাতে নিজেদের সশস্ত্র হামলার শিকার দাবি করে বিশেষ অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করা যায়।   এই অভিনব প্রতারণার কৌশল দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে। ২০২৩ সালে সংঘটিত ওই সাজানো ডাকাতির ঘটনার তদন্তে একে একে বেরিয়ে আসে চক্রের সব তথ্য। ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস জানিয়েছে, দোকানের ক্যাশ থেকে অর্থ লুটের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যে পরিচালিত।   মামলাটি আদালতে গড়ালে জুরি বোর্ড অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাজা ভোগের পর তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য এমন জালিয়াতি শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি গোটা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাকে ক্ষুণ্ন করে। বোস্টনের আদালতের নথিতে ঘটনাটি এখন একটি নজিরবিহীন প্রতারণার উদাহরণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারী ইয়াসমিনের হত্যাকারীকে ‘পশু’ বললেন ট্রাম্প

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি গ্যাস স্টেশনের বাইরে বাংলাদেশি অভিবাসী নারী নিলুফা ইয়াসমিনের হত্যাকারীকে'পশু' বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিবাসন নিয়ে বক্তব্যের ধরনকে ঘিরে এবং গ্রাফিক ও আনসেন্সরড ভিডিও পোস্ট করার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি। ২ এপ্রিল ফোর্ট মায়ার্সে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাংলাদেশি অভিবাসী নিলুফা ইয়াসমিন নামে এক দোকানকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সন্দেহভাজন হামলাকারী রোলবার্ট জোয়াচিন, যিনি গৃহহীন এক হাইতিয়ান অভিবাসী। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তাকে 'অবৈধ অভিবাসী' ও 'পশু' বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, বাইডেন প্রশাসনের সময় হাইতিয়ানদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) দেওয়া হয়েছিল। তিনি ভিডিওটিকে 'আপনি জীবনে দেখবেন এমন সবচেয়ে নৃশংস ঘটনার একটি' বলে উল্লেখ করেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগভিডিওটির একটি ঝাপসা সংস্করণ প্রকাশ করেছিল। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, এই পোস্টটি ট্রাম্পের একটি পরিচিত ধারার অংশ তিনি বারবার সহিংস অপরাধের ঘটনাকে অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরেছেন, যা অনেক সময় সঠিক নয়। উদাহরণস্বরূপ, স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি নর্থ ক্যারোলিনায় ইউক্রেনীয় অভিবাসী ইরিনা জারুতস্কার হত্যাকাণ্ডকে 'ওপেন বর্ডার' নীতির ফল হিসেবে বর্ণনা করেন, যদিও ওই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প একাধিকবার হাইতিয়ানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, এমনকি ভুলভাবে দাবি করেন যে তারা 'ওহাইওতে পোষা প্রাণী খাচ্ছে।' হাইতিয়ানদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা একটি ফেডারেল বিচারক আটকে দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প যুক্তি দেন, ফ্লোরিডার এই হত্যাকাণ্ডই 'র্যাডিক্যাল বিচারকদের' তার অভিবাসন নীতিতে বাধা দেওয়া বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত। সমালোচকরা বলছেন, এই ভিডিও শেয়ার করার উদ্দেশ্য হলো ভয় সৃষ্টি করা এবং অভিবাসীবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া। আমেরিকান অভিবাসন পরিষদ-এর অ্যারন রাইখলিন-মেলনিক বলেন, এটি জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার একটি কৌশল। ৪০ বছর বয়সী জোয়াচিনকে হত্যাকাণ্ডের দিনই গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, ভাঙচুর ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার একদিন আগে তিনি এটিএম থেকে টাকা তুলতে না পেরে দোকানকর্মীর কাছে অর্থ দাবি করেছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ডিপফেক আইনে 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা' ব্যবহারকারী ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী জেমস স্ট্রাহলার নারীদের ভয় দেখানো ও হয়রানির উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে যৌনউত্তেজক ভুয়া ছবি তৈরি করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। ওহাইওর দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, তিনি সাইবারস্টকিং, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট তৈরির ভিজ্যুয়াল তৈরি এবং ডিজিটাল জালিয়াতি প্রকাশের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। স্ট্রাহলারের বিরুদ্ধে 'ডিজিটাল ফোরজারি' প্রকাশের অভিযোগটি ২০২৫ সালে পাস হওয়া 'টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট'  আইনের আওতায় পড়ে। এই আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া তিনিই প্রথম ব্যক্তি বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ ওহাইওর ইউএস অ্যাটর্নি ডোমিনিক জেরেস। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ট্রাহলার এআই ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে সম্মতি ছাড়া ৭০০টিরও বেশি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করেন এবং ভুক্তভোগীদের কাছে হুমকিমূলক বার্তা পাঠান। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি একাধিক এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেন। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও সহকর্মীদের কাছেও এসব কনটেন্ট পাঠিয়ে হয়রানি করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে তাকে ফেডারেল অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন। তার সাজা পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে। 'টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট' আইন অনুযায়ী, সম্মতি ছাড়া তৈরি বা প্রকাশ করা অন্তরঙ্গ ছবি যার মধ্যে এআই-নির্ভর ডিপফেকও অন্তর্ভুক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব কনটেন্ট অপসারণের বাধ্যবাধকতাও এই আইনে রয়েছে। এই আইনটি রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার যৌথভাবে উত্থাপন করেন এবং দুই দলের সমর্থনে পাস হয়। প্রথম লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও এই আইনের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আদালতের স্থগিতাদেশ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টায় বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের আইনি অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' বাতিলের যে কঠোর অভিবাসন নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করেছিল, তা বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত এজেন্ডার বিরুদ্ধে একটি বিরল স্থগিতাদেশ জারি করেছে দেশটির আদালত। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, এই প্রথাটি মার্কিন সংবিধানের সঠিক প্রতিফলন নয় এবং এটি 'বার্থ ট্যুরিজম' বা অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। তবে আদালতের এই সাম্প্রতিক রুলিংয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, চাই তার বাবা-মায়ের আইনি অবস্থান যাই হোক না কেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানান, কয়েক দশকের আইনি নজির এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা কেবল একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার অভিবাসী পরিবার, যারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তারা আপাতত স্বস্তি পেলেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউস এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল এই নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করা, যা নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি বন্ধ করলে তা সীমান্তে অনুপ্রবেশ কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মী এবং আইনবিদরা শুরু থেকেই একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে আসছিলেন। আদালতের এই নতুন আদেশের ফলে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানেও যদি এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকে, তবে তা হবে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এই খবরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এর ওপর নির্ভর করছে দেশটিতে জন্ম নেওয়া তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি
আমেরিকা

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0