সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সড়ক দুর্ঘটনা

নিউইয়র্কের চায়নাটাউনে দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা পণ্যবাহী ট্রাক। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেল পণ্যবাহী ট্রাক, নিহত ৭৭ বছরের বৃদ্ধ, আহত ২

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের চায়নাটাউনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়া একটি পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ৭৭ বছর বয়সী এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫২ ও ৭১ বছর বয়সী দুই নারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৬৬ বছর বয়সী ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।   বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে ব্যস্ত বোওয়ারি স্ট্রিট ও ক্যানাল স্ট্রিটের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, চালক ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নেমে ক্যানাল স্ট্রিট দিয়ে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিলেন। পরে বোওয়ারি স্ট্রিটে ডান দিকে মোড় নেওয়ার সময় ট্রাকটি হঠাৎ ফুটপাতে উঠে যায় এবং সেখানে থাকা তিন পথচারীকে ধাক্কা দেয়।   ট্রাকটিতে কাঠের প্যালেট বোঝাই ছিল। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ছবিতে পথচারীদের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুরুতর আহত ৭৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত দুই নারীকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পথচারীদের ধাক্কা দেওয়ার পরও ট্রাকটি সঙ্গে সঙ্গে থামেনি। পুলিশ জানিয়েছে, চালক বোওয়ারি স্ট্রিট ধরে আরও এগিয়ে হেস্টার স্ট্রিটের কাছে একটি সেডান গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর থামেন। ঘটনাটির সময় ট্রাকটির সামনের কাচ ভেঙে যায় এবং চারটি টায়ারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাঠের প্যালেট বোঝাই ট্রাকটিকে আশপাশের যানবাহনের তুলনায় দ্রুতগতিতে চলতে দেখা যায়। ভিডিওতে ট্রাকটির অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার দৃশ্যও রয়েছে। তবে পথচারীদের ধাক্কা দেওয়ার সরাসরি মুহূর্ত ভিডিওতে ধরা পড়েনি।   পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং চালকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগও আনা হয়নি।   এনওয়াইপিডির হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের সংঘর্ষ তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা ট্রাকটি কেন ফুটপাতে উঠে গেল, চালকের আচরণ, গাড়ির অবস্থা এবং দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন। দুর্ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।   ঘটনাস্থলটি ম্যানহাটন ব্রিজের কাছের ব্যস্ত এলাকা। ক্যানাল স্ট্রিট ও বোওয়ারির সংযোগস্থলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পথচারী ও যানবাহনের চলাচল থাকে। স্থানীয়দের কাছে এ এলাকা আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১০১০ উইনসের প্রতিবেদনে এলাকাবাসীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নামার সময় কিছু গাড়ি দ্রুতগতিতে চলাচল করে।   স্থানীয় নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১০১০ উইনসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়েও ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নামার পর একটি চুরি করা গাড়ির ধাক্কায় একজন সাইকেল আরোহী ও একজন পথচারী নিহত হয়েছিলেন। ফলে বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।   এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ৭৭ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার নাম প্রকাশ না করার নীতি অনুসরণ করছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   নিউইয়র্কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বড় যানবাহন ফুটপাতে উঠে গেলে পথচারীদের গুরুতর আহত বা নিহত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি আবারও ব্যস্ত নগর সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল ও পথচারী নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।   তবে দুর্ঘটনার জন্য চালকের গতি, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের শারীরিক অবস্থা বা অন্য কোনো কারণ দায়ী কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না।   এনওয়াইপিডির সংঘর্ষ তদন্তকারী দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে চালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করা হবে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিএসটিআইয়ের পরীক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ মিশা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত
৫০তম বিসিএসের ভাইভা দিতে ঢাকায় আসার পথে সড়কে প্রাণ গেল ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর

৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কর্মকর্তা শেখ মিশা খাতুন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের কাছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খুলনা থেকে ঢাকাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলে বাসটির যাত্রী শেখ মিশা খাতুন নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   শেখ মিশা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি বিএসটিআইয়ের খুলনা কার্যালয়ে পরীক্ষক (রসায়ন) পদে কর্মরত ছিলেন। বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তাদের তালিকাতেও তাকে পরীক্ষক (রসায়ন) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   কর্মজীবনে প্রবেশের পরও উচ্চতর ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মিশা। সেই লক্ষ্যেই ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকার পথে রওনা হন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে প্রকাশিত শোকবার্তায় তার বিসিএস ভাইভায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসার বিষয়টি জানানো হয়েছে।   বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে পরীক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন শেখ মিশা খাতুন। অল্প সময়ের কর্মজীবনেই তিনি সহকর্মীদের কাছে একজন তরুণ ও সম্ভাবনাময় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিএসটিআই পরিবার শোক জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকও তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক শোকবার্তায় ডাকসু জানিয়েছে, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় তরুণের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।   মিশার সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতজনদের কাছে তার মৃত্যু আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে। বিএসটিআইয়ে কর্মরত থাকার পাশাপাশি তিনি সরকারি প্রশাসনে আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। ভাইভায় অংশ নেওয়ার জন্যই খুলনা থেকে ঢাকায় রওনা দিয়েছিলেন তিনি।   গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের গেড়াখোলা এলাকায় দুর্ঘটনার পর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার অকালমৃত্যুতে একটি সম্ভাবনাময় কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নও থেমে গেল।   শেখ মিশা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় বিএসটিআই এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষার্থীদের আনন্দভ্রমণ শেষ হলো শোকে, ৩০ মিটার গভীর খাদে বাস পড়ে প্রাণ গেল ২৫ জনের
শিক্ষার্থীদের আনন্দভ্রমণ শেষ হলো শোকে, ৩০ মিটার গভীর খাদে বাস পড়ে প্রাণ গেল ২৫ জনের

পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শনিবার গভীর রাতে আটলান্টিক মহাসাগরের ফোগো দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের একটি পাহাড়ি সড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।   দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা ইনফোরপ্রেস জানিয়েছে, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে প্রায় ৩০ মিটার গভীর একটি খাড়া খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে ফোগোর সাও ফ্রান্সিসকো দে আসিস আঞ্চলিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের এই আনন্দভ্রমণের আয়োজন স্থানীয় কোনো স্কুল থেকে করা হয়নি। বরং বাসচালক নিজেই প্রতি বছর ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের ভ্রমণের আয়োজন করে আসছিলেন।   দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনিও প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।   এই ঘটনাকে 'মহা বিপর্যয়' হিসেবে আখ্যায়িত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া পেরেইরা নেভেস। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।   স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের কয়েকজনের অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, উদ্ধার করার পরপরই সাতটি মরদেহ সমাহিত করা হয়। এই দুর্ঘটনা পুরো দ্বীপরাষ্ট্রটিতে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
সপ্তাহান্তে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের সড়কে ছুটির দিনে একের পর এক দুর্ঘটনা, নিহত ২, আহত ৬

ইসরায়েলে সপ্তাহান্তজুড়ে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৪৮ বছর বয়সী এক মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন। আরেকজন নিহত হয়েছেন গাড়ির ধাক্কায়, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।   শনিবার মোশাভ পোরাতের কাছে ৫৫৩ নম্বর সড়কে একটি গাড়ির ধাক্কায় ৪০-এর কোঠার এক ব্যক্তি নিহত হন। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদমের (এমডিএ) চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে গুরুতর বহু অঙ্গের আঘাত নিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর শরীরে প্রাণের কোনো লক্ষণ না থাকায় ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগে ৩০-এর কোঠার এক নারীকে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও ওই সময় গাড়িটি কীভাবে ওই ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয়, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   এর আগের রাতে, শুক্রবার, সোরেক ইন্টারচেঞ্জের কাছে ৭ নম্বর মহাসড়কে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। এমডিএর চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে সড়কের ওপর অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ছিল না। চিকিৎসাকর্মীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবারই জেরুজালেমের পিসগাত জিভ এলাকায় বাড়ির পার্কিংয়ের কাছে একটি গাড়ির ধাক্কায় চার বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়। তাকে সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও কয়েকটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ৩৭৫৫ নম্বর সড়কে দুটি গাড়ির সংঘর্ষে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় আরও দুজন সামান্য থেকে মাঝারি মাত্রার আঘাত পান। গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া দুজনকে উদ্ধার করতে দমকলকর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। কায়সারিয়া বন্দরের কাছে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। বহু অঙ্গের আঘাত নিয়ে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।   নেতানিয়ায়ও একটি গাড়ির ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। এমডিএর প্যারামেডিক ওরিয়ান লুকাক এবং জ্যেষ্ঠ জরুরি চিকিৎসাকর্মী মাওর নিনো জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, একটি গাড়ি ওই মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দিয়েছিল। আহত ব্যক্তি অচেতন ছিলেন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। ঘটনাস্থলেই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার পর নিবিড় চিকিৎসাসুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠানো হয়।   সড়ক দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতায় সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন মহাসড়ক ও শহর এলাকায় জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকে একাধিকবার কাজ করতে হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবং গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।   ইসরায়েলের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির সড়কে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপদ গতিসীমা, চালকদের সতর্কতা এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে সপ্তাহান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন করে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ আসনের গাড়িতে ৬ যাত্রী, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৪ জনের মৃত্যু
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ আসনের গাড়িতে ৬ যাত্রী, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৪ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রাইটউড এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে হাইওয়ে ২ বা অ্যাঞ্জেলেস ক্রেস্ট হাইওয়েতে ফ্লুম ক্যানিয়ন ড্রাইভের কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।   জানা গেছে, পাঁচ আসনের হুন্দাই ভেলোস্টার মডেলের ওই হ্যাচব্যাক গাড়িটিতে মোট ছয়জন যাত্রী গাদাগাদি করে বসেছিলেন।   অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি ইউটিলিটি পোলে সজোরে ধাক্কা খায় এবং পাহাড়ের খাদে একটি তৃণভূমিতে গিয়ে পড়ে।   ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ফলে গাড়িতে থাকা পাঁচজন যাত্রী বাইরে ছিটকে পড়েন, যাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া অপর দুই যাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে অন্তত একজন সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।   উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ার পর গাড়িটি পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) বর্তমানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় মহাসড়কে হঠাৎ থেমে যাওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
অটোপাইলট মোডে আচমকা মহাসড়কে থেমে গেল টেসলা, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত চালক

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায় একটি টেসলা গাড়ি। এরপর পেছন থেকে আসা একটি বিশাল আকৃতির ফোর্ড এফ ৩৫০ পিকআপ ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান টেসলার চালক। সম্প্রতি মার্কিন ট্রাফিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নতুন নথিপত্র থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।   গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মেসা শহরের ইস্টবাউন্ড লুপ ২০২ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িটি ছিল ২০২০ সালের মডেল ৩ টেসলা। গাড়িটি যখন মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে পুরোপুরি থেমে যায়।   সে সময় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি এবং টুয়েলভ নিউজ দুর্ঘটনার খবর প্রচার করলেও, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বা এনএইচটিএসএ কাছে টেসলার জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে চালকের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইলেকট্রিক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মারাত্মক ওই সংঘর্ষের সময় টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেম চালু ছিল। এটি টেসলার সাধারণ অটোপাইলট কিংবা ব্যয়বহুল ফুল সেলফ ড্রাইভিং বা এফএসডি সফটওয়্যার হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় শূন্য মাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লোরিডার একটি মহাসড়কে প্রায় একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও টেসলার ড্রাইভার অ্যাসিস্ট সফটওয়্যারে চলা একটি মডেল ৩ গাড়ি মহাসড়কের মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায় এবং পেছন থেকে অন্য একটি যানের ধাক্কায় টেসলার চালক নিহত হন। টেসলার গাড়িগুলোতে দীর্ঘকাল ধরেই ফ্যান্টম ব্রেকিং নামের এক অদ্ভুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। এই ত্রুটির ফলে সামনে কোনো বাধা ছাড়াই গাড়িগুলো হঠাৎ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। একটি গাড়ির ভিডিও, টেলিমেটিক্স এবং ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডারসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য টেসলার কাছে সংরক্ষিত থাকে। ফলে গাড়িটি কেন হঠাৎ থেমে গিয়েছিল, তা কোম্পানিটির কাছে খুবই স্পষ্ট।   তবে ইলেকট্রিক জানিয়েছে, টেসলা এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তথ্য গোপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ এবং গাড়িটি অনুমোদিত এলাকায় চলছিল কি না সেই তথ্য। এই তথ্যগুলোকে গোপন ব্যবসায়িক তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টেসলা। জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রতিবেদনেই এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে।   ফ্যান্টম ব্রেকিং ত্রুটি নিয়ে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছিল ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অটোপাইলট বা অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহারের সময় মহাসড়কের দ্রুতগতিতে গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছর ধরে চলা সেই তদন্তটি চলতি বছরের গত জুলাই মাসে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং তারা যান্ত্রিক ব্রেকের কোনো ত্রুটি বা অযৌক্তিক সংঘর্ষের ঝুঁকি খুঁজে পায়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
গাড়ি দুর্ঘটনার সময় শক্ত চুলের ক্লিপ মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
চুলে ক্লিপ পরে গাড়িতে যাতায়াত, দুর্ঘটনার সময় এটি মাথার খুলি পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে

গাড়িতে ওঠার সময় চুল বাঁধার জনপ্রিয় ক্লিপ ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের মতে, গাড়ি দুর্ঘটনার সময় মাথা পেছনের দিকে জোরে ধাক্কা খেলে শক্ত ধরনের দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ মাথার ত্বকে ঢুকে গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ক্লিপটি মাথার ত্বকে আটকে গিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রয়োজনও হতে পারে।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সদের নিয়ে একটি আলোচনায় দৈনন্দিন জীবনের কোন কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ তারা নিজেরা এড়িয়ে চলেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মোটরসাইকেল চালানো, নিরাপত্তা জাল ছাড়া ট্রাম্পোলিন ব্যবহার এবং দ্রুতগতিতে বৈদ্যুতিক স্কুটার চালানোর মতো বিষয় উঠে আসে। এর পাশাপাশি গাড়িতে চুলের ক্লিপ পরে থাকার বিষয়টিও চিকিৎসকদের আলোচনায় আসে। বিশেষ করে পেছনের দিকে বড় দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ পরে গাড়িতে বসার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন তারা। এসব ক্লিপ সাধারণত মাথার পেছনে এমন জায়গায় থাকে, যেখানে গাড়ি দুর্ঘটনার সময় মাথা সিট বা হেডরেস্টের দিকে জোরে ধাক্কা খেতে পারে।   চিকিৎসক ডোরিয়ান ও'লিয়ারি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর বর্ণনায় বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার সময় মাথা জোরে পেছনের দিকে চলে গেলে ধাতব চুলের ক্লিপ মাথা, ঘাড় ও মাথার ত্বরে আঘাত করতে পারে। তার মতে, ক্লিপ মাথার ত্বকে ঢুকে যেতে পারে, কেটে যাওয়ার মতো ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি বের করতে হতে পারে। একজন অবসরপ্রাপ্ত নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্সও একই ধরনের সতর্কতা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, গাড়ি দুর্ঘটনার সময় শক্ত ক্লিপ মাথার ভেতর পর্যন্ত ঢুকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। একজন মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানকারীও জানান, তিনি গাড়ি চালানোর সময় কখনো এ ধরনের ক্লিপ পরবেন না।   চুলের এই ক্লিপের জনপ্রিয়তা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮০-এর দশক থেকেই চুল দ্রুত গুছিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের ক্লিপ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরোনো ফ্যাশনের পুনরুত্থান এবং ওয়াই-টু-কে ধাঁচের পোশাক ও সাজসজ্জার জনপ্রিয়তার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। অভিনেত্রী ও মডেল হেইলি বিবার এবং কেন্ডাল জেনারকেও এ ধরনের ক্লিপ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে গাড়িতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। কারণ দুর্ঘটনার সময় শরীরের সঙ্গে গাড়ির ভেতরের শক্ত কোনো বস্তু আটকে গেলে সেটি অতিরিক্ত আঘাতের কারণ হতে পারে।   এর বাস্তব উদাহরণও রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী জিনা পানেসার গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। ডার্বিশায়ারে গাড়ি চালানোর সময় তার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। তখন তার চুলে একটি দাঁতযুক্ত ক্লিপ লাগানো ছিল। সংঘর্ষের সময় ক্লিপটি মাথার পেছনে ঢুকে যায়। পরে হাসপাতালে সেটি অপসারণ করা হয়। দুর্ঘটনায় তার মাথা থেকে ভ্রু পর্যন্ত প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ক্ষত তৈরি হয়েছিল। পানেসার পরে অন্য গাড়িচালকদেরও গাড়িতে ওঠার আগে এ ধরনের ক্লিপ খুলে ফেলার পরামর্শ দেন। চুল বাঁধার প্রয়োজন হলে তিনি রাবারের ব্যান্ড ব্যবহারের কথা বলেন। তার নিজের অভিজ্ঞতা ছিল, দুর্ঘটনার সময় ক্লিপটি মাথার পেছনে আটকে যাওয়ার পর তিনি গুরুতর বিপদের আশঙ্কা করেছিলেন।   চীনের সিচুয়ান প্রদেশেও এ ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক নারী গাড়ি দুর্ঘটনার পর মাথার ত্বকে দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ আটকে যাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকেরা প্রায় ১০ মিনিটের চেষ্টায় সেটি বের করেন। চিকিৎসক তিয়ান ফেংমিং জানিয়েছিলেন, ক্লিপটি মাথার খুলিতে পৌঁছে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা অন্য জটিলতা ঠেকাতে নিউরোসার্জারির প্রয়োজন হতে পারত। তবে এ বিষয়ে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। চুলের ক্লিপ ব্যবহার করলেই গুরুতর আঘাত হবে, এমন নয়। চিকিৎসকদের সতর্কতার মূল বিষয় হলো গাড়ি দুর্ঘটনার মতো উচ্চঝুঁকির পরিস্থিতিতে মাথার পেছনে শক্ত কোনো বস্তু থাকা। জরুরি চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এ ধরনের আঘাত সম্ভব হলেও তা তুলনামূলকভাবে বিরল এবং গাড়ির দুর্ঘটনায় আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করে অন্য কারণগুলো, যেমন নিরাপত্তাহীন বস্তু বা মনোযোগের ঘাটতি।   তাই গাড়ি চালানোর সময় বা যাত্রার ক্ষেত্রে চুলের পেছনে শক্ত ও বড় ক্লিপ ব্যবহার না করাই নিরাপদ বলে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চুল বাঁধার প্রয়োজন হলে তুলনামূলক নরম রাবার ব্যান্ড বা এমন কোনো উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা মাথার পেছনে শক্তভাবে বেরিয়ে থাকে না। দৈনন্দিন ব্যবহারের একটি সাধারণ ফ্যাশন সামগ্রী কীভাবে দুর্ঘটনার সময় অতিরিক্ত আঘাতের কারণ হতে পারে, সাম্প্রতিক এই আলোচনা সেটিই সামনে এনেছে। বিশেষ করে গাড়িতে দীর্ঘ সময় যাতায়াত করা ব্যক্তিদের জন্য চুলের সাজসজ্জার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, চ্যানেল নিউজএশিয়া, ৭নিউজ ও দ্য স্ট্যান্ডার্ড।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ ও ৭ বছরের শিশুর চালানো গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বিউটি কুইন
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ ও ৭ বছরের শিশুর চালানো গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বিউটি কুইন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন কিয়ারা ডারভন বোলিং (৩১) নামের এক বিউটি কুইন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, তাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি চালাচ্ছিল ৪ ও ৭ বছর বয়সী দুই শিশু ভাই। গত বৃহস্পতিবার ওকল্যান্ডের রাস্তায় এক বন্ধুর কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।   বর্তমানে ওকল্যান্ডের হাইল্যান্ড হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কিয়ারা। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্কে একাধিক রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং মুখের হাড় মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে। তার বোন ক্রিস্টিনা ব্ল্যাকমন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, কিয়ারা বেঁচে ফেরার জন্য আপ্রাণ লড়াই করছেন। তবে আশার কথা হলো, তিনি চিকিৎসকদের প্রাথমিক কিছু কথায় ধীরে ধীরে সাড়া দিতে শুরু করেছেন।   দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার মেটাতে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে খোলা একটি তহবিলে ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে ৩১ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে।   পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন বাবা-মা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ওই দুই শিশু। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সম্ভবত এক ভাই স্টিয়ারিং হুইল ধরেছিল এবং অন্যজন গ্যাস ও ব্রেক প্যাডেল চাপাচ্ছিল। প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলা গাড়িটি প্রথমে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে কুকুরসহ হেঁটে যাওয়া কিয়ারাকে সরাসরি চাপা দিয়ে রাস্তার ধারের একটি বাড়ির বেড়ায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় 'গ্রিজলি' নামের কুকুরটিও আহত হয়, তবে বর্তমানে সেটি উদ্ধার করে পশু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।   গত বছর 'ক্যালিফোর্নিয়া রিজেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পেজেন্ট'-এ 'মিস গ্রেটার বে এরিয়া' মুকুট জয় করেছিলেন কিয়ারা। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির (ইস্ট বে) শেষ সেমিস্টারের ছাত্রী এবং আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় জড়িত ৭ বছর বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে গেছে এবং তার ছোট ভাই মাথায় আঘাত (কনকাশন) পেয়েছে। তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। শিশুদের বাবা-মা পুলিশের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে। এত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পরও কিয়ারার পরিবার শিশুগুলোর প্রতি কোনো ক্ষোভ রাখেনি। কিয়ারার বোন বলেন, "শিশুরা তো আর গাড়ি চালাতে জানে না, তাই তাদের প্রতি আমাদের কোনো আক্রোশ নেই।"

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
দুই বছরের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়েছে কানসাসের দুই কিশোর। ছবি: সংগৃহীত
দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ভাই, একই দিনে এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবাকেও হারাল দুই শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও বাবাকে হারিয়েছে দুই কিশোর। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, দুই দুর্ঘটনাই ঘটেছে একই তারিখে, ২৭ জুলাই। এই ঘটনায় ১১ ও ১৪ বছর বয়সী দুই ভাই এখন বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউসিএইচ (KWCH)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে ৪৬ বছর বয়সী গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়র কানসাসের ভ্যালি সেন্টারের উত্তরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন। সেডগউইক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, একটি এসইউভি গাড়ির সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।   এই দুর্ঘটনার ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই, কানসাস টার্নপাইকে আরেকটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার স্ত্রী এরিন মোরেনো। তিনি ভ্যালি সেন্টার স্কুল জেলার একজন শিক্ষক ছিলেন। সেই দুর্ঘটনায় মোরেনো দম্পতির ১৭ বছর বয়সী এক ছেলেও নিহত হয়েছিল। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে এই পরিবার চার সদস্য থেকে নেমে এসেছে মাত্র দুই সদস্যে। বর্তমানে পরিবারের বেঁচে থাকা দুই ছেলে, যাদের বয়স ১১ ও ১৪ বছর, বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।   পরিবারটির সহায়তায় অনলাইনে একটি গোফান্ডমি তহবিল খোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অল্প বয়সেই এত বড় ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া দুই শিশুর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়রের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল তার দুই ছেলে। এখন তারা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে বাবা-মা দুজনকেই ছাড়াই বড় হতে হবে।   এই তহবিল থেকে গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়রের শেষকৃত্যের ব্যয় বহনের পাশাপাশি দুই শিশুর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের শিক্ষা ও জীবনযাপনের খরচে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই পরিবারের ওপর এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
টেনেসির প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত চালক জেমস ব্রিউইংটন জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবার, গুরুতর আহত মা-মেয়ে: গ্রেপ্তারের পর অপরাধীর অদ্ভুত হাসি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার স্ত্রী ও আট বছরের কন্যাসন্তান গুরুতর আহত হওয়ার আট মাস পর অভিযুক্ত চালক পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের তোলা ছবির (মাগশট) জন্য পোজ দিতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি জিভ বের করে এক অদ্ভুত ও বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিমা করেন, যা ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত করেছে।   আদালত ও স্থানীয় মেট্রোপলিটন ন্যাশভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের নথির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ চ্যানেল ৫ ন্যাশভিল এ খবর প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত চালকের নাম জেমস ব্রিউইংটন জুনিয়র (৬১)। গত বছরের নভেম্বরে ক্লার্কসভিল পাইকে একটি বেপরোয়া ওভারটেকিং করতে গিয়ে তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটান। ব্রিউইংটন তার নিসান টাইটান পিকআপ ট্রাকটি নিয়ে আরেকটি গাড়ির পাশ কেটে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি জিপকে সজোড়ে ধাক্কা দেন। জিপটিতে ডাস্টিন ম্যাকলিওড (৪১), তার স্ত্রী অ্যাশলে এবং তাদের ৮ বছর বয়সী মেয়ে ডাকোটা চড়ে এক বয়স্ক স্বজনের বাড়িতে ক্রিসমাসের আলো জ্বালাতে যাচ্ছিলেন।   সংঘর্ষের তীব্রতায় স্মিথভিলের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী ডাস্টিন ম্যাকলিওড ঘটনাস্থলেই আশঙ্কাজনকভাবে আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার স্ত্রী অ্যাশলে ও কন্যা ডাকোটা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও গুরুতর আঘাত পান। দীর্ঘদিন ধরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে।   স্বামীর মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করে অ্যাশলে জানান, দুর্ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে কিছু বুঝে ওঠার সময় পাননি তারা। লাল রঙের একটি গাড়ির ঝিলিক দেখার পরপরই যেন সবকিছু ধীরগতিতে ঘটতে শুরু করে। তিনি বলেন, "হঠাৎ দেখতে পেলাম আমার মেয়ের শরীর সিটবেল্টের মধ্যে পেঁচিয়ে যাচ্ছে, আমার স্বামী সামনের দিকে ছিটকে পড়লেন। এয়ারব্যাগটি আমার বুকে এসে সজোড়ে আঘাত করে।"   অ্যাশলে আরও বলেন, "গাড়িটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল, ডাস্টিন কোনো সাড়া দিচ্ছিল না, আর পেছনের সিটে আমার ছোট মেয়েটা ভয়ে চিৎকার করছিল।" দুর্ঘটনায় অ্যাশলের গোড়ালির হাড় ভেঙে যায়, হাঁটুর মালাইচাক ভেঙে যায় এবং শরীরে বহু গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। তার একাধিক অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়েছে। অন্যদিকে, আট বছরের ডাকোটার বুকের খাঁচার হাড়, কলারবোন ও ঘাড়ের হাড় ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্কের গোড়ালি সংলগ্ন অংশে মারাত্মক আঘাত লাগে।   দুর্ঘটনার দীর্ঘ আট মাস পর অভিযুক্ত চালক জেমস ব্রিউইংটন আত্মসমর্পণ করার পর যখন পুলিশ তার ছবি প্রকাশ করে, তখন তা দেখে শিউরে ওঠেন নিহত ডাস্টিনের বিধবা স্ত্রী। এলমেলো দাড়ি ও বিশৃঙ্খল চেহারার ব্রিউইংটন পুলিশের ক্যামেরার সামনে অসংবেদনশীলভাবে জিভ বের করে রেখেছিলেন। ছবিটি দেখে অ্যাশলে বলেন, "আমি আজই প্রথমবার এই লোকটার মুখ দেখলাম। গ্রেপ্তারের খবর কিছুটা স্বস্তি দিলেও তার এই ছবিটি দেখা অত্যন্ত পীড়াদায়ক ও মানসিক যন্ত্রণার।"   আহত মা ও মেয়ের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিপুল খরচ বহন করতে গিয়ে ডাস্টিনের পরিবার বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে। চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের খরচ জোগাতে তাদের ঘর ভাড়া পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এ পর্যন্ত তাদের সহযোগিতায় একটি গোফান্ডমি (GoFundMe) ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যা, বেপরোয়া জীবন বিপন্ন করা এবং মারাত্মক আক্রমণের তিনটি অভিযোগে জেমস ব্রিউইংটনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। এর আগে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এতদিন তাকে সরাসরি হাজতে নেওয়া হয়নি। বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার বন্ডে তাকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জ্বলন্ত গাড়ি থেকে চালককে বাঁচিয়েই উধাও
জ্বলন্ত গাড়ি থেকে চালককে বাঁচিয়েই উধাও! রহস্যময় সেই নায়কের খোঁজে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির গ্লাসবরো শহরে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনার পর আগুনে জ্বলতে থাকা গাড়ি থেকে চালককে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করেন এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। কিন্তু উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার আগেই তিনি নিঃশব্দে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। এখন সেই ‘গুড সামারিটান’-এর পরিচয় জানতে এবং তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে গ্লাসবরো পুলিশ।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সাউথ মেইন স্ট্রিটে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পরপরই গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ছুটে এসে ভেতরে আটকে থাকা চালককে নিরাপদে বের করে আনেন। তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করেন।   তবে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ওই ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান। পুলিশ বলছে, তিনি যেন “হঠাৎ এসে আবার হঠাৎই অদৃশ্য হয়ে গেছেন।” ফলে তাঁর পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি।    ঘটনার পর গ্লাসবরো পুলিশ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ব্যক্তির সন্ধান চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তাঁকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয়, বরং তাঁর অসাধারণ মানবিক সাহসিকতার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতেই খুঁজে বের করতে চায় তারা। যদি তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে না চান, তবুও পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।    পুলিশ তাদের বার্তায় বলেছে, “হৃদয়ের গভীর থেকে আপনাকে ধন্যবাদ। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্য একজনের পরিবারের সদস্যকে বাঁচিয়েছেন। পৃথিবী আপনার মতো আরও মানুষের প্রয়োজন।” এ ঘটনায় আহত চালকের পরিচয় বা বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার ২১০ ফ্রিওয়েতে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩২

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইরউইন্ডেল এলাকায় ২১০ ফ্রিওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সেমি ট্রাক একাধিক গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ ও যানজট তৈরি হয় এবং কয়েক ঘণ্টা ফ্রিওয়ের উভয় দিকের লেন বন্ধ থাকে।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল (CHP) জানায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। প্রাথমিকভাবে এটি ডান পাশের কাঁধের দিকে সরে যায়, এরপর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় বিভাজক অতিক্রম করে বিপরীত দিকের লেনে ঢুকে পড়ে এবং একের পর এক একাধিক গাড়িকে ধাক্কা দেয়।   প্রত্যক্ষদর্শী ও ABC-র হাতে আসা ড্যাশক্যাম ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার কিছু মুহূর্ত আগে ট্রাকটি প্রথমে রাস্তার ডান পাশে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিল। এরপর হঠাৎ করেই এটি পুরো ফ্রিওয়ে পার হয়ে বিপরীত দিকের যানবাহনের ওপর গিয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।   দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জ্যাকনাইফ অবস্থায় চলে যায়। এতে ফ্রিওয়ের দুই দিকেই যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ, ভাঙা অংশ এবং বিভিন্ন যানবাহনের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অংশ, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তোলে।   কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, দুর্ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মোট ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএইচপি।   সিএইচপি আরও জানায়, অন্তত তিনটি যানবাহন সরাসরি এই দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। তবে কতগুলো গাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সংঘর্ষের সম্পূর্ণ পরিধি কী ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।   দুর্ঘটনার পর ২১০ ফ্রিওয়ের উভয় দিকেই দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকে। উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শেষে বিকেল ৩টার কিছু পর ধীরে ধীরে সব লেন খুলে দেওয়া হয়।   তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি ট্রাকটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারায়। বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আই-২৮৫ মহাসড়কে ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও তীব্র যানজট

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গ্লেনউড রোডের কাছে ইন্টারস্টেট ২৮৫ (আই-২৮৫) মহাসড়কে মঙ্গলবার সকালে একটি বড় ট্রেইলর ট্রাকসহ চারটি গাড়ির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সকালের ব্যস্ত সময়ে ঘটা এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাতায়াতকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ডিকাব ফায়ার রেসকিউ বিভাগ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ির সব আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং সৌভাগ্যবশত কেবল কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।   ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতরে হয়তো কেউ আটকে পড়েছেন। তবে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত করে যে, সব আরোহী অক্ষত ও নিরাপদে আছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ট্রেইলর ট্রাকের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা। কারণ দুর্ঘটনার পরপরই ওই ট্রেইলরে ঠিক কী ধরনের মালামাল ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি এবং ওই এলাকায় পানির সরবরাহও ছিল সীমিত।   আগুন পুরোপুরি নেভাতে ফায়ার ফাইটারদের অন্য এলাকা থেকে গাড়িতে করে পানি এনে কাজ চালাতে হয়েছিল। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানের পর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে, ট্রেইলর ট্রাকটিতে মূলত প্রচুর পরিমাণে কাগজের কার্টন বা কার্ডবোর্ড বক্স বহন করা হচ্ছিল। আর এ কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তা নেভাতে বেগ পেতে হয়েছিল।   আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যান। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেইলরের ভেতরে আর কোনো সুপ্ত আগুন বা 'হট স্পট' যেন লুকিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে তারা 'ওভারহল' বা পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। আগুন যেন কোনোভাবেই পুনরায় জ্বলে উঠতে না পারে, সেজন্য ট্রেইলরে থাকা সমস্ত মালামাল আনলোড বা খালাস করে ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়।   এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে আই-২৮৫ মহাসড়কের সমস্ত সাউথবাউন্ড বা দক্ষিণমুখী লেন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো রাস্তা জুড়ে অবস্থান নেওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে ওই রুটের সকালের নিয়মিত যাত্রীরা দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকতে বাধ্য হন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ চালকদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার এবং বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। বিকল্প রুট হিসেবে চালকদের ইন্টারস্টেট ৭৫/৮৫ অথবা মেমোরিয়াল ড্রাইভ হয়ে ইন্টারস্টেট ২০ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ অন্তঃসত্ত্বা নারী লিয়া হাইড ও তার স্বামী
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীর

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারী লিয়া হাইড নিহত হয়েছেন। স্প্রিংফিল্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে রাস্তার পাশে নামার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি প্রাণ হারান।   স্থানীয় সময় চলতি সপ্তাহের শুরুতে উইলার্ড এলাকার পশ্চিম জেমস রিভার এক্সপ্রেসওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।   পুলিশ জানায়, লিয়া হাইড তার ২০১৫ মডেলের সুবারু ফরেস্টার গাড়ি নিয়ে পশ্চিমমুখী লেনে চলার সময় একটি সড়ক বিভাজকের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়েন। দুর্ঘটনার পর তিনি গাড়ি থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   নিহত লিয়া হাইড পেশায় একজন থেরাপিস্ট ছিলেন। তিনি একটি কন্যাসন্তানের মা হতে চলেছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   সহকর্মী ও পরিচিতরা জানান, লিয়া হাইড অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল একজন থেরাপিস্ট ছিলেন, যিনি রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করতেন।   পারিবারিক বন্ধু ভ্যালেরি উইলিস বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই লিয়াকে চিনতেন এবং মানুষের প্রতি তার যত্নশীল আচরণ তাকে আলাদা করে তুলেছিল। আরেক পারিবারিক বন্ধু বার্নাডেট শিভলি জানান, লিয়া হাইড তার পরিবারের চিকিৎসা সহায়তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং সবার সঙ্গে গভীর আন্তরিকতায় সম্পর্ক রাখতেন।   লিয়া হাইড সম্প্রতি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জশ স্নডগ্রাসকে বিয়ে করেন। দম্পতি তাদের অনাগত কন্যাসন্তানের নাম ঠিক করেছিলেন লার্ক এলিজাবেথ।   দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিভিন্ন উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলারের বেশি অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ডলার। স্থানীয়রা বলছেন, এই সহায়তা লিয়া হাইড ও তার পরিবারের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন।  

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

যুক্তরাষ্ট্রের New York অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে।   সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে Claverack এলাকার স্টেট রুট ৯এইচ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় শেরিফ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লাউডনভিলের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল একটি টয়োটা প্রিয়াস গাড়ি চালিয়ে উত্তর দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা ছিলেন।   পথিমধ্যে অজানা কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেন্দ্ররেখা অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টয়োটা ক্রাউনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই নাজমুল রুবেল নিহত হন।   এ ঘটনায় তার বাবা ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী বন্ধু ফাহিম হালিমও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অপর গাড়ির ৬২ বছর বয়সী যাত্রী জুলিয়া রিচিও নিহত হন।   দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় Albany Medical Center-এ ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। এছাড়া এক বছর বয়সী শিশুকন্যা ইকরা আয়াতকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে; সে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।   অন্যদিকে, অপর গাড়ির চালক ২৪ বছর বয়সী লুক পালভেনিয়ান আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। কীভাবে গাড়িটি কেন্দ্ররেখা অতিক্রম করেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।   নিহতদের জানাজা বুধবার (৮ এপ্রিল) যোহরের পর Baitul Aman Islamic Center-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ফাহিম হালিম
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল প্রবাসী বাংলাদেশি ফাহিম হালিমের, পরিবারে নেমেছে শোকের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ফাহিম হালিম নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি। হঠাৎ এ দুর্ঘটনায় তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।   পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, গত ৬ এপ্রিল আলবেনির পথে যাত্রাকালে এক দুর্ঘটনায় ফাহিম হালিমের মৃত্যু হয়। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি শুধু মানসিকভাবে বিপর্যস্তই নয়, একই সঙ্গে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখেও পড়েছে।   ফাহিম হালিমের পরিচিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, সদালাপী ও সহৃদয় মানুষ। আশপাশের সবার সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারতেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবসময় প্রস্তুত থাকতেন। তাঁর এই মানবিক গুণাবলির কারণে তিনি সবার কাছে প্রিয় ছিলেন।   তিনি স্ত্রী, বাবা-মা ও এক বোন রেখে গেছেন। পরিবারটি এখন এই অপ্রত্যাশিত শোক সামাল দেওয়ার পাশাপাশি নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর দাফন ও সংশ্লিষ্ট খরচ মেটাতে সহায়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পরিবারের আর্থিক চাপ সামাল দিতে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।   স্বজনেরা জানান, এই কঠিন সময়ে সবার সহায়তা ও দোয়া তাদের জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ঈদযাত্রায় প্রাণহানি বাড়ছেই: ১২ দিনে সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ২৪১

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ঈদযাত্রা পুরোপুরি শেষ না হলেও প্রাথমিক হিসাবেই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র ১২ দিনেই বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪১ জন আহত হয়েছেন। যদিও ঈদের আগে-পরে মোট ১৫ দিনকে সাধারণত ঈদযাত্রা হিসেবে ধরা হয়, তবে এবারের হিসাব এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়।   এদিকে, ১৮ মার্চ রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন নিহত হন। একই দিন কুমিল্লায় একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হন।   অন্যদিকে, ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকের ক্লান্তি ও অদক্ষতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গত এক দশকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে হাজারো দুর্ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল তদারকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া গতি। পাশাপাশি সড়কের নাজুক অবস্থাও বড় ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে।   তারা মনে করেন, দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার, দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু, আরও তিনজন আহত
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু, আরও তিনজন আহত

  যশোর-মাগুরা মহাসড়ক-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাত প্রায় ৩টার দিকে গাইদঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহতরা হলেন—মজিদ সরদার (৭০), তার ছেলে মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪৩) এবং জনির চার বছর বয়সী কন্যা সেহেরিশ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জনির স্ত্রী, ছেলে ও মা। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা-তে পাঠানো হয়েছে। হতাহতরা সবাই মণিরামপুর উপজেলার ফাতেহাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।   স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা প্রাইভেটকারটি গাইদঘাট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। দ্রুতগতির গাড়িটি সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গাড়ির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।   খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।   বারবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গভীর রাতে চালক ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০