যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ফাহিম হালিম নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি। হঠাৎ এ দুর্ঘটনায় তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, গত ৬ এপ্রিল আলবেনির পথে যাত্রাকালে এক দুর্ঘটনায় ফাহিম হালিমের মৃত্যু হয়। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি শুধু মানসিকভাবে বিপর্যস্তই নয়, একই সঙ্গে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখেও পড়েছে।
ফাহিম হালিমের পরিচিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, সদালাপী ও সহৃদয় মানুষ। আশপাশের সবার সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারতেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবসময় প্রস্তুত থাকতেন। তাঁর এই মানবিক গুণাবলির কারণে তিনি সবার কাছে প্রিয় ছিলেন।
তিনি স্ত্রী, বাবা-মা ও এক বোন রেখে গেছেন। পরিবারটি এখন এই অপ্রত্যাশিত শোক সামাল দেওয়ার পাশাপাশি নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর দাফন ও সংশ্লিষ্ট খরচ মেটাতে সহায়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পরিবারের আর্থিক চাপ সামাল দিতে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
স্বজনেরা জানান, এই কঠিন সময়ে সবার সহায়তা ও দোয়া তাদের জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির এক জীবিত ব্যক্তিকে টানা পঞ্চম বছরের মতো সরকারি নথিতে মৃত হিসেবে দেখাচ্ছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস)। এই প্রশাসনিক ভুলের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের আর্থিক ও সরকারি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। নিউ জার্সি ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি জীবিত থাকা সত্ত্বেও আইআরএসের রেকর্ডে তাকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে তার করসংক্রান্ত কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং সরকারি পরিষেবা ব্যবহারে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে কয়েক বছর আগে। এরপর সংশোধনের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। প্রতি বছর নতুন করে একই ভুলের কারণে তিনি আবারও জটিলতায় পড়ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তিকে ভুলবশত মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তা গুরুতর প্রশাসনিক সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ সরকারি সংস্থাগুলো সাধারণত মৃত্যুর তথ্যের ভিত্তিতে কর রেকর্ড, সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিতে পরিবর্তন আনে। এ ধরনের ভুলের ফলে ব্যাংক হিসাব, ঋণ আবেদন, কর জমা দেওয়া এবং পরিচয় যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ডেটাবেজে তথ্যের অসামঞ্জস্য, নামের মিল বা নথি প্রক্রিয়াকরণের ভুলের কারণে মাঝে মাঝে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ভুল সংশোধন না হওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আইআরএস সাধারণত এ ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি জমা এবং রেকর্ড সংশোধনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়ে। নিউ জার্সির ওই বাসিন্দার ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, সরকারি রেকর্ডে একটি ভুল তথ্য একজন জীবিত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কত বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার দ্য ভিলেজেস এলাকায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে টিন্ডারে পরিচিত হওয়া এক নারী ও তার বন্ধুদের বন্দুকের মুখে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফক্স ১৩ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাদের দেখা করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে নারী ও তার বন্ধুদের ভয় দেখান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ফ্লোরিডার দ্য ভিলেজেস এলাকায় ঘটে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিম্মি করা, অস্ত্র প্রদর্শনসহ অন্যান্য অভিযোগ আনা হতে পারে। ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের পর অপরাধের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে মাঝেমধ্যে আলোচনায় আসে। আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা অনলাইনে পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করার সময় সতর্কতা অবলম্বন, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সাক্ষাৎ এবং পরিচিতদের বিষয়টি জানিয়ে রাখার পরামর্শ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেস নির্বাচনে অংশ নেওয়া ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এক সাবেক রোগী মামলা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসাকেন্দ্রে সংরক্ষিত রোগীদের ফোন নম্বর ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচারণার বার্তা পাঠানো হয়েছে, যা চিকিৎসা-তথ্যের গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্টলেক ভিলেজ আর্জেন্ট কেয়ারের মালিক ডা. সোনিয়া দেবগান-ক্যাকারের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছেন তার সাবেক রোগী শন রোজ। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় ক্যালিফোর্নিয়ার ২৬তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রার্থী ছিলেন ডা. দেবগান-ক্যাকার। সে সময়, মে মাসে শন রোজ তার মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পান। বার্তার শুরুতে ডা. সোনিয়ার ছবি ও যোগ্যতার বিবরণসহ একটি অর্থ পরিশোধ করে প্রচারিত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ছিল। এরপর লেখা ছিল, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও তার চিকিৎসাকেন্দ্র স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, একই বার্তায় আবারও চিকিৎসকের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরা হয়, তার নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইটের একটি সংযোগ যুক্ত করা হয় এবং ২ জুন ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অভিযোগকারীর দাবি, বার্তায় দেওয়া ফোন নম্বরটি চিকিৎসাকেন্দ্রের নয়, বরং নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ব্যবহৃত নম্বর ছিল। শন রোজ প্রশ্ন তোলেন, যদি এটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কিত বার্তা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নির্বাচনী প্রচারণার নম্বর থেকে কেন পাঠানো হলো। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি জানতে চেয়ে শন রোজ চিকিৎসাকেন্দ্রে ই-মেইল করলে প্রথম জবাবে কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি কয়েক বছর আগে ওই চিকিৎসাকেন্দ্রের রোগী ছিলেন বলেই তাদের কাছে তার ফোন নম্বর ছিল এবং সেই কারণে আগের সব রোগীর কাছেই বার্তাটি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ওই জবাবে বলা হয়, একটি তৃতীয় পক্ষের সেবা ব্যবহার করে একসঙ্গে এসব বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পরে একই দিন আরেকটি ই-মেইলে আগের বক্তব্য থেকে সরে আসে চিকিৎসাকেন্দ্র। সেখানে দাবি করা হয়, বার্তাগুলো রোগী হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের লক্ষ্য করেই পাঠানো হয়েছিল এবং রোগীর পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদাভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। এই ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শন রোজ। তার দাবি, তিনি যখন ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, তখন ২৬তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে বসবাস করতেন। পরে তিনি ২৯তম ডিস্ট্রিক্টে চলে যান। ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় যদি ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবহার করা হতো, তাহলে তার বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী তিনি ওই প্রচারণার লক্ষ্যভুক্ত হওয়ার কথা ছিল না। তাই তার দাবি, চিকিৎসাকেন্দ্রে সংরক্ষিত রোগীর তথ্যই ব্যবহার করা হয়েছে। মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার কনফিডেনশিয়ালিটি অব মেডিক্যাল রেকর্ডস অ্যাক্ট-এর উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনে রোগীর অনুমতি ছাড়া চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বা অন্য কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। শন রোজ আদালতের কাছে চিকিৎসাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের ঘোষণা, নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ এবং শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ডা. সোনিয়া দেবগান-ক্যাকার ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। বর্তমান কংগ্রেস সদস্য জুলিয়া ব্রাউনলি পুনর্নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানানোর পর তিনি প্রার্থী হন। নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় ডা. দেবগান-ক্যাকার বলেছিলেন, তিনি পেশাদার রাজনীতিক নন; বরং সমস্যা সমাধানই তার পেশা এবং সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা কংগ্রেসে কাজে লাগাতে চান। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি জুন মাসের প্রাথমিক নির্বাচনেই পরাজিত হন এবং পরবর্তী ধাপে যেতে পারেননি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডা. দেবগান-ক্যাকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মামলাটির অভিযোগগুলো এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো রায় হয়নি।