ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ আসনের গাড়িতে ৬ যাত্রী, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৪ জনের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রাইটউড এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে হাইওয়ে ২ বা অ্যাঞ্জেলেস ক্রেস্ট হাইওয়েতে ফ্লুম ক্যানিয়ন ড্রাইভের কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, পাঁচ আসনের হুন্দাই ভেলোস্টার মডেলের ওই হ্যাচব্যাক গাড়িটিতে মোট ছয়জন যাত্রী গাদাগাদি করে বসেছিলেন।
অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি ইউটিলিটি পোলে সজোরে ধাক্কা খায় এবং পাহাড়ের খাদে একটি তৃণভূমিতে গিয়ে পড়ে।
ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ফলে গাড়িতে থাকা পাঁচজন যাত্রী বাইরে ছিটকে পড়েন, যাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া অপর দুই যাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে অন্তত একজন সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ার পর গাড়িটি পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) বর্তমানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে চিঠি পাঠিয়ে মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুই হোয়াইট (৬০) নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে সিরিয়াল নম্বরবিহীন একটি এআর-১৫ স্টাইলের রাইফেলসহ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ফেডারেল আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট রিভারসাইড কাউন্টির ‘ইসলামিক সেন্টার অফ টেমিকুলা ভ্যালি’ নামের একটি মসজিদে হুমকিসংবলিত চিঠিটি আসে। চিঠিতে লেখা ছিল, "তোমাদের প্রত্যেককে হত্যা করার দিনটির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না!" বার্তার ঠিক নিচে ক্রসহেয়ার বা বন্দুকের টার্গেটের আদলে একটি নকশা আঁকা ছিল। সেই টার্গেটের ভেতরে চোখ কাটা ও টুপি পরা এক দাড়িওয়ালা ব্যক্তির ছবি এবং আল্লাহকে নিয়ে একটি আপত্তিকর মন্তব্য লেখা ছিল। চিঠিটি পাওয়ার পরই মসজিদ কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানায়। তদন্তে নেমে পুলিশ চিঠিটির সূত্র ধরে সান দিয়েগো কাউন্টির ওয়ার্নার স্প্রিংসের বাসিন্দা লুই হোয়াইটের সন্ধান পায়। গত ২৯ আগস্ট তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিরিয়াল নম্বরবিহীন ওই এআর-১৫ স্টাইলের শর্ট-ব্যারেল রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়, যা সাধারণত ‘গোস্ট গান’ নামে পরিচিত। বর্তমানে লুই হোয়াইট রিভারসাইড কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ফেডারেল হেফাজতে স্থানান্তর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাগারে সাজা হতে পারে।
ম্যাসাচুসেটসে তিন সন্তান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মার্কিন মায়ের মামলায় মিসট্রায়াল ঘোষণা
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ আসনের গাড়িতে ৬ যাত্রী, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৪ জনের মৃত্যু
অভিবাসী তাড়াতে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে বর্ণবাদী ভিডিও গেম, তীব্র সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে একটি হাই স্কুলের প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরিক জেমস নামের ওই ব্যক্তি ব্রুক হাই স্কুলের প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। খোদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন ন্যক্কারজনক কাণ্ডে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রুক কাউন্টির শেরিফ রিচার্ড বিটি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার বিস্তারিত জানান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, স্কুলের মেয়েদের শারীরিক শিক্ষা (পিই) লকার রুম এবং ড্যান্স টিমের সদস্যদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে এই গোপন ক্যামেরাগুলো পাওয়া যায়। এরপরই প্রিন্সিপাল এরিক জেমসকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ইলেকট্রনিক যোগাযোগে আড়িপাতা এবং অননুমোদিত স্থানে বেআইনিভাবে প্রবেশের দুটিসহ মোট তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর পরই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছে পুলিশ। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল এরিক জেমসকে নর্দান রিজিওনাল জেলে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তার জামিন বন্ড এক লাখ ডলার নির্ধারণ করেছে।
জন্মদিনে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছেলেকে দেখতে ৩২০ মাইল পথ পাড়ি, তবু জড়িয়ে ধরতে পারলেন না মা
হার্ভার্ডের হুডির দাম দেখে নতুন শিক্ষার্থীর চোখ কপালে, ‘একটাতেই সারা বছরের কাপড়ের বাজেট!’
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ৯ মাস গর্ভে সন্তান, অথচ টেরই পাননি ২১ বছরের কলেজছাত্রী; হঠাৎ কন্যাসন্তানের জন্ম
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করতে নিউইয়র্কে চালু হয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের নতুন কল সেন্টার। ১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এই সেবার মাধ্যমে কনস্যুলেটের আওতাধীন বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কনস্যুলার সেবা নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিতে পারবেন। কনস্যুলেট জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, কল সেন্টারে প্রশিক্ষিত ও প্রযুক্তি-সচেতন তরুণ কর্মীরা প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার সেবা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেবেন। কল সেন্টারে যোগাযোগের জন্য দুটি নম্বর রয়েছে। টোল-ফ্রি নম্বর ৮৪৪-৮৬১-১৯৭১ এবং ২১২-৫৯৯-৬৭৬৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। বর্তমানে কনস্যুলেটের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ কল সেন্টার সেবা সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পাওয়া যায়। সরকারি ছুটির দিনে সাধারণ সেবা বন্ধ থাকে। তবে অফিস সময়ের পর এবং সপ্তাহান্তে জরুরি প্রয়োজনে ৬৪৬-৬৪৫-৭২৪২ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। ফোনে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ না হলে ভয়েসমেইল রেখে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বার্তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী কলদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কনস্যুলেটের এই উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কসহ এর আওতাধীন এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত তথ্য পেতে সরাসরি কনস্যুলেটে যাওয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, ভিসা, নথিপত্র ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা নিয়ে প্রাথমিক তথ্য ও নির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কল সেন্টারটি প্রবাসীদের জন্য সহায়ক হতে পারে। কনস্যুলেটের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় লং আইল্যান্ড সিটির ৩১-১০, ৩৭তম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত।
নিউইয়র্কে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা এরিনের ৫ মাসের শিশুর জন্য ফান্ডে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ডলার
গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে ইউএসসিআইএসের নতুন পদক্ষেপ, বাড়ছে যাচাই