হিজবুল্লাহ

ছবি: সিএনএন
লেবাননের দুই এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে সম্মত ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চার দিনব্যাপী আলোচনার পর দক্ষিণ লেবাননের দুটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে প্রাথমিক চুক্তি করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ওই দুটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।  চুক্তিটিকে ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র—তিন পক্ষই বৃহত্তর শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।   এমন সময়ে এই অগ্রগতি এলো, যখন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত শান্তিচুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ বলেন, এই চুক্তি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লিতানি নদীর উত্তর ও দক্ষিণের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সরে যাবে।   তার ভাষ্য, যেসব অবস্থান সামরিক প্রয়োজনের জন্য আর অপরিহার্য নয়, সেখান থেকেই সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এর আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, লেবানন সরকারের প্রতি সদিচ্ছার বার্তা হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত কয়েকটি এলাকা থেকে প্রতীকীভাবে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছিল ইসরায়েল।   চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “এটি কেবল শুরু। সামনে আরও কঠিন পথ রয়েছে। তবে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর অংশ হতে পেরে আমরা সম্মানিত।” তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই দক্ষিণ লেবাননে একটি ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। আইডিএফের দাবি, তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল এমন এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়েছে।   চুক্তি অনুযায়ী, লিতানি নদীসংলগ্ন নির্ধারিত এলাকাগুলোতে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোতায়েন হবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী। নেতানিয়াহু এই সমঝোতাকে ইসরায়েলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের অধিকাংশ এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান বজায় রাখতে পারবে।   তিনি আরও বলেন, “এটি ইরানের জন্যও বড় ধাক্কা। তারা চাপ প্রয়োগ করে আমাদের দক্ষিণ লেবানন থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে এটি ইরানের বিষয় নয়।”   লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও চুক্তিটিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনকে আলোচনার আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এর ফলে লেবাননের জনগণ নিজেদের সম্পূর্ণ মুক্ত ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্বের অধীনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে।   অন্যদিকে হিজবুল্লাহ এই সমঝোতার তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, এই চুক্তি লেবাননের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
হিজবুল্লাহ প্রধান
শর্তহীনভাবে লেবানন ছাড়তে হবে ইসরায়েলকে: হিজবুল্লাহ প্রধানের হুঁশিয়ারি

লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের অবিলম্বে ও শর্তহীন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। শুক্রবার (২৬ জুন) এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।   ভাষণে কাসেম স্পষ্ট করে বলেন, “ইসরায়েলকে লেবাননের প্রতিটি এলাকা থেকে পুরোপুরি সেনা সরিয়ে নিতে হবে। যুদ্ধবিরতি মানে কেবল আংশিক শান্তি নয়—সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ হওয়া।” তার মতে, এমন কোনো যুদ্ধবিরতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না যেখানে এক পক্ষ হামলা চালিয়ে যাবে, আর অন্য পক্ষ নীরব থাকবে।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধাপেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও পৃথক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।   দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি অঞ্চলে এখনো ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে মাঝে মধ্যেই হামলার ঘটনাও ঘটছে। যদিও ইসরায়েল দাবি করছে, নিরাপত্তাজনিত হুমকি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালানোর অধিকার রাখে।   এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করে নাঈম কাসেম বলেন, “ইসরায়েল কেবল নিরাপত্তার অজুহাতে সেখানে নেই; বরং লেবাননের ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে বিদেশি সেনা উপস্থিতির কোনো বৈধতা নেই এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব লেবাননের নিজস্ব জাতীয় সেনাবাহিনীর।   হিজবুল্লাহ প্রধান আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। “প্রতিরোধের অধিকার আমরা সংরক্ষণ করি,”—যোগ করেন তিনি।   ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রসঙ্গে কাসেম দাবি করেন, এই চুক্তি ইরানের কৌশলগত সাফল্যের প্রতিফলন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের ইঙ্গিত বহন করে।   ভাষণে লেবাননের সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিও বার্তা দেন হিজবুল্লাহ প্রধান। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সরকার যেন কোনো আপস না করে এবং বিদেশি প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে। “জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। দেশের অর্ধেক জনগণকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি সরকার নিতে পারে না,”—বলেন তিনি।   একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ বাস্তবায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে কাসেম বলেন, লেবানন এখন একটি নতুন রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং এই সময়ে জাতীয় ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।   আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
মাথার ওপর ক্ষেপণাস্ত্র আর আইরন ডোমের গর্জন, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ইসরাইল

মিডল ইস্ট বা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার পারদ নতুন করে চড়তে শুরু করেছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় ইসরাইলি হামলার পর তেহরান ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে চরম প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ইরান থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর প্রথম কোনো সরাসরি বড় আঘাত।   ইরান এই হামলাকে "এক সপ্তাহের টানা ধারাবাহিক অভিযান"-এর সূচনা বলে ঘোষণা করেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকেও ইসরাইলি ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইসরাইলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'আইরন ডোম' অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রের এই গর্জন আর সাইরেনের আওয়াজের মধ্যেই ইসরাইলের সাধারণ মানুষকে জীবন বাঁচাতে প্রতিনিয়ত বোমা আশ্রয়কেন্দ্র বা বাঙ্কারে ছুটতে দেখা যাচ্ছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইসরাইলের ভেতরের এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের চিত্র। একদিকে মাথার ওপর উড়ে যাচ্ছে রকেট ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র, অন্যদিকে শহরের রেস্তোরাঁ, খেলার মাঠ বা সমুদ্র সৈকতে নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও সচল রয়েছে। তবে এই স্বাভাবিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর আতঙ্ক।   তেল আবিব বা জেরুজালেমের প্রতিটি আধুনিক ভবনে এখন বাধ্যতামূলকভাবে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র বা বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সাইরেন বাজার সাথে সাথে অত্যন্ত অভ্যস্ততার সাথে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। অনেকে একে আমেরিকার 'তুষারপাতের দিন'-এর সাথে তুলনা করে কৌতুকচ্ছলে 'মিসাইল ডে' বা ক্ষেপণাস্ত্রের দিন বলে অভিহিত করছেন। বিশ্ববাসীর চোখে ইসরাইলকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও আগ্রাসী সামরিক শক্তি মনে হলেও, দেশটির সাধারণ নাগরিক ও কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের এই যুদ্ধকে 'অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই' হিসেবে দেখছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান, হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথিদের মতো চতুর্মুখী হুমকির মুখে তাদের এই সামরিক অভিযান কোনো নতুন অঞ্চল দখল বা শাসন পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারেন হাস্কেল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দশকের পর দশক ধরে আলোচনার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের ভাষাই একমাত্র কার্যকর মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।   বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে ইসরাইলের কৌশলগত চিন্তাভাবনায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকা হতো, এখন সেখানে শত্রুর ঘরে আঘাত হানার নীতি বা 'অক্টোপাস ডকট্রিন' অনুসরণ করা হচ্ছে, যেখানে ইরানকে এই সব প্রক্সি গোষ্ঠীর মূল চালিকাশক্তি বা অক্টোপাসের মাথা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এদিকে, গাজায় ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও প্রতিনিয়ত তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, লেবাননে নির্বিচারে বহুতল ভবন ধ্বংস করার নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের সম্ভাব্য বড় শান্তি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে।   তবে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন-ইরান চুক্তি যাই হোক না কেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইলি বাহিনী যতদিন প্রয়োজন লেবাননের সীমান্ত নিরাপত্তা জোনে অবস্থান করবে। এই জটিল পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েই গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হিজবুল্লাহকে থামান, নইলে ইরানে আরও ভয়াবহ হামলা করব—ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

লেবাননে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর আরও ভয়াবহ হামলার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি চরম সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের 'উচ্চ বেতনের প্রক্সি' গোষ্ঠীর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তবে গত সপ্তাহে যেভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, এবার তার চেয়েও আরও কঠোর ও বড় পরিসরে ইরানে আঘাত হানা হবে।   গত শুক্রবার থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর প্রাথমিক শান্তি চুক্তিকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। এর মধ্যেই শনিবার হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলি হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করে ইরান। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বজ্বালানি পরিবহনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে এখনও অন্যান্য দেশের নৌযান চলাচল করতে পারছে।   ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে চরম পরিণতি ভোগের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করে তবে তাদের কোনো দেশের অস্তিত্বই থাকবে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকে যদি প্রণালিতে অন্যান্য দেশের তেলের জাহাজের 'ত্রাণকর্তা' হিসেবে কাজ করতে হয়, তবে এর জন্য টোল আদায়ের বা প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও হুমকি দেন তিনি। একই সঙ্গে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের 'ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার না ছাড়ার' প্রকাশ্য ঘোষণারও কড়া সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি চরম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, পেজেশকিয়ানকে অবশ্যই কথাবার্তায় লাগাম টানতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে।   এর আগে, ইরানের সাথে একটি সংবেদনশীল শান্তি চুক্তি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে রোববারের বার্তায় তিনি পুরো সংঘাতের দায়ভার মূলত ইরানের ওপরই চাপিয়েছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রথম শর্তই ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা। কিন্তু বাস্তবে তা অত্যন্ত কঠিন প্রমাণিত হচ্ছে। চলমান এই সংঘাতের জেরে সুইজারল্যান্ডে এমওইউ-এর অধীনে প্রথম দফার শান্তি আলোচনাও বিলম্বিত হয়েছে, যা রোববার থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এবং ইউরেনিয়াম মজুতের মতো জটিল বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারকে উভয় দেশকেই ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা হিজবুল্লাহর

লেবাননের ভূখণ্ড ও সাধারণ মানুষকে ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ইসরাইলের বিরুদ্ধে গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ এনেছে। হিজবুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাতৃভূমি রক্ষায় যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় তাদের যোদ্ধারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।   হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী প্রতিরোধ বাহিনী’ শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং নিজেদের মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষায় তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসরাইল যে অভিযোগ তুলেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা আখ্যা দিয়ে দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে গোষ্ঠীটি। হিজবুল্লাহ জোর দিয়ে বলেছে, ইসরাইলি শত্রু পক্ষ বাস্তবে কখনোই কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত বা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেনি।   এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, যতদিন প্রয়োজন মনে হবে ততদিন ইসরাইলি সেনারা লেবাননের মাটিতে অবস্থান করবে। সেই সঙ্গে হিজবুল্লাহর যেকোনো হামলার জন্য গোষ্ঠীটিকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হবে বলেও তিনি কড়া ভাষায় প্রতিজ্ঞা করেন।   এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) লেবাননে সব ধরনের সামরিক অভিযান ও সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি উদ্যোগের তোয়াক্কা না করেই ঘোষণা দিয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধা ও তাদের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরাইলের বিমান ও স্থল অভিযান অব্যাহত থাকবে।   মাঠপর্যায়ে বিবদমান দুই পক্ষের এমন অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একদিকে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এবং অন্যদিকে চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইসরাইলের অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে এই অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
হিজবুল্লাহর হামলায় নিহত ইসরাইলি সেনা l ছবি: সংগৃহীত
হিজবুল্লাহর হামলায় নিহত ইসরাইলি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, প্রাণ হারালেন আরও ৩ সেনা

দক্ষিণ লেবাননের কাফর তিবনিত গ্রামে হিজবুল্লাহর পৃথক দুটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ইসরাইলি ব্যাটালিয়ন প্রধানসহ অন্তত চার সেনা নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এই নতুন সহিংসতা চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-কে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।   ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর কাফর তিবনিত গ্রামে হিজবুল্লাহর একটি সন্দেহভাজন ড্রোন বা ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪০১তম আর্মার্ড ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডোর গেদালিয়া বেন সিমহন এবং তার ট্যাংকের অন্য তিন ক্রু সদস্য নিহত হন। ৩২ বছর বয়সি বেন সিমহন গত এপ্রিল মাসে এই ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যখন এর আগের কমান্ডার দক্ষিণ লেবাননে গুরুতর আহত হন। এই প্রাণঘাতী হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর একই গ্রামে হিজবুল্লাহর আরেকটি বিস্ফোরক ড্রোন ইসরাইলি কমান্ডো ব্রিগেডের ওপর আঘাত হানে। এতে এক রিজার্ভ অফিসার গুরুতর আহত হওয়াসহ মোট পাঁচ ইসরাইলি সেনা জখম হন।   এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসরাইলি বিমান বাহিনী লেবাননের নাবাতিয়েহ ও বেকা উপত্যকাসহ অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু করে। আইডিএফের দাবি, হিজবুল্লাহর পুনঃপুন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এতে হিজবুল্লাহর একাধিক কমান্ড সেন্টার ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংসসহ বেশ কিছু প্রতিরোধ যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হওয়া এই ইসরাইলি বিমান হামলার কারণে বহু এলাকায় হতাহতদের উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত অনেক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।   কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা থাকলেও ইসরাইল এই চুক্তির অংশ ছিল না। ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তাদের নিয়ন্ত্রিত বাফার জোন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের শামিল বলে গণ্য করা হচ্ছে। এই চরম উত্তেজনার জের ধরেই সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে।   এই চুক্তিটি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার কারণে ইসরাইলি কট্টরপন্থী নেতারা এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করছেন। ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ইসরাইলি সেনাদের রক্তের বিনিময়ে কোনো মার্কিন চুক্তির তোয়াক্কা করা হবে না এবং পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া উচিত।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরানের আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত হলে হিজবুল্লাহকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে লেবাননে হিজবুল্লাহর আর্থিক ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করার পথ তৈরি করেছে ইরান। একটি নতুন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আটকে থাকা তহবিল এবং তেল চুক্তি থেকে অর্থপ্রবাহ শুরু হলেই তেহরান তার মিত্র হিজবুল্লাহকে বিপুল আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   এই সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় যুদ্ধোত্তর বিনিয়োগ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত করার মাধ্যমে ইরান শত শত বিলিয়ন ডলার লাভ করতে যাচ্ছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে একাধিক আঞ্চলিক কূটনীতিক ও লেবাননের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, এই তহবিলের একটি বড় অংশ লেবাননে যুদ্ধবিধ্বস্ত হিজবুল্লাহর সামরিক ও রাজনৈতিক শাখা পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান।   হিজবুল্লাহর যোগাযোগ কার্যালয়ও তাদের প্রতি ইরানের প্রকাশ্য সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরও ইরান এই গোষ্ঠীটিকে এক বিলিয়ন ডলার তহবিল হস্তান্তর করেছিল। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকে থাকা তহবিল উদ্ধারের শর্ত বা বিস্তারিত হিসাবনিকাশ যাই হোক না কেন, ইরান তাদের সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখবে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অবমুক্ত করা এই তহবিল কোনোভাবেই কোনো "সন্ত্রাসী সংগঠনকে" অর্থায়নের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হলে এই অর্থ আবারও আটকে দেওয়া হবে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবকাঠামো ধ্বংস করা।   শান্তি আলোচনার সময় লেবানন পরিস্থিতি বারবার উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যার জেরে গত মাসে এই আলোচনা ভেস্তে গিয়ে পুনরায় যুদ্ধও শুরু হয়েছিল। তবে নতুন সমঝোতা স্মারকে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে, যা টানা যুদ্ধে বিপর্যস্ত গোষ্ঠীটির জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হবে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই যুদ্ধের কারণে হিজবুল্লাহ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং গত মার্চ মাস থেকে দক্ষিণ লেবাননে প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে।   এই সংখ্যাটি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে নিহত ৩,৭৬৮ জনের প্রায় সমান।   তহবিল সংকটের কারণে গত মাসে হিজবুল্লাহ যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত ১০ লাখেরও বেশি মানুষের পরিবারের জন্য তাদের নগদ অর্থ সহায়তা কমাতেও বাধ্য হয়েছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে হিজবুল্লাহ ফের আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হিজবুল্লাহ মোকাবিলায় ইসরায়েলের বিকল্প হিসেবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে চান ট্রাম্প

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র নিজেরই সামলানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অতিমাত্রায় সাধারণ বা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে উল্লেখ করে ট্রাম্প এই পরামর্শ দেন।   তিনি মনে করেন, ইসরায়েল যদি সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে এই সংকট মোকাবিলা করতে না পারে, তবে সিরিয়ারই এই দায়িত্ব নেওয়া উচিত।   ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G-7) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ার নতুন নেতা দেশ পরিচালনায় একটি অসাধারণ কাজ করছেন।   ট্রাম্পের মতে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েল যদি সবাইকে হত্যা না করে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সিরিয়াই এই কাজটি করবে এবং আল-শারা নিজেই তা করে দেখানোর সক্ষমতা রাখেন।   সাবেক বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার ক্ষমতায় আসা সাবেক এই বিদ্রোহী যোদ্ধাকে বেশ শক্ত প্রকৃতির নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আহমেদ আল-শারা কোনো ‘বয় স্কাউট’ বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তি নন, বরং হিজবুল্লাহর সাথে ডিল করার ক্ষেত্রে তিনি বেশ পটু ও দক্ষ। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সিরিয়ার এই নতুন নেতা হিজবুল্লাহকে মোটেও পছন্দ করেন না।   ফলে হিজবুল্লাহ দমনে ইসরায়েলের বিকল্প হিসেবে সিরিয়াই সবচেয়ে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ এ এফ পি
লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় বেসামরিক প্রাণহানির কড়া সমালোচনা করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই যুদ্ধ 'অতিরিক্ত দীর্ঘ' হয়েছে এবং এর ফলে অসংখ্য বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।   মঙ্গলবার ফ্রান্সে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইসরায়েল অনেক দিন ধরেই হিজবুল্লাহর সাথে লড়ছে এবং এতে বহু মানুষ মারা গেছে।" এত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।   ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, "কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ওই ভবনগুলোতে এমন অনেক মানুষ থাকেন, যাদের সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নন।" তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইসরায়েল যদি বাকি সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে তাদের অভিযান পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই লড়াইয়ে তাদের বদলে সিরিয়ার এগিয়ে আসা উচিত।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, লেবাননে হিজবুল্লাহর মোকাবিলা করার জন্য তিনি ইসরায়েলকে সিরিয়ার হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এড়িয়ে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে দামেস্ক আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।   সিরিয়ার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর দেশটির নতুন প্রশাসন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আহমেদ আল-শারা।   সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং আরও কয়েকজনের সহায়তায় সিরিয়ার নেতৃত্ব দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে 'অসাধারণ কাজ' করছে।   সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, "তিনি হয়তো নিষ্কলঙ্ক কোনো সাধু ব্যক্তি (স্কাউট বয়) নন, তবে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অসাধারণ কাজ করেছেন এবং তিনি খুবই দক্ষ।" ট্রাম্পের এই মন্তব্য সিরিয়ার নেতৃত্বের প্রতি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান আস্থারই ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, প্রতিবেশী লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব খর্ব করার ক্ষেত্রে দামেস্ককে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে পরিবর্তনেরও স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভির । ছবি: সংগৃহীত
চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয়, লেবাননে হামলা থামবে না: ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভির। তিনি দাবি করেছেন, ওই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।   ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেন গাভির ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া প্রথম ইসরায়েলি শীর্ষ নেতাদের একজন। সোমবার নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চুক্তি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। আমরা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নই। এটি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।”   লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা। তার ভাষায়, “হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার কম কোনো কিছুতেই আমরা সন্তুষ্ট হব না।”   বেন গাভির আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনারা যেসব এলাকা দখল করেছে এবং যেগুলোকে তিনি “সন্ত্রাসী অবকাঠামোমুক্ত” বলে উল্লেখ করেছেন, সেসব এলাকা থেকে কোনোভাবেই সেনা প্রত্যাহার করা উচিত নয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পক্ষের কূটনৈতিক উদ্যোগের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ওই সমঝোতায় চলমান সংঘাত কমে আসবে এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।   তবে বেন গাভিরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অংশ এই চুক্তিকে সমর্থন করছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিভক্ত মতামতকে আরও স্পষ্ট করছে, যেখানে একপক্ষ কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে এবং অন্যপক্ষ সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর একদিনেই ১৭ ভয়াবহ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

লেবাননের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপর একদিনেই মুহুর্মুহু ১৭টি সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ফ্রন্টে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানের বহর লক্ষ্য করে এসব সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।   মূলত নাবাতিয়েহ, বিন্ত জাবিল, মাজদাল জাউন, সোর, কানতারা এবং মারজায়ুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সমাবেশ ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে এই তীব্র আক্রমণগুলো চালানো হয়। এর ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।   স্থলভাগে সরাসরি আক্রমণের পাশাপাশি আকাশপথেও কড়া প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, জেজিন এবং সাইদা শহরের কাছাকাছি এলাকায় নজরদারি চালানো ইসরায়েলি ড্রোনের ওপর তারা সফলভাবে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।   এছাড়া একটি ইসরায়েলি সামরিক ট্রাকেও সরাসরি এবং নির্ভুল আঘাত হানার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। একদিনের ব্যবধানে হিজবুল্লাহর এতগুলো সুপরিকল্পিত হামলা লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতকে যেমন আরও ঘনীভূত করেছে, তেমনি গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এক নতুন সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লেবানন কেন হয়ে উঠল ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে বড় বাধা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও লেবাননকে ঘিরে সংঘাত নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষায় ইরান এখন শুধু প্রক্সি গোষ্ঠীর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথে এগোচ্ছে, যা যুদ্ধবির্তার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান বারবার সতর্ক করে আসছিল যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই সতর্কতার মধ্যেই রোববার রাতে ইরান দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি ইসরায়েলে হামলা চালায়।   ঘটনার সূত্রপাত হয় বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে ইসরায়েলি হামলার পর। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা না চালালে বৈরুতে আক্রমণ হবে না। তবে সেই অবস্থান ভেঙে গেলে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।   ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এটি ছিল একটি সতর্কবার্তা। ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলা হলে জবাব আরও বিস্তৃত হবে এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুও এর আওতায় আসতে পারে।   এর জবাবে সোমবার ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ইরানও দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে।   পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। দ্বিতীয় দফা হামলার পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, আপাতত ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে অভিযান শেষ করা হয়েছে। তবে লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সহ্য করলেও বৈরুতকে একটি ‘লাল রেখা’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের মতে, বৈরুতে হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল সেই সীমা অতিক্রম করেছে এবং ইরানের সরাসরি প্রতিক্রিয়া তারই ফল।   বর্তমান সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো, ইরান তার দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। আগে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং ইরাক-সিরিয়ার মিত্র সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করত তেহরান।   কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনার পরিবর্তে ইরান সরাসরি রাষ্ট্রীয় সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, হিজবুল্লাহকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে ইরানের পুরো আঞ্চলিক জোটব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সে কারণেই তেহরান লেবানন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।   গত মার্চে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর লেবানন আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ দাবি করে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার অভিযোগ এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই তারা হামলা চালিয়েছে।   লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে দেশটিতে ৩ হাজার ৬১৩ জন নিহত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।   সম্প্রতি ওয়াশিংটনে আলোচনার পর নতুন একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি একে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করে বলেন, লেবাননে বোমা হামলা চলতে থাকলে উত্তর ইসরায়েলে তাদের হামলাও অব্যাহত থাকবে।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাবে, অন্যদিকে ইরান, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করবে। ফলে সংঘাত পুরোপুরি থামার বদলে একটি অস্থির ভারসাম্যের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। ফাইল ছবি: রয়টার্স
বৈরুতে অস্ত্র থাকবে শুধু রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে, ঘোষণা লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর

লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ পুরো প্রশাসনিক অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে অস্ত্র থাকবে কেবল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সালাম বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে ‘অপরিবর্তনীয়’ উল্লেখ করে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজধানী বৈরুত-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   তবে সমালোচকেরা বলছেন, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী আগেই বৈরুতের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং বর্তমানে সেখানে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর দৃশ্যমান সামরিক উপস্থিতি নেই।   অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের আশঙ্কা, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের এই ঘোষণা বৈরুতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের অজুহাত হয়ে উঠতে পারে।   এ পরিস্থিতিতে লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন করে নজরদারি বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: আল জাজিরা  

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি ভাঙলে ‘ট্রিগারে আঙুল’—ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি

লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, যদি যুদ্ধবিরতি ভাঙা হয়, তাহলে তাদের যোদ্ধারা আবার ‘ট্রিগারে আঙুল রাখবে’।   হিজবুল্লাহ–নিয়ন্ত্রিত আল-মানার টেলিভিশন-এ প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, সংগঠনটির মুজাহিদিনেরা প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো ‘বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা’ প্রতিহত করতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেবে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর বর্তালেও পরিস্থিতি অবনতি হলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে হিজবুল্লাহ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে যুদ্ধবিরতি নয়: হিজবুল্লাহ

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ এই অবস্থান তুলে ধরেছেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদলাল্লাহ বলেন, ইসরায়েল যদি সব ধরনের শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ না করে, তাহলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রশ্নই ওঠে না। তার ভাষায়, বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করছে।   তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর হতে পারে এমন একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বৈরুতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হিজবুল্লাহকে অবহিত করেছেন। এতে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি ঘিরে আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, দুই দেশই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন।   স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান রেজিন কেইনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে হিজবুল্লাহর কঠোর অবস্থান যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে মিলল রূপপুর পারমাণবিকে জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স

অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান।   তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।    বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।   এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি।   নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।   অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।   প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল।   দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক।    প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা।   বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়।   প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লেবানন–ইসরায়েল সংলাপ নিয়ে তীব্র আপত্তি, ‘শত্রুর সঙ্গে আলোচনা গুরুতর পাপ’—হিজবুল্লাহ'র সংসদ সদস্য

লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ ও ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ ও গুরুতর ভুল। এটি দেশের কোনো স্বার্থই পূরণ করে না।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংলাপ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে।   সংসদীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকারের প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি দেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন।   প্রসঙ্গত, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে।   অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে চায়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়েই লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় ইসরাইল

লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল, তবে এই প্রক্রিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেটার শুক্রবার এ তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলাই ইসরায়েল–লেবানন সম্পর্কের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায় ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যে এক দফা টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।   লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহকে আলোচনার বাইরে রাখা হলে শান্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, লেবাননের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দুই লক্ষ্যেই লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় যেতে চান নেতানিয়াহু

লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে উদ্যোগ নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ঘোষিত লক্ষ্য দুটি—হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানান, লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মন্ত্রিসভাকে দ্রুত সরাসরি সংলাপ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।   ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর–এ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে লেবাননে কার্যকর কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   অন্যদিকে লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনার পথ তৈরি করতে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এটিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির মতো একটি ‘প্রাথমিক ধাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন, যেখানে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য আলী ফাইয়াদ সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি সংলাপ তাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।   লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, বর্তমান সংকটের সমাধানের জন্য প্রথমে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা জরুরি, এরপরই আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। লেবাননের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৭০০ জন নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবিত আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও তা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থানের ওপর।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
তিন দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি; লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল, কাঁপছে তেল আবিব!

ইরান, ইয়েমেন এবং লেবানন—এই তিন দিক থেকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাজধানী তেল আবিব, জেরুজালেম এবং মৃত সাগর (ডেড সি) সংলগ্ন অঞ্চলে তিন দফায় এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ জানিয়েছে, ইরানের একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের নিকটবর্তী পেতাহ তিকভা শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যাতে ওই এলাকার আবাসন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি জানিয়েছে, তারা ইরানের সাথে সমন্বয় করে তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন বসতি ও সামরিক যান লক্ষ্য করে অন্তত ৫৫টি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন সেনাসদস্য রয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   হামলার সময় তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ প্রধান শহরগুলোতে বিপৎসংকেত বা সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন দিক থেকে চালানো এই অভূতপূর্ব সমন্বিত আক্রমণ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (আয়রন ডোম) ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বয়ে সামরিক অভিযান

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় তাত্ক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   হুথি গ্রুপ তাদের সংযুক্ত মিডিয়া আল মাসিরাহ-এর মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানায়, তারা গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় ছিল। হুথিরা দাবি করেছে, তাদের উদ্দেশ্য সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী যুদ্ধের ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপ ধাপে ধাপে করা হচ্ছে। বর্তমান স্তরে থেমে থাকবেন না, ভবিষ্যতের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।” আল জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি নজরদারিতে রাখছেন।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০