- প্রচ্ছদ
- Topic
হাসপাতাল
১৯৯৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের একটি হাসপাতালে সংকটাপন্ন এক প্রিম্যাচিউর শিশুকে তার যমজ বোনের সঙ্গে একই ইনকিউবেটরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নার্স গেইল কাসপারিয়ান। এরপর দুই বোনের একটি মুহূর্তের ছবি ‘দ্য রেসকিউইং হাগ’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং প্রিম্যাচিউর যমজ শিশুদের কো-বেন্ডিং নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। ব্রিয়েল ও কাইরি জ্যাকসন ১৯৯৫ সালের ১৭ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ সপ্তাহ আগে ম্যাসাচুসেটসের ওরচেস্টারের দ্য মেডিকেল সেন্টার অব সেন্ট্রাল ম্যাসাচুসেটসে জন্ম নেয়। জন্মের পর দুজনকেই আলাদা ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল। সে সময় সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে প্রিম্যাচিউর যমজদের আলাদা রাখাই প্রচলিত ছিল। কাইরি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও ব্রিয়েলের অবস্থা ছিল উদ্বেগজনক। তার শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছিল এবং হৃদস্পন্দনও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছিল। ১২ নভেম্বর তার অবস্থা আরও খারাপ হলে চিকিৎসাকর্মীরা প্রচলিত বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে নার্স গেইল কাসপারিয়ান ইউরোপের কিছু হাসপাতালে ব্যবহৃত একটি পদ্ধতির কথা মনে করেন। সেটি হলো কো-বেন্ডিং, অর্থাৎ যমজ শিশুদের একই ইনকিউবেটরে রাখা। যুক্তরাষ্ট্রে তখন এটি প্রচলিত পদ্ধতি ছিল না। বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে কাসপারিয়ান ব্রিয়েলকে তার যমজ বোন কাইরির ইনকিউবেটরে রাখেন। ইনকিউবেটরের দরজা বন্ধ করার পরপরই ব্রিয়েল তার বোনের কাছে সরে যায় এবং শান্ত হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এরপর কাইরি তার ছোট্ট হাত দিয়ে ব্রিয়েলকে জড়িয়ে ধরে। তখন ব্রিয়েলের হৃদস্পন্দন স্থিতিশীল হয় এবং শরীরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। সেই মুহূর্তের ছবিতে দেখা যায়, ছোট্ট কাইরির একটি হাত ব্রিয়েলের শরীরের ওপর রাখা। ছবিটি পরে ‘দ্য রেসকিউইং হাগ’ নামে পরিচিত হয়। ১৯৯৬ সালে এটি লাইফ ম্যাগাজিন ও রিডার্স ডাইজেস্টে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি ব্যাপক পরিচিতি পায় এবং প্রিম্যাচিউর যমজ, এমনকি একাধিক শিশুর ক্ষেত্রে কো-বেন্ডিং নিয়ে হাসপাতালগুলোতে আগ্রহ বাড়ে। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস মেমোরিয়ালে অন্তত ১০০ সেট প্রিম্যাচিউর যমজ বা একাধিক শিশুকে কো-বেন্ডিং করার অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাটিকে এককভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিবর্তনের কারণ বা একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং এটি প্রিম্যাচিউর যমজদের একসঙ্গে রাখার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। শেষ পর্যন্ত ব্রিয়েল ও কাইরি দুজনই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরে। কয়েক বছর পরও তাদের একসঙ্গে ঘুমানোর কথা পরিবার জানিয়েছিল। দুই বোনের সেই ছোট্ট আলিঙ্গন আজও চিকিৎসা ইতিহাসের আলোচিত এক মানবিক মুহূর্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।
যুক্তরাজ্যে অসুস্থ এক তরুণীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী ক্ল্যারিসা স্ট্রিটকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে এমন একটি অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হয়েছিল, যা কোনো অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। পরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় হাসপাতালের করিডরে থাকার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ২০২৪ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে ঘটে। চলতি বছরের মে মাসে রোচডেল কোরোনার আদালতে অনুষ্ঠিত তদন্তে তাঁর চিকিৎসার শেষ সময়ের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে। ক্ল্যারিসা ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। তাঁর গবেষণার জন্য তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সৃজনশীল, প্রাণবন্ত এবং মানুষের সঙ্গে মিশুক তরুণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ক্ল্যারিসার প্রেমিক অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। আদালতে বলা হয়, এর আগের দুই দিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। মাথা ঘোরা, বমি এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাঁকে রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের একজন তাঁকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এবং আতঙ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলে মনে করেছিলেন বলে তদন্তে জানানো হয়। এরপর দায়িত্বে থাকা নার্স মিশেল নিল ক্ল্যারিসাকে একটি অক্সিজেন মাস্ক দেন। কিন্তু সেটি কোনো অক্সিজেনের উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। নিল আদালতে স্বীকার করেন, কেন তিনি এমন একটি মাস্ক দিয়েছিলেন তা তিনি জানেন না এবং এমনটি করা উচিত হয়নি। তিনি অবশ্য দাবি করেন, মাস্কটি ক্ল্যারিসার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল এবং তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ক্ল্যারিসার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং তাঁর হৃদস্পন্দনও দ্রুত ছিল। এরপরও তাঁকে চিকিৎসাকক্ষের পরিবর্তে হাসপাতালের করিডরে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। নিল জানান, তিনি ক্ল্যারিসার জন্য ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা এবং শিরার রক্তের গ্যাস পরীক্ষা করার অনুরোধ করেছিলেন। পরে তাঁর বিষয়টি একজন জ্যেষ্ঠ নার্সের কাছে তোলা হয়। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ নার্স ক্ল্যারিসা বয়সে তরুণ হওয়ায় তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁকে তরল দেওয়া হয় এবং পরে আবার পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। তবে ১৪ আগস্ট ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্তে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পালমোনারি এমবোলিজম বা ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাটের কথা বলা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাটি লিভার রোগের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ল্যারিসার এর আগেও ২০১৭ সালে পালমোনারি এমবোলিজম ও গভীর শিরায় রক্ত জমাটের সমস্যা হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ঘটনাটি সে সময়ের চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়েছিল। তাই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা তখন ছিল না। তদন্তে অবশ্য এটিও স্বীকার করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলে তাঁর শরীরে কোনো অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ২০১৭ সালের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের পালমোনারি এমবোলিজম সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে জরুরি বিভাগে রোগী মূল্যায়ন, রোগীর উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে বয়স বা প্রাথমিক ধারণার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাকক্ষে নেওয়া হয়নি। তবে ক্ল্যারিসার মৃত্যুর জন্য সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে এমনটি বলা ঠিক হবে না। কোরোনারের তদন্তের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পরিস্থিতি ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা। অক্সিজেনের সঙ্গে সংযোগহীন মাস্ক দেওয়ার বিষয়টি নার্স নিজেই ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর জন্য বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে সোমবার থেকে হাসপাতালগুলো প্রতিদিন আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার করে অর্থ হারাচ্ছে। তহবিল আটকে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর ওপর আরোপিত একটি করব্যবস্থা। এই করের মাধ্যমে রাজ্য ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে মেডিকেইডের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিজস্ব অংশ সংগ্রহ করে। তবে এই অর্থায়ন পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্র ও টেক্সাসের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশনার বিষয়টি সমাধানে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন। এখনও এই অর্থ আটকে যাওয়ার কারণে মেডিকেইড রোগীদের চিকিৎসাসেবায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রোগী, হাসপাতালের কর্মী এবং চিকিৎসাসেবায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ হাসপাতাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন লাভ বলেন, নিরাপত্তাবেষ্টিত হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যের হাসপাতালগুলোর অর্থায়ন ব্যবস্থা ফেডারেল আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্য অর্থ পাওয়া উচিত। কতদিন এই তহবিল আটকে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে তখন ভয়াবহ আগুন। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুনের শিখা। সবাই যখন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন, তখন নিজের জীবনের কথা না ভেবেই আগুনের মধ্যে ঢুকে পড়লেন নার্স রাজিয়া নূরিন। মাত্র আট সেকেন্ড পর একটি নবজাতককে বুকে জড়িয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। শিশুটি বেঁচে গেল। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি বাকি ১৪ নবজাতককে। গত ২৬ আগস্ট পাকিস্তানের ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) নার্সারিতে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। এরপর থেকেই রাজিয়া নূরিনকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন পাকিস্তানের মানুষ। আগুন লাগার সময় নূরিন ও তাঁর সহকর্মীরা ১৫ নবজাতকের দেখাশোনা করছিলেন। পরে পাশের একটি কক্ষে কয়েকজন শিশুর জন্য ইনজেকশন প্রস্তুত করছিলেন তাঁরা। হঠাৎ নূরিন আগুনের শিখা দেখতে পান। হাতে থাকা সিরিঞ্জ ফেলে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান নার্সারির দিকে। নার্সারিতে ঢুকেই একটি শিশুকে কোলে তুলে নেন তিনি। শিশুটিকে নিজের বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে আগুন ও ধোঁয়া থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এরপর দ্রুত বেরিয়ে আসেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্তের দৃশ্য। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাত্র আট সেকেন্ডের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে আসেন নূরিন। বাইরে এসে শিশুটিকে এক চিকিৎসকের হাতে তুলে দেন। এরপর আবারও আগুনের দিকে ফিরে যেতে চান তিনি। তাঁর আশা ছিল, ভেতরে থাকা অন্য শিশুদেরও হয়তো বাঁচানো যাবে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ও ধোঁয়া এতটাই বেড়ে গেছে যে আর ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়নি। “আমি অন্যদেরও বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আমি আশা হারাইনি,” অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন নূরিন। তারপরও চেষ্টা থামাননি তিনি। আরেক নার্সকে সঙ্গে নিয়ে মাটিতে নেমে ধোঁয়ার নিচ দিয়ে নার্সারিতে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ায় সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। দম বন্ধ হয়ে আসছিল, প্রচণ্ড কাশি হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আগুনের তীব্রতার কাছে তাঁকে ফিরে আসতে হয়। এর কিছুক্ষণ পর নূরিন জানতে পারেন, ভেতরে থাকা বাকি ১৪ নবজাতক মারা গেছে। খবরটি শুনে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। যে শিশুটিকে তিনি আগুন থেকে বের করে এনেছিলেন, সে-ই ছিল ওই নার্সারির একমাত্র জীবিত শিশু। সরকারি তদন্তে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই নার্সারির পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেই সময়ের মধ্যেই নূরিন মাত্র আট সেকেন্ডের জন্য আগুনের মধ্যে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তাঁর এই সাহসিকতার জন্য পাকিস্তানজুড়ে প্রশংসা শুরু হয়। সরকার তাঁকে দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা ‘সিতারা-ই-খিদমত’ বা ‘স্টার অব সার্ভিস’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাঁকে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হবে। কিন্তু নূরিন নিজেকে কোনো বীর মনে করেন না। তাঁর কাছে তিনি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। “কোনো মা কি তার সন্তানকে আগুনে পুড়তে দেখতে পারে?” বলেন নূরিন। এরপর নিজেই উত্তর দেন, “না। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের জন্য কোনো উপকার করেন না। এটা তাঁদের দায়িত্ব।” নূরিন একজন খ্রিস্টান। পাকিস্তানের ছোট একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য তিনি। কিন্তু তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় ধর্মের কোনো ভেদাভেদ দেখা যায়নি। বিভিন্ন ধর্মের মানুষই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন। তবে এত প্রশংসার পরও নূরিনের মনে শান্তি নেই। কারণ তিনি বারবার ফিরে যাচ্ছেন সেই ১৪ শিশুর কথায়, যাদের তিনি বাঁচাতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না তিনি। নার্সারির কাছে গেলেই আগুনের সেই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কখনো কখনো তাঁর মনে হয়, এখনো যেন শিশুদের কান্না শুনতে পাচ্ছেন। তখন নিজেকে আর সামলাতে পারেন না। “ওই শিশুদের মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে। স্বাভাবিক হতে আমার হয়তো কয়েক বছর লেগে যাবে,” বলেন তিনি। আগুনের ঘটনায় শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নূরিন। তিনি জানান, তাঁর জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠেছিল। তারপরও তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, কারণ ওই শিশুদের কথা মানুষকে জানাতে চেয়েছেন। “ওই শিশুরা আমাকে ঘুমাতে দেয় না,” বলেন তিনি। নূরিনের ভাষায়, নবজাতকরা যখন হাসপাতালে আসে, তখন তাদের মায়েরা কিছু সময়ের জন্য সন্তানদের নার্সদের হাতে তুলে দেন। সেই সময় নার্সরাই শিশুদের খাওয়ান, ওষুধ দেন এবং সারাক্ষণ তাদের দেখাশোনা করেন। তাই ধীরে ধীরে একজন নার্সের কাছেও শিশুরা নিজের সন্তানের মতো হয়ে যায়। সেই কারণেই আগুন লাগার মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় পাননি নূরিন। “আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমাকে আমার কাজ করতে হবে। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন,” বলেন তিনি। “আমি একজন মায়ের মতো আচরণ করেছি। নিজের জীবনের কথা আমি ভাবিনি।” প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাকিস্তানের মানুষ তাঁকে সম্মান জানানোয় কৃতজ্ঞ নূরিন। কিন্তু তাঁর কাছে এই কাজ কোনো পুরস্কার পাওয়ার জন্য ছিল না। “আমি কোনো পুরস্কার বা অর্থের জন্য এটা করিনি,” বলেন তিনি। জ্বলন্ত নার্সারিতে ঢোকার সময় তিনি জানতেন না, সেখান থেকে জীবিত বের হতে পারবেন কি না। তবুও তিনি ঢুকেছিলেন। কারণ তখন তাঁর কাছে একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল—শিশুদের বাঁচানো। “আমার সামনে তখন একটাই লক্ষ্য ছিল—এখন জীবন বাঁচানোর সময়। আমি সব শিশুকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এক সেকেন্ডের জন্যও নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবিনি।” মাত্র আট সেকেন্ডের সেই সাহসী সিদ্ধান্তে একটি নবজাতকের জীবন বেঁচে গেছে। আর সেই শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে রাজিয়া নূরিন নিজের জীবনও বাজি রেখেছিলেন। আজ পাকিস্তান তাঁকে হিরো বলছে। কিন্তু তাঁর কাছে তিনি শুধু একজন নার্স—যিনি সেই মুহূর্তে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন মায়ের মতো হয়ে উঠেছিলেন।
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস সাসেক্স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের মাতৃ ও নবজাতক সেবায় শিশুমৃত্যু ও ক্ষতির অভিযোগ নিয়ে বড় পরিসরে স্বাধীন তদন্ত শুরু হচ্ছে। তদন্তে ২০১৮ সাল থেকে এক হাজারের বেশি পরিবার ও ঘটনার তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ ধাত্রী ও তদন্তকারী ডোনা ওকেন্ডেন। এই তদন্তের পেছনে রয়েছে কয়েক বছর ধরে চলা শোকাহত পরিবারগুলোর অভিযোগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় উঠে আসে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মারা যাওয়া অন্তত ৫৫ শিশুর ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা পেলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট ২২৭টি মাতৃমৃত্যু-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করেছিল। এর পরই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত তদন্তের দাবি জোরালো হয়। যুক্তরাজ্য সরকার মে মাসে নিশ্চিত করে, তদন্তটি ২০১৮ সাল থেকে মাতৃ ও নবজাতক সেবার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উদ্বেগও এতে বিবেচনায় নেওয়া হবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী দল আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শোকাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করবে। তদন্তের কাঠামো নির্ধারণে পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে জবাবের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাতৃসেবা নিরাপদ করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। চারটি মাতৃসেবা ইউনিটে ৪০ জন অতিরিক্ত ধাত্রী নিয়োগ, পরিকল্পিত সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য থিয়েটার সুবিধা বাড়ানো এবং জরুরি টেলিফোন ট্রায়াজ সেবা চালুর কথা জানিয়েছে তারা। হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাদের প্রতি এক হাজার জন্মে প্রসবকালীন ও নবজাতক মৃত্যুর হার ২ দশমিক ১৯, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। তবে পশ্চিম সাসেক্সের দুটি মাতৃসেবা ইউনিটকে গত মাসে আবারও ‘উন্নতি প্রয়োজন’ হিসেবে রেটিং দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সরকারি তদন্তের লক্ষ্য শুধু অতীতের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করা নয়, বরং মাতৃ ও নবজাতক সেবায় কোথায় কাঠামোগত সমস্যা ছিল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যায়, সেটিও নির্ধারণ করা। তদন্তের আওতায় এক হাজারের বেশি ঘটনা আসায় এটিকে সাসেক্সের মাতৃসেবা নিয়ে অন্যতম বড় স্বাধীন পর্যালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মরক্কোর জাহরা আবুতালিবের ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে লিথোপেডিয়নের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। ১৯৫৫ সালে গর্ভাবস্থার শেষ দিকে প্রসববেদনা শুরু হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের কথা শুনে এবং সেখানে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা দেখে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী সময়ে প্রসববেদনা থেমে যায়, কিন্তু গর্ভের ভ্রূণ আর জন্ম নেয়নি। প্রায় ৪৬ বছর পর, ২০০১ সালে বৃদ্ধ বয়সে জাহরার তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। পরীক্ষায় প্রথমে পেটের ভেতরের শক্ত অংশটিকে টিউমার বলে ধারণা করা হলেও স্ক্যানের পর চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, সেখানে কয়েক দশক ধরে একটি মৃত ও ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে যাওয়া ভ্রূণ রয়েছে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’। শব্দটির অর্থ ‘পাথরের শিশু’। সাধারণত এটি পেটের ভেতরে হওয়া এক ধরনের একটোপিক বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে। ভ্রূণটি মারা যাওয়ার পর শরীর সেটিকে শোষণ করতে না পারলে সময়ের সঙ্গে তার চারপাশে ক্যালসিয়াম জমে শক্ত আবরণ তৈরি হতে পারে। লিথোপেডিয়ন অত্যন্ত বিরল একটি চিকিৎসাবস্থা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন ঘটনা সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড, এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি বহু বছর পর্যন্ত শরীরে অবস্থান করলেও উপসর্গ স্পষ্ট না হওয়ায় পরে অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে। জাহরার ঘটনাটি পরে চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন লেখায় আলোচিত হয় এবং লিথোপেডিয়নের সবচেয়ে পরিচিত নথিবদ্ধ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক গর্ভধারণের দীর্ঘস্থায়ী রূপ হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এটি মূলত বিরল ও জটিল একটোপিক গর্ভধারণের পরিণতি।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে মাত্র চার দিনের নবজাতক মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন রুবিন সুইফট। মেয়ের হেফাজত পাওয়ার পর তাকে নিয়ে ক্লিভল্যান্ডে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, সাত দিনের কম বয়সী শিশু বিমানে ভ্রমণ করতে পারে না। ফলে হাসপাতালের ভ্রমণ উপযোগী ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দর থেকে তাকে ও তার মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। হঠাৎ করেই ফিনিক্সে নবজাতক মেয়েকে নিয়ে আটকে যান সুইফট। হোটেলে থাকার বা গাড়ি ভাড়া করার মতো পর্যাপ্ত অর্থও তার হাতে ছিল না। কী করবেন বুঝতে না পেরে তার মনে পড়ে হাসপাতালে পরিচিত হওয়া ৭৮ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবী জয় রিংহোফারের কথা। রিংহোফার ব্যানার ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের এনআইসিইউতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন। সুইফটের মেয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। বিপদের কথা জানিয়ে ফোন করতেই রিংহোফার তাকে সাহায্যের আশ্বাস দেন। তিনি নিজেই বিমানবন্দরে গিয়ে সুইফট ও তার নবজাতক মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তী কয়েক দিন নিজের বাড়িতেই বাবা-মেয়েকে থাকার ব্যবস্থা করেন তিনি। শিশুটির বয়স সাত দিন না হওয়া পর্যন্ত তাদের খাবার, থাকার জায়গা ও প্রয়োজনীয় যত্ন দেন। রিংহোফার পরে জানান, সুইফটকে সাহায্য করার তীব্র তাগিদ তিনি অনুভব করেছিলেন। সুইফটের কাছেও ঘটনাটি হয়ে ওঠে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। তাদের বয়স ও বর্ণের পার্থক্য কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়নি বলেও তিনি জানান। বরং রিংহোফারের আন্তরিকতায় তিনি তাকে নিজের মেয়ের ‘দাদি’ হিসেবেই ভাবতে শুরু করেন। সাত দিন বয়স পূর্ণ হওয়ার পর সুইফট ও তার মেয়ে আবার ফ্লাইটে করে ক্লিভল্যান্ডে ফিরতে পারেন। ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্স তাদের নতুন ফ্লাইটে পুনরায় বুক করে এবং এ জন্য পরিবর্তন ফি নেয়নি। বিমানযাত্রার একটি নিয়মের কারণে শুরু হওয়া এই বিপদ শেষ পর্যন্ত রক্তের সম্পর্কের বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক স্মরণীয় গল্প হয়ে ওঠে। অপরিচিত একজন বাবা ও তার নবজাতক মেয়ের জন্য নিজের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন একজন বৃদ্ধা, আর সেই মানবিকতা তাদের জীবনে তৈরি করেছিল এক অপ্রত্যাশিত পারিবারিক বন্ধন।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি প্রধান সরকারি হাসপাতালের নার্সারিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই নার্সারিতে অন্তত ১৫ জন নবজাতক ছিল, যাদের মধ্যে কেবল একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। উদ্ধারকর্মী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে গাইনোকোলজি ওয়ার্ডের নার্সারির ভেতরে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসার বিস্ফোরিত হয়ে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধারকারী দল সেখানে শীতলীকরণ বা কুলিং প্রক্রিয়া শুরু করে। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সম্পর্কে হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স নরীন খান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ওয়ার্ডের ভেতরের দৃশ্য সহ্য করার মতো নয়। পৃথিবীতে মাত্র এক বা দুদিন আগে চোখ মেলা ১৪টি শিশু এভাবে মারা গেল।" এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা পাকিস্তানে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী একে 'অপূরণীয় ক্ষতি' আখ্যা দিয়ে ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এবং নবজাতক ওয়ার্ডগুলোতে কার্যকর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ, আগুন ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং হাসপাতালের জরুরি প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইসলামাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটি বহুমুখী তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছেন, যাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে, নিষ্পাপ সন্তানদের হারিয়ে হাসপাতাল চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। সন্তানহারা মোহাম্মদ সামি নামের এক মা জানান, মাত্র তিন দিন আগে জন্ম নেওয়া তার শিশুটিকে ওই নার্সারিতে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, "আমি কী বলব বা কাকে দোষ দেব জানি না, আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি।" আমির আব্বাসি নামের আরেক ব্যক্তি তার সদ্যোজাত ভাতিজাকে হারানোর শোক প্রকাশ করে বলেন, "গতকালই আমি তার নরম মুখ ও হাত ছুঁয়েছিলাম, আর আজ সে শুধুই ছাই।" পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত তদারকি করতে করাচি থেকে ইসলামাবাদে যাচ্ছেন। হাসপাতালের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিশুদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সাইরাংয়ে ছয় বছর বয়সী ডেরেক সি. লালছানহিমার মানবিকতার একটি ঘটনা ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। দুর্ঘটনাবশত প্রতিবেশীর একটি মুরগির ছানাকে সাইকেলের নিচে চাপা দেওয়ার পর সেটিকে বাঁচাতে নিজের কাছে থাকা সব টাকা, মাত্র ১০ রুপি, নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যায় শিশুটি। সাইকেল চালানোর সময় হঠাৎ মুরগির ছানাটির ওপর দিয়ে চলে যায় ডেরেকের সাইকেল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আহত ছানাটিকে কোলে তুলে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসে সে। এরপর বাবা ধীরাজ ছেত্রীর কাছে ছানাটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। ছেলের এমন অনুরোধে অবাক হলেও বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দেননি ধীরাজ। বরং তিনি বলেন, ছানাটিকে হাসপাতালে নেওয়া এতটাই জরুরি মনে হলে ডেরেক নিজেই যেন সেটিকে নিয়ে যায়। বাবার কথা শুনে এক মুহূর্তও দেরি করেনি ডেরেক। নিজের কাছে থাকা একমাত্র ১০ রুপির নোটটি হাতে নেয়। এক হাতে আহত মুরগির ছানা এবং অন্য হাতে নিজের সব সঞ্চয় নিয়ে ছুটে যায় কাছের হাসপাতালে। হাসপাতালে গিয়ে ছানাটিকে বাঁচানোর জন্য সাহায্য চায় শিশুটি। তবে ততক্ষণে মুরগির ছানাটি মারা গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা সেটিকে আর বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালের কর্মীরা ডেরেককে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। হাসপাতালে মুরগির ছানা ও ১০ রুপির নোট হাতে উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ডেরেকের একটি ছবি তোলা হয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি শেয়ার করে সাঙ্গা সেজ নামের এক ব্যক্তি জানান, দুর্ঘটনার পর নিজের সব টাকা নিয়ে ছানাটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল শিশুটি। ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ডেরেকের এই সরলতা ও প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে সাঙ্গা সেজ ডেরেকের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। হাসপাতাল থেকে ফিরে ডেরেক কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার মনে হয়েছিল, হাসপাতালের লোকজন ছানাটিকে চিকিৎসা না দিয়ে শুধু তার ছবি তুলেছে। পরে সে নাকি বাবাকে জানিয়েছিল, পরেরবার ১০ রুপির বদলে ১০০ রুপি নিয়ে হাসপাতালে যাবে, যাতে চিকিৎসকেরা অবশ্যই ছানাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ডেরেকের স্কুলও তার সহমর্মিতার স্বীকৃতি দেয়। তাকে প্রশংসাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মিজো শাল পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। ডেরেকের মানবিকতার বিষয়টি পরে প্রাণীকল্যাণ সংগঠন পেটা ইন্ডিয়ার নজরেও আসে। ২০১৯ সালে সংগঠনটি তাকে ‘সহমর্মী শিশু পুরস্কার’ দেয়। একটি দুর্ঘটনার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে আহত প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া ডেরেকের এই ঘটনা শিশুদের সহজাত মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
কাতারে আটক থাকা ইরানি পাইলটদের শারীরিক অবস্থা চরম সংকটাপন্ন বলে দাবি করেছে তেহরান। অবিলম্বে তাদের সমুদ্র থেকে সরিয়ে স্থলভাগের কোনো উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের জোর দাবি জানিয়েছে ইরান। শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তি অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাইলটদের বর্তমান অবস্থানটি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয় উল্লেখ করে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, অসুস্থ ও আহত এই বন্দিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে কাতারে একটি 'এয়ার অ্যাম্বুলেন্স' পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাঘেরজাদেহ। তবে এই পাইলটদের আটকের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু অস্পষ্টতা ও মতবিরোধ রয়েছে। গত সপ্তাহেই দোহা তাদের হেফাজতে কোনো জীবিত ইরানি পাইলট থাকার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছিল। কাতারের দাবি ছিল, বছরের শুরুতে আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাইলটদের দিক থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এমনকি নিহত এক পাইলটের মরদেহ হস্তান্তর এবং উদ্ধার অভিযানের তথ্য পর্যালোচনার জন্য তেহরানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সে সময় ইরানের দিক থেকে কোনো দৃশ্যমান সাড়া পায়নি দোহা। এদিকে, সম্প্রতি পাইলট ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানি প্রতিনিধি দলকে কাতার সফরের প্রস্তাব উন্মুক্ত রেখেছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দোহার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ইরানি কর্মকর্তা বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বিমান বাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ ও তথ্যানুসন্ধানকারী দল কয়েক মাস ধরে কাতারে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু কাতারি কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তদন্ত কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সমঝোতার ওপরই নির্ভর করছে আটকে পড়া এই পাইলটদের ভাগ্য ও পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ভবিষ্যৎ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে একটি হাসপাতালে অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর এক নারী কোমর থেকে নিচের অংশে প্যারালাইজড হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে অ্যাসেনশন সেন্ট থমাস হসপিটাল মিডটাউনে। তবে ঠিক কী কারণে তার শারীরিক অবস্থার এমন পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো চূড়ান্ত মেডিকেল সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএন নিউজ ২-কে ওই নারীর পুত্রবধূ জানিয়েছেন, তার শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অপারেশনের সময় তাকে পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে বদলে যায় বলে পরিবারের দাবি। এরপর থেকে তিনি কোমরের নিচের অংশ নড়াচড়া করতে পারছেন না। পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার বিষয়টি। তবে রোগীকে কী পরিমাণ পটাশিয়াম দেওয়া হয়েছিল, কেন দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিই তার প্যারালাইসিসের সরাসরি কারণ কি না, তা নিশ্চিত করার মতো পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। পটাশিয়াম মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলেক্ট্রোলাইট। এটি স্নায়ু, পেশি ও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা খুব কম বা খুব বেশি হলে গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে হাসপাতালে পটাশিয়াম দেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা, রক্ত পরীক্ষার ফল এবং প্রয়োজনীয় ডোজ বিবেচনা করা হয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে পটাশিয়াম দেওয়ার পর জটিলতা দেখা দিলেই সেটিকে সরাসরি কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। অপারেশনের সময় ব্যবহৃত অ্যানেসথেশিয়া, রোগীর আগে থেকে থাকা শারীরিক সমস্যা, স্নায়ু বা মেরুদণ্ডের জটিলতা এবং অন্যান্য চিকিৎসাগত কারণও বিবেচনায় নিতে হয়। এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ছাড়া প্যারালাইসিসের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। অ্যাসেনশন সেন্ট থমাস হসপিটাল মিডটাউন ন্যাশভিলের একটি বড় হাসপাতাল। সেখানে ইমার্জেন্সি কেয়ার, সার্জারি, নিউরোলজি, অর্থোপেডিকস, হার্ট ও ভাসকুলার কেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। হাসপাতালটির সার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার সুবিধাও রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন, অপারেশনের সময় রোগীর চিকিৎসায় ঠিক কী ঘটেছিল এবং তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সেই চিকিৎসার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে মেডিকেল রেকর্ড, চিকিৎসকদের মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। পরিবারটি এখন ওই নারীর চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তারা অপারেশনের সময় কী ঘটেছিল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছে। চিকিৎসাজনিত ত্রুটির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে না আসায় ঘটনাটিকে এই পর্যায়ে পরিবারের অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ওয়েলসের একটি হাসপাতালের ছাদে কালো পোশাক পরে ‘গ্রিম রিপার’ বা মৃত্যুর প্রতীকসদৃশ চরিত্রের বেশে উঠে রোগী ও হাসপাতাল কর্মীদের আতঙ্কিত করার ঘটনায় এক যুবককে জরিমানা করেছে আদালত। অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী লিওন গিলেস্পি দাবি করেছেন, তিনি আসলে ‘গ্রিম রিপার’ নন, কাকের পোশাক পরে ছিলেন। তবে তার কর্মকাণ্ডে হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে ঘটনাস্থলে যেতে হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের জুনে, উত্তর ওয়েলসের ইয়সবিটি গ্লান ক্লুইড হাসপাতালের ছাদে। কালো আলখাল্লা পরে এবং হাতে কাস্তের মতো দেখতে একটি লম্বা বস্তু নিয়ে গিলেস্পি প্রায় ৫০ মিনিট ধরে হাসপাতালের ছাদে অবস্থান করেন। নিচে থাকা রোগী, স্বজন এবং কর্মীদের দিকে তাকিয়ে থাকায় অনেকেই ভয় পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তিনি এনএইচএস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অযৌক্তিকভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার অভিযোগ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ২০০ পাউন্ড জরিমানা করে। একই শুনানিতে আগের দুটি দোকান থেকে চুরির মামলার জরিমানাও যুক্ত হওয়ায় তাকে মোট প্রায় ৪৫০ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনার পর হাসপাতাল পরিচালনাকারী বেটসি ক্যাডওয়ালাডার ইউনিভার্সিটি হেলথ বোর্ড পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভয়ভীতি সৃষ্টি, আগ্রাসী আচরণ বা জনদুর্ভোগের ব্যাপারে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসা নেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আদালতের রায়ের মাধ্যমে সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। আহত আরেকজনকে দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় তারা দোকানের ভেতর ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানা যায়। ক্লিপ এন ক্লিকস বিস্তারিত আসছে
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সালমোনেলা সংক্রমণের একটি বহুরাজ্যব্যাপী প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১৭টি অঙ্গরাজ্যে ৯৮ জন অসুস্থ হয়েছেন। এ ঘটনায় ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে টেক্সাসে উৎপাদিত প্রত্যাহারকৃত ডিমের যোগসূত্র পাওয়ার পর তদন্ত চালাচ্ছে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র । তদন্তে দেখা গেছে, টেক্সাসের দুটি খামারে উৎপাদিত সাদা ও বাদামি খোলার ডিমে সালমোনেলা এন্টারিটিডিস ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এসব ডিম ৬ জুন থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয় এবং পরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি হয়। পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিডওয়েস্ট পোলট্রি সার্ভিসেস স্বেচ্ছায় বিপুল পরিমাণ ডিম বাজার থেকে প্রত্যাহার করেছে। এফডিএ জানিয়েছে, প্রত্যাহার করা ডিমগুলো টেক্সাস, ওকলাহোমা, লুইজিয়ানা, আরকানসাস, নিউ মেক্সিকো ও মিসিসিপির বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা ও খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছিল। ভোক্তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, এসব ডিম ফ্রিজে থাকলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং ফেলে দিতে অথবা কেনা প্রতিষ্ঠানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নিতে। একই সঙ্গে যেসব পাত্র বা স্থান এসব ডিমের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত দূষিত খাবার খাওয়ার ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সালমোনেলা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর, পেটব্যথা, বমি ও বমিভাব অন্যতম। অধিকাংশ মানুষ কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠলেও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এফডিএ জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকে অসুস্থ হওয়ার আগে ডিম খাওয়ার তথ্য দিয়েছেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রত্যাহার করা ডিম এই প্রাদুর্ভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও সব সংক্রমণের জন্য একই উৎস দায়ী কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের হরিয়ানার পানিপথে ভাঙা পায়ের হাড়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানোর পর এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহত গুড্ডি দেবী সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ের হাড় ভেঙে গত ২৪ জুলাই পানিপথের একটি বেসরকারি পার্ক হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, তাকে অর্থোপেডিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলেও পরদিন চিকিৎসকেরা তাদের জানান যে তার হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয়েছে। গুড্ডি দেবীর ছেলে কুলদীপ অভিযোগ করেন, স্টেন্ট বসানোর আগে পরিবারের কোনো সদস্যের সম্মতি নেওয়া হয়নি। এমনকি সম্মতিপত্রে পরিবারের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসকদের অবহেলা, প্রতারণা এবং অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের কারণেই গুড্ডি দেবীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করেন স্বজনরা। ঘটনার পর পানিপথের সেক্টর ২৯ থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, পার্ক হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বপ্না তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি জানিয়েছেন, পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কোনো বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
জন্মের প্রায় ৩৮ বছর পর একটি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন, তারা আসলে ভুল পরিবারের কাছে বড় হয়েছেন। অবিশ্বাস্য এই সত্য সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই ব্যক্তি ও তাদের পরিবার। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভুলের কারণে তারা এমন একটি জীবন হারিয়েছেন, যা প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রাপ্য ছিল। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসন নামে দুই ব্যক্তি গত সপ্তাহে নর্থ ডাকোটার অঙ্গরাজ্য আদালতে ইউনিটি মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, ১৯৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি নর্থ ডাকোটার গ্রাফটন শহরের ওই হাসপাতালেই তাদের জন্ম হয় এবং কোনো এক পর্যায়ে দুই নবজাতককে ভুল পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। সে দিন ওই হাসপাতালে জন্ম নেওয়া একমাত্র দুই নবজাতক ছিলেন তারা। অবিশ্বাস্য এই ঘটনার সূত্রপাত হয় একেবারে কাকতালীয়ভাবে। কাইল বাইলিন একটি পারিবারিক ক্রিসমাস উপহার বিনিময় অনুষ্ঠানে বাড়িতে বসে করা যায় এমন একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পান। কৌতূহলবশত পরীক্ষা করার পর একটি বংশতালিকা-ভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার সঙ্গে এক নারীর জৈবিক আত্মীয়তার মিল পাওয়া যায়। পরে ওই নারীর ভাতিজা জেরেমি মরিসনও ডিএনএ পরীক্ষা করান। ফলাফলে নিশ্চিত হয়, জন্মের সময় দুই শিশুকে ভুল পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বাইলিন বলেন, "ফলাফল দেখার পর আমি সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে যাই। কখনো কল্পনাও করিনি যে জন্মের সময় সত্যিই আমাদের অদলবদল করা হয়েছিল।" অন্যদিকে, মরিসন জানান, বাইলিনের ভাইয়ের ছবি দেখেই তার সন্দেহ হয়েছিল। তার ভাষায়, ছবিতে নিজের সঙ্গে আশ্চর্যজনক মিল দেখে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারেননি। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাইলিনের কাছে এখনো হাসপাতালের সেই নবজাতকের পরিচয়-বন্ধনী (হাসপাতালের ব্রেসলেট) সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে ভুল করে তাকে "কাইল বাইলিন" হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। অথচ জৈবিকভাবে তিনি আসলে জেরেমি মরিসন ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে কোনো এক সময় দুই নবজাতকের অদলবদল হয়েছিল। তবে তাদের দাবি, হাসপাতালের কর্মীরা এ ঘটনার জন্য দায়ী ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। হাসপাতাল এক বিবৃতিতে জানায়, প্রায় চার দশক পেরিয়ে যাওয়ায় সে সময়ের চিকিৎসা নথি ও কর্মীদের রেকর্ড আর সংরক্ষিত নেই। এছাড়া ওই সময় প্রসূতি বিভাগে কর্মরত কেউ বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত নন। ফলে কীভাবে এই ভুল ঘটেছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কাইলকে লালন-পালন করা ইভলিন নিউটন বলেন, "কাইল এখনো আমার ছেলে, এটা কখনো বদলাবে না। কিন্তু আমার জৈবিক সন্তানের সঙ্গে কাটানোর যে জীবন ছিল, তা আমি হারিয়েছি। প্রথম হাঁটা, গাড়ি চালানো শেখা, বিয়ে—এসব মুহূর্ত আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।" জেরেমি মরিসনও জানান, এই সত্য জানার পরও যেসব বাবা-মা তাকে বড় করেছেন, তাদের প্রতিই তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আগের মতোই রয়েছে। তিনি বলেন, "একটি ডিএনএ পরীক্ষা আমার ৩৮ বছরের স্মৃতি মুছে দিতে পারে না।" বর্তমানে মরিসন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানে ওয়েল্ডিং পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে বাইলিন একাডেমিক পেশায় যুক্ত। দুজনই এখন তাদের জৈবিক বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। যদিও তারা স্বীকার করেছেন, সম্পর্ক গড়ে তোলার এই যাত্রা আবেগঘন এবং কিছুটা অস্বস্তিকরও। তবে একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। মামলায় দুই পরিবার মানসিক ক্ষতি, অবহেলা এবং চিকিৎসাগত গাফিলতির অভিযোগে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তাদের আইনজীবী টিম ও'কিফ জানান, মামলা করার আগে প্রায় এক বছর হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ইলেকট্রনিক পরিচয় যাচাই, বারকোডযুক্ত পরিচয়-বন্ধনী এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার কারণে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সেন্টার ফর বায়োএথিক্সের শিক্ষক ও শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. জনাথন ম্যারনের ভাষায়, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এমন ভুল "প্রায় কখনোই হওয়ার কথা নয়"।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী ব্রুক ওয়েস্ট গুরুতর স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছয় দিন কোমায় থাকার কারণে তিনি নিজের স্কুলের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেননি। তবে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় সুস্থ হয়ে এবার সেই হাসপাতালেই ফিরে গিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে ব্রুক ওয়েস্টকে কোরওয়েল হেলথ বোমন্ট ট্রয় হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (ADEM) নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত করেন। এ রোগে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে হঠাৎ করে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং রোগীর চলাফেরা, স্মৃতিশক্তি ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুক জানান, গত ৮ মে স্কুলের সিনিয়র প্রম অনুষ্ঠানের আগে তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল। কয়েক দিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ওয়াকার ব্যবহার করে প্রম অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না, চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা দেখা দেয় এবং আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। ব্রুকের মা বনি ওয়েস্ট জানান, আইসিইউতে চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য স্পাইনাল ট্যাপ, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ব্রুক খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা দিতে হয়। ব্রুকের বাবা জেসন ওয়েস্ট বলেন, শুরুতে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন না ঠিক কী রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। এতে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে ছিল। ছয় দিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তিনি অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিসে আক্রান্ত। এরপর তার পাঁচ দিন ধরে প্লাজমা এক্সচেঞ্জ থেরাপি করা হয়, যা তার অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ব্রুক নিজের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা তার জন্য বিশেষ আয়োজন করেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের একটি করিডোরজুড়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান চিকিৎসাকর্মীরা। পরে তার স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট হাসপাতালে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে স্নাতক সনদ তুলে দেন। ব্রুক বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ছোট একটি অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু হাসপাতালের সবাই যেভাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, সেটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ। যদিও এখনও শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে ফিজিক্যাল ও অকুপেশনাল থেরাপি নিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়েছে। আগামী শরৎ মৌসুমে তিনি গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন। ব্রুক বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার কোরওয়েল হাসপাতালে ফিরে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে করতালি, হাসি আর আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বাগত জানান। হাসপাতালের নার্স ক্যাথি হামামেহ বলেন, ব্রুক তার সবচেয়ে স্মরণীয় রোগীদের একজন। একজন মা হিসেবে তিনি ব্রুকের মায়ের উদ্বেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পেরেছিলেন। তাই ব্রুকের সুস্থ হয়ে ওঠা তাকে ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ রোগীর পরবর্তী জীবনের খবর তারা জানতে পারেন না। কিন্তু ব্রুকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তার সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো যাত্রা কাছ থেকে দেখতে পেরেছেন, যা একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় র্যাটলস্নেকের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া তিন সন্তানের এক বাবাকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও একটি হাসপাতালের অ্যান্টিভেনম মজুত শেষ হয়ে যায়। পরে তাকে হেলিকপ্টারে স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে ভিন্ন ধরনের অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের মাধ্যমে তার অবস্থার উন্নতি হয়। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডাহোর বাসিন্দা ক্রিস্টোফার হাওয়ার্থ গত মে মাসে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার লেক অরোভিল এলাকায় বাবা-মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একদিন বাড়ির পেছনের আঙিনায় একটি লিক হওয়া পাইপ পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি অন্ধকারে একটি গাছ ভেবে ভুল করে র্যাটলস্নেকের ওপর পা দেন। সাপটি তাকে দুইবার কামড় দেয়। হাওয়ার্থ জানান, একটি কামড় তুলনামূলক হালকা ছিল, তবে অন্যটি সরাসরি শিরায় লাগে। তার স্ত্রী জেনি হাওয়ার্থ দ্রুত তাকে অরোভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার জিহ্বা অবশ হয়ে যেতে শুরু করে, লিম্ফ নোড ফুলে যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ শুরু করেন। কিন্তু চিকিৎসার তৃতীয় দিনে তার শরীরে বিরল ধরনের রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা দেখা দেয়, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে তার উরু মারাত্মকভাবে ফুলে যায়। চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর জন্য মোট ৫৪ ভায়াল অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করেন। তবে পঞ্চম দিনের মাথায় অরোভিল হাসপাতালের অ্যান্টিভেনমের মজুত শেষ হয়ে যায়। হাওয়ার্থ জানান, একপর্যায়ে তিনি ভেবেছিলেন আর হয়তো বাঁচবেন না। সেই আশঙ্কায় তিনি নিজের সন্তানদের উদ্দেশে বিদায়ী চিঠিও লিখেছিলেন, যাতে তাদের কাছে বাবার শেষ বার্তাটি পৌঁছে যায়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভিন্ন ধরনের অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। মোট ১২ দিন নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসার পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান এবং বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে আইডাহোতে ফিরে গিয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন। পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসাজনিত কারণে হাওয়ার্থ দীর্ঘদিন ধরে কাজে ফিরতে পারেননি এবং কবে ফিরতে পারবেন, সেটিও নিশ্চিত নয়। এ কারণে চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবারের খরচ মেটাতে তারা একটি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। র্যাটলস্নেকের কামড় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে বিরল হলেও গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কামড়ের পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ রোগীর জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যালিফোর্নিয়া, ৮ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের সময় হাসপাতালের কক্ষ থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। ঘটনাটি তদন্ত করছে সান দিয়েগো পুলিশ বিভাগ। ভুক্তভোগী সাহারা মোরকুয়েচো স্টেজ-৪ প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে আক্রান্ত। সম্প্রতি ইউসি সান দিয়েগো হেলথের হিলক্রেস্ট মেডিকেল সেন্টারে তার অস্ত্রোপচার চলাকালে হাসপাতালের কক্ষ থেকে পার্স, মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র, নগদ অর্থ, গয়না, এয়ারপডস এবং তার প্রয়াত বাবার কিছু স্মৃতিবিজড়িত ছবি চুরি হয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ। সাহারার বোন কালিনা মোরকুয়েচো স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, অস্ত্রোপচার শেষে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও শুরুতে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘটনা প্রতিবেদন করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। পরিবারের দাবি, পরে সাহারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে সক্ষম হলে ‘ফাইন্ড মাই’ অ্যাপের মাধ্যমে তার হারিয়ে যাওয়া এয়ারপডসের অবস্থান সান দিয়েগো কাউন্টির লেমন গ্রোভ এলাকার একটি বাড়িতে শনাক্ত হয়। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সান দিয়েগো পুলিশ বিভাগ। পরিবার আরও জানায়, অনুসন্ধানের সময় তারা জানতে পারেন, যে ঠিকানায় এয়ারপডসের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে সেখানে বসবাসকারী একজন ব্যক্তি ইউসি সান দিয়েগো হেলথের কর্মী। তবে পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। ইউসি সান দিয়েগো হেলথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোগী ও তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পদের সুরক্ষাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তবে গোপনীয়তা আইন এবং চলমান তদন্তের কারণে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। সান দিয়েগো পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, হারিয়ে যাওয়া অর্থ বা গয়নার চেয়েও তাদের কাছে বেশি মূল্যবান ছিল সাহারার প্রয়াত বাবার স্মৃতিবিজড়িত ছবিগুলো। সেগুলো উদ্ধার হওয়াই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
তুরস্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসার সময় হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে এলা কোকাচোগুর নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একসঙ্গে আটটি দাঁতের ফিলিং করার জন্য তাকে সাধারণ অজ্ঞান (জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া) দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এরই মধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুরদুর শহরের বাসিন্দা এলা গত ৩ জুলাই দাঁতের চিকিৎসার জন্য পাশের ইসপার্তা শহরের দাভরাজ প্রাইভেট ইয়াশাম হাসপাতাল যান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির দাঁতে একাধিক ক্ষয় (ক্যাভিটি) ছিল। তার বয়স কম হওয়া এবং দাঁতের চিকিৎসা নিয়ে ভীত থাকার কারণে আলাদা আলাদা সময়ে চিকিৎসা না করে একবারেই আটটি ফিলিং সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য তাকে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা চলাকালেই এলা হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুনরুজ্জীবিত (রিসাসিটেশন) করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর শোকাহত পরিবার স্থানীয় প্রসিকিউটরের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে অজ্ঞান করার আগে প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তাদের আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, চিকিৎসার আগে অ্যালার্জি পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল কি না। এছাড়া অ্যানেস্থেশিয়ার মাত্রা সঠিক ছিল কি না এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একজন যোগ্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এলার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ইতোমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবেন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসার সময় সব ধরনের চিকিৎসা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি একটি অপ্রত্যাশিত জটিলতা ছিল। অন্যদিকে ইসপার্তা চেম্বার অব ডেন্টিস্টস-এর সভাপতি নাইম শেনইউর্ত বলেন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তে যদি কোনো অবহেলা বা পেশাগত ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলার মৃত্যু তুরস্কে শিশুদের ক্ষেত্রে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ ও জটিল দাঁতের চিকিৎসার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এ ধরনের জটিল চিকিৎসা শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালেই করা উচিত, যেখানে জরুরি শিশু চিকিৎসা দল সব সময় প্রস্তুত থাকে। এলা ছিলেন মেহমেত ইয়িলদিজলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি জিমন্যাস্টিকস ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। দুই ভাইবোনের সঙ্গে স্থানীয় একটি ক্রীড়া ক্লাবে নিয়মিত অনুশীলন করতেন এবং অল্প বয়সেই কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে এক চরম গাফিলতি ও অলৌকিক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। মার্সি গিলবার্ট মেডিকেল সেন্টারের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার কর্তৃক মৃত ঘোষণার সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর ১৮ মাস বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালের মর্গ বা 'কোল্ড রুম' থেকে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই চিকিৎসকের চরম ঔদ্ধত্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় ধরনের ত্রুটি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং বডি ক্যামেরা ফুটেজ থেকে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুপার বোল রোববারে নিজেদের বাড়ির সুইমিং পুলে ডুবে যাওয়ার পর ওই শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালে আনার পর আরিয়ান টুসি নামের এক অস্টিওপ্যাথিক চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তবে এক নার্স যখন জানান যে তিনি শিশুটির শরীরে পালস বা স্পন্দন পাচ্ছেন, তখন কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মকর্তা ডাক্তারকে সতর্ক করতে যান। কিন্তু ওই ডাক্তার অহংকার করে বলেন, "মেডিকেল ডিগ্রি আমার আছে, আমিই ডাক্তার এবং আমিই ভালো বুঝি।" এরপর ডাক্তার শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে মর্গে পাঠিয়ে দিলেও সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা বারবার শিশুটির শরীর থেকে বাতাস বের হওয়া এবং শ্বাস নেওয়ার শব্দ শুনতে পান। এর প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫২ মিনিটে ময়নাতদন্তের জন্য যখন শিশুটির দেহ নিতে আসা হয়, তখন দেখা যায় মগের ভেতরে শিশুটি রীতিমতো শ্বাস নিচ্ছে! সঙ্গে সঙ্গে তাকে হেলিকপ্টারে করে ফিনিক্স চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না পেয়ে মর্গে পড়ে থাকায় শিশুটির মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি (ব্রেন ড্যামেজ) হয়েছে এবং তাকে আজীবন বিশেষ চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই ঘটনা ফাঁসের পর মার্সি গিলবার্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তের আশ্বাস দিলেও অভিযুক্ত চিকিৎসকের বর্তমান চাকরি বা অবস্থান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে মারিকোপা কাউন্টির অ্যাটর্নি কার্যালয় আইনি পর্যালোচনার কাজ চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।