জন্মের প্রায় ৩৮ বছর পর একটি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন, তারা আসলে ভুল পরিবারের কাছে বড় হয়েছেন। অবিশ্বাস্য এই সত্য সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই ব্যক্তি ও তাদের পরিবার। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভুলের কারণে তারা এমন একটি জীবন হারিয়েছেন, যা প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রাপ্য ছিল। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসন নামে দুই ব্যক্তি গত সপ্তাহে নর্থ ডাকোটার অঙ্গরাজ্য আদালতে ইউনিটি মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, ১৯৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি নর্থ ডাকোটার গ্রাফটন শহরের ওই হাসপাতালেই তাদের জন্ম হয় এবং কোনো এক পর্যায়ে দুই নবজাতককে ভুল পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। সে দিন ওই হাসপাতালে জন্ম নেওয়া একমাত্র দুই নবজাতক ছিলেন তারা। অবিশ্বাস্য এই ঘটনার সূত্রপাত হয় একেবারে কাকতালীয়ভাবে। কাইল বাইলিন একটি পারিবারিক ক্রিসমাস উপহার বিনিময় অনুষ্ঠানে বাড়িতে বসে করা যায় এমন একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পান। কৌতূহলবশত পরীক্ষা করার পর একটি বংশতালিকা-ভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার সঙ্গে এক নারীর জৈবিক আত্মীয়তার মিল পাওয়া যায়। পরে ওই নারীর ভাতিজা জেরেমি মরিসনও ডিএনএ পরীক্ষা করান। ফলাফলে নিশ্চিত হয়, জন্মের সময় দুই শিশুকে ভুল পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বাইলিন বলেন, "ফলাফল দেখার পর আমি সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে যাই। কখনো কল্পনাও করিনি যে জন্মের সময় সত্যিই আমাদের অদলবদল করা হয়েছিল।" অন্যদিকে, মরিসন জানান, বাইলিনের ভাইয়ের ছবি দেখেই তার সন্দেহ হয়েছিল। তার ভাষায়, ছবিতে নিজের সঙ্গে আশ্চর্যজনক মিল দেখে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারেননি। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাইলিনের কাছে এখনো হাসপাতালের সেই নবজাতকের পরিচয়-বন্ধনী (হাসপাতালের ব্রেসলেট) সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে ভুল করে তাকে "কাইল বাইলিন" হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। অথচ জৈবিকভাবে তিনি আসলে জেরেমি মরিসন ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে কোনো এক সময় দুই নবজাতকের অদলবদল হয়েছিল। তবে তাদের দাবি, হাসপাতালের কর্মীরা এ ঘটনার জন্য দায়ী ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। হাসপাতাল এক বিবৃতিতে জানায়, প্রায় চার দশক পেরিয়ে যাওয়ায় সে সময়ের চিকিৎসা নথি ও কর্মীদের রেকর্ড আর সংরক্ষিত নেই। এছাড়া ওই সময় প্রসূতি বিভাগে কর্মরত কেউ বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত নন। ফলে কীভাবে এই ভুল ঘটেছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কাইলকে লালন-পালন করা ইভলিন নিউটন বলেন, "কাইল এখনো আমার ছেলে, এটা কখনো বদলাবে না। কিন্তু আমার জৈবিক সন্তানের সঙ্গে কাটানোর যে জীবন ছিল, তা আমি হারিয়েছি। প্রথম হাঁটা, গাড়ি চালানো শেখা, বিয়ে—এসব মুহূর্ত আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।" জেরেমি মরিসনও জানান, এই সত্য জানার পরও যেসব বাবা-মা তাকে বড় করেছেন, তাদের প্রতিই তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আগের মতোই রয়েছে। তিনি বলেন, "একটি ডিএনএ পরীক্ষা আমার ৩৮ বছরের স্মৃতি মুছে দিতে পারে না।" বর্তমানে মরিসন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানে ওয়েল্ডিং পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে বাইলিন একাডেমিক পেশায় যুক্ত। দুজনই এখন তাদের জৈবিক বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। যদিও তারা স্বীকার করেছেন, সম্পর্ক গড়ে তোলার এই যাত্রা আবেগঘন এবং কিছুটা অস্বস্তিকরও। তবে একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। মামলায় দুই পরিবার মানসিক ক্ষতি, অবহেলা এবং চিকিৎসাগত গাফিলতির অভিযোগে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তাদের আইনজীবী টিম ও'কিফ জানান, মামলা করার আগে প্রায় এক বছর হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ইলেকট্রনিক পরিচয় যাচাই, বারকোডযুক্ত পরিচয়-বন্ধনী এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার কারণে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সেন্টার ফর বায়োএথিক্সের শিক্ষক ও শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. জনাথন ম্যারনের ভাষায়, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এমন ভুল "প্রায় কখনোই হওয়ার কথা নয়"।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী ব্রুক ওয়েস্ট গুরুতর স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছয় দিন কোমায় থাকার কারণে তিনি নিজের স্কুলের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেননি। তবে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় সুস্থ হয়ে এবার সেই হাসপাতালেই ফিরে গিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে ব্রুক ওয়েস্টকে কোরওয়েল হেলথ বোমন্ট ট্রয় হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (ADEM) নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত করেন। এ রোগে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে হঠাৎ করে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং রোগীর চলাফেরা, স্মৃতিশক্তি ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুক জানান, গত ৮ মে স্কুলের সিনিয়র প্রম অনুষ্ঠানের আগে তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল। কয়েক দিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ওয়াকার ব্যবহার করে প্রম অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না, চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা দেখা দেয় এবং আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। ব্রুকের মা বনি ওয়েস্ট জানান, আইসিইউতে চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য স্পাইনাল ট্যাপ, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ব্রুক খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা দিতে হয়। ব্রুকের বাবা জেসন ওয়েস্ট বলেন, শুরুতে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন না ঠিক কী রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। এতে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে ছিল। ছয় দিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তিনি অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিসে আক্রান্ত। এরপর তার পাঁচ দিন ধরে প্লাজমা এক্সচেঞ্জ থেরাপি করা হয়, যা তার অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ব্রুক নিজের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা তার জন্য বিশেষ আয়োজন করেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের একটি করিডোরজুড়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান চিকিৎসাকর্মীরা। পরে তার স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট হাসপাতালে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে স্নাতক সনদ তুলে দেন। ব্রুক বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ছোট একটি অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু হাসপাতালের সবাই যেভাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, সেটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ। যদিও এখনও শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে ফিজিক্যাল ও অকুপেশনাল থেরাপি নিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়েছে। আগামী শরৎ মৌসুমে তিনি গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন। ব্রুক বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার কোরওয়েল হাসপাতালে ফিরে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে করতালি, হাসি আর আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বাগত জানান। হাসপাতালের নার্স ক্যাথি হামামেহ বলেন, ব্রুক তার সবচেয়ে স্মরণীয় রোগীদের একজন। একজন মা হিসেবে তিনি ব্রুকের মায়ের উদ্বেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পেরেছিলেন। তাই ব্রুকের সুস্থ হয়ে ওঠা তাকে ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ রোগীর পরবর্তী জীবনের খবর তারা জানতে পারেন না। কিন্তু ব্রুকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তার সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো যাত্রা কাছ থেকে দেখতে পেরেছেন, যা একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় র্যাটলস্নেকের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া তিন সন্তানের এক বাবাকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও একটি হাসপাতালের অ্যান্টিভেনম মজুত শেষ হয়ে যায়। পরে তাকে হেলিকপ্টারে স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে ভিন্ন ধরনের অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের মাধ্যমে তার অবস্থার উন্নতি হয়। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডাহোর বাসিন্দা ক্রিস্টোফার হাওয়ার্থ গত মে মাসে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার লেক অরোভিল এলাকায় বাবা-মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একদিন বাড়ির পেছনের আঙিনায় একটি লিক হওয়া পাইপ পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি অন্ধকারে একটি গাছ ভেবে ভুল করে র্যাটলস্নেকের ওপর পা দেন। সাপটি তাকে দুইবার কামড় দেয়। হাওয়ার্থ জানান, একটি কামড় তুলনামূলক হালকা ছিল, তবে অন্যটি সরাসরি শিরায় লাগে। তার স্ত্রী জেনি হাওয়ার্থ দ্রুত তাকে অরোভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার জিহ্বা অবশ হয়ে যেতে শুরু করে, লিম্ফ নোড ফুলে যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ শুরু করেন। কিন্তু চিকিৎসার তৃতীয় দিনে তার শরীরে বিরল ধরনের রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা দেখা দেয়, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে তার উরু মারাত্মকভাবে ফুলে যায়। চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর জন্য মোট ৫৪ ভায়াল অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করেন। তবে পঞ্চম দিনের মাথায় অরোভিল হাসপাতালের অ্যান্টিভেনমের মজুত শেষ হয়ে যায়। হাওয়ার্থ জানান, একপর্যায়ে তিনি ভেবেছিলেন আর হয়তো বাঁচবেন না। সেই আশঙ্কায় তিনি নিজের সন্তানদের উদ্দেশে বিদায়ী চিঠিও লিখেছিলেন, যাতে তাদের কাছে বাবার শেষ বার্তাটি পৌঁছে যায়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভিন্ন ধরনের অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। মোট ১২ দিন নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসার পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান এবং বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে আইডাহোতে ফিরে গিয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন। পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসাজনিত কারণে হাওয়ার্থ দীর্ঘদিন ধরে কাজে ফিরতে পারেননি এবং কবে ফিরতে পারবেন, সেটিও নিশ্চিত নয়। এ কারণে চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবারের খরচ মেটাতে তারা একটি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। র্যাটলস্নেকের কামড় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে বিরল হলেও গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কামড়ের পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ রোগীর জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যালিফোর্নিয়া, ৮ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের সময় হাসপাতালের কক্ষ থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। ঘটনাটি তদন্ত করছে সান দিয়েগো পুলিশ বিভাগ। ভুক্তভোগী সাহারা মোরকুয়েচো স্টেজ-৪ প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে আক্রান্ত। সম্প্রতি ইউসি সান দিয়েগো হেলথের হিলক্রেস্ট মেডিকেল সেন্টারে তার অস্ত্রোপচার চলাকালে হাসপাতালের কক্ষ থেকে পার্স, মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র, নগদ অর্থ, গয়না, এয়ারপডস এবং তার প্রয়াত বাবার কিছু স্মৃতিবিজড়িত ছবি চুরি হয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ। সাহারার বোন কালিনা মোরকুয়েচো স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, অস্ত্রোপচার শেষে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও শুরুতে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘটনা প্রতিবেদন করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। পরিবারের দাবি, পরে সাহারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে সক্ষম হলে ‘ফাইন্ড মাই’ অ্যাপের মাধ্যমে তার হারিয়ে যাওয়া এয়ারপডসের অবস্থান সান দিয়েগো কাউন্টির লেমন গ্রোভ এলাকার একটি বাড়িতে শনাক্ত হয়। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সান দিয়েগো পুলিশ বিভাগ। পরিবার আরও জানায়, অনুসন্ধানের সময় তারা জানতে পারেন, যে ঠিকানায় এয়ারপডসের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে সেখানে বসবাসকারী একজন ব্যক্তি ইউসি সান দিয়েগো হেলথের কর্মী। তবে পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। ইউসি সান দিয়েগো হেলথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোগী ও তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পদের সুরক্ষাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তবে গোপনীয়তা আইন এবং চলমান তদন্তের কারণে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। সান দিয়েগো পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, হারিয়ে যাওয়া অর্থ বা গয়নার চেয়েও তাদের কাছে বেশি মূল্যবান ছিল সাহারার প্রয়াত বাবার স্মৃতিবিজড়িত ছবিগুলো। সেগুলো উদ্ধার হওয়াই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
তুরস্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসার সময় হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে এলা কোকাচোগুর নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একসঙ্গে আটটি দাঁতের ফিলিং করার জন্য তাকে সাধারণ অজ্ঞান (জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া) দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এরই মধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুরদুর শহরের বাসিন্দা এলা গত ৩ জুলাই দাঁতের চিকিৎসার জন্য পাশের ইসপার্তা শহরের দাভরাজ প্রাইভেট ইয়াশাম হাসপাতাল যান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির দাঁতে একাধিক ক্ষয় (ক্যাভিটি) ছিল। তার বয়স কম হওয়া এবং দাঁতের চিকিৎসা নিয়ে ভীত থাকার কারণে আলাদা আলাদা সময়ে চিকিৎসা না করে একবারেই আটটি ফিলিং সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য তাকে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা চলাকালেই এলা হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুনরুজ্জীবিত (রিসাসিটেশন) করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর শোকাহত পরিবার স্থানীয় প্রসিকিউটরের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে অজ্ঞান করার আগে প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তাদের আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, চিকিৎসার আগে অ্যালার্জি পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল কি না। এছাড়া অ্যানেস্থেশিয়ার মাত্রা সঠিক ছিল কি না এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একজন যোগ্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এলার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ইতোমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবেন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসার সময় সব ধরনের চিকিৎসা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি একটি অপ্রত্যাশিত জটিলতা ছিল। অন্যদিকে ইসপার্তা চেম্বার অব ডেন্টিস্টস-এর সভাপতি নাইম শেনইউর্ত বলেন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তে যদি কোনো অবহেলা বা পেশাগত ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলার মৃত্যু তুরস্কে শিশুদের ক্ষেত্রে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ ও জটিল দাঁতের চিকিৎসার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এ ধরনের জটিল চিকিৎসা শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালেই করা উচিত, যেখানে জরুরি শিশু চিকিৎসা দল সব সময় প্রস্তুত থাকে। এলা ছিলেন মেহমেত ইয়িলদিজলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি জিমন্যাস্টিকস ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। দুই ভাইবোনের সঙ্গে স্থানীয় একটি ক্রীড়া ক্লাবে নিয়মিত অনুশীলন করতেন এবং অল্প বয়সেই কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে এক চরম গাফিলতি ও অলৌকিক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। মার্সি গিলবার্ট মেডিকেল সেন্টারের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার কর্তৃক মৃত ঘোষণার সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর ১৮ মাস বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালের মর্গ বা 'কোল্ড রুম' থেকে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই চিকিৎসকের চরম ঔদ্ধত্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় ধরনের ত্রুটি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং বডি ক্যামেরা ফুটেজ থেকে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুপার বোল রোববারে নিজেদের বাড়ির সুইমিং পুলে ডুবে যাওয়ার পর ওই শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালে আনার পর আরিয়ান টুসি নামের এক অস্টিওপ্যাথিক চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তবে এক নার্স যখন জানান যে তিনি শিশুটির শরীরে পালস বা স্পন্দন পাচ্ছেন, তখন কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মকর্তা ডাক্তারকে সতর্ক করতে যান। কিন্তু ওই ডাক্তার অহংকার করে বলেন, "মেডিকেল ডিগ্রি আমার আছে, আমিই ডাক্তার এবং আমিই ভালো বুঝি।" এরপর ডাক্তার শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে মর্গে পাঠিয়ে দিলেও সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা বারবার শিশুটির শরীর থেকে বাতাস বের হওয়া এবং শ্বাস নেওয়ার শব্দ শুনতে পান। এর প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫২ মিনিটে ময়নাতদন্তের জন্য যখন শিশুটির দেহ নিতে আসা হয়, তখন দেখা যায় মগের ভেতরে শিশুটি রীতিমতো শ্বাস নিচ্ছে! সঙ্গে সঙ্গে তাকে হেলিকপ্টারে করে ফিনিক্স চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না পেয়ে মর্গে পড়ে থাকায় শিশুটির মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি (ব্রেন ড্যামেজ) হয়েছে এবং তাকে আজীবন বিশেষ চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই ঘটনা ফাঁসের পর মার্সি গিলবার্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তের আশ্বাস দিলেও অভিযুক্ত চিকিৎসকের বর্তমান চাকরি বা অবস্থান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে মারিকোপা কাউন্টির অ্যাটর্নি কার্যালয় আইনি পর্যালোচনার কাজ চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটন শহরের মায়ামি ভ্যালি হাসপাতালের প্রসব ও মাতৃসেবা বিভাগে একসঙ্গে ১৭ জন নার্স অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। একই ইউনিটে এতসংখ্যক নার্সের একসঙ্গে সন্তানসম্ভবা হওয়ার ঘটনা হাসপাতালটির ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, হাসপাতালটির প্রসব ও মাতৃসেবা বিভাগের (Labor and Delivery Unit) ১৭ জন নার্স চলতি বছর সন্তান জন্ম দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এর আগে একই বিভাগে একসঙ্গে ১১ জন কর্মী অন্তঃসত্ত্বা হওয়াই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা। হাসপাতালের নার্স ম্যানেজার অ্যাম্বারলি স্যানার বলেন, প্রথমে কয়েকজনের গর্ভধারণের খবর জানা যায়। এরপর একে একে আরও সহকর্মীর সুখবর আসতে থাকে। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, একই বিভাগে ১৭ জন নার্সই সন্তানসম্ভবা। সম্প্রতি তাদের মধ্যে ১৫ জন হাসপাতালের একই ইউনিফর্ম পরে একসঙ্গে একটি দলীয় ছবি তোলেন। ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অন্তঃসত্ত্বা নার্সদের মধ্যে কেউ প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় আছেন, আবার কেউ দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন। তাদের মধ্যে ম্যাডি ও রাইলি নামে দুই নার্সের বন্ধুত্বের গল্পও আলোচনায় এসেছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে তারা কেবল প্রথম নাম প্রকাশ করেছেন। ম্যাডি বর্তমানে গর্ভধারণের ২৬তম সপ্তাহে রয়েছেন এবং এটি তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। অন্যদিকে রাইলি ৩১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনিও দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায়। দুজনই গত পাঁচ বছর ধরে একই হাসপাতালে কর্মরত। রাইলি জানান, ম্যাডি তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই নিজের সন্তানের জন্মের সময় প্রসবকক্ষে ম্যাডিকেই পাশে চান তিনি। রাইলির ভাষায়, "আমার সন্তানের জন্মের সময় ম্যাডির চেয়ে বেশি বিশ্বাস করি এমন আর কাউকে আমি ভাবতে পারি না। এখানকার সহকর্মীদের ওপর আমাদের যে আস্থা, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।" একসঙ্গে এতজন নার্স মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলে হাসপাতালের সেবায় কোনো সমস্যা হবে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে। এ বিষয়ে অ্যাম্বারলি স্যানার বলেন, হাসপাতালে প্রায় ২০০ জন নার্স ও সহায়ক কর্মী রয়েছেন। অনেক খণ্ডকালীন নার্স এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার মতো কর্মী থাকায় জনবল সংকটের আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, "আমাদের পর্যাপ্ত বিকল্প কর্মী রয়েছে। তাই রোগীদের সেবায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে বলে আমরা মনে করছি না।" অন্তঃসত্ত্বা নার্সরা জানান, তারা নিয়মিত নিজেদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও মাতৃত্বকালীন নানা বিষয় একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন। অনেকেই আশা করছেন, ভবিষ্যতে তাদের সন্তানরাও একসঙ্গে বড় হবে এবং বন্ধু হিসেবে বেড়ে উঠবে। রাইলি বলেন, "আমরা সবাই একসঙ্গে এই সময়টা পার করতে পেরে খুব আনন্দিত। এটি পরিকল্পিত ছিল না, কিন্তু ঘটনাক্রমে এমন হয়েছে। আমরা নিজেদের সত্যিই সৌভাগ্যবান মনে করছি।" নার্স ম্যানেজার স্যানারের মতে, এই বিভাগের সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। একে অপরের প্রতি আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশই তাদের বিশেষভাবে আলাদা করে তুলেছে। তিনি বলেন, "তারা একে অপরকে খুব বিশ্বাস করেন। এমনকি অনেকেই চান, নিজের সন্তানের জন্মের সময় সহকর্মী নার্সরাই পাশে থাকুন। এই পারস্পরিক বিশ্বাস ও বন্ধন সত্যিই অসাধারণ।"
ভারতের রাজধানী শহর দিল্লিতে অভাবী ও অসচ্ছল দম্পতিদের সদ্যজাত শিশুদের চড়া দামে বিক্রি করার একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ও অমানবিক ‘শিশু বাজার’ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। মাত্র চার থেকে পাঁচ দিন বয়সী নবজাতকদের দরিদ্র পরিবার থেকে নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করে সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করত এই চক্রটি। মধ্য দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকায় এক নারীর সন্দেহজনক চলাফেরা এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর ছদ্মবেশে এক মহিলা পুলিশ কর্মকর্তার সাঁড়াশি অভিযানে এই বহুল আলোচিত শিশু পাচারকারী সিন্ডিকেটের পর্দা ফাঁস হয়। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দিল্লিতে রীতিমতো একটি নির্দিষ্ট মূল্যের শিশু বাজার গড়ে তুলেছিল। বাজারে একটি কন্যাসন্তান বা মেয়ে শিশু বিক্রি হতো তিন থেকে চার লাখ টাকায় এবং একটি পুত্রসন্তান বা ছেলে শিশু বিক্রি হতো ছয় থেকে আট লাখ টাকায়। তবে চক্রটি এই শিশুদের রাজস্থান ও গুজরাটের চরম দরিদ্র দম্পতিদের কাছ থেকে মাত্র এক থেকে দুই লাখ টাকায় কিনে আনত বা চুরি করত। পরবর্তীতে মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানার বিত্তশালী কিন্তু সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে এগুলো চড়া দামে হস্তান্তর করা হতো। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পশ্চিম দিল্লির রোহিনীর বেগমপুরে অবস্থিত ‘হিরার মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’ ছিল এই পুরো পাচার চক্রের মূল নার্ভ সেন্টার বা প্রধান আস্তানা। ওই হাসপাতালের মালিক ডা. বিবেকী ছিলেন এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি। পাচারকারীরা শিশুদের সংগ্রহ করে ডা. বিবেকীর হাসপাতালেই লুকিয়ে রাখত। ডা. বিবেকী নিজেই ক্রেতা ও পাচারকারীদের মধ্যে মধ্যস্থতা করতেন এবং তার হাসপাতালে জন্ম সনদ, ডেলিভারি ডকুমেন্টসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সরকারি নথিপত্র জালিয়াতি করে তৈরি করা হতো, যাতে মনে হয় শিশুরা ওই হাসপাতালেই জন্মেছে। চক্রটির প্রতারণার কৌশল এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তারা একবার পুত্রসন্তান প্রত্যাশী এক দম্পতির কাছে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে শিশুকে সম্পূর্ণ ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ‘যমজ শিশু’ সাজিয়ে মোট নয় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়। অথচ উদ্ধার হওয়া ওই শিশু দুটি ভিন্ন ভিন্ন রাজ্য থেকে পাচার করে আনা হয়েছিল। গত এক বছরে এই সিন্ডিকেটটি অন্তত ৩০টি নবজাতক পাচার করেছে বলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশ থেকে অবৈধভাবে শিশু কেনা বেশ কয়েকজন দম্পতিকেও গ্রেফতার করেছে। দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং জানিয়েছেন, এই বহুমাত্রিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মূল পরিকল্পনাকারী কমলেশ, প্রতিভা, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রকৃত বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে। যদি কোনো পরিবার স্বেচ্ছায় বা টাকার লোভে নিজের সন্তানকে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিয়ে থাকে, তবে সেই বাবা-মাকেও এই মানবপাচার আইনের মামলায় কঠোরভাবে অভিযুক্ত করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। টানা দুই সপ্তাহের এই বিশেষ নিরবচ্ছিন্ন অভিযানে পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি নবজাতক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যাদের সবার বয়সই এক মাসেরও কম। উদ্ধার হওয়া এই ভাগ্যাহত শিশুদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি’ (সিডব্লিউসি)-র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুরা সিডব্লিউসি-র বিশেষ পালনা কেন্দ্রে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। এই চক্রটি ভাঙার পেছনে সাব-ইন্সপেক্টর প্রগতি, যামিনী এবং হেড কনস্টেবল সুষমা নামের তিনজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা ছদ্মবেশে অত্যন্ত সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সূত্র: এনডিটিভি
দেশের জেলা পর্যায়ে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাসেবা জোরদার করতে আরও ১০টি জেলা সদর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করা হচ্ছে। জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত এসব ইউনিটের কার্যক্রম রোববার (১৪ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এসব আইসিইউ চালু হলে সংশ্লিষ্ট জেলার জটিল ও সংকটাপন্ন রোগীরা নিজ নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী কিংবা বড় শহরে যাওয়ার চাপ অনেকাংশে কমবে। যেসব হাসপাতালে নতুন করে আইসিইউ চালু হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল, মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল এবং বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি আইসিইউ ইউনিটে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের জন্য বিশেষ ভেন্টিলেটর (পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর), অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরসহ প্রয়োজনীয় লাইফ-সাপোর্ট যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি ইউনিটগুলো পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জেলা পর্যায়ে এ ধরনের আধুনিক সংকটাপন্ন চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের ফলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য মহামারি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে। স্বাস্থ্য খাতের এই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে মহামারিসহ বিভিন্ন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাস মহামারির অভিজ্ঞতার পর দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আইসিইউ সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জেলা পর্যায়ে এ উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাঁর কাছে ঘুরেছে, তবে তিনি কোনো প্রভাব বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করেননি। শনিবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমত ও মানুষের দোয়ার কারণে তিনি টাকার প্রতি কোনো লোভ করেননি এবং প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ সমর্থন নিয়েই লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন, যা দেশের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। তাঁর ভাষায়, এই ধরনের একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরবে। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু মহল হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তকে অন্যভাবে উপস্থাপন করছে। তবে তিনি দাবি করেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর মতো ঘটনার পর কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া সম্ভব নয় এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দলমত নির্বিশেষে সবার সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং সরকারি সেবা গ্রহণে এখন আর ঘুষ দিতে হয় না বলে তিনি দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পাইলটিং স্কিমের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা প্রদানকারী দল ঘরে ঘরে গিয়ে রোগীদের অবস্থা মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে পাঠাবে। তিনি আরও জানান, চীনের সহযোগিতায় ৩ হাজার বেডের দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিশু ও নারীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের মধ্যে চারজনকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে তাদের ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিনসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় বিস্তারিতভাবে পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে নিজেদের যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ঘটনার পর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হানিফ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে, ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর যুবদলের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরদিন বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।