যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের জন্য সুখবর! এই ৭ শ্রেণির মানুষ পেতে পারেন এসএসআই সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকার। নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদায় থাকা বিদেশিরাও সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই সুবিধা পেতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস-এর নিয়ম অনুযায়ী ‘যোগ্য বিদেশি’ হিসেবে বিবেচিত হতে হবে।
এসএসআই হলো সীমিত আয় ও সম্পদ থাকা ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাত ধরনের অভিবাসন মর্যাদায় থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন।
প্রথমত, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, তারা এই তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট শ্রেণির আমেরেশিয়ান অভিবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়ত, ১৯৮০ সালের ১ এপ্রিলের আগে কার্যকর থাকা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় যারা শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন, তারাও যোগ্য হতে পারেন।
তৃতীয়ত, ওই আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী অন্তত এক বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি বা ‘প্যারোল’ পাওয়া বিদেশিরাও এসএসআই সুবিধার আওতায় পড়তে পারেন।
চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। পঞ্চমত, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম পাওয়া বিদেশিরাও এই তালিকায় রয়েছেন।
ষষ্ঠত, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা দেশত্যাগ স্থগিত করা হয়েছে, তারাও নির্দিষ্ট শর্তে এসএসআই সুবিধা পেতে পারেন।
সপ্তমত, আইনি সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘কিউবান বা হাইতিয়ান প্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিরা এবং এসএসআইয়ের ক্ষেত্রে একই মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিরাও এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন।
তবে তালিকায় থাকা কোনো একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেই এসএসআই পাওয়া নিশ্চিত নয়। বিদেশিদের ক্ষেত্রে আয়, সম্পদ এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে। একইভাবে, শুধু দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই কেউ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হয়ে যাবেন না।
এদিকে, বিদেশিদের সরকারি সুবিধা নেওয়া নিয়ে ডেনমার্কেও সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার। কাজ বা পড়াশোনার অনুমতিতে থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা নিলে তাদের বসবাস বা কাজের অনুমতি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যরাও দেশটিতে থাকার অধিকার হারাতে পারেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবাহামাসে অবকাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ফেরার পথে একটি ছোট বিমান সাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এক দম্পতি ও তাদের দুই নাতি-নাতনির খোঁজ মিলছে না। সোমবার দুর্ঘটনার পর তাদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। বাহামাসের রয়্যাল বাহামাস পুলিশ ফোর্স জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে আন্দ্রোস দ্বীপের প্রায় ১৩ মাইল পশ্চিমে একটি পাঁচ আসনের পিএ-৩৪ পাইপার বিমান সাগরে পড়ে যায়। বিমানটি বাহামাসের গ্রেট হারবার কে থেকে সকালে উড্ডয়ন করে ফ্লোরিডার ওপা-লকায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। নিখোঁজ চারজন হলেন ৮০ বছর বয়সী পাইলট মারিও লামার, তার ৭৯ বছর বয়সী স্ত্রী লিলি লামার এবং তাদের দুই নাতি-নাতনি—২৮ বছর বয়সী সোফিয়া সোসা ও ২২ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ান সোসা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা সবাই মিয়ামির বাসিন্দা। দুর্ঘটনার আগে পরিবারটি শ্রম দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে গ্রেট হারবার কে-তে নিজেদের বাড়িতে সময় কাটিয়েছিল। পরিবারটির ভাষ্য, বহু বছর ধরে ওই জায়গাটি তাদের কাছে দ্বিতীয় বাড়ির মতো। এবার সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির গতি হঠাৎ করে কয়েকবার পরিবর্তিত হয়। একই সময়ে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে এর উচ্চতা ১০ হাজার ফুট থেকে নেমে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ফুটে চলে আসে। এরপর বিমানটির সঙ্গে রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের সদস্য সিলভিয়া লারিয়ু জানান, আন্দ্রোস দ্বীপের উত্তর প্রান্তের কাছে বিমানটি খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাহামাসের উদ্ধারকারী দলও তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এক ভিডিও বার্তায় নিখোঁজদের সন্ধানে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন লারিয়ু। তিনি বলেন, তাদের খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রয়োজন। নিখোঁজদের সন্ধানে বাহামাসের কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। উদ্ধার অভিযানে তারা একটি এইচসি-১৪৪ ওশান সেন্ট্রি বিমান ব্যবহার করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাইলট মারিও লামার অত্যন্ত অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তার ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। এদিকে, সোফিয়া সোসা সম্প্রতি ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তার ভাই ক্রিশ্চিয়ান সোসাও সম্প্রতি লয়োলা মেরিমাউন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ চারজনের পরিবারের সদস্যরা তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের জন্য সুখবর! এই ৭ শ্রেণির মানুষ পেতে পারেন এসএসআই সুবিধা
শরীরজুড়ে ‘অস্বাভাবিক’ কালশিটে, পরীক্ষা করাতেই জানা গেল প্রাণঘাতী রোগ!
গ্রিন কার্ড বিক্রির অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আবেদনের অনুমোদন ও দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ইউএসসিআইএসের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার একটি দুর্নীতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিউ, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের সাবেক সিনিয়র ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস অফিসার। তাঁর সঙ্গে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকেই ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল আদালতে ৩১ আগস্ট দাখিল করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিউ তাঁর সরকারি পদ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতেন বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। এর মধ্যে ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য ইমিগ্রেশন আবেদন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন, গ্রিন কার্ডের শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন এবং নাগরিকত্বের আবেদন। এসব আবেদনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা ফেডারেল আইনের অধীনে যোগ্য ছিলেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গানিউ স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ পাশ কাটিয়ে আবেদন অনুমোদন করতেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, নির্ধারিত এখতিয়ার, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং ইউএসসিআইএসের নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাবি, গানিউ ও সোমোয়ে মিলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার অর্থ নিয়েছেন। তদন্তে তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে হাজার হাজার বার্তা এবং শত শত ফোনকলের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিছু অর্থপ্রদানের সঙ্গে নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদনের সরাসরি যোগসূত্রও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। গানিউয়ের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো সরকারি কর্মকর্তাকে অবৈধ অর্থ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি আসামির সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় এবং এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিস। ফেডারেল প্রসিকিউটর রায়ান রেবোল্ড বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তার হাতে বৈধ ইমিগ্রেশন সুবিধার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া জনগণের আস্থার গুরুতর অপব্যবহার। এ ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলো এখনো অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়। ফেডারেল বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ফৌজদারি অভিযোগপত্রে থাকা তথ্যগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
লিস্টেরিয়ার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ৮ অঙ্গরাজ্যে শুকরের মাংস প্রত্যাহার
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক আইসিই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার পথে নতুন বিল
ক্যালিফোর্নিয়ায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্রেন ডেড, লাইফ সাপোর্ট বন্ধ ২২ বছরের অন্তঃসত্ত্বা মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রে কম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বাসার সংকট তীব্র হলেও দেশের কিছু শহরে একই সময়ে শত শত এমন ইউনিট খালি পড়ে আছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, যাদের জন্য এসব বাসা তৈরি করা হয়েছে, তাদের অনেকের কাছেই নির্ধারিত ভাড়াও সামর্থ্যের বাইরে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে অস্টিন, টেক্সাসের ৪৯ বছর বয়সী ম্যাথিউ ডেভিসের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি একটি গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকেন এবং রক্তের প্লাজমা দান করে সামান্য আয় করেন। মাসে ৪৫০ ডলারের একটি ছোট বাসাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ অস্টিনে শহর কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি সাশ্রয়ী বাসা খালি পড়ে আছে, যা মোট সাশ্রয়ী ইউনিটের প্রায় ১৬ শতাংশ। এমন পরিস্থিতি শুধু অস্টিনেই নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কম আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী বাসার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। ন্যাশনাল লো-ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশনের হিসাবে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অত্যন্ত কম আয়ের ভাড়াটিয়া পরিবারের বিপরীতে সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসা রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় বাসার ঘাটতি প্রায় ৭০ লাখ। অত্যন্ত কম আয়ের পরিবার বলতে সাধারণত এমন পরিবারকে বোঝানো হয়, যাদের আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে অথবা নিজ এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে। এই শ্রেণির মানুষদের মধ্যে কম বেতনের কর্মী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী মানুষও রয়েছেন। তাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে বাড়িভাড়ার চাপ। গবেষণা অনুযায়ী, এই শ্রেণির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পরিবার তাদের আয়ের অর্ধেকেরও বেশি রেন্ট ও ইউটিলিটি বিল দিতে ব্যয় করে। ফলে খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য হাতে খুব কম অর্থ থাকে। সমস্যার একটি বড় দিক হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৈরি হওয়া অনেক ‘সাশ্রয়ী’ বাসা আসলে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষদের জন্য যথেষ্ট সাশ্রয়ী নয়। ২০২৪ সালে লো-ইনকাম হাউজিং ট্যাক্স ক্রেডিট কর্মসূচির আওতায় অর্থায়ন পাওয়া সাশ্রয়ী ইউনিটগুলোর মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ ছিল অত্যন্ত কম আয়ের পরিবারের জন্য নির্ধারিত। অন্যদিকে অধিকাংশ ইউনিট এমন পরিবারগুলোর জন্য, যাদের আয় এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ। ফলে কাগজে-কলমে এসব বাসা সাশ্রয়ী হলেও সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। অস্টিনের চিত্রটিও বিষয়টি স্পষ্ট করে। শহরটি ২০১৮ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার বাসা তৈরির লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৫৪৩টি। একই সময়ে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ আয় করা পরিবারের জন্য পরিকল্পিত প্রায় ১৫ হাজার ইউনিটই তৈরি হয়ে গেছে। এর ফলে একদিকে গৃহহীন মানুষ নিজের জন্য একটি বাসা খুঁজে পাচ্ছেন না, অন্যদিকে তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু ইউনিটও খালি পড়ে থাকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন বাসা নির্মাণ করলেই এই সংকটের সমাধান হবে না। কার জন্য কত ভাড়ায় বাসা প্রয়োজন, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাশ্রয়ী বাসার কর্মসূচি সাজানো জরুরি। ম্যাথিউ ডেভিসের মতো মানুষের কাছে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত শুধু একটি বাসার প্রশ্ন নয়। নিজের একটি দরজা বন্ধ করে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারার মতো একটি জায়গা পাওয়াই তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
নিউইয়র্কের নামের রহস্য কী? ২০০০ বছর আগের ইতিহাসে মিলবে উত্তর
কুইন্সে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় হঠাৎ এনওয়াইপিডি রিক্রুটের মৃত্যু