সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৮:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক এবং বর্তমানে সেখানে কর্মরত পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। সদ্য পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য নতুন অভিবাসন নীতির কারণে বহুল আলোচিত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রাম, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা মেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

 

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি (OPT) প্রোগ্রামেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই প্রকাশ হতে যাওয়া এই চূড়ান্ত নীতিমালায় এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্টের (EAD) স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের সুবিধাও বাতিল করা হবে।

 

নতুন এই নিয়মগুলো বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা। প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে বার্ষিক ৮৫ হাজার কোটার বাইরে যেসব বিশেষ ছাড় ছিল, সেগুলো সীমিত করা হতে পারে। পাশাপাশি থার্ড-পার্টি ক্লায়েন্টের কাছে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের আরও বেশি নথিপত্র দাখিলের শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে।

 

অন্যদিকে ইএডি (EAD) বা কাজের অনুমতির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর বাড়বে না। ফলে বর্তমান অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর নতুন অনুমোদন না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না, যা অভিবাসীদের আর্থিক ও পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

 

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আসছে বড় ধরনের ধাক্কা। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা বা প্রোগ্রাম শেষ হওয়া পর্যন্ত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। কিন্তু নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (সম্ভবত চার বছর) বেঁধে দেওয়া হতে পারে। এরপর সেখানে থাকতে চাইলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে।

 

এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা স্টেম (STEM) শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা দুই বছরের ওপিটি (OPT) মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধাতেও কাঁটছাঁট করার কথা ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মেধাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দিতে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউ জার্সির ৭৭ বছর বয়সী জেফরি মাস প্রতারণার শিকার হয়ে অবসরের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
পেপ্যালের পরিচয়ে ফোন প্রতারণার ফাঁদে ৭৭ বছরের বৃদ্ধ, হারালেন অবসরের ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ৭৭ বছর বয়সী জেফরি মাস প্রতারণার শিকার হয়ে অবসরের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। প্রতারকেরা প্রথমে পেপ্যালের পরিচয় দিয়ে তাকে ফোনে ফাঁদে ফেলে, পরে ভুল ব্যাংক লেনদেনের তথ্য দেখিয়ে সোনা কিনতে বাধ্য করে।   ২০২৪ সালের ৫ জুন মাসের কাছে নরটন অ্যান্টিভাইরাসের নামে একটি ই-মেইল আসে। সেখানে ৬৯১ ডলার ৫ সেন্টের একটি পেমেন্টের কথা জানানো হয়। তিনি এমন কোনো সেবা নেননি বুঝতে পেরে ই-মেইলে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন।   ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পেপ্যালের কর্মকর্তা ‘জেসন গ্রিন’ পরিচয় দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর মাধ্যমে প্রতারকেরা মাসের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরে প্রতারক মাসকে একটি জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখিয়ে দাবি করে, ভুল করে তার অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এই অর্থ ফেরত না দিলে আইআরএসের জরিমানা হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়।   এরপর আরেক প্রতারক তাকে সোনা কিনে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রতারকদের নির্দেশে মাস নিজের ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ডলার স্থানান্তর করে নিউ জার্সির একটি মূল্যবান ধাতু বিক্রেতার কাছে। সেখানে গিয়ে সোনা কিনে তা প্রতারকদের লোকজনের হাতে তুলে দেন।   পরদিন একই কৌশলে তাকে আবার জানানো হয়, তার অ্যাকাউন্টে আরও ১ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এবার তিনি ব্যাংক থেকে আরও ৯০ হাজার ডলার তুলে সোনা কেনেন।   পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে মাস পুলিশে অভিযোগ করেন। তদন্তে সোনা সংগ্রহ করতে আসা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ। জয়নেশ প্যাটেল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।   ঘটনার পর মাস তার ব্যাংকের কাছে লেনদেনগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।   এই প্রতারণার ঘটনায় মাসের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও গুরুতর প্রভাব পড়ে। প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে তিনি দুবার জ্ঞান হারান এবং দুইবারই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে সামাজিক উদ্বেগ ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলার সমস্যাতেও ভুগেছেন বলে জানান তিনি।   ঘটনাটি নিয়ে মাস ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে ব্যাংকের কর্মীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের লেনদেনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথেষ্ট প্রশ্ন না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার পক্ষ থেকে অভিযোগের দায় অস্বীকার করা হয়েছে।   অবসরের পর স্ত্রীকে নিয়ে ইউরোপ ভ্রমণ, নাতি-নাতনিদের জন্য অর্থ রাখা এবং সন্তানদের উত্তরাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল মাস দম্পতির। প্রতারণায় সেই সঞ্চয়ের প্রায় অর্ধেক হারানোর পর এখন অন্যদের সতর্ক করতে চান ৭৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৯:২৮
নিউইয়র্কে টিউশন-ফি ছাড়াই বিনামূল্যে পড়ার নতুন সুযোগ

নিউইয়র্কে টিউশন-ফি ছাড়াই বিনামূল্যে পড়ার নতুন সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাঋণ পরিশোধব্যবস্থা চালু

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভুগছেন নতুন জটিলতায়, ভুল তথ্যে বিপাকে ঋণগ্রহীতারা

মাধুর মেহতা ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

এইচ-১বি ভিসা পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ঘর-সংসার নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মাধুর

মেয়র জোহরান মামদানি
নিউইয়র্কে মেয়রের সরকারি মুদি দোকানে ৩০ শতাংশ কম দামে নিত্যপণ্য, পরিকল্পনা ব্যয় নিয়ে বিতর্ক

নিউইয়র্ক শহরে সরকারি উদ্যোগে পাঁচটি মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। এসব দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ডলার।    পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বরোতে একটি করে দোকান চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ইস্ট হারলেমের একটি দোকানের জন্য প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ অভিজ্ঞ মুদি ব্যবসায়ীদের বিনা ভাড়ায় জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে তারা দোকান পরিচালনা করতে পারেন।    মামদানির প্রশাসনের দাবি, খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ কমানো এবং যেসব এলাকায় তাজা ও পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা কম, সেসব এলাকার মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নিউইয়র্কের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সমস্যায় ভুগছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে উদ্যোগটি নিয়ে নিউইয়র্কের স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি সহায়তায় পরিচালিত দোকানগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করলে ছোট ব্যবসাগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই কম লাভে পরিচালিত অনেক দোকান এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে।   এ ছাড়া দোকানগুলোর কর্মীদের বেতন, পণ্যে ছাড়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি কীভাবে আর্থিকভাবে টেকসই হবে—এসব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি দোকানে কেনাকাটার জন্য পরিচয়পত্র লাগবে—এমন দাবি ছড়ালেও নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোকানে কেনাকাটার জন্য কোনো পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হবে না।   মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি দোকান ২০২৯ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে। তবে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর প্রভাব এবং প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কার্যকারিতা—এই দুই বিষয়ই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৫:২
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

গণিতের কৌশল ব্যবহার করে  লটারি জিতলেন চারবার

গণিতে পিএইচডি, গণিতের কৌশল ব্যবহার করে লটারি জিতলেন চারবার, পেলেন ২ কোটি ১০ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতির সময় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দোকান মালিককে গুলি করে হত্যা, পাশে ছিল মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় উপস্থিতি কয়েকটি স্টেটকে ঘিরে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশের বসবাস নিউইয়র্কে।   ১. নিউইয়র্ক বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র নিউইয়র্ক। প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার বাংলাদেশি সেখানে বসবাস করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ। নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশি ব্যবসা, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এই কমিউনিটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।   ২. মিশিগান প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে মিশিগানও বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় কেন্দ্র। বিশেষ করে ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন।   ৩. ক্যালিফোর্নিয়া প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসেসহ বিভিন্ন মহানগর এলাকায় শিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও পেশাজীবী খাতে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।   ৪. টেক্সাস প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি নিয়ে টেক্সাসও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাংলাদেশি কমিউনিটির স্টেটগুলোর একটি। হিউস্টন, ডালাস ও অস্টিনসহ বড় শহরগুলোতে বাংলাদেশিদের ব্যবসা, পেশাজীবী কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।   ৫. নিউ জার্সি প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি নিউ জার্সিতে বসবাস করেন। নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে স্টেটটি বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকের কিছু বেশি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বিভিন্ন স্টেটে ছড়িয়ে পড়ছে। নিউইয়র্ক এখনো সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও বাংলাদেশিদের শক্তিশালী ও স্থায়ী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।   তবে এখানে ব্যবহৃত জনসংখ্যার হিসাব শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ে নিজেদের উল্লেখ করা মানুষদের নিয়ে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এই হিসাবের মধ্যে যারা বাংলাদেশি পরিচয়ের পাশাপাশি অন্য কোনো জাতিগত বা এশীয় পরিচয়ও উল্লেখ করেছেন, তারা এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে থাকতে পারেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:১
ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী

ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী

১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি

১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি

বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা

বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা

0 Comments