ক্ষেপণাস্ত্র

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে আহত ৪৮২৯, গুরুতর ১২

ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এ পর্যন্ত ইসরাইলে মোট ৪ হাজার ৮২৯ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১১১ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং ১২ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।   মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে আলোচনা চলে, যা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।   এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরাইল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান চালায়। এই হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।   এদিকে ইরান নতুন করে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কোর জানায়, তারা ‘৭৭তম’ বারের মতো হামলা চালিয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তর, কেন্দ্র ও দক্ষিণ ইসরাইলে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে ‘সুপার-হেভি’ ও ‘পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট’ সিস্টেম, খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।   এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-দাফরা ঘাঁটি রয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটির ছবি। এতে হামলার পর গুদামঘরসহ অন্যান্য স্থাপনা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছেফাইল। ছবি: সিএনএনের ভিডিও থেকে নেওয়া
১৪৩ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৪২ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি বাহরাইনের

ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে বাহরাইন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪২টি ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে।   শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।   একই সঙ্গে দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, রকেট বা ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং সন্দেহজনক বস্তু থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক অভিযান বা হামলার স্থানের ভিডিও ধারণ না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের এই দাবি পরিস্থিতির গুরুত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ। ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: ৪ হাজার কিমি দূরের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি মাঝপথেই ভেঙে পড়ে এবং অন্যটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়।   দিয়েগো গার্সিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি, যা যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন। ইরান থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। অথচ এত দিন ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার বলে দাবি করে এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার চেষ্টা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ঘোষিত সীমার বাইরে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থাকতে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত যুদ্ধের পরিসর বিস্তারের বার্তাও বহন করছে।ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি বলেছে, এই হামলা ইরানের কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করতে পারে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা প্রতিহত করতে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই হামলার সামরিক ফলাফল যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হলো রাজনৈতিক বার্তা—ইরান দেখাতে চেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের দূরবর্তী ঘাঁটিগুলোও তাদের নাগালের বাইরে নয়।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে যুদ্ধের ভৌগোলিক বিস্তৃতি আরও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ক্ষাপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান।
ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে একযোগে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলার সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত দুই ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে এসেছে। এর ফলে দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও কুয়েতেও একাধিক বিস্ফোরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম দেখা গেছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচণ্ড শব্দগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সফল প্রতিরোধ অভিযান। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছেন, তারা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে।   সৌদি আরবও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বদিকের আকাশসীমায় অন্তত ছয়টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।   এই হামলাগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় পাল্টা আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের কঠোর প্রতিশোধের প্রতিফলন। ইরান দাবি করছে, তারা মার্কিন সম্পদ ও মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা পরিচালনা করেছে।   বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দেশগুলোতে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।   সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এবার নতুন করে উঠে এসেছে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা তুলসি গ্যাবার্ড বলেছেন, পাকিস্তান ভবিষ্যতে এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।   বুধবার সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পাশাপাশি পাকিস্তানও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এসব প্রযুক্তি পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডকেও নাগালের মধ্যে আনতে পারে।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। একই সঙ্গে বলা হয়, দেশটি ধীরে ধীরে এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে।   তবে এ মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘শাহিন-থ্রি’র পাল্লা প্রায় ২৭৫০ কিলোমিটার, যা মূলত আঞ্চলিক পরিসরে সীমাবদ্ধ। সাধারণভাবে আইসিবিএম বলতে ৫৫০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বোঝানো হয়, যা পাকিস্তানের কাছে এখনো নেই।   বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটারের বেশি হওয়ায় বর্তমানে সরাসরি আঘাত হানার সক্ষমতা দেশটির নেই। এই ধরনের প্রযুক্তি এখনো কেবল কয়েকটি দেশ—রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।   এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানও পরিষ্কার। দেশটির কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মূলত ভারতকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। সাবেক কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও মার্কিন মূল্যায়নকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন।   বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের মূল্যায়ন অনেক সময় সম্ভাব্য ঝুঁকির সর্বোচ্চ চিত্র তুলে ধরে। তবে এতে বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।   এই মূল্যায়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আবারও কূটনৈতিকভাবে উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও বাস্তব কৌশলগত অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাকিস্তানি নাগরিক নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় এর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, গত রাতে আবুধাবির আকাশে অনুপ্রবেশকারী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে সফলভাবে ধ্বংস করে আমিরাতের প্রতিরক্ষা বাহিনী।  তবে দুর্ভাগ্যবশত, ক্ষেপণাস্ত্রটির খণ্ডিত অংশ নিচে আছড়ে পড়লে সেখানে অবস্থানরত ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে হুমকিটি মোকাবিলা করেছে।  তবে জনবহুল এলাকায় এই ধ্বংসাবশেষ পতনের ফলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
একযোগে ৩০ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা গুঁড়িয়ে দিলো ইরান

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এয়ারোস্পেস বাহিনী ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ৩০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।  আইআরজিসির এয়ারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি এই অভিযানের বিস্তারিত নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিক্ষিপ্ত প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র এক থেকে দুই টন ওজনের ছিল এবং সেগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। জেনারেল মুসাভি দাবি করেছেন, এই বিশেষ অভিযানের ফলে দখলদার ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এয়ারোস্পেস ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই আক্রমণটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালানো এ যাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম ও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ।  এই অভিযানের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি শাসনের আকাশের আরও বিশাল একটি অংশ এখন ইরানের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর আওতায় চলে এসেছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন
পূর্ব সাগরে ১০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উত্তজনা চরমে পৌঁছেছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে পিয়ংইয়ংয়ের সুনান এলাকা থেকে ১০টিরও বেশি অজ্ঞাত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে ছোঁড়া হয়েছে।   জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে সমুদ্রে পতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পরপরই সিউল তার নজরদারি ও সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে সর্বোচ্চ যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।   সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ (Freedom Shield)-এর একটি কঠোর প্রতিক্রিয়া। গত ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই মহড়া আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। শুরু থেকেই পিয়ংইয়ং এই মহড়াকে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং একটি ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধের মহড়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে।   এর আগে উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো-জং এক কড়া বিবৃতিতে সতর্ক করেছিলেন যে, শত্রুপক্ষের বাহিনী যদি তাদের দেশের সার্বভৌম অঞ্চলের কাছাকাছি সামরিক উসকানি চালায়, তবে এর পরিণতি হবে ‘কল্পনাতীত ভয়াবহ’। আজকের এই গণ-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কিম ইয়ো-জং-এর সেই হুমকিরই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছর জানুয়ারিতেও একই ধরনের সামরিক তৎপরতা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং। তবে এবারের ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই বিশাল বহর নিক্ষেপ করার ঘটনাটি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
আকাশপথে বড় হামলার মুখে সৌদি আরব
আকাশপথে বড় হামলার মুখে সৌদি আরব: সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

সৌদি আরবের আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রিয়াদের কূটনৈতিক পাড়া লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা একটি ড্রোনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ১১টি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা অন্তত ২৮টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।  এর আগে বৃহস্পতিবার প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও আকাশেই ধ্বংস করা হয়। একই দিনে শায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে মোট ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রেখেছে আরবের সামরিক বাহিনী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আল-খারজ এলাকায় জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে সিভিল ডিফেন্স। নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে হামলার স্থানে ভিড় না করতে, ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে এবং বিপজ্জনক এলাকা এড়িয়ে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলাকে ইরানের একটি সরাসরি উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। রিয়াদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং প্রতিবেশী সুলভ আচরণের পরিপন্থী। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের নতুন বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন করে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে করে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে অথবা সেগুলো জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় এসব স্থানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত এখন সীমিত পর্যায়ে নেই এবং তা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   এদিকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে ২০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রিসেন্ট

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের জেরে ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ১৯,৭৩৪টি বেসামরিক কাঠামো হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের ওপর এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সবথেকে বেশি।   রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার তালিকায় রয়েছে ৭৭টি মেডিকেল সেন্টার এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমনকি মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত খোদ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নিজস্ব ১৬টি স্থাপনাও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি।    হাসপাতাল ও স্কুলগুলোর ওপর এমন আঘাত সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
আইআরজিসি মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনি
এক লিটার তেলও দেব না, ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সোমবার রাতে এক কড়া বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চললে এই অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে ‘এক লিটার তেলও’ পৌঁছাতে দেওয়া হবে না। জেনারেল নায়েইনি ট্রাম্পকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মার্কিন সেনাদের মনোবল ভেঙে পড়া ঠেকাতে ট্রাম্প শক্তির মিথ্যা দম্ভ করছেন। যুদ্ধের ১০ম দিনে এসে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, মার্কিন ও ইসরাইলি যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তেহরান এখন আগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত। বিবৃতিতে জেনারেল নায়েইনি মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে ধরেন: মার্কিন নৌবহরের পশ্চাদপসরণ: ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে অবাধ চলাচলের দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইরানের মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণের ভয়ে মার্কিন রণতরী এবং ফাইটার জেটগুলো ইরান সীমান্ত থেকে ১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থান নিচ্ছে। আব্রাহাম লিংকন-এ হামলা: মুখপাত্র জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন লক্ষ্য করে মাত্র চারটি মিসাইল ছোঁড়ার পরেই মার্কিন নৌবাহিনী আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের বিধ্বংসী ক্ষমতা: ট্রাম্প ইরানের মিসাইল ফুরিয়ে যাওয়ার দাবি করলেও নায়েইনি জানান, বর্তমানে এক টনেরও বেশি ওজনের বিস্ফোরকবাহী (ওয়ারহেড) ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলি ভূখণ্ডে আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে ট্রাম্পের নীতির উপহাস করে নায়েইনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম ৯ দিনেই তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। যদি ইরান আক্রান্ত হয়, তবে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের সমস্ত কৃত্রিম চেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং অঞ্চলটি থেকে তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ট্রাম্পের অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির উত্থানকে ইরানের জন্য এক নতুন বিপ্লবী উদ্দীপনা হিসেবে দেখছেন তারা। নায়েইনি দাবি করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মনোবল বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিবৃতি শেষে জেনারেল নায়েইনি একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি ইরানের মিসাইল কোনো ক্ষতিই না করে থাকে, তবে কেন সাংবাদিকদের ক্ষয়ক্ষতির ছবি তুলতে দেওয়া হচ্ছে না? কেন হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে? তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যুদ্ধের সমাপ্তি যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই নির্ধারণ করবে এবং এ নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সুপার-ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা থেকে ছোড়া মিসাইল আবাসিক এলাকায় আঘাত হানার দৃশ্য সম্বলিত ভিডিও থেকে সংগৃহীত।
এবার বাহরাইনে আঘাত হানল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র

গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র কঠোরভাবে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে তেল আবিবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানছে।   এর মধ্যে বাহরাইনে কয়েক হাজার মিসাইল ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে। এবার দেশটির রাজধানী মানামায় আঘাত হেনেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের। প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের মাধ্যমে ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চলাকালীন ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পথভ্রষ্ট হয়ে পার্শ্ববর্তী আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে হতাহত বা ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   এ ঘটনা উপসাগরীয় সংকটে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নির্দেশ করছে, যেখানে মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনা রক্ষার জন্য ছোড়া ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বেসামরিক এলাকায় পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার পেছনে।   তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত উন্নত ইন্টারসেপ্টর এবং বিভিন্ন ধরনের মিউনিশনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। কংগ্রেসে আলোচনার সময় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, অভিযান চালিয়ে যেতে হলে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে হবে।   মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌযান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা ধ্বংস হওয়ায় ইরানের পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা কমে গেছে বলে দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার  জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ৯০ শতাংশ কমেছে এবং ড্রোন হামলা কমেছে প্রায় ৮৩ শতাংশ।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, এখনও ইরানের হাতে শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে এবং দেশটির প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অক্ষত আছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
তেল আবিবের আরেকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর একটি গর্ত দেখা যাচ্ছে, ৮ মার্চ, ২০২৬
তেল আবিবে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কাঁপছে ইসরায়েল

ইসরায়েলের আকাশে এখন আগুনের গোলক আর ঘন কালো ধোঁয়া। ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রীতিমতো থমকে গেছে তেল আবিবসহ একাধিক শহর। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করলেও আকাশচুম্বী ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে শহরের একাংশ। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ দ্বিতীয় দফায় এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে বেয়ারশেবা এবং তেল আবিব লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিল তেহরান। হামলার পর ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে অবিরাম সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা ধাতব টুকরোর আঘাতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোর নাম এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
আমিরাত ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: রাডার ও রানওয়ে ধ্বংস

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)।  শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল আমিরাতের আল-দাফরা বিমান ঘাঁটি। ইরানের নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সেখানে মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এতে ঘাঁটির একটি অত্যাধুনিক আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম, এমকিউ-৯ ড্রোনের রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং ইউ-২ নজরদারি বিমানের বিভিন্ন স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সময়ে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতেও ভারী মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষাণাগার লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।  এছাড়া মার্কিন সামরিক বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণে ব্যবহৃত দুটি রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
মার্কিন মিসাইল রাডার সিস্টেম ধ্বংস
ইরানের হামলায় ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন মিসাইল রাডার সিস্টেম ধ্বংস

প্রতিরক্ষা ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করল ইরান। যুদ্ধের শুরুতেই তারা জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি প্রধান রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলার ফলে জর্ডানসহ পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা বলয়ে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতি বা ‘ফাঁক’ তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এএন/টিপিওয়াই-২ (AN/TPY-2) রাডারটির অচল হয়ে পড়া এই সংঘাতে ইরানের অন্যতম সফল এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হবে।   ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস’-এর সামরিক বিশেষজ্ঞ রায়ান ব্রবস্ট জানিয়েছেন, থাড রাডারের ওপর এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা। যদিও মার্কিন বাহিনীর কাছে বিকল্প রাডার রয়েছে, তবে থাডের মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থার প্রধান সেন্সরটি হারিয়ে ফেলায় এখন আকাশ সুরক্ষার গুরুভার একা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর এসে পড়েছে। সিএনএন-এর প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাড ইউনিটের রাডার ও অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জাম সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চের হামলাগুলো প্রতিহত করার দাবি করা হলেও পরে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা সামনে আসে।   তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। এর মধ্যে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই ধরনের রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একটি থাড রাডার অচল হওয়া মানে হলো উচ্চ উচ্চতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যাওয়া, যা যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ।   এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষা মজবুত করতে বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজ করছে পেন্টাগন। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন জানিয়েছেন, সিউলে মোতায়েন থাকা কিছু মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই সুপরিকল্পিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও তাদের প্রতিরক্ষা বলয়ের সক্ষমতাকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৪০ বছরের নীল নকশা বাস্তবায়নেই ইরানে হামলা ইসরায়েলের, নেপথ্য কারণ ফাঁস

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি গত চার দশক ধরে পরিকল্পিত একটি যুদ্ধের চূড়ান্ত রূপ। সম্প্রতি মিডল ইস্ট আই-তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে যে 'ইরানি পারমাণবিক হুমকির' কথা বলে আসছিলেন, তা মূলত বিশ্ববাসীর চোখে ধুলো দেওয়ার একটি 'স্মোক স্ক্রিন' বা ধোঁয়াশামাত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রবিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এই যুদ্ধের পরিকল্পনা তিনি চার দশক ধরে লালন করছেন। নেতানিয়াহু দম্ভোক্তি করে বলেন, "এই সম্মিলিত শক্তি আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে যা আমি ৪০ বছর ধরে অর্জন করতে চেয়েছিলাম: এই সন্ত্রাসী শাসন ব্যবস্থাকে (ইরান) সম্পূর্ণরূপে চূর্ণ করা।" বিশ্লেষকদের মতে, গত ৪০ বছর ধরে ইসরায়েলি নেতারা বারবার সতর্ক করে আসছিলেন যে তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু চার দশক পার হলেও সেই বোমার অস্তিত্ব মেলেনি। নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের আসল লক্ষ্য কখনোই কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা ছিল না; বরং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখা এবং ইরানকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ জোনাথন কুকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান এ অঞ্চলের সবচেয়ে বৃহৎ এবং ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র। দেশটির সমৃদ্ধ ইতিহাস, শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের ঔপনিবেশিক আধিপত্যের পথে প্রধান অন্তরায়। বিশেষ করে ইরাক, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনের শিয়া সম্প্রদায়গুলোর ওপর ইরানের প্রভাব ইসরায়েলের আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের (Hegemony) জন্য হুমকি স্বরূপ। ইসরায়েল ভয় পায় যে ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক শক্তি অর্জন করে, তবে এ অঞ্চলে ইসরায়েলের "একচ্ছত্র ক্ষমতার" অবসান ঘটবে। প্রতিবেদনে ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা হয়েছে। তখন যেমন 'গণবিধ্বংসী অস্ত্র' বা WMD-এর অজুহাত দিয়ে একটি সাজানো মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে ইরাক আক্রমণ করা হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও নেতানিয়াহু একই কৌশল অবলম্বন করছেন। পার্থক্য শুধু এই যে, ইরাকের ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীকে বোঝাতে কয়েক মাস সময় লেগেছিল, আর ইরানের ক্ষেত্রে ইসরায়েল গত ৪০ বছর ধরে তিল তিল করে যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল যে "আত্মরক্ষার" অধিকার দাবি করে গাজায় অভিযান শুরু করেছিল, তা মূলত তাদের বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ। গাজায় চালানো ধ্বংসযজ্ঞ এবং পরবর্তীতে ইরানকে সরাসরি যুদ্ধে টেনে আনা—সবই একটি সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নব্য-রক্ষণশীলদের (Neocons) সহযোগিতায় ইসরায়েল এখন মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নতুন করে আঁকতে চাইছে। বর্তমান যুদ্ধটি কেবল সীমান্ত সংঘাত বা পারমাণবিক কর্মসূচি রক্ষার লড়াই নয়। এটি মূলত ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দিয়ে দেশটিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগত অঞ্চলে বিভক্ত করার একটি চেষ্টা, যাতে ইসরায়েল এ অঞ্চলের একমাত্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে পারে। বিশ্বনেতারা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে নেতানিয়াহুর এই বয়ান বিশ্বাস করে আসলেও, বর্তমান যুদ্ধ প্রমাণ করছে যে এর নেপথ্যে কাজ করছে এক দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর নীল নকশা। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলায় ‘নতুন ধাপ’ ঘোষণা ইসরায়েলের, পাশে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাজধানী তেহরানে রাতভর ভয়াবহ বিমান হামলা চালানোর পর এবার অভিযানের ‘নতুন ধাপ’ ঘোষণা করেছে ইসরাইল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক নজিরবিহীন উত্তেজনার মুখে পড়েছে।  আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির সাফ জানিয়েছেন, প্রাথমিক আঘাত কেবল শুরু ছিল; এখন তারা ইরানের শাসনব্যবস্থার ভিত্তি এবং সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই অভিযানে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে সুর আরও চড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর অস্ত্রের ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।  যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন, তবে তিনি বর্তমান ইরানি নেতৃত্বের অপসারণ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের মতে, লক্ষ্য হলো পরিস্থিতি পুরোপুরি ‘পরিষ্কার’ করা। এদিকে সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননেও। বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে আইডিএফ, যার ফলে প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন লাখো মানুষ। অন্যদিকে বসে নেই ইরানও।  তেহরানের আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণের পাল্টা জবাব হিসেবে তেল আবিব অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে এখন গোটা বিশ্ব।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ‘নাটকীয়ভাবে’ বাড়ানোর ঘোষণা

ইরান ইস্যুতে সুর আরও কঠোর করল ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্রতা ও গোলাবারুদ নিক্ষেপের পরিমাণ এখন থেকে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং শেষে এই হুঁশিয়ারি দেন হেগসেথ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তেহরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন অভিযানের গতিপ্রকৃতি এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এই অভিযানে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকার প্রশংসা করেন হেগসেথ। তবে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্রিটিশরা যদি আরও আগে এই অনুমতি দিত, তবে সেটি আরও ভালো হতো। তবুও শেষ পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়ায় ওয়াশিংটনের পক্ষে হামলা জোরদার করা অনেক সহজ হবে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টার্মার জানিয়েছেন, তারা কাতারে অবস্থিত ব্রিটিশ স্কোয়াড্রনে আরও চারটি অত্যাধুনিক টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছেন। ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে মূলত "প্রতিরক্ষামূলক অভিযান" পরিচালনার জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানি মিসাইল হামলায় কাঁপছে তেল আবিব: ইসরায়েলি আকাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছোড়ার পর বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।  এএফপি-র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আকাশজুড়ে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ এবং সাইরেনের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বেশ কিছু মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে।  বর্তমানে ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয় রয়েছে এবং ধেয়ে আসা মিসাইলগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0