সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চিকিৎসা

৬৫ বছর পার হলেই আমেরিকায় কী কী সুবিধা
৬৫ বছর পার হলেই আমেরিকায় কী কী সুবিধা, ২০২৬ সালের ৭টি তথ্য জানলে চমকে যাবেন

যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছালেই সরকার বিনা শর্তে টাকা, বাড়ি ও চিকিৎসার সব খরচ বহন করে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে ২০২৬ সালে সিনিয়রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, সম্পূরক নিরাপত্তা আয়, মেডিকেড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং কর সুবিধাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা যোগ্যতা, আয়, কাজের ইতিহাস ও অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে।   প্রথম বড় সুবিধা হলো সামাজিক নিরাপত্তা অবসর ভাতা। যোগ্য ব্যক্তিরা ৬২ বছর বয়স থেকেই এই সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। তবে ৬২ বছর বয়সে নিলে মাসিক ভাতার পরিমাণ কমে যায়। ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্পূরক নিরাপত্তা আয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় যোগ হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক ভাতা প্রায় ৫৭ ডলার বেড়ে ২ হাজার ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   এই সুবিধার জন্য সাধারণত কাজ করে পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। ২০২৬ সালে একটি ক্রেডিট পেতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় প্রয়োজন। বেশিরভাগ মানুষের অবসর ভাতার জন্য ৪০টি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়। পূর্ণ অবসরের বয়স জন্মসাল অনুযায়ী ৬৬ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে। তাই ৬৫ বছর হলেই সবাই একই পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাবেন, এমন নয়।   দ্বিতীয় বড় সুবিধা হলো মেডিকেয়ার। সাধারণত ৬৫ বছর বয়সে মেডিকেয়ারের জন্য যোগ্য হওয়া যায়। বেশিরভাগ মানুষ কর্মজীবনে যথেষ্ট মেডিকেয়ার কর দেওয়ার কারণে হাসপাতালভিত্তিক পার্ট এ-এর জন্য মাসিক প্রিমিয়াম দেন না। তবে পার্ট বি বিনামূল্যে নয়। ২০২৬ সালে এর স্ট্যান্ডার্ড Part B মাসিক প্রিমিয়াম ২০২ দশমিক ৯০ ডলার এবং বার্ষিক কর্তনযোগ্য অর্থ ২৮৩ ডলার। আয় বেশি হলে পার্ট বি-এর প্রিমিয়াম আরও বাড়তে পারে।   মেডিকেয়ারের পার্ট এ মূলত হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট রোগী ভর্তি চিকিৎসা কভার করে। পার্ট বি চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কভার করে এবং পার্ট ডি প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচে সহায়তা করে। কম আয়ের মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কমাতে আলাদা সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। তবে ৬৫ বছর পূর্ণ হলেই সব ধরনের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হয়ে যায় না।   তৃতীয় সুবিধা হলো সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, অন্ধ বা প্রতিবন্ধী এবং খুব কম আয় ও সীমিত সম্পদের মানুষ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬ সালে ফেডারেল পর্যায়ে এসএসআই-এর সর্বোচ্চ মাসিক হার একজনের জন্য ৯৯৪ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে আয়, সম্পদ ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম হতে পারে।   চতুর্থ সুবিধা হলো মেডিকেড। কম আয়ের সিনিয়রদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। তবে মেডিকেডের যোগ্যতা ও সুবিধা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোথাও দাঁতের চিকিৎসা বা চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা থাকতে পারে, আবার কোথাও নিয়ম ভিন্ন। তাই শুধু ৬৫ বছর বয়স হলেই মেডিকেড পাওয়া যায় না।   পঞ্চম সুবিধা হলো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা এসএনএপি, যা অনেকের কাছে ফুড স্ট্যাম্প নামে পরিচিত। যোগ্য নিম্ন আয়ের সিনিয়ররা খাবার কেনার জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে একজনের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ মাসিক এসএনএপি বরাদ্দ ২৯৮ ডলার। তবে প্রকৃত সুবিধার পরিমাণ পরিবারের আয় ও অন্যান্য তথ্যের ওপর নির্ভর করে।   ষষ্ঠ সুবিধা হলো আবাসন সহায়তা। সেকশন ৮ বা হাউজিং চয়েস ভাউচার কর্মসূচিতে নিম্ন আয়ের পরিবার, সিনিয়র, সাবেক সেনাসদস্য এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যোগ্য হতে পারেন। তবে সরকার সবার রেন্টের নির্দিষ্ট ৭০ শতাংশ দিয়ে দেয়, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও স্থানীয় নিয়মের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। অনেক এলাকায় আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায়ও থাকতে হয়।   সপ্তম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে সিনিয়রদের জন্য অতিরিক্ত ফেডারেল কর ছাড়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য করদাতারা ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের করবর্ষে জনপ্রতি অতিরিক্ত ৬ হাজার ডলার কর ছাড় দাবি করতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই যোগ্য হলে যৌথভাবে এই অতিরিক্ত কর ছাড় ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট আয়ের সীমা অতিক্রম করলে সুবিধাটি ধীরে ধীরে কমে যায়।   এ ছাড়া ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য জাতীয় উদ্যানের আজীবন সিনিয়র পাস রয়েছে। ২০২৬ সালে এই পাসের দাম ৮০ ডলার। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফেডারেল বিনোদনমূলক এলাকায় প্রবেশ ফি ও কিছু সুবিধায় ছাড় পাওয়া যায়।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়স সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হলেও এটি কোনোভাবেই ‘সবকিছু ফ্রি’ পাওয়ার বয়স নয়। কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, কত টাকা পাওয়া যাবে বা কতটা খরচ কমবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির কাজের ইতিহাস, আয়, সম্পদ, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর। তাই কোনো কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
পরিবারের সঙ্গে টেক্সাসে থাকা রিস উইলার্ড লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
শরীরজুড়ে ‘অস্বাভাবিক’ কালশিটে, পরীক্ষা করাতেই জানা গেল প্রাণঘাতী রোগ!

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ৪০ বছর বয়সী রিস উইলার্ড প্রথমে বুঝতেই পারেননি, তার শরীরে ধীরে ধীরে বাসা বাঁধছে গুরুতর এক রোগ। কয়েক মাস ধরে ক্লান্তি, রাতে অতিরিক্ত ঘাম ও দ্রুত ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও সেগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু হঠাৎ শরীরজুড়ে বড় বড় কালশিটে দেখা দেওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা করাতেই সামনে আসে ভয়ংকর সত্য—তিনি অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়ায় (এএমএল) আক্রান্ত। ডালাসে স্ত্রী সারাহ উইলার্ড ও মেয়েকে নিয়ে থাকেন রিস। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড ক্লান্তিতে ভুগছিলেন তিনি। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গেলেও ক্লান্তি কাটছিল না। পরে শুরু হয় রাতে অতিরিক্ত ঘাম, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া এবং ত্বকে ছোট ছোট লাল দাগ। শুরুতে এসব উপসর্গ খুব একটা গুরুতর মনে হয়নি। একদিন রিসের শরীরের পাশে বেশ কিছু লাল দাগ দেখতে পান তার স্ত্রী। গ্লাস দিয়ে চাপ দিয়ে দেখে ওই জায়গার ছবি তোলেন তিনি। পরে ছবিটি চ্যাটজিপিটিতে দিলে সেটি দাগগুলোকে ‘পিটেকিয়া’ হতে পারে বলে জানায়। ছোট রক্তনালি থেকে ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হলে এমন লাল দাগ দেখা দিতে পারে। তবে তখনও বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হননি তারা। পরিস্থিতি বদলে যায় প্রায় ছয় সপ্তাহ পর। রিস নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও আউটডোর কার্যক্রম করতে পছন্দ করেন। একবার ২৭ মাইল বা প্রায় ৪৩ কিলোমিটার হাঁটার পর বাড়ি ফিরে তার শরীরজুড়ে বিশাল বিশাল কালশিটে দেখতে পান সারাহ। মুষ্টির সমান আকারের এসব কালশিটে ছিল তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে। সারাহ বলেন, এতটা শারীরিক পরিশ্রমের পরও এমন কালশিটে হওয়া স্বাভাবিক নয়। তখনই বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর আগের চ্যাটজিপিটি কথোপকথনে রিসের নতুন উপসর্গের কথা জানান সারাহ। এবার দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রিস হাসপাতালে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েই তারা বুঝতে পারেন, পরিস্থিতি গুরুতর। তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে আরও পরীক্ষা শুরু করা হয়। পরদিন একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রিসকে জানান, তার শ্বেত রক্তকণিকার ৮৭ শতাংশই মাইলোব্লাস্ট। এটি লিউকেমিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। পরে বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জার পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, রিস অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। এএমএল একটি দ্রুতগতির রক্তের ক্যানসার। এই রোগে ক্লান্তি, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া ও রাতে ঘামের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রক্তের বিভিন্ন কোষের মাত্রা কমে গেলে সহজেই কালশিটে পড়া, বারবার সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টও হতে পারে। রিসকে পরে বেইলর ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শুরু হয় চিকিৎসা। একপর্যায়ে তিনি সেপটিক শকেও আক্রান্ত হন। এএমএলের চিকিৎসায় তাকে অত্যন্ত শক্তিশালী কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এতে তার রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা আরও কমে যায় এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তবে চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছেন রিস। বর্তমানে তিনি গভীর রেমিশনে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে তার রক্তের মাত্রা স্বাভাবিকের দিকে ফিরছে। টানা ৩০ দিন হাসপাতালে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফেরেন তিনি। এক মাস পর স্বামীকে হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সারাহ। এই অভিজ্ঞতার পর রিসের জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। নিজের গল্প শেয়ার করে তিনি অন্যদের শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার পরামর্শ, জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের শরীরের সংকেতগুলো যেন কেউ উপেক্ষা না করেন। অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস
মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিন-এডিটেড) শূকরের কিডনি নিয়ে রেকর্ড ২৭১ দিন বেঁচে থাকার নতুন ইতিহাস গড়েছেন টিম অ্যান্ড্রুজ (৬৬) নামের এক ব্যক্তি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের এই প্রক্রিয়াটি ‘জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন’ (Xenotransplantation) নামে পরিচিত। নতুন এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অ্যান্ড্রুজের শরীরে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।   এর ফলে দীর্ঘ প্রায় নয় মাস তাকে কোনো ডায়ালাইসিস নিতে হয়নি। পরবর্তীতে কিডনিটির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে গত ২৩ অক্টোবর সেটি অপসারণ করে তাকে পুনরায় ডায়ালাইসিসে নেওয়া হয়। অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সফলভাবে একজন মানব দাতার কিডনি গ্রহণ করেন।   ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যামের ট্রান্সপ্লান্টেশন সায়েন্সেস সেন্টারের প্রধান ও গবেষণাপত্রের মূল লেখক ড. লিওনার্দো রিয়েলা জানান, টিম অ্যান্ড্রুজের এই ঘটনা কিডনি বিকল হওয়া রোগীদের জন্য একটি অভাবনীয় মাইলফলক। বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ১ লাখেরও বেশি মানুষ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগেরই কিডনি প্রয়োজন।   পর্যাপ্ত মানব অঙ্গের অভাবে প্রতি বছর অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। গবেষকদের মতে, মানব কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ডায়ালাইসিসের কষ্ট থেকে রোগীদের সাময়িকভাবে মুক্তি দিতে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন একটি যুগান্তকারী সমাধান হতে পারে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা গেলে এটি হয়তো স্থায়ী চিকিৎসায়ও পরিণত হতে পারে।   এর আগে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টাগুলো খুব বেশি দিন সফল হয়নি। ২০২৪ সালে ম্যাস জেনারেল হাসপাতালেই শূকরের কিডনি গ্রহণকারী প্রথম রোগী ৫২ দিন বেঁচে থাকার পর মারা যান, তবে তার মৃত্যুর কারণ ট্রান্সপ্লান্ট-সংক্রান্ত ছিল না। এরপর গত বছর আলাবামার এক নারীর শরীরে শূকরের কিডনি ১৩০ দিন টিকে থাকার রেকর্ড গড়েছিল।   অ্যান্ড্রুজ এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। চিকিৎসকরা এই অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য অ্যান্ড্রুজসহ গবেষণায় অংশ নেওয়া সাহসী রোগীদের 'প্রকৃত অগ্রদূত' হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
চিকিৎসার টাকা দিতে পারেননি, কৃতজ্ঞতায় জীবন বাঁচানো চিকিৎসককে নিজের পোষা দুটি মুরগিই দিলেন কৃষক
চিকিৎসার টাকা দিতে পারেননি, কৃতজ্ঞতায় জীবন বাঁচানো চিকিৎসককে নিজের পোষা দুটি মুরগিই দিলেন কৃষক

চিকিৎসা সেবায় অর্থই যে সব নয়, মানবিকতাই যেখানে মুখ্য—এমনই এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হলো বলিভিয়া। গুরুতর প্রস্টেটের সমস্যায় আক্রান্ত এক বয়স্ক কৃষকের জীবন বাঁচাতে কোনো প্রকার ফি ছাড়াই বিনামূল্যে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন এক মানবিক চিকিৎসক।   সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মুহূর্তে সেই চিকিৎসককে উপহার দেওয়ার মতো কোনো টাকা বা মূল্যবান সম্পদ কৃষকের ছিল না। তাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্বল দুটি পোষা মুরগি চিকিৎসকের হাতে তুলে দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   অসুস্থতার তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ওই কৃষক যখন হাসপাতালে এসেছিলেন, তখন চিকিৎসকরা জানান অবিলম্বে তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে জর্জরিত কৃষকের পক্ষে সেই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মেটানো একেবারেই অসম্ভব ছিল।   অসহায় কৃষকের এমন করুণ পরিস্থিতি দেখে মুখ ফিরিয়ে নেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। বরং নিঃস্বার্থভাবে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই সফলভাবে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। নতুন জীবন ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কৃষক।   হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ধন্যবাদ জানাতে দুটি পোষা মুরগি নিয়ে চিকিৎসকের সামনে হাজির হন তিনি। কৃষকের এই সরল ও অকৃত্রিম উপহার দেখে চিকিৎসকও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।   স্মৃতিচারণ করে চিকিৎসক জানান, তার প্রয়াত বাবাও একসময় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা করতেন। তখন অনেক রোগী অর্থের সংস্থান করতে না পেরে পরম ভালোবাসায় মুরগি, ডিম কিংবা নিজেদের ফলানো কৃষিপণ্য দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন।   দুটি মুরগির আর্থিক মূল্য হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু নিঃস্ব একজন কৃষকের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কাছে তা যেকোনো মূল্যবান উপহারের চেয়েও অনন্য হয়ে উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
কলকাতায় হোটেলে অভিযান, চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিপাকে বাংলাদেশিরা
কলকাতায় হোটেলে অভিযান, চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিপাকে বাংলাদেশিরা

ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা প্রশাসনের নিরাপত্তা অভিযানে একের পর এক কম খরচের হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য শহরটিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনেরা বড় আবাসন সংকটে পড়েছেন। অনেককে আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গাই খুঁজে পাচ্ছেন না।    গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুনে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। আগুনের পর কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, দমকল বিভাগ ও পুলিশ শহরের হোটেল-গেস্টহাউসগুলোতে নিরাপত্তা ও অনুমোদন যাচাই শুরু করে।    এরপরই শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। ২২ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় অন্তত ৫২টি হোটেল বন্ধ হয়ে যায় বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। পরে অভিযান আরও বিস্তৃত হয় এবং দ্য ডেইলি স্টারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতাজুড়ে ১০০টির বেশি হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়েছে অথবা বন্ধ হওয়ার মুখে রয়েছে।    বাংলাদেশিদের জনপ্রিয় আবাসিক এলাকাতেই বেশি চাপ   নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, কলিন লেন ও মির্জা গালিব স্ট্রিটের মতো এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি রোগী, স্বজন ও পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয়। কারণ, এসব এলাকায় তুলনামূলক কম দামে থাকার জায়গা পাওয়া যেত এবং হাসপাতাল, ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ ও যাতায়াতের সুবিধাও কাছাকাছি।    হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই কম খরচের আবাসনের বড় অংশই হারিয়ে গেছে। ফলে অবশিষ্ট হোটেলগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং সঙ্গে বাড়ছে ভাড়াও।   টিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু হোটেলে আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি এক ব্যবসায়ী জানান, আগে তিনি যে হোটেলে প্রতি রাত ৯০০ রুপি দিতেন, বিকল্প হোটেলগুলোতে এখন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপি পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।    চিকিৎসা নিতে এসে হোটেলই বন্ধ   সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া রোগীরা।   টিবিএস জানিয়েছে, ঢাকার উত্তরা থেকে যাওয়া দুই বোনের একজন ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা নিয়মিত যে হোটেলে থাকতেন, সেটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে হয়। তাদের চিকিৎসার একটি রিপোর্ট পাওয়ার কথা ছিল ৮ সেপ্টেম্বর এবং পরদিন দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল।    আরেক বাংলাদেশি পরিবার তাদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানের ফলোআপ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়ে দেখেন, আগে থেকে বুক করা হোটেলটিই বন্ধ হয়ে গেছে। তারা ১ হাজার রুপির মধ্যে থাকার জায়গা খুঁজছিলেন, কিন্তু ওই এলাকায় এমন কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।    ক্যানসার রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও একাধিকবার হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় হাসপাতালের কাছাকাছি থাকা অনেক সময় অপরিহার্য। দূরের হোটেলে চলে গেলে প্রতিদিনের যাতায়াত যেমন বাড়ে, তেমনি অসুস্থ রোগীর শারীরিক কষ্টও বাড়ে।    শুধু নিউ মার্কেট নয়, সংকট ছড়িয়েছে মুকুন্দপুরেও   অভিযানের প্রভাব এখন শুধু নিউ মার্কেট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকাতেও কয়েকটি হোটেল বন্ধের নির্দেশ পেয়েছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ মার্কেট থেকে সরে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজন মুকুন্দপুরের হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেও অভিযান শুরু হওয়ায় তাদের কেউ কেউ বেশি ভাড়ার বাণিজ্যিক হোটেলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ চিকিৎসার ফলোআপ শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফেরার কথা ভাবছেন।  অভিযানে যেসব সমস্যার কথা সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে ধোঁয়া ও তাপ শনাক্তকারী ব্যবস্থা না থাকা, অ্যালার্মের ঘাটতি এবং জরুরি বের হওয়ার পথ না থাকা।  কেন এত বড় অভিযান? এই অভিযানের পেছনে রয়েছে ১৯ আগস্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তদন্তে উঠে এসেছে, শিখা ইন যে ভবনে ছিল সেখানে একাধিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ছিল। ভবনটির ভেতরে ঘনবসতিপূর্ণ ও সংকীর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণে আগুনের ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হলেও নয়জনের মৃত্যু হয়।    পুলিশের তদন্তে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, হোটেলটির বৈধ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছিল না এবং দ্বিতীয় তলায় থাকা অতিথিদের জন্য জরুরি বের হওয়ার পথও ছিল না বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।    অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের লিজধারী আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মালিক বীরেশ্বর মিত্রকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অবহেলা ও অগ্নিনিরাপত্তা ঘাটতির মতো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    নিরাপত্তা দরকার, কিন্তু বিকল্প কোথায়?   হোটেলগুলোর নিরাপত্তা যাচাই ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক বাজেট হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা।   দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে স্থানীয় ব্যবসায়ী রমেন মল্লিক প্রশ্ন তুলেছেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের চিকিৎসার জন্য যারা কলকাতায় আসেন, হঠাৎ তাদের থাকার জায়গা বন্ধ হয়ে গেলে দায়িত্ব নেবে কে? তার মতে, হোটেল বন্ধ করার আগে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল।    অন্যদিকে পরিবহন ব্যবসায়ী সোনা সাহার মতে, দীর্ঘমেয়াদে অভিযান ইতিবাচক ফল দিতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ হোটেলগুলো চিহ্নিত করে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি রোগী ও পর্যটকরাই বেশি উপকৃত হবেন।    বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সতর্কতা   পরিস্থিতির মধ্যে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক করেছে। চিকিৎসা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে কলকাতা যাওয়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেটি তখনও চালু আছে কি না, কক্ষ পাওয়া যাবে কি না এবং হাসপাতাল থেকে দূরত্ব কত - এসব যাচাই করতে বলা হয়েছে।    অর্থাৎ, এখন শুধু কলকাতায় যাওয়ার টিকিট ও চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেই হচ্ছে না। হোটেলটি বাস্তবে চালু আছে কি না এবং সেখানে গিয়ে থাকা যাবে কি না - সেটিও আগে নিশ্চিত করতে হবে।   একদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে কলকাতা প্রশাসনের অভিযান চলছে, অন্যদিকে সেই অভিযানের কারণে সাশ্রয়ী থাকার জায়গা হারিয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিরা পড়েছেন নতুন সংকটে। এখন বড় প্রশ্ন - ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল বন্ধের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা কত দ্রুত করা যায়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা
চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা, শেষে ৯১১-এ ফোন: ‘আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের চার সন্তানের মা কাইলি গ্রাইমস এক রাতে ৯১১-এ ফোন করেছিলেন সন্তানদের কোনো জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতির জন্য নয়, নিজের ভেঙে পড়ার মুহূর্তে সাহায্য চেয়ে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি, একসঙ্গে দুই সন্তানের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের যত্ন এবং চার সন্তান সামলানোর চাপের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, আর একা সামলানো সম্ভব হচ্ছে না।    ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে। সেদিন স্বামী কাইল কাজে থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন কাইলি। এর আগের কয়েক মাসে পরিবারের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি হয়। তাদের ছোট ছেলে নোবেলের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এর ৬৩ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয় তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে গোল্ডিও। পরিবারের আগে এমন রোগের ইতিহাস ছিল না।   দুই সন্তানের ডায়াবেটিসের যত্ন নিতে গিয়ে কাইলির ঘুম ও বিশ্রাম প্রায় হারিয়ে যায়। ছোট সন্তানের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ ও খাবারের হিসাবসহ প্রতিদিনের নানা দায়িত্ব তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল।   ৩১ জুলাই রাতেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সন্তানরা রাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এর মধ্যেই ছোট নোবেল একটি ঘরের গাছের টবের মাটি মুখে নিয়ে ফেললে কাইলি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারেন, মানসিকভাবে তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।    কাইলি প্রথমে স্বামীকে ফোন করে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তখনও প্রায় ৩০ মিনিট দূরে ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি ৯১১-এ ফোন করেন।   ডিসপ্যাচার জানতে চান, জরুরি পরিস্থিতি কী। কাইলি বলেন, তিনি আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না, তিনি ভীষণ চাপে আছেন এবং সাহায্য প্রয়োজন। এরপর যখন আবার জানতে চাওয়া হয়, আসল জরুরি বিষয়টি কী, তখন তার উত্তর ছিল, “আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'।”   কাইলি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে বা সন্তানদের ক্ষতি করতে যাচ্ছেন না। তিনি শুধু বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্যও তাকে কিছুটা সহায়তা নিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পুলিশ অফিসার বাড়িতে পৌঁছান। পরে অন্য ফার্স্ট রেসপন্ডাররাও আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।    এই ঘটনার পর কাইলি পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে আরও সহায়তা নিতে শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে কোনো মা বা কেয়ারগিভার মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে সেটিকে লুকিয়ে রাখার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।   কাইলির অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান বা পরিবারের সদস্যের অতিরিক্ত যত্নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, সাহায্যের প্রয়োজন হওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের সীমা বুঝে সময়মতো সহায়তা চাওয়াও দায়িত্বশীলতার অংশ।   কাইলি পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাতৃত্ব, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সন্তানদের যত্ন এবং কেয়ারগিভার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তার এই খোলামেলা অবস্থান অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তান লালনপালনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
প্রসবের ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিলেন নারী
প্রসবের ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিলেন নারী, ৪৬ বছর পর পেটে মিলল ‘পাথরের শিশু’

মরক্কোর জাহরা আবুতালিবের ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে লিথোপেডিয়নের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। ১৯৫৫ সালে গর্ভাবস্থার শেষ দিকে প্রসববেদনা শুরু হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের কথা শুনে এবং সেখানে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা দেখে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী সময়ে প্রসববেদনা থেমে যায়, কিন্তু গর্ভের ভ্রূণ আর জন্ম নেয়নি।    প্রায় ৪৬ বছর পর, ২০০১ সালে বৃদ্ধ বয়সে জাহরার তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। পরীক্ষায় প্রথমে পেটের ভেতরের শক্ত অংশটিকে টিউমার বলে ধারণা করা হলেও স্ক্যানের পর চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, সেখানে কয়েক দশক ধরে একটি মৃত ও ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে যাওয়া ভ্রূণ রয়েছে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়।    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’। শব্দটির অর্থ ‘পাথরের শিশু’। সাধারণত এটি পেটের ভেতরে হওয়া এক ধরনের একটোপিক বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে। ভ্রূণটি মারা যাওয়ার পর শরীর সেটিকে শোষণ করতে না পারলে সময়ের সঙ্গে তার চারপাশে ক্যালসিয়াম জমে শক্ত আবরণ তৈরি হতে পারে।    লিথোপেডিয়ন অত্যন্ত বিরল একটি চিকিৎসাবস্থা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন ঘটনা সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড, এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি বহু বছর পর্যন্ত শরীরে অবস্থান করলেও উপসর্গ স্পষ্ট না হওয়ায় পরে অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে।    জাহরার ঘটনাটি পরে চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন লেখায় আলোচিত হয় এবং লিথোপেডিয়নের সবচেয়ে পরিচিত নথিবদ্ধ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক গর্ভধারণের দীর্ঘস্থায়ী রূপ হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এটি মূলত বিরল ও জটিল একটোপিক গর্ভধারণের পরিণতি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
কোমার ঝুঁকিতে থাইরয়েড ক্যানসারজয়ী নারী
আইসিই হেফাজতে ওষুধ বন্ধ, কোমার ঝুঁকিতে থাইরয়েড ক্যানসারজয়ী নারী

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে আইসিই হেফাজতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী বেলারুশের নাগরিক কাতসিয়ারিনা বার্তকোর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি অস্ত্রোপচারে অপসারণের পর গত ১১ বছর ধরে নিয়মিত হরমোন ও ক্যালসিয়াম ওষুধের ওপর নির্ভরশীল এই নারীকে ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, তার হরমোনের মাত্রা মারাত্মকভাবে অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে এবং চিকিৎসকরা মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।   বার্তকোকে গত জুনে ফ্লোরিডা থেকে কানসাসের লিভেনওয়ার্থে আইসিইর একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। তার আগে ৬ থেকে ৯ জুনের মধ্যে মাত্র চার দিনে তাকে তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। একটি জরুরি বিভাগে তাকে তীব্র শারীরিক সংকটে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিরায় ক্যালসিয়াম দেওয়া হয়।   বার্তকোর পার্টনার দিমিত্রি শিশভের অভিযোগ, কানসাসের ডিটেনশন সেন্টারে যাওয়ার পর তার প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে একাধিকবার সমস্যা হয়। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, ২৩ জুন তার লেভোথাইরক্সিন ওষুধটি নিয়ে নেওয়া হয় এবং ১০ জুলাই পর্যন্ত সেটি তাকে নিয়মিত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।   ওষুধ বন্ধ থাকার কয়েক দিনের মধ্যেই বার্তকো চিকিৎসাকর্মীদের কাছে বুকের নিচে তীব্র ব্যথা, মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখার কথা জানান। ২৬ জুনের একটি মেডিকেল ফর্মে এসব উপসর্গের কথা লিখলেও নিচে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মী উল্লেখ করেন, এ সময় কোনো চিকিৎসা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই এবং তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন।   ২ জুলাইয়ের একটি মেডিকেল নোটে বলা হয়, বার্তকো লেভোথাইরক্সিনে অ্যালার্জির কথা জানিয়েছেন। তবে ফিজিশিয়ান  ফর হিউম্যান রাইটস -এর চিকিৎসক সারাহ রাজা আদালতে দেওয়া নথিতে প্রশ্ন তোলেন, ওই নোটে বার্তকোর স্বাক্ষর নেই এবং তার দীর্ঘদিনের চিকিৎসা নথিতে লেভোথাইরক্সিন ও ক্যালসিয়াম নিয়মিত ব্যবহারের তথ্য রয়েছে।   এর মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির ইঙ্গিত মিলেছে রক্ত পরীক্ষায়। ১১ আগস্টের পরীক্ষায় তার TSH মাত্রা ১৪৮ দশমিক ৭৭ mIU/L পাওয়া যায়, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রার সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ৪ দশমিক ৫। চিকিৎসক সারাহ রাজা এই ফলকে গুরুতর হরমোন ঘাটতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।   রাজা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বার্তকোর মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মিক্সিডিমা কোমায় পৌঁছানো রোগীদের মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বার্তকো বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   কানসাসে স্থানান্তরের পর দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে কোনো এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা অন্য কোনো বাইরের বিশেষজ্ঞ দেখেননি বলে ফেডারেল কোর্টে জমা দেওয়া নথিতে আইসিই স্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারের মেডিকেল স্টাফ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং অফসাইট বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে জরুরি নয়, বরং রুটিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।   আইসিই ও ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী কোর সার্ভিক বার্তকো যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে। তবে তার আইনজীবী ও পার্টনার চিকিৎসা নথির ভিত্তিতে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন।   বার্তকোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শুরু হয় ২০২২ সালের মার্চে এফ -১ স্টুডেন্ট ভিসায়। বেলারুশে ২০২০ সালের সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি বেলারুশের সমর্থনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করার কারণে তিনি দেশটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে তার পার্টনার জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন।   এর আগে গত ৫ মে মিয়ামিতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিরোধের ঘটনায় তাকে মিসডিমিনর ব্যাটারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ২ জুন ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় মামলাটি আর এগোয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড হয়নি। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ স্টুডেন্ট ভিসা সংক্রান্ত অভিবাসন বিষয়কে কেন্দ্র করে আইসিই তাকে হেফাজতে নেয়।   ২২ জুলাই একজন ইমিগ্রেশন জাজ বার্তকোর বন্ড আবেদন নাকচ করেন এবং তাকে ফ্লাইট রিস্ক হিসেবে বিবেচনা করেন। একই সময়ে তিনি অন্যদের জন্য হুমকি নন বলে বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছিল বলে তার পক্ষের বক্তব্য।   এদিকে বার্তকোর চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে ফেডারেল আদালতে নতুন আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। আগস্টে তিনি হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা অথবা তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।   বর্তমানে লিভেনওয়ার্থের ডিটেনশন সেন্টারেই রয়েছেন বার্তকো। তার অ্যাসাইলাম শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। তার পার্টনার দিমিত্রি শিশভের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহতভাবে ব্যাহত হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের ৪১ বছর বয়সী ডেভিড বাউন এনএইচএসের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে মামলা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
৬ মাসের কেমোথেরাপি নিতে সময় লাগলো ৮ বছর! ব্রিটিশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাজ্যের ৪১ বছর বয়সী ডেভিড বাউন মস্তিষ্কের নিম্নমাত্রার টিউমারের চিকিৎসায় আট বছরের বেশি সময় ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে মামলা করেছেন। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, তাকে টেমোজোলোমাইড নামের কেমোথেরাপির ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে দেওয়া হয়। অথচ চিকিৎসা নির্দেশনায় এ ধরনের টিউমারের ক্ষেত্রে সাধারণত ছয় থেকে ১২ মাসের বেশি কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা নয়।   ২০১৬ সালে খিঁচুনির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে বাউনের মস্তিষ্কে নিম্নমাত্রার টিউমার শনাক্ত হয়। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পর সময়মতো এমআরআই স্ক্যান না করায় তার অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের চার দিন পর করা স্ক্যানে বাউনের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও ফুলে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাউন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যান। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মস্তিষ্কে জমে থাকা রক্তের জমাট অপসারণ করা হয় এবং আরও কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়।   এরপর বাউনের চিকিৎসায় টেমোজোলোমাইড কেমোথেরাপি শুরু হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে এই চিকিৎসা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি আট বছরেরও বেশি সময় ধরে কেমোথেরাপি নেন। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও তার আইনজীবীদের তথ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে এই চিকিৎসা চলার বিষয়টি উঠে এসেছে।   দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ফলে বাউনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় স্থায়ী প্রভাব পড়েছে বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে গেছে এবং দৃষ্টিশক্তিরও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের জন্য তাকে পুরোপুরি বাবা-মায়ের ওপর নির্ভর করতে হয়।   আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন, বাউন বিষণ্নতায়ও ভুগছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর তার জীবনে যে শারীরিক ও মানসিক প্রভাব পড়েছে, সেটিই মামলার অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   বাউনের করা এই মামলা চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। একই হাসপাতাল ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে আরও কয়েকজন রোগীর অভিযোগও রয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।   মামলায় বাউনের অভিযোগের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের পর তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সময়মতো এমআরআই স্ক্যান না করা, পরবর্তী সময়ে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় কেমোথেরাপি চলার বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে।   তবে বাউনের করা মামলাসহ এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়নি। ফলে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে।   ঘটনাটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় রোগীর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা নির্দেশনা অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে বাউনের দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় কেমোথেরাপি নেওয়ার ঘটনাটি তার করা মামলার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় অত্যাধিক বৃদ্ধির কারণে হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
খরচের চাপে চিকিৎসা এড়িয়ে চলছেন ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৫ জন আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন বা চিকিৎসা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ওয়েস্ট হেলথ ও গ্যালাপের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৪৯ শতাংশ আমেরিকান নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচ বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ছিলেন। এক বছরে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ এই আর্থিক নিরাপত্তার অবস্থান থেকে ছিটকে পড়েছেন।    চিকিৎসার খরচের চাপ শুধু নিম্নআয়ের বা হেলথ ইন্স্যুরেন্সবিহীন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কমনওয়েলথ ফান্ডের ২০২৪ সালের জরিপে দেখা গেছে, কর্মক্ষম বয়সী আমেরিকানদের ২৩ শতাংশ সারা বছর ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকলেও উচ্চ ব্যক্তিগত খরচ ও বেশি ডিডাক্টিবলের কারণে তারা পর্যাপ্ত কভারেজ পাননি। এই শ্রেণির ৫৭ শতাংশ খরচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেননি।    চিকিৎসা নিতে দেরি করার প্রভাবও গুরুতর হতে পারে। জরিপে খরচের কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া বা বাদ দেওয়া কর্মক্ষম বয়সী মানুষের ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা আরও খারাপ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষ ওষুধের খরচ বেশি হওয়ায় প্রয়োজনীয় ডোজ বাদ দিয়েছেন বা প্রেসক্রিপশন পূরণ করেননি। ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।    চিকিৎসার ব্যয়ের সঙ্গে বাড়ছে মেডিকেল ঋণের চাপও। কমনওয়েলথ ফান্ডের জরিপ অনুযায়ী, কর্মক্ষম বয়সী মানুষের প্রায় ৩০ শতাংশ চিকিৎসা বা ডেন্টাল বিলের ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করছিলেন। যাদের মেডিকেল ঋণ রয়েছে, তাদের প্রায় ৪৮ শতাংশের বকেয়া ছিল ২ হাজার ডলার বা তার বেশি।  এই ঋণের প্রভাব শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মেডিকেল ঋণ থাকা পরিবারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি জানিয়েছে, ঋণের কারণে পরিবারের কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা প্রেসক্রিপশন ওষুধ নেওয়া পিছিয়ে দিয়েছেন। একইভাবে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরিবার খাবার, ঘরের গরম রাখার খরচ বা ভাড়ার মতো মৌলিক ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই সঞ্চয়ের অর্থ চিকিৎসা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন।    চিকিৎসার খরচের চাপ বয়স্কদেরও ছাড়ছে না। কমনওয়েলথ ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের ২১ শতাংশ খরচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করেছেন বা তা বাদ দিয়েছেন। প্রায় ১৮ শতাংশের চিকিৎসা বিল বা ঋণ পরিশোধ নিয়ে সমস্যাও রয়েছে।    হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলেও সব চিকিৎসা খরচ যে পুরোপুরি কভার হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বেশি ডিডাক্টিবল, কো-পেমেন্ট এবং ব্যক্তিগত খরচের কারণে অনেক বীমা করা মানুষও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বাধার মুখে পড়ছেন। কমনওয়েলথ ফান্ডের জরিপে দেখা গেছে, সারা বছর ইন্স্যুরেন্স থাকা কিন্তু পর্যাপ্ত কভারেজ না থাকা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার খরচ সামলাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা বাদ দিয়েছেন বা পিছিয়ে দিয়েছেন।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ওয়েস্ট হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে হাসপাতালের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যয় প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।    ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় এখন শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সময়মতো না পাওয়া বা ওষুধের ডোজ বাদ দেওয়া একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে, অন্যদিকে পরে আরও বড় চিকিৎসা ব্যয়ের কারণ হতে পারে।   ওয়েস্ট হেলথ, গ্যালাপ ও কমনওয়েলথ ফান্ডের গবেষণাগুলো মিলিয়ে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে চিকিৎসা ব্যয় কমানো, হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং মেডিকেল ঋণের ঝুঁকি কমানো যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা কতটা উন্নত, তার পাশাপাশি মানুষ সেই চিকিৎসা বাস্তবে কতটা বহন করতে পারছেন, সেটিও এখন স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

তাবাস্সুম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
ভারতে বিয়ের আসর ছেড়ে অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসা দিলেন চিকিৎসক কনে
ভারতে বিয়ের আসর ছেড়ে অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসা দিলেন চিকিৎসক কনে

ভারতের কেরালায় এক চিকিৎসক কনে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে এমন এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা বর্তমানে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। বিয়ের আনন্দ-উৎসব চলাকালেই হঠাৎ ক্যাটারিংয়ের দুই কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে নিজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা থামিয়ে ত্বরিত তাদের সাহায্যে ছুটে যান ডা. শিরিন সুবায়ের। তার এই উপস্থিত বুদ্ধি ও পেশাদারিত্বের কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ওই দুই কর্মী প্রাথমিক চিকিৎসা পান।   জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে কাজ করার সময় হঠাৎ করেই ক্যাটারিংয়ের এক কর্মীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং অন্য আরেকজন কর্মী মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হন। এমন জরুরি পরিস্থিতিতে নিজের বিয়ের জমকালো সাজ বা উৎসবের কথা বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেন ডা. শিরিন।   তিনি যেহেতু জরুরি চিকিৎসা বিভাগের (ইমার্জেন্সি মেডিসিন) একজন চিকিৎসক, তাই তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ওই দুই কর্মীকে ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।   বিয়ের সাজে কনের এই মানবিক পদক্ষেপের একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এই চিকিৎসক কনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও, ডা. শিরিন সুবায়ের নিজে বিষয়টিকে খুবই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। এই প্রশংসনীয় কাজের বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান, এটি কেবলই একজন চিকিৎসক হিসেবে তার কর্তব্য ছিল, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার জাদুঘরে সংরক্ষিত চিনাবাদামে শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যাওয়া ২ বছরের শিশুর শ্বাসনালি
কানাডার জাদুঘরে সংরক্ষিত চিনাবাদামে শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যাওয়া ২ বছরের শিশুর শ্বাসনালি

কানাডার মন্ট্রিয়লে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মড অ্যাবট মেডিকেল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত একটি চিকিৎসাবিষয়ক নমুনা শিশুদের খাবার খাওয়ার সময় দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে আছে। নমুনাটি আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর শ্বাসনালি। জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, একটি চিনাবাদাম শ্বাসনালির বিভাজনস্থলে আটকে গিয়ে বাতাস চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। শিশুটির ফুসফুস স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বাদাম আটকে যাওয়ার কারণে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়।    ম্যাকগিলের মড অ্যাবট মেডিকেল মিউজিয়াম বহু বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও রোগতত্ত্বের বিভিন্ন নমুনা সংরক্ষণ করে আসছে। সেখানে থাকা এই নমুনায় শ্বাসনালিটি পেছনের দিক দিয়ে কেটে খোলা হয়েছে, যাতে দেখা যায় কীভাবে চিনাবাদামটি শ্বাসনালির ঠিক সেই জায়গায় আটকে ছিল, যেখান থেকে ডান ও বাম ফুসফুসের দিকে প্রধান শ্বাসনালি ভাগ হয়ে গেছে।    জাদুঘরের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটির বয়স ছিল আড়াই বছর। চিনাবাদাম শ্বাসনালিতে ঢোকার পর অল্প সময়ের মধ্যেই শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়। ফুসফুসে কোনো রোগ ছিল না। অর্থাৎ মূল সমস্যা ছিল শ্বাসনালিতে খাবার আটকে যাওয়া।    শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পেছনে শারীরিক কারণ রয়েছে। ছোট শিশুদের শ্বাসনালি প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় সরু। একই সঙ্গে তারা খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে গুঁড়ো করার মতো দক্ষতাও পুরোপুরি অর্জন করে না। বিশেষ করে মোলার দাঁত পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার আগে শক্ত খাবার চিবিয়ে নিরাপদভাবে গিলে ফেলা কঠিন হতে পারে।    খাবার খাওয়ার সময় শিশুর দৌড়ানো, হাঁটা, কথা বলা, হাসা কিংবা তাড়াহুড়ো করে খাওয়াও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব কারণে খাবার ভুল পথে শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসও ছোট শিশুদের খাবার খাওয়ার সময় বসিয়ে রাখা এবং তাদের নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দেয়।    বিশেষ করে চিনাবাদাম ও অন্যান্য বাদাম, বীজ, পপকর্ন, আস্ত আঙুর, শক্ত ক্যান্ডি, কাঁচা শক্ত সবজি এবং বড় বা শক্ত খাবারের টুকরো শিশুদের জন্য দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের বর্তমান নির্দেশনায় চার বছর বয়স পর্যন্ত বা শিশুর বিকাশ ও পরিপক্বতা অনুযায়ী আরও বেশি সময় এসব উচ্চঝুঁকির খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।    শুধু খাবার নয়, ছোট খেলনার অংশ, কয়েন, বেলুনসহ বিভিন্ন ছোট বস্তু থেকেও শিশুদের দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা শ্বাসনালির গঠন এবং খাবার চিবিয়ে গেলার দক্ষতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় বেশি ঝুঁকিতে থাকে।    মড অ্যাবট মেডিকেল মিউজিয়ামে থাকা চিনাবাদামের এই নমুনাটি তাই শুধু একটি পুরোনো চিকিৎসাবিষয়ক নিদর্শন নয়। একটি ছোট শিশুর জীবনে সামান্য একটি খাবার কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটিও এটি স্পষ্টভাবে দেখায়।   শিশুদের খাবার দেওয়ার সময় বয়স ও চিবানোর সক্ষমতা বিবেচনা করা, ঝুঁকিপূর্ণ খাবার ছোট করে বা নিরাপদভাবে প্রস্তুত করা এবং খাওয়ার সময় শিশুকে নজরদারিতে রাখা দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাকগিলের সংগ্রহে কয়েক দশক ধরে সংরক্ষিত সেই ছোট্ট শ্বাসনালিটি আজও যেন একই সতর্কবার্তাই দিয়ে যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ
গাজায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ ,পণ্য পৌঁছাতে প্রতিটি ধাপেই অর্থ দিতে হয় ইসরায়েলি সেনাদের

গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আরব নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পণ্যের সীমিত সরবরাহ ও প্রবেশে নানা বাধার কারণে খাবার, জ্বালানি, ব্যাটারি ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে।   গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বড় একটি অংশ যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় বাজারে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক নেই।   এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। যুদ্ধের আগে প্রায় ১৪০ ডলারে বিক্রি হওয়া একটি গাড়ির ব্যাটারির দাম এখন ২ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি। একইভাবে সোলার প্যানেলের দামও যুদ্ধের আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে।   সিগারেট ও তামাকের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্যাকেটের দাম সাম্প্রতিক সময়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। পূর্ণ অবরোধের সময় দাম আরও অনেক বেশি হয়েছিল।   শুধু সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পণ্য নয়, হাসপাতালগুলোও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে পড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধার কারণে হাসপাতাল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিকল্প পথে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে।   আরব নিউজের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, গাজায় পণ্য পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষকে বাড়তি অর্থ দিতে হয় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং সীমান্ত পারাপারের বিভিন্ন ধাপে এই অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয় গিয়ে যোগ হচ্ছে পণ্যের দামের সঙ্গে।   ইসরায়েল কিছু পণ্যের প্রবেশ সীমিত করেছে এবং কংক্রিট, স্টিলের পাইপ, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও এক্স-রে মেশিনসহ বেশ কিছু পণ্যকে ‘ডুয়াল-ইউজ’ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে। ইসরায়েলের দাবি, এসব পণ্য সামরিক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।   তবে গাজার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খাবার, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।   এই সংকটের মধ্যে সীমিত সরবরাহ, অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় এবং পণ্য প্রবেশের নানা বাধা মিলে গাজার বাজারে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মূল্যচাপ। ফলে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের সংকটও সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

লন্ডনের ৩৫ বছর বয়সী অ্যাম্বার উইলিয়ামসের জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলেছে অসহ্য ব্যথা, একের পর এক চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তা। তার দাবি, তীব্র মাসিকের ব্যথাকে বছরের পর বছর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলির সমস্যার সন্দেহে তার অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণ করেন। পরে এসব অস্ত্রোপচারও তার দীর্ঘদিনের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস।    উইলিয়ামসের সমস্যা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, প্রথম মাসিকের সময়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। চিকিৎসকের কাছে একাধিকবার যাওয়ার পরও তাকে বলা হতো, মাসিকের সময় এমন ব্যথা স্বাভাবিক। কয়েক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেও খুব একটা উপকার পাননি বলে জানান তিনি।   ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরে উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয় যে অ্যাপেন্ডিক্সে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের পরও তার মূল সমস্যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।    এরপরও বছরের পর বছর পেট ও পেলভিক ব্যথা চলতে থাকে। ২০১৬ সালে চিকিৎসকেরা গলস্টোন ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের কথা জানান। সে সময় তার গলব্লাডারও অপসারণ করা হয়। উইলিয়ামসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তাকেও বলা হয়েছিল যে অঙ্গটিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি।    এই সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি অতিরিক্ত রক্তপাত, বমি ও তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এমনকি ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও তার শারীরিক সমস্যার যোগসূত্র খোঁজা হয় এবং তাকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য।   প্রকৃত রোগের সন্ধান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। ২০২৫ সালে স্বামীকে নিয়ে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার পর তিনি ফার্টিলিটি সেবার দ্বারস্থ হন। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ তার দীর্ঘদিনের উপসর্গ ও এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান।    ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ল্যাপারোস্কোপি করার পর চিকিৎসকেরা ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডিম্বাশয় পেলভিক দেয়ালের সঙ্গে জোড়া লেগে থাকার মতো জটিল অবস্থাও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। সংস্থাটি বলছে, রোগটির কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বসহ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়।    অন্যদিকে অ্যাডেনোমায়োসিসে জরায়ুর যে টিস্যু সাধারণত জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে, সেটি জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম লক্ষণ তীব্র মাসিকের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত; কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথাও হতে পারে।    উইলিয়ামসের ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তবে তার ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণকে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিতভাবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা যায় কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই বিষয়টি তার নিজের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত।   দীর্ঘদিনের ব্যথা শেষ পর্যন্ত তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উইলিয়ামস। এখনো মাসিকের প্রথম কয়েক দিন তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যথা অনুভব করেন এবং নিয়মিত ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান। সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের রোগের কী প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।    তার অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তীব্র ও বারবার ফিরে আসা মাসিকের ব্যথাকে শুধু ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এমন ব্যথা যদি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথার সঙ্গে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ । 

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার, ১৯ আগস্ট ভোররাতে মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। এতে আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।    নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতরা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় গিয়েছিলেন এবং ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত পৌনে ২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর ঘটনাস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক ফায়ার ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছে যায়।    তবে আগুনের চেয়ে ঘন কালো ধোঁয়াই উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ধোঁয়ায় ভবনের সিঁড়ি ও করিডোর ঢেকে যাওয়ায় ওপরের তলায় আটকে পড়া অতিথিদের কাছে পৌঁছাতে ফায়ারফাইটারদের বেগ পেতে হয়। অনেক অতিথি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তেই তারা বের হওয়ার চেষ্টা করেন।    ভবনটির সরু সিঁড়ি এবং পর্যাপ্ত ইমার্জেন্সি এক্সিট না থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই ভবনের মধ্যে একাধিক ছোট আবাসিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    উদ্ধারকারীরা ভবন থেকে বহু মানুষকে বের করে আনেন। কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। একটি প্রতিবেদনে প্রায় ৮০ জনকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের দুই কর্মীকেও আটক করেছে পুলিশ।    প্রাথমিকভাবে মৃতদের অনেকের শরীরে বড় ধরনের দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন না থাকার তথ্য এসেছে। এ কারণে ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে শ্বাসরোধে মৃত্যুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের আগে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।   আগুন কীভাবে লেগেছে, সেটিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। তাই শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলেও তা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।    মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও নিউ মার্কেটের আশপাশের এলাকায় বহু বাজেট হোটেল রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা, কেনাকাটা ও অন্যান্য কাজে কলকাতায় যাওয়া মানুষের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অবস্থান করেন। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশিদের কাছে এলাকাটি পরিচিত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।    ঘটনার পর হোটেলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে।    এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলেও ভয়াবহ আগুনে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি প্রাণঘাতী হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইডের ‘এস্টেট রিকভারি’ নীতিতে বিপাকে মার্কিন পরিবারগুলো, ঝুঁকিতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইডের ‘এস্টেট রিকভারি’ নীতিতে বিপাকে মার্কিন পরিবারগুলো, ঝুঁকিতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সরকারি কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ গ্রহণকারী পিতামাতার মৃত্যুর পর পারিবারিক বাড়ি রক্ষা করা অনেক উত্তরাধিকারীর জন্যই এক জটিল ও স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মেডিকেইডের ‘এস্টেট-রিকভারি’ বা সম্পদ পুনরুদ্ধার নীতির কারণে বাড়িটির ওপর সরকারি লিয়েন বা দেনার দাবি তৈরি হয়।   তবে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ, বিশেষ ছাড় ও এস্টেট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই বাড়ি রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সন্তানের বয়স ২১ বছরের কম হলে কিংবা সন্তান যদি অন্ধ বা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হন, তবে মেডিকেইড সেই বাড়ি বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে না। এছাড়া কিছু অঙ্গরাজ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি পিতামাতাকে সেবাদানকারী হিসেবে অন্তত দুই বছর ওই বাড়িতে অবস্থান করেন, তিনিও বিশেষ ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন।   এর বাইরেও উত্তরাধিকারীরা ‘আনডিউ হার্ডশিপ ওয়েভার’ বা চরম আর্থিক সংকটের অজুহাতে বিশেষ মওকুফের আবেদন করতে পারেন। রাজ্য মেডিকেইড সংস্থার নোটিশ পাওয়ার সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এই আবেদনটি করতে হয়। যদি প্রমাণ করা যায় যে, বাড়িটি নিয়ে নিলে উত্তরাধিকারী সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়বেন বা সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হবেন, তবে কর্তৃপক্ষ ছাড় দিতে পারে।   জাতীয় অধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস ইন এজিং’-এর মতে, মেডিকেইডের এই সম্পদ পুনরুদ্ধার নীতি মূলত স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ একটি পারিবারিক বসতভিটাই প্রায়শ তাদের একমাত্র সম্বল। আইনি পরামর্শ ও সম্পদ রক্ষার সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেকেই নিজেদের বাড়ি হারিয়ে আবাসন সংকটে পড়েন, যা প্রজন্মগত সম্পদ গড়ার পথকে রুদ্ধ করে দেয়।   এদিকে উত্তরাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির বন্ধকি ঋণ এবং হোমওনার্স ইনস্যুরেন্স বা গৃহবীমা নিয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পিতামাতার মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে এস্টেটের এক্সিকিউটর বা প্রতিনিধি নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বন্ধকি ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তরাধিকারীর সঙ্গে কথা বলতে চায় না।   তবে বীমা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে পিতামাতার মৃত্যুর ৩০ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে অবহিত করা উচিত। অন্যথায় অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হলে বীমা কোম্পানি দাবি নাকচ করে দিতে পারে।   ফ্লোরিডার উইল ও ট্রাস্ট বিষয়ক আইনজীবী বার্ট স্কোভিলের মতে, গৃহবীমা পলিসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন মালিকের নামে স্থানান্তরিত হয় না। তাই আইনি জটিলতা ও বাড়ি ফাঁকা থাকার কারণে বীমা সুবিধা বাতিল হওয়া এড়াতে দ্রুত পলিসি হালনাগাদ করা এবং একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া অপরিহার্য।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান
চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান, পরে জানলেন বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী

মায়ের আলঝেইমার রোগ নিয়ে গবেষণায় সহায়তা হবে, এই বিশ্বাসে ২০১৩ সালে তার দেহ বিজ্ঞানের জন্য দান করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার বাসিন্দা জিম স্টফার। কিন্তু কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, মায়ের দেহ চিকিৎসা গবেষণায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সামরিক পরীক্ষায় দেহ ব্যবহারের অনুমতি তিনি স্পষ্টভাবেই দেননি।    জিমের মা ডরিস স্টফার ২০১৩ সালে ৭৪ বছর বয়সে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত অবস্থায় মারা যান। পরিবারের আশা ছিল, তার মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করলে আলঝেইমার সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যেতে পারে। একটি নার্সের পরামর্শে পরিবার যোগাযোগ করে অ্যারিজোনাভিত্তিক বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের সঙ্গে।    দেহ হস্তান্তরের সময় জিম একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেন। সেখানে চিকিৎসা গবেষণার অনুমতি দিলেও সামরিক, ট্রাফিক সেফটি কিংবা বিস্ফোরণসহ ধ্বংসাত্মক পরীক্ষায় মায়ের দেহ ব্যবহার করা যাবে না, এমন অপশনে তিনি ‘না’ চিহ্নিত করেছিলেন।    এর প্রায় ১০ দিন পর পরিবারকে কিছু দাহ করা দেহাবশেষ ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু ডরিসের দেহ আসলে কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। পরে রয়টার্সের তদন্তে উঠে আসে, বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার ডরিসের একটি হাত আলাদা করে দাহ করেছিল এবং সেই ছাই পরিবারকে ফেরত দিয়েছিল। বাকি দেহটি অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি গবেষণা প্রকল্পে পাঠানো হয়েছিল।    সেনাবাহিনীর ওই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল রাস্তার পাশে পাতা বোমা বা আইইডি বিস্ফোরণের সময় মানবদেহে কী ধরনের ক্ষতি হয়, তা বোঝা। ডরিসের দেহ সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অথচ তার মস্তিষ্ক আলঝেইমার গবেষণায় ব্যবহারই করা হয়নি।    রয়টার্সের পর্যালোচনা করা অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, ডরিস ছাড়াও অন্তত ২০টি দেহ একই ধরনের সামরিক বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে দাতাদের বা তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় সম্মতি ছিল না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নিজস্ব নীতিরও লঙ্ঘন ছিল।    সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পরে জানান, তারা সংশ্লিষ্ট পরিবারের আসল সম্মতিপত্র দেখেননি। বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের কাছ থেকে পরিবারগুলো সামরিক পরীক্ষায় সম্মতি দিয়েছে এমন আশ্বাসের ওপর নির্ভর করেছিলেন তারা।    ডরিসের দেহের প্রকৃত পরিণতি পরিবারকে জানিয়েছিল না বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার, না সেনাবাহিনী। ২০১৬ সালে রয়টার্সের একজন সাংবাদিকের কাছ থেকেই জিম প্রথম জানতে পারেন, তার মায়ের দেহ আলঝেইমার গবেষণায় নয়, বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল।    পরে জিমসহ আরও অনেক পরিবার বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মৃত স্বজনদের দেহ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল এবং সম্মতি ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে দেহ বা দেহাংশ বিক্রি করা হয়েছিল।    ২০১৯ সালে অ্যারিজোনার একটি সিভিল জুরি মামলার ২১ বাদীর মধ্যে ১০ জনের পক্ষে রায় দেয়। মোট ৫৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ মিলিয়ন ডলার ছিল ক্ষতিপূরণমূলক এবং ৫০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ।    মামলায় উঠে আসে, বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার চিকিৎসা গবেষণার কথা বলে দেহ সংগ্রহ করলেও কিছু দেহ সামরিক পরীক্ষায় বিক্রি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যতালিকায় একটি মাথাবিহীন ধড় ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত বিক্রির তথ্যও আদালতে দেখানো হয়।    বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের মালিক স্টিফেন গোর এর আগে ২০১৫ সালে বেআইনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। রয়টার্সের তদন্ত অনুযায়ী, এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ হাজার দাতার দেহ থেকে ২০ হাজারের বেশি দেহাংশ বিক্রি করেছিল।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং পুরো দেহ দানের ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক পার্থক্যও সামনে আনে। অঙ্গ প্রতিস্থাপন কঠোর ফেডারেল নিয়মের আওতায় থাকলেও গবেষণা ও শিক্ষার জন্য দান করা পূর্ণ মানবদেহ বা দেহাংশের বাণিজ্যে সে সময় তুলনামূলকভাবে খুব কম নজরদারি ছিল।    জিম স্টফারের জন্য বিষয়টি ছিল কেবল একটি আইনি লড়াই নয়। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মায়ের অসুস্থতা নিয়ে গবেষণায় সাহায্য করার আশায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত এমন এক ব্যবস্থার মুখোশ খুলে দেয় যেখানে পরিবারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও দান করা মানবদেহ অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিপাইনে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন এফবিআইয়ের তালিকাভুক্ত মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী
ফিলিপাইনে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন এফবিআইয়ের তালিকাভুক্ত মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী

অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা বলে পরিচালিত ৩৪ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা মামলায় ২১ বছরের বেশি কারাদণ্ড পাওয়া পলাতক মাইকেল লিজাসো মারাসিগানকে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দেখা গেছে। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় থাকা মারাসিগানকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।    প্যাসিফিক ডেইলি নিউজের কর্মীদের তোলা একটি ছবির বরাত দিয়ে হাওয়াই নিউজ নাউ জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ ম্যানিলায় একটি ক্যাফে থেকে বের হওয়ার সময় মারাসিগানের ছবি তোলা হয়। ছবিটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এফবিআইয়ের হনুলুলু ফিল্ড অফিস জানিয়েছে, মারাসিগান এখনও পলাতক এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।    ৫৪ বছর বয়সী মারাসিগান যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের দ্বৈত নাগরিক। গুয়ামের হাফা আদাই বিঙ্গো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত বিশাল প্রতারণা ও মানি লন্ডারিং স্কিমের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে এফবিআই ও আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন।    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মারাসিগান ও তার সহযোগীরা গুয়াম শ্রাইন ক্লাবের হাফা আদাই বিঙ্গো পরিচালনা করেন। খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষকে বলা হতো, বিঙ্গো থেকে পাওয়া অর্থ অসুস্থ শিশু এবং তাদের একজন অভিভাবককে চিকিৎসার জন্য হাওয়াইয়ের শ্রাইনার্স হাসপাতালে পাঠানোর কাজে ব্যয় হবে।    কিন্তু ফেডারেল আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। ওই সময় বিঙ্গো কার্যক্রম থেকে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার আয় হলেও এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরিয়ে নেওয়া ও পাচার করা হয়। বিচার বিভাগের হিসাবে, অ্যালোহা শ্রাইনার্সের পাওয়ার কথা ছিল এমন ১০ লাখ নয়, পুরো ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার সরিয়ে নিয়েছিলেন মারাসিগান ও তার সহযোগীরা।    ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিঙ্গো থেকে সংগৃহীত অর্থের মাত্র প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার অ্যালোহা শ্রাইনার্স এবং শিশুদের বিমানযাত্রার খরচে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ সালে বিঙ্গোর অর্থ থেকে সংগঠনটির ঘোষিত দাতব্য উদ্দেশ্যে কোনো অর্থই ব্যয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।    ২০২৫ সালের ১৩ মে ফেডারেল জুরি মারাসিগান ও তার সহযোগীদের অবৈধ জুয়া ব্যবসা পরিচালনার ষড়যন্ত্র, মানি লন্ডারিং ষড়যন্ত্র এবং ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। মারাসিগানকে পৃথক কয়েকটি মানি লন্ডারিং অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়।    দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ফিলিপাইনে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন মারাসিগান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফিরে না এসে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর ২০২৫ সালের জুনে প্রিট্রায়াল রিলিজের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়।    পলাতক থাকা অবস্থাতেই ২০২৬ সালের ১৮ মে তাকে সাজা দেন গুয়ামের ফেডারেল আদালত। মারাসিগানকে ২৬২ মাস বা প্রায় ২১ বছর ১০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অ্যালোহা শ্রাইনার্সকে ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার ক্ষতিপূরণ, ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৩ ডলার ফরফেইচার এবং ৬ হাজার ৫০০ ডলার বাধ্যতামূলক আদালত ফি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।    পরে তাকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এফবিআই তাকে পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জানিয়েছে, গুয়াম ও ফিলিপাইন উভয় জায়গাতেই তার যোগাযোগ রয়েছে।    ম্যানিলায় মারাসিগানের সাম্প্রতিক ছবিকে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট টম সাইমন হাওয়াই নিউজ নাউকে বলেছেন, ছবিটি সত্যি এবং সাম্প্রতিক হলে তদন্তকারীদের জন্য তার অবস্থান সংকুচিত করার বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।    ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মারাসিগানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তাদের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে তখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য ছিল না। অন্যদিকে এফবিআইয়ের হনুলুলু অফিস স্পষ্ট করেছে, মারাসিগান এখনও তাদের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।    যে অর্থ অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই অর্থের কোটি কোটি ডলার ব্যক্তিগত স্বার্থে সরিয়ে নেওয়ার এই মামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা বিশেষভাবে গুরুতর বলে বর্ণনা করেছেন। এখন ম্যানিলায় মারাসিগানের সম্ভাব্য উপস্থিতির নতুন তথ্য সামনে আসায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই দণ্ডিত প্রতারককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই
স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই, তাই নিজের সবকিছু বিক্রি করছেন ৮১ বছরের বৃদ্ধ

মেক্সিকোর সেলাইয়া শহরে ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ স্ত্রীকে চিকিৎসার খরচ জোগাতে খেলনা বিক্রি করতে বসেছিলেন। কিন্তু ৫ জানুয়ারি ‘দিয়া দে রেয়েস’ উপলক্ষে ব্যস্ত বাজারেও তার খেলনা বিক্রি হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে যখন তিনি দোকান গুটাতে শুরু করেন, তখন স্থানীয় সাংবাদিক মার্কো মানসেরা তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এরপরই বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি।   মেক্সিকোতে ‘দিয়া দে রেয়েস’ বা ‘তিন রাজা দিবস’ শিশুদের উপহার দেওয়ার একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্য। এই উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি রাতে সেলাইয়ার বুলেভার্দ আদলফো লোপেস মাতেওস এলাকায় খেলনা বিক্রির অস্থায়ী দোকান বসেছিল। সেখানেই নিজের ছোট্ট দোকান নিয়ে বসেছিলেন ডন হুয়ানিতো।   বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ত্রী অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা ও সংসারের খরচ মেটাতে অর্থের প্রয়োজন ছিল তার। সেই আশায় তিনি নতুন ও ব্যবহৃত কিছু খেলনা কিনে বিক্রির জন্য দোকান সাজিয়েছিলেন। খেলনা কেনার জন্য তিনি আগেই ঋণও নিয়েছিলেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও আশানুরূপ ক্রেতা পাননি তিনি। চারপাশে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও তার দোকানে বিক্রি ছিল খুবই কম। দিনের শেষে মাত্র প্রায় এক হাজার মেক্সিকান পেসোর খেলনা বিক্রি করতে পেরেছিলেন বলে একাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   পরদিন সকালে দোকান গুটানোর সময় তাকে হতাশ অবস্থায় দেখতে পান সাংবাদিক মার্কো মানসেরা। কথা বলার একপর্যায়ে হুয়ানিতো তার আর্থিক সংকট ও স্ত্রীর অসুস্থতার কথা জানান। এরপর সাংবাদিক তার পরিস্থিতি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি তুলে ধরেন এবং মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান।   ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে হুয়ানিতোর গল্প দেখে সেলাইয়ার মানুষজন তার দোকানে আসতে শুরু করেন। কেউ খেলনা কিনেছেন, কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছেন, আবার কেউ শুধু তাকে উৎসাহ দিতে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।   কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে যায় আগের দৃশ্য। একের পর এক মানুষ খেলনা কিনতে থাকায় তার দোকানের পণ্য দ্রুত কমে আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আজতেকা বাজিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তার প্রায় পুরো পণ্যই বিক্রি হয়ে যায়।   শুধু খেলনা কেনাই নয়, অনেকেই হুয়ানিতোর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে আর্থিক সহায়তা ও উৎসাহ দেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে এমনকি কয়েকজন ট্রাফিক কর্মকর্তারও তার সঙ্গে দেখা করে অর্থসহায়তা দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।   হুয়ানিতোর গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার পাশে দাঁড়ানো নাগরিকদের প্রশংসা করেন এবং বয়স্ক মানুষের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান।   একটি ব্যর্থ বিক্রির দিন শেষ পর্যন্ত সেলাইয়ার মানুষের সম্মিলিত সহায়তার ঘটনায় পরিণত হয়। ৮১ বছর বয়সী হুয়ানিতোর ছোট্ট খেলনার দোকান হয়তো বড় কোনো ব্যবসা ছিল না, কিন্তু তার গল্প সামাজিক মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যে সহমর্মিতা তৈরি করেছে, সেটিই হয়ে উঠেছে দিয়া দে রেয়েসের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
মই থেকে পড়ে গাছের ডাল মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছালেও সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রাণে বেঁচেছেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। ছবি: সংগৃহীত
মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকে যায় গাছের ডাল, অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির আঙিনায় গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন ৪৫ বছর বয়সী ট্রয় হ্যাথাওয়ে। মই থেকে পড়ে যাওয়ার সময় গাছের একটি মোটা ভাঙা ডাল তার মুখ ভেদ করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, এত গুরুতর আঘাতের পরও তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেননি। পরে চার ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা ডালটি সফলভাবে অপসারণ করেন।   সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সির গ্লাসবোরো এলাকায় নিজের বাড়ির পেছনের উঠানে গাছের ডাল কাটছিলেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। এ সময় হঠাৎ মই ভেঙে গেলে তিনি প্রায় আট ফুট নিচে পড়ে যান। মাটিতে উঠে দাঁড়ানোর পর তার ধারণা ছিল, হয়তো চোয়াল ভেঙে গেছে। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেননি, গাছের একটি বড় ভাঙা ডাল তার চোয়াল ভেদ করে মুখের ভেতর দিয়ে নাক অতিক্রম করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।   হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি অজ্ঞান হননি, বমি বমি ভাবও ছিল না। সামান্য ব্যথা ছাড়া নিজেকে মোটামুটি স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা দেখতে পান, ডালটি গাল, নাক এবং চোখের পাশ দিয়ে মস্তিষ্কের ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর ক্ষতি করেনি। পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় দ্রুত একজন নিউরোসার্জনের সহায়তা নেওয়া হয়।   অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া নিউরোসার্জন ডা. ক্রিস ফ্যারেল বলেন, ডালটি ছিল বেশ বড় এবং এটি রোগীর মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে গিয়েছিল। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা জরুরি ছিল। চিকিৎসকেরা মাথার খুলি কেটে অস্ত্রোপচার না করে নাকের ভেতর দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে ডালটি অপসারণের পরিকল্পনা করেন। মস্তিষ্কের কিছু টিউমার অপসারণেও একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।   প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা অস্ত্রোপচারে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডালটি বের করে আনা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ধরনের রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত ক্ষতি হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকটি সেলাই, সামান্য ক্ষতচিহ্ন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন হ্যাথাওয়ে। বর্তমানে তার গালে একটি দাগ রয়েছে। তবে দৃষ্টিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বা সংক্রমণজনিত কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।   তিন সন্তানের বাবা হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে এত বড় দুর্ঘটনার পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন।   চিকিৎসকদের মতে, ডালটি যদি কয়েক মিলিমিটার ভিন্ন পথে প্রবেশ করত, তাহলে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত এবং পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
ডাক্তার দাঁতের চিকিৎসা দিচ্ছেন এক অসুস্থকে। ছবি:সংগৃহীত
ইন্সুরেন্স না থাকলেও চিন্তা নেই, যুক্তরাষ্ট্রে দাঁতের চিকিৎসা পেতে পারেন প্রায় বিনামূল্যে এই ৫ উপায়ে

যুক্তরাষ্ট্রে কম খরচে বা বিনামূল্যে দাঁতের চিকিৎসা পাওয়ার ৫টি বৈধ উপায়   ৭ আগস্ট ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্রে দাঁতের চিকিৎসা অনেকের কাছেই ব্যয়বহুল। স্বাস্থ্যবীমা না থাকলে একটি সাধারণ ফিলিং থেকে শুরু করে রুট ক্যানেল পর্যন্ত চিকিৎসায় কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ডলার খরচ হতে পারে। তবে ফেডারেল সরকার, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এখনো বিনামূল্যে বা খুব কম খরচে দাঁতের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   স্বাস্থ্যসেবা–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও অন্তত পাঁচটি বৈধ উপায়ে স্বল্প আয়ের মানুষ কিংবা স্বাস্থ্যবীমাবিহীন ব্যক্তিরা দাঁতের চিকিৎসা নিতে পারেন।   প্রথমত, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দন্তচিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ কারণে সাধারণ বেসরকারি ক্লিনিকের তুলনায় চিকিৎসা ব্যয় অনেক কম হয়। অনেক ক্ষেত্রে দাঁত পরিষ্কার, প্রাথমিক পরীক্ষা এবং এক্স-রের মতো সেবা বিনামূল্যেও দেওয়া হয়।   দ্বিতীয়ত, ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীর আয়ের ভিত্তিতে চিকিৎসা ফি নির্ধারণ করা হয়। নিম্ন আয়ের ব্যক্তিরা এখানে অল্প খরচে কিংবা অনেক সময় সম্পূর্ণ বিনামূল্যেও দাঁত পরিষ্কার, ফিলিং এবং দাঁত তোলার মতো সেবা নিতে পারেন। স্বাস্থ্যবীমা না থাকলেও এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা পাওয়া যায়।   তৃতীয়ত, অলাভজনক বিভিন্ন সংস্থা প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অস্থায়ী বিনামূল্যের দন্তচিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করে। এসব শিবিরে সাধারণত আয়ের প্রমাণপত্রের প্রয়োজন হয় না। আগে এলে আগে সেবা—এই ভিত্তিতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।   চতুর্থত, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী অথবা গুরুতর অসুস্থ এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বেচ্ছাসেবী দন্তচিকিৎসকদের মাধ্যমে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এসব কর্মসূচির আওতায় দাঁতের কৃত্রিম সেট, রুট ক্যানেলসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসাও বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।   পঞ্চমত, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অলাভজনক দন্তচিকিৎসা কেন্দ্রগুলো রোগীর আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয় নির্ধারণ করে। আয় কম হলে চিকিৎসা ফি কমে যায়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যেও চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব। নিকটস্থ এমন কেন্দ্রের তথ্য জানতে ২১১ সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিজের শহরের নাম উল্লেখ করে অনলাইনে কম খরচের বা কমিউনিটি দন্তচিকিৎসা কেন্দ্র খুঁজলে কাছাকাছি সেবাকেন্দ্রের তথ্য সহজেই পাওয়া যায়। চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ নিয়ম, যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে প্রতিটি কর্মসূচির যোগ্যতা, সেবার ধরন এবং আবেদন পদ্ধতি অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি তথ্য যাচাই করা উচিত।   এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো চিকিৎসা, আইনি বা আর্থিক পরামর্শ নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Unknown আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০