যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার বিপুল চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে আবারও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় আইজ্যাক রোশেলের স্ত্রী ও জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অ্যালিসন কুচ সন্তান জন্মদানের পর পাওয়া প্রায় ২০ হাজার ডলারের হাসপাতাল বিল প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও যুক্তিসংগততা নিয়ে। ৩০ বছর বয়সী অ্যালিসন কুচ সম্প্রতি টিকটকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি তার হাসপাতালের বিলের প্রতিটি খাতের ব্যয় তুলে ধরেন। ভিডিওটি ইতোমধ্যে ১৫ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং হাজারো মা নিজেদের একই ধরনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কুচ জানান, সন্তান জন্মদানের জন্য ৪৮ ঘণ্টার হাসপাতালে অবস্থানের মোট বিল ছিল প্রায় ২০ হাজার ডলার। এর মধ্যে প্রসব কক্ষের জন্য প্রায় ৩,২০০ ডলার, প্রসব-পরবর্তী কক্ষের জন্য আরও ৩,২০০ ডলার, প্রসব বেদনা বাড়াতে ব্যবহৃত ওষুধ পিটোসিনের জন্য ১,১০০ ডলার, এপিডুরাল ওষুধের জন্য ৫৬০ ডলার এবং স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রায় ১০ হাজার ডলার বিল করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে চিকিৎসকের ফি। কুচের দাবি, তার প্রসূতি চিকিৎসক প্রসবের সময় মাত্র তিন মিনিট উপস্থিত ছিলেন। অথচ সেই চিকিৎসকের নামে ৬,১৮৫ ডলার বিল করা হয়েছে। ভিডিওতে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কয়েক মিনিটের উপস্থিতির জন্য এত বড় অঙ্কের বিল গ্রহণযোগ্য নয়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মা-বাবা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কেউ জানান, নবজাতক নার্সারিতে না গেলেও নার্সারির বিল দিতে হয়েছে। আবার কেউ দাবি করেন, চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলেও তার নামে হাজার হাজার ডলার বিল করা হয়েছে। এমনকি এক নারী জানান, নবজাতকের দীর্ঘদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকার কারণে হাসপাতালের বিল কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। অ্যালিসন কুচের ক্ষেত্রে অবশ্য এনএফএল-সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যবিমা থাকায় বীমা প্রতিষ্ঠান বিলের বড় অংশ পরিশোধ করেছে। শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের পকেট থেকে প্রায় ১,৫০০ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। তবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে অধিকাংশ পরিবারের জন্য এমন ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন। ভিডিওটির প্রতিক্রিয়ায় কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নরওয়ের অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, তাদের দেশে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার আওতায় সন্তান জন্মদানের জন্য প্রায় কোনো অর্থই পরিশোধ করতে হয় না। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালভেদে সন্তান জন্মদানের ব্যয় ব্যাপকভাবে ভিন্ন হতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার ধরন, চিকিৎসার পদ্ধতি, ব্যবহৃত ওষুধ এবং হাসপাতালের বিলিং নীতির ওপর মোট খরচ নির্ভর করে। তবে অ্যালিসন কুচের প্রকাশ করা বিল আবারও দেশটির মাতৃত্বকালীন চিকিৎসা ব্যয়, হাসপাতালের বিলিং পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী ব্রুক ওয়েস্ট গুরুতর স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছয় দিন কোমায় থাকার কারণে তিনি নিজের স্কুলের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেননি। তবে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় সুস্থ হয়ে এবার সেই হাসপাতালেই ফিরে গিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে ব্রুক ওয়েস্টকে কোরওয়েল হেলথ বোমন্ট ট্রয় হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (ADEM) নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত করেন। এ রোগে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে হঠাৎ করে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং রোগীর চলাফেরা, স্মৃতিশক্তি ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুক জানান, গত ৮ মে স্কুলের সিনিয়র প্রম অনুষ্ঠানের আগে তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল। কয়েক দিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ওয়াকার ব্যবহার করে প্রম অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না, চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা দেখা দেয় এবং আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। ব্রুকের মা বনি ওয়েস্ট জানান, আইসিইউতে চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য স্পাইনাল ট্যাপ, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ব্রুক খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা দিতে হয়। ব্রুকের বাবা জেসন ওয়েস্ট বলেন, শুরুতে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন না ঠিক কী রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। এতে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে ছিল। ছয় দিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তিনি অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিসে আক্রান্ত। এরপর তার পাঁচ দিন ধরে প্লাজমা এক্সচেঞ্জ থেরাপি করা হয়, যা তার অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ব্রুক নিজের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা তার জন্য বিশেষ আয়োজন করেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের একটি করিডোরজুড়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান চিকিৎসাকর্মীরা। পরে তার স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট হাসপাতালে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে স্নাতক সনদ তুলে দেন। ব্রুক বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ছোট একটি অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু হাসপাতালের সবাই যেভাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, সেটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ। যদিও এখনও শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে ফিজিক্যাল ও অকুপেশনাল থেরাপি নিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়েছে। আগামী শরৎ মৌসুমে তিনি গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন। ব্রুক বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার কোরওয়েল হাসপাতালে ফিরে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে করতালি, হাসি আর আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বাগত জানান। হাসপাতালের নার্স ক্যাথি হামামেহ বলেন, ব্রুক তার সবচেয়ে স্মরণীয় রোগীদের একজন। একজন মা হিসেবে তিনি ব্রুকের মায়ের উদ্বেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পেরেছিলেন। তাই ব্রুকের সুস্থ হয়ে ওঠা তাকে ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ রোগীর পরবর্তী জীবনের খবর তারা জানতে পারেন না। কিন্তু ব্রুকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তার সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো যাত্রা কাছ থেকে দেখতে পেরেছেন, যা একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।
আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে একজন নামকরা চিকিৎসককে অভিযুক্ত করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম মুরেল কার্নেল রুটলেজ জুনিয়র, যিনি ইস্ট পয়েন্টের ‘রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস’-এর স্বত্বাধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে রোগীদের কোনো চিকিৎসা সেবা না দিয়েই ভুয়া বিল জমা দিয়ে জর্জিয়া মেডিকেইড থেকে প্রায় ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের চেষ্টা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র এবং প্রমাণাদি থেকে জানা গেছে, ডাক্তার রুটলেজ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ১১ হাজার ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিয়েছিলেন। এসব দাবিকৃত বিলের সিংহভাগই ছিল রোগীদের মুখোমুখি বসে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক থেরাপি বা সাইকোথেরাপি দেওয়ার ভুয়া বিবরণী। এ ছাড়া সিস্ট অপসারণ, বিশেষ অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং ক্ষতস্থানের চিকিৎসার মতো জটিল কিছু জরুরি স্বাস্থ্যসেবা তিনি রোগীদের কখনোই দেননি, অথচ সরকারি তহবিল থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে নিয়মিত ভুয়া বিল পেশ করেছিলেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ডাক্তার রুটলেজ জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে মোট ৪৩ লাখ ডলারের ভুয়া দাবি সাবমিট করে ইতিমধ্যেই ২৬ লাখ ডলার সরকারি তহবিল থেকে অবৈধভাবে তুলে নিয়েছেন। এই বিশাল অর্থনৈতিক জালিয়াতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণার মোট ৪০টি পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, যারা সরকারি মেডিকেইড কর্মসূচি থেকে অর্থ চুরি করবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং চুরির সমস্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে। মার্কিন আইন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা বড় ধরনের অভিযোগটি মূলত মার্কিন বিচার বিভাগের ২০২৬ সালের ‘ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন’ বা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের একটি অংশ। দেশজুড়ে চালানো এই বিশাল ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৫৫ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এই দেশব্যাপী অভিযানে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ৯০ জনই হলেন লাইসেন্সধারী ডাক্তার এবং উচ্চ পদমর্যাদার অন্যান্য চিকিৎসা পেশাজীবী। এই একই তদন্তের অংশ হিসেবে লোনি রেলেফোর্ড নামের ৫৭ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে আটক করেছে জর্জিয়ার প্রসিকিউটররা। তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা এবং জালিয়াতির একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি কোনো ধরনের নার্সিং ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই নিজের অপরাধের সমস্ত ইতিহাস সম্পূর্ণ গোপন করে জর্জিয়ায় নার্স হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। অবৈধভাবে কাজ করার লক্ষ্যে তিনি ভুয়া নথিপত্র জমা দিয়ে এবং একজন আসল রেজিস্টার্ড নার্সের পরিচয় বা আইডি চুরি করে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের জালিয়াতি এবং পরিচয় চুরির পুরোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি অর্থ ও ট্যাক্সদাতাদের ডলার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও ফেডারেল অংশীদাররা একযোগে কাজ করছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আরও জানান, এই দেশব্যাপী জালিয়াতি বিরোধী প্রচেষ্টা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। তাঁরা প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির শতভাগ সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। চিকিৎসা খাতের এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
আমেরিকার অর্ধেকেরও কম নাগরিক এখন তাদের প্রয়োজনীয় মানসম্মত চিকিৎসা এবং ওষুধের খরচ মেটাতে সক্ষম বলে বিশ্বখ্যাত জরিপকারী সংস্থা গ্যালাপের নতুন একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। দেশটিতে চিকিৎসা খাতের ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি অনেক উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোও এখন তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যা মার্কিন সমাজব্যবস্থায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। গ্যালাপের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আমেরিকার মাত্র ৪৯ শতাংশ মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ডাক্তার দেখানো এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কেনার খরচ সহজেই মেটাতে পেরেছেন। ২০২২ সালে এই অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ নাগরিকদের হার ছিল সর্বোচ্চ ৬১ শতাংশ, যা সময়ের ব্যবধানে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়ে এখন ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। চিকিৎসার খরচ মেটানোর এই সক্ষমতা কমার পাশাপাশি আগামী দিনে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করা নিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ অনেক তীব্র হচ্ছে। গ্যালাপের এই জাতীয় সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫১ শতাংশ মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তারা আগামী এক বছরে নিজেদের চিকিৎসা খরচ চালানো নিয়ে খুবই চিন্তিত এবং ৪২ শতাংশ মানুষ ওষুধ কেনার খরচ মেটানো নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। এই তীব্র আর্থিক সংকট কেবল দেশটির নিম্ন বা মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সব স্তরের আয়ের মানুষের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যালাপের সমীক্ষায় দেখা গেছে, বছরে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৯ ডলার আয় করা সচ্ছল পরিবারগুলোর এক-তৃতীয়াংশ এবং বছরে কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় করা উচ্চবিত্ত পরিবারের এক-পঞ্চমাংশ মানুষ হয় ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না অথবা দামি ওষুধ কেনার মতো প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন। বয়সভিত্তিক সামাজিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫০ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের একটি নির্দিষ্ট অংশকে বাদ দিয়ে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমেরিকার সব বয়সের মানুষেরই নিজের চিকিৎসা খরচ মেটানোর বাস্তব ক্ষমতা অনেক কমেছে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রয়েছেন, কারণ এই তরুণদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বর্তমানে চিকিৎসার খরচ মেটাতে নিরাপদ আর্থিক অবস্থানে আছেন। জরিপের এই উদ্বেগজনক তথ্যগুলো মূলত গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর ওয়েব ও ডাক মেইলের মাধ্যমে নিখুঁত জরিপ চালিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই সংকটের মাঝেই গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়াম কমাতে একটি নতুন পরিকল্পনা এবং পরবর্তী মাসে সুলভ মূল্যে ওষুধ দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করার ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়া অঞ্চলের এক ক্যানসার আক্রান্ত সাবেক সেনা সদস্য আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী অস্ত্রোপচারের কল্যাণে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। মারাত্মক ও মরণঘাতী ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে মাত্র দেড় বছর বাঁচার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে ‘ব্রেন ম্যাপিং’ নামের বিশেষ এক সফল অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুস্থ এবং চিকিৎসকদের দেওয়া সময়ের চেয়েও দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। আসন্ন বাবা দিবসটি (ফাদার্স ডে) নিজের সন্তানদের জড়িয়ে ধরে কাটানোর অপেক্ষায় থাকা এই বাবাকে নিয়ে বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস সান ফ্রান্সিসকো একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৮ বছর বয়সী জো কুইরার্তে মার্কিন সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ দুই দশক সেবা দিয়ে অবসর নেওয়ার পর হঠাৎ একদিন খিঁচুনির শিকার হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, জো-এর মাথায় অত্যন্ত মারাত্মক ও আক্রমণাত্মক ঘরানার ব্রেন ক্যানসার ‘গ্লিওব্লাস্টোমা মাল্টিফর্মে’ বাসা বেঁধেছে। এই ক্যানসারের টিউমারগুলো পুরো মস্তিস্কে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জো-এর হাতে বড়জোর আর এক থেকে দেড় বছর সময় আছে। এই খবরে পুরো পরিবারে অন্ধকার নেমে এলেও জো এবং তার স্ত্রী অ্যাশলেই হাল ছাড়েননি। তাদের এই কঠিন সময়ে আশার আলো দেখান ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো (UCSF)-এর খ্যাতনামা নিউরোসার্জন ড. মিচ বার্গার। তিনি নিজেই অপারেশন থিয়েটারে ‘ব্রেন ম্যাপিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের এই যুগান্তকারী কৌশলটি আবিষ্কার করেছেন। এই পদ্ধতিতে রোগীকে প্রথমে অজ্ঞান করে মাথার খুলি খোলা হয়। এরপর রোগীকে জাগিয়ে তুলে মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট অংশে মৃদু বৈদ্যুতিক তরঙ্গ দেওয়া হয় এবং রোগীকে গুণতে বলা বা কোনো বস্তুর নাম বলতে বলা হয়। এই পরীক্ষা করার সময় রোগীর কথা বলতে বা কোনো কাজ করতে সমস্যা হলে চিকিৎসকরা বুঝে যান যে মস্তিষ্কের ওই অংশটি সচল এবং টিউমার কাটার সময় তারা সেই অংশগুলো এড়িয়ে চলেন। এর ফলে মস্তিষ্কের ক্ষতি না করেই সর্বোচ্চ পরিমাণ টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়। সম্প্রতি চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট অনকোলজি’-তে প্রকাশিত ১৬টি প্রতিষ্ঠানের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে ব্রেন টিউমারের রোগীরা প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের পর কয়েক দশক পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারেন। জো-এর ক্ষেত্রেও এই অপারেশনের পর তার বেঁচে থাকার মেয়াদ দেড় বছর থেকে বেড়ে আরও ৩ থেকে ৫ বছর বা তারও বেশি হয়েছে, যা তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সুস্থভাবে কাটাতে পারবেন। জো কুইরার্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "দেড় বছর আগে আমি জানতামই না যে এই বছরের বাবা দিবস দেখার জন্য আমি বেঁচে থাকব কিনা। তাই এবার আমি আমার সন্তানদের যত শক্ত করে সম্ভব বুকে জড়িয়ে ধরে রাখতে চাই।"
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ওরেগনের একটি হাসপাতাল ও এক হৃদরোগ সার্জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ২০৭ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন এক কিশোরীর বাবা-মা। তাদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের ভুলে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের হৃদযন্ত্রের নতুন ভালভ উল্টোভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। পরে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা সেই ভুল শনাক্ত করে নতুন করে অস্ত্রোপচার করেন এবং মেয়েটির জীবন রক্ষা পায়। মামলাটি করেছেন কিশোরীর বাবা-মা স্টিভেন স্টোকস ও লরি স্টোকস। তারা ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি (ওএইচএসইউ) এবং হৃদরোগ সার্জন ডা. আশোক মুরালিধারনের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ এনেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট ওএইচএসইউ হাসপাতালে কিশোরীর উন্মুক্ত হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করা হয়। জন্মগত ত্রুটিযুক্ত হৃদযন্ত্রের ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের হৃদযন্ত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে হার্ট-লাং বাইপাস মেশিনের সহায়তা নিতে হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা কিশোরীর হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে চালু করতে পারেননি। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এক্সট্রাকরপোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন (ইসিএমও) সহায়তায় রাখা হয়, যা কৃত্রিমভাবে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেন সরবরাহের কাজ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানিয়েছিলেন অপারেশন “খুব ভালোভাবে” সম্পন্ন হয়েছে এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যাটি অস্ত্রোপচারজনিত ধাক্কার কারণে হয়েছে। কিন্তু দিন পেরিয়ে গেলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরবর্তী কয়েক দিনে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধানমূলক অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকেরা সমস্যার কারণ খুঁজে পাননি। কিশোরীকে তিন দিন ধরে বুকের অস্ত্রোপচারের স্থান খোলা রেখেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয় এবং ইসিএমওর মাধ্যমে জীবিত রাখা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরে চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানান, মেয়েটির বেঁচে থাকার জন্য স্থায়ী কৃত্রিম হৃদযন্ত্র বা হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সে ধরনের চিকিৎসা তাদের হাসপাতালে সম্ভব নয়। এমনকি পরিবারকে বলা হয়, মেয়েটি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হতে পারে। তবুও বাবা-মা হাল ছাড়েননি। তারা কিশোরীকে ওয়াশিংটনের সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা নতুন করে পরীক্ষা করে দেখতে পান, ওএইচএসইউতে প্রতিস্থাপন করা কৃত্রিম হৃদযন্ত্রের ভালভটি উল্টোভাবে বসানো হয়েছে। ফলে ভালভটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারছিল না এবং হৃদযন্ত্র স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছিল। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা ভুলভাবে বসানো ভালভটি অপসারণ করে সঠিকভাবে নতুন ভালভ প্রতিস্থাপন করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, নতুন ভালভ বসানোর পরপরই কিশোরীর হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করে। তাকে হার্ট-লাং বাইপাস মেশিন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আর ইসিএমও সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যে তার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। প্রায় এক মাস পর তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠানো হয়। মামলায় বলা হয়েছে, ওএইচএসইউতে ছয় দিনের চিকিৎসার বিল ছিল ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। অন্যদিকে সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালে সংশোধনমূলক অস্ত্রোপচার ও ৩৫ দিনের চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। পরবর্তী চিকিৎসা ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। পরিবারটি মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ ডলার চিকিৎসাগত অবহেলার ক্ষতিপূরণ এবং ৩০ লাখ ডলার আর্থিক ক্ষতির জন্য দাবি করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও আশার আলো দেখাচ্ছে চীন। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি ক্যানসার মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান ক্যানসার হাসপাতালে আয়োজিত ক্যানসার সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই চিত্র উঠে আসে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান লেই হাইছাও জানান, ক্যানসারকে ভয় না পেয়ে প্রতিরোধের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অন্তত ৪০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে সুস্থ জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (স্ক্রিনিং) ওপর জোর দেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে চীনে নারীদের জন্য বিনামূল্যে জরায়ু ও স্তন ক্যানসার পরীক্ষা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত ৩০ কোটির বেশি জরায়ু ক্যানসার এবং ২০ কোটির বেশি স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ফলে দেশটিতে ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ সালে ক্যানসার রোগীদের পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার ছিল ৪০.৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চীন সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৪৬.৬ শতাংশে উন্নীত করা। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচারের পর ফিরে আসার ঝুঁকি কমেছে এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার হার ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের সমাধানে এবার এক নজিরবিহীন ও সাহসী পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি সাইকেডেলিক ড্রাগ, বিশেষ করে অত্যন্ত বিতর্কিত ‘আইবোগেইন’ (Ibogaine)-এর ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণার গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকানদের বিশেষ করে যুদ্ধফেরত সেনাদের (Veterans) মানসিক অবসাদ, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) এবং মাদকের আসক্তি দূর করতে এই ধরনের ড্রাগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, “যদি এই ওষুধগুলো মানুষের দাবিমতো কাজ করে, তবে তা আমাদের দেশে এক যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে।” কী এই আইবোগেইন? আইবোগেইন মূলত পশ্চিম আফ্রিকার একটি গুল্ম জাতীয় গাছ থেকে তৈরি এক ধরনের হ্যালুসিনোজেনিক বা দৃষ্টিভ্রমকারী ড্রাগ। যুক্তরাষ্ট্রে এটি দীর্ঘদিন ধরে হিরোইন বা এলএসডি-র মতো ‘শিডিউল-১’ ক্যাটাগরির নিষিদ্ধ ড্রাগ হিসেবে তালিকায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মস্তিষ্কের গভীরে প্রভাব ফেলে মাদকাসক্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিতর্ক ও ঝুঁকি: ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে যেমন খুশির জোয়ার বইছে সমর্থকদের মাঝে, তেমনি চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় একটি অংশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আইবোগেইন ব্যবহারের ফলে হার্টের গতি অনিয়মিত হয়ে পড়া এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এর ওপর গবেষণা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এর প্রাণঘাতী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই। প্রভাব ও অর্থায়ন:নতুন এই আদেশের ফলে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সাইকেডেলিক ওষুধের রিভিউ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করবে। এছাড়া গবেষণা খাতে অন্তত ৫০ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল তহবিল বরাদ্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এই অনুষ্ঠানে বিখ্যাত পডকাস্টার জো রোগান এবং স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র উপস্থিত ছিলেন।
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে এবার বিশ্বজুড়ে তীব্র হিলিয়াম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেল বা এলএনজি নিয়ে আলোচনার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়া এই ‘হিলিয়াম সংকট’ এখন আধুনিক সভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসা, সেমিকন্ডাক্টর এবং মহাকাশ গবেষণা খাতে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। বিশ্বের মোট হিলিয়াম চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমানে ইরানের নিষেধাজ্ঞায় এই রুটটি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এছাড়া কাতারে জ্বালানি গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে ইরানি হামলায় এলএনজির পাশাপাশি হিলিয়াম উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, কাতার একাই বিশ্বের ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ হিলিয়াম সরবরাহ করে। আমেরিকা ও রাশিয়ার সামান্য উৎপাদন থাকলেও তা বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে একেবারেই অপর্যাপ্ত। হিলিয়াম গ্যাসের এই সংকটে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে চিকিৎসা খাত। এমআরআই (MRI) মেশিন সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ হিলিয়াম প্রয়োজন হয়। এই গ্যাসের অভাব দেখা দিলে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। পাশাপাশি সংকটে পড়েছে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ নির্মাণ শিল্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) এই যুগে চিপ তৈরিতে হিলিয়াম অপরিহার্য, যা চিপ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে শীতল রাখতে ব্যবহৃত হয়। সরবরাহ বন্ধ থাকলে ডেটা সেন্টার এবং এআই প্রযুক্তির বিকাশ থমকে যেতে পারে। মহাকাশ গবেষণাতেও হিলিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। রকেট উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে ফাইবার অপটিক্স এবং ওয়েল্ডিং শিল্পেও এই গ্যাসের বিকল্প নেই। এদিকে ভারতের মতো দেশগুলো যারা তাদের চাহিদার শতভাগ হিলিয়াম আমদানি করে, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বর্তমানে হরমুজে আটকে থাকা ২০০টিরও বেশি জাহাজে আটকা পড়ে আছে জরুরি হিলিয়াম গ্যাস। হাতে থাকা মজুদ ফুরিয়ে আসছে দ্রুত, আর সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে পৃথিবী এক চরম সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে গত ১১ দিনে ৩৩ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে দায়ী করে তিনি বলেন, শিশুদের এই প্রাণহানির তথ্য গোপন রাখা পরিচালকের বড় অপরাধ, যার জন্য তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসা নৈতিকতা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রামেক পরিচালক প্রথমে মিডিয়ার সংবাদকে 'বাড়াবাড়ি' বলে উড়িয়ে দিলেও তদন্ত প্রতিবেদনে সত্যতা বেরিয়ে এসেছে। সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে মন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি ভেন্টিলেটর সরবরাহ করার কথা জানান এবং আরও দুটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহের আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোকপাত করেন: অপারেশনে গাফিলতি: রোগীর পেটে সুতা রেখে দেওয়ার মতো ঘটনা কেন ঘটে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। যৌন হয়রানির অভিযোগ: ঢাকা উত্তরের একজন সুপরিচিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি তীব্র নিন্দা জানান। অপ্রয়োজনীয় সার্জারি: নিজের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মন্ত্রী জানান, দেশে তাকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হলেও বিদেশের বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কেবল ব্যায়াম ও বিশেষ জুতোর মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়েছেন। পরিশেষে, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞান অর্জন এবং রোগীদের প্রতি আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।