আইসিই হেফাজতে ওষুধ বন্ধ, কোমার ঝুঁকিতে থাইরয়েড ক্যানসারজয়ী নারী
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে আইসিই হেফাজতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী বেলারুশের নাগরিক কাতসিয়ারিনা বার্তকোর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি অস্ত্রোপচারে অপসারণের পর গত ১১ বছর ধরে নিয়মিত হরমোন ও ক্যালসিয়াম ওষুধের ওপর নির্ভরশীল এই নারীকে ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, তার হরমোনের মাত্রা মারাত্মকভাবে অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে এবং চিকিৎসকরা মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।
বার্তকোকে গত জুনে ফ্লোরিডা থেকে কানসাসের লিভেনওয়ার্থে আইসিইর একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। তার আগে ৬ থেকে ৯ জুনের মধ্যে মাত্র চার দিনে তাকে তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। একটি জরুরি বিভাগে তাকে তীব্র শারীরিক সংকটে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিরায় ক্যালসিয়াম দেওয়া হয়।
বার্তকোর পার্টনার দিমিত্রি শিশভের অভিযোগ, কানসাসের ডিটেনশন সেন্টারে যাওয়ার পর তার প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে একাধিকবার সমস্যা হয়। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, ২৩ জুন তার লেভোথাইরক্সিন ওষুধটি নিয়ে নেওয়া হয় এবং ১০ জুলাই পর্যন্ত সেটি তাকে নিয়মিত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওষুধ বন্ধ থাকার কয়েক দিনের মধ্যেই বার্তকো চিকিৎসাকর্মীদের কাছে বুকের নিচে তীব্র ব্যথা, মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখার কথা জানান। ২৬ জুনের একটি মেডিকেল ফর্মে এসব উপসর্গের কথা লিখলেও নিচে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মী উল্লেখ করেন, এ সময় কোনো চিকিৎসা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই এবং তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন।
২ জুলাইয়ের একটি মেডিকেল নোটে বলা হয়, বার্তকো লেভোথাইরক্সিনে অ্যালার্জির কথা জানিয়েছেন। তবে ফিজিশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটস -এর চিকিৎসক সারাহ রাজা আদালতে দেওয়া নথিতে প্রশ্ন তোলেন, ওই নোটে বার্তকোর স্বাক্ষর নেই এবং তার দীর্ঘদিনের চিকিৎসা নথিতে লেভোথাইরক্সিন ও ক্যালসিয়াম নিয়মিত ব্যবহারের তথ্য রয়েছে।
এর মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির ইঙ্গিত মিলেছে রক্ত পরীক্ষায়। ১১ আগস্টের পরীক্ষায় তার TSH মাত্রা ১৪৮ দশমিক ৭৭ mIU/L পাওয়া যায়, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রার সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ৪ দশমিক ৫। চিকিৎসক সারাহ রাজা এই ফলকে গুরুতর হরমোন ঘাটতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
রাজা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বার্তকোর মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মিক্সিডিমা কোমায় পৌঁছানো রোগীদের মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বার্তকো বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কানসাসে স্থানান্তরের পর দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে কোনো এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা অন্য কোনো বাইরের বিশেষজ্ঞ দেখেননি বলে ফেডারেল কোর্টে জমা দেওয়া নথিতে আইসিই স্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারের মেডিকেল স্টাফ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং অফসাইট বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে জরুরি নয়, বরং রুটিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
আইসিই ও ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী কোর সার্ভিক বার্তকো যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে। তবে তার আইনজীবী ও পার্টনার চিকিৎসা নথির ভিত্তিতে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন।
বার্তকোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শুরু হয় ২০২২ সালের মার্চে এফ -১ স্টুডেন্ট ভিসায়। বেলারুশে ২০২০ সালের সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি বেলারুশের সমর্থনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করার কারণে তিনি দেশটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে তার পার্টনার জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন।
এর আগে গত ৫ মে মিয়ামিতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিরোধের ঘটনায় তাকে মিসডিমিনর ব্যাটারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ২ জুন ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় মামলাটি আর এগোয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড হয়নি। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ স্টুডেন্ট ভিসা সংক্রান্ত অভিবাসন বিষয়কে কেন্দ্র করে আইসিই তাকে হেফাজতে নেয়।
২২ জুলাই একজন ইমিগ্রেশন জাজ বার্তকোর বন্ড আবেদন নাকচ করেন এবং তাকে ফ্লাইট রিস্ক হিসেবে বিবেচনা করেন। একই সময়ে তিনি অন্যদের জন্য হুমকি নন বলে বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছিল বলে তার পক্ষের বক্তব্য।
এদিকে বার্তকোর চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে ফেডারেল আদালতে নতুন আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। আগস্টে তিনি হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা অথবা তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে লিভেনওয়ার্থের ডিটেনশন সেন্টারেই রয়েছেন বার্তকো। তার অ্যাসাইলাম শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। তার পার্টনার দিমিত্রি শিশভের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহতভাবে ব্যাহত হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় যুবক যুবান ইবানেজ গারওয়ারে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, চিকিৎসার খরচের কারণে তিনি ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি ভারতে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫০০ ডলার খরচের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া ২৩ হাজার ডলারের হাসপাতাল বিলের তুলনা করেছেন। যুবানের দাবি, কয়েক বছর আগে ভারতে বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কোনো দীর্ঘ কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই তাকে একটি প্রাইভেট রুম দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসিজি, এমআরআই, সিটি স্ক্যান ও বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসার পর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পরিকল্পনা দেওয়া হয় এবং পুরো চিকিৎসায় তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০০ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৭ হাজার রুপি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাস্কেটবল খেলার সময় হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন বলে জানান যুবান। তার দাবি, অ্যাম্বুলেন্সের খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলেও তিনি জানান। পরে চিকিৎসকেরা তাকে জানান, তার ছোট ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। যুবানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালের বিল শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ডলারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২২ লাখ রুপি। তার আরও দাবি, ভালো হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও নিজের পকেট থেকে প্রায় ৭ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার রুপি দিতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন যুবান। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো ও জীবনযাপনের কিছু সুবিধা থাকলেও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলছে। তবে যুবানের অভিজ্ঞতা তার ব্যক্তিগত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার খরচ রোগীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স, চিকিৎসার ধরন, হাসপাতাল, ডিডাক্টিবল, কো-পে এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে পুরো যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
নিউ ইয়র্কে নতুনদের জানা জরুরি ১০ সরকারি ও কমিউনিটি রিসোর্স
ট্রাম্পের গলফ কোর্স প্রকল্পে কাটা হলো ওয়াশিংটন ডিসির শতবর্ষী জাপানি চেরি গাছ
ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বিল, ঈদ উৎসব উদযাপনে বন্ধ থাকতে পারে স্কুল!
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে আইসিই হেফাজতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী বেলারুশের নাগরিক কাতসিয়ারিনা বার্তকোর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি অস্ত্রোপচারে অপসারণের পর গত ১১ বছর ধরে নিয়মিত হরমোন ও ক্যালসিয়াম ওষুধের ওপর নির্ভরশীল এই নারীকে ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, তার হরমোনের মাত্রা মারাত্মকভাবে অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে এবং চিকিৎসকরা মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। বার্তকোকে গত জুনে ফ্লোরিডা থেকে কানসাসের লিভেনওয়ার্থে আইসিইর একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। তার আগে ৬ থেকে ৯ জুনের মধ্যে মাত্র চার দিনে তাকে তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। একটি জরুরি বিভাগে তাকে তীব্র শারীরিক সংকটে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিরায় ক্যালসিয়াম দেওয়া হয়। বার্তকোর পার্টনার দিমিত্রি শিশভের অভিযোগ, কানসাসের ডিটেনশন সেন্টারে যাওয়ার পর তার প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে একাধিকবার সমস্যা হয়। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, ২৩ জুন তার লেভোথাইরক্সিন ওষুধটি নিয়ে নেওয়া হয় এবং ১০ জুলাই পর্যন্ত সেটি তাকে নিয়মিত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওষুধ বন্ধ থাকার কয়েক দিনের মধ্যেই বার্তকো চিকিৎসাকর্মীদের কাছে বুকের নিচে তীব্র ব্যথা, মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখার কথা জানান। ২৬ জুনের একটি মেডিকেল ফর্মে এসব উপসর্গের কথা লিখলেও নিচে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মী উল্লেখ করেন, এ সময় কোনো চিকিৎসা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই এবং তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। ২ জুলাইয়ের একটি মেডিকেল নোটে বলা হয়, বার্তকো লেভোথাইরক্সিনে অ্যালার্জির কথা জানিয়েছেন। তবে ফিজিশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটস -এর চিকিৎসক সারাহ রাজা আদালতে দেওয়া নথিতে প্রশ্ন তোলেন, ওই নোটে বার্তকোর স্বাক্ষর নেই এবং তার দীর্ঘদিনের চিকিৎসা নথিতে লেভোথাইরক্সিন ও ক্যালসিয়াম নিয়মিত ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির ইঙ্গিত মিলেছে রক্ত পরীক্ষায়। ১১ আগস্টের পরীক্ষায় তার TSH মাত্রা ১৪৮ দশমিক ৭৭ mIU/L পাওয়া যায়, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রার সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ৪ দশমিক ৫। চিকিৎসক সারাহ রাজা এই ফলকে গুরুতর হরমোন ঘাটতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। রাজা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বার্তকোর মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মিক্সিডিমা কোমায় পৌঁছানো রোগীদের মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বার্তকো বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কানসাসে স্থানান্তরের পর দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে কোনো এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা অন্য কোনো বাইরের বিশেষজ্ঞ দেখেননি বলে ফেডারেল কোর্টে জমা দেওয়া নথিতে আইসিই স্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারের মেডিকেল স্টাফ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং অফসাইট বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে জরুরি নয়, বরং রুটিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আইসিই ও ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী কোর সার্ভিক বার্তকো যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে। তবে তার আইনজীবী ও পার্টনার চিকিৎসা নথির ভিত্তিতে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। বার্তকোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শুরু হয় ২০২২ সালের মার্চে এফ -১ স্টুডেন্ট ভিসায়। বেলারুশে ২০২০ সালের সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি বেলারুশের সমর্থনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করার কারণে তিনি দেশটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে তার পার্টনার জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন। এর আগে গত ৫ মে মিয়ামিতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিরোধের ঘটনায় তাকে মিসডিমিনর ব্যাটারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ২ জুন ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় মামলাটি আর এগোয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড হয়নি। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ স্টুডেন্ট ভিসা সংক্রান্ত অভিবাসন বিষয়কে কেন্দ্র করে আইসিই তাকে হেফাজতে নেয়। ২২ জুলাই একজন ইমিগ্রেশন জাজ বার্তকোর বন্ড আবেদন নাকচ করেন এবং তাকে ফ্লাইট রিস্ক হিসেবে বিবেচনা করেন। একই সময়ে তিনি অন্যদের জন্য হুমকি নন বলে বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছিল বলে তার পক্ষের বক্তব্য। এদিকে বার্তকোর চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে ফেডারেল আদালতে নতুন আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। আগস্টে তিনি হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা অথবা তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে লিভেনওয়ার্থের ডিটেনশন সেন্টারেই রয়েছেন বার্তকো। তার অ্যাসাইলাম শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। তার পার্টনার দিমিত্রি শিশভের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহতভাবে ব্যাহত হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারে।
শিকাগোতে নতুন নিয়ম, সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য
মৃত্যুও এখন ব্যয়বহুল! আমেরিকায় প্রিয়জনের মৃত্যুতে খরচের চাপে পরিবারগুলো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের ৩১ বছর বয়সী অ্যামান্ডা থম্পসন স্থানীয় একটি ফেসবুক গ্রুপে কাস্টিংয়ের খবর দেখে তাঁর সাড়ে সাত মাস বয়সী ছেলে উইলিয়ামকে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ভার্জিন রিভার’-এর একটি চরিত্রের জন্য আবেদন করান। বড় কোনো প্রত্যাশা ছিল না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশুটিই জায়গা করে নেয় জনপ্রিয় এই সিরিজের সেটে। অ্যামান্ডার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উইলিয়াম মোট ১৩ দিন শুটিংয়ে অংশ নেয়। প্রতিদিন আট ঘণ্টার জন্য সে পেত ৩৬০ ডলারের কিছু বেশি বিশেষ ট্যালেন্ট রেট। এমনকি একদিন সেটে মাত্র দেড় ঘণ্টা থাকলেও পুরো দিনের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তার আয় ৪ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি হয়েছে। অ্যামান্ডা জানান, ছেলের উপার্জনের পুরো অর্থই তাঁর নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে, ভবিষ্যতে কলেজের খরচে ব্যবহারের জন্য। নিজের জন্য কোনো ব্যবস্থাপনা ফি নেননি তিনি। শুটিংয়ের সময় শিশুর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টিও কঠোরভাবে দেখা হতো বলে জানান অ্যামান্ডা। ক্যামেরার সামনে উইলিয়ামকে দেওয়ার সময় তিনি সবসময় ১০ ফুটের মধ্যে থাকতেন। প্রতিটি দৃশ্যের আগে তিনিই শিশুটিকে অভিনেতাদের হাতে তুলে দিতেন। সেটটিতে সার্বক্ষণিক একজন বিশেষ বেবি নার্সও ছিলেন। শিশুদের কীভাবে কোলে নেওয়া হচ্ছে, তাদের কোনো অস্বস্তি হচ্ছে কি না এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিরতি দেওয়া হচ্ছে কি না, এসব বিষয় তিনি নজরে রাখতেন। শিশুদের অল্প সময়ের জন্য ক্যামেরার সামনে রাখা হতো, এরপর দীর্ঘ বিরতি দেওয়া হতো। ফলে উইলিয়ামের ঘুম ও খাওয়ার স্বাভাবিক রুটিনও বেশিরভাগ সময় ঠিক ছিল। অ্যামান্ডা পরে টিকটকে তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে ভিডিওটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং ১৩ লাখের বেশি ভিউ হয়। এতে শিশু অভিনেতাদের কাজ নিয়ে অনেকের আগ্রহ তৈরি হয়। অ্যামান্ডার ভাষ্য, বাইরে থেকে শিশুদের অভিনয় নিয়ে অনেকের যে ধারণা রয়েছে, বাস্তবে সেটের পরিবেশ তার চেয়ে অনেক বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক। উইলিয়ামের এখন একজন এজেন্টও রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সে অভিনয় চালিয়ে যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত তার ওপরই ছেড়ে দিতে চান অ্যামান্ডা।
চাকরির বাইরে আমেরিকায় আয়! কম পুঁজিতে বাংলাদেশিদের জন্য ১০টি ব্যবসার আইডিয়া
২০ বছর পর কর্মস্থলে হঠাৎ মেয়ের দেখা, কিশোরী বয়সে দত্তক দেওয়া সন্তানকে ফিরে পেলেন মা