ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি
নিজেকে ‘শহীদ পরিবারের সন্তান’ দাবি করলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদে গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার শুরুতে নিজেকে ‘শহীদ পরিবারের সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।   সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "মাননীয় স্পিকার, আপনি একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর বিক্রম। আমিও ক্ষুদ্র একটি শহীদ পরিবারের সন্তান। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, আমাদের পরিবারের কয়েকজনের রক্ত দিয়ে তাদের সঙ্গে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে।"   তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। শফিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, "বিপুল প্রত্যাশার জায়গায় দাঁড়িয়ে আজ আমাদের বলতে হচ্ছে যে, স্বাধীনতার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।"   রাজনৈতিক মহলে ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এর আগে বিভিন্ন দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা অর্থাৎ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এবারই প্রথমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি উত্থাপন করলেন।   উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদানদের ত্যাগের সঙ্গে নিজেদের পরিবারের সম্পৃক্ততার এই দাবি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন। ফাইল ছবি
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংসদে সরকার-বিরোধী দল তুমুল বিতর্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা ও বিতর্ক হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানালে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী আমি এই নোটিশ উত্থাপন করছি। স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ বিধি মেনেই এটি আনা হয়েছে।” তবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদীয় রীতির দোহাই দিয়ে ৭১ বিধি (জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়) শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রদান নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা তীব্র আপত্তি ও শোরগোল শুরু করেন।   বিতর্কে অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশে গণভোট হয়েছে, যা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সংসদকে জনগণের সেই রায় ও জুলাই সনদকে সম্মান দিতে হবে।” দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই বিতর্কে ৬৪ ও ৭১ বিধির ব্যাখ্যা নিয়ে উভয় পক্ষ অনড় অবস্থানে থাকে। শেষ পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, নোটিশটি গৃহীত হয়েছে এবং সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। স্পিকারের এই আশ্বাসের পর সংসদের পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে আমির: জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি বন্ধ না করলে পরিণতি ভালো হবে না

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে ‘ধোঁকাবাজি’ চলতে থাকলে পরিণতি ভালো হবে না।   ডা. শফিকুর রহমান সরকারের যাতায়াতের অতিরিক্ত ভাড়া ফেরতের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ঢাকা ছেড়ে যাওয়া লাখ লাখ মানুষকে খুঁজে বের করে টাকা ফেরত দেওয়া বাস্তবে খুব কঠিন। নির্বাচনে অনিয়ম থাকলেও দেশের অচল অবস্থা এড়াতে তা মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে সরকার যদি সঠিক পথে না আসে, তবে দেশের মানুষ এবং ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ক্ষমা করবে না।   বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবনের ব্যবহার নিয়ে তিনি জানান, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি সেখানে থাকবেন না। ভবনটি শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় কাজে ও বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ব্যবহৃত হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারে থেকে চাঁদাবাজি করার প্রয়োজন নেই এবং জনগণের ওপর জুলুম চলবে না। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জনহিতকর পদক্ষেপে জামায়াতে ইসলামী সমর্থন দেবে, কিন্তু জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হলে তা রাজপথে প্রতিহত করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি
ওয়াকআউট-প্রতিবাদের মধ্যেই অধিবেশন মুলতবি

তীব্র প্রতিবাদ, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনের কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশন আগামী রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।   অধিবেশনের বিধি অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’।   পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।   বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। ভাষণে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার দল বিএনপি ও মিত্রদের অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সরকারি দলের সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়।   অধিবেশন শেষে সংসদ কক্ষের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় অভিভাবক হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি এবং এই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার নৈতিক অধিকার তার নেই।   বিরোধী দলের অন্য নেতারাও অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করেছে, তাদের কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।   রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার অধিবেশন আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের নাম না নিয়ে ইরানে হামলার নিন্দা জামায়াত আমিরের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।   বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।”   তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।”   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।”   তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”   বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি প্রটোকলের গাড়ি ব্যবহার করলেন না জামায়াত আমীর

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রথমবার সিলেট সফরে এসে সরকারি প্রটোকলের গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সিলেটই তার নিজ শহর।   শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় তাকে আনতে জেলা প্রশাসনের একটি সরকারি প্রটোকল গাড়ি ও একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তবে অপেক্ষমাণ সরকারি গাড়িটি দেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এটা কি সরকারি গাড়ি? আমি ১২ তারিখের পরে চড়ব। আপনারা এসেছেন, আমি কৃতজ্ঞ। তবে আমি ক্ষমতার প্রদর্শন করতে চাই না। ইনশাআল্লাহ, সংসদ অধিবেশন শুরু হলে তখন ব্যবহার করব।” এরপর তিনি প্রটোকলের গাড়ি ফিরিয়ে দেন।   বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সিলেটে দিনটি ছিল তার ব্যস্ততায় ভরা। তিনি মোট তিনটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জুমার নামাজের আগে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’-এর সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পরে নগরীর কুদরতউল্লাহ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।   সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নতুন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে তিনি বলেন, “সরকারি দলের কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কাঁচা কথাবার্তা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং অপরাধকে উসকে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ কীভাবে ভালো পথে এগোবে?”   রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না। বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি। দেশের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”   বিকেলে তিনি সুবিদ বাজারে সিলেট প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। এরপর সন্ধ্যা ৫টা ২৫ মিনিটে প্রেসক্লাব থেকে রওনা হয়ে আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং ইফতার করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কোথায় থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত আমির?

রাজধানীর অভিজাত মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক ‘লাল বাড়ি’ খ্যাত ২৯ নম্বর বাসভবনটি আবারও ফিরে পাচ্ছে তার হারানো রাজনৈতিক জৌলুস। দীর্ঘ আড়াই দশক পর এই বাড়িতে উঠতে যাচ্ছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইতিমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ভবনটি তাঁর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।   ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান চিত্র ব্রিটিশ আমলে নির্মিত প্রায় আড়াই একর জায়গার ওপর এই দোতলা লাল ভবনটি বাংলাদেশের রাজনীতির বহু চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী। ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখানে অবস্থান করেছিলেন। তবে ২০০১ সালের পর থেকে দীর্ঘ ২৫ বছর এই বাসভবনটি কোনো বিরোধীদলীয় নেতার পদচারণায় মুখরিত হয়নি।   সংস্কার কাজ ও প্রস্তুতি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাড়ির রঙের ফিনিশিং ও রাস্তার কাজ চলছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি কাজ আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে এটি বসবাসের উপযোগী করা হবে।   রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতার জন্য এই বাড়িটি নির্ধারিত। দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে ওঠার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে আলোচনার পর জানানো হবে। উল্লেখ্য, এর আগে বেগম রওশন এরশাদ, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং জিএম কাদের এই বাড়িটি বরাদ্দের আবেদন করলেও নানা কারণে তাদের এখানে থাকা হয়নি।   ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মিন্টো রোডের এই গুরুত্বপূর্ণ ভবনটি আবারও ক্ষমতার ভারসাম্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জনগণের টাকায় বেতন পাওয়া পুলিশের কাজ জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, দমন করা নয় : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণের অর্থে পরিচালিত পুলিশ বাহিনীর প্রধান কাজ হলো নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা বা দমন-পীড়ন চালানো নয়। আজ মঙ্গলবার তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি পুলিশের বর্তমান ভূমিকা ও আগামীর রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে এক শক্তিশালী বার্তা প্রদান করেন।   বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালকে দেশের জন্য একটি দীর্ঘ 'দুঃসময়' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময়ে একদল অসৎ ও দলদাস পুলিশ কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে নির্লজ্জ ভূমিকা রেখেছিল। যার চড়া মাসুল হিসেবে ২০২৪ সালে আমরা পুলিশের নৈতিক ভিত্তি ধসে পড়া এবং সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ প্রত্যক্ষ করেছি।   সম্প্রতি ছাত্র, সাংবাদিক এবং শ্রমজীবী মানুষের ওপর পুলিশের আক্রমণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “নিরীহ নাগরিকদের ওপর এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি মূলত সেই পুরনো ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়ন সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি। আমি এহেন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”   তিনি প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় কোনো শক্তিই সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যারা পুলিশ বাহিনীকে নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইবে কিংবা বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।   পরিশেষে তিনি এক নতুন ও মানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বলেন, “আইনের শাসন মানে কেবল শক্তির আস্ফালন নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। পুলিশ বাহিনীকে প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে রাষ্ট্র হবে মানুষের ভরসার স্থল, ভয়ের নয়।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ইফতার মাহফিলে যাওয়ার পথে অসুস্থ জামায়াত আমির

রাজধানীতে একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় কাফরুল পশ্চিম থানার আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি নির্ধারিত সময়ে রওনা দিয়েও যাত্রাপথে হঠাৎ বমি করেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এই আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেননি।   ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান অতিথি হিসেবে রওনা হওয়া সত্ত্বেও অনাকাঙ্ক্ষিত অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। তিনি সকলের কাছে জামায়াত আমিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
চাঁদা না দিলেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে: ডা. শফিকুর রহমানের উদ্বেগ

জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের চাঁদাবাজির বিস্তৃত সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে চাঁদা না দেওয়াকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।   ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সমাজে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যখন চাঁদাবাজির মতো অনিয়মের প্রতি নীরবতা বা পরোক্ষ বৈধতা প্রদর্শন করেন, তখন এর দায় সংশ্লিষ্ট সকলের ওপর বর্তায়। এর ফলে সাধারণ ও নিরীহ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। দেশের নাগরিকদের তিনি আহ্বান জানান, সম্মিলিতভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।   ডা. শফিকুর রহমানের মতে, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে চাঁদাবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ডা. শফিকুর রহমান
৫২ ও জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলার সময় এসেছে

মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিতে হয়। সেই একই প্রেরণা থেকে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছে। এখন সময় এসেছে সব ভেদাভেদ ভুলে ৫২ ও জুলাইয়ের রক্তস্নাত চেতনায় একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার।   শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৫২ সালের সেই বীর সন্তানদের আত্মত্যাগ আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তাঁদের সেই ত্যাগের পথ ধরেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আমাদের সন্তানদের দেখা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এখন এক টেবিলে আসতে হবে। আমরা এমন এক রাষ্ট্র চাই যেখানে রাজনৈতিক নিপীড়ন থাকবে না, থাকবে কেবল ন্যায়বিচার ও সুশাসন।”   সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, “জনগণ আমাদের ওপর যে পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা পালনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। একটি গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে আমরা সংসদে ও রাজপথে সবসময় জনগণের অধিকারের কথা বলব। সরকারের প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কাজকে আমরা স্বাগত জানাব, তবে জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমরা রাজপথে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”   মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় তিনি বলেন, “বাংলা ভাষাকে কেবল ফেব্রুয়ারির আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে জীবনের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষাকে ধারণ করেই বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।”   এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং ১১ দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা ভাষা শহীদ ও জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে বিরোধীদলীয় নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এটি তার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন।   শুক্রবার রাত ১২টা ২২ মিনিটে তিনি শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়।   শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এছাড়া ১১ দলীয় জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।   দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ডা. শফিকুর রহমান আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহীদদের মাজার জিয়ারত করবেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করবেন।   মহান একুশের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
২০২৮ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা!

আগামী তিন বছরের (২০২৬-২০২৮) জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই কমিটি গঠন ও শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নতুন এই কাঠামোতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে পুনরায় সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।   শীর্ষ নেতৃত্বে যারা: ঘোষিত নতুন কমিটিতে ৪ জন নায়েবে আমির এবং ৭ জন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে রয়েছেন মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।   শক্তিশালী নির্বাহী পরিষদ ও নারী প্রতিনিধিত্ব: ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বড় একটি অংশ স্থান পেয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন এবং ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১৭ জন নারী সদস্য রয়েছেন। সাংগঠনিক কাঠামোতে নারীর এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে দলের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।   ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চল ও নির্বাচন কমিশন: সারাদেশের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে পৃথক পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে মিয়া গোলাম পরওয়ার, চট্টগ্রামে মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান এবং সিলেটে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মতো দক্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাওলানা এটিএম মাছুমের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছে।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই নতুন কমিটির মূল লক্ষ্য হবে মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে পুনর্গঠন করা এবং আসন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত প্রস্তুতি সুসংহত করা। জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
ডা. শফিকুর রহমান
জুলাইকে অস্বীকার করা মানে শহিদদের অপমান: বিপিএনকে শফিকুর রহমানের কড়া বার্তা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নবনিযুক্ত বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ ও শহিদদের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করার শামিল। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিএনপির শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর জামায়াত আমিরের এই প্রকাশ্য অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   ডা. শফিকুর রহমান জুলাই বিপ্লবের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “জুলাইর কারণেই আজ দেশে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থান না হলে তারেক রহমান সাহেব প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, আর আমিও বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না। সুতরাং জুলাইকে আমাদের অবশ্যই স্বীকৃতি ও সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে যেসব সংস্কার প্রস্তাব সামনে এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এই সংসদের পবিত্র দায়িত্ব। সরকারি দল সংস্কারের উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে, অন্যথায় জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে সোচ্চার থাকবে।   কেবল রাজপথ বা সংসদ নয়, সমাজ ও মানুষের মন থেকেও ‘আবর্জনা’ দূর করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। মিরপুরের সড়কে পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়া। পরিবেশ সুন্দর থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মনোজগতে পড়ে। আমরা এমন এক সমাজ চাই যেখানে মানুষ দায়িত্ববোধ সম্পন্ন ও দরদী হবে।” এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীকে সামাজিক ও নৈতিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।   এ সময় তার সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য মূলত সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, যা আগামী দিনে সংসদীয় বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাস্তা পরিস্কারের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি এলাকায় কাজ শুরু জামায়াত আমিরের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাঁর মেয়াদের প্রথম দিনটি শুরু করেছেন এক ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক কাজের মাধ্যমে। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ফজরের নামাজের পর রাজধানীর মিরপুর মনিপুর এলাকার বাইতুর নুর মসজিদের সামনের রাস্তা নিজ হাতে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন তিনি।   নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তিনি এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামেন। এ সময় তাঁর সাথে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পরিচ্ছন্নতা কাজ শেষে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু ড্রেন বা রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করা নয়, বরং সমাজ ও মানুষের মনের ভেতরে জমে থাকা বছরের পর বছরের আবর্জনা ও কলুষতা দূর করা। পরিবেশ সুন্দর হলে মানুষের মনোজগতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা এক দরদী ও দায়িত্বশীল জাতি গঠনে সহায়তা করে।”   তিনি আরও ঘোষণা করেন, এটি কোনো সাময়িক বা লোকদেখানো কর্মসূচি নয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে তারা প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর অন্তত আধা ঘণ্টা নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি মিরপুর-কাফরুল এলাকাকে একটি ‘মডেল এলাকা’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং দল-মত ও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।   এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপির সংসদ সদস্যদের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে’র শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিএনপির এই শপথ না নেওয়া মূলত জুলাই বিপ্লবকে অপমানের শামিল। আজ জুলাই বিপ্লব সফল না হলে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, আর আমিও বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না। এই ঐতিহাসিক অর্জনকে সম্মান জানানো আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।”   ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ঢাকায় থাকলে নিয়মিত এই কাজে অংশ নেবেন এবং ঢাকার বাইরে গেলেও তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে এই পরিচ্ছন্নতার ধারা অব্যাহত রাখবেন। নতুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ‘সেবকের ভূমিকা’ সাধারণ মানুষের মাঝে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে ভারতের শুভেচ্ছা, সম্পর্ক জোরদারে আশাবাদ

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিক্রম মিশ্রি। নতুন বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ায় ভারতের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।   মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   হাইকমিশন জানায়, পররাষ্ট্রসচিব দুই দেশের জনগণ-কেন্দ্রিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমানকে তার নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের প্রতি ভারত-এর দীর্ঘস্থায়ী সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।   অপরদিকে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান গভীর সভ্যতাগত বন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   সৌজন্য সাক্ষাৎকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সরকার চাইলে সব ধরনের সহায়তা করবে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের স্বার্থে নবগঠিত সরকারকে প্রতিটি ক্ষেত্রে গঠনমূলক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদে জনগণের মৌলিক অধিকারের কথা বলে গণতন্ত্রকে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে চায়।   সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার প্রাক্কালে দলীয় প্রতিনিধিদের আগামী দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়।   ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, “দীর্ঘদিন এই দেশের মানুষ ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল। এবার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের রায় দিয়েছে। ভোটাররা যে পাহাড়সম প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন, তা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ইমানি দায়িত্ব। আমরা জনগণের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।”   আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সংসদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে একটি ‘নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করে জামায়াত আমির বলেন, “সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষ যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তবেই দেশের গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। আমরা দায়বদ্ধতার সাথে কাজ করলে যেকোনো জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।”   জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র করার ওপর জোর দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হাজারো প্রাণ আর পঙ্গুত্বের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে আমরা বৃথা যেতে দেব না। যদি আমরা ‘জুলাই বিপ্লব’কে ভুলে যাই, তবে ফ্যাসিবাদ আবারো ফিরে আসার সুযোগ পাবে। ছাত্র-জনতা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছে, সংসদে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রশ্নে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না।”   অনুষ্ঠানে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের এক বিশাল বহর উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, মো. সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মুফতি আমির হামজা এবং মাসুদ সাঈদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জামায়াতের সংসদীয় দলের নেতৃত্ব এবং সংসদে বিরোধী দলীয় ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যারা বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদে আলোচনায়

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা পদে ডা. শফিকুর রহমানকে মনোনীত করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ডা. শফিকুর রহমান সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অপরদিকে বিরোধীদলীয় উপনেতা (ডেপুটি লিডার) পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন নাহিদ ইসলাম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে জামায়াত ও ১১ দলের জোটের সঙ্গে বৈঠকের পর।   সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদে আলোচনায় আছেন: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।   এছাড়া চট্টগ্রামের শাহজাহান চৌধুরী ও সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানজনক কোনো পদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধীদল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকারও মনোনীত হবেন।   চিফ হুইপ ও হুইপ পদে আলোচনা চলাকালীন আলোচনায় আছেন দলের সাবেক আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং মীর কাসেম আলির ছেলে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। সূত্র বলছে, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনা বেশি।   সূত্র মতে, ১১ দলের শরিকদের মধ্যে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ হুইপ পদে মনোনীত হতে পারেন।   জামায়াত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম জানিয়েছেন, সংসদের এসব পদ নিয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ১১ দলীয় জোট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে শরিকদের জন্যও ছাড় দিতে হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান
জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনীতির দুই শীর্ষ মেরুর মধ্যে এক ঐতিহাসিক বৈঠকের সূচনা হয়েছে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবন ও কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনের নিরঙ্কুশ জয়ের পর দুই নেতার এই সরাসরি সাক্ষাৎকে আগামীর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।   তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে জামায়াত আমিরের বাসভবন এলাকায় এক অন্যরকম উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে দুই দলেরই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সমবেত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, গতকাল শনিবারই বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে— বিএনপি প্রধান তারেক রহমান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করবেন। আজ জামায়াত আমিরের সাথে এই বৈঠকের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো এবং জাতীয় ঐক্যের এক জোরালো বার্তা ফুটে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই নেতার এই একান্ত আলাপে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আগামী সরকারের গতিপথ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
ইসি, নতুন সরকার ও বিএনপির প্রতি যে আহ্বান জামায়াত আমিরের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে স্বীকৃতি দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের ফলাফলের গভীরে থাকা এক জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকে জাতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি নতুন সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।   শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে উত্থান ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপি জোট প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোট পেলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে দেশের একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি বর্তমান “ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট” পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, এই পদ্ধতিতে লক্ষ লক্ষ ভোটারের ইচ্ছার প্রতিফলন আসন সংখ্যায় যথাযথভাবে ঘটে না। বিশেষ করে ৫৩টি আসনে বিএনপির জয়ের ব্যবধান ছিল অত্যন্ত সামান্য—কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার মাত্র।   আইনি লড়াই ও স্বচ্ছতার দাবি নির্বাচনী স্বচ্ছতা রক্ষায় জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুনির্দিষ্ট যেসব আসনে ভোট গণনা বা অনিয়মের প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে তাঁর দল আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে ফলাফল পর্যালোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এটি কোনোভাবেই জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং জনগণের প্রতিটি ভোটের মর্যাদা রক্ষার একটি দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা। তিনি নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই অভিযোগগুলো যাচাই করার আহ্বান জানান।   জুলাই সনদ ও গণভোটের ম্যান্ডেট গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় এটিকে পরিবর্তনের জন্য একটি ‘জাতীয় ম্যান্ডেট’ হিসেবে অভিহিত করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সরকার এই ম্যান্ডেটকে সম্মান করবে এবং সংস্কারকে কেবল স্লোগান হিসেবে না রেখে একটি ‘পবিত্র আমানত’ হিসেবে বিবেচনা করবে।   নতুন সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের প্রমাণ করতে হবে যে আপনারা সংবিধানের নিয়ম মেনে দেশ পরিচালনা করবেন। আইনের শাসন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।” তিনি জয়ী দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো কর্মী আইন লঙ্ঘন করলে তাঁকে পক্ষপাতহীনভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।   শান্তি ও শৃঙ্খলার বার্তা ভোট পরবর্তী সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াত আমির। তিনি জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে সকলকে পরিপক্বতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধ প্রদর্শনের আহ্বান জানান। পরিশেষে, তিনি একটি সৎ, সংযমী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে সকলকে শান্ত থেকে কাজ করার অনুরোধ করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ডা. শফিকুর রহমান
আর কখনো দমন-পীড়ন-সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক আপসহীন বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী, কিন্তু এই শান্তিকে কেউ যেন তাদের ‘দুর্বলতা’ হিসেবে গণ্য না করে।   বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোটের সমর্থক এবং বিএনপির মতের সাথে ভিন্নতা রাখা নিরীহ ভোটাররা যেভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন, আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা মানুষের হৃদয়ে এখনো জীবিত। এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না—সেটা কোনো পক্ষ থেকেই হোক না কেন।”   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কড়া আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।   জামায়াত আমির তাঁর দলের নবনির্বাচিত এমপি এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, “দেরি না করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান। হামলার প্রতিটি ঘটনার ছবি ও ভিডিওসহ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করুন। প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করে সত্যকে জাতির সামনে তুলে ধরুন এবং এসব প্রমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দিন।”   নতুন সরকার গঠনের অপেক্ষায় থাকা বিএনপির প্রতি একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের ম্যান্ডেট কোনো যথেচ্ছ ব্যবহারের লাইসেন্স নয়, এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দলের কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আগামীর সরকারের প্রধান দায়িত্ব।”   বক্তব্যের শেষে তিনি জুলাই সনদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, তারা আর কখনো ভয়-ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না। সংঘাতমুক্ত ও নিরাপদ এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0