নিউইয়র্কে সিটি জবের সুযোগ, একাধিক পদে বেতন শুরু ৫৫ হাজার ডলার থেকে
নিউইয়র্ক সিটি সরকারের বিভিন্ন বিভাগে বর্তমানে একাধিক পদে নিয়োগ চলছে। চাকরির ধরন অনুযায়ী এন্ট্রি-লেভেল থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক পদেও সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু পদের বার্ষিক বেতন ৫৫ হাজার ডলারের বেশি। নগর সরকারের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় কুইন্স, ব্রুকলিন, ম্যানহাটনসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির চাকরির তালিকায় বর্তমানে কুইন্সে ডিপার্টমেন্ট অব ডিজাইন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের সেফটি অডিটর পদে ৫৫ হাজার ৭৩ ডলার থেকে ৬৯ হাজার ৬৬৬ ডলার পর্যন্ত বেতন দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। আবার ব্রুকলিনে এক্সটারমিনেটর পদে বার্ষিক বেতন ৫৭ হাজার ৯৯৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের আরও বেশ কিছু পদে এর চেয়ে বেশি বেতনের সুযোগ রয়েছে।
ডিপার্টমেন্ট অব সিটি-ওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএস জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির চাকরির জন্য অনেক ক্ষেত্রে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হয়। তবে কিছু পদে পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি অ্যাপ্লাই করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে সিটি সরকারের চাকরির অফিসিয়াল তালিকায় প্রশাসন, পরিবহন, পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন, শিশু ও পরিবারসেবা, নির্মাণসহ বিভিন্ন বিভাগে পদ খোলা রয়েছে।
চলমান নিয়োগের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের বিভিন্ন পদও রয়েছে। সংস্থাটির তালিকায় অল বোরোস এলাকায় অটো মেকানিক, কুইন্সে পার্কিং ইঞ্জিনিয়ার ও ইভি চার্জারস অ্যান্ড পার্কিং অপারেশনস টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদ দেখা যাচ্ছে। কিছু পদের আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত রয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব পদে একই যোগ্যতা বা আবেদনের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো পদে নির্দিষ্ট শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, সেফটি অডিটর পদটির জন্য নির্দিষ্ট সিভিল সার্ভিস যোগ্যতার শর্ত রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে নিয়োগের আগে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। যেসব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না, সেগুলোর জন্য সরাসরি নিউইয়র্ক সিটি জবসের মাধ্যমে আবেদন করা যায়।
বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্যও এসব চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশি হওয়া কোনো বিশেষ যোগ্যতা নয়। প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, কাজের অনুমতি এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে প্রতিটি পদে আবেদন করার আগে যোগ্যতার শর্ত ও রেসিডেন্সি রিকোয়ারমেন্ট আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।
ডিসিএএসের অফিস অব সিটি-ওয়াইড রিক্রুটমেন্ট সেপ্টেম্বর মাসে সিভিল সার্ভিস ও সিটি সরকারের চাকরি নিয়ে একাধিক তথ্যবিষয়ক সেশনও আয়োজন করছে। এসব সেশনে সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হবে।
সিটি সরকারের চাকরিতে আবেদন করতে প্রার্থীদের অফিসিয়াল নিউইয়র্ক সিটি জবস প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পছন্দের পদ খুঁজে আবেদন করতে হবে। আর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ডিসিএএসের নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। চাকরির ধরনভেদে আবেদন প্রক্রিয়া ও শেষ তারিখ ভিন্ন হওয়ায় প্রতিটি জব পোস্টের বিস্তারিত শর্ত দেখে আবেদন করার পরামর্শ রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির চাকরির আবেদন ও ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত সহায়তার পাশাপাশি সিটি সেবার তথ্য পেতে ৩১১ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। অভিবাসীদের জন্য সিটি সরকারের বিভিন্ন সেবায় দোভাষী সুবিধাও রয়েছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার লিভিংস্টন প্যারিশে নবজাতক সন্তান হত্যার ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত হেফাজতে রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোর অপরাধীর ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ সাজা। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই কিশোরী নিজের শয়নকক্ষে পূর্ণ মেয়াদের একটি সন্তান প্রসব করে। এরপর নবজাতকটির প্রাণ নেওয়া হয় বলে আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরে কিশোরীর শয়নকক্ষে একটি ব্যাগের ভেতর নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাটিকে জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় অস্বাভাবিক ও অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। লুইজিয়ানার ২১তম জুডিশিয়াল ডিস্ট্রিক্টের কিশোর বিভাগে সহকারী জেলা অ্যাটর্নি কিনচেন-গ্রস মামলাটিতে প্রমাণ উপস্থাপন করেন। জেলা অ্যাটর্নি স্কট পেরিলু বলেন, নিরপরাধ শিশুটির জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলায় কাজ করা দলের প্রচেষ্টার তিনি প্রশংসা করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় রাষ্ট্রপক্ষ কিশোরীটিকে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের জন্য আবেদন করেছিল। কর্মকর্তারা জানান, তার বয়সের কারণে কিশোর আদালত থেকে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে স্থানান্তরের জন্য আলাদা শুনানির প্রয়োজন ছিল। তবে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। ফলে কিশোরীটির বিরুদ্ধে কিশোর আদালতের আওতায়ই ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত হেফাজতে রাখার আদেশ দেওয়া হয়। বিচারক ম্যাথিউ বেলসার সোমবার এই সাজা ঘোষণা করেন। জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কিশোর অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে তাকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত হেফাজতে থাকতে হবে। মামলার প্রমাণ উপস্থাপনের সময় ২০২৫ সালে নবজাতকটির জন্ম এবং পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি তুলে ধরা হয়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির মরদেহ পরে কিশোরীর শয়নকক্ষের একটি ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। জেলা অ্যাটর্নি স্কট পেরিলু ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সহকারী জেলা অ্যাটর্নি এবং মামলায় যুক্ত সংশ্লিষ্ট দলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। প্রথম-ডিগ্রি হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে রাষ্ট্রপক্ষ কিশোরীটির বিচার প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে চেয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন অনুমোদন না করায় মামলাটি কিশোর আদালতের আওতাতেই থাকে। সোমবারের আদালতের আদেশের পর কিশোরীটিকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত হেফাজতে থাকতে হবে। জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোর অপরাধীর ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ সাজা।
লটারিতে জিতলেন ৫৮ লাখ ডলার! এক ভুলে পুরস্কারের সম্পূর্ণ অর্থই হারালেন ব্যক্তি
অভিবাসন শুনানিতে অনুপস্থিত, বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে আটক ব্রিটিশ ভাষ্যকার
নিউইয়র্কে সিটি জবের সুযোগ, একাধিক পদে বেতন শুরু ৫৫ হাজার ডলার থেকে
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী ও সিটির ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি আবারও ইউরোপে যাচ্ছেন একটি ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ও আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিতে। ‘দ্য উইমেন স্যাংচুয়ারি’ আয়োজিত এই রিট্রিটে তিনি ‘আর্টিস্ট-ইন-রেসিডেন্স’ হিসেবে থাকবেন। ‘জার্নি থ্রু ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি’ নামের রিট্রিটটি পর্তুগালের পোর্তো অঞ্চলে আগামী ১৬ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দুটি সেশনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ইসলামিক ঐতিহ্য ও পর্তুগালে ইসলামের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা, ইলাস্ট্রেশন ও ক্যালিগ্রাফি কর্মশালা, আধ্যাত্মিক অনুশীলন, প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো এবং বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন থাকবে। রামা দুয়াজি এ বছর এই সংগঠনের আয়োজনে তৃতীয়বারের মতো রিট্রিটে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি স্পেনের মায়োর্কা এবং ফ্রান্সের কর্সিকায় আয়োজিত নারী-কেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিয়েছিলেন। নতুন এই রিট্রিটের খরচও আলোচনায় এসেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্তুগালের অনুষ্ঠানে শেয়ারড রুমের জন্য জনপ্রতি খরচ শুরু প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ডলার থেকে, আর ব্যক্তিগত বাথরুমসহ প্রাইভেট রুমের খরচ প্রায় ৫ হাজার ২৬০ ডলার পর্যন্ত। রামা দুয়াজি একজন শিল্পী ও ইলাস্ট্রেটর। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তার স্বামী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সিটির ফার্স্ট লেডি হন। তবে ইউরোপে তার নিয়মিত রিট্রিটে অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি হিসেবে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তার আরও সক্রিয় থাকা উচিত কি না। অন্যদিকে মামদানির দপ্তর আগের রিট্রিটগুলোর প্রসঙ্গে জানিয়েছিল, এসব সফরে সরকারি অর্থ ব্যবহার করা হয়নি।
মেসেজ পেয়ে বিটকয়েন বুথে ৯০ বছরের বৃদ্ধা, শেষ মুহূর্তে পুলিশ থামাল ১০ হাজার ডলারের প্রতারণা!
নিউইয়র্কে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ছাড়া ময়লা ফেললে ৫০ ডলার জরিমানা, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর
অভিবাসনে বদলাচ্ছে আমেরিকার ধর্মীয় মানচিত্র, বাড়ছে মসজিদ, ইসলামিক স্কুল ও মন্দির
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ইমিগ্র্যান্ট ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। নতুন নির্দেশনার আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিসহ ভিসা আবেদন যাচাইয়ের বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই বিরতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নির্ধারিত অনেক ইন্টারভিউ বাতিল করে নতুন তারিখে রিশিডিউল করা হচ্ছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগস্টে শুরু হওয়া এই বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রতিটি আবেদন আরও বিস্তারিত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করার প্রস্তুতি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় একজন আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ, শিক্ষা ও দক্ষতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ইমিগ্রেশন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব আবেদনকারীর ইন্টারভিউ আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তাদের অনেককেই নতুন তারিখের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কবে থেকে স্বাভাবিকভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ফলে পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেক আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুতে আলাদা স্থগিতাদেশ দিয়েছিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতিকে আইনবহির্ভূত এবং স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিওর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে বাতিল করেন। বিচারকের ওই রায়ের পরই বিশ্বজুড়ে নতুন এই প্রশিক্ষণভিত্তিক বিরতি সামনে এসেছে। তবে এটিকে সরাসরি আদালতের রায় এড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ভিসা আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের আরও প্রশিক্ষিত করা এবং ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা একইভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা। অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের কেউ কেউ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ইন্টারভিউ স্থগিত ও পুনর্নির্ধারণের কারণে আগে থেকেই দীর্ঘ ভিসা প্রসেসিংয়ের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে আসতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন। বর্তমান বিরতি শুধু ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার নিয়মিত কার্যক্রম এর আওতায় পড়ছে না।
মায়ের রাখা বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে টেক্সাসে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন