সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৭:৫৯
ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায় ছবি: সিএনএন
ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায় ছবি: সিএনএন

ইরানে রাজনৈতিক নিপীড়নের আশঙ্কায় দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন নিকা নামের এক তরুণী। কিন্তু নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও শেষ পর্যন্ত স্বস্তি মেলেনি তাঁর। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাঁকে এমন একটি দেশে ডিপোর্ট করা হয়েছে, যেখানে তিনি আগে কখনো যাননি এবং যার সঙ্গে তাঁর কোনো পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কও নেই।

 

নিরাপত্তার কারণে নিজের আসল নাম প্রকাশ না করে ‘নিকা’ ছদ্মনামে কথা বলা এই ইরানি নারী বর্তমানে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ে অবস্থান করছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে ফিরে গেলে তাঁর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি একজন মার্কিন ইমিগ্রেশন জজের কাছ থেকে এমন একটি সুরক্ষা আদেশও পেয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকানো, যেখানে নির্যাতন বা মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

 

সিএনএনের পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্তে আটক হওয়ার পর নিকা কয়েক মাস আইসিই হেফাজতে ছিলেন। পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁকে সাময়িকভাবে স্বাধীনভাবে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। জুনে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে একটি নোটিশ পেয়ে তিনি নিয়মিত বৈঠক মনে করে সেখানে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এর তিন দিন পর, ১১ জুন সন্ধ্যায় হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরিয়ে তাঁকে একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে তোলা হয়। একই ফ্লাইটে আফগানিস্তান, ইরাক ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন দেশের আরও ১৭ জন অভিবাসী ছিলেন। নিকার দাবি, বিমানে ওঠার আগে তিনি জানতেন না তাঁকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে। বিমানের আসনের সামনে থাকা ছোট স্ক্রিনে গন্তব্য দেখার পর তিনি জানতে পারেন, তাঁকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হচ্ছে।

 

নিকার ইমিগ্রেশন আইনজীবী সাহার জালিলি পাওয়েলস্কি শেষ মুহূর্তে তাঁকে ওই ফ্লাইট থেকে নামানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে তা সম্ভব হয়নি।

 

বাঙ্গুইয়ে পৌঁছানোর পরও নিকার জীবন স্বাভাবিক হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তার আশঙ্কায় বেশিরভাগ সময় অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরেই থাকেন। প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাইরে গেলে স্থানীয় পুলিশ তাঁকে থামিয়ে ঘুষ দাবি ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে স্থানীয় পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

এ ছাড়া নিকা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে অপরাধ, অপহরণ, রোগব্যাধি ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে দেশটিতে ভ্রমণের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করেছে।

 

নিকার মতো অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করছে। নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আদালতের বাধা থাকলে তৃতীয় দেশে পাঠানোর এই নীতিই এখন বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অবশ্য এসব ডিপোর্টেশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিভাগটির দাবি, যাদের পাঠানো হয়েছে তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ ছিল।

 

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই ডিপোর্টেশন ব্যবস্থার বিস্তারিত চুক্তি প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে নিকা ও তাঁর সঙ্গে পাঠানো অন্য অভিবাসীদের বলা হয়েছিল, তাঁরা সেখানে প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য থাকতে পারবেন। ৩১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্বিতীয় একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে আরও ৩১ জনকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হয়।

 

এখন নিকার সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, অস্থায়ী থাকার সুযোগ শেষ হলে তাঁকে শেষ পর্যন্ত আবার ইরানে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তাঁর আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রে একটি ফেডারেল মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে নিকাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনে তাঁর অ্যাসাইলাম আবেদন পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া যায়।

 

ইরান থেকে নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিকার জীবনের এই পরিণতি তৃতীয় দেশে ডিপোর্টেশন নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যে দেশটিকে তিনি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ভেবেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই দেশ থেকেই তাঁকে এমন এক জায়গায় পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাঁর নিজের ভাষায়, ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

সূত্র: সিএনএন

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত মা অ্যাশলি টন্টনের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন টেলর সুইফট। ছবি: সংগৃহীত
কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত মাকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিলেন টেলর সুইফট

যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডে কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত এক মাকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন সংগীতশিল্পী টেলর সুইফট। আহত অ্যাশলি টন্টনের চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়তার জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে এনবিসি নিউজ।   তিন সন্তানের মা অ্যাশলি টন্টন গত ১৮ জুলাই প্রবল বৃষ্টির মধ্যে রোড আইল্যান্ডের হপকিনটনে আন্তঃরাজ্য ৯৫ নম্বর মহাসড়কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি সামনে থাকা একটি গাড়িকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে যেতে দেখেন। গাড়িতে থাকা কিশোরদের সহায়তা করতে তিনি নিজের গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।   অ্যাশলি যখন দুর্ঘটনাকবলিত কিশোরদের সাহায্য করছিলেন, তখন আরেকটি গাড়িও বৃষ্টির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসে। তার স্বামী জো টন্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাশলি মুহূর্তের মধ্যে অন্য একজনকে বিপদ থেকে সরিয়ে দেন। এতে দ্বিতীয় গাড়িটির আঘাতের বড় অংশ তার শরীরে লাগে।   দুর্ঘটনায় অ্যাশলি গুরুতর পায়ে আঘাত পান। একই সঙ্গে তার শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ক্ষুদ্র ও বৃহদান্ত্রে আঘাত লাগে, লিভারে ক্ষত তৈরি হয় এবং ডায়াফ্রাম ছিঁড়ে যাওয়ায় একটি ফুসফুস ধসে পড়ে।   জো টন্টন জানান, অ্যাশলির অন্তত তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিৎসার সময় তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার নাকে খাবার ও ওষুধ দেওয়ার নলও লাগানো হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরেন এবং পায়ে বিশেষ সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন।   অ্যাশলি তার চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার বিভিন্ন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন অবস্থার ছবি থেকে শুরু করে বাড়িতে ফেরার পর পায়ে সহায়ক যন্ত্র ব্যবহারের ছবিও তিনি শেয়ার করেছেন।   চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে অ্যাশলির জন্য অনলাইন তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই তহবিলে টেলর সুইফট ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন। শুক্রবার অ্যাশলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অনুদানের কথা জানিয়ে বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   অ্যাশলি জানান, সুইফটের এই সহায়তার খবর তার জন্য অত্যন্ত বিস্ময়কর ও আবেগপূর্ণ ছিল। তিনি সুইফটকে ধন্যবাদ জানান এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   অ্যাশলির স্বামী এর আগে জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার সময় তার স্ত্রী নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে কিশোরদের সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিশোরদের বিপদ থেকে সরিয়ে দিতে গিয়ে তিনি নিজেই দ্বিতীয় গাড়িটির আঘাতের শিকার হন।   অ্যাশলির দুর্ঘটনার ঘটনা ও পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তার সুস্থতার খবরও অনুসারীদের সঙ্গে নিয়মিত ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। পরে টেলর সুইফটের অনুদানের খবর প্রকাশ্যে আসে।   সূত্র: এনবিসি নিউজ

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৯:৩২
বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের সাধারণ মানুষের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

নেপালের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী

আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী

ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায় ছবি: সিএনএন

ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায়

১৩ ছেলেকে নিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ছেলে-সন্তানের পরিবার এই দম্পতির
১৩ ছেলেকে নিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ছেলে-সন্তানের পরিবার এই দম্পতির

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির হ্যারিসন পরিবার ১৯৫৫ সালে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে ১৩ ছেলে নিয়ে একটি ছবি প্রকাশের পর। এমোরি ও থেলমা হ্যারিসনের সন্তানদের নিয়ে তোলা ওই ছবি পরিবারটির অস্বাভাবিক বড় আকার এবং একের পর এক ছেলে সন্তানের জন্মের কারণে সে সময় ব্যাপক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ তৈরি করেছিল।   জোন্সবরো ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারকে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অল-বয় পরিবারগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়। ছবিতে হ্যারিসন দম্পতির ১৩ জীবিত ছেলেকে একসঙ্গে দেখা যায়। পরবর্তী পারিবারিক নথি অনুযায়ী, থেলমা মোট ১৪টি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তাদের একজন, আলভিন ল্যান্ডন হ্যারিসন, ১৯৩৫ সালে শিশুকালেই মারা যায়। ফলে পরিবারের ১৩ ছেলে বেঁচে ছিল।   পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, এমোরি ও থেলমার প্রথম সন্তান গাই লেস্টার হ্যারিসন জন্ম নেন ১৯৩৪ সালে। এরপর একে একে পরিবারে যোগ হয় আরও ছেলেসন্তান। ১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া ইভান হিউস্টন হ্যারিসন ছিলেন জীবিত ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। এত বড় একটি ছেলে-সন্তানের পরিবারই হ্যারিসনদের জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।   তবে পরিবারের গল্প সেখানেই শেষ হয়নি। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ছেলে সন্তানের পর ১৯৫৮ সালের ২৮ এপ্রিল টেনেসির জনসন সিটির একটি হাসপাতালে থেলমা জন্ম দেন কন্যাসন্তান বারবারা অ্যানকে। ওই সময়ের সংবাদপত্রে ঘটনাটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সন্তান জন্মের পর এমোরি ও থেলমাকে নবজাতক মেয়েটিকে কোলে নিয়ে থাকতে দেখা যায়।   বারবারার জন্মের মধ্য দিয়ে পরিবারের দীর্ঘ ছেলে সন্তান জন্মের ধারায় পরিবর্তন আসে। ১৩ জীবিত ছেলেকে ঘিরে যে পরিবারটি কয়েক বছর আগেই জাতীয় সংবাদে পরিণত হয়েছিল, সেখানে এবার যোগ হয় একমাত্র কন্যাসন্তান।   হ্যারিসন পরিবারের পারিবারিক নথিতে মোট ১৪ ছেলে এবং পরে বারবারা অ্যানের জন্মের তথ্য পাওয়া যায়। ফ্যামিলি সার্চের নথিতেও আলভিনকে ১৯৩৫ সালে মারা যাওয়া সন্তান হিসেবে এবং বারবারাকে ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   হ্যারিসন পরিবারের এই ব্যতিক্রমী গল্পের আরেকটি অধ্যায় শেষ হয় ২০২৬ সালে। এমোরি ও থেলমার কন্যা বারবারা অ্যান হ্যারিসন রবার্টস ২৪ এপ্রিল ২০২৬ সালে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান। তাঁর মৃত্যুসংবাদে তাঁকে এমোরি ও থেলমার কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁর ভাইদের মৃত্যুর তথ্যও দেওয়া হয়েছে।   এমোরি হ্যারিসন ১৯৭১ সালে এবং থেলমা হ্যারিসন ১৯৭৬ সালে মারা যান। তাঁদের সন্তানদের পরবর্তী জীবন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন টেনেসিতে থেকে গেলেও পরিবারের সদস্যরা পরবর্তীতে ইন্ডিয়ানা ও টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও বসবাস করেন।   তবে ১৯৫৫ সালের সেই ছবি আজও হ্যারিসন পরিবারের সবচেয়ে পরিচিত স্মৃতি হয়ে আছে। একদিকে ১৩ জীবিত ছেলেকে নিয়ে জাতীয়ভাবে আলোচিত হওয়া, অন্যদিকে চার বছর পর দীর্ঘ ছেলে সন্তান জন্মের ধারার পর একটি মেয়ের আগমন, সব মিলিয়ে পরিবারটির গল্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এক বিরল মানবিক কাহিনি হয়ে রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৭:৩৯
এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্‌স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের

এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্‌স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল

ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিজ দলের সম্মেলন এড়ালেন মিশিগানের ইহুদি অ্যাটর্নি জেনারেল

তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ
ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, উৎপাদনের লক্ষ্য ১৫ লাখ ব্যারেল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন তেল চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তাঁর দাবি, ২৫ বছরের এই চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করে দিনে ১৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।    শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, এই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য। এর পাশাপাশি আরও আটটি নতুন তেল ব্লক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনাও রয়েছে।    এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে। তিনি চুক্তিটিকে ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।    চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও একটি বেসরকারি ভেনেজুয়েলীয় অংশীদারের মাধ্যমে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের কথা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কোম্পানি ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর অংশীদারিত্ব হবে প্রায় ৫৫ শতাংশ, পাশাপাশি উৎপাদিত তেল নির্দিষ্ট শর্তে কেনার অধিকারও থাকবে।    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চুক্তিটি ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে পারে। এতে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা হবে বলে দাবি করেন তিনি।    অন্যদিকে, রদ্রিগেজের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার সরকার সম্ভাব্যভাবে ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে। অর্থাৎ সংবাদে উল্লেখ করা ২০০ বিলিয়ন ডলার চুক্তির মূল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাব্য সরকারি কর-আয়ের হিসাব।    রদ্রিগেজ একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা তার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব ধরে রাখবে। দেশটির দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল খাত পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধন, প্রযুক্তি ও পরিচালনাগত দক্ষতা কাজে লাগানো হবে বলে তিনি জানান।    তবে চুক্তির সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার বহু পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। ফলে দিনে ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে এবং চুক্তির বাস্তব প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।    ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের সরবরাহ বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে। তবে উৎপাদন বাড়তে সময় লাগায় এর তাৎক্ষণিক প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৫:৭
অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন অভিযানে রোবট কুকুর ব্যবহার করবে আইসিই

অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন অভিযানে রোবট কুকুর ব্যবহার করবে আইসিই

নিউ ইয়র্কে মসজিদে চুরির ধারাবাহিক ঘটনায় নাবিল খুঁজছে এনওয়াইপিডি

নিউ ইয়র্কে মসজিদে চুরির ধারাবাহিক ঘটনায় নাবিল খুঁজছে এনওয়াইপিডি

নিউইয়র্কে মেট্রো ভাড়া অর্ধেক, ফেয়ার ফেয়ারসে মিলছে $১.৪৫ ভাড়া

নিউইয়র্কে মেট্রো ভাড়া অর্ধেক, ফেয়ার ফেয়ারসে মিলছে $১.৪৫ ভাড়া

0 Comments