ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করতে হেগসেথকে সতর্ক করলেন মার্কিন সামরিক নেতারা
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতারা। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে ইরান অভিযানে বিপুলসংখ্যক সেনা, যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও অস্ত্র ব্যবহৃত হলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের হুমকি মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা-সংক্রান্ত একটি গোপন নথিতে সামরিক নেতাদের এই উদ্বেগ উঠে এসেছে। গত ১৪ আগস্টের ওই নথি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী চার তারকা কর্মকর্তারা হেগসেথকে তাদের মূল্যায়ন জানিয়েছেন।
ওই নথিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং কিছু সেনাকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত রাখার নির্দেশনার কথা রয়েছে। ইরান অভিযানে এসব বাহিনীর উপস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত করার সম্ভাবনাই সামরিক নেতাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইউরোপ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের নেতৃত্ব এবং নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এই বাহিনী বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে নির্দেশনা কার্যকর করার কথা তারা জানিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধের কারণে ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কমান্ডগুলোর জাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলগুলোর নিজস্ব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিশেষ করে নৌবাহিনীকে যুদ্ধকালীন চাহিদা পূরণে নিজেদের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে।
নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান অভিযানে নৌবাহিনী যে মাত্রায় সহায়তা দিচ্ছে, তা আর দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা সম্ভব নয়, কারণ যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। যুদ্ধের কারণে নৌবাহিনীর জাহাজ ও নাবিকদের মোতায়েনের মেয়াদও কয়েক মাস করে বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নৌবাহিনীর ধ্বংসকারী জাহাজের মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ইরান অভিযানের বর্তমান চাপ অব্যাহত থাকলে জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো সংঘাত তৈরি হলে নৌবহরের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সামরিক নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু নৌবাহিনীতেই সীমাবদ্ধ নেই। সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সেনা মার্চে ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই অঞ্চলে থাকার কথা রয়েছে। কিছু সামরিক কর্মকর্তা ধারণা করছেন, এই মোতায়েনের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে বিমানবাহিনীর যেসব ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে নিয়মিত বোমা হামলা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের অনেককেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনকে আগের দেওয়া অস্ত্রের কারণে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও চাপের মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রীপার ড্রোন বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ হারিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছিলেন যে দীর্ঘমেয়াদি বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও মিত্রদের সহায়তা নেই। সাম্প্রতিক সময়েও ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ পর্যাপ্ত নৌবাহিনীর সক্ষমতা না থাকার বিষয়ে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছিলেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো সামরিক কমান্ডে কতটা এবং কতদিন বাহিনী মোতায়েন থাকবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বর্তমান হুমকি, প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং সামরিক নেতৃত্বের পরামর্শের ভিত্তিতে। তবে পেন্টাগন গোপন নির্দেশনা নথির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, সামরিক কমান্ডগুলোর মতপার্থক্য বা ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমহাকাশবিদ্যা এবং মহাজাগতিক নানা অজানা রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার নতুন ফ্ল্যাগশিপ অবজারভেটরি ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই শক্তিশালী স্পেস টেলিস্কোপটি গত রোববার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে চড়ে মহাশূন্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটারের মতো মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলো অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিশাল পরিসরে অভিকর্ষ বলের পরীক্ষা এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের জন্য এই টেলিস্কোপটির নকশা করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের আগে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার আকাশ ভেদ করে সফলভাবেই মহাকাশে পাড়ি জমায় এটি। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে ‘ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২’ নামক একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথের দিকে অগ্রসর হচ্ছে রোমান। প্রাথমিকভাবে এর মিশনকাল পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও নাসার মতে, টেলিস্কোপটিতে আরও পাঁচ বছর চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে। ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং ২০২১ সালের জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সক্ষমতাকে ভিত্তি করেই রোমান তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নাসার বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের প্রধান নিকোলা ফক্স জানান, হাবল এবং জেমস ওয়েব যেখানে মহাবিশ্বের দিকে অনেকটা চাবির ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিয়েছে, সেখানে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ আক্ষরিক অর্থেই পুরো দরজা ভেঙে ফেলবে। হাবল টেলিস্কোপের সমকক্ষ তীক্ষ্ণতা ও সংবেদনশীলতা থাকলেও রোমান অনেক দ্রুততার সঙ্গে বিস্তীর্ণ আকাশ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকএনারির মতে, রোমান মাত্র এক মাসে আমাদের গ্যালাক্সির যে পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে, হাবল টেলিস্কোপের তা করতে প্রায় এক শতাব্দী সময় লেগে যেত। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেমন মহাবিশ্বের গভীরে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে পারে, তেমনি রোমানের ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল বা প্যানোরামিক ভিউ সেই গভীর পর্যবেক্ষণের পরিপূরক হিসেবে একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের রহস্য সমাধানে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক দিগন্তের সূচনা করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান।
মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাংলাদেশি পরিবারের স্ত্রী ও বড় মেয়ে নিহত, স্বামী ও ছোট মেয়ে হাসপাতালে
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, গ্রেপ্তারের পর ঘাতকের মুখে ঈশ্বরের প্রশংসা
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করতে হেগসেথকে সতর্ক করলেন মার্কিন সামরিক নেতারা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গরুর মাংস আমদানির ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বন্য ঘোড়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফ্যাক্টচেক করে দেখা গেছে, আমদানি করা মাংসের প্রজাতি ও লেবেল যাচাইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়, বিদেশি দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঘোড়া কিনে জবাই করছে এবং পরে সেই মাংস গরুর মাংসের নামে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানো হচ্ছে। একটি ভাইরাল টিকটক ভিডিওতেও ভোক্তাদের গরুর মাংস কেনা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এই দাবির সূত্র হিসেবে ট্রাম্পের ২১ আগস্টের বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জমিতে থাকা বন্য ঘোড়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প গরুর মাংসের দাম কমাতে ৯০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে সরকারি জমি থেকে হাজার হাজার বন্য ঘোড়া সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস বা এফএসআইএস আমদানি করা মাংসের নিরাপত্তা, লেবেল এবং পণ্যের ধরন যাচাই করে। সংস্থাটি আমদানি করা মাংসের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি লেবেলে উল্লেখ করা প্রাণীর মাংস কি না, তাও যাচাই করে। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইউএসডিএ-পরিদর্শিত কোনো ঘোড়া জবাইয়ের প্ল্যান্ট নেই। ঘোড়া মানব খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ফেডারেল অর্থ ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। মাংস আমদানির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাংস রপ্তানি করতে চাওয়া দেশগুলোর পরিদর্শন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও আমদানি করা মাংস পরিদর্শনের আওতায় থাকে। কোনো পণ্য যথাযথভাবে পরিদর্শিত না হলে সেটি বাজার থেকে প্রত্যাহারও করা হতে পারে। তবে ঘোড়ার মাংস নিয়ে উদ্বেগ একেবারে নতুন নয়। ২০১৩ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির বড় কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটের মাংসের কোনো সম্পর্কের প্রমাণ নেই। ফ্যাক্টচেকাররা ২৫ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ, ইউএসডিএর রিকল বা সরকারি প্রমাণ খুঁজে পাননি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতি বছর মেয়ের কবরে ফেরেন বাবা, ছবিতে ধরা পড়ে অশ্রুসিক্ত মুহূর্ত
নিউইয়র্কে পার্কিং টিকিটের জরিমানা কমানোর সুযোগ, জানুন নিয়ম
গভীর রাতে নিউ জার্সির ট্রেন্টনে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের মধ্যে নিহত ২
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্বাহী আদেশ দেওয়ার পর এর জবাবে বিশাল সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে কানাডা। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড কানাডার তীরে স্থাপন করা ওই সাইনবোর্ডে লিখেছেন, ‘লেক অন্টারিও, এখন এবং সবসময়’। শনিবার অন্টারিওর গ্রিমসবির কাছে ফিফটি পয়েন্ট সংরক্ষণ এলাকায় সাইনবোর্ডটি উন্মোচন করেন ডাগ ফোর্ড। বিশাল আকারের সাইনবোর্ডটির উচ্চতা প্রায় দুই তলা ভবনের সমান। এতে লেকটির নামের নিচে ‘এখন এবং সবসময়’ বার্তাটি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় লেখা হয়েছে। ট্রাম্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের জবাবে ফোর্ড বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলে যাওয়ার অনেক পরও হ্রদটির নাম লেক অন্টারিওই থাকবে। তিনি জানান, কানাডা ও অন্টারিও নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকার বিষয়টি বোঝাতেই এই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে ২৭ আগস্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কানাডার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও নাম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, হ্রদটির নাম লেক অন্টারিওই থাকবে। লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত। হ্রদটির নামের সঙ্গে স্থানীয় আদিবাসী ইতিহাসেরও সম্পর্ক রয়েছে। কানাডার কর্মকর্তারা বলছেন, নামটি ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং কানাডা প্রতিষ্ঠা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণারও আগের। লেকটির নাম পরিবর্তন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর আগে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। কানাডাও এর জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই লেকটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর কানাডার পক্ষ থেকে লেকটির তীরে বিশাল সাইনবোর্ড স্থাপনকে সেই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রতীকী জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাইনবোর্ডের বার্তায় কানাডা স্পষ্ট করেছে, দেশটির কাছে হ্রদটির নাম লেক অন্টারিওই থাকবে। সূত্র: বিবিসি
জর্জিয়ায় বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেভেলপারের হাতেই থাকবে আবাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ
অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা আগে রোগীকে ফোন, ‘খরচ লাভজনক নয়’ বলে চিকিৎসা বাতিল