সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:৪৭
নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা
নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি কর্মী ইউসুফ রাজুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং ব্রঙ্কসে আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে খোঁজা সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখায় দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।

 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে সার্জেন্ট ভূঁইয়া ও অফিসার আহমেদের সাহস, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

 

২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা রেস্টুরেন্টে গুলির ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি কর্মী ইউসুফ রাজু নিহত হন।

 

একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ রাসেল পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে পুলিশ তদন্তে ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে এই হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে।

 

পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রুকলিনের ঘটনার দুই দিন পর ব্রঙ্কসের একটি বডেগায় গুলি চালিয়ে ৩৩ বছর বয়সী টেইভন শুলারকে হত্যা করা হয়। তদন্তকারীরা দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার পর আকোস্তাকে দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই যুক্ত সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজতে শুরু করেন।

 

টানা কয়েকদিনের অনুসন্ধানের পর ২৯ আগস্ট ব্রঙ্কসের ওয়াটসন ও মরিসন অ্যাভিনিউ এলাকার একটি পার্ক থেকে আকোস্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, একজনের বেনামি ৯১১ কলের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

আকোস্তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা ও দুটি হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তী আদালত কার্যক্রমে অভিযোগগুলো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

 

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এক বার্তায় বলেছে, কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্জেন্ট ভূঁইয়া ও অফিসার আহমেদের সাহস, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। তাদের অসাধারণ কাজের জন্য সংগঠনটি তাদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছে।

 

ইউসুফ রাজুর হত্যাকাণ্ড নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজুই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে থাকা স্ত্রী, মা ও দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাকে দেশে নিয়ে দাফন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির পক্ষ থেকে সহায়তা সংগ্রহও করা হয়েছে।

 

একই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ব্রুকলিনে বাংলাদেশি কর্মী হত্যার অভিযোগ এবং এর মাত্র দুই দিন পর ব্রঙ্কসে আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ থাকায় ঘটনাটি নিউইয়র্কজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত সন্দেহভাজনের গ্রেপ্তার স্বস্তি এনেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিতে।

 

এই গ্রেপ্তারে দায়িত্ব পালনকারী দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার স্বীকৃতি পাওয়াকে কমিউনিটির পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
টাইমস স্কয়ারে নি হত নারী ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ মাসের শিশুকন্যার জন্য অনুদান ৫ লাখ ডলার ছাড়াল
টাইমস স্কয়ারে নি হত নারী ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ মাসের শিশুকন্যার জন্য অনুদান ৫ লাখ ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে এক উন্মাদের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াসেন্টির (৩২) শিশুকন্যার জন্য খোলা তহবিলে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিনেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান এই নারী।   তার পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে ম্যাডিসন ও স্বামী ফ্র্যাঙ্ককে সহায়তার উদ্দেশ্যে চালু করা ‘গোফান্ডমি’ পেজে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের অনুদানে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ডলারের বেশি অর্থ।   গত সোমবার টাইম স্কয়ারে সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায় এরিনের ওপর হামলা চালায় পামেলা সিসনেরোস নামের এক নারী। ভয়াবহ এই হামলার পরপরই পুলিশের দিকে দুটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে তেড়ে গেলে এনওয়াইপিডি কর্মকর্তাদের গুলিতে প্রাণ হারায় ওই ঘাতক।   তহবিল সংগ্রহকারীরা জানিয়েছেন, মা হওয়া ছিল এরিনের আজীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এবং মেয়ে ম্যাডিসন তার জীবনে এনেছিল সবচেয়ে বড় আনন্দ। নিউজার্সির চেস্টারে স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে সম্প্রতি দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই সপরিবারে একটি আনন্দঘন রোড ট্রিপ থেকে ফিরেছিলেন তারা।   সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, এরিনের জীবন তার মৃত্যুর মর্মান্তিক পরিস্থিতি দিয়ে সংজ্ঞায়িত নয়, বরং তিনি যেভাবে জীবনযাপন করতেন সেটাই তার আসল পরিচয়। তিনি পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত ছিলেন এবং চারপাশের মানুষের মাঝে উষ্ণতা ও শক্তি ছড়িয়ে দিতেন।   ব্যাংক অব আমেরিকায় অত্যন্ত সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত এই মেধাবী ও সফল নারীর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেয়ে ম্যাডিসনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং এরিনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর সুযোগ হিসেবেই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই তহবিলে অনুদান দিচ্ছেন।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:৩৩
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডের সুযোগ, কারা আবেদন করতে পারবেন

বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডের সুযোগ, কারা আবেদন করতে পারবেন

নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা

নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা

যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ডলার বেতনেও ৪ জনের সংসার চালানো কঠিন হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ১ লক্ষ ডলার বেতন! খরচ বাদে চারজনের পরিবারে মাস শেষে কত থাকে? হিসাব চমকে দেবে

একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলিমামি সেসাই। ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালের বেডে শিকলবন্দী আইসিই আটক অভিবাসী, অস্ত্রোপচারের পরও স্বজনদের সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হেফাজতে থাকা ৪১ বছর বয়সী আলিমামি সেসাই একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পায়ের সঙ্গে বিছানায় শিকলবন্দী থাকছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকলেও তাঁর বাগদত্তা ও পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।   সেসাইকে গত ২৮ মে আইসিই আটক করে। হারিয়ে যাওয়া চালকের লাইসেন্সের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি নিতে তিনি নিজেই নিউয়ার্কের একটি ফেডারেল ভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে অপেক্ষা করার সময় একজন আইসিই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, তদারকি আদেশ অনুযায়ী তিনি একটি নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আটক করা হয় এবং ইউনিয়ন কাউন্টির এলিজাবেথ কন্ট্রাক্ট ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।   জুলাইয়ের শুরুতে অন্ত্রের সমস্যার চিকিৎসার জন্য সেসাইকে নিউয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে তাঁর বৃহদান্ত্রের একটি অংশ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পেটের বড় ক্ষত বন্ধ রাখতে চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ক্ষত থেকে তরল বের করার জন্য পেটে একটি নলও রাখা হয়েছে এবং অন্তত ছয় মাস তাঁকে কলোস্টমি ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হাসপাতালে থাকার সময়ে সেসাইয়ের ওজনও দ্রুত কমেছে। আটকের সময় তাঁর ওজন ২০০ পাউন্ডের বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা কমে ১৩৪ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ক্ষত পরিষ্কার করার সময় চিকিৎসকদের সহায়তা করতে হয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসকেরা ক্ষত পরিষ্কার করার সময় কখনো কখনো বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, তাই তিনি নিজেই ক্ষত পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করেন।   সেসাইয়ের অভিযোগ, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই তাঁর পা বিছানার সঙ্গে শিকল বা হাতকড়া দিয়ে আটকানো থাকে। এতে অস্বস্তি হয় এবং ঘুমাতেও সমস্যা হয় বলে জানান তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর বাগদত্তা জেনা কার্টার এবং তাঁদের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে কিং সালিম সেসাইকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না।   কার্টার জানান, সেসাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্ত তিনি বিষয়টি জানতেন না। জুলাইয়ে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সেসাইয়ের শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি এবং তাঁকে দেখার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। ২০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমবার সেসাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। পরে সেসাইয়ের একটি ছবি দেখে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কার্টার।   ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আটক ব্যক্তি ও অন্য রোগীদের দর্শনার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় কি না এবং এ বিষয়ে আইসিই কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না। হাসপাতাল এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানায়, তাদের চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা দল প্রত্যেক রোগীকে সহানুভূতিশীল ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   অভিবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, সেসাইয়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁদের মতে, নিউ জার্সির এলিজাবেথ ও নিউয়ার্কের ডেলানি হলসহ বিভিন্ন আটককেন্দ্রের আটক ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে হাসপাতালে ভর্তি আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বজনদের তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে দেখা যায় এমন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   সেসাইয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি এলিজাবেথ ডিটেনশন সেন্টারে থাকার সময় একজন নার্সের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মৌখিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়ার সময় ওই ঘটনা ঘটে। ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরসিভিক জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছে এবং তা ভিত্তিহীন পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।   সেসাইয়ের আইনজীবী র‍্যাচেল মারানডেট তাঁকে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্ত করতে নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। আটক ব্যক্তিদের করা এ ধরনের আবেদনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে রাখার আইনি ভিত্তি আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে হয়। সেসাইয়ের আবেদনটি নিউয়ার্কের ফেডারেল আদালতের বিচারক মাইকেল শিপের সামনে বিচারাধীন রয়েছে।   সেসাই কিশোর বয়সে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ১১ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে প্রায় এক দশক আগে গাঁজা-সংক্রান্ত একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল হয় বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন।   আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সেসাইকে বহিষ্কার স্থগিত রাখার আদেশ এবং তদারকির আওতায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারতেন। সেসাই সায়রভিলে একটি গুদামে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে জেনা কার্টারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের সন্তান জন্ম নেয় এবং তাঁরা নিউ জার্সিতে একটি বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন।   সেসাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই তাঁর বাড়ি এবং এখানেই তিনি তাঁর ছেলেকে বড় করতে চান। তাঁর ভাষ্য, জীবনের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর সিয়েরা লিওনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন, তা জানা নেই।   সূত্র: এনজে ডটকম

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১২:৩৭
এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স তালিকায় যুক্ত হওয়া তুরস্কের নাগরিক অনুর সিমসেক। ছবি: সংগৃহীত

এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তুরস্কের নাগরিক, পুরস্কার ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে প্রপার্টি ট্যাক্সের হিসাব মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে এই ট্যাক্সের হিসাব না জানলে বাড়বে মানসিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ক্লার্কস্টনে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি অভিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

চাকরি নেই স্বামীর, বন্ধ খাদ্য সহায়তা, এরপর উচ্ছেদ, দুই শিশুসহ অভিবাসী পরিবারের পাশে কমিউনিটি

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াচেন্তি। ছবি: সংগৃহীত
মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফিরেই টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পাঁচ মাসের এক কন্যাশিশুর মা। সোমবার বিকেলে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কোনো পূর্বপরিচয় ছাড়াই এক নারী তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পিয়াচেন্তির মৃত্যুর ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে, কারণ মাতৃত্বকালীন পাঁচ মাসের ছুটি শেষে সেটিই ছিল কাজে ফেরার প্রথম দিন।  নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ম্যানহাটনের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ার এলাকায় ছুরিকাঘাতের খবর পায় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরাস প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। মাত্র ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনি পিয়াচেন্তিকেও ছুরিকাঘাত করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে এলোমেলো ও উসকানিবিহীন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।    গুরুতর আহত পিয়াচেন্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্য আহত ব্যক্তি তাক কামকে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।    হামলার পর সিসনেরাস দুই হাতে ছুরি নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। পুলিশ তাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বললেও তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে দুইবার টেজার ব্যবহার করা হলেও তিনি পুলিশের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।    পিয়াচেন্তি নিউ জার্সির চেস্টারে স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে বসবাস করতেন। তাদের পাঁচ মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়েকে নিয়ে ছবি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার আগে মেয়ের সঙ্গে কাটানো পাঁচ মাসের জন্য কৃতজ্ঞতার কথাও জানিয়েছিলেন।    শিক্ষাজীবনেও পিয়াচেন্তির ছিল শক্তিশালী একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড। ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক হওয়ার পর ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। সেখানেই তার স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন তিনি। পরে ব্যাংক অব আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ দেন।    ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল পিয়াচেন্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। ব্যাংক অব আমেরিকাও এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।   এদিকে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসনেরাস এর আগে পুলিশের নজরেও ছিলেন এবং তার দীর্ঘদিনের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার ইতিহাস ছিল বলে তার ভাই জানিয়েছেন। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১০:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত

আগস্টে রেকর্ড ৫১ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার করেছে আইসিই

হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড থেকে আজ পিএইচডি-এমডি-এমবিএধারী চিকিৎসক রাসেল

সিকিউরিটি গার্ড থেকে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী, অসম্ভবকে সম্ভব করলেন রাসেল

কর ফেরত ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বাড়ায় মার্কিন অর্থনীতিতে শক্তির ইঙ্গিত।

২৯৬ বিলিয়ন ডলার ট্যাক্স রিফান্ড, মার্কিন অর্থনীতি এখনো শক্তিশালী- বলছেন বিশ্লেষকরা

0 Comments