মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দেশীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো তৃতীয় 'বাংলাদেশ ডে প্যারেড'। স্থানীয় সময় গত রবিবার (১৭ মে) দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম প্রধান প্রবাসী কেন্দ্রস্থল জ্যাকসন হাইটসে এই বর্ণাঢ্য প্যারেডের আয়োজন করা হয়। আমেরিকার বুকে বাংলাদেশের গৌরবময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এই আয়োজনে নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের অর্ধ ডজনাধিক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিসহ হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ফলে পুরো জ্যাকসন হাইটস এলাকা কিছু সময়ের জন্য রূপ নিয়েছিল এক খণ্ড বাংলাদেশে। উৎসবের এই দিনে প্রবাসী বাঙালিদের হাতে হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা, মুখে মুখে ছিল চিরচেনা দেশাত্মবোধক গান, আর চারপাশ মুখরিত ছিল ঐতিহ্যবাহী ঢাক—ঢোলের বাজনায়। বাঙালি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা প্রতিকৃতি ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে নিজ দেশের গৌরবকে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরা হয় এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এবারের প্যারেডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা একঝাঁক জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতি। রূপালী পর্দার চিত্রনায়িকা মৌসুমী, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শুভ্রদেব, বিশিষ্ট অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, সজল, জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান ও নওরিনসহ দেশ ও প্রবাসের সাংস্কৃতিক জগতের একাধিক পরিচিত মুখ এই আয়োজনে শামিল হন। তারকাদের একনজর দেখতে এবং তাদের সাথে প্যারেডে অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক দেশী—বিদেশী জনতা রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পুরো আয়োজন উপভোগ করেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশাপাশি ভিনদেশী আমেরিকানদেরও এই প্যারেডকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশেষ করে স্প্যানিশ কমিউনিটির শিল্পীদের চমৎকার লোকনৃত্য পরিবেশনা প্যারেডে ভিন্ন এক বৈচিত্র্যময় মাত্রা যোগ করে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত প্যারেডের মূল কর্মসূচী নির্ধারিত থাকলেও, ঘড়ির কাঁটা ৯টা ছোঁয়ার আগে থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা নির্ধারিত স্থানে এসে সমবেত হতে থাকেন। গ্রীষ্মকালের গরম হাওয়া উপেক্ষা করেই সর্বস্তরের প্রবাসীরা রঙিন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানার এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে যোগ দেন। বেলা ১১টার দিকে প্যারেড শুরুর মূল স্পটটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ঠিক এই সময়েই নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে সমবেত হন এবং একটি সুসজ্জিত ট্রাকের ওপর তৈরি চলমান মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এবারের প্যারেডে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসউয়োম্যান গ্রেস মেং ও কংগ্রেসওম্যান টম সোয়াজি, স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান স্টেভেন রাগা, অ্যাসেম্বলিউয়োম্যান জেসিকা গঞ্জালেস রোহাস এবং নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণানসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মার্কিন জনপ্রতিনিধি। প্যারেডের চীফ গ্র্যান্ড মার্শাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এম আজিজ এবং ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। মার্কিন মূলধারার রাজনীতিকদের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আমেরিকার রাজনীতিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রভাব ও গুরুত্ব দিন দিন কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিবেশনের মধ্যদিয়ে প্যারেডের আনুষ্ঠানিক কর্মকান্ড শুরু হয়। প্যারেড শুরুর প্রাক্কালে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্যারেড কমিটির কনভেনর গিয়াস আহমেদ, চেয়ারম্যান এটনীর্ মঈন চৌধুরী এবং গ্র্যান্ড মার্শাল লায়ন শাহ নেওয়াজসহ অন্যান্য মার্শালরা। এছাড়াও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াদুদ ভুঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম প্যারেড আয়োজন কমিটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ফখরুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, প্রবীণ প্রবাসী ব্যক্তিত্ব নাসির খান পল, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াসী চৌধুরী প্রমুখ। সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সরকার, বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক ডা. বর্ণালী হাসান, সারাহ কেয়ার ইউএসএ’র প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও ডা. শাহজাদী পারভীন সারাহ, অল কাউন্টি হেলথ কেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান শিফা ভুঁইয়া, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিএ)—এর সাবেক সভাপতি আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম ও জাকারিয়া মাসুদ জিকো, ঢাকা জিলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদো ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী আযম, মূলধারার রাজনীতিক ড. دীলিপ নাথ এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশী আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব ডিষ্ট্রিক্ট ২০—আর টু এর সভাপতি জেএফএম রাসেলসহ আরও অনেকে তাদের বক্তব্যে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জোর দেন। এই পুরো পর্বটি পরিচালনা করেন প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান। তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন প্যারেড কমিটির চীফ ইভেন্ট কো—অর্ডিনেটর এফইএমডি এবং সুপরিচিত উপস্থাপিকা সোনিয়া সিরাজ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে একটি বিশালাকার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সামনে নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) চৌকষ বাদ্যযন্ত্রী দলের চমৎকার সুরের মধ্য দিয়ে মূল প্যারেড বা শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এরপর সিটির বিভিন্ন সরকারি বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশী—আমেরিকানদের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং অসংখ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে চলেন। প্যারেডটি জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউ ও ৬৯ স্ট্রিট সংলগ্ন পার্কিং লট থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ৩৭ এভিনিউ ধরে অত্যন্ত চমৎকারভাবে এগিয়ে ৮৭ স্ট্রিটে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে সেখানে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের মনমুগ্ধকর সঙ্গীত আর লোকনৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে। এবারের প্যারেডে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগের ব্যান্ড দলের সাথে এনওয়াইপিডি, নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) এবং ইউএস আর্মি অংশ নিয়ে প্যারেডের মর্যাদা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশী—আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা), আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশন—২০২৬-এর আয়োজক কমিটি, সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফার্মিংস আর্টস (বিপা), বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস (বাফা), প্রবাসী সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন কমিটি, প্রবাসী মতলব সমিতি ইনক, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ, গোল্ড—স্যান্ডস গ্রুপ, বাংলাদেশী—আমেরিকান বোলডেস্ট এসোসিয়েশন (বিএবিএ), গ্রেটার খুলনা সোসাইটি অব ইউএসএ, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর এশোসিয়েশন, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ, মনি হোম কেয়ার, দ্যা ভয়েস অব ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট, হেলথ ফার্স্ট, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, ফার্স্ট এইড হোমকেয়ার, নবাবগঞ্জ উপজেলা এসোসিয়েশন অব ইউএসএ, বরিশাল সিটি ও সদর সোসাইটি ইউএসএ, বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ইউএসএ, বাংলাদেশী—আমেরিকান পোস্টাল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন ইউএসএ, পাবনা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবং দোহার উপজেলা সমিতি ইউএসএ। অপরদিকে সাবেক সিটি কাউন্সিলম্যান হাইরাম মানসেরাত এবং নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট—৩০ এর আগামী প্রাইমারী নির্বাচনে প্রার্থী বাংলাদেশী—আমেরিকান শামসুল হকের সমর্থকরাও বিশাল বহর নিয়ে প্যারেডে যোগ দেন। এছাড়া মেলায় হেলথ ফার্স্ট ও অল কাউন্টি হেলথ কেয়ারসহ কয়েকটি ব্যবসায়িক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্টল বসিয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি ও নানা উপহার সামগ্রী বিতরণ করে। বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সারোয়ার খান বাবু দর্শকদের মাঝে আঙুর বিতরণ করেন। তবে এত বড় ও উৎসবমুখর আয়োজন সত্ত্বেও পুরো প্যারেড অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে বলে সাধারণ প্রবাসী ও পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন। সময় ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে শোভাযাত্রার রুট নিয়ন্ত্রণে এক ধরণের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট ছিল। এছাড়া প্যারেড কমিটি আগে থেকে অনেক বড় বড় তারকার উপস্থিতির কথা ঘোষণা করলেও, তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত প্যারেডে অনুপস্থিত ছিলেন, যা সাধারণ দর্শকদের কিছুটা ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। তবে সব ছাড়িয়ে কমিউনিটিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রবাসীদের অভিভাবক সংগঠন হিসেবে পরিচিত 'বাংলাদেশ সোসাইটি'র আনুষ্ঠানিক অনুপস্থিতি। সোসাইটির কোনো কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে প্যারেডে অংশ নিলেও সংগঠনটির কোনো ব্যানার বা আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ছিল না। প্রবাসীদের এত বড় একটি জাতীয় উৎসবে কেন প্রধানতম আঞ্চলিক ছাতা-সংগঠনটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অংশ নিল না, তা নিয়ে কমিউনিটির ভেতরে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আয়োজকদের সাথে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বা সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এমনটি ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে দূর করা জরুরি। তা সত্ত্বেও, লাল-সবুজের এই মহোৎসব নিউইয়র্কের বুকে বাংলাদেশের গৌরবময় সংস্কৃতিকে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আগামী ১৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডে প্যারেড। এবারের আয়োজনেও শতাধিক সংগঠন অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এই প্যারেডের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে শনিবার (২ মে) জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্ট পার্টি হলে ফুল এক্সিকিউটিভ ইনট্রোডিসিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন এবং দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে প্যারেডে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডে প্যারেড কমিটির গ্র্যান্ড মার্শাল এম আজিজ, চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, কনভেনর গিয়াস আহমেদ, মেম্বার সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মান, চিফ ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর লায়ন ফেডি রকি এবং কো-চেয়ার ক্যাপ্টেন প্রিন্স আলমসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা জানান, এই প্যারেডের মাধ্যমে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়োজন সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্যারেডে প্রবাসী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন অঙ্গনের বাঙালি তারকারাও অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে অভিনেত্রী তানজিন তিশা এবং অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত বাঙালিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।