ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুসলিম অধিকারকর্মী, এবার ফেডারেল মামলা
ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষামূলক সফরে মসজিদে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার পর ফেডারেল মামলায় নাম এসেছে মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর। ২০২৫ সালের শরতে স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে নেওয়া হয়েছিল। ওই সফরকে কেন্দ্র করে পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থী। মামলায় বিলুর ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
৮ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। ‘কমিউনিটি মেম্বার্স ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামে একটি গ্রুপের সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবক ও বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী মামলাটি করেছেন। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ওই সফরে শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়া হয়, মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। শিক্ষার্থীদের ইসলামি ধর্মীয় যুব কর্মসূচির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন ধারণার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছিল যে ইসলাম বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সফরের সময় শিক্ষার্থীদের ছবি তোলা এবং অভিভাবকদের যথাযথ অনুমতি ছাড়া সেসব ছবি অনলাইনে প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় নিরপেক্ষতা, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা এবং বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই মামলায় জাহরা বিলুর নাম আসার কারণ হলো, তিনি ওই সফরের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বিলু কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা CAIR-এর সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক। নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, তাকে একজন আমেরিকান মুসলিম নারী হিসেবে তার নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
বিলু মামলাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, পাবলিক স্কুলে ধর্ম নিয়ে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু নিরপেক্ষতার অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে দূরে রাখা নয়। তিনি বলেন, মসজিদ পরিদর্শন, মুসলিমদের নামাজ দেখা কিংবা ইসলাম সম্পর্কে শেখা আর শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্ম পালনে বাধ্য করা এক বিষয় নয়।
পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, ধর্ম বিষয়ে স্কুলের শিক্ষা একাডেমিক হতে হবে, ধর্মীয় আচার পালনের উদ্দেশ্যে নয়। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রচার বা অবমূল্যায়ন করাও স্কুলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলা চলমান থাকায় ডিস্ট্রিক্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি এবং জানিয়েছে, তারা নিজেদের প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করছে।
অন্যদিকে, মামলাকারীরা বলছেন, সফরটি শুধু ধর্ম সম্পর্কে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না এবং ইসলামকে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাবলিক স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করতে পারে।
তবে সফরে অংশ নেওয়া অন্তত একজন শিক্ষার্থী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে, এটি ছিল ধর্ম সম্পর্কে একটি বৃহত্তর শিক্ষামূলক ইউনিটের অংশ, যেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানানো হচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদ সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম সম্পর্কে শেখা, কাউকে ধর্মান্তরিত করা নয়।
ফলে মামলাটিকে ঘিরে মূল প্রশ্ন এখন দাঁড়িয়েছে, পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় অনুশীলনে সম্পৃক্ত করার মধ্যে আইনগত সীমারেখা কোথায়। ফেডারেল আদালতে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমে সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যারা পর্যটক বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজ ও সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড় ধরনের এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-১ এবং বি-২ ভিসাগুলো বাতিল করা, যেসব ভিসাধারী পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের প্রার্থনা করেছেন। যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একযোগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা। তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই বিশাল পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যারা সাময়িক সময়ের দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা বলে প্রবেশ করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করছেন। এসব অ-অভিবাসী ভিসাগুলো বাতিল করার জন্য কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঠিক কতজন মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, তা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করেননি পিগট। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের এই প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে চলবে এবং মোট সংখ্যাটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল থাকবে। তবে কর্মকর্তারা এপিকে জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্ট করা হবে। যাদের আশ্রয়ের আবেদনগুলো এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের নতুন করে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। তবে তারা তাদের ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার বৈধতা পুরোপুরি হারাবেন। সাধারণত বি-১ ভিসা দেওয়া হয় ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য। অন্যদিকে বি-২ ভিসা দেওয়া হয় পর্যটন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং চিকিৎসাসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে। বর্তমানে এসব ভিসার আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হয় যে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন। অভিবাসন আইনের অপব্যবহার নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সম্প্রতি আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গত সোমবার মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আশ্রয়ের আবেদনকে কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে বিরক্ত হয়ে গেছে বলে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় যে কোনো ধরনের অপব্যবহার রোধে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, এই নীতির অংশ হিসেবে গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। এবার এই তালিকায় আরও দুই লাখ মানুষের নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ ও এপি
নিউইয়র্ক-নিউজার্সির আকাশে দেখা যেতে পারে ‘জেলিফিশ মেঘ’, ভোরে চোখে পড়তে পারে বিরল দৃশ্য
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুসলিম অধিকারকর্মী, এবার ফেডারেল মামলা
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৯ মাস সমুদ্রে মার্কিন নৌসেনা, দেশে ফেরার আগেই বাবাকে আটক করল আইসিই
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় গাড়ির ভেতর ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে নগ্ন অবস্থায় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৯টার পর রিভারসাইডের ডেভিড সারনফ প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় পুলিশ তাদের দেখতে পায়। পুলিশের বরাতে জানা গেছে, আটক যুবকের নাম ভিক্টর এলিজাদে, বয়স ১৯ বছর। সাউদ্যাম্পটন টাউন পুলিশের এক কর্মকর্তা নিয়মিত টহলের সময় গাড়িটির কাছে গিয়ে ওই অবস্থায় তাদের দেখতে পান। পরে যুবককে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলিজাদের বিরুদ্ধে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাকে হেফাজতে না রেখে পরে আদালতে হাজিরার নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরী ও এলিজাদের মধ্যে যৌন নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা বলেছেন, ওই কিশোরীকে এলিজাদে যৌন নির্যাতন করেছেন বা আগে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো ইঙ্গিতও তারা পাননি। এ কারণে বর্তমানে তদন্তটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে কিশোরী কীভাবে এলিজাদের সঙ্গে ওই প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় পৌঁছেছিল এবং গাড়িতে তাদের অবস্থানের পেছনে ঠিক কী পরিস্থিতি ছিল, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি। কিশোরীর পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এলিজাদের এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জটিলতা হয়েছিল। গত জুনে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। বর্তমান ঘটনায় অভিযোগ গুরুতর হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আপাতত তার বিরুদ্ধে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগই রয়েছে এবং আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি এগোবে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্লিফ থেকে সাগরে গাড়ি পড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর মৃত্যু
বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকলেই মাসে সাশ্রয় $১,০০০, যুক্তরাষ্ট্রের যে ৭ শহর
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি, টার্গেটে ২ লাখ বিদেশি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এমন অভিবাসীদের গ্রহণ করতে শুরু করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া, যারা দেশটির নাগরিক নন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির আওতায় করা চুক্তির প্রথম ধাপে গত ২০ আগস্ট প্রায় ২০ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ জনকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হতে পারে। এসব ব্যক্তির মধ্যে আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। লাইবেরিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিরা দেশটির নাগরিক নন এবং তাদের ‘তৃতীয় দেশের নাগরিক’ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তাদের মধ্যে যারা চাইবেন, তারা লাইবেরিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন। প্রথম দলটি লুইজিয়ানা থেকে একটি বিমানে করে লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়ার বাইরে রবার্টস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তবে বিমানটি অবতরণের পর কয়েকজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের গন্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে জানা যায়, প্রথম দফায় পাঠানো ছয়জন—চারজন কিউবার নাগরিক, একজন ব্রাজিলের নাগরিক এবং একজন ক্যামেরুনের নারী—বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের দাবি ছিল, লাইবেরিয়া তাদের নিজ দেশ নয় এবং সেখানে গেলে তারা নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন। লাইবেরিয়ার সরকার বলেছে, এই ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের কূটনৈতিক নোট বিনিময়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এটিকে মানবিক ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছে এবং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ব্যক্তিদের অতিথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটি এমন একটি নীতির অংশ, যার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনগতভাবে সম্ভব নয় বা যাদের নিজ দেশে ফেরত গেলে নির্যাতন কিংবা অন্য গুরুতর ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবস্থা করেছে। তবে এই নীতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নিজ দেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন জায়গায় বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের পাঠানো হলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তী সময়ে তারা আবার অন্য দেশে পাঠানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। লাইবেরিয়ার জন্য বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বড় একটি অংশ এমন জনগোষ্ঠীর বংশধর, যাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাস রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত মানুষদের গ্রহণের এই নতুন ভূমিকা দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্কের সঙ্গেও নতুন এক বৈপরীত্য তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে, লাইবেরিয়ায় প্রথম ২০ জনকে পাঠানোর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘তৃতীয় দেশে বহিষ্কার’ নীতির নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরে আরও ১ হাজার ১৮০ জন পর্যন্ত মানুষকে সেখানে পাঠানো হলে এ ব্যবস্থা অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার ও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ডেলাওয়ার ভ্যালিতে ড. কাজী খালিদ আশরাফকে সম্মাননা
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে ১৫টি ঘাঁটির প্রবেশাধিকার হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সাবেক মার্কিন জেনারেল