বর্তমান সংসদ সদস্যদের (এমপি) নামে এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশনার কারণে এই খেলাপি ঋণের একটি অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। ফলে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক দায়বদ্ধতা ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা নিয়ে।
দিনাজপুরের হিলিতে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সিমু। সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি দাম্পত্য জীবনের নানা সংকট ও মানসিক কষ্টের কথা তুলে ধরেন। পরে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। স্বজনরা রাত ৮টার দিকে তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানকার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসা আল আশারী জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিমুকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েনের কারণে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ গ্রহণ করতেন। তবে ওইদিন তিনি অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ গ্রহণ করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এছাড়া জানা যায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর শিবলী সাদিক আত্মগোপনে রয়েছেন। সেই সময় থেকে খাদিজা হিলি শহরের সিপি রোড এলাকায় তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২০১৯ সালের ৮ জুন তাদের বিয়ে হয়। ফেসবুক পোস্টে খাদিজা নিজের দীর্ঘদিনের মানসিক কষ্ট, দাম্পত্য জীবনের নানা অভিযোগ এবং হতাশার কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, বহু বছর ধরে চলা অবিচার ও মানসিক চাপ আর সহ্য করতে পারছিলেন না। একই সঙ্গে নিজের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সন্তানের জন্য দোয়া রেখে যান। উল্লেখ্য, শিবলী সাদিক এর আগে ২০১১ সালে কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমাকে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক দ্বন্দের জেরে ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ২০১৯ সালে খাদিজা মল্লিক সিমুর সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা আমির হামজা জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজকে কেন্দ্র করে গত তিন দিনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। তবে এসব প্রস্তাব তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আল্লাহ ছাড়া কেউ এ প্রস্তাবের কথা জানে না এবং একশ কোটি টাকা বা পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে একচুলও নড়বেন না। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আমির হামজা বলেন, পাঁচ বছরের দায়িত্বকালে যেন এক টাকাও অবৈধভাবে না বাড়ে, সে লক্ষ্যেই তিনি চলতে চান। এজন্য সব ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আত্মীয়তার পরিচয়, দলীয় বা বিরোধী পরিচয়ে কেউ তার নাম ব্যবহার করে কোনো অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জায়েজ পথ বাদ দিয়ে নাজায়েজ পথে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে বৈধ ও সঠিক পথে এগিয়ে যেতে চান তিনি। অন্যায় ও হারাম কাজ পরিহার করে সহজ-সরল জীবনযাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের চলার জন্য খুব বেশি কিছু লাগে না। যারা অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ে চলতে চান, তারা অন্য কোথাও গিয়ে তা করতে পারেন। কুষ্টিয়া ও এই আসনে সঠিক পথেই কাজ চলবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সভায় জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ও চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ। আগামী ১২ মার্চ বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। নিয়মানুযায়ী অধিবেশনের প্রথম দিনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে এবারের ভাষণে কোনো স্তুতি নয়, বরং প্রাধান্য পাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের দুর্নীতি, দুঃশাসন এবং ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিশদ বর্ণনা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির এই ভাষণের খসড়া তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রায় দেড়শ পৃষ্ঠার এই বিশাল ভাষণে বিগত তিন দফার ভোটারবিহীন ও বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার প্রেক্ষাপট এবং বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন ও গুম-খুনের খতিয়ান তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ‘আয়নাঘরের’ লোমহর্ষক বর্ণনা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ঐতিহাসিক পর্যায়গুলো এই ভাষণে স্থান পাচ্ছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ভাষণ দিয়েছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের প্রশংসায় পূর্ণ। তখন তিনি আওয়ামী আমলের নির্বাচনকে ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর বর্তমান মন্ত্রিসভার অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে এখন সেই একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাসিনার অপশাসনের বিরুদ্ধে সত্য উচ্চারণ করতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে এবার বর্তমান সরকারি দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল পয়েন্টগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে সংযোজন করা হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রপতি ভাষণটি পড়ে শোনাবেন, তবে এর বিষয়বস্তু সম্পূর্ণভাবে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী ভাবনার প্রতিফলন। ১২ মার্চের এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনই কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ভাষণের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশে বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের আনুষ্ঠানিক ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। দেড় যুগ পর একটি প্রকৃত নির্বাচিত সংসদের যাত্রা শুরুর দিনটি তাই হয়ে উঠবে ইতিহাসের এক নতুন সন্ধিক্ষণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি লিখেছেন, “সবকিছুই সমঝোতা।” এই মাত্র দুই শব্দের পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন মহলে তার সম্ভাব্য অর্থ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে সমালোচনা ও আলোচনা শুরু হয়। এর আগের রাতে একই দলের প্রধান সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ফেসবুকে হাসনাতকে উল্লেখ করে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “হাসনাত কই? লীগ তো দোকান খোলা শুরু করছে। নির্বাচন তো হয়ে গেছে, এবার সংস্কার ও বিচার হবে।” তার এই পোস্টও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা—রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না এবং এলে তা কবে। মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা সরকারের সময়। গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সেই সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি উঠেছিল ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে। তবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকায় সে দাবি কার্যকর হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনিই নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, মেয়াদ চলমান থাকলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই। ফলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে বা সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায় অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কেউ এ পদে আসীন হতে পারবেন না—এমনটাই মত সংবিধান বিশ্লেষকদের। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে—মেয়াদ শেষ হওয়া, পদত্যাগ কিংবা অভিশংসন। এর যেকোনো একটি না ঘটলে নতুন নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে অতীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি আগ্রহী। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে হয় বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারিত। কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। প্রার্থী হতে হলে কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়স এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পড়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তফশিল ঘোষণা করেন। মনোনয়নের ক্ষেত্রে একজন প্রস্তাবক ও একজন সমর্থক সংসদ সদস্যের প্রয়োজন হয়। একমাত্র প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে পদ শূন্য হলে ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। প্রয়োজনে অধিবেশন না থাকলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন অধিবেশন আহ্বান করা হয়। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও ভারসাম্যের প্রশ্ন বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নিজস্ব এখতিয়ার হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাভাবিক সময়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেকটাই আনুষ্ঠানিক হলেও রাজনৈতিক সংকটের মুহূর্তে তার গুরুত্ব বেড়ে যায়। বিশেষ করে সংসদ ভেঙে গেলে রাষ্ট্রপতি একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বহাল থাকেন। রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে ‘জুলাই সনদ’-এ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কিছু সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাধীন ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এসব বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। সামনে কী হতে পারে নতুন সংসদ ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছে এবং স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সামনে রয়েছে। রাষ্ট্রপতি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তাহলে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথ খুলবে। তবে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকলে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে। তবে সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর দুই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, আর কুমিল্লায় চালু হয়েছে ‘অভিযোগ বাক্স’ কার্যক্রম। ময়মনসিংহ–১০ (গফরগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান–এর পক্ষ থেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। এতে বলা হয়, এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের চেষ্টা করলে তাকে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। গফরগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীকে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়। প্রয়োজনে সরাসরি সংসদ সদস্যকেও অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মাইকিংয়ে আরও বলা হয়, বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য—বিভেদ নয়, ঐক্যই শান্তি, ঐক্যই মুক্তি। গফরগাঁও পৌর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বলেন, এমপি নির্বাচিত হয়েই চাঁদাবাজি বন্ধে এমন উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল শ্রেণি–পেশার মানুষের সহযোগিতাও জরুরি বলে তিনি মত দেন। এর আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান লেখেন, বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতরা দলের কেউ হতে পারে না; অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নয়নই তাদের লক্ষ্য। “সংঘাত নয়—সমাধান, ভয় নয়—ভরসা, হিংসা নয়—উন্নয়ন; দেশ আগে, দল পরে—জনগণই আমাদের শক্তি,” উল্লেখ করেন তিনি। নাঙ্গলকোটে ‘অভিযোগ বাক্স’ অন্যদিকে কুমিল্লা–১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নির্বাচনী এলাকায় ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট বাজারের বটতলা এলাকায় একটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়। সেখানে লেখা রয়েছে—বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে নির্দ্বিধায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার আহ্বান। পর্যায়ক্রমে উপজেলার দুটি উপজেলা পরিষদ, দুটি থানা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একইভাবে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। শিগগিরই স্টিলের তৈরি তালাবদ্ধ অভিযোগ বাক্স বসানো হবে, যার চাবি শুধু সংসদ সদস্যের কাছে থাকবে এবং তিনি নিজেই অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করবেন। মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। যে কেউ নাম গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী দলীয় কেউ হলেও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, জনগণ তাকে তাদের ‘পাহারাদার’ হিসেবে নির্বাচিত করেছে—এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তার লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।