আমেরিকা

শিকাগোতে উদ্বোধন হলো ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টার

Unknown প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ৪:১৭
কোলাজ । আমেরিকা বাংলা
কোলাজ । আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, নেতৃত্বের দর্শন এবং নাগরিক অংশগ্রহণের চেতনাকে ধারণ করে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে শিকাগোতে।

 

শহরের ঐতিহাসিক সাউথ সাইডের জ্যাকসন পার্কে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয় এই বৃহৎ প্রকল্পের। প্রায় এক দশকের পরিকল্পনা, নকশা প্রণয়ন, তহবিল সংগ্রহ, আইনি প্রক্রিয়া ও নির্মাণকাজ শেষে বাস্তবায়িত এই সেন্টারকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আজ ১৯ জুন থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ. বুশসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, কংগ্রেস সদস্য, শিক্ষাবিদ, শিল্পী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং হাজারো আমন্ত্রিত অতিথি।

 

অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে বারাক ওবামা বলেন, “এটি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নয়, এটি একটি কর্মশালা। এখানে মানুষ নেতৃত্ব শিখবে, নতুন ধারণা তৈরি করবে এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য একসঙ্গে কাজ করবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র কোনো দর্শক খেলা নয়। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না। ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টার সেই অংশগ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করবে।”

 

প্রচলিত প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরির ধারণা থেকে অনেকটাই ভিন্নভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারকে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রেসিডেন্টদের লাইব্রেরি যেখানে মূলত ঐতিহাসিক নথি ও দলিল সংরক্ষণের কেন্দ্র, সেখানে ওবামা সেন্টারকে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সক্রিয় নাগরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে।

 

প্রায় ১৯ দশমিক ৩ একরজুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রেসিডেনশিয়াল জাদুঘর, ওবামা ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর, কমিউনিটি ও সিভিক এনগেজমেন্ট সেন্টার, পারফর্মিং আর্টসের স্থান, শিকাগো পাবলিক লাইব্রেরির একটি শাখা, শিশু ও তরুণদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা, উন্মুক্ত সবুজ পার্ক এবং গবেষণা ও নেতৃত্ব উন্নয়ন কেন্দ্র।

 

প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

 

সেন্টারের অন্যতম আকর্ষণ চারতলা বিশিষ্ট জাদুঘর, যেখানে বারাক ও মিশেল ওবামার শৈশব, পারিবারিক জীবন, কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে তাদের কাজ, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা এবং হোয়াইট হাউসে ওবামার আট বছরের শাসনামলের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।

 

ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল প্রদর্শনী, মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা ও ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ওবামা প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, জলবায়ু উদ্যোগ, বৈদেশিক নীতি এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে ওবামার প্রেসিডেন্সির সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন, ব্যক্তিগত স্মারক, বক্তৃতার খসড়া ও নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রী।

 

ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারের জন্য শিকাগোর সাউথ সাইডকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে ওবামা পরিবারের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক। ১৯৮০-এর দশকে কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে বারাক ওবামার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সূচনা হয় এই এলাকায়। অন্যদিকে, মিশেল ওবামার শৈশব ও বেড়ে ওঠাও এই অঞ্চলে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সেন্টার শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়; বরং শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের একটি বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। নির্মাণকাজে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, খুচরা ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে আরও হাজারো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক মেরুকরণের এই সময়ে ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারকে অনেকেই গণতন্ত্র, নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

 

ওবামা ফাউন্ডেশনের ভাষায়, “এই সেন্টার অতীতকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।”

 

উদ্বোধনী সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মশালা, বিশেষ প্রদর্শনী এবং তরুণদের অংশগ্রহণমূলক নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দশকগুলোতে ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টার শুধু শিকাগোর নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডিপোর্টেশনের তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব পাওয়ায় নিউ জার্সির এক ব্যক্তিসহ ২৫ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ। ছবি: সংগৃহীত
ডিপোর্টেশনের তথ্য গোপন, ২৪ জনের সঙ্গে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ২৫ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেল সরকার। তাদের মধ্যে নিউ জার্সির এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অতীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্টেড হওয়ার তথ্য গোপন রেখে প্রতারণার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট অর্জন করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর অভিবাসী মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।    মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। ২০১৩ সালে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং আগের বহিষ্কারের তথ্য গোপন রেখে নাগরিকত্ব ও মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।    ফেডারেল প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নাগরিকত্ব অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল হওয়ার পাশাপাশি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।    একই সময়ে মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানায়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব মামলার অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অভিবাসন জালিয়াতি, নাগরিকত্ব আবেদনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, শিশু যৌন নির্যাতন, মাদক পাচার, স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ।    মার্কিন আইনে, কেউ যদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। তবে প্রতিটি মামলায় সরকারের অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হয় এবং আদালতের চূড়ান্ত আদেশ ছাড়া কারও নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না।    ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিন্যাচারালাইজেশন কার্যক্রমগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে নাগরিক অধিকারকর্মীদের একটি অংশের আশঙ্কা, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে অভিবাসন নীতি নিয়ে আরও বিস্তৃত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১০:১৩
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ সুপ্রিম কোর্টে বাতিলের পর ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে? উদ্বেগে অভিবাসী পরিবার

অবশেষে ‘২৫ বছরের নিচে’ প্রেমিকার ধারা ভাঙলেন হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে ‘২৫ বছরের নিচে’ প্রেমিকার ধারা ভাঙলেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, বর্তমান প্রেমিকার বয়স ২৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা চললেও বিবিসির প্রশংসায় ট্রাম্প, বললেন— ‘এবিসির চেয়ে ভালো’

দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমলে আইসিইর গ্রেপ্তার বেড়েছে, তবে কমেছে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর অনুপাত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতি তিনজনের মাত্র একজনের পূর্বে কোনো ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (PNAS)-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের অনুপাত আগের তুলনায় কমেছে।   গবেষণায় অক্টোবর ২০১৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ আইসিই গ্রেপ্তারের সরকারি প্রশাসনিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মাত্র ৩৪ শতাংশের বিরুদ্ধে পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড ছিল। তুলনায়, জো বাইডেনের শেষ বছরে এ হার ছিল ৫২ শতাংশ, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে ৭০ শতাংশ এবং বারাক ওবামার শেষ বছরে ৭৯ শতাংশ।   গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার-এর অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ক্লোই ইস্ট বলেন, গবেষণার ফলাফল দেখায় যে, আইসিইর বাস্তব অভিযান সরকারের দীর্ঘদিনের জনসম্মুখের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। প্রশাসন যেখানে জননিরাপত্তার স্বার্থে মূলত গুরুতর অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেছে, বাস্তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশের বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো ফৌজদারি দণ্ড ছিল না।   তবে এই গবেষণার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS)। বিভাগটির এক মুখপাত্র বলেন, গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্যের যথার্থতা তারা নিশ্চিত করতে পারছে না। তাদের দাবি, আইসিইর গ্রেপ্তার করা অবৈধ অভিবাসীদের ৭০ শতাংশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি দণ্ড অথবা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিদেশে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি, গ্যাং সদস্য, সন্ত্রাসী বা ইন্টারপোলের নোটিশভুক্ত ব্যক্তিদের তথ্যও ওই গবেষণায় প্রতিফলিত হয়নি বলে দাবি করে DHS।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কমিউনিটি অ্যারেস্ট বা পাড়া-মহল্লা, কর্মস্থল, বিমানবন্দর ও জনসমাগমস্থল থেকে গ্রেপ্তারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছরে যেখানে মোট গ্রেপ্তারের ১৯ শতাংশ ছিল কমিউনিটি অ্যারেস্ট, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তা বেড়ে প্রায় ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে।   এদিকে, জুলাই মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিই সর্বোচ্চ সংখ্যক মাসিক গ্রেপ্তারের রেকর্ড গড়ে। অভ্যন্তরীণ DHS তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে ৪৬ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর অবস্থানসহ বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়।   গবেষণার লেখকরা অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, তাদের গবেষণায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা বিচারাধীন মামলার বিষয়টি নয়, শুধুমাত্র পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই গবেষণার ফলাফলকে সেই প্রেক্ষাপটেই বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৮:১৯
অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসরত তরুণী

বাথরুমে নেই ওয়াশবেসিন, তবু নিউইয়র্কের ৩৮০ বর্গফুটের এই ফ্ল্যাট ছাড়তে চান না তিনি

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চাওয়ার খবর ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিল ফিফা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

দশ বছরে প্রথমবার অর্থনীতিতে রিপাবলিকানদের ছাড়িয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বেশি আস্থা মার্কিন ভোটারদের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
' ব্রিটেন আসলে দেউলিয়া' উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরামর্শ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে ‘দেউলিয়া দেশ’ আখ্যা দিয়ে উত্তর সাগরে (নর্থ সি) তেল ও গ্যাস উত্তোলন আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, উত্তর সাগরের জ্বালানি সম্পদ আরও বেশি কাজে লাগাতে পারলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নীতি ও জলবায়ু ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যের উচিত উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা। তার ভাষ্য, অতিরিক্তভাবে বায়ুশক্তির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো হলে ব্রিটেন অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম এ বিষয়ে বাস্তববাদী অবস্থান নেবেন।    তবে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, সরকার উত্তর সাগরের বিদ্যমান তেল ও গ্যাস সম্পদের ব্যবহার নিয়ে ‘বাস্তববাদী’ নীতি অনুসরণ করবে। তবে তিনি নতুন অনুসন্ধান লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি। বরং লেবার পার্টির পূর্বঘোষিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান প্রকল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।    উত্তর সাগরের জ্বালানি সম্পদ নিয়ে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। একদিকে জ্বালানি শিল্প ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো নতুন প্রকল্প অনুমোদনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি, এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, দেশীয় জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। অন্যদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, নতুন তেল-গ্যাস প্রকল্প অনুমোদন যুক্তরাজ্যের জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।    ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, উত্তর সাগরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদ রয়েছে। তবে জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে পরিমাণ সম্পদের কথা বলেছেন, তা বিদ্যমান শিল্প মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমান উৎপাদন ও মজুতের ভিত্তিতে উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা সীমিত এবং আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।    বার্নহাম সরকারের জন্য বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চাপ রয়েছে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে উত্তর সাগরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও পরিবেশ নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৬:৩০
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের

ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা

ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা, ‘এখনই চুক্তি না হলে সুযোগ শেষ’

নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা

নিউইয়র্কে এখন নিজের মৃত্যুর সিদ্ধান্তও নেওয়া যাবে? নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা

0 Comments