যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিশুর সঙ্গে ধর্ষণ ও যৌন অসদাচরণের অভিযোগে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে ও জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি শিশুর সঙ্গে ধর্ষণ এবং যৌন অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপ, এশিয়া কিংবা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইস্তাম্বুল ধীরে ধীরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাবে পরিণত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, বিস্তৃত ফ্লাইট নেটওয়ার্ক এবং তুর্কী এয়ারলাইন্স-এর বৈশ্বিক সংযোগের কারণে অনেক মার্কিন যাত্রী এখন ইস্তাম্বুল হয়ে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণকে বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্টকে কেন্দ্র করে তুর্কী এয়ারলাইন্স বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহর থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, হিউস্টন, মায়ামি, সান ফ্রান্সিসকো, ওয়াশিংটন ডিসি, ডালাস, সিয়াটল, বোস্টন, ডেট্রয়েট, আটলান্টাসহ বিভিন্ন শহর থেকে ইস্তাম্বুলে নিয়মিত ফ্লাইট রয়েছে। অনেক রুটে প্রতিদিনই একাধিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থানই এর সবচেয়ে বড় শক্তি। ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ইস্তাম্বুল থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার শতাধিক গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছে এটি একটি কার্যকর সংযোগকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তুর্কী এয়ারলাইন্স-এর অন্যতম জনপ্রিয় সুবিধা হলো ‘টুরিস্ট’ কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক সংযোগ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ইস্তাম্বুলে ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টার উপযুক্ত লেওভার থাকলে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে যাত্রীরা বিনামূল্যে শহর ভ্রমণের সুযোগ পান। এই ট্যুরে হাজিয়া সোফিয়া, সুলতান আহমেদ মসজিদ, তোপকাপি প্রাসাদসহ ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখার ব্যবস্থা থাকে। তবে এ সুবিধা নির্দিষ্ট শর্ত, সময়সূচি এবং আসনসংখ্যার ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া দীর্ঘ লেওভারের ক্ষেত্রে তুর্কী এয়ারলাইন্স -এর আলাদা ‘Stopover’ কর্মসূচির আওতায় কিছু যাত্রী বিনামূল্যে হোটেল সুবিধাও পেতে পারেন। তবে এটি ইস্তাম্বুল থেকে পৃথক একটি কর্মসূচি এবং এর জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত প্রযোজ্য। ভিসা নিয়মের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মার্কিন পাসপোর্টধারীরা এখন পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের জন্য ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই তুরস্কে প্রবেশ করতে পারেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য পূর্বের মতো ই-ভিসা বাধ্যতামূলক নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম নির্ভর করে তাদের পাসপোর্টের দেশের ওপর। যেমন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী গ্রিন কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ইস্তাম্বুলে সংযোগ ফ্লাইট থাকলে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার ব্যবধান রাখা উচিত। কারণ বিমানবন্দরটি আয়তনে অত্যন্ত বড় এবং আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের সময় নিরাপত্তা ও গেটে পৌঁছাতে উল্লেখযোগ্য সময় লাগতে পারে। এছাড়া ভিসা, ট্রানজিট সুবিধা বা লেওভার কর্মসূচি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তুর্কী এয়ারলাইন্স এবং তুরস্ক সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই নিরাপদ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানগামী যাত্রীদের মধ্যে ইস্তাম্বুল হয়ে ভ্রমণের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কম সংযোগ, বিস্তৃত গন্তব্য নেটওয়ার্ক এবং ট্রানজিট সুবিধার সমন্বয়ে তুরস্ক এখন বৈশ্বিক বিমান চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর বিমান হামলা চালালে সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, বিশেষ করে বিমান হামলার পথ বেছে নেয়, তাহলে সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার আরও বাড়বে। আকরামিনিয়ার দাবি, চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে। তিনি ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ইরানের সামরিক তৎপরতার প্রভাব এখন জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছেছে। ইরানের এই সামরিক মুখপাত্র আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান ‘কঠিন ও অস্থিতিশীল’ হয়ে উঠেছে এবং ওয়াশিংটন এখন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কৌশল খুঁজছে। তার ভাষায়, “যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।” সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে একাধিক সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এদিকে, সাম্প্রতিক খবরে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত নতুন হামলা স্থগিত রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ মূল্যায়ন করছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ম্যাগনোলিয়া এলাকায় একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ বিক্রি হয়ে গত ২৫ বছরের মধ্যে ওই অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যের আবাসিক সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। হিউস্টনভিত্তিক আবাসন বাজারে উচ্চমূল্যের বাড়ির চাহিদা অব্যাহত থাকার মধ্যেই এই বিক্রি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হিউস্টন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাগনোলিয়ার রেড বে সার্কেলে অবস্থিত মেডিটেরেনিয়ান রিভাইভাল নকশার প্রাসাদটি ২০২৬ সালের জুনে বিক্রি হয়। বাড়িটির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৫ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি ২০০০ সালের পর থেকে ম্যাগনোলিয়া অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যের আবাসিক সম্পত্তি বিক্রির রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ১১ হাজার ৪৯০ বর্গফুট আয়তনের এই বাড়িটিতে রয়েছে সাতটি শয়নকক্ষ, ব্যক্তিগত হোম থিয়েটার, আধুনিক ফিটনেস স্টুডিও এবং বিস্তীর্ণ ছয় একর বনঘেরা জমি। সম্পত্তির ভেতরে একাধিক পুকুর ও খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশও রয়েছে, যা এটিকে এলাকার অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী বিলাসবহুল আবাসনে পরিণত করেছে। একই সময়ে হিউস্টন অঞ্চলের বিলাসবহুল আবাসন বাজারেও বেশ কয়েকটি বহু-মিলিয়ন ডলারের বাড়ি বিক্রি হয়েছে। মেমোরিয়াল ভিলেজ, দ্য উডল্যান্ডস এবং বাঙ্কার হিল ভিলেজের একাধিক প্রাসাদও ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হাতবদল হয়েছে, যা উচ্চমূল্যের আবাসন খাতে ক্রেতাদের আগ্রহের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক উচ্চ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও টেক্সাসের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে শক্তিশালী চাহিদা বজায় রয়েছে। বিশেষ করে বড় আকারের জমি, ব্যক্তিগত সুবিধা এবং প্রিমিয়াম অবস্থানের সম্পত্তিগুলো এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ম্যাগনোলিয়া, যা হিউস্টনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মন্টগোমারি কাউন্টির একটি দ্রুত বর্ধনশীল এলাকা, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় আকারের এস্টেট ও বিলাসবহুল আবাসনের জন্য ক্রেতাদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই সর্বশেষ বিক্রিও সেই প্রবণতারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ বলে মনে করছেন আবাসন বাজার সংশ্লিষ্টরা।