Facebook-এ প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘Shark Tank’-এর একজন উপস্থাপকের ছবি ব্যবহার করে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে তাতে ক্লিক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা মরি ডেইনো। এরপর তাঁকে নেওয়া হয় একটি কথিত বিনিয়োগ ক্লাবে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেটি প্রকৃত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সংঘবদ্ধ প্রতারকদের পরিচালিত একটি নেটওয়ার্ক ছিল।
প্রতারকদের কথায় চীনের একটি কমদামি কোম্পানির শেয়ার কিনে ডেইনো ও তাঁর স্ত্রী শেষ পর্যন্ত ৭ লাখ ১৫ হাজার ডলার হারান। এই অর্থ ছিল তাঁদের অবসরজীবনের প্রায় পুরো সঞ্চয়। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, ‘Shark Tank’, এর উপস্থাপক কিংবা কোনো গোপন ও লাভজনক বিনিয়োগ কৌশলের সঙ্গে বিজ্ঞাপনটির বাস্তবে কোনো সম্পর্ক ছিল না।
ডেইনোসহ চার বিনিয়োগকারী ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে Facebook ও Instagram-এর মালিক প্রতিষ্ঠান Meta Platforms-এর বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত শ্রেণিভুক্ত মামলা করেন। তাঁদের অভিযোগ, ভুয়া বিজ্ঞাপনগুলো Meta-র প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের Meta-র মালিকানাধীন WhatsApp-এর ব্যক্তিগত গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হতো।
সেখানে প্রতারকেরা কখনো আর্থিক উপদেষ্টা, কখনো পরিচিত বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ অথবা প্রতিষ্ঠিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। এরপর বিদেশি কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য গ্রুপের সদস্যদের চাপ দেওয়া হতো। মামলার নথি অনুযায়ী, এসব শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে প্রতারকেরা নিজেদের কাছে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতেন। বিপুল বিক্রির পর শেয়ারের দাম ধসে পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের অর্থ হারাতেন।
এ ধরনের প্রতারণা আর্থিক বাজারে ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’ নামে পরিচিত। প্রথমে মিথ্যা প্রচার, ভুয়া সুপারিশ ও সাজানো সাফল্যের গল্পের মাধ্যমে কোনো কমদামি শেয়ারের চাহিদা এবং মূল্য বাড়ানো হয়। দাম যথেষ্ট বেড়ে গেলে প্রতারকেরা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়। পরে শেয়ারের দর দ্রুত পড়ে গেলে ক্ষতির বোঝা থেকে যায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় গোপন করে বা অন্য ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের শেয়ার প্রচারের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে।
তবে Meta-কে এই ক্ষতির জন্য দেওয়ানি আইনে দায়ী করার প্রচেষ্টা এখন একটি জটিল আইনি বাধার মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে শুনানির সময় বিচারক উইলিয়াম অরিক জানান, বিচারিক এখতিয়ারের প্রশ্নে ডেইনোদের মামলা এবং একই ধরনের আরেকটি মামলা খারিজ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনো ঘোষণা করা হয়নি।
Meta বলছে, মামলার মূল অভিযোগ যেহেতু শেয়ার কেনাবেচা এবং সিকিউরিটিজ জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এটিকে সাধারণ ভোক্তা অধিকার আইনের অধীনে শ্রেণিভুক্ত মামলা হিসেবে পরিচালনা করা যাবে না। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৮ সালের Securities Litigation Uniform Standards Act বা SLUSA-এর ওপর নির্ভর করছে। এই আইন অনুযায়ী, শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত প্রতারণার অভিযোগকে অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অধীনে নির্দিষ্ট ধরনের শ্রেণিভুক্ত মামলা হিসেবে চালানোর সুযোগ সীমিত।
একই ধরনের আরেকটি মামলা জুন মাসে বিচারক রিচার্ড সিবর্গ খারিজ করেছিলেন। তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতে আবেদন বিচারাধীন। তবে মামলাটি এমনভাবে খারিজ করা হয়েছিল যাতে বাদীরা ফেডারেল সিকিউরিটিজ আইন কিংবা ভিন্ন কোনো আইনি ভিত্তিতে আবার মামলা করার সুযোগ পান।
এর আগে Meta যুক্তি দিয়েছিল, Communications Decency Act-এর Section 230 অনুযায়ী ব্যবহারকারীদের তৈরি কনটেন্টের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে সাধারণত দায়ী করা যায় না। Meta-র আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের বেআইনি বক্তব্য প্রতারকেরাই তৈরি করেছে।
কিন্তু মার্চে বিচারক সিবর্গ বলেছিলেন, মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যে Meta-র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি বা আরও কার্যকরভাবে প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। সে ক্ষেত্রে অবৈধ কনটেন্ট তৈরিতে প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব অংশগ্রহণের প্রশ্ন উঠতে পারে এবং Section 230-এর সুরক্ষা প্রযোজ্য না-ও হতে পারে।
এরপরই Meta সিকিউরিটিজ আইনের ভিত্তিতে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করে। বিনিয়োগকারীদের আইনজীবী অ্যান্ড্রু রবার্টসনের দাবি, তাঁর পরিচালিত মামলাগুলোতে হাজারো বিনিয়োগকারীর শত শত মিলিয়ন ডলার ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতারণার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের অধিকার অন্যান্য অনলাইন প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একই ধরনের ভুয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো গৃহস্থালি পণ্য কিনিয়ে প্রতারণা করা হলে Meta-র বিরুদ্ধে ভোক্তা সুরক্ষা মামলা করার সুযোগ থাকতে পারে। অথচ বিজ্ঞাপনটি কাউকে শেয়ার কিনতে প্ররোচিত করলে সিকিউরিটিজ আইনের কারণে একই সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফেডারেল সিকিউরিটিজ মামলা পরিচালনায় অভিযোগ প্রমাণের মানও সাধারণ ভোক্তা মামলার তুলনায় কঠোর।
Meta কোনো অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সর্বশেষ প্রতিবেদন তৈরির সময় প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র Reuters-এর মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। অন্যদিকে কিছু শেয়ার কারসাজির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত প্রতারকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে। তবে সেসব ফৌজদারি মামলায় Meta-কে অভিযুক্ত করা হয়নি।
এর আগে Meta-র অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে Reuters-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে প্রতারণা ও নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে মোট রাজস্বের প্রায় ১০ শতাংশ বা আনুমানিক ১৬ বিলিয়ন ডলার আসতে পারে বলে হিসাব করেছিল। নথিতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ বিলিয়ন উচ্চঝুঁকির প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের সামনে প্রদর্শিত হওয়ার অভ্যন্তরীণ অনুমানের কথাও উল্লেখ ছিল।
Meta তখন বলেছিল, ওই হিসাব ছিল প্রাথমিক এবং অতিরিক্ত বিস্তৃত; এর মধ্যে অনেক বৈধ বিজ্ঞাপনও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা বিশ্বব্যাপী প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ৫৮ শতাংশ কমিয়েছে এবং ২০২৫ সালে ১৩ কোটি ৪০ লাখের বেশি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়েছে।
Meta ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানায়, পরিচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ছবি ব্যবহারকারী কয়েকটি প্রতারক বিজ্ঞাপনদাতার বিরুদ্ধে তারা মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, ভুয়া বিজ্ঞাপনে ছবি ব্যবহারের ঝুঁকিতে থাকা পাঁচ লাখের বেশি পরিচিত ব্যক্তি ও জনপরিচিত মুখকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু হওয়া প্রতারণায় ভুক্তভোগীরা মোট ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার হারানোর তথ্য দিয়েছেন। এসব ক্ষতির অর্ধেকের বেশি ছিল বিনিয়োগ প্রতারণাসংক্রান্ত। একই বছরে সব ধরনের বিনিয়োগ প্রতারণায় মোট ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া যায় এবং একজন ভুক্তভোগীর মধ্যম ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ডলারের বেশি।
FINRA ও FBI সতর্ক করেছে, প্রতারকেরা Facebook বা Instagram-এ ভুয়া বিনিয়োগ ক্লাবের বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবহারকারীদের WhatsApp কিংবা Telegram-এর এনক্রিপ্টেড গ্রুপে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে পরিচিত আর্থিক বিশেষজ্ঞের নাম, চুরি করা ছবি, ভুয়া নিবন্ধনপত্র, সাজানো লেনদেনের স্ক্রিনশট এবং অন্য সদস্যদের কৃত্রিম প্রশংসা ব্যবহার করে বিশ্বাস তৈরি করা হয়। কখনো ভুয়া লাভ দেখিয়ে আরও অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়; টাকা তুলতে চাইলে কর, ফি বা অতিরিক্ত জামানতের নামে নতুন করে অর্থ দাবি করা হয়।
বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযাচিত বিনিয়োগ প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া, ‘নিশ্চিত মুনাফা’ বা ‘ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ’-এর দাবি বিশ্বাস না করা এবং WhatsApp বা Telegram গ্রুপের তথ্যের ভিত্তিতে অর্থ বিনিয়োগ না করা। কোনো ব্যক্তি নিজেকে আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দিলে FINRA BrokerCheck ও সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে তাঁর নিবন্ধন যাচাই করা উচিত।
প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ব্যাংক বা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে লেনদেন আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বিজ্ঞাপন, কথোপকথন, ফোন নম্বর, ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের রসিদ ও ডিজিটাল ওয়ালেটের তথ্য সংরক্ষণ করে FBI-এর Internet Crime Complaint Center এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিযোগ করা যেতে পারে। কারণ অর্থ পাঠানোর পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের গতিপথ শনাক্ত বা লেনদেন থামানোর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আফ্রিকার দেশ মরক্কো নির্মাণ করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম ‘গ্র্যান্ড স্টেড হাসান–২’। ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামটি সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়ামে পরিণত হবে। দেশটির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ এই মাঠেই আয়োজন করা। কাসাব্লাঙ্কার পূর্বদিকে বেনস্লিমান প্রদেশে নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি মরক্কান দিরহাম, যা প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। স্টেডিয়ামটির নকশা করেছে আন্তর্জাতিক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান পপুলাস এবং মরক্কোর ওয়ালালু + চোই। এর নকশায় দেশটির ঐতিহ্যবাহী ‘মৌসেম’ উৎসবের বিশাল তাঁবু থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। মরক্কো সরকার ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ অগ্রগতি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এটি প্রস্তুত করার চেষ্টা চলছে। ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। তবে ফাইনাল ম্যাচ কোন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি ফিফা। মরক্কো চায়, নতুন এই গ্র্যান্ড স্টেড হাসান–২-ই হোক বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের ভেন্যু। স্টেডিয়ামটি শুধু বিশ্বকাপের জন্য নয়, ভবিষ্যতে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল এবং দেশটির শীর্ষ ক্লাবগুলোরও অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এটি পর্যটন, ক্রীড়া ও অবকাঠামো উন্নয়নে মরক্কোর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় গ্যাস স্টেশনের পার্কিং লটে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারই বদলে দিল এক কাঠমিস্ত্রির জীবন। সেই টাকা দিয়ে কেনা একটি স্ক্র্যাচ-অফ লটারি টিকিটে ১০ লাখ ডলারের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। ৫৬ বছর ধরে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করা জেরি হিকস জানিয়েছেন, এই অর্থের সুবাদে তিনি এবার স্থায়ীভাবে অবসরে যাচ্ছেন। নর্থ ক্যারোলাইনা এডুকেশন লটারির তথ্য অনুযায়ী, অ্যাভেরি কাউন্টির ব্যানার এলকের বাসিন্দা জেরি হিকস একটি স্পিডওয়ে গ্যাস স্টেশনের বাইরে পার্কিং লটে ২০ ডলারের একটি নোট পান। পরে তিনি সেটি দিয়ে ‘এক্সট্রিম ক্যাশ’ স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কেনেন। মজার বিষয় হলো, তিনি প্রথমে অন্য একটি টিকিট কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটি না থাকায় বিকল্প হিসেবে এই টিকিটটি নেন। আর সেটিই তাকে এনে দেয় ১০ লাখ ডলারের জ্যাকপট। পুরস্কার গ্রহণের সময় হিকসের সামনে দুটি বিকল্প ছিল—২০ বছরে কিস্তিতে ১০ লাখ ডলার নেওয়া অথবা এককালীন ৬ লাখ ডলার গ্রহণ করা। তিনি এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজ্য ও ফেডারেল কর কেটে যাওয়ার পর তার হাতে আসে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭ ডলার। লটারি কর্তৃপক্ষকে হিকস জানান, ৫৬ বছর ধরে কাঠমিস্ত্রির কাজ করার পর তিনি এই অর্থ দিয়ে অবসরে যেতে চান। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে সন্তানদেরও আর্থিকভাবে সহায়তা করবেন। জয়ের পর প্রথম উদযাপন নিয়েও ছিল তার সহজ-সরল পরিকল্পনা। হিকস হাসতে হাসতে বলেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্থানীয় ‘গোল্ডেন কোরাল’ রেস্তোরাঁয় গিয়ে পছন্দের খাবার খাবেন। নর্থ ক্যারোলাইনা এডুকেশন লটারি জানিয়েছে, ‘এক্সট্রিম ক্যাশ’ স্ক্র্যাচ-অফ গেমের সর্বোচ্চ পুরস্কার ১০ লাখ ডলার। এই পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রায় ২০ লাখ ১৭ হাজার ৬৫০টির মধ্যে মাত্র একটি।
নিজের ২২তম জন্মদিন উদযাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের একটি গ্যাস স্টেশনে গুলিতে নিহত হয়েছেন এক তরুণ। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফিনিক্স পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস স্টেশনে দুই ব্যক্তির মধ্যে তর্কের জেরেই এ প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্যমতে, শনিবার ভোর সাড়ে ২টার দিকে ফিনিক্সের ১৬তম স্ট্রিট ও থমাস রোড এলাকার একটি এআরসিও গ্যাস স্টেশন থেকে গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কর্মকর্তারা। সেখানে ২২ বছর বয়সী হুলিও অ্যাঞ্জেল ওসিফে দিয়াজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার আগের রাতেই তিনি পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে নিজের ২২তম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন। আনন্দঘন সেই উদযাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, এটি তারা কল্পনাও করেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে পরিশ্রমী, প্রাণবন্ত ও সবার প্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি গ্যাস স্টেশনে গিয়ে দিয়াজের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করা হয় এবং পরে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, নিহত ও সন্দেহভাজন একে অপরের পরিচিত ছিলেন না। কী কারণে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। তাদের ভাষায়, একটি আনন্দের দিন মুহূর্তেই আজীবনের শোকে পরিণত হয়েছে।