সেলিব্রিটির ছবি দিয়ে Facebook-এ বিনিয়োগের ফাঁদ, অবসরের সঞ্চয় হারালেন মার্কিন দম্পতি
Facebook-এ প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘Shark Tank’-এর একজন উপস্থাপকের ছবি ব্যবহার করে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে তাতে ক্লিক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা মরি ডেইনো। এরপর তাঁকে নেওয়া হয় একটি কথিত বিনিয়োগ ক্লাবে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেটি প্রকৃত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সংঘবদ্ধ প্রতারকদের পরিচালিত একটি নেটওয়ার্ক ছিল।
প্রতারকদের কথায় চীনের একটি কমদামি কোম্পানির শেয়ার কিনে ডেইনো ও তাঁর স্ত্রী শেষ পর্যন্ত ৭ লাখ ১৫ হাজার ডলার হারান। এই অর্থ ছিল তাঁদের অবসরজীবনের প্রায় পুরো সঞ্চয়। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, ‘Shark Tank’, এর উপস্থাপক কিংবা কোনো গোপন ও লাভজনক বিনিয়োগ কৌশলের সঙ্গে বিজ্ঞাপনটির বাস্তবে কোনো সম্পর্ক ছিল না।
ডেইনোসহ চার বিনিয়োগকারী ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে Facebook ও Instagram-এর মালিক প্রতিষ্ঠান Meta Platforms-এর বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত শ্রেণিভুক্ত মামলা করেন। তাঁদের অভিযোগ, ভুয়া বিজ্ঞাপনগুলো Meta-র প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের Meta-র মালিকানাধীন WhatsApp-এর ব্যক্তিগত গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হতো।
সেখানে প্রতারকেরা কখনো আর্থিক উপদেষ্টা, কখনো পরিচিত বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ অথবা প্রতিষ্ঠিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। এরপর বিদেশি কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য গ্রুপের সদস্যদের চাপ দেওয়া হতো। মামলার নথি অনুযায়ী, এসব শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে প্রতারকেরা নিজেদের কাছে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতেন। বিপুল বিক্রির পর শেয়ারের দাম ধসে পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের অর্থ হারাতেন।
এ ধরনের প্রতারণা আর্থিক বাজারে ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’ নামে পরিচিত। প্রথমে মিথ্যা প্রচার, ভুয়া সুপারিশ ও সাজানো সাফল্যের গল্পের মাধ্যমে কোনো কমদামি শেয়ারের চাহিদা এবং মূল্য বাড়ানো হয়। দাম যথেষ্ট বেড়ে গেলে প্রতারকেরা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়। পরে শেয়ারের দর দ্রুত পড়ে গেলে ক্ষতির বোঝা থেকে যায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় গোপন করে বা অন্য ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের শেয়ার প্রচারের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে।
তবে Meta-কে এই ক্ষতির জন্য দেওয়ানি আইনে দায়ী করার প্রচেষ্টা এখন একটি জটিল আইনি বাধার মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে শুনানির সময় বিচারক উইলিয়াম অরিক জানান, বিচারিক এখতিয়ারের প্রশ্নে ডেইনোদের মামলা এবং একই ধরনের আরেকটি মামলা খারিজ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনো ঘোষণা করা হয়নি।
Meta বলছে, মামলার মূল অভিযোগ যেহেতু শেয়ার কেনাবেচা এবং সিকিউরিটিজ জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এটিকে সাধারণ ভোক্তা অধিকার আইনের অধীনে শ্রেণিভুক্ত মামলা হিসেবে পরিচালনা করা যাবে না। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৮ সালের Securities Litigation Uniform Standards Act বা SLUSA-এর ওপর নির্ভর করছে। এই আইন অনুযায়ী, শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত প্রতারণার অভিযোগকে অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অধীনে নির্দিষ্ট ধরনের শ্রেণিভুক্ত মামলা হিসেবে চালানোর সুযোগ সীমিত।
একই ধরনের আরেকটি মামলা জুন মাসে বিচারক রিচার্ড সিবর্গ খারিজ করেছিলেন। তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতে আবেদন বিচারাধীন। তবে মামলাটি এমনভাবে খারিজ করা হয়েছিল যাতে বাদীরা ফেডারেল সিকিউরিটিজ আইন কিংবা ভিন্ন কোনো আইনি ভিত্তিতে আবার মামলা করার সুযোগ পান।
এর আগে Meta যুক্তি দিয়েছিল, Communications Decency Act-এর Section 230 অনুযায়ী ব্যবহারকারীদের তৈরি কনটেন্টের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে সাধারণত দায়ী করা যায় না। Meta-র আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের বেআইনি বক্তব্য প্রতারকেরাই তৈরি করেছে।
কিন্তু মার্চে বিচারক সিবর্গ বলেছিলেন, মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যে Meta-র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি বা আরও কার্যকরভাবে প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। সে ক্ষেত্রে অবৈধ কনটেন্ট তৈরিতে প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব অংশগ্রহণের প্রশ্ন উঠতে পারে এবং Section 230-এর সুরক্ষা প্রযোজ্য না-ও হতে পারে।
এরপরই Meta সিকিউরিটিজ আইনের ভিত্তিতে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করে। বিনিয়োগকারীদের আইনজীবী অ্যান্ড্রু রবার্টসনের দাবি, তাঁর পরিচালিত মামলাগুলোতে হাজারো বিনিয়োগকারীর শত শত মিলিয়ন ডলার ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতারণার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের অধিকার অন্যান্য অনলাইন প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একই ধরনের ভুয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো গৃহস্থালি পণ্য কিনিয়ে প্রতারণা করা হলে Meta-র বিরুদ্ধে ভোক্তা সুরক্ষা মামলা করার সুযোগ থাকতে পারে। অথচ বিজ্ঞাপনটি কাউকে শেয়ার কিনতে প্ররোচিত করলে সিকিউরিটিজ আইনের কারণে একই সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফেডারেল সিকিউরিটিজ মামলা পরিচালনায় অভিযোগ প্রমাণের মানও সাধারণ ভোক্তা মামলার তুলনায় কঠোর।
Meta কোনো অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সর্বশেষ প্রতিবেদন তৈরির সময় প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র Reuters-এর মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। অন্যদিকে কিছু শেয়ার কারসাজির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত প্রতারকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে। তবে সেসব ফৌজদারি মামলায় Meta-কে অভিযুক্ত করা হয়নি।
এর আগে Meta-র অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে Reuters-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে প্রতারণা ও নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে মোট রাজস্বের প্রায় ১০ শতাংশ বা আনুমানিক ১৬ বিলিয়ন ডলার আসতে পারে বলে হিসাব করেছিল। নথিতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ বিলিয়ন উচ্চঝুঁকির প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের সামনে প্রদর্শিত হওয়ার অভ্যন্তরীণ অনুমানের কথাও উল্লেখ ছিল।
Meta তখন বলেছিল, ওই হিসাব ছিল প্রাথমিক এবং অতিরিক্ত বিস্তৃত; এর মধ্যে অনেক বৈধ বিজ্ঞাপনও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা বিশ্বব্যাপী প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ৫৮ শতাংশ কমিয়েছে এবং ২০২৫ সালে ১৩ কোটি ৪০ লাখের বেশি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়েছে।
Meta ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানায়, পরিচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ছবি ব্যবহারকারী কয়েকটি প্রতারক বিজ্ঞাপনদাতার বিরুদ্ধে তারা মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, ভুয়া বিজ্ঞাপনে ছবি ব্যবহারের ঝুঁকিতে থাকা পাঁচ লাখের বেশি পরিচিত ব্যক্তি ও জনপরিচিত মুখকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু হওয়া প্রতারণায় ভুক্তভোগীরা মোট ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার হারানোর তথ্য দিয়েছেন। এসব ক্ষতির অর্ধেকের বেশি ছিল বিনিয়োগ প্রতারণাসংক্রান্ত। একই বছরে সব ধরনের বিনিয়োগ প্রতারণায় মোট ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া যায় এবং একজন ভুক্তভোগীর মধ্যম ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ডলারের বেশি।
FINRA ও FBI সতর্ক করেছে, প্রতারকেরা Facebook বা Instagram-এ ভুয়া বিনিয়োগ ক্লাবের বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবহারকারীদের WhatsApp কিংবা Telegram-এর এনক্রিপ্টেড গ্রুপে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে পরিচিত আর্থিক বিশেষজ্ঞের নাম, চুরি করা ছবি, ভুয়া নিবন্ধনপত্র, সাজানো লেনদেনের স্ক্রিনশট এবং অন্য সদস্যদের কৃত্রিম প্রশংসা ব্যবহার করে বিশ্বাস তৈরি করা হয়। কখনো ভুয়া লাভ দেখিয়ে আরও অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়; টাকা তুলতে চাইলে কর, ফি বা অতিরিক্ত জামানতের নামে নতুন করে অর্থ দাবি করা হয়।
বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযাচিত বিনিয়োগ প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া, ‘নিশ্চিত মুনাফা’ বা ‘ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ’-এর দাবি বিশ্বাস না করা এবং WhatsApp বা Telegram গ্রুপের তথ্যের ভিত্তিতে অর্থ বিনিয়োগ না করা। কোনো ব্যক্তি নিজেকে আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দিলে FINRA BrokerCheck ও সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে তাঁর নিবন্ধন যাচাই করা উচিত।
প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ব্যাংক বা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে লেনদেন আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বিজ্ঞাপন, কথোপকথন, ফোন নম্বর, ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের রসিদ ও ডিজিটাল ওয়ালেটের তথ্য সংরক্ষণ করে FBI-এর Internet Crime Complaint Center এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিযোগ করা যেতে পারে। কারণ অর্থ পাঠানোর পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের গতিপথ শনাক্ত বা লেনদেন থামানোর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে প্রথম স্কুল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফায়েড হালাল খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট। এর ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা স্কুলের ক্যাফেটেরিয়াতেই নিজেদের ধর্মীয় খাদ্যবিধি অনুযায়ী খাবার পাওয়ার সুযোগ পাবে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংগঠন ওয়ানআমেরিকা এ ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেন্ট এলাকার কয়েক শ মুসলিম শিক্ষার্থী উপকৃত হবে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেআইআরও সেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কেন্ট শহরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম পরিবারের বসবাস রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবারের শিক্ষার্থীরা স্কুলে নিজেদের খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী খাবার পাওয়ার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিল। বিশেষ করে ক্যাফেটেরিয়ায় পরিবেশিত খাবারের উপাদান এবং মাংস হালাল কি না, তা নিয়ে অনেক পরিবারের উদ্বেগ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সার্টিফায়েড হালাল খাবার সরবরাহের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। হালাল খাবার চালুর দাবিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় অভিভাবক ও কমিউনিটির সদস্যরা উদ্যোগ নিতে শুরু করেন। ওয়ানআমেরিকার সহযোগিতায় তাঁরা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় খাদ্যবিধি অনুযায়ী খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্কুল বোর্ডের বৈঠকেও মুসলিম অভিভাবকেরা বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, উপযুক্ত খাবার না পাওয়ায় কোনো কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে দুপুরের খাবার খেতে পারে না। দীর্ঘ আলোচনা ও কমিউনিটির উদ্যোগের পর কেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ানআমেরিকা। সংগঠনটির দাবি, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কোনো স্কুল ডিস্ট্রিক্টের পক্ষ থেকে এ ধরনের সার্টিফায়েড হালাল খাবার সরবরাহের উদ্যোগ এটিই প্রথম। তবে অঙ্গরাজ্যের অন্য কোনো স্কুলে আগে হালাল খাবার দেওয়া হয়নি, এমন নয়। অন্য কয়েকটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টেও হালাল খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন উদ্যোগটির বিশেষত্ব হলো সার্টিফায়েড হালাল খাবার সরবরাহের ঘোষণা। কেন্ট হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফা মালেকজাই এই উদ্যোগে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খাবার স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় পাওয়া তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনা করে এমন ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি গর্বিত। মুসলিম শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি শুধু খাবারের সুযোগ নয়, বরং স্কুলের দৈনন্দিন কার্যক্রমে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুভূতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। কেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের টেকনোলজি অ্যান্ড পার্টনারশিপস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক স্পেনসার প্যান এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এটি মুসলিম কমিউনিটি ও শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, তেমনি সামগ্রিকভাবে সব শিক্ষার্থীর জন্যও ইতিবাচক। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পটভূমি থেকে আসা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়ার মাধ্যমে স্কুলে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে কিংবা ভর্তুকিযুক্ত খাবারের বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রয়েছে। কেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, কমিউনিটি এলিজিবিলিটি প্রভিশন কর্মসূচির আওতায় ডিস্ট্রিক্টের সব শিক্ষার্থী প্রতিটি স্কুল দিবসে বিনামূল্যে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার পেতে পারে। এ জন্য পরিবারের আয়ের ভিত্তিতে আলাদা আবেদন করার প্রয়োজন নেই। নতুন হালাল খাবারের উদ্যোগটি সেই বিদ্যমান স্কুল মিল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তবে সার্টিফায়েড হালাল খাবার ঠিক কোন তারিখ থেকে সব স্কুলে পাওয়া যাবে, কোন কোন খাবার মেনুতে থাকবে এবং কোন প্রতিষ্ঠান হালাল সার্টিফিকেশন দেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের পরবর্তী মেনু ও সরবরাহসংক্রান্ত ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হবে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সরকারি শিক্ষাবিষয়ক নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও চর্চার প্রতি যুক্তিসংগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ধর্মীয় কারণে কোনো শিক্ষার্থী বিশেষ খাবার প্রয়োজন হলে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। তবে ধর্মীয় প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা, খাবারের উপাদান এবং আনুষ্ঠানিক হালাল সার্টিফিকেশন এক বিষয় নয়। তাই কেন্টের উদ্যোগে সার্টিফিকেশনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ মুসলিম অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সময় খাবারের বিষয়টি নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করে থাকে। বিশেষ করে হালাল খাবার না থাকলে বাড়ি থেকে খাবার পাঠাতে হয় কিংবা শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট কিছু খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। কেন্টের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের খাবার গ্রহণ আরও সহজ হতে পারে। তবে এই সুবিধা ওয়াশিংটনের সব স্কুলে চালু হয়েছে, এমন নয়। কেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পর সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন খাবার সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি, মেনু এবং সার্টিফিকেশনের বিস্তারিত প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে কেন্টের কয়েক শ মুসলিম শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন স্কুলজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের ভেটেরান্স ভাতা মিলবে অক্টোবরেই, নতুন পেমেন্টের তারিখ ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া
সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্মদিনে বিশেষ উপহার, যুক্তরাষ্ট্রের সব ন্যাশনাল পার্কে বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কসে ২৫ বছর ধরে বন্ধ থাকা প্রবীণদের একটি সেবাকেন্দ্র আবার চালু হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর মেয়র জোহরান মামদানি স্থানীয় বাসিন্দা ও নগর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ইডেনওয়াল্ড হাউসেসের কেন্দ্রটির পুনরায় উদ্বোধন করেন। একই দিনে আবাসন এলাকায় কমিউনিটি সেন্টার ও শিশু পরিচর্যাকেন্দ্রও নতুন করে চালু করা হয়। নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংস্কার করা এই তিনটি কেন্দ্র থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দা উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর দাবিতে কাজ করে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুনরায় চালু হওয়া প্রবীণদের কেন্দ্রটির নাম রাখা হয়েছে ওয়াল্টার জে. ম্যাকনিল সিনিয়র সেন্টার। ইডেনওয়াল্ড টেন্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘদিনের সভাপতি ওয়াল্টার ম্যাকনিল কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর দাবিতে বাসিন্দাদের নিয়ে আন্দোলন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে স্থানীয়রা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কেন্দ্রটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ম্যাকনিল বলেন, এই উদ্যোগের পেছনে অনেক মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের পর কেন্দ্রটি ফিরে পাওয়া তাঁদের জন্য আনন্দের। কেন্দ্রটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে কমিউনিটির প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে। সংস্কারের পর প্রবীণদের কেন্দ্রটিতে বাণিজ্যিক রান্নাঘর, অনুষ্ঠান আয়োজনের জায়গা ও কম্পিউটার ল্যাব যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য সামাজিক সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ব্রঙ্কসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রিজিওনাল এইড ফর ইন্টারিম নিডস বা রেইন (R.A.I.N.) কেন্দ্রটির মাধ্যমে খাবার ও যাতায়াত সহায়তা দেবে। এসব সুবিধার লক্ষ্য হলো প্রবীণদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক যোগাযোগ ও কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানো। কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় স্থানীয় প্রবীণদের এক জায়গায় মিলিত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগও বাড়বে। এলাকার কমিউনিটি সেন্টারটিও সংস্কারের পর চালু হয়েছে। এটি পরিচালনা করবে মশুলু মন্টেফিওর কমিউনিটি সেন্টার, যেখানে তরুণদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে। কেন্দ্রটিতে নতুন প্রবেশমুখের ব্যবস্থা এবং চলাচলের সুবিধা উন্নত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুসান ওয়াগনার ডে কেয়ার শিশু পরিচর্যাকেন্দ্রে বাইরের খেলার জায়গা সংস্কার, নতুন মেঝে ও পানির পাইপ স্থাপন এবং প্রবেশগম্যতা উন্নত করার কাজ করা হয়েছে। ভবন থেকে সিসাযুক্ত রং অপসারণের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে একই আবাসন এলাকায় প্রবীণ, শিশু ও অন্যান্য বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবার পরিসর বাড়ানো হয়েছে। এই তিনটি কেন্দ্রের সংস্কারে ব্যয় হয়েছে ৮১ লাখ ডলার। কাজগুলো ইডেনওয়াল্ড হাউসেসের বৃহত্তর ৭৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের আধুনিকায়ন প্রকল্পের অংশ। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির (এনওয়াইসিএইচএ) অধীনে থাকা এই আবাসন এলাকায় ২ হাজার ৩৫টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আবাসনগুলোর তাপ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম, জানালা, দেয়াল ও অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কার করা হয়েছে। বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনা তৈরি করে ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। নগর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু আবাসন সংস্কার নয়, বরং বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনমান উন্নত করাও। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি বলেন, ইডেনওয়াল্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের প্রয়োজনীয় আবাসন ও কমিউনিটি সুবিধা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছেন। নতুন করে চালু হওয়া কেন্দ্রগুলো বাসিন্দাদের একত্র হওয়ার, বিভিন্ন সেবা পাওয়ার এবং নিজেদের কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার জায়গা হবে। এনওয়াইসিএইচএ কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, আবাসনের পাশাপাশি কমিউনিটি অবকাঠামো উন্নত করা বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেন্দ্রগুলো আবার চালু হওয়াকে তাই স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের একটি প্রয়োজন পূরণের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়, নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটি (এনওয়াইসিএইচএ)।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পর প্রতিনিয়ত বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বার্ষিক খরচ ছাড়াল ১৬ হাজার ডলার
৯০ শিক্ষার্থীর অনুমোদন, পড়ছে ৩১৩ জন, শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর অনুমোদন চায় নিউ জার্সিয়ার ইসলামি স্কুল
নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণ বন্ধের প্রস্তাবে ভোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে
জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় ও চকোলেটের চড়া দামের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উপলক্ষে মিষ্টি ও ক্যান্ডি কেনার প্রবণতা কমেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়েলসেনআইকিউর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শেষ হওয়া এক মাসে দেশটিতে ক্যান্ডি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও বিক্রি কমেছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা আগের দুই বছরের হ্যালোইন মৌসুমের শুরুর দিকের বিক্রির প্রবৃদ্ধি মুছে দিয়েছে। এতে উৎসবকে ঘিরে মিষ্টি প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের প্রত্যাশায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি, বাসস্থান, পোশাক ও খাবারের পেছনে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হওয়ায় অনেক পরিবার হ্যালোইনের মতো উৎসবের কেনাকাটায় কাটছাঁট করছে। নিয়েলসেনআইকিউর ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস কোস্টাগলি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের হাতে বাড়তি খরচের জন্য অর্থ কম থাকছে। ফলে ক্যান্ডির দাম বেশি মনে হওয়ার পাশাপাশি অন্য খাতে ব্যয় মেটানোর পর অনেক পরিবারের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ২৯ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডি ও চুইংগামের দামও সাধারণ খাদ্যপণ্যের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। একই সময়ে ঘরে খাওয়ার জন্য কেনা সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। দাম বৃদ্ধির প্রভাব বোঝাতে একটি উদাহরণ দিয়েছে প্রতিবেদনে। ছাড়মূল্যের দোকান আলডি সম্প্রতি মার্স কোম্পানির ১৩৫টি চকোলেটের একটি প্যাকেট ১৯ দশমিক ৮৭ ডলারে বিক্রি করেছে। প্রায় একই দামে পাঁচ বছর আগে ২৫০টি চকোলেটের প্যাকেট কেনা যেত। চকোলেটের দাম বৃদ্ধির পেছনে কোকোর উচ্চমূল্য বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ববাজারে প্রতি মেট্রিক টন কোকোর দাম রেকর্ড ১০ হাজার ৭১০ ডলারে পৌঁছায়। পশ্চিম আফ্রিকার প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভবিষ্যৎ বাজারে দামের ওঠানামা নিয়ে জল্পনা এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। ওই অঞ্চলে বিশ্বের কোকোর প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। পরে মার্চে দাম কমে প্রতি টন ৩ হাজার ২৪১ ডলারে নেমে এলেও বসন্তে আবার বাড়তে শুরু করে। আফ্রিকায় সার সরবরাহে বিঘ্ন এবং আবহাওয়াজনিত অনিশ্চয়তা ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুধু চকোলেট নয়, তুলনামূলক কম দামের অন্যান্য মিষ্টির ক্ষেত্রেও চাহিদা বাড়েনি। নিয়েলসেনআইকিউর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শেষ হওয়া নয় সপ্তাহে জেলি ক্যান্ডি ও ললিপপের মতো চকোলেটবিহীন মিষ্টির গড় দাম প্রতি পাউন্ডে ৬ দশমিক ০৮ ডলার ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম। তারপরও বিক্রি বাড়েনি। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় প্যাকেটের বদলে ক্রেতারা ছোট প্যাকেট কিনছেন এবং উৎসবের কাছাকাছি সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছোট প্যাকেটের বিক্রি বাড়লেও বড় ও অতিরিক্ত বড় প্যাকেটের বিক্রি সবচেয়ে বেশি কমেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সারকানার খাদ্যশিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা স্যালি লায়ন্স ওয়াটের মতে, উচ্চ বাজারদরের কারণে ক্রেতারা এখন একবারে বেশি পণ্য কেনার বদলে অল্প অল্প করে এবং প্রয়োজনের কাছাকাছি সময়ে কেনাকাটা করছেন। ফলে হ্যালোইনের একেবারে আগের দিনগুলোতে ক্যান্ডির বিক্রি বাড়তে পারে কি না, তা এখনো দেখার বিষয়। তিনি মনে করেন, সামগ্রিকভাবে মিষ্টির বিক্রি কিছুটা দুর্বল থাকতে পারে, তবে হ্যালোইন উৎসবের কেনাকাটা পুরোপুরি থেমে যাবে, এমন ধারণার কারণ নেই। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের সংগঠন ন্যাশনাল কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশন এখনো হ্যালোইনের বিক্রি নিয়ে আশাবাদী। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, উৎসবের সবচেয়ে ব্যস্ত বিক্রির সময় কেবল শুরু হয়েছে এবং ক্রেতাদের আগ্রহ এখনো প্রবল। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পণ্যমূল্যের চাপের মধ্যে এ বছর শেষ পর্যন্ত ক্যান্ডির বিক্রি কতটা ঘুরে দাঁড়াবে, তা নির্ভর করবে উৎসবের শেষ পর্যায়ে ক্রেতাদের কেনাকাটার ওপর। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, নিয়েলসেনআইকিউ ও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।
যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার ১৩০০ ভুক্তভোগীকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে নিউ ইয়র্কের চার্চ
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানি সাংবিধানিক অধিকার নয়, আদালতের রায়