নিউইয়র্কে কম ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট ও স্বল্পমূল্যের আবাসনের আবেদন চলছে, যেসব প্রকল্পে এখনই আবেদন করা যাবে
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট বা স্বল্পমূল্যের আবাসন খুঁজছেন এমন পরিবারগুলোর জন্য নতুন সুযোগ এসেছে। নিউইয়র্ক স্টেট ও নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে একাধিক অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং প্রকল্পে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। যোগ্য আবেদনকারীরা নির্ধারিত আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে লটারির মাধ্যমে এসব আবাসনের জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকারি আবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণ চলবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত।
আবাসন কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন হাউজিং লটারির খবর ছড়িয়ে পড়লেও অনেকেই বুঝতে পারেন না কোন প্রকল্পে এখন আবেদন চলছে এবং কোনটি কেবল অপেক্ষমাণ তালিকার জন্য। তাই আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা জরুরি।
বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল এর আওতায় যেসব প্রকল্পে আবেদন চলছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* Twin Parks North West (ব্রঙ্কস)
* Twin Parks South East (ব্রঙ্কস)
* Twin Parks South West (ব্রঙ্কস)
* Oceangate Apartments (ব্রুকলিন)
* 212 Hegeman Avenue (ব্রুকলিন)
* Fort Schuyler House (ব্রঙ্কস, ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য)
* Kittay House (ব্রঙ্কস, ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য)
* Comunilife Tiebout (ব্রঙ্কস, ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য)
* King Garden Apartments (ব্রুকলিন, ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য)
* 4519 WPR (ব্রঙ্কস, ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য)।
এসব প্রকল্পে স্টুডিও থেকে শুরু করে এক, দুই, তিন, চার ও পাঁচ বেডরুম পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ইউনিট রয়েছে। কোন প্রকল্পে কোন আয়ের আবেদনকারী যোগ্য হবেন, তা পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির NYC Housing Connect প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত নতুন অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারি প্রকাশ করা হচ্ছে। আবেদনকারীরা একটি অ্যাকাউন্ট খুলে পরিবারের তথ্য ও আয়ের বিবরণ যুক্ত করে একাধিক প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন। লটারিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হলে আয়, পরিচয় এবং অন্যান্য নথি যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া Mitchell-Lama কর্মসূচির আওতায়ও সময়ে সময়ে নতুন অপেক্ষমাণ তালিকা (Waiting List) খোলা হয়। তবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যায় না। লটারির মাধ্যমে আবেদনকারীদের অপেক্ষমাণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে ইউনিট খালি হলে ক্রমানুসারে ডাকা হয়। প্রতিটি প্রকল্পে আলাদাভাবে আবেদন করতে হয় এবং সব সময় সব প্রকল্পের আবেদন খোলা থাকে না।
আবেদন করতে সাধারণত বৈধ পরিচয়পত্র, পরিবারের সদস্যসংখ্যার তথ্য, আয়ের প্রমাণ, সাম্প্রতিক ট্যাক্স রিটার্ন, চাকরির তথ্য, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং বর্তমান ঠিকানার তথ্য জমা দিতে হয়। আবেদনকারীর অনলাইন প্রোফাইলে আয় বা পরিবারের তথ্য পরিবর্তন হলে তা দ্রুত হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের চাহিদা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় প্রতিটি প্রকল্পে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে। ফলে লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলেও যোগ্য আবেদনকারীদের যত বেশি উপযুক্ত প্রকল্পে আবেদন করা যায়, ততই সম্ভাবনা বাড়ে বলে জানিয়েছে আবাসন কর্তৃপক্ষ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওপা-লকার এক নারীকে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর এবং মুখে মল ছোড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৫০ বছর বয়সী ইরসি এসপেরানজা মাচাদো রিভেরার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিবেশী নারীর সঙ্গে তার স্বামীর যৌন সম্পর্ক রয়েছে - এমন সন্দেহ থেকেই তিনি ওই নারীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। ঘটনাটি ঘটে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রয়্যাল কান্ট্রি মোবাইল হোমস এলাকায়। পুলিশি নথি অনুযায়ী, মাচাদো রিভেরা প্রতিবেশীর বাসার দরজায় গিয়ে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। দরজা খোলার পর তিনি ওই নারীকে তার স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মাচাদো রিভেরা জোর করে প্রতিবেশীর বাসায় ঢুকে তাকে ধাক্কা দেন। এরপর বেরিয়ে যাওয়ার আগে একটি বালতিতে থাকা মানবমল ওই নারীর দিকে ছুড়ে মারেন বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে। পুলিশ আরও বলেছে, ঘটনার আগে মাচাদো রিভেরা এক প্রত্যক্ষদর্শীকে জানিয়েছিলেন যে তিনি একটি বালতিতে মল রেখে সেটি প্রতিবেশীর মুখে ছুড়ে মারার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। তবে পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মাচাদো রিভেরা ভিন্ন দাবি করেন। তার ভাষ্য, বাড়ির টয়লেট নষ্ট থাকায় তিনি বালতিটি ব্যবহার করছিলেন এবং সেটির মল ফেলার চেষ্টা করছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে তাদের মধ্যে বালতির মলের দুর্গন্ধ নিয়ে তর্ক হয়েছিল। মাচাদো রিভেরা আরও অভিযোগ করেন, ওই নারী তাকে মাথায় ব্যাট দিয়ে আঘাত করেছিলেন। তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢোকা এবং তার দিকে মল ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের নথিতে তার এক প্রত্যক্ষদর্শীকে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে এই দাবির অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে। এ ঘটনায় মাচাদো রিভেরার বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং ব্যাটারি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে রাখা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন না দেওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান, ছোট দোকান ও ভ্যান সরিয়ে জায়গা খালি
ছুটির উপহার হিসেবে চার হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাকে ট্রাম্প দিলেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের গ্র্যানভিলে জন্মদিনের পার্টি চলাকালে একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ৪৬ বছর বয়সী সারাহ ও’সুলিভান এবং তার ২০ বছর বয়সী ছেলে লিয়াম ও’সুলিভান। পার্টিটি ছিল পরিবারের একজনের জন্মদিন উপলক্ষে। গত ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে গ্র্যানভিলের কানেকটিকাট ট্রেইলের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর লিয়ামকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত সারাহকে গিফোর্ড মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে দুজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিস্ফোরণে সৃষ্ট আঘাতের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িটিতে জন্মদিনের আয়োজন চলছিল। বিস্ফোরণে আরও তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক আহত হন। তাদের মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী শিলা হ্যামন্ড গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য অঙ্গরাজ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর দুজন তুলনামূলকভাবে সামান্য আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দের পর কয়েকটি বাড়িতে জানালা ও দেয়ালের জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন প্রতিবেশী জানান, বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট পর তিনি বাতাসে গ্যাসের গন্ধও পেয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সন্দেহজনক নয় বলে জানিয়েছিল ভারমন্ট স্টেট পুলিশ। পরে ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির ফায়ার অ্যান্ড এক্সপ্লোশন ইনভেস্টিগেশন ইউনিট নিশ্চিত করে, বাড়ির ভেতরে প্রোপেন গ্যাস লিক থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটে। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত একটি গ্রিলের সঙ্গে প্রোপেন গ্যাস লিকের সম্ভাব্য সম্পর্ক ছিল। তবে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্তে মূল কারণ হিসেবে বাড়ির ভেতরের প্রোপেন লিককেই চিহ্নিত করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে ভারমন্ট স্টেট পুলিশের ফায়ার অ্যান্ড এক্সপ্লোশন ইনভেস্টিগেশন ইউনিট, ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, ফিল্ড ফোর্স ডিভিশন, ভিকটিম সার্ভিসেস ইউনিট, ডিভিশন অব ফায়ার সেফটি এবং গ্র্যানভিল ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট কাজ করে।
বাংলাদেশি গবেষক ইরফানের মৃত্যুতে ধোঁয়াশা, আত্মহত্যার দাবি মানতে নারাজ পরিবার
২০২৬ সালে আমেরিকার সবচেয়ে সস্তা আবাসন কোনটি! জেনে নিন, তালিকায় আরো ১০ শহর
৪০তম ফোবানা শেষে হিউস্টনে ৪১তম আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু, স্পনসরশিপ প্যাকেজ ঘোষণা
কর্ণাটকের একটি ছোট গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা ও পেশাগত নানা বাধা পেরিয়ে মার্কিন নাগরিক হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাইমন শেট্টি। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পথে তাকে বিভিন্ন অভিবাসনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনকে তিনি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পেশাগত জীবন গড়ে তোলার পথে শেট্টিকে দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা সংক্রান্ত নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর পাশাপাশি পেশাগত ক্ষেত্রেও তাকে বিভিন্ন বাধা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেন। শেট্টি আরও জানিয়েছেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে একটি প্রতারণার অভিযোগ করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। তিনি ওই অভিযোগকে মিথ্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এই অভিযোগটি শেট্টির নিজের বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে। অভিযোগটি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার মধ্যেও শেট্টি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পেশাগত জীবন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পেশাগত বাধার পাশাপাশি তাকে অভিযোগসংক্রান্ত পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে নাগরিকত্ব পাওয়াকে তিনি নিজের দীর্ঘ যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন। নিজের যাত্রার কথা বলতে গিয়ে শেট্টি কর্ণাটকের একটি ছোট গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পেশাগত জীবন গড়ে তোলা এবং পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পাওয়া তার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। শেট্টির অভিজ্ঞতায় ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ার নানা চ্যালেঞ্জও ছিল। তিনি জানিয়েছেন, এসব পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। দীর্ঘ সময়ের এই প্রক্রিয়ার পর মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন তার জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কর্ণাটকের ছোট একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পর নাগরিকত্ব অর্জনকে শেট্টি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন। তার এই যাত্রায় ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, পেশাগত বাধা এবং তাকে বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে বর্ণনা করা অভিযোগের মতো পরিস্থিতি ছিল। শেষ পর্যন্ত এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের মাধ্যমে শেট্টির দীর্ঘ অভিবাসনযাত্রা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিজের অভিজ্ঞতার দিকে ফিরে তাকিয়ে তিনি নাগরিকত্বকে শুধু একটি আইনি মর্যাদা নয়, বরং ছোট একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার দীর্ঘ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছেন। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
গ্রেফতারের হুমকির পরও জাতিসংঘে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন নেতানিয়াহু!
কানাডায় দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ, ছেলের পা বাঁচাতে লড়াই চলছে