যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার হামলায় আরও উত্তপ্ত ইরান, ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করা। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও এক ধাপ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং উপকূলীয় সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করছে এবং বৈশ্বিক নৌপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সতর্ক করে বলেন, কূটনৈতিক সমাধান না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ভবিষ্যতে হামলার লক্ষ্য হতে পারে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য যুদ্ধ সম্প্রসারণ নয়; বরং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং ইরানের সামরিক হুমকি কমিয়ে আনা।
অন্যদিকে ইরান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের জবাব ‘কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক’ হবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, যদি ইরানের জ্বালানি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানিও ব্যাহত হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংঘাত ধীরে ধীরে ‘ফরএভার ওয়ার’ বা অন্তহীন যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আফগানিস্তান ও ইরাকের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে তারা বলছেন, সামরিক অভিযানের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই সংঘাত বহু বছর স্থায়ী হতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর উপস্থিতিও বৃদ্ধি করেছে। একই সময়ে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় গোটা অঞ্চলে সতর্কাবস্থা জারি রয়েছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা উভয় পক্ষকে দ্রুত আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবড় ধরনের যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য নিহত হলে তাঁদের মরদেহ কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদে সাময়িকভাবে সমাহিত করা হবে, তা নিয়ে বিশেষ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। নর্থ ক্যারোলাইনায় অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে গণকবর খোঁড়া এবং মরদেহ সংরক্ষণের পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর হিসাবে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল থাকলে একটি ইঞ্জিনিয়ার ইউনিট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ মরদেহ সাময়িকভাবে সমাহিত করার ব্যবস্থা করতে পারবে। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক ও সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটির কাছে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এর নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন ড্রাগন কভেন্যান্ট। মহড়ার দ্বিতীয় পর্যায়ে অংশ নেন সেনাবাহিনীর থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, টোয়েন্টিয়েথ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড, চিকিৎসা সহায়তাকারী দল এবং সামরিক ধর্মীয় কর্মকর্তারা। এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল বড় ধরনের যুদ্ধের সময় নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা। বিশেষ করে শত্রুপক্ষের আক্রমণ, আকাশপথে চলাচলের সীমাবদ্ধতা কিংবা পরিবহনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে যুদ্ধক্ষেত্রেই সাময়িক সমাধিস্থ করার প্রয়োজন হতে পারে। সে পরিস্থিতিতে মরদেহের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা যথাসম্ভব অক্ষত রেখে পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় মার্কিন সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর এত বড় পরিসরে যুদ্ধক্ষেত্রে সাময়িক সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়েনি। ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের মরদেহ তুলনামূলক দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে ভবিষ্যতে বড় কোনো সামরিক শক্তির সঙ্গে সংঘাত হলে একই ব্যবস্থা কার্যকর রাখা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা। এবারের মহড়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গণকবর তৈরির গতি এবং সমাহিত মরদেহের সুরক্ষার ওপর। সেনাবাহিনীর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একটি অস্থায়ী সমাধিস্থলে পাঁচটি সমান্তরাল পরিখা থাকার কথা। প্রতিটি পরিখায় ২০টি করে মোট ১০০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা থাকে। প্রশিক্ষণে এই পদ্ধতি বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করা হয়েছে। আগের পরীক্ষাগুলোতে সাধারণ ব্যাকহো এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ১০টি মরদেহ রাখার উপযোগী একটি পরিখা খুঁড়তে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগত। এবার ডি৬ বুলডোজার ব্যবহার করে ২০টি মরদেহ রাখার মতো পরিখা গড়ে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর পরিকল্পনাকারীরা হিসাব করেছেন, আটটি বুলডোজার ও চারটি বিশেষ সামরিক এক্সকাভেটর নিয়ে একটি ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি বিরতিহীনভাবে কাজ করলে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ মরদেহ সমাহিত করার জন্য পরিখা তৈরি ও মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। তবে এটি একটি পরীক্ষামূলক সক্ষমতার হিসাব। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মাটির ধরন, আবহাওয়া, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সরঞ্জামের প্রাপ্যতার ওপর কাজের গতি নির্ভর করবে। সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, এই মহড়া থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের সামরিক নির্দেশনা ও পরিকল্পনা উন্নত করতে ব্যবহার করা হবে। মহড়ায় প্রকৃত মরদেহ ব্যবহার করা হয়নি। মানুষের কঙ্কালের আদলে তৈরি মডেল এবং পানিভর্তি বিশেষ পাত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এসব মডেল মরদেহ বহনের ব্যাগে রেখে পরিখায় স্থাপন করা হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি ফেলে সেগুলো ঢেকে দেওয়া হয়। পরে আবার মাটি সরিয়ে পরীক্ষা করা হয়, চাপের কারণে ভেতরের মডেল ও পাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত মডেলগুলো অক্ষত ছিল। ফলে ভবিষ্যতে সাময়িকভাবে সমাহিত মরদেহ উদ্ধার, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং পরিচয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। মহড়ায় অংশ নেওয়া ইঞ্জিনিয়ার কর্মকর্তা ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট কনর থম্পসন জানান, শুধু দ্রুত পরিখা খুঁড়লেই হবে না, মরদেহের কোনো ক্ষতি না করে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। শুকনো বালু, শক্ত মাটি, কাদা কিংবা বরফে জমে থাকা জমিতে একই যন্ত্রপাতি ভিন্নভাবে কাজ করে। তাই বাস্তব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতির জন্য কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের ফ্যাটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস ডেলবার্ট রুয়েড বলেন, উচ্চমাত্রার সংঘাতের মধ্যে নিহত সেনাসদস্যদের মর্যাদার সঙ্গে কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা এই মহড়ার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকে কার্যকর পদ্ধতি তৈরি না থাকলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হতো। এবারের প্রশিক্ষণে সামরিক ধর্মীয় কর্মকর্তাদেরও বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে সাময়িক সমাধিস্থ করার ধর্মীয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় পরিসরে মহড়া করেছেন সামরিক চ্যাপলেইন ও ধর্মীয় সহায়তাকারী কর্মকর্তারা। মহড়ায় বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ১৩০ জন ধর্মীয় সহায়তাকারী অংশ নেন। তাঁদের কাজ ছিল এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা, যাতে ব্যাপক প্রাণহানির পরিস্থিতিতেও নিহত ব্যক্তিদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতি যথাসম্ভব সম্মান দেখানো যায়। সামরিক চ্যাপলেইন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাসকা জানান, তীব্র যুদ্ধের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা চলমান সমাধিস্থ কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়ও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে না। তাই সামরিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের পরামর্শ নিয়ে সমাধিস্থল প্রস্তুত করার আগেই সম্মিলিত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিমালা অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। তবে নিরাপত্তাঝুঁকি, পরিবহন সংকট কিংবা রাসায়নিক, জৈবিক ও পারমাণবিক অস্ত্রের কারণে সৃষ্ট বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে সমাহিত করার অনুমতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং মরদেহের মর্যাদা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের বিধান অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত শত্রুপক্ষের সদস্যদের মরদেহের ক্ষেত্রেও সম্মানজনক আচরণ এবং পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে। ফলে এই প্রশিক্ষণ শুধু মার্কিন সেনাসদস্যদের জন্য নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত অন্য ব্যক্তিদের মরদেহ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অপারেশন ড্রাগন কভেন্যান্টের তৃতীয় পর্যায়ের মহড়া ২০২৭ সালের বসন্তে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা দল, চিকিৎসা ইউনিট, মরদেহ সংগ্রহকেন্দ্র এবং রাতের অন্ধকারে কাজ করার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। নাইট ভিশন সরঞ্জাম ব্যবহার করে একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতিও নেওয়া হবে। সামরিক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই মহড়া ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বড় যুদ্ধের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশে নতুন সামরিক অভিযান শুরু কিংবা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। বরং বড় ধরনের সংঘাতে বিপুল প্রাণহানি ঘটলে নিহতদের পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করে কীভাবে তাঁদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে, সেই সক্ষমতা তৈরিই প্রশিক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য।
হ্যালোইন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের উড়োজাহাজের আকস্মিক উড্ডয়ন, চমকে গেলেন অনেকে
যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায় গ্রিন কার্ড, আবেদন থেকে স্থায়ী হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া
ডিভি লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ, ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড আবেদন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ এখন নিয়মিত খাবার খাওয়ার খরচও সামলাতে পারছেন না। নতুন এক জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষ জানিয়েছেন, খাবারের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে তাঁদের কখনো কখনো খাবার বাদ দিতে হয়েছে। শুধু খাবারের পরিমাণ কমানো নয়, স্বাস্থ্যকর খাবার কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেলফ ফাইন্যান্সিয়ালের জরিপে উঠে আসা এই তথ্য দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ জানান, খাবারের দাম বাড়ার কারণে তাঁরা খাবার বাদ দিয়েছেন। আরও ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, খরচ সামলাতে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়স ও লিঙ্গের অনুপাত যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে না। ফলে এই ফলাফল থেকে দেশের অর্ধেক মানুষই খাবার বাদ দিচ্ছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর গ্রোসারি খরচ বেড়েছে। যাঁদের খরচ বেড়েছে, তাঁদের মাসে গড়ে অতিরিক্ত ১৫২ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। সেই হিসাবে বছরে অতিরিক্ত খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮২৪ ডলার। একই আয়ে বাড়তি এই ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অনেক পরিবারকে অন্যান্য খরচ কমাতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয়ের বড় অংশ রেন্ট, মর্টগেজ, গাড়ির কিস্তি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে চলে যায়, তাদের জন্য গ্রোসারি খরচ বৃদ্ধি বাড়তি চাপ তৈরি করছে। খাবারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবারের মাসিক বাজেটেই সীমাবদ্ধ নেই। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছেন, বেশি দামের কারণে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে কেনাকাটার সময় তুলনামূলক সস্তা পণ্য বেছে নিচ্ছেন কিংবা খাবারের পরিমাণ কমাচ্ছেন। জরিপে খাবারের উচ্চমূল্য মানুষের মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে উঠে এসেছে। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মূল্যস্ফীতির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রোসারি পণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গ্রাউন্ড বিফের দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং কফির দাম প্রায় ১০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সব খাদ্যপণ্যের দাম একই হারে বাড়েনি। বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পার্থক্যের কারণে পরিবারের খাদ্যাভ্যাস ও কেনাকাটার ধরনের ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত খরচের পরিমাণও ভিন্ন হচ্ছে। খাবারের দাম নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি অন্য জরিপেও উঠে এসেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইপসোস পরিচালিত জরিপে ৬৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানান, তাঁদের কাছে গ্রোসারি পণ্যের দাম অসহনীয় মনে হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ। বছরে ৫০ হাজার ডলারের কম আয়ের পরিবারের মধ্যে ৮২ শতাংশ খাবারের দামকে অসহনীয় বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয়ের পরিবারের মধ্যেও ৫৬ শতাংশ একই মত দিয়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের অক্টোবরের জরিপেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত পরিচালিত ওই জরিপে ৭৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক খাবার ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ৬৯ শতাংশ হেলথ কেয়ারের খরচ এবং ৬৬ শতাংশ আবাসন ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, শুধু গ্রোসারি নয়, পরিবারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খরচ একসঙ্গে সামলানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও খাবারের দাম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি কিংবা একাধিক নির্ভরশীল সদস্য রয়েছেন, সেখানে মাসিক গ্রোসারি বাজেটের পরিবর্তন সরাসরি পারিবারিক ব্যয়ে প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ডিসকাউন্ট স্টোর থেকে কেনাকাটা, সাপ্তাহিক অফার ব্যবহার এবং তুলনামূলক কম দামের পণ্য বেছে নেওয়ার মাধ্যমে খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণকারী পরিবারগুলো স্ন্যাপের মতো সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির সুবিধাও পেতে পারেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাজনৈতিক আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। তবে খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে ঠিক কত মানুষ নিয়মিত খাবার বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, তা নির্ধারণে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক গবেষণা প্রয়োজন। সেলফ ফাইন্যান্সিয়ালের জরিপটি অন্তত এটুকু দেখাচ্ছে, উচ্চমূল্যের চাপ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কেনাকাটার অভ্যাস বদলানোর বাইরে গিয়ে দৈনন্দিন খাবার গ্রহণেও প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৪৩ শতাংশ কিশোর জুয়ায় জড়িয়েছে, নতুন জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার, জেনে নিন বাস্তবতা
কারাগারে জন্ম নেওয়া তরুণী ১৮ বছর বয়সেই ফুল ফান্ডে হার্ভার্ডে ভর্তির অনন্য গল্প
বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতে নিজেদের বাড়ি ও প্রায় সব সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক দম্পতি। পরিকল্পনা ছিল বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজে বসবাস করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখার। কিন্তু যাত্রা শুরুর ১৭ মাসের মাথায় হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে সেই ক্রুজের কার্যক্রম। ফলে কম্বোডিয়ায় জাহাজ ছেড়ে নামতে হয়েছে তাঁদের। বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর এমন পরিস্থিতিতে পড়লেও নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন দম্পতি পল ও লিন মন্টোয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন পল ও লিন। দীর্ঘদিনের বিশ্বভ্রমণের ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁরা নিজেদের বাড়ি ও অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন। এরপর ভিলা ভি রেসিডেন্সেস পরিচালিত ওডিসি নামের একটি ক্রুজ জাহাজে থাকার ব্যবস্থা করেন। জাহাজটির একটি কেবিনের জন্য তাঁরা খরচ করেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিন বছরের এই যাত্রায় বিশ্বের চার শতাধিক বন্দরে থামার কথা ছিল জাহাজটির। কিন্তু গত ২৭ অক্টোবর ক্রুজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জ্বালানি খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হচ্ছে। এর ফলে কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত জাহাজটির বাসিন্দাদের দ্রুত নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ল্যাডবাইবেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দম্পতি জানান, মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, দুপুর দুইটার মধ্যে জাহাজ ছাড়তে হবে। ফলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে বিকল্প থাকার ব্যবস্থা করার জন্য তাঁরা মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় পান। লিন মন্টোয়া জানান, আকস্মিক এই ঘোষণায় জাহাজের বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে জাহাজটিই ছিল তাঁদের বাড়ি। পল ও লিনও নিজেদের অধিকাংশ জিনিসপত্র কেবিনে রেখে মাত্র চারটি স্যুটকেস ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে নেমে আসেন। তাঁদের সঙ্গে নেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ চলা সম্ভব। বাকি জিনিসপত্র ফেরত নিতে আবার জাহাজে ওঠার সুযোগ পাবেন কি না, সে বিষয়েও কোনো নিশ্চয়তা পাননি তাঁরা। তবে ক্রুজটির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আগে থেকেই কিছু সমস্যার আভাস পেয়েছিলেন বলে জানান পল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিকবার জাহাজের ভ্রমণসূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিল পরিশোধ না করায় স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি খাবারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছিল। এমনকি যাত্রা চালিয়ে যেতে বাসিন্দাদের কাছে কয়েক দফায় অতিরিক্ত অর্থও চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ। দম্পতি জানান, তাঁরা স্বেচ্ছায় সেই অর্থের কিছু অংশ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া জাহাজে থাকার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ছয় হাজার ডলার রক্ষণাবেক্ষণ খরচও পরিশোধ করছিলেন। এখন সেই অর্থের কতটা ফেরত পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পল মনে করছেন, তাঁদের বিনিয়োগ করা অর্থের একটি বড় অংশ হয়তো আর ফেরত পাওয়া যাবে না। ভিলা ভি রেসিডেন্সেস জানিয়েছে, জ্বালানি খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আগের মতো কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেবিনের বিপরীতে জ্বালানি বাবদ ঐতিহাসিক গড় খরচ ছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার। সেটি বেড়ে আনুমানিক ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। খরচ কমাতে জাহাজের গতি কমানো এবং বিভিন্ন বন্দরে বেশি সময় অবস্থান করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ব্যবসা পুনর্গঠন এবং নতুন মূলধন সংগ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন বিনিয়োগ বা মালিকানা পরিবর্তনের কোনো চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ক্রুজটি আবার চালু হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এ সময় জাহাজের বাসিন্দা, ক্রু এবং কর্মীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজেদের সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করছেন না পল ও লিন। তাঁদের মতে, এই ১৭ মাসে তাঁরা বিশ্বের অনেক সুন্দর জায়গা দেখেছেন এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। জীবনের এমন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা অন্যভাবে হয়তো কখনো সম্ভব হতো না। পল জানান, শুরুতেই যদি জানতেন ভ্রমণটি মাত্র ১৮ মাস চলবে, তাহলেও তিনি এই অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া করতেন না। লিনও একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর এভাবে যাত্রা থেমে যাওয়া অবশ্যই দুঃখজনক। তবে ভ্রমণের সময় পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাঁদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাই আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বিশ্বভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের কোনো অনুশোচনা নেই। আপাতত কম্বোডিয়া থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এই দম্পতি। সেখানে আট থেকে নয় দিন থাকার কথা রয়েছে তাঁদের। একই সঙ্গে তাঁরা আশা করছেন, নতুন বিনিয়োগকারী কিংবা জাহাজের বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগে ক্রুজটির কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: ল্যাডবাইবেল
ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠকে আজান বাজানোয় নারীকে বের করে দিল পুলিশ
নিউইয়র্কে সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও রিয়েলটর মোহাম্মদ আজাদের বিচ্ছেদ