গুলিতে ২ বছরের শিশুর মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ ক্যালিফোর্নিয়া, তদন্তে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের হাইল্যান্ড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি শেরিফস ডিপার্টমেন্ট জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার কিছু আগে হাইল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া অ্যাভিনিউয়ের ৬৯০০ ব্লকের একটি বাড়ি থেকে গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় দুই বছর বয়সী শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কর্তৃপক্ষ এখনো জানায়নি, গুলির ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে নাকি অন্য কোনো কারণে। এ ঘটনায় কাউকে অভিযুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
শেরিফস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই ভালো বেতনের চাকরি খুঁজছেন, এমন ব্যক্তিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে দেশটির অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির কিছু বিশেষায়িত কারিগরি পদে ঘণ্টায় ৭০ ডলার বা তার বেশি আয়ের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে এয়ার কন্ডিশনিং, রেফ্রিজারেশন, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে দক্ষ কর্মীরা এই বেতন পেতে পারেন। তবে ওয়ালমার্টের সব চাকরিতে এত বেতন দেওয়া হয় না। নির্দিষ্ট পদের দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং কর্মস্থলের ওপর বেতনের পরিমাণ নির্ভর করে। ওয়ালমার্টের ২০২৬ সালের জবস স্পটলাইট রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল মেইনটেন্যান্স এবং এইচভিএসি ও রেফ্রিজারেশন টেকনিশিয়ানদের ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২৬ থেকে ৭৬ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ কিছু কারিগরি পদে ঘণ্টায় ৭০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগও রয়েছে। তবে এটি বেতনের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি একটি হার। নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রত্যেক কর্মী এই বেতন পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা থাকলে উচ্চ বেতনের পদে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ঘণ্টায় ৭০ ডলার হিসাবে একজন কর্মী সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করলে তাঁর সাপ্তাহিক আয় দাঁড়াবে ২ হাজার ৮০০ ডলার। একই হারে বছরে ৫২ সপ্তাহ কাজ করলে মোট আয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ ডলার। তবে এটি ট্যাক্স কাটার আগের হিসাব। কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম, ছুটি এবং অন্যান্য শর্তের কারণে প্রকৃত বার্ষিক আয় কমবেশি হতে পারে। এ ছাড়া ওয়ালমার্টের প্রকাশিত বেতনের পরিসর কোনো নির্দিষ্ট কর্মীর নিশ্চিত আয়ের পরিমাণ নির্দেশ করে না। ওয়ালমার্টের উচ্চ বেতনের এসব চাকরি মূলত প্রতিষ্ঠানটির স্টোর, স্থাপনা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সচল রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। এইচভিএসি টেকনিশিয়ানদের কাজের মধ্যে রয়েছে হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম পরীক্ষা এবং মেরামত। রেফ্রিজারেশন টেকনিশিয়ানরা খাবার ও অন্যান্য পণ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত শীতলীকরণ ব্যবস্থা সচল রাখার দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে মেইনটেন্যান্স টেকনিশিয়ানরা বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জামের ত্রুটি শনাক্ত, মেরামত এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। এসব চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চার বছরের কলেজ ডিগ্রি না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে ডিগ্রি বাধ্যতামূলক না হওয়ার অর্থ এই নয় যে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই এসব পদে নিয়োগ পাওয়া সম্ভব। চাকরির ধরন অনুযায়ী পূর্ব অভিজ্ঞতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট সার্টিফিকেশন বা লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে ওয়ালমার্টের নিজস্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসোসিয়েট টু টেকনিশিয়ান কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যমান কর্মীরা কারিগরি পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এতে ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, রেফ্রিজারেশন এবং এইচভিএসির মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ওয়ালমার্টের ২০২৫ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে টেকনিশিয়ান পদে যাওয়া কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল প্রায় ৩২ ডলার। ফলে প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি ঘণ্টায় ৭০ ডলার বেতন পাওয়া যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। ওয়ালমার্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ শতাংশ পদের জন্য কলেজ ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। তবে সব পদের বেতন এক নয়। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের প্রকাশিত বেতনের পরিসরে সাধারণ স্টোর কর্মীদের ঘণ্টায় ১৪ থেকে ৩৭ ডলার এবং টিম লিডদের ১৯ থেকে ৪০ ডলার পর্যন্ত বেতনের তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে বিশেষায়িত কারিগরি পদে বেতনের সর্বোচ্চ সীমা আরও বেশি। ফলে সাধারণ স্টোর কর্মীর চাকরি এবং অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের চাকরির মধ্যে পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ালমার্টে এসব চাকরির সুযোগ খুঁজতে আগ্রহীরা প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে মেইনটেন্যান্স টেকনিশিয়ান, এইচভিএসি টেকনিশিয়ান কিংবা রেফ্রিজারেশন টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে পারেন। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে কর্মস্থল, কাজের দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য বেতনের তথ্য যাচাই করা উচিত। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বর্তমানে ঘণ্টায় ৭০ ডলার বেতনের পদ খালি রয়েছে কি না, তা চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য ওয়ালমার্টের এই বেতন কাঠামো কারিগরি দক্ষতাভিত্তিক পেশায় আয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরছে। বিশেষ করে যাঁদের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি নেই, কিন্তু হাতে-কলমে কাজ শেখার আগ্রহ বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁরা এসব পেশার যোগ্যতা সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। তবে উচ্চ বেতনের সুযোগকে নিশ্চিত চাকরির অফার হিসেবে বিবেচনা না করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগের শর্ত যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।
নিউ ইয়র্কে ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার তারিখ ঘোষণা, শুরু ২৮ মে
জর্জিয়ার বাড়ির মালিকদের জন্য সুখবর, সম্পত্তির করযোগ্য মূল্য থেকে কমবে ১৮ হাজার ডলার
নিউ ইয়র্কে কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ, নভেম্বরে জব্দ ও পরিত্যক্ত গাড়ির নিলাম শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন আইনজীবী সেজে অভিবাসীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ১৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির বিচার বিভাগ বা ডিওজে। গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত ব্রাজিল ও কিউবার নাগরিক। তারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ আইনি সহায়তার নামে ভুয়া ইমিগ্রেশন সেবা দিয়ে আসছিলেন। অরল্যান্ডো থেকে এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস। এই ঘটনার পর দেশটিতে অবস্থানরত কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের আইনি সহায়তার নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ওয়াগনার সোরেস ডি আলমেদা এবং তার স্ত্রী জুলিয়ানা কলুচি মিলে লেগাসি ইমিগ্রা সলিউশনস এলএলসি নামের একটি ভুয়া ইমিগ্রেশন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বিগত তিন বছর ধরে তারা ইমিগ্রেশন আইনজীবীর ছদ্মবেশে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মূলত সেসব কাগজপত্রবিহীন বা অবৈধ অভিবাসী, যারা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় ও বৈধ আইনি মর্যাদার জন্য আবেদন করতে চাইছিলেন। এই চক্রটি এসব অসহায় অভিবাসীদের আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, লেগাসি ইমিগ্রা সলিউশনস তাদের গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত মিথ্যা, ভুল এবং অসম্পূর্ণ আইনি ও অভিবাসন পরামর্শ দিত। এমনকি অভিবাসীদের বৈধতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও জালিয়াতি করত। ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত আলমেদা এই ব্যবসা পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করা সাতজন কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে তারবার্তা বা ওয়্যার জালিয়াতি, ভিসা জালিয়াতি এবং ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজেদের কাজের জন্যও অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ দিয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অপরাধের মাত্রা ও ধরন অনুযায়ী এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের ছয় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ঠিক কার বিরুদ্ধে কত বছরের সাজা চাওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা নিয়ে এমন জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ অভিবাসীদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তারা যেকোনো আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে যাচাই বাছাই করে প্রকৃত আইনজীবীদের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তথ্যসূত্র: ইউনাইটেড স্টেটস অ্যাটর্নি অফিস এবং মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)
প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু
ডিভি লটারি পুনরায় চালুর দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ কেনাকাটা করেন ওয়ালমার্টে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পোশাক, ইলেকট্রনিকস থেকে শুরু করে খাদ্যসামগ্রী, সবকিছুর জন্য পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের একটি। কিন্তু পরিচিত এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিবার সম্পর্কে কতজনই বা জানেন? সেই ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের মেয়ে অ্যালিস ওয়ালটন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী। ফোর্বসের ২ নভেম্বর ২০২৬-এর রিয়েল-টাইম হিসাব অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৩৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের ধনীদের তালিকায় তাঁর অবস্থান ১৪তম। ৭৭ বছর বয়সী অ্যালিস ওয়ালটন ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের একমাত্র মেয়ে। ১৯৬২ সালে তাঁর বাবা স্যাম ওয়ালটন ও ভাই জেমস বাড ওয়ালটন যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের রজার্স শহরে প্রথম ওয়ালমার্ট স্টোর চালু করেন। ছোট একটি দোকান থেকে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশকের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বর্তমানে ওয়ালমার্ট বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে তাদের হাজার হাজার স্টোর রয়েছে। তবে ওয়ালমার্টের একক মালিক অ্যালিস নন। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি পাবলিক কোম্পানি। প্রতিষ্ঠাতা ওয়ালটন পরিবারের সদস্যরা এখনো এর অন্যতম বৃহৎ শেয়ারহোল্ডার। স্যাম ওয়ালটনের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পারিবারিক শেয়ারের মাধ্যমে অ্যালিস বিপুল সম্পদের মালিক হন। তাঁর দুই ভাই রব ওয়ালটন ও জিম ওয়ালটনও বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় রয়েছেন। অ্যালিসের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে ওয়ালমার্টের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি বড় ভূমিকা রেখেছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে পরবর্তী ১২ মাসে তাঁর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। এ সময় ওয়ালমার্টের শেয়ারের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ারের মূল্য বেড়ে তাঁর সম্পদও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হলেও অ্যালিস ওয়ালটন নিজে ওয়ালমার্টের পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত নন। তাঁর ভাই রব ও জিমের মতো কোম্পানির বোর্ডে কাজ করার পরিবর্তে তিনি শিল্পকলা সংগ্রহ, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনও তিনি অনেকটা আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। শিল্পকলার প্রতি অ্যালিসের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ২০১১ সালে আরকানসাসের বেনটনভিলে প্রতিষ্ঠা করেন ক্রিস্টাল ব্রিজেস মিউজিয়াম অব আমেরিকান আর্ট। এই জাদুঘরে অ্যান্ডি ওয়ারহল, নরম্যান রকওয়েল ও মার্ক রথকোর মতো বিখ্যাত শিল্পীদের কাজ সংরক্ষিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকলা ও সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। শিল্পকর্ম সংগ্রহেও বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন অ্যালিস। ২০১৪ সালে জর্জিয়া ও’কিফের আঁকা একটি চিত্রকর্ম কিনতে তিনি ৪৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন। সে সময় এটি কোনো নারী শিল্পীর আঁকা চিত্রকর্মের জন্য সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্যের রেকর্ড তৈরি করেছিল। শিল্পকলার পাশাপাশি চিকিৎসাশিক্ষায়ও বড় বিনিয়োগ করেছেন তিনি। ২০২১ সালে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় অ্যালিস এল. ওয়ালটন স্কুল অব মেডিসিন। আরকানসাসের বেনটনভিলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রথম ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি মওকুফের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও অ্যালিসের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পরিবারের পাঁচটি দাতব্য ফাউন্ডেশনে ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিল্পকলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করা হচ্ছে। বিশ্বের কোটি মানুষের পরিচিত ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী হিসেবে অ্যালিস ওয়ালটন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে ব্যবসা পরিচালনার বাইরে শিল্পকলা, চিকিৎসাশিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর বিনিয়োগ তাঁকে বিশ্বের আলোচিত ধনকুবেরদের একজন হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
জর্জিয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই বাড়ি, ১৩ শিশুসহ পরিবারকে বাঁচালেন দুই পথচারী
আগুনে বাড়ি হারিয়ে থেমে গিয়েছিল উৎসব, প্রতিবেশীদের ভালোবাসায় আবার হাসলেন নারী