সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

কড়া নিরাপত্তায় মেটলাইফের বুলেটপ্রুফ গ্যালারিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৭:১৮
মেটলাইফের বুলেটপ্রুফ গ্যালারিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে ডোনাল্ড ট্রাম্প
মেটলাইফের বুলেটপ্রুফ গ্যালারিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত হয়েছেন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তার এই উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্টেডিয়ামের একটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বুলেটপ্রুফ গ্যালারিতে বসার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

 

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো মেটলাইফ স্টেডিয়ামজুড়ে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী। স্টেডিয়ামের সাধারণ প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভিআইপি গ্যালারি পর্যন্ত সর্বত্রই নিশ্ছিদ্র নজরদারি ও কড়া তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশসীমা এবং মাঠের চারপাশ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উপস্থিতি ফুটবল ভক্ত ও দর্শকদের মাঝে বাড়তি আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

 

নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেডিয়ামের বাইরের পরিবেশেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল ও সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গ্যালারিতে হাজারো ফুটবলপ্রেমীর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের অন্যতম আলোচিত ও চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডিভি লটারি নিয়ে নতুন আইনি অনিশ্চয়তা
ডিভি লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ, ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড আবেদন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির নবম সার্কিট আপিল আদালত। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য লটারির নিবন্ধন শুরুর সময় আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন চালুর যে নির্দেশনা ছিল, আপিল আদালতের সিদ্ধান্তে আপাতত তা কার্যকর থাকছে না।   বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর দেওয়া আদেশে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্ন আদালতের নির্দেশ স্থগিত করেন। সরকারের করা আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। ফলে ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই আদেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করার কথা ছিল। পাশাপাশি ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত ব্যক্তিদের তাঁদের আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং তা কার্যকর স্থগিত রাখার আবেদন জানায়। নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের প্যানেল সরকারের জরুরি আবেদন মঞ্জুর করে। প্যানেলে ছিলেন বিচারক এম. মার্গারেট ম্যাককিওন, এন. র‌্যান্ডি স্মিথ ও হলি এ. থমাস। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলাটি পরিচালনাকারী রেড ঈগল ল নামের একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি পরিচালনাসংক্রান্ত আইনের আওতায় মামলা করার উপযুক্ত স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ—এমনটি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি ডিভি লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তিদের আইনি প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। তবে মামলায় কোনো সম্ভাব্য লটারি আবেদনকারীকে বাদী হিসেবে যুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এমন কোনো আবেদনকারীর প্রতিনিধিত্ব করছে বলেও দাবি করেনি। বিচারকদের মতে, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করা। কোনো আইন প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা এই আইনের উদ্দেশ্য নয়। ফলে শুধু সম্ভাব্য মক্কেল হারানোর আশঙ্কার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির মামলা করার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে আদালত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর কেন ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন চালু করেনি, সেই ব্যর্থতাকে আদালত সমর্থন করছে না। অর্থাৎ, নিবন্ধন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আদালতের বর্তমান আদেশের মূল বিষয় হলো, মামলাটি করার ক্ষেত্রে বাদী প্রতিষ্ঠানের আইনগত অধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিচারক এন. র‌্যান্ডি স্মিথ পৃথক সম্মতিমূলক মতামতে আরও বলেছেন, রেড ঈগল ল সংবিধানের আওতায় মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত অবস্থানও প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির দাবি অনুমাননির্ভর। কারণ কোনো ব্যক্তি প্রথমে লটারিতে আবেদন করবেন কি না, নির্বাচিত হবেন কি না এবং শেষ পর্যন্ত ভিসার যোগ্যতা পূরণ করবেন কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত নয়। মামলাটির বাদী প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের আগস্টে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন বন্ধ রাখা হয়েছে, যা প্রশাসনিক আইনবিধির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। নিম্ন আদালত প্রাথমিকভাবে তাদের পক্ষে নির্দেশ দিলেও আপিল আদালতের নতুন সিদ্ধান্তে সেই নির্দেশ আপাতত স্থগিত হয়ে গেল। রেড ঈগল ল-এর মালিক কার্টিস মরিসন জানিয়েছেন, তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১, এইচ-১বি বা অন্য কোনো অ-অভিবাসী ভিসায় অবস্থান করছেন—এমন একজন বিদেশি নাগরিককে মামলার বাদী হিসেবে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে সম্ভাব্য বাদীকে প্রশাসনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কায় ভীত না হওয়ার শর্তও দিয়েছেন তিনি। ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। মূলত যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, সেসব দেশের নাগরিকেরা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে এই লটারিতে অংশ নিতে পারেন। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হওয়া নয়; নির্বাচিত ব্যক্তিদের পরবর্তী ধাপে ভিসার আবেদন করতে হয় এবং সব শর্ত পূরণ করতে হয়। ১৯৮০-এর দশকে এ ধরনের কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ১৯৯০ সালের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের স্বাক্ষরিত ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি আইনি ভিত্তি পায়। নবম সার্কিট আপিল আদালত এখন মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য সময়সূচি প্রকাশ করবে। সেই প্রক্রিয়ায় সরকারের আপিলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসার কথা। তত দিন পর্যন্ত ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন চালুর কোনো নিশ্চিত সময়সূচি থাকছে না। তবে আদালতের এই আদেশকে ডিভি কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আপিলের ফলাফল এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে ২০২৭ সালের লটারি নিয়ে পরবর্তী পরিস্থিতি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৫:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই নিয়মিত খাবার খাওয়ার খরচ সামলাতে পারছেন না। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় না খেয়ে থাকছেন অনেকে, বিপাকে সাধারণ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৪৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী গত এক বছরে কোনো না কোনো জুয়ায় অংশ নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৪৩ শতাংশ কিশোর জুয়ায় জড়িয়েছে, নতুন জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গড় ব্যালেন্স প্রায় ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার হলেও মধ্যম ব্যালেন্স মাত্র ২ হাজার ৮০০ ডলার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার, জেনে নিন বাস্তবতা

কারাগার থেকে জন্ম নেওয়া অরোরা স্কাই কাস্টনার মেধার জোরে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নজর কেড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
কারাগারে জন্ম নেওয়া তরুণী ১৮ বছর বয়সেই ফুল ফান্ডে হার্ভার্ডে ভর্তির অনন্য গল্প

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্ম নেওয়া অরোরা স্কাই কাস্টনার নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পান। ২০২৩ সালে কনরো হাই স্কুল থেকে অসাধারণ ফলাফল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। নিজের জীবনের কঠিন শুরুর কথা তুলে ধরে হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনের ব্যক্তিগত রচনায় লিখেছিলেন মাত্র একটি বাক্য, ‘আমার জন্ম কারাগারে।’   টেক্সাসের গ্যালভেস্টন কাউন্টি জেলে জন্ম হয় অরোরার। তখন তাঁর মা সেখানে কারাভোগ করছিলেন। জন্মের কয়েক দিন পর বাবা তাঁকে কারাগার থেকে নিয়ে আসেন। এরপর টেক্সাসের কনরো শহরে বাবার কাছেই বেড়ে ওঠেন তিনি। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত বাবা একাই মেয়েকে বড় করেন। মায়ের সঙ্গে অরোরার কোনো নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল।   শৈশব থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন অরোরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। ২০২৩ সালের ২৫ মে কনরো হাই স্কুল থেকে নিজের ব্যাচের তৃতীয় সর্বোচ্চ ফলাফল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন। অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন সামা কাম লাউডে সম্মাননা।   তবে অরোরার এই সাফল্যের পেছনে শুধু তাঁর নিজের পরিশ্রম নয়, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল একজন মেন্টরেরও। স্কুলের একটি কমিউনিটি মেন্টরিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি নোট থেকে প্রথম অরোরার কথা জানতে পারেন হ্যাম্বি। নোটটি পড়ে তাঁর মনে হয়েছিল, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী। হিউস্টন ক্রনিকলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেই নোটটি এখনো তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।   মেন্টর হিসেবে অরোরার পাশে দাঁড়ান মোনা হ্যাম্বি। নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁকে উৎসাহ দিতে থাকেন। তাঁদের সম্পর্ক শুধু স্কুলে সপ্তাহে একদিন দুপুরের খাবার খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অরোরার স্বপ্ন পূরণে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেন হ্যাম্বি ও তাঁর স্বামী। ২০২২ সালের মার্চে তাঁরা অরোরাকে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখাতে নিয়ে যান।   হার্ভার্ডের ক্যাম্পাসে সেই সফর অরোরার সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্লি অ্যাকশন প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন এবং ভর্তির সুযোগ পান। তাঁর জন্য পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থাও হয়। কারাগারে জন্ম নেওয়া এবং একক অভিভাবকের পরিবারে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর শিক্ষাজীবনের সাফল্য তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে।   নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশের সঙ্গে মেন্টরের পরিবারের পরিবেশের পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন অরোরা। তিনি জানান, হ্যাম্বির পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ভিন্ন ধরনের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখেছেন তিনি। অরোরার কাছে মেন্টরের সহযোগিতা শুধু পড়াশোনার পরামর্শ ছিল না, বরং নিজের ভবিষ্যৎকে আরও বড় পরিসরে কল্পনা করার সুযোগও তৈরি করেছিল।   ২০২৩ সালে প্রকাশিত অরোরার এই জীবনকাহিনি শিক্ষা ও মেন্টরশিপের গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে। হার্ভার্ডে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইন নিয়ে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। কারাগারে জন্মের পর বাবার কাছে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া পর্যন্ত তাঁর যাত্রায় ছিল ব্যক্তিগত অধ্যবসায়, পারিবারিক সহযোগিতা এবং একজন মেন্টরের দীর্ঘদিনের সমর্থন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৪:৩৩
বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতে বাড়ি ও সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পল ও লিন মন্টোয়া দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

সব সম্পত্তি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে মার্কিন দম্পতি, মাঝপথে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণের সরকারি বৈঠকে আজানের রেকর্ডিং বাজানোর কারণে এক নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠকে আজান বাজানোয় নারীকে বের করে দিল পুলিশ

পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টেনেছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও মোহাম্মদ আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও রিয়েলটর মোহাম্মদ আজাদের বিচ্ছেদ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার ফাফসা আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়ার খরচ কমাতে সরকারি সহায়তার আবেদন শুরু, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার আবেদন শুরু হয়েছে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের আওতায় ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন ফর ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড বা ফাফসা ফরম এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি ও পড়াশোনার অন্যান্য খরচ মেটাতে সরকারি অনুদান, স্টুডেন্ট লোন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষাবর্ষের জন্য এই আবেদন কার্যক্রম চালু রয়েছে।   ফাফসা হলো যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ মেটাতে সরকারি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অন্যতম প্রধান আবেদনব্যবস্থা। শুধু নতুন শিক্ষার্থীরাই নন, বর্তমানে কলেজে পড়াশোনা করছেন এমন শিক্ষার্থীরাও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরিবারের আয় কম হলে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন করলেই অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নির্ধারিত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফাফসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে ফেডারেল পেল গ্র্যান্ট, ফেডারেল ওয়ার্ক স্টাডি এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন। পেল গ্র্যান্ট সাধারণত ফেরত দিতে হয় না। অন্যদিকে স্টুডেন্ট লোন নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী পরিশোধ করতে হয়। ওয়ার্ক স্টাডি কর্মসূচিতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি অনুমোদিত চাকরির মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পেতে পারেন।   নতুন শিক্ষাবর্ষের ফাফসা আবেদন করতে শিক্ষার্থী ও প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত এবং আর্থিক তথ্য দিতে হবে। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য সাধারণত ২০২৫ সালের ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্নের তথ্য ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, নির্দিষ্ট সম্পদের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণ চাওয়া হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আইআরএসের তথ্য সরাসরি ফাফসা আবেদনব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়। এতে তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং ভুলের সম্ভাবনা কমে।   যেসব শিক্ষার্থী বাবা-মায়ের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচিত হন, তাঁদের আবেদনে সাধারণত বাবা-মায়ের তথ্যও প্রয়োজন হয়। তবে বাবা-মায়ের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর না থাকলেও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাঁরা স্টুডেন্টএইড অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নিজের ফেডারেল আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। পরিবারের কোনো সদস্যের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর না থাকলেই শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যান না।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই আবেদন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব পরিবারের সন্তান আগামী বছর কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের এখন থেকেই আর্থিক সহায়তার বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। মার্কিন নাগরিক এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন নন সিটিজেন শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারী শিক্ষার্থীরাও সাধারণত যোগ্যতার অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিংবা কোনো কলেজে ভর্তি হওয়া ফেডারেল সহায়তা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।   অন্যদিকে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য যোগ্য নন। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা স্কলারশিপ এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্সিয়াল এইড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের জন্য প্রযোজ্য সুযোগগুলো যাচাই করতে হবে।   ফাফসা আবেদন করার ক্ষেত্রে সময়সীমার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ফেডারেল সরকারের নির্ধারিত শেষ সময়ের পাশাপাশি প্রতিটি স্টেট এবং কলেজের নিজস্ব ডেডলাইন থাকতে পারে। অনেক কলেজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়। কিছু স্টেট গ্র্যান্ট এবং কলেজভিত্তিক সহায়তার অর্থও সীমিত থাকে। তাই আবেদন করার সুযোগ থাকলেও দেরি করলে নির্দিষ্ট কিছু সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।   আবেদন জমা দেওয়ার পর ফাফসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করে একটি ফাফসা সাবমিশন সামারি তৈরি করে। অধিকাংশ আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে এক থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। আবেদনকারীর নির্বাচিত কলেজগুলোতেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে সহায়তার প্রস্তাব দিতে পারে। কোনো তথ্য ভুল হলে কিংবা নতুন কলেজ যুক্ত করার প্রয়োজন হলে আবেদন সংশোধনের সুযোগও রয়েছে।   ফাফসা আবেদন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা যায়। আবেদন করতে শিক্ষার্থীকে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সরকারি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। সেখানে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি অনুযায়ী বাবা-মা অথবা স্বামী-স্ত্রীর তথ্যও লাগতে পারে। আবেদন সম্পন্ন করার আগে সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।   বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয় গত কয়েক বছরে কমেছে, চাকরি হারানোর ঘটনা ঘটেছে কিংবা আর্থিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, তাঁদের বিষয়টি কলেজের ফিন্যান্সিয়াল এইড অফিসকে জানানো উচিত। ফাফসায় আগের বছরের ট্যাক্স তথ্য ব্যবহার করা হলেও বর্তমান আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন বিবেচনায় নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কলেজ আর্থিক সহায়তার হিসাব সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে কলেজশিক্ষার ব্যয় মেটাতে ফাফসা অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার পথ। তবে আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, পরিবারের আর্থিক তথ্য, কলেজের ডেডলাইন এবং সম্ভাব্য সহায়তার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। শিক্ষা বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন সম্পন্ন করা উচিত, যাতে কলেজ ও স্টেটভিত্তিক আর্থিক সহায়তার সুযোগ হাতছাড়া না হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ০:৫৯
ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের প্রতিবাদ লিপিতে সই করেননি ন্যান্সি পেলোসিসহ ৪০ ডেমোক্র্যাট নেতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত, ইলহান ওমরের পক্ষে চিঠিতে সই করেননি দলের ৪০ আইনপ্রণেতা

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে অভিবাসনের বিভিন্ন আইনি পথ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন আইনজীবী রাজু মাহাজান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি পথ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন

স্ত্রী ও দুই ছোট মেয়েকে রেখে গেছেন ৩১ বছর বয়সী উইলিয়াম ‘স্টোন’ রমবার্গ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় গাঙচিলকে বাঁচাতে গিয়ে সাগরে ডুবে প্রাণ হারালেন দুই সন্তানের বাবা

0 Comments