আমেরিকা

উচ্ছেদ ঠেকাতে আদালতের দরজায় পরিবার, নিউইয়র্কের অভিজাত আবাসনে জাতিগত বিদ্বেষ ও সংঘাতের জল গড়ালো বহুদূর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২১:৭
ভাইরাল সংঘর্ষের পর আইনি জটিলতায় জড়ানো নিউইয়র্কের আবাসন ভবন। ছবি: সংগৃহীত
ভাইরাল সংঘর্ষের পর আইনি জটিলতায় জড়ানো নিউইয়র্কের আবাসন ভবন। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের ইস্ট সাইডে অবস্থিত একটি যৌথ মালিকানাধীন আবাসিক ভবনে (কো-অপ) দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কোন্দল এবার সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। জাতিগত বিদ্বেষ, দারোয়ানের সাথে মারামারি এবং পরবর্তীতে ফ্ল্যাট থেকে উচ্ছেদের নোটিশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নিজের ৫৭ বছর বয়সী সন্তানকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক বয়স্ক দম্পতি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা নথির বরাত দিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে আর্ভিং কার্টেন এবং ক্যারল কার্টেন দম্পতি ৩৩৯ ইস্ট ৫৮তম স্ট্রিটের একটি ১০ তলা ভবনের পেন্টহাউস ইউনিটটি প্রায় ৪ লাখ ডলারে কেনেন। লক্ষ্য ছিল তাঁদের ৫৭ বছর বয়সী ছেলে কেভিন কার্টেন সেখানে বসবাস করবেন। কেভিন পেশায় একজন ঠিকাদার এবং ফ্লোরিডায় তাঁর নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ভবনে ওঠার পর থেকেই সেখানকার দারোয়ান লরেন্স মনটগোমারির সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

 

আইনি নথি অনুযায়ী, বিবাদের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, যখন কেভিন ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘নিউ বেডফোর্ড ম্যানেজমেন্ট’-এর কাছে দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইহুদি ধর্মাবলম্বী কেভিন দাবি করেন, লরেন্স ইচ্ছা করে তাঁর চিঠি বা পার্সেল আটকে রাখতেন, তাঁর প্রেমিকাকে না জানিয়ে স্পর্শ করেছিলেন এবং ক্রমাগত বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেন।

 

অভিযোগের ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর ভবনের ভেতরেই দুজনের মধ্যে এক তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দারোয়ান লরেন্স ফোন উঁচিয়ে কেভিনের মুখের সামনে ধরলে কেভিন সেটি থাপ্পড় দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর পরপরই লরেন্স তাকে আঘাত করেন, যার ফলে কেভিনের চোখে গুরুতর জখম হয়। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে কেভিনকেও একাধিকবার অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করতে এবং দারোয়ানের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মেঝেতে আছাড় মারতে দেখা যায়।

 

ঘটনার পর পুলিশ এসে উভয়কেই গ্রেপ্তার করে। দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণ ও আক্রমণের চেষ্টা এবং কেভিনের বিরুদ্ধে সম্পদের ক্ষতি ও হেনস্তার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের আদেশে মামলাটি আপাতত গোপনীয় রাখা হয়েছে।

 

এই ঘটনার পর কো-অপ পরিচালন পর্ষদ দারোয়ান লরেন্সের পাশে দাঁড়ায় এবং ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর কেভিনকে সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠায়। এতে বলা হয়, ভবনের শান্তি বজায় না রাখলে তাঁকে অযোগ্য বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে কার্টেন পরিবারের আইনজীবী এর বিরোধিতা করে জানান, কো-অপ কর্তৃপক্ষ ঘটনার কোনো সঠিক তদন্ত করেনি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

 

সমস্যার এখানেই শেষ নয়; কেভিনের সাথে প্রতিবেশীদেরও বিরোধ তৈরি হয়। কেভিনের পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা কো-অপ পর্ষদের সদস্য ছিলেন। কার্টেন পরিবারের দাবি, টেরাসে গাছ রাখা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে ওই পর্ষদ সদস্যের স্ত্রী কেভিনকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।

 

সবশেষ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন গত ২২ জুলাই কো-অপ পরিচালন পর্ষদ একটি জরুরি সভা ডেকে কার্টেন পরিবারের ইজারা বাতিল, তাঁদের শেয়ার নিলামে বিক্রি এবং কেভিনকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নোটিশ জারি করে। নোটিশে পর্ষদ সদস্যকে হেনস্তার অস্পষ্ট অভিযোগ আনা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি কার্টেন পরিবারের।

 

উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কার্টেন পরিবার জরুরিভিত্তিতে আদালতের আশ্রয় নিলে ম্যানহাটনের এক বিচারক আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পর্ষদের উচ্ছেদ প্রস্তাবের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কার্টেন পরিবার মামলায় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ এবং বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।

 

উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আবাসন এলাকার বিষয়টি এখন নিউ ইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতি ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ওহাইওতে আলোচিত হত্যা মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত স্যামুয়েল হকস্টেটলার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, এরপর পরিবারকে শেষকৃত্যের সহায়তার প্রস্তাব আমিস যুবকের

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে যৌন সহিংসতার সময় হত্যা করার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক যুবক আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। মামলার বিচার শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি আদালতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে আদালত তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।   পিপল ম্যাগাজিন, মেইগস কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস এবং কোর্ট টিভির তথ্য অনুযায়ী, ওহাইওর রাটল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা স্যামুয়েল হকস্টেটলার ২০২৫ সালে ২৮ বছর বয়সী রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যুর ঘটনায় ‘অ্যাগ্রাভেটেড মার্ডার’ বা গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলার বিচার ২৭ জুলাই জুরি বোর্ডের মাধ্যমে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে আসে, তার সম্মতি ছাড়া যৌন নির্যাতনের সময় এমনভাবে তাকে চেপে ধরা হয়েছিল যে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। কোর্ট টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন হকস্টেটলার ও কিনসিঙ্গার অন্য কয়েকজনের সঙ্গে একটি গ্রিনহাউস নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। তদন্তে জানা যায়, হকস্টেটলার আগে কয়েকবার কিনসিঙ্গারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাতে আগ্রহ দেখাননি।   প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে জানান, তদন্তে পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে, যৌন সহিংসতার সময় অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরদিন ১৩ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মরদেহ তার ট্রেলারবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। কর্মস্থলে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় পরিচিতজনেরা খোঁজ নিতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন।   মামলার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল ঘটনার পর অভিযুক্তের আচরণ। প্রসিকিউটরদের দাবি, রোজানার মৃত্যুর খবর তিনিই প্রথম তার বাবাকে জানান। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্যের প্রস্তুতিতে সহায়তার প্রস্তাবও দেন। প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে বলেন, রোজানার বাবা-মা ও ভাইবোন জানতেই পারেননি যে যাকে তারা ঘরে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং শোকের মুহূর্তে পাশে পেয়েছিলেন, তিনিই তাদের স্বজন হত্যার জন্য দায়ী।   রায়ের পর আদালত স্যামুয়েল হকস্টেটলারকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে সহিংস অপরাধী এবং তৃতীয় স্তরের যৌন অপরাধী হিসেবে সরকারি নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে আদালতে অভিযুক্ত নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চান। তার আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং এটি একটি দুর্ঘটনা। এছাড়া মামলার শুরুতে আদালত তার দেওয়া স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, সেটিই পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে দোষ স্বীকারের পথ তৈরি করে।   আদালতে হকস্টেটলার বলেন, "আমি যা করেছি, তার জন্য আমি দুঃখিত। যদি অতীতে ফিরে গিয়ে অন্যভাবে জীবন গড়তে পারতাম। আমি কতটা অনুতপ্ত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।"

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২১:৫২
আকস্মিক হামলার জবাব হিসেবে এই সামরিক অভিযান

ব্যালিস্টিক হামলার জবাবে ইরানে সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

দুই বছরের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়েছে কানসাসের দুই কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ভাই, একই দিনে এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবাকেও হারাল দুই শিশু

১৪ মাসের শিশু হেনরি ব্রাউন। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ মাসের শিশুকে নির্মম নির্যাতনে হত্যা, মা ও প্রেমিকের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

ভাইরাল সংঘর্ষের পর আইনি জটিলতায় জড়ানো নিউইয়র্কের আবাসন ভবন। ছবি: সংগৃহীত
উচ্ছেদ ঠেকাতে আদালতের দরজায় পরিবার, নিউইয়র্কের অভিজাত আবাসনে জাতিগত বিদ্বেষ ও সংঘাতের জল গড়ালো বহুদূর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের ইস্ট সাইডে অবস্থিত একটি যৌথ মালিকানাধীন আবাসিক ভবনে (কো-অপ) দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কোন্দল এবার সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। জাতিগত বিদ্বেষ, দারোয়ানের সাথে মারামারি এবং পরবর্তীতে ফ্ল্যাট থেকে উচ্ছেদের নোটিশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নিজের ৫৭ বছর বয়সী সন্তানকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক বয়স্ক দম্পতি।   যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা নথির বরাত দিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে আর্ভিং কার্টেন এবং ক্যারল কার্টেন দম্পতি ৩৩৯ ইস্ট ৫৮তম স্ট্রিটের একটি ১০ তলা ভবনের পেন্টহাউস ইউনিটটি প্রায় ৪ লাখ ডলারে কেনেন। লক্ষ্য ছিল তাঁদের ৫৭ বছর বয়সী ছেলে কেভিন কার্টেন সেখানে বসবাস করবেন। কেভিন পেশায় একজন ঠিকাদার এবং ফ্লোরিডায় তাঁর নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ভবনে ওঠার পর থেকেই সেখানকার দারোয়ান লরেন্স মনটগোমারির সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।   আইনি নথি অনুযায়ী, বিবাদের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, যখন কেভিন ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘নিউ বেডফোর্ড ম্যানেজমেন্ট’-এর কাছে দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইহুদি ধর্মাবলম্বী কেভিন দাবি করেন, লরেন্স ইচ্ছা করে তাঁর চিঠি বা পার্সেল আটকে রাখতেন, তাঁর প্রেমিকাকে না জানিয়ে স্পর্শ করেছিলেন এবং ক্রমাগত বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেন।   অভিযোগের ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর ভবনের ভেতরেই দুজনের মধ্যে এক তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দারোয়ান লরেন্স ফোন উঁচিয়ে কেভিনের মুখের সামনে ধরলে কেভিন সেটি থাপ্পড় দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর পরপরই লরেন্স তাকে আঘাত করেন, যার ফলে কেভিনের চোখে গুরুতর জখম হয়। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে কেভিনকেও একাধিকবার অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করতে এবং দারোয়ানের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মেঝেতে আছাড় মারতে দেখা যায়।   ঘটনার পর পুলিশ এসে উভয়কেই গ্রেপ্তার করে। দারোয়ান লরেন্সের বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণ ও আক্রমণের চেষ্টা এবং কেভিনের বিরুদ্ধে সম্পদের ক্ষতি ও হেনস্তার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের আদেশে মামলাটি আপাতত গোপনীয় রাখা হয়েছে।   এই ঘটনার পর কো-অপ পরিচালন পর্ষদ দারোয়ান লরেন্সের পাশে দাঁড়ায় এবং ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর কেভিনকে সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠায়। এতে বলা হয়, ভবনের শান্তি বজায় না রাখলে তাঁকে অযোগ্য বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে কার্টেন পরিবারের আইনজীবী এর বিরোধিতা করে জানান, কো-অপ কর্তৃপক্ষ ঘটনার কোনো সঠিক তদন্ত করেনি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।   সমস্যার এখানেই শেষ নয়; কেভিনের সাথে প্রতিবেশীদেরও বিরোধ তৈরি হয়। কেভিনের পাশের ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা কো-অপ পর্ষদের সদস্য ছিলেন। কার্টেন পরিবারের দাবি, টেরাসে গাছ রাখা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে ওই পর্ষদ সদস্যের স্ত্রী কেভিনকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।   সবশেষ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন গত ২২ জুলাই কো-অপ পরিচালন পর্ষদ একটি জরুরি সভা ডেকে কার্টেন পরিবারের ইজারা বাতিল, তাঁদের শেয়ার নিলামে বিক্রি এবং কেভিনকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নোটিশ জারি করে। নোটিশে পর্ষদ সদস্যকে হেনস্তার অস্পষ্ট অভিযোগ আনা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি কার্টেন পরিবারের।   উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কার্টেন পরিবার জরুরিভিত্তিতে আদালতের আশ্রয় নিলে ম্যানহাটনের এক বিচারক আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পর্ষদের উচ্ছেদ প্রস্তাবের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কার্টেন পরিবার মামলায় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ এবং বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।   উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আবাসন এলাকার বিষয়টি এখন নিউ ইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতি ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২১:৭
সম্প্রতি আইসিই কর্মকর্তারা চেক-ইন কাউন্টার ও বোর্ডিং গেটে প্লেইনক্লথে অবস্থান নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন

গ্রিনকার্ড থাকলেও বিমানবন্দরে আইসিই'র হাতে আটক হতে পারেন যাত্রীরা, যা জানা জরুরি

কাট দ্য কাটলারি

নিউ জার্সিতে ১ আগস্ট থেকে প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ ও চামচ নিষিদ্ধ, যা জানা জরুরি

৩৭ সন্তানের সঙ্গে পল ও জিন ব্রিগসের পরিবারের একটি মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

৫ সন্তানের স্বপ্ন থেকে ৩৭ সন্তানের পরিবার, দত্তক নিয়েই বদলে দিলেন অসহায় শিশুদের জীবন

নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় কুইন্সে ৬০০-এর বেশি সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট, থাকছে ডে-কেয়ার ও ইনডোর পুল
নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় কুইন্সে ৬০০-এর বেশি সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট, থাকছে ডে-কেয়ার ও ইনডোর পুল

নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সে একটি চমৎকার লোকেশনে শিগগিরই শত শত সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন সুবিধা আসতে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর কমিশনার ডিনা লেভি গত বুধবার এক ঘোষণায় জানান, হান্টার্স পয়েন্ট সাউথের একটি খালি জায়গায় 'দ্য ওরিয়ন' নামক নতুন এই বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে।   শহরজুড়ে চলমান তীব্র আবাসন সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এই খালি জায়গাটিকে প্রায় ১ হাজার নতুন বাসস্থানে রূপান্তরিত করা হবে। কমিশনার লেভির তথ্যমতে, এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬০০-এর বেশি ফ্ল্যাট অত্যন্ত নিম্ন থেকে মাঝারি আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বরাদ্দ থাকবে। এছাড়া, সব নিউইয়র্কারদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থানের প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে এই প্রকল্পে ১৪৫টির বেশি সাপোর্টিভ হাউজিং ইউনিট বা সহায়তামূলক আবাসন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   শুধু বাসস্থানই নয়, বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে এই প্রকল্পে থাকছে নানা ধরনের নাগরিক সুবিধা। এখানে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার, একটি ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এবং একটি ইনডোর কমিউনিটি পুলের ব্যবস্থা থাকবে। ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টারটিতে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও সহায়তা করা হবে। তাছাড়া কেন্দ্রটি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সভার জন্য একটি কমিউনিটি স্পেস বা সামাজিক মিলনায়তন হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।   ইস্ট রিভারের জলসীমা ঘেঁষা হান্টার্স পয়েন্ট সাউথ মূলত ৩০ একর আয়তনের একটি শিল্প এলাকা ছিল। ২০১২ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস আয়োজনের বিড ব্যর্থ হওয়ার পর সিটি কর্মকর্তারা এই এলাকাটিকে একটি মিশ্র আয়ের আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন।   নতুন এই 'দ্য ওরিয়ন' প্রকল্পটি মূলত বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানির 'ব্লক বাই ব্লক' কর্মসূচির একটি অংশ। এই কর্মসূচির আওতায় আগামী দুই বছরে শহরে নতুন সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্পগুলোতে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কাজ শুরু করার আগে ডেভেলপারদের সিটি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৯:৪৪
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্প-ওবামার মর্যাদার লড়াই, কার সুযোগ কতটুকু?

১৬৭.৩ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল লটারি জিতে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া জেমস ফার্দিং

১৬৭ মিলিয়ন ডলারের লটারি জিতেও বদলায়নি স্বভাব, এক বছরে চারবার গ্রেপ্তার

বন্ধ হচ্ছে প্রবীণদের ওষুধের ভর্তুকি কর্মসূচি, বাড়তে পারে মাসিক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত: বন্ধ হচ্ছে প্রবীণদের ওষুধের ভর্তুকি কর্মসূচি, বাড়তে পারে মাসিক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম

0 Comments