বিচারকদের কড়া সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ, প্রশ্ন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফেডারেল বিচারকদের একটি অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের (ডিওজে) আইনজীবীদের আচরণ ও আদালতে দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলায় সরকারের আইনজীবীরা এমন আচরণ করেছেন, যা আদালতের ভাষায় "অবৈধ", "অনৈতিক", "অশোভন" বা বিভ্রান্তিকর। এর ফলে সরকারের বক্তব্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাস করার দীর্ঘদিনের বিচারিক নীতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শত শত মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৪০টিরও বেশি মামলায় বিচারকেরা সরাসরি সরকারের প্রতি প্রচলিত বিচারিক আস্থার নীতি বা "প্রিজাম্পশন অব রেগুলারিটি" নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই নীতির অর্থ হলো, আদালত সাধারণভাবে ধরে নেয় যে সরকারি কর্মকর্তারা আইন ও নীতিমালা মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন, যদি না তার বিপরীত প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিচারকদের সমালোচনার বড় অংশই অভিবাসন অভিযান, ব্যাপক বহিষ্কার, সরকারি কর্মী ছাঁটাই এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতিগত পদক্ষেপসংক্রান্ত মামলাগুলোকে ঘিরে। অনেক বিচারক মন্তব্য করেছেন, সরকারের আইনজীবীদের বক্তব্য এখন আর আগের মতো বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা যাচ্ছে না।
রোড আইল্যান্ডে ট্রাম্প মনোনীত ফেডারেল বিচারক মেরি ম্যাকএলরয় একটি মামলায় অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ তথ্য গোপন করেছে এবং আদালতের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্তে সংবেদনশীল চিকিৎসা নথি সংগ্রহের জন্য সরকারের কৌশল নিয়ে তিনি কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি যে আস্থা এতদিন ছিল, তা এই মামলায় আর বজায় নেই।
নিউ জার্সির ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টিন ও'হার্ন এক অভিবাসন মামলায় মন্তব্য করেন, ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা শপথ নিয়ে তথ্য না দিলে তিনি আর সরকারের বক্তব্য অন্ধভাবে গ্রহণ করবেন না। তার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এক আটক ব্যক্তিকে অন্য একটি কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
মিনেসোটার একটি মামলায় বিচারক প্যাট্রিক শিল্টজও সরকারের পদক্ষেপকে "ভিত্তিহীন" বলে সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি বা চাপ সৃষ্টি করতে ফৌজদারি তদন্তের ব্যবহার আইনের সুস্পষ্ট অপব্যবহার এবং অনৈতিক আচরণ।
অন্যদিকে বিচার বিভাগ সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগের মুখপাত্র কিয়ারস্টেন পেলস এক বিবৃতিতে বলেন, ডিওজের আইনজীবীরা সততা, পেশাদারিত্ব এবং আইনগত দায়িত্ব মেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে বিভাগ একমত নয়।
প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন মামলায় বিচারকেরা সরকারের নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অস্তিত্বহীন মামলার নজির, ভুল তারিখ, তথ্যগত অসঙ্গতি এবং বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার উদাহরণও উল্লেখ করেছেন। এসব ঘটনার কারণে সরকারের প্রতি আদালতের আস্থায় ধীরে ধীরে ভাঙন তৈরি হচ্ছে বলে আইন বিশেষজ্ঞদের মত।
সাবেক ফেডারেল বিচারক জন ই. জোনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। তার মতে, বর্তমানে অনেক বিচারকই সরকারি কৌঁসুলিদের বক্তব্যকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছেন না।
আইন বিশেষজ্ঞ জেরেমি ফোগেলের ভাষায়, আদালতে যা ঘটছে তা এখন শুধু আইনি বিরোধ নয়, বরং সরকারের একটি শাখা আরেকটি শাখার বৈধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের প্রধান আইনজীবী মিচ বার্নার্ড বলেন, বিচার বিভাগের বর্তমান আচরণের কারণে সরকার ভবিষ্যতে আরও বেশি মামলায় পরাজিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আবারও বসেছে বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী সার্ফিং প্রতিযোগিতা। এবারের 'ওয়ার্ল্ড ডগ সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপ'-এ বিভিন্ন জাত ও আকারের কয়েক ডজন কুকুর সার্ফবোর্ডে চড়ে ঢেউ জয়ের লড়াইয়ে অংশ নিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। শনিবার উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিকা সৈকতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় শত শত দর্শক ভিড় করেন। ল্যাব্রাডর, স্প্যানিয়েল, বুলডগ, মিনিয়েচার পিনশারসহ বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর রঙিন সার্ফবোর্ডে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের ঢেউ পাড়ি দেয়। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি কুকুরের গায়ে ছোট লাইফ জ্যাকেট পরানো হয়েছিল। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কুকুর সার্ফিং প্রতিযোগিতা। এখানে শুধু ঢেউয়ে ভেসে থাকা নয়, বরং কুকুর কতক্ষণ সার্ফবোর্ডে ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে, কত বড় ঢেউ সফলভাবে অতিক্রম করে এবং সার্ফিংয়ের সময় তাদের আত্মবিশ্বাস কেমন, সেসব বিষয় বিবেচনা করে বিচারকেরা নম্বর দেন। প্রতিযোগিতার সময় কুকুরগুলোর প্রশিক্ষকেরা উপযুক্ত ঢেউ ধরতে তাদের সহায়তা করেন। এরপর কুকুরগুলো নিজেরাই সার্ফবোর্ডে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের ওপর ভেসে চলে। কোনো কুকুর পানিতে পড়ে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করেন। শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, আয়োজনের অংশ হিসেবে পোষা প্রাণী দত্তক গ্রহণ কার্যক্রম এবং প্রাণী কল্যাণে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার জন্য তহবিল সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মিনিয়েচার পিনশার প্রজাতির কুকুর 'রাস্টি'-র মালিক সোফিয়া স্যাডলোভস্কি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, মাত্র চার মাস বয়স থেকেই রাস্টির সার্ফিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। একদিন ছবি তোলার জন্য তাকে সার্ফবোর্ডে দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু সে বোর্ড থেকে নামতেই চাইছিল না। সোফিয়ার ভাষায়, "আমি তাকে সমুদ্রের একটি ঢেউয়ে ছেড়ে দিই, আর সে নিজেই সার্ফ করতে শুরু করে।" সবুজ রঙের একটি লাইফ জ্যাকেট পরে রাস্টি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। একপর্যায়ে একটি ঢেউয়ে সার্ফবোর্ড উল্টে গেলে সে পানিতে পড়ে যায়। তবে পাশে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। সোফিয়া আরও জানান, রাস্টি শুধু ঢেউয়ের সঙ্গেই নয়, ক্যানসারের সঙ্গেও লড়াই করেছে। তার দাবি, তিনি এবং তার পোষা কুকুর দুজনই ক্যানসারকে পরাজিত করেছেন। এবারের প্রতিযোগিতায় ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের কুকুরদের জন্য আলাদা বিভাগ ছিল। এছাড়া মানুষ ও কুকুর একসঙ্গে একই সার্ফবোর্ডে অংশ নেওয়ার 'ট্যান্ডেম' বিভাগও দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। সান ফ্রান্সিসকো থেকে প্রায় ১৬ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত প্যাসিফিকা শহরে প্রতিবছর এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া, বিনোদন এবং প্রাণী কল্যাণকে একসঙ্গে তুলে ধরার জন্য এটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়।
'ভারতে ফিরে যাও': যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী ও তার সন্তানকে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫টি মাকড়সার কামড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন নারী, স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব স্বামী
বিচারকদের কড়া সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ, প্রশ্ন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এবং সিএনএনের জ্যেষ্ঠ সঞ্চালক ড্যানা ব্যাশের মধ্যে সরাসরি সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটেছে। সিএনএনের বিশেষ অনুষ্ঠান 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন'-এ করোনা মহামারি, টিকার কার্যকারিতা, হামের প্রাদুর্ভাব এবং অটিজম ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে এই জোর বাকযুদ্ধ গড়ে ওঠে। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্য বিভাগের নীতি ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো স্বাস্থ্য সংকট বা মহামারি দেখা দিলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা হবে সঞ্চালক ড্যানা ব্যাশের এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাগরিকেদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি মন্তব্য করেন, গত মহামারির সময় সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করাটাই ছিল তৎকালীন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ভুল। জবাবে সঞ্চালক ব্যাশ দাবি করেন যে তিনি জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা নিয়ে প্রশ্ন করছেন, কোনো রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে নয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কেনেডি সরাসরি ব্যাশকে লক্ষ্য করে বলেন, তৎকালীন সংকটে মূল সমস্যার একটি বড় অংশ ছিল সিএনএনসহ মূলধারার গণমাধ্যমগুলো। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে তীব্রভাবে প্রশ্নের মুখোমুখি করাই সাংবাদিকতার প্রধান কাজ, কিন্তু আপনারা সেটি না করে সরকারের বক্তব্য প্রচার করেছেন, যা সরাসরি সাংবাদিকতার নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। সিএনএন সঞ্চালক ড্যানা ব্যাশ তখন দাবি করেন যে করোনা টিকা কার্যকর ছিল এবং এটি একটি প্রমাণিত সত্য। তিনি অভিযোগ করেন, টিকা নিয়ে ভুল তথ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত এক থেকে দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেনেডি বিষয়টিকে ভিত্তিহীন দাবি করেন এবং ব্যাশকে একটিমাত্র নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রমাণ উপস্থিত করতে চ্যালেঞ্জ জানান। আলোচনার একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কথা ওঠে। কেনেডি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অন্যান্য দেশের তুলনায় এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অনেক ভালো কাজ করছে। তবে বিগত মহামারির কারণে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়া এবং কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানানোকে তিনি নতুন করে হাম বিস্তারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সঞ্চালকের বিশেষ অনুরোধে তিনি সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশে বিদ্যালয় খোলার আগে শিশুদের প্রয়োজনীয় হামের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে অটিজম এবং টিকার সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষযটি আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট করে কেনেডি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন অটিজমের মূল কারণ অনুসন্ধানে টিকা ও এর উপাদানের সংযোগ নিয়ে গভীর গবেষণা চালাতে চায়। কেনেডি দাবি করেন, এই বিষয়টি নিয়ে এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়নি। তিনি ব্যাশকে মূলধারার নির্দিষ্ট কিছু যুক্তি তোতাপাখির মতো বারবার পুনরাবৃত্তি করছেন বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। প্রায় ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা এই উত্তপ্ত সাক্ষাৎকার শেষে সঞ্চালক ড্যানা ব্যাশ আলোচনার বিতর্কিত রূপ নিয়ে কিছুটা দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরাই তাদের প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে গণমাধ্যমের নিষ্ক্রিয়তা ও বস্তুনিষ্ঠতার অভাবকে স্বাস্থ্য সংকটের পেছনে অন্যতম কারণ বলে নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ভিডিও বানাতে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রাকৃতিক ওয়াটারস্লাইডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরে আছড়ে পড়লেন তরুণী
অভিবাসনে কড়াকড়ি আরও বেড়েছে, জুলাইয়ে আইস এর হাতে আটক ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রে ফুল কভারেজ গাড়ি বিমা মিলছে মাসে ১৫১ ডলারে, প্রকাশিত হলো সাশ্রয়ী কোম্পানির তালিকা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের রিভারসাইড টাউনশিপে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী পরিচয়ে এক নারীর কাছ থেকে ২৫ হাজার ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগে (থার্ড ডিগ্রি থেফট বাই ডিসেপশন) মামলা দায়ের করা হয়েছে। রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর কম্পিউটারে একটি ভুয়া সতর্কবার্তা বা পপ-আপ আসে। সেখানে দাবি করা হয়, তার কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং সহায়তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। প্রতারক ভুক্তভোগীকে জানায়, তার কম্পিউটারের সমস্যার কারণে ব্যাংকের নেটওয়ার্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং বিষয়টি এফবিআই পর্যন্ত গড়াতে পারে। কথিত সেই ঝুঁকি এড়াতে তাকে ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার ডলার নগদ তুলে বাড়ির বাইরে একটি বাক্সে রেখে দিতে বলা হয়, যাতে ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীরা এসে অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন। পুলিশ জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী ভুক্তভোগী ২৫ হাজার ডলার নগদ তুলে নির্ধারিত স্থানে রেখে দেন। কিছুক্ষণ পর একজন এসে সেই অর্থ নিয়ে চলে যায়। পরে প্রতারক চক্র আবার যোগাযোগ করে আরও ৩০ হাজার ডলার দাবি করলে ভুক্তভোগীর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি বিষয়টি রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশকে জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের গোয়েন্দারা ভুক্তভোগীর সহযোগিতায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং আরও অর্থ দেওয়ার নামে একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করেন। নির্ধারিত সময়ে অর্থ নিতে এলে ঘটনাস্থল থেকেই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম এমডি এন. ইসলাম (৪৮) এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম (৫৮)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এমডি এন. ইসলাম নিউ জার্সির এগ হারবার টাউনশিপ এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম ওয়েস্টভিল এলাকার বাসিন্দা। আদালতে হাজিরার সমনের শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ জেড. ইসলামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এবং এমডি এন. ইসলামের বাড়ি নড়াইল জেলায়। তবে এই তথ্য রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ বা মার্কিন মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেনি এবং স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রযুক্তি সহায়তা কর্মী কিংবা সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, কোনো ব্যাংক বা সরকারি সংস্থা কখনো গ্রাহককে ফোন করে নগদ অর্থ তুলে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলে না। এ ধরনের নির্দেশনা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ এবং স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ একই ধরনের প্রতারণার শিকার ব্যক্তি বা এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানা থাকলে তাদের গোয়েন্দা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে অভিযোগে নতুন তথ্য যুক্ত হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদ কমেছে, কিন্তু রিফাইন্যান্সিংয়ের আগে জেনে নিন ৫ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ, তবুও অর্ধেকের বেশি আমেরিকানের ৫০০ ডলারের জরুরি খরচ মেটানোর সামর্থ্য নেই