মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চার্চে গোপন অভিযান, অভিযুক্ত মার্কিন প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসের ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চসহ দেশটির বেশ কয়েকটি চার্চ ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধর্মীয় উপাসনালয়ে ছদ্মবেশী এজেন্ট পাঠিয়ে গোপন নজরদারি চালিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস)।
গত সপ্তাহে ডিএইচএস-এর প্রকাশিত গোপন নথিপত্রে এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এসেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটসের একজন বিচারক ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চকে ‘সুরক্ষিত এলাকা’ বা প্রোটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো আইনি বলপ্রয়োগ বা অভিযান পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
কিন্তু নতুন প্রকাশিত নথিগুলো বলছে, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত একাধিকবার এই চার্চের ভেতরে গিয়ে তদন্ত চালিয়েছেন ছদ্মবেশী এজেন্টরা। এমনকি অন্তত একটি ক্ষেত্রে গোপনে আড়িপাতার যন্ত্র (ওয়্যার) পরিধান করে চার্চের ভেতরে অডিও রেকর্ড করার প্রমাণও মিলেছে।
গত ২৮ মে চার্চের বেসমেন্টে আয়োজিত একটি আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ ক্লাসেও এক ছদ্মবেশী এজেন্ট অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। গত ১১ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন চার্চ ও বৈঠকে এই ধরনের ছদ্মবেশী উপস্থিতির রেকর্ড রয়েছে।
আইনজীবী কেভিন রিয়াচের দায়ের করা একটি নথির অংশ হিসেবে ডিএইচএস-এর ‘অপারেশন পাপেট মাস্টার’ এবং ‘প্রজেক্ট হুইপল শিল্ড’ সংক্রান্ত এসব অভ্যন্তরীণ নথি প্রকাশ্যে আসে। রিয়াচ মূলত আইজ্যাক স্যান্ট নামের এক ব্যক্তির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন, যিনি ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৫ জনের একজন।
ডিএইচএস কর্তৃপক্ষের দাবি, সহিংস সুযোগসন্ধানী এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করতেই এসব অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে চার্চের নেতারা একে ধর্মীয় পবিত্রতার মারাত্মক লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
ইউনিভার্সিটি ব্যাপটিস্ট চার্চের এক নেতা জানান, এটি তাদের পবিত্র স্থানের চরম অবমাননা; চার্চ হলো আশ্রয় ও নিরাপত্তার স্থান, সরকারি এজেন্টদের অনুপ্রবেশের জায়গা নয়। এদিকে, মিনিয়াপলিসের ফার্স্ট ইউনিভার্সালিস্ট চার্চের রেভারেন্ড জেনিফার ক্রো এই নজরদারিকে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তারা কেবল সাধারণ ধর্মীয় স্বাধীনতা চর্চা করতে চেয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, যদিও এ ধরনের সরকারি নজরদারি এখন অনেকটাই সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে, তবু এটিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ডিএইচএস-এর একজন মুখপাত্র চলমান তদন্ত ও পদ্ধতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreচাকরি খোঁজা কিংবা ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর হিসেবে উঠে এসেছে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন। চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট ইনডিডের ২০২৬ সালের নতুন এক তালিকায় ২৩৩টি মার্কিন মহানগর এলাকা বিশ্লেষণ করে বোস্টনকে প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছে। ইনডিডের এই প্রথমবারের মতো প্রকাশিত ‘বেস্ট সিটিজ ফর ওয়ার্ক ২০২৬’ তালিকায় শহরগুলোকে শুধু বেতন বা চাকরির সংখ্যা দিয়ে বিচার করা হয়নি। চাকরির সুযোগ, পারিশ্রমিক, চাকরির মান ও নিরাপত্তা, ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুযোগ, এই ছয়টি দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ইনডিড ২ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার মহানগর এলাকাগুলোকে এই বিশ্লেষণের আওতায় নেয়। বিভিন্ন সরকারি ও নিজস্ব তথ্য মিলিয়ে ৪০টির বেশি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকার কর্মসংস্থান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। চাকরির সুযোগ ও পারিশ্রমিককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, আর বাকি চারটি বিষয়ও সামগ্রিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বোস্টনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কোনো একটি সূচকে শুধু এগিয়ে থাকা নয়, বরং সবগুলো ক্ষেত্রেই তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা। ইনডিডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটি ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগে বিশেষভাবে শক্তিশালী। বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকরি পরিবর্তনের সুযোগের ঘনত্ব কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বোস্টন মহানগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কাজের সুযোগও এখানে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগ থাকায় কর্মীদের জন্য নমনীয়তার ক্ষেত্রটিও তুলনামূলক ভালো। তবে বোস্টনের শীর্ষে থাকার অর্থ এই নয় যে শহরটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সবার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে বাসস্থান ও শিশুসেবার খরচ, তুলনামূলক বেশি। ফলে বেশি বেতনের চাকরি থাকলেও বাসস্থান ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। ইনডিডের বিশ্লেষণেও বোস্টনের সামগ্রিক শক্তির পাশাপাশি এসব ব্যয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগের দিক থেকে শহরটি প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বড় নিয়োগদাতা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন পেশাজীবী খাতের ঘনত্বের কারণে কর্মীদের জন্য চাকরি পরিবর্তন ও ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখানে বেশি। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটন। বড় শহরের মতো উচ্চ বেতন না থাকলেও চাকরির সুযোগের দিক থেকে শহরটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীর্ষে। তুলনামূলক ছোট শ্রমবাজারে চাকরিপ্রার্থীর চাহিদা বেশি থাকায় কর্মীদের দর-কষাকষির ক্ষমতাও শক্তিশালী বলে ইনডিড জানিয়েছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে। পারিশ্রমিকের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মহানগর এলাকা। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উচ্চ বেতনের চাকরির আধিক্য এর অন্যতম কারণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো, যেখানে দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগও উল্লেখযোগ্য। তালিকার পরের দিকে রয়েছে বেশ কয়েকটি মাঝারি আকারের শহর। ষষ্ঠ স্থানে উইসকনসিনের ম্যাডিসন এবং সপ্তম স্থানে মিনেসোটার রচেস্টার। রচেস্টার অর্থনৈতিক সুযোগের সূচকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মহানগর এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে। শহরটি মায়ো ক্লিনিকের জন্যও পরিচিত, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখে। অষ্টম স্থানে রয়েছে ওয়াশিংটনের সিয়াটল, নবমে টেক্সাসের অস্টিন এবং দশমে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিল। শার্লটসভিল চাকরির মান ও নিরাপত্তার সূচকে দেশটির মধ্যে প্রথম হয়েছে। অস্টিন কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও ক্যারিয়ার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ইনডিডের তালিকায় আরও দেখা যায়, কর্মসংস্থানের জন্য শুধু নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরই এগিয়ে নেই। নর্থ ডাকোটার ফার্গো, নেব্রাস্কার ওমাহা, আইওয়ার সিডার র্যাপিডস এবং সাউথ ডাকোটার সিওক্স ফলসের মতো তুলনামূলক ছোট মহানগর এলাকাও সেরা ২৫-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, চাকরির বাজারে বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর গুরুত্বও বাড়ছে। ছোট শহরগুলোর কিছু এলাকায় চাকরির সুযোগের সঙ্গে তুলনামূলক কম যাতায়াতের চাপ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং স্থানীয়ভাবে স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের সুবিধা রয়েছে। ইনডিডের অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো একটি শহর সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। একজন তরুণ চাকরিপ্রার্থীর জন্য যেখানে দ্রুত ক্যারিয়ার পরিবর্তন ও বেতন বৃদ্ধির সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কারও কাছে কাজের সময়ের নমনীয়তা, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ব্যয় বা দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই তালিকাটি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য কর্মস্থল বাছাইয়ের একটি নির্দেশনা হিসেবে দেখা উচিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়। ইনডিডের ২০২৬ সালের সেরা ২৫ শহরের পূর্ণ তালিকায় রয়েছে: ১. বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস ২. ওয়াশিংটন ডিসি ৩. বার্লিংটন, ভারমন্ট ৪. সান হোসে, ক্যালিফোর্নিয়া ৫. সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া ৬. ম্যাডিসন, উইসকনসিন ৭. রচেস্টার, মিনেসোটা ৮. সিয়াটল, ওয়াশিংটন ৯. অস্টিন, টেক্সাস ১০. শার্লটসভিল, ভার্জিনিয়া ১১. ফার্গো, নর্থ ডাকোটা ১২. ওমাহা, নেব্রাস্কা ১৩. অ্যালবানি, নিউইয়র্ক ১৪. সিডার র্যাপিডস, আইওয়া ১৫. মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা ১৬. অ্যান আরবার, মিশিগান ১৭. ডেনভার, কলোরাডো ১৮. হনোলুলু, হাওয়াই ১৯. বোল্ডার, কলোরাডো ২০. সিরাকিউজ, নিউইয়র্ক ২১. বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড ২২. ডারহাম, নর্থ ক্যারোলাইনা ২৩. ম্যানচেস্টার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪. কলম্বাস, ওহাইও ২৫. সিওক্স ফলস, সাউথ ডাকোটা। তবে মূল তালিকায় ১৭ নম্বরে ডেনভার, কলোরাডো থাকার কথা। প্রকাশিত কপিতে এটিকে ভুল করে ‘ডেনভার, মিশিগান’ লেখা হয়েছিল। একইভাবে তালিকাটি মূলত শহরের চেয়ে মহানগর এলাকা বা মেট্রো এলাকা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। সূত্র: ইনডিড, ট্রাভেল + লেজার ও ফোর্বস।
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম কমাতে ট্রাম্পের বড় উদ্যোগ, ৩ লাখ টন আমদানির অনুমোদন
ফ্লোরিডা নয়, কম কর আর সমুদ্রসৈকতের টানে ডেলাওয়্যারে ছুটছেন অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকানরা
স্বপ্নের আমেরিকায় এসেও পূর্ণ হলো না স্বপ্ন, ১৬ মাসে প্রাণ গেল অন্তত ৮ বাংলাদেশির
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ঘাতক এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে সংঘটিত এই জোড়া খুনের সঙ্গে ৩১ বছর বয়সী যিশুস আকোস্তা নামের এক ব্যক্তি জড়িত বলে নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। ভয়ংকর এই বন্দুকধারী বর্তমানে পলাতক থাকায় শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয়। সেখানে আকস্মিক সশস্ত্র হামলায় ৪৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এবং অপর একজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দুদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার ভোরে ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৪৯ স্ট্রিটের একটি বডেগায় (দোকান) ফের হামলা চালানো হয়। সেখানে এক বন্দুকধারী ৩৩ বছর বয়সী এক ক্রেতাকে সরাসরি বুকে গুলি করে হত্যার পর ক্যাশ কাউন্টার থেকে অর্থ লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ব্রুকলিনের রেস্তোরাঁ ও ব্রঙ্কসের বডেগায় সংঘটিত দুটি ঘটনাতেই একই ব্যক্তি জড়িত। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন যিশুস আকোস্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সে এর আগেও অস্ত্র রাখা ও হামলার অভিযোগে দীর্ঘ ১০ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি গত এপ্রিলে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল। তাকে ধরতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পলাতক এই ঘাতককে ধরতে ইউনাইটেড বডগেস অব আমেরিকা ৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণাও করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের আহ্বান নিউসমের
নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির
নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কিশোরকে মাথায় গু লি করে হ ত্যা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৬ বছরের কিশোরের
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বহুল প্রচলিত এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রাম পুরোপুরি বাতিল করার দাবি ফের জোরদার হয়েছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপিকা লরা ইনগ্রাহাম এবং ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্রেগ স্টিউবি সম্প্রতি এই ভিসা বাতিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এই ভিসা ব্যবস্থার কারণে আমেরিকান কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন এবং দেশীয় শ্রমিকদের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এরই মাঝে মার্কিন প্রশাসন এইচ-ওয়ানবি ভিসাকে আরও ব্যয়বহুল করতে নতুন এক বিশাল ফি আরোপের পথে হাঁটছে। ফক্স নিউজের ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে গ্রেগ স্টিউবি জানান, তার প্রস্তাবিত বিলটি পাস হলে এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামটি একেবারে বাতিল হয়ে যাবে। প্রমাণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও বিনোদন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। স্টিউবি উল্লেখ করেন, মাইক্রোসফট ১৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার পর এইচ-ওয়ানবি ভিসায় ৯ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। একইভাবে, ডিজনি ২৫০ জন আমেরিকানকে চাকরিচ্যুত করে উল্টো তাদের দিয়েই এইচ-ওয়ানবি ভিসায় আসা নতুন বিদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দেশীয় শ্রমিকদের এই শোষণের অবসান ঘটাতে স্টিউবি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘এক্সাইল অ্যাক্ট’ (EXILE Act) নামের একটি বিল উত্থাপন করেছেন। এদিকে লরা ইনগ্রাহাম স্মরণ করিয়ে দেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ২০১৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের আগে এই ভিসা বাতিল করার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখেছিলেন। আইনপ্রণেতাদের এই ভিসা বাতিলের দাবির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এইচ-ওয়ানবি ভিসার জন্য নতুন একটি বিশাল ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ক্যাপ-সাবজেক্ট অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোটার আওতাভুক্ত প্রতিটি এইচ-ওয়ানবি পিটিশনের জন্য আবেদনকারীকে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ মার্কিন ডলার ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি বিদ্যমান অন্যান্য স্বাভাবিক চার্জের অতিরিক্ত হিসেবে ধার্য করা হবে। ডিএইচএস-এর অনুমান, বার্ষিক ৮৫ হাজার ক্যাপ-সাবজেক্ট পিটিশনের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ফি থেকে সরকারের প্রতি বছর প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হবে। এই প্রস্তাবের বিষয়ে আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা এইচ-ওয়ানবি ভিসা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ভিসা ব্যবস্থার সমর্থকরা মনে করেন, এই প্রোগ্রামটি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষায়িত দক্ষ কর্মী নিয়োগে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, কোম্পানিগুলো সস্তায় কর্মী নিয়োগের জন্য এই ভিসার অপব্যবহার করছে এবং দেশীয় শ্রমিকদের প্রতিস্থাপন করছে। প্রশাসনের এই বিপুল ফি আরোপের প্রস্তাব এবং কংগ্রেসের ভিসা বাতিলের প্রচেষ্টা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দুটি ভিন্ন রূপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দুই সপ্তাহ আইসিই হেফাজতে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষিকা
অটিস্টিক সন্তানকে হাড়কাঁপানো শীতে গ্যারেজে আটকে হ ত্যার দায়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন