এআই দিয়ে পরিকল্পনা করে পাহাড়ে উঠতে গিয়ে পথ হারালেন ৩ হাইকার, রাতভর আটকে থাকার পর উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাউন্ট শাস্তা পর্বতে ওঠার পরিকল্পনা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নিয়েছিলেন তিন অনভিজ্ঞ হাইকার। গুগলের জেমিনি থেকে পাওয়া পথ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসংক্রান্ত পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পর চূড়ায় উঠতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। পরে পথ হারিয়ে একজন হাঁটুতে আঘাত পাওয়ায় তিনজনকেই উদ্ধার করতে হয়।
ঘটনাটি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে, ওরেগন সীমান্তের কাছে ক্যাসকেড পর্বতমালার অংশ মাউন্ট শাস্তায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪ হাজার ১৭৯ ফুট উঁচু এই পর্বতটি অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের কাছেও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে পরিচিত। সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিন হাইকারই ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা এবং পর্বতারোহণে তারা অনভিজ্ঞ ছিলেন।
গত ২৯ আগস্ট শনিবার প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় তারা শিবির স্থাপন করেন। পরদিন ভোর ৩টার দিকে হালকা ব্যাগ নিয়ে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে ওঠা ও নামার কাজ শেষ করা।
কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রাত ৭টার দিকে তারা মাউন্ট শাস্তার চূড়ায় পৌঁছান। অথচ পর্বত কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনায় দুপুর ১২টার মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এরপর নামার সময় পর্যাপ্ত দিনের আলো না থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনজন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় পৌঁছানোর পর অন্ধকারের মধ্যেই নামা শুরু করেন। নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা পথনির্দেশনার জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের জরুরি যোগাযোগ নম্বরে ফোন করেন। এরপরও তারা নির্ধারিত ক্লিয়ার ক্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান। দুর্গম ও খাড়া মাড ক্রিক ক্যানিয়নের ভেতরে আটকা পড়ে তিনজনকে সেখানেই রাত কাটাতে হয়। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জরুরি সরঞ্জামও ছিল না।
পরদিন সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের পর্বতারোহণ উদ্ধারকারী দল তাদের সন্ধান পায়। উদ্ধারকারীরা আহত হাইকারকে চিকিৎসা দেন এবং তিনজনকেই নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে সহায়তা করেন। পরে সিসকিয়ু কাউন্টির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবকেরাও অভিযানে যুক্ত হন। শেষ পর্যন্ত তিন হাইকার এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নিরাপদে ট্রেইলহেডে ফিরে আসেন।
উদ্ধারের পর শেরিফের এক কর্মকর্তাকে তিন হাইকার জানান, মাউন্ট শাস্তায় ওঠার প্রস্তুতির সময় তারা গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী জেমিনির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিলেন। কোন পথে উঠবেন এবং কতটা খাবার ও পানি সঙ্গে নেবেন, সেসব বিষয়েও তারা জেমিনির পরামর্শ নিয়েছিলেন।
শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জেমিনি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার ও পানি সঙ্গে নিতে পরামর্শ দিয়েছিল। আট ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকা যাত্রাটি যখন একাধিক দিনের পরিস্থিতিতে পরিণত হয়, তখন অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
তবে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছে না। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় ওঠা এবং অন্ধকারে নামার সিদ্ধান্তও পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় পথনির্দেশনার জন্য একাধিক নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি রাখার ওপরও জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় হাইকারদের মাউন্ট শাস্তা রেঞ্জার স্টেশনে যাওয়ার আগে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ পথ ও আবহাওয়ার তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মুঠোফোন, স্মার্ট ঘড়ি বা কোনো একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পথনির্দেশনার ব্যবস্থাও সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে দুপুর ১২টার ‘ফিরে আসার সময়সীমা’ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসা উচিত, যাতে দিনের আলো থাকতে নিরাপদে নিচে নামা যায়। মাউন্ট শাস্তার ক্লিয়ার ক্রিক পথকে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন পর্বতারোহণের পথ হিসেবে বিবেচনা না করা হলেও, সেখানে শারীরিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা প্রয়োজন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ভ্রমণ, পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীদের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছেন। মাউন্ট শাস্তার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এআইয়ের পরামর্শকে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের তথ্য, সরকারি নির্দেশনা এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক স্টেটে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিপুলসংখ্যক পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ, আর্থিক সেবা, পরিবহনসহ বিভিন্ন বিভাগে একাধিক পদে আবেদন চলছে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য প্রকাশিত চলমান নিয়োগ তালিকায় এসব পদ পাওয়া যাচ্ছে। নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়োগ তালিকায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নিরীক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, নিবন্ধিত নার্স, তথ্য বিশ্লেষক, পরিবেশবিষয়ক কর্মকর্তা, মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তকারীসহ বিভিন্ন ধরনের পদ রয়েছে। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, নিয়োগের ধরন এবং আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা। ১ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতেই সহকারী ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট, নিবন্ধিত নার্স, রক্তের নমুনা সংগ্রহকারী, মোটরযান পরিদর্শক, পার্ক ও বিনোদন বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এবং শিশু ও পরিবারসেবা বিভাগের বিভিন্ন পদসহ বেশ কয়েকটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। পরদিনও নতুন করে তথ্যপ্রযুক্তি, মানবাধিকার, শিক্ষা, প্রশাসন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রযুক্তি বিষয়ক ডেপুটি কমিশনার, তথ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা বিভাগের প্রশাসনিক সহকারী ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদ রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো ‘এনওয়াই হেল্পস’ কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা যোগ্য প্রার্থীদের কিছু পদে প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রক্রিয়া ছাড়াই নিয়োগ দিতে পারে। সরকারি চাকরির জন্য তৈরি নিউইয়র্ক স্টেটের তথ্যপেজে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করে যোগ্য ও বৈচিত্র্যময় কর্মী দ্রুত নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিটি সরকারি পদে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো পদে নাগরিকত্ব বা নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে, আবার কিছু পদে যোগ্যতা পূরণকারী অন্যান্য প্রার্থীর আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তাই অভিবাসী আবেদনকারীদের প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকত্ব, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে দেখে আবেদন করা উচিত। চলমান নিয়োগ তালিকায় এমন অনেক পদও রয়েছে যেগুলোর আবেদনের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। যেমন, নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অফিস সহকারী ও প্রশাসনিক সহকারী পদে সেপ্টেম্বরের ১১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কয়েকটি পদে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর। স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট বিভাগেও বিভিন্ন পদে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক স্টেটের কর ও অর্থ বিভাগেও প্রশাসনিক সহকারী, করসংক্রান্ত তথ্য সহকারী এবং ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। কিছু পদের আবেদনের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বরের ১১ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে, আবার কিছু পদে আরও দীর্ঘ সময় আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, সব সরকারি চাকরির জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ‘এনওয়াই হেল্পস’ কর্মসূচির আওতাভুক্ত কিছু পদে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কিছু পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। কোন পদে কী ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বর্তমানে হাজারো চাকরির সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সেপ্টেম্বরের নিয়োগকে একটি নির্দিষ্ট এককালীন নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে না দেখে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রকাশিত পৃথক শূন্যপদের সমষ্টি হিসেবে দেখা উচিত। আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট StateJobsNY-তে গিয়ে চলমান পদগুলো দেখতে পারবেন। সেখানে পদ অনুযায়ী যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদনের শেষ তারিখ এবং আবেদন করার পদ্ধতি দেওয়া থাকে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের নাগরিকত্ব ও কর্মসংস্থানের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। শুধু পদটি সাধারণ প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত দেখালেই প্রত্যেক অভিবাসী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হবেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট: StateJobsNY
এআই দিয়ে পরিকল্পনা করে পাহাড়ে উঠতে গিয়ে পথ হারালেন ৩ হাইকার, রাতভর আটকে থাকার পর উদ্ধার
নিউইয়র্কে ৪৫০% ভাড়া বৃদ্ধির রায় বাতিল, বিলিয়নিয়ারদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে মধ্যবিত্তদের জয়
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্কদের টার্গেট করে ২৫ কোটি ডলারের প্রতারণা, মূলহোতা গ্রেপ্তার; অভিযুক্ত ৪০ জনের বেশি
নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন (ডিওসি)-এর বার্ষিক স্মরণসভায় ৯/১১ হামলায় উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া তিন অকুতোভয় কর্মকর্তাকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়েছে। শুক্রবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্যাপ্টেন জ্যাকুলিন পেডেন, রাউল গঞ্জালেজ এবং থমাস উইডকের নাম রাইকার্স আইল্যান্ড মেমোরিয়াল স্টোনে খোদাই করা হয়। ২০০১ সালের সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর উদ্ধারকাজে গিয়ে বিষাক্ত পরিবেশের কারণে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় আড়াই দশকে এ পর্যন্ত ৩৯ জন ডিওসি কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন; এবার সেই তালিকায় চিরতরে যুক্ত হলো আরও তিন নাম। আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এই তিন কর্মকর্তার পরিবারকে একটি সম্মাননা স্মারক ও ভাঁজ করা মার্কিন পতাকা উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মেয়ে জ্যাকুলিন পেডেনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা ডেইজি পেডেন। মাত্র ৫০ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মেয়েকে স্মরণ করে তিনি বলেন, "সে আমার জীবনের সবকিছু ছিল। সে জানতও না যে তার শরীরে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে।" অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২০১৩ সালে শ্বাসতন্ত্রের রোগে মারা যাওয়া ডিওসি তদন্তকারী স্টিভেন কাপজ্যাকের দুই বোন অ্যানি ক্যাপুটো এবং ক্যাথি পেনাফিল। ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা বলেন, স্টিভেন তাঁর কাজ ও পরিবারকে সমানভাবে ভালোবাসতেন। ৯/১১-এর উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া শত শত ডিওসি হিরোকে সম্মান জানাতে এদিন কালো পাথরের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তাঁর বক্তব্যে ডিওসি-কে এমন একটি বিভাগ হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘যেখানে কেউ কখনো দ্বিধা করে না।’ উদ্ধারকর্মীদের দিনের পর দিন বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো সান্ত্বনাই এই শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না। তবে মেয়র অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আমেরিকান ডে প্যারেডের একটি নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে যোগ দিতে চলে যান, যা উপস্থিত অনেকের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ২৩ বছর আগে অবসর নেওয়া এবং ৯/১১-এর পর মর্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া কেন শোয়ার্টজ মেয়রের এই আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মেয়রের এই বিভাগের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, এমনকি ডিওসি কর্মীদের আত্মত্যাগ মূল ৯/১১ মেমোরিয়ালেও যথাযথভাবে স্থান পায়নি। এদিকে, এই স্মরণসভার কয়েক ঘণ্টা আগেই মেয়র মামদানি ৯/১১ হামলার শিকার ও উদ্ধারকর্মীদের সম্মানার্থে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। প্রথম আদেশের মাধ্যমে ১১ সেপ্টেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরজুড়ে ‘ডে অব রিমেমব্রেন্স অ্যান্ড সার্ভিস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যেখানে সব সংস্থাকে নীরবতা পালন ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশ নিতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় আদেশের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করতে শহরের প্রথম 'কন্টিনিউটি অ্যান্ড মিশন অ্যাসুরেন্স টিম (সিএমএটি)' গঠন করা হয়, যা আগের কন্টিনিউটি অব অপারেশন টিমের একটি আধুনিক সংস্করণ।
তিন সন্তান হত্যায় অভিযুক্ত লিন্ডসে ক্ল্যান্সি, ‘ভয়ংকর কাজ করেছে’ বললেন ট্রাম্প
নিউইয়র্কে ভারতীয় পুলিশ সেজে বৃদ্ধার ৯ লাখ ডলার হাতানোর অভিযোগ, পুলিশের ফাঁদে গ্রেপ্তার নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় স্বামীকে ‘লটারি কেনা বোকামি’ প্রমাণ করতে গিয়ে ১০ লাখ ডলার জিতলেন স্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার বোর্ড অব গভর্নরসের এক ভোটাভুটিতে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। নতুন এই নীতি অনুযায়ী, যেসব স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সব যোগ্য আবেদনকারীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে অবস্থানরত কোনো শিক্ষার্থী নতুন করে ভর্তি হতে পারবেন না। আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিতর্কিত এই নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর কয়েক মাস আগেই ফ্লোরিডার বোর্ড অব এডুকেশন রাজ্যের সরকারি কলেজ এবং বয়স্ক শিক্ষাকার্যক্রমেও অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তিতে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। নতুন এই নিয়মের মধ্য দিয়ে আলাবামা, জর্জিয়া ও সাউথ ক্যারোলাইনার পর চতুর্থ অঙ্গরাজ্য হিসেবে ফ্লোরিডা তাদের উচ্চশিক্ষায় অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করল। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। এক পোস্টে তিনি জানান, তাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বহিরাগতদের বদলে ফ্লোরিডাবাসী তথা আমেরিকানদেরই সবসময় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ‘ইউনাইটেড ফ্যাকাল্টি অব ফ্লোরিডা’ এবং ‘ফ্লোরিডা এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’। ইউনাইটেড ফ্যাকাল্টি অব ফ্লোরিডার প্রেসিডেন্ট রবার্ট ক্যাসানেলো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সবার জন্য উচ্চশিক্ষার সুরক্ষায় বোর্ড অব গভর্নরসের যে দায়িত্ব ছিল, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা তা হারিয়েছে। রাজ্যের ভবিষ্যৎ কর্মী ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার পরিবর্তে এই নিয়ম বরং উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং সম্ভাবনার দরজাগুলো বন্ধ করে দেবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন ফ্লোরিডায় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং দক্ষ শ্রমিকের তীব্র সংকট চলছে, তখন এই ধরনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য চরম ধ্বংসাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ৭১ বছরের বৃদ্ধা, পুলিশ স্টেশনে গুলি চালিয়ে পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত
ডালাস-নিউয়ার্কগামী বিমানে যাত্রীর মাতলামি, সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপে বেঁধে জরুরি অবতরণ