উচ্চশিক্ষিত আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, নির্বাচনের আগে বিপাকে রিপাবলিকানরা
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষিত নাগরিকদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধারাবাহিক পতন দেখা দিয়েছে। ইকোনমিস্ট ও ইউগভের সর্বশেষ তিনটি জরিপে কলেজ-শিক্ষিত আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন ৩৪ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে তার প্রতি অননুমোদনের হার ৬৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৯ শতাংশ হয়েছে। এই প্রবণতা নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
২১ থেকে ২৪ আগস্ট পরিচালিত জরিপে কলেজ-শিক্ষিতদের ৩৪ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং ৬৩ শতাংশ অননুমোদন করেছিলেন। ২৮ থেকে ৩১ আগস্টের জরিপে অনুমোদনের হার কমে ৩১ শতাংশে দাঁড়ায়, বিপরীতে অননুমোদন বেড়ে হয় ৬৮ শতাংশ। এরপর ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ জরিপে অনুমোদন আরও এক শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৩০ শতাংশে নামে এবং অননুমোদন বেড়ে ৬৯ শতাংশে পৌঁছে।
ফলে কলেজ-শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের নেট অনুমোদন ঘাটতি তিন সপ্তাহেরও কম সময়ে ২৯ শতাংশীয় পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৩৯ শতাংশীয় পয়েন্ট হয়েছে। সর্বশেষ জরিপে এই শ্রেণির ৬১ শতাংশ নাগরিক ট্রাম্পের কাজকে দৃঢ়ভাবে অননুমোদন করেছেন। তবে ইউগভ কলেজ-শিক্ষিত উপগোষ্ঠীর জন্য আলাদা ভুলের সীমা প্রকাশ করেনি। ফলে একেক সপ্তাহের পরিবর্তনের কিছু অংশ স্বাভাবিক জরিপগত ওঠানামার ফল হতে পারে।
ট্রাম্পের প্রতি উচ্চশিক্ষিতদের নেতিবাচক মনোভাব শুধু সামগ্রিক চাকরির অনুমোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সর্বশেষ জরিপে কলেজ-শিক্ষিতদের মাত্র ২৮ শতাংশ তার অর্থনীতি পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছেন, যেখানে ৭২ শতাংশ অননুমোদন করেছেন। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় তার কার্যক্রমের পক্ষে ছিলেন মাত্র ২৫ শতাংশ এবং বিপক্ষে ৭৩ শতাংশ। কর ও সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও এই শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের মূল্যায়ন নেতিবাচক ছিল।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ট্রাম্পের অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে। সর্বশেষ জরিপে কলেজ ডিগ্রিবিহীন আমেরিকানদের মধ্যে ৪১ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছেন এবং ৫৭ শতাংশ অননুমোদন করেছেন। অর্থাৎ কলেজ-শিক্ষিতদের তুলনায় ডিগ্রিবিহীনদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন ১১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি ছিল। এতে তার রাজনৈতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের হিসাবেও কলেজ-শিক্ষিত ভোটারদের অবস্থান রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে ৫৭ শতাংশ কলেজ-শিক্ষিত নাগরিক জানিয়েছেন, নিজ নিজ কংগ্রেসনাল আসনে তারা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ এই শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৯ শতাংশীয় পয়েন্টে।
ভোট দেওয়ার আগ্রহের ক্ষেত্রেও কলেজ-শিক্ষিত ভোটাররা এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে ৭৮ শতাংশ কলেজ-শিক্ষিত নাগরিক জানিয়েছেন, তারা নভেম্বরে নিশ্চিতভাবে ভোট দেবেন। কলেজ ডিগ্রি নেই এমন নাগরিকদের মধ্যে এই হার ৬৭ শতাংশ। ফলে যে শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কমছে, তাদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থনের বড় অংশ এসেছিল চার বছরের কলেজ ডিগ্রি না থাকা ভোটারদের কাছ থেকে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে পিউ রিসার্চ সেন্টারের যাচাইকৃত ভোটারদের বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ভোটারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি ছিল না। বিপরীতে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসের সমর্থকদের মধ্যে কলেজ-শিক্ষিতদের অংশ ছিল ৪৮ শতাংশ।
তবে জরিপের এই ফলাফলকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের সরাসরি পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপ পৃথক কংগ্রেসনাল আসনে কোন দল জয়ী হবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না। স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, প্রচারণা এবং ভোটার উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন জরিপে কম করে দেখানোর নজিরও রয়েছে।
তবু টানা তিনটি জরিপে কলেজ-শিক্ষিতদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কমে একই দিকে যাওয়াকে রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের বড় ব্যবধান এবং তুলনামূলক বেশি ভোট দেওয়ার আগ্রহ রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
সূত্র: নিউজউইক
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ওঠা বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগকে 'প্রায় নিশ্চিতভাবেই সত্য' বলে মন্তব্য করে খোদ নিজ দলের ভেতরেই আলোড়ন তৈরি করেছেন মিনেসোটার এক বিশিষ্ট ডেমোক্র্যাট নেতা। মিনেসোটার সাবেক স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী রাজনৈতিক কৌশলবিদ জো রাডিনোভিচ গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ধারাবাহিক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ইলহান ওমর এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বিষয়টিকে ডানপন্থীদের ইসলামোফোবিক বা বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র বলে যে দাবি করে আসছে, তা কোনোভাবেই সত্য নয়। এর পাশাপাশি ইলহান ওমরের আর্থিক লেনদেন নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোও সহজে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে বিচার করলে প্রমাণগুলো ওমরের পক্ষে যায় না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। রাডিনোভিচের এই মন্তব্যের পর মিনিয়াপলিসের ডেমোক্র্যাটিক কর্মী ও ইলহান ওমরের নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক কর্মকর্তা ব্রায়ানা রোজ লি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। ব্রায়ানা একে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন যে, এটি একটি সাজানো ষড়যন্ত্র। তবে রাডিনোভিচ তার অবস্থানে অনড় থেকে জানান, ওমরের দাবির পক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ নেই, বরং পর্যাপ্ত প্রমাণ বলছে যে এই নির্দিষ্ট অভিযোগটি সত্য। তিনি আরও বলেন, যারা এখনো ওমরের কথা বিশ্বাস করছেন, তারা আসলে চোখের সামনের অসংখ্য প্রমাণ এড়িয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, রাডিনোভিচ ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মিনেসোটা হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর সদস্য ছিলেন এবং তিনি মিনিয়াপলিসের বর্তমান মেয়র জেকব ফ্রের চিফ অফ স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ডন স্যামুয়েলসের দুটি নির্বাচনী প্রচারণাও পরিচালনা করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, অভিবাসন জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তিনি ২০০৯ সালে তার নিজের ভাই আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করেছিলেন। সম্প্রতি তার অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত শুরু হওয়ার পর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। গত ১২ অক্টোবর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনের (এইচএসআই) এজেন্টরা ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে তার পাসপোর্ট, ফোন এবং কম্পিউটার জব্দ করে। দশক পেরোনো নাগরিকত্বের ফর্মে ইলহান বা তার প্রয়াত পিতা নুর মোহাম্মদ কোনো জালিয়াতি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বারাক ওবামার শাসনামলে এই বিয়ের জালিয়াতি নিয়ে প্রথম তদন্ত শুরু হলেও বাইডেন প্রশাসনে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ইলহান ওমরের কার্যালয় থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাডিনোভিচের মন্তব্যের জবাবে ওমরের নির্বাচনী প্রচারণা শিবির থেকে তাকে একজন 'মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি' ও 'রিপাবলিকানদের দালাল' বলে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে লড়ছেন ৫১ মুসলিম আমেরিকান, কংগ্রেসে প্রার্থী ১১ জন
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি নেতাদের সম্মেলন
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন উদ্যোগ, দুই সন্তানের মা গড়ে তুললেন হালাল সারকিউটারি ব্যবসা
মানুষের জীবনে এমন কিছু স্বপ্ন থাকে, যা বাস্তবায়নের জন্য অনেকেই একটি ‘সঠিক সময়ের’ অপেক্ষায় দিন গোনেন। কিন্তু জীবনের কোনো নির্দিষ্ট সময়কে ‘সঠিক’ হিসেবে ধরে না নিয়ে, পঞ্চাশের কোঠায় এসে দেশান্তরী হওয়ার এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক দম্পতি। ২০২৬ সালে নিজেদের দীর্ঘদিনের পরিচিত পরিবেশ এবং গোছানো জীবন ছেড়ে তারা আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসে নতুন করে জীবন শুরু করেছেন। ৫৫ বছর বয়সী মার্কেটিং কনসালট্যান্ট লেসলি হডগিন এবং তার ৫২ বছর বয়সী স্বামী জন লাইম্যানের এই নতুন জীবনের গল্প প্রমাণ করে যে, নতুন কিছু শুরুর জন্য বয়স কোনো বাধাই নয়। প্রবাসে পাড়ি জমানোর আগে এই দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের রিচমন্ড শহরে বসবাস করতেন। সেখানে স্বামী জন এবং নিজেদের একটি আদরের পোষা বিড়াল নিয়ে লেসলির সুখের সংসার ছিল। লেসলির বাবা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা থেকেই বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে জীবনের একটা পর্যায়ে এসে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরটিকেই তিনি নিজের আপন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেখানে গত ১০ বছর ধরে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘ এক দশক ধরে গড়ে তোলা রিচমন্ডের সেই চিরচেনা ঠিকানা আর জীবনের চিরাচরিত স্বাচ্ছন্দ্যকে পেছনে ফেলা মোটেও সহজ কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে ছোটবেলা থেকে বিশ্ব ঘুরে দেখার যে অভিজ্ঞতা লেসলির ছিল, তা হয়তো তাকে নতুন কোনো রোমাঞ্চের দিকে ডাকছিল। তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন, জীবনে সবকিছু নিখুঁত হওয়ার জন্য বা অবসরের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলে হয়তো আর কখনোই তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে না। তাই সবকিছু গুছিয়ে নিজেদের প্রিয় পোষা বিড়ালটিকে সঙ্গে নিয়েই তারা পাড়ি জমান নেদারল্যান্ডসে। একটি বয়সের পর মানুষ সাধারণত নিজের চেনা গণ্ডি আর স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ছেড়ে নতুন কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। সেখানে পঞ্চাশোর্ধ্ব এই দম্পতির এমন সিদ্ধান্ত অনেকেই অবাক করেছে। তাদের এই দেশান্তরী হওয়ার গল্পটি কেবল একটি সাধারণ স্থানান্তর নয়, বরং এটি সেইসব মানুষের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা, যারা বয়স বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার অজুহাতে নিজেদের নতুন করে বাঁচবার সাহস হারিয়ে ফেলেন।
ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত মানুষের পাশে ১২ শিক্ষার্থী, তিন দিন ধরে চালালেন উদ্ধার-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে স্ত্রীকে প্লাস্টিকের ব্যাগে শ্বাসরোধে হ ত্যার চেষ্টা, অভিযুক্ত ৯২ বছরের বৃদ্ধ
নিউইয়র্কে স্কুলে বুলিংয়ের অভিযোগ করায় ১৫ বছরের কিশোরকে গু লি করে হ ত্যা, দাবি বাবার
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীনতা ও খাদ্যসংকটের মতো সামাজিক সমস্যার মধ্যে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন আমেরিকান লিজিয়নের সদস্য ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মাইলস এস. এপলিং আমেরিকান লিজিয়ন পোস্ট ২৩-এ প্রতি বুধবার একত্রিত হন স্বেচ্ছাসেবীরা। তাঁরা নিজেরাই রান্না করেন, খাবার প্যাকেট করেন এবং পরে সেগুলো স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। তাদের খাবারের তালিকায় থাকে স্প্যাগেটি, ঘরে তৈরি সবজির স্যুপ, হট ডগসহ নানা ধরনের রান্না করা খাবার। প্রতিটি প্যাকেটে মূল খাবারের পাশাপাশি ফল, নাশতা ও পানীয়ও রাখা হয়। তবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে আবেগঘন দিক হলো, খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা এমন মানুষের দেখা পেয়েছেন, যাঁদের জীবনে সামান্য সহায়তাও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁদের সহায়তা পাওয়া একজন গৃহহীন সাবেক সেনাসদস্য পরে নিজের কুকুরসহ থাকার জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্ট পেয়েছেন। আরেকজন নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এক মা নিজের ও সন্তানদের জন্য খাবার খুঁজছিলেন। এমনকি এক ক্ষুধার্ত তরুণ খাবার পাওয়ার পর বসার জায়গা খোঁজার আগেই সবজির স্যুপ পান করতে শুরু করেন। স্বেচ্ছাসেবীরা বলছেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধু খাবার বিতরণ নয়; বরং প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখে পাশে দাঁড়ানো। কারণ আর্থিক সংকট, বেকারত্ব কিংবা গৃহহীনতার পেছনে মানুষের জীবনের নানা জটিল পরিস্থিতি থাকতে পারে। এই কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আমেরিকান লিজিয়ন পরিবারের সদস্যরাও সময়, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছেন। কেউ রান্না করছেন, কেউ খাবার প্যাকেট করছেন, আবার কেউ সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। আয়োজকেরা মনে করেন, একটি খাবার হয়তো কারও জীবনের সব সমস্যা দূর করতে পারে না, কিন্তু কঠিন সময়ে কাউকে সাহস ও স্বস্তি দিতে পারে। তাঁদের এই উদ্যোগের বার্তা স্পষ্ট—মানুষের পাশে দাঁড়াতে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন আন্তরিকতা, সহযোগিতা এবং মানবিক মনোভাব।
যুক্তরাষ্ট্রের অরেগনে মাঝ আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘ র্ষ, প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ নি হত ৩
শিলাবৃষ্টিতে খাবারের গাড়ি নিয়ে বিপদে বিক্রেতা, ব্যাংকের দরজা খুলে বাঁচালেন কর্মীরা