এড শিরানের সফরের ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনিদের জন্য দান করবেন মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর
মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর জানিয়েছেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনকে দান করবেন তিনি। ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে ওই সফর থেকে তাকে বাদ দেওয়ার কয়েক দিন পর এই ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর।
ম্যাকলমোর, যার আসল নাম বেন হ্যাগার্টি, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে তার পাওয়া পুরো ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনি জনগণকে সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংগঠনে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটকেও একই পরিমাণ অর্থ দান করার আহ্বান জানিয়েছেন ম্যাকলমোর। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষার বিষয়ে তারা একমত হতে পারেন।
ক্রাফট সোমবার নিশ্চিত করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দিতে তিনি শিরানের ওপর চাপ দিয়েছিলেন। ক্রাফটের মালিকানাধীন গিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাকলমোরের পরিবেশনাও বন্ধ করা হয়। এর কারণ হিসেবে ক্রাফট ম্যাকলমোরের কথিত ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীকের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেন।
ম্যাকলমোর বলেন, এই অর্থ দানের বিষয়টি তাকে ঘিরে তৈরি বিতর্ক বা ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়। বরং তিনি এমন বাবা-মায়েদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান, যারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়াই সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক, প্যারামেডিক, সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের কথাও উল্লেখ করেন, যারা বারবার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফিরে যাচ্ছেন।
ম্যাকলমোর তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনি কিশোর মুহাম্মদ আল-জিনাতির মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, আহত এক ব্যক্তিকে সহায়তা করতে যাওয়ার সময় এক দিন আগে ইসরায়েলি হামলায় ওই কিশোর নিহত হয়। ম্যাকলমোর বলেন, সে একজন শিশু ছিল এবং তার বেঁচে থাকার কথা ছিল।
তিনি আরও বলেন, শুধু ত্রাণ সহায়তা দিয়ে এই পরিস্থিতির সমাধান করা সম্ভব নয়। যে পরিস্থিতির কারণে এই সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি মানুষের তৈরি এবং এর জন্য দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য আর অপেক্ষা করতে হওয়া উচিত নয় বলেও জানান ম্যাকলমোর।
চলতি মাসের শুরুতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন এবং তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন। এরপর তাকে শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ম্যাকলমোর এর আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ১৩ বছরের বন্ধু শিরান তাকে জানিয়েছেন, ক্রাফট অন্য স্টেডিয়াম মালিকদের নিয়ে ম্যাকলমোরের বিরুদ্ধে বয়কটের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ না দিলে এই বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে শিরান এই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনুষ্ঠানের আয়োজক ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ, তিনি নিজে নন।
শিরান আরও বলেন, এই সংঘাত নিয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে। তিনি তা প্রকাশ্যে না বললেও তার অর্থ এই নয় যে তার কোনো মতামত নেই। তিনি নিজের প্ল্যাটফর্মকে রাজনৈতিক মঞ্চের পরিবর্তে নিরাপদ ও আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে রাখতে চান বলেও জানান।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপুরোনো বন্ধুত্ব, স্মৃতিচারণ, গান আর প্রাণবন্ত আড্ডায় যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ নটরডেম অ্যালামনাই অব নর্থ আমেরিকার দ্বিতীয় গ্লোবাল কনভেনশন। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নটরডেমিয়ানদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণের মিলনমেলায়। অতীতের বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে নটরডেমের ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে যুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা। কেউ এসেছেন বহু বছর পর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে, কেউবা ফিরে গেছেন কলেজজীবনের সোনালি স্মৃতিতে। হাসি, গল্প, উচ্ছ্বাস আর আবেগঘন পুনর্মিলনে মুখর হয়ে ওঠে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনের হিলটন হোটেল। এখানেই সকাল ১১টায় শুরু হয় দিনব্যাপী এই সম্মেলন, যেখানে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা। শুধু পুনর্মিলন নয়, সম্মেলনটি হয়ে ওঠে অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। অনুষ্ঠানের সেমিনার পর্বে অংশ নেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাবেক কূটনীতিক এবং বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত নটরডেমিয়ানরা। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নটরডেম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার সরকার, নটরডেম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. ফাদার প্যাট্রিক গ্যাফনি, ড. আবদুন নূর, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওসমান ফারুক, একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, ড. ফয়সাল রহমান এবং আবদুল গফুরসহ অনেকে। দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও নটরডেম কলেজের প্রতি ভালোবাসা এবং একে অপরের প্রতি আন্তরিকতার বন্ধন যে আজও অটুট, পুরো আয়োজনজুড়েই তার প্রতিফলন দেখা যায়। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা কলেজজীবনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে কীভাবে এই ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করেন। একই সঙ্গে সংগঠনকে আরও গতিশীল করা এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা নটরডেমিয়ানদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা। সম্মেলনটি সফলভাবে আয়োজন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সংগঠনের সভাপতি ড. মোহাম্মদ নাকিবউদ্দিন, অ্যালামনাই এমেরিটাস ড. ইবরুল চৌধুরী, কনভেনর ফয়সাল রহমান এবং সংগঠনের সদস্য মাহিদুর আর. খানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সম্মেলন শুধু পুরোনো সম্পর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নটরডেমিয়ানদের মধ্যে সহযোগিতা ও যোগাযোগের আরও শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করবে। আলোচনা ও স্মৃতিচারণের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনও ছিল সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ। হৃদয়ছোঁয়া গান, পুরোনো বন্ধুদের প্রাণখোলা আড্ডা এবং এক কাপ চায়ের সঙ্গে স্মৃতির গল্পে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজের পাশাপাশি শিল্পী সাগ্নিক সেনের মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। একসময়ের সহপাঠীরা যেন ফিরে যান সেই চিরচেনা ক্যাম্পাসজীবনে, যেখানে বন্ধুত্বের শুরু, আর স্মৃতির যেন শেষ নেই। সম্মেলনের শেষ পর্বে আগামী গ্লোবাল কনভেনশন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন করে দেখা হওয়ার প্রত্যাশা, পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার এবং অটুট বন্ধুত্বের আবহে শেষ হয় নটরডেমিয়ানদের এই প্রাণের মিলনমেলা। প্রতিবেদক: স্যাম রিয়া, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
স্ন্যাপ কার্ড সুবিধাভোগীদের জন্য সুখবর, ফল-সবজি কিনতে দৈনিক মিলবে ১৪ ডলারের কুপন
নিউইয়র্কের হ্যালোইন প্যারেডে ২০ লাখ দর্শকের সমাগম, বিচিত্র পোশাকে রঙিন ম্যানহাটন
৩ নভেম্বর নিউইয়র্কে নির্বাচন, স্কুলে সরাসরি ক্লাস বন্ধসহ বদলাচ্ছে নাগরিক সেবা
নিউইয়র্কের কুইন্সে ৭ নম্বর সাবওয়ে লাইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের সংস্কারকাজ শেষ হতে আরও সময় লাগছে। ৫২তম স্ট্রিট ও ৬৯তম স্ট্রিট স্টেশনের ফ্লাশিংমুখী প্ল্যাটফর্মের কাজ আগামী মার্চ পর্যন্ত চলতে পারে। এর ফলে যাত্রীদের আগের পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় পাঁচ মাস বেশি ভোগান্তি পোহাতে হবে। মেরামতকাজের কারণে গত মে মাস থেকেই ফ্লাশিংমুখী ৭ নম্বর ট্রেন এই দুটি স্টেশনে থামছে না। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রেন দুটি স্টেশন এড়িয়ে চলবে। ফলে এসব স্টেশনে নামতে বা উঠতে যাত্রীদের অন্য স্টেশনে গিয়ে বিপরীতমুখী ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, ৫২তম বা ৬৯তম স্টেশনে যেতে চাইলে যাত্রীদের সামনে থাকা পরবর্তী স্টেশনে নেমে ম্যানহাটনমুখী ট্রেনে ফিরে আসতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতের সময় বাড়ছে এবং বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিয়মিত যাত্রীদের বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে। এই বিলম্বের অন্যতম কারণ হলো প্ল্যাটফর্মের নিচে থাকা লোহার কাঠামোর অতিরিক্ত ক্ষয়। নির্মাণকাজের সময় পরিদর্শকেরা আরও ২২টি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করেছেন। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কাঠামোর ভেতরের প্রকৃত অবস্থা অনেক সময় পুরোনো অংশ খুলে না দেখা পর্যন্ত বোঝা যায় না। প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়েছে। শুরুতে এর বাজেট ছিল প্রায় ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অতিরিক্ত কাজ ও সময় বৃদ্ধির কারণে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে। অর্থাৎ প্রাথমিক বাজেটের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। কুইন্সের উডসাইড, জ্যাকসন হাইটস, সানিসাইড ও করোনা এলাকার বহু মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতে ৭ নম্বর ট্রেন ব্যবহার করেন। তাই স্টেশন সংস্কারের এই দীর্ঘসূত্রতা স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কর্মস্থলে যাতায়াতকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
শীতের বিল নিয়ে চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, আজ থেকে নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে আর্থিক সহায়তা
স্কুলে যাওয়ার পথেই গুলিতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের কিশোরের, ছেলেকে শেষবার দেখতে ভিসার অপেক্ষায় মা
বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য সুখবর, কর ফেরতের আবেদনের শেষ দিন আজ
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়ছে হাম বা মিজেলস সংক্রমণ। ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫২ জনে। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডাসহ ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪৩টি পৃথক সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তের প্রায় ৯৬ শতাংশ এসব সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ২৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। অর্থাৎ চলতি বছরের আক্রান্তের সংখ্যা আগের পুরো বছরের সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি। নিউইয়র্ক সিটি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য এবং নিউজার্সি—তিন এলাকাই আক্রান্তের তালিকায় রয়েছে।বিশেষ করে যেসব পরিবারে ছোট শিশু রয়েছে, তাদের টিকার ইতিহাস যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্কুল, শিশু পরিচর্যাকেন্দ্র এবং জনসমাগমস্থলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।তবে আক্রান্তের জাতীয় সংখ্যা বেশি হলেও প্রতিটি এলাকায় একই মাত্রায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে—এমন নয়। স্থানীয় পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসরণ করা জরুরি। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত আক্রান্ত হওয়ার পর জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি চলে যাওয়ার পরও বন্ধ ঘরের বাতাসে ভাইরাস কিছু সময় সক্রিয় থাকতে পারে।শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগ থেকে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এই টিকা হাম, মাম্পস ও রুবেলা—তিনটি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।দুই ডোজ এমএমআর টিকা হাম প্রতিরোধে প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। এক ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ কার্যকর।যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের হারও কমেছে। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের শিশুদের মধ্যে টিকা গ্রহণের হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে তা কমে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের হিসাবে, টিকা গ্রহণের হার কমে যাওয়ায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে।
নিউ ইয়র্কে আজ থেকে স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, ৮ লাখের বেশি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
নিউইয়র্কের কুইন্সে এ ট্রেন চলাচলে ৯ দিনের পরিবর্তন, বিকল্প বাস চালাবে কর্তৃপক্ষ