যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য এখন সবচেয়ে কঠিন লস অ্যাঞ্জেলেস, নতুন রিপোর্টে গ্রেড 'এফ'
লস অ্যাঞ্জেলেস যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে। রিয়েলটর ডটকমের নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য প্রায় ১১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, যেখানে মধ্যম পরিবারের বার্ষিক আয় ৯১ হাজার ৩৮০ ডলার। আয় ও বাড়ির দামের এই ব্যবধানের কারণে অঞ্চলটির আবাসন বাজারে ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রিয়েলটর ডটকমের ‘মেট্রো আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও বাড়ি নির্মাণ মূল্যায়ন’ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোকে বাড়ির সাশ্রয়যোগ্যতা এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে লস অ্যাঞ্জেলেস-লং বিচ মেট্রো সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। অঞ্চলটির মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ১২, যার মধ্যে সাশ্রয়যোগ্যতার স্কোর মাত্র ০.৯ এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের স্কোর ২৩.১।
প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ১০ শতাংশ প্রাথমিক জমা এবং ৩০ বছরের ৬.৫ শতাংশ নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণ ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি সাধারণ বাড়ির মাসিক গৃহঋণের কিস্তি দিতে মধ্যম আয়ের একজন ক্রেতাকে তার আয়ের প্রায় ৮৪.৪ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। সাধারণভাবে আবাসন ব্যয়ের ক্ষেত্রে আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে গৃহঋণের কিস্তি রাখাকে সাশ্রয়যোগ্যতার একটি প্রচলিত সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রিয়েলটর ডটকমের হিসাব বলছে, মাসিক গৃহঋণের কিস্তিকে ওই ৩০ শতাংশ সীমার মধ্যে আনতে একজন ক্রেতার প্রায় ৬৮ শতাংশ প্রাথমিক জমা প্রয়োজন হবে। ১১ লাখ ২৯ হাজার ৪১৫ ডলারের বাড়ির ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক জমার পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। অর্থাৎ মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বাড়ি কেনার পথে শুধু গৃহঋণের সুদ নয়, প্রাথমিক জমাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতার পাশাপাশি নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘাটতিও লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। মেট্রো এলাকায় জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ির নির্মাণ অনুমোদন দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের অর্ধেকেরও কম। রিয়েলটর ডটকমের হিসাবে লস অ্যাঞ্জেলেসের জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদনের অনুপাত ০.৪৭। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ বাড়ির দাম এবং সীমিত নতুন সরবরাহ একসঙ্গে ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস একমাত্র বড় মেট্রো নয় যেখানে আবাসন ব্যয় নিয়ে বড় চাপ রয়েছে। প্রতিবেদনে ১৩টি মেট্রোপলিটন এলাকা এফ গ্রেড পেয়েছে। তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেসের পর রয়েছে প্রভিডেন্স, নিউইয়র্ক, হনোলুলু, বোস্টন, অক্সনার্ড-থাউজ্যান্ড ওকস-ভেনচুরা, সান ফ্রান্সিসকো, ওরচেস্টার, সান ডিয়েগো, স্টকটন, সান হোসে, মিয়ামি এবং রিভারসাইড।
প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে নতুন বাড়ির সরবরাহের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, দেশজুড়ে ৪০ লাখের বেশি বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এই সরবরাহ সংকট নতুন পরিবার গঠন, বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ার পথে বাধা তৈরি করছে।
রিয়েলটর ডটকমের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল হেল বলেন, দীর্ঘমেয়াদে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা বাড়াতে হলে বাড়ি নির্মাণও বাড়াতে হবে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব মেট্রোতে বর্তমান আয়ের সঙ্গে বাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে, সেসব এলাকায় ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন।
অন্যদিকে ডেস ময়নেস, আইওয়া এই প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে মধ্যম বাড়ির দাম প্রায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯০৩ ডলার এবং মধ্যম পরিবারের আয়ের তুলনায় মাসিক গৃহঋণের কিস্তির চাপ প্রায় ২৭.৫ শতাংশ। র্যালে, নর্থ ক্যারোলাইনাও নতুন বাড়ি নির্মাণের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে শীর্ষ অবস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের এই অবস্থান মূলত রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির ফল, যেখানে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এটি শুধু বাড়ির দাম কত, সেই হিসাব নয়; স্থানীয় মানুষের আয় অনুযায়ী সেই বাড়ি কেনার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার তুলনায় কতটা নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে, দুটিই এতে বিবেচনা করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো শহরে অভিবাসীদের আইনি সহায়তা ও জরুরি সেবা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল অভিবাসন অভিযান এবং আটকের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে কয়েক লাখ ডলারের তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর ফ্রেসনো সিটি কাউন্সিল ৫-১ ভোটে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিদের আইনি সহায়তার জন্য ১০ লাখ ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করে। শহরের কাউন্সিল সদস্য মিগুয়েল আরিয়াস এ উদ্যোগের পক্ষে ভূমিকা রাখেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনপ্রণেতা এস্মেরালদা সোরিয়া অভিবাসীদের সহায়তায় আটটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩০ লাখ ডলারের অঙ্গরাজ্য তহবিলের ঘোষণা দেন। এই অর্থ দিয়ে অভিবাসীদের আইনি পরামর্শ, খাদ্য সহায়তা এবং জরুরি সামাজিক সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্রেসনো ও আশপাশের এলাকায় কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই উদ্যোগের সুবিধা পাবে। অভিবাসন অভিযানের প্রভাব শুধু আটক ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অনেক পরিবার কর্মস্থলে যাওয়া, সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে আসা কিংবা প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতেও সমস্যার মুখে পড়ছে বলে স্থানীয় সংগঠনগুলো জানিয়েছে। কিছু স্বেচ্ছাসেবী পরিবারগুলোর বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে পণ্য সরবরাহ ও জরুরি পরিবহন সহায়তাও দিচ্ছে। স্থানীয় সংগঠনগুলোর মতে, আইনি সহায়তার পাশাপাশি অভিবাসী পরিবারের শিশুদের শিক্ষা, বাসস্থান ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তবে বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে এলাকার সব অভিবাসী পরিবারের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ফ্রেসনোর কৃষি, রেস্তোরাঁ, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আটক হয়েছেন, তাদের আইনি পরামর্শ ও জরুরি সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফ্লোরিডায় ৯ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত, একাধিক প্রাণহানির খবর
ভার্জিনিয়ায় বসেছিল নটরডেমিয়ানদের মিলনমেলা, অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় গ্লোবাল কনভেনশন
স্ন্যাপ কার্ড সুবিধাভোগীদের জন্য সুখবর, ফল-সবজি কিনতে দৈনিক মিলবে ১৪ ডলারের কুপন
নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৩তম ভিলেজ হ্যালোইন প্যারেড। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লোয়ার ম্যানহাটনের সিক্সথ অ্যাভিনিউজুড়ে বসে মানুষের মিলনমেলা। ভৌতিক চরিত্র, কঙ্কাল, জম্বি, রঙিন পুতুল আর নানা সৃজনশীল সাজে হাজারো মানুষ অংশ নেন এই প্যারেডে। আয়োজকদের হিসাবে, এবারের আয়োজনে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বিভিন্ন পোশাকে প্যারেডে অংশ নেন। আর দর্শকের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ২০ লাখ। সন্ধ্যা ৭টায় ক্যানাল স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া প্যারেডটি সিক্সথ অ্যাভিনিউ ধরে গ্রিনউইচ ভিলেজের দিকে এগিয়ে যায়। পশ্চিম ১৫ নম্বর স্ট্রিটের কাছাকাছি ছিল এর নির্ধারিত শেষ গন্তব্য। প্রায় চার ঘণ্টার এই আয়োজনে বিশাল আকৃতির পুতুল, সংগীতদল, নৃত্যশিল্পী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের আকৃষ্ট করে। এবারের প্যারেডের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বডি অ্যান্ড সোল’। মানুষের শরীর, কল্পনা, নৃত্য ও সৃজনশীল প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছিল এবারের আয়োজন। প্যারেডে ছিল নানা ধরনের ব্যতিক্রমী পরিবেশনা। মাইকেল জ্যাকসনের বিখ্যাত ‘থ্রিলার’ গানের সঙ্গে জম্বি সেজে নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। পাশাপাশি ডিস্কো সংগীত, ডলি পার্টনকে ঘিরে বিশেষ বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা এবং মেক্সিকোর ‘দিয়া দে লস মুয়ের্তোস’ ঐতিহ্যভিত্তিক সংগীতও দর্শকদের আনন্দ দেয়। বিশাল পুতুল, বিচিত্র সাজের দল এবং বিভিন্ন কল্পনানির্ভর চরিত্রের উপস্থিতিতে পুরো সিক্সথ অ্যাভিনিউ পরিণত হয় এক বর্ণিল উৎসবস্থলে। আয়োজনে অংশ নেন চলচ্চিত্র পরিচালক স্পাইক লিও। নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যামএনওয়াইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত প্রায় ১১টার দিকে প্যারেডের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। অন্যদিকে সিবিএস নিউইয়র্ক জানিয়েছে, এটি ছিল শহরের ৫৩তম ভিলেজ হ্যালোইন প্যারেড। প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে শুধু পেশাদার শিল্পী বা সংগঠিত দল নয়, নির্দিষ্ট পোশাক পরে সাধারণ মানুষও অংশ নিতে পারেন। দর্শকদের জন্য প্যারেডটি উন্মুক্ত এবং বিনা মূল্যে দেখার সুযোগ থাকে।
৩ নভেম্বর নিউইয়র্কে নির্বাচন, স্কুলে সরাসরি ক্লাস বন্ধসহ বদলাচ্ছে নাগরিক সেবা
কুইন্সে ৭ নম্বর ট্রেনের মেরামত শেষ হতে আরও পাঁচ মাস, ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা
শীতের বিল নিয়ে চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, আজ থেকে নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে আর্থিক সহায়তা
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ১৫ বছর বয়সী কিশোর জাভিটস ফ্রিমপং। ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর হাজার হাজার মাইল দূরে ঘানায় থাকা মায়ের কাছে পৌঁছানোর পর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন ছেলের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন মা। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার সকালে ব্রঙ্কসের ক্রোটোনা পার্ক এলাকার কাছে। স্কুলে যাওয়ার সময় কিশোরটিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।নিহত জাভিটসের বাবা থমাস ফ্রিমপং প্রায় এক বছর আগে ছেলেকে ঘানা থেকে নিউইয়র্কে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর থেকে বাবা-ছেলে নিউইয়র্কে থাকলেও তার মা ঘানাতেই বসবাস করছিলেন।সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মায়ের সবচেয়ে বড় চাওয়া এখন ছেলেকে শেষবারের মতো দেখা এবং শেষ বিদায় জানানো। ঘটনাটি জানার পর নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেন। শনিবার তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন তিনি।মেয়রের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নিহত কিশোরের মাকে দ্রুত ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন, যাতে তিনি ঘানা থেকে নিউইয়র্কে এসে ছেলের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পারেন।তবে মেয়রের ঘোষণায় ভিসা ইতোমধ্যে ইস্যু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। শনিবার ব্রঙ্কসের ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় নিহত কিশোরের স্মরণে এক আবেগঘন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।পরিবারের সদস্য, বন্ধু, প্রতিবেশী, ধর্মীয় নেতা এবং ঘানার প্রবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। ফুল, প্রার্থনা, কান্না ও আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে তাঁরা জাভিটসকে স্মরণ করেন।নিউ জার্সি থেকেও একজন মা কেবল একজন কিশোরের মৃত্যুতে শোক জানাতে সেখানে ছুটে আসেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে জাভিটসকে চিনতেন না, কিন্তু একটি তরুণ প্রাণের এমন মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল নিহত কিশোরের বাবার স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হওয়া। শোকাহত বাবাকে সান্ত্বনা দিতে অনেকেই এগিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে তিনি চলে যান।নিহত কিশোরের বাবা জানিয়েছেন, স্কুলে তার ছেলেকে উত্ত্যক্ত করা হতো। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দুই শিক্ষার্থীকে ছেলেকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তবে পুলিশ এখনো এই ঘটনার সঙ্গে স্কুলের বুলিংয়ের কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত করেনি। হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। শনিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। জাভিটসের মৃত্যুর পর স্থানীয় বাসিন্দারা শুধু বিচার দাবি করছেন না, তাঁরা স্কুলগামী শিশুদের নিরাপত্তা এবং বন্দুক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপও চাইছেন।একটি শিশু প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু সেই যাত্রা আর বাড়ি ফেরা হলো না। অন্যদিকে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা মা সন্তানের শেষ মুহূর্তেও পাশে থাকতে পারেননি। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বন্দুক সহিংসতা শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না, ভেঙে দেয় একটি পরিবার এবং পুরো সম্প্রদায়ের স্বপ্ন।নিউইয়র্কের বাসিন্দারা এখন জাভিটসের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য সুখবর, কর ফেরতের আবেদনের শেষ দিন আজ
হাম আক্রান্ত প্রায় ৫ হাজার, নিউইয়র্ক-নিউজার্সিসহ ৪৭ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে সংক্রমণ