যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল না দিলে কী হয়, জেনে নিন ২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধ না করলে শুধু লেট ফি নয়, ক্রেডিট স্কোর কমে যাওয়া, অতিরিক্ত সুদ, ডেট কালেকশন এমনকি মামলার মুখেও পড়তে পারেন গ্রাহক। সাধারণত পেমেন্ট ৩০ দিন বকেয়া থাকলে তা ক্রেডিট রিপোর্টে নেতিবাচক তথ্য হিসেবে যুক্ত হতে পারে। প্রায় ছয় মাস অনাদায়ী থাকলে ব্যাংক ঋণটি চার্জ অফ করতে পারে। তবে ১৮০ দিন পার হলেই মামলা হবে, এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এসব নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ক্রেডিট রিপোর্টের নেতিবাচক তথ্য ভবিষ্যতে মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ এবং নতুন ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে মার্কিনিদের ক্রেডিট কার্ডের মোট বকেয়া ঋণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধে বিলম্বের বিষয়টিও দেশটির আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সব ধরনের বকেয়া ঋণ একই পর্যায়ের ঝুঁকিতে নেই। কত দিন পেমেন্ট বাকি রয়েছে, ঋণের পরিমাণ কত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নীতি কী, তার ওপর পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করে।
ক্রেডিট কার্ডের ডিউ ডেট পার হলেই ব্যাংক লেট ফি আরোপ করতে পারে। তবে সব ব্যাংকের জন্য একই অঙ্কের লেট ফি নির্ধারিত নেই। ফেডারেল কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবির ৮ ডলারের লেট ফি সংক্রান্ত বিধান আদালতে বাতিল হওয়ার পর কার্ডের চুক্তি ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ফি নির্ধারিত হচ্ছে। প্রথমবার বিল দিতে দেরি হলে এক ধরনের ফি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবার দেরি হলে তুলনামূলক বেশি ফি হতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই প্রযোজ্য আইনি সীমা ও চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো জরিমানা আরোপ করা যায় না।
পেমেন্ট ৩০ দিন বকেয়া হলে বড় ধরনের আর্থিক সমস্যা শুরু হতে পারে। ব্যাংক বা কার্ড ইস্যুয়ার বকেয়া পেমেন্টের তথ্য ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়নের মতো ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করতে পারে। এর ফলে ক্রেডিট স্কোর কমে যেতে পারে। তবে কত পয়েন্ট কমবে, তা নির্দিষ্ট নয়। আগে থেকে ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটি লেট পেমেন্টও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ফেয়ার ক্রেডিট রিপোর্টিং অ্যাক্ট অনুযায়ী, অধিকাংশ নেতিবাচক পেমেন্ট তথ্য প্রথম বকেয়া হওয়ার তারিখ থেকে সাত বছর পর্যন্ত ক্রেডিট রিপোর্টে থাকতে পারে।
পেমেন্ট ৬০ দিন বকেয়া থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফেডারেল ক্রেডিট কার্ড আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কার্ড কোম্পানি বিদ্যমান ব্যালেন্সের ওপর পেনাল্টি এপিআর আরোপ করতে পারে। অনেক ক্রেডিট কার্ডে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ হলেও সব কার্ডে একই সুদ প্রযোজ্য নয়। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পেনাল্টি রেট কার্যকর করার আগে নোটিশ দিতে হয়। পরে নিয়মিত পেমেন্টের শর্ত পূরণ করলে বিদ্যমান ব্যালেন্সের ওপর বাড়তি সুদের হার পুনর্বিবেচনার বিধানও রয়েছে।
পেমেন্ট ৯০ দিন বা তার বেশি বকেয়া থাকলে অ্যাকাউন্ট গুরুতর খেলাপির পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এ সময় ব্যাংক ক্রেডিট লিমিট কমিয়ে দিতে, কার্ডের ব্যবহার বন্ধ করতে কিংবা বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য নিজস্ব কালেকশন বিভাগকে দায়িত্ব দিতে পারে। তবে এসব পদক্ষেপ সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে একই সময়ে নেওয়া হয় না। কার্ড ইস্যুয়ারের নীতি এবং গ্রাহকের পেমেন্ট ইতিহাসের ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।
সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের ঋণ টানা প্রায় ১৮০ দিন অনাদায়ী থাকলে ব্যাংক সেটিকে চার্জ অফ করে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য কম্পট্রোলার অব দ্য কারেন্সির নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডের মতো ঋণের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। তবে চার্জ অফ মানে ঋণ মাফ হয়ে যাওয়া নয়। ব্যাংক হিসাবের খাতায় অর্থটিকে ক্ষতি হিসেবে দেখালেও গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের দায় থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে ব্যাংক নিজে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালাতে পারে অথবা ঋণটি ডেট কালেকশন এজেন্সির কাছে হস্তান্তর কিংবা বিক্রি করতে পারে।
ঋণ আদায়ের জন্য পাওনাদার বা ডেট কালেক্টর আদালতে মামলাও করতে পারে। তবে ১৮০ দিন পার হলেই মামলা হবে, এমন কোনো ফেডারেল নিয়ম নেই। মামলা করার সময়সীমা এবং ঋণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। আদালতের রায় পাওয়ার পর প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী বেতনের একটি অংশ কেটে নেওয়া, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ আদায় কিংবা নির্দিষ্ট সম্পত্তির ওপর লিয়েন আরোপের সুযোগ থাকতে পারে। ফেডারেল আইনে সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে বেতন থেকে অর্থ কাটার সর্বোচ্চ সীমা সাধারণত ডিসপোজেবল আয়ের ২৫ শতাংশ অথবা আইনে নির্ধারিত বিকল্প সীমার মধ্যে যেটি কম। কিছু অঙ্গরাজ্যে আরও কঠোর সুরক্ষা রয়েছে। শুধু ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধ করতে না পারার কারণে কাউকে কারাগারে পাঠানো যায় না। তবে আদালতের বৈধ নির্দেশ অমান্য করলে পৃথক আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
যাঁরা আর্থিক সমস্যার কারণে বিল দিতে পারছেন না, তাঁদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত কার্ড কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা। চেজ, ব্যাংক অব আমেরিকা, ওয়েলস ফার্গোসহ বিভিন্ন ব্যাংকে যোগ্য গ্রাহকদের জন্য হার্ডশিপ সহায়তার ব্যবস্থা থাকতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পেমেন্ট প্ল্যান, সাময়িকভাবে সুদ কমানো অথবা লেট ফি মওকুফের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব সুবিধা স্বয়ংক্রিয় নয়। গ্রাহকের আর্থিক অবস্থা ও ব্যাংকের নীতির ওপর অনুমোদন নির্ভর করে। প্রয়োজনে স্বীকৃত অলাভজনক ক্রেডিট কাউন্সেলিং প্রতিষ্ঠানের সহায়তাও নেওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থাকলে সমস্যাটি শুধু ওই কার্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া কিংবা নতুন ক্রেডিট পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক ক্রেডিট রিপোর্ট প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিল পরিশোধে সমস্যা দেখা দিলে ৩০ দিন অপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলা, অন্তত মিনিমাম পেমেন্ট দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা এবং নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। তবে কোনো গ্রাহকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন, ঋণের চুক্তি এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির শ্রম বিভাগ। বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার আগে মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা, নিয়োগের নিয়ম আধুনিক করা এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনা গত ২৩ অক্টোবর শেষ হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং নতুন কোনো নিয়ম কার্যকর হয়নি। ফলে চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত নিয়মই বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের প্রস্তাবটি মূলত পিইআরএম নামে পরিচিত স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। দেশটিতে কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ী চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করতে চাইলে অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে দেখাতে হয়, সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য, আগ্রহী ও উপলব্ধ মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের বেতন ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, শ্রম বিভাগের প্রস্তাবটি গত ১৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়া হয়। ২৩ অক্টোবর সেই পর্যালোচনা শেষ হয়। প্রস্তাবটির আনুষ্ঠানিক নামের বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, পিইআরএম অভিবাসী ভিসা কর্মসূচিতে শ্রমবাজার যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আধুনিক করা এবং মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা জোরদার করা। তবে হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়া মানেই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে, এমন নয়। শ্রম বিভাগের প্রকাশিত পরিকল্পনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিবর্তনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে মার্কিন কর্মীদের খোঁজার পদ্ধতি আধুনিক করা। বর্তমানে নিয়োগকর্তাদের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে চাকরির বিজ্ঞাপন দিতে এবং যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে হয়। নতুন প্রস্তাবে এই নিয়োগ যাচাইয়ের ন্যূনতম মান পরিবর্তন করা হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বর্তমান শ্রমবাজারে চাকরির বিজ্ঞাপন ও নিয়োগের প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে নিয়মগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মী ছাঁটাইয়ের পর বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা বাড়ানো। কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করার পর একই ধরনের পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে চাইলে কী ধরনের শর্ত পূরণ করতে হবে, সে বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা আসতে পারে। একই সঙ্গে নিয়োগের সময় বৈষম্য প্রতিরোধ, নিয়োগসংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ এবং শ্রম বিভাগের নিয়ম মেনে চলার বিষয়েও নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশিত না হওয়ায় ঠিক কোন শর্ত কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ইবি টু এবং ইবি থ্রি ক্যাটাগরির অনেক আবেদনের জন্য পিইআরএম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় শ্রম বিভাগের অনুমোদন পাওয়ার পর নিয়োগকর্তা ইউএসসিআইএসের কাছে অভিবাসী কর্মীর জন্য আবেদন করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বর পাওয়া এবং অন্যান্য যোগ্যতা পূরণের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। তবে সব চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনে পিইআরএম প্রয়োজন হয় না। যেমন, ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভারের মতো কিছু ক্যাটাগরিতে এই শ্রম সনদের বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান পিইআরএম ব্যবস্থার মূল নিয়োগসংক্রান্ত নিয়মগুলো ২০০৪ সালে প্রণীত হয়েছিল। এরপর প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইনে চাকরির বিজ্ঞাপন, কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি এবং শ্রমবাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। শ্রম বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থায়ী শ্রম সনদের নিয়ম আধুনিক করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ ও অধিকার সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিবাসন আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেন জানিয়েছে, প্রস্তাবটি প্রকাশিত হলে নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মী স্পনসর করার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নতুন নিয়মের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আবেদন করতে কত সময় লাগবে, নিয়োগকর্তাদের অতিরিক্ত কী ধরনের নথি জমা দিতে হবে কিংবা আবেদনপ্রক্রিয়ার খরচ বাড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশি পেশাজীবী প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও অন্যান্য খাতে চাকরি করছেন। তাঁদের কেউ কেউ নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার বাংলাদেশ থেকেও অনেকে চাকরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সুযোগ খোঁজেন। ভবিষ্যতে পিইআরএম প্রক্রিয়ার নিয়ম পরিবর্তিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা এবং আবেদনকারীদের নতুন শর্ত মেনে চলতে হতে পারে। তবে সেই শর্তগুলো কী হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত বিধিমালার ওপর। নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে আরও কয়েকটি আনুষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে শ্রম বিভাগকে প্রস্তাবিত বিধিমালার পূর্ণাঙ্গ খসড়া ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাধারণ মানুষ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মতামত জানানোর সুযোগ পাবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে শ্রম বিভাগ প্রস্তাবটি সংশোধন করতে পারে অথবা চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশিত হলেও সেটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। এ অবস্থায় যাঁদের চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদন ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাঁদের জন্য এখনই নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি। একইভাবে যাঁরা ভবিষ্যতে নিয়োগকর্তার মাধ্যমে আবেদন করতে চান, তাঁদেরও বর্তমান নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কারণে আবেদন বন্ধ রাখা, চাকরি পরিবর্তন করা কিংবা নতুন শর্ত কার্যকর হয়েছে ধরে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিধিমালার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের এই উদ্যোগ এখন প্রস্তাব প্রকাশের পরবর্তী ধাপে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশিত হলে বোঝা যাবে, মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি কর্মীদের চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনপ্রক্রিয়ায় কী ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তত দিন পর্যন্ত বিদ্যমান পিইআরএম নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আইন অনুযায়ী আবেদনপ্রক্রিয়া চলবে।
স্কুলবাসে চালকের শ্বাসকষ্ট, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর এক ফোনেই বাঁচল প্রাণ!
নিউইয়র্কে ই-বাইকের ব্যাটারি বি স্ফোরণে একই পরিবারের চারজনের মৃ ত্যু
বাড়ির আঙিনায় ভৌতিক জগৎ তৈরি করে তাক লাগালেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) প্রায় দশ মাস ধরে ৩৯ বছর বয়সী এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে আটকে রেখেছে এবং তাকে জ্যামাইকায় ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) চেষ্টা করছে। ফিলিপ জেমস (যিনি ফেলিবি সিয়াঘা-কোক নামেও পরিচিত) নামের ওই ব্যক্তি নিজেকে জ্যামাইকার নাগরিক বলে দাবি করলেও, তার পরিবার, আইনজীবী এবং সরকারি নথিপত্র নিশ্চিত করে যে তিনি জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নাগরিক। আইন অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের আটক করার কোনো এখতিয়ার আইসিই-এর নেই। সাধারণত পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে কাউকে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য আটকে রাখা হতে পারে, তবে একজন মার্কিন নাগরিককে প্রায় দশ মাস বন্দি রাখার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জেমসের মার্কিন নাগরিকত্বের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ব্যবহার করা মার্কিন পাসপোর্টটি পাওয়ার জন্য জেমস ফ্লোরিডার যে জন্মনিবন্ধন সনদটি জমা দিয়েছিলেন, তা ভুয়া ছিল। তবে এই দাবির সপক্ষে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। অন্যদিকে, চিকিৎসকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেমস প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত এবং তার জ্যামাইকান হওয়ার দাবিটি মূলত মানসিক অসুস্থতাজনিত একটি বিভ্রম। তিনি নিজেকে জ্যামাইকার এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সন্তান এবং লেবাননের রাজপরিবারের বংশধর বলেও দাবি করেছেন, যার কোনো ভিত্তি নেই। জ্যামাইকা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের দেশে জেমসের জন্ম বা নাগরিকত্বের কোনো রেকর্ড নেই। বর্তমানে জেমসকে ইন্ডিয়ানার বাঙ্কার হিলে অবস্থিত আইসিই-এর ‘স্পিডওয়ে স্ল্যামার’ নামক একটি বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছে। তার আইনজীবীরা তাকে জ্যামাইকায় ডিপোর্ট করার আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন এবং মুক্তির জন্য একটি ফেডারেল বিচারকের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনাটি আইসিই-এর নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার চরম গাফিলতি এবং মানসিক ভারসাম্যহীনদের প্রতি অমানবিক আচরণের এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। সঠিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভুক্তভোগীর বিভ্রান্তিকর কথার ওপর ভিত্তি করে তাকে দেশছাড়া করার এই সরকারি প্রচেষ্টা মার্কিন বিচারব্যবস্থা ও অভিবাসন নীতির কঠোরতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল না দিলে কী হয়, জেনে নিন ২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম
৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র
চালকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগ, ৩৫ অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে ২২ কোটি ডলারের সমঝোতা জিএমের
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে নতুন অনলাইন ড্যাশবোর্ড চালু করেছে দেশটির আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (এইচইউডি)। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার এ উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে সরকারি আবাসন কর্তৃপক্ষগুলোর কার্যক্রম, অর্থায়ন এবং কর্মদক্ষতার তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার নাম পাবলিক হাউজিং অথরিটি অ্যাকাউন্টেবিলিটি ড্যাশবোর্ড। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্য, স্থানীয় আবাসন কর্তৃপক্ষ কিংবা পুরো দেশের সরকারি আবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন তথ্য এক জায়গা থেকে দেখা যাবে। এইচইউডির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন ড্যাশবোর্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, আবাসন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা এবং নিম্নমানের সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা। নতুন ড্যাশবোর্ডে কয়েক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি আবাসন কর্তৃপক্ষের কর্মদক্ষতার স্কোর, সেবার মান, আবাসন ইউনিটের সংখ্যা এবং হাউজিং ভাউচার ব্যবস্থাপনার তথ্য। এ ছাড়া কোন আবাসন কর্তৃপক্ষ কতটুকু সরকারি অর্থ ব্যবহার করছে, তাদের বরাদ্দ কত এবং ভাউচার ব্যবহারের হার কেমন—সেসব তথ্যও দেখা যাবে।আবাসন কর্তৃপক্ষগুলোর অবস্থান চারটি শ্রেণিতে দেখানো হবে। এগুলো হলো উচ্চ কর্মদক্ষতা, স্বাভাবিক মান, নিম্নমান এবং সমস্যাগ্রস্ত কর্তৃপক্ষ।ব্যবহারকারীরা চাইলে অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলভিত্তিক তুলনামূলক প্রতিবেদনও তৈরি করতে পারবেন। এইচইউডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের তত্ত্বাবধানে ৭৭টি সরকারি আবাসন কর্তৃপক্ষ সমস্যাগ্রস্ত অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসেছে।একই সময়ে সাতটি আবাসন কর্তৃপক্ষকে গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতার পর্যায়ে ঘোষণা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বিভাগটির দাবি, নতুন ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে আবাসন ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অর্থের অপচয় এবং দুর্বল সেবার বিষয়গুলো শনাক্ত করা আরও সহজ হবে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থাটি সরকারি আবাসনে বসবাসকারী পরিবার, হাউজিং ভাউচারের সুবিধাভোগী, আবাসনপ্রত্যাশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গবেষক এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর জন্য তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে কোনো এলাকার আবাসন কর্তৃপক্ষের কর্মদক্ষতা, সরকারি বরাদ্দ এবং ভাউচার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহীরা সরাসরি তথ্য যাচাই করতে পারবেন।তবে এই ড্যাশবোর্ড চালুর অর্থ এই নয় যে নতুন করে আবাসন ভর্তুকি, বিনা মূল্যে বাসা কিংবা হাউজিং ভাউচার দেওয়া শুরু হয়েছে। এটি মূলত তথ্য প্রকাশ ও কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি অনলাইন ব্যবস্থা।
প্রেমিক হত্যা মামলার অভিযুক্ত তরুণীর আবেদন, জেল নয় কলেজের হোস্টেলে থাকতে চান!
৩৫ হাজার ডলারে বাড়ির পেছনে ছোট ঘর বানিয়ে মাসে ১২০০ ডলার ভাড়া পাচ্ছেন নারী