যুক্তরাষ্ট্রে খালি বাড়ির সংখ্যা কমছে, তবু কাটছে না আবাসন সংকট
যুক্তরাষ্ট্রে খালি পড়ে থাকা বাড়ি এবং ফোরক্লোজার প্রক্রিয়ার মধ্যে মালিকের পরিত্যক্ত বাড়ির হার কিছুটা কমেছে। তবে এতে আবাসন সংকটের তেমন উন্নতি হয়নি। দেশটিতে এখনো প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৪০ লাখের বেশি বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। রিয়েল এস্টেট তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালি বাড়ির হার কমলেও নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘাটতি এবং বাড়ি কেনার উচ্চ ব্যয় আবাসন বাজারের ওপর চাপ তৈরি করে রেখেছে।
অ্যাটমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আবাসিক সম্পত্তির ১ দশমিক ২ শতাংশ খালি ছিল। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক এবং ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এই হার ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খালি বাড়ির হার সামান্য কমেছে। এই হিসাবে মালিকানা বা ফোরক্লোজার পরিস্থিতি নির্বিশেষে বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না, এমন সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৫টি সম্পত্তি ফোরক্লোজার প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪০টি বাড়িকে জোম্বি ফোরক্লোজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ফোরক্লোজার প্রক্রিয়াধীন সম্পত্তির হিসাবে এর হার প্রায় ৩ শতাংশ। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে জাতীয় পর্যায়ে জোম্বি ফোরক্লোজারের অনুপাতও কিছুটা কমেছে।
জোম্বি ফোরক্লোজার বলতে এমন বাড়িকে বোঝায়, যার মালিক মর্টগেজ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এ ধরনের বাড়ি দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকতে পারে। তবে কোনো বাড়ি খালি থাকলেই সেটি জোম্বি ফোরক্লোজার নয়। আবার ফোরক্লোজার প্রক্রিয়াধীন সব বাড়িও পরিত্যক্ত নয়। বাড়িটির মালিকানা এবং আইনি অবস্থার ওপর এই পার্থক্য নির্ভর করে।
জাতীয় পর্যায়ে জোম্বি ফোরক্লোজারের হার কমলেও সব অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি একরকম নয়। অ্যাটমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যে ২৯টি অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে উইসকনসিনে। সেখানে সংখ্যা ২০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৫২টিতে দাঁড়িয়েছে। মেরিল্যান্ডে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৮০টি। পেনসিলভানিয়ায় ১৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২৫২টি এবং টেক্সাসে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১৯২টি হয়েছে।
অন্যদিকে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জোম্বি ফোরক্লোজারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অ্যারিজোনায় ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৫৬টি, ফ্লোরিডায় ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ২ হাজার ২২০টি এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ২৬৭টি হয়েছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১৪১টি এবং ওকলাহোমায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৮২টিতে দাঁড়িয়েছে। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, জাতীয় পর্যায়ের সামগ্রিক প্রবণতার সঙ্গে স্থানীয় আবাসন বাজারের পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে।
অ্যাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রব বারবার জানিয়েছেন, চতুর্থ প্রান্তিকের তথ্যে দেশজুড়ে খালি বাড়ি এবং জোম্বি ফোরক্লোজারের হার কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে পরিস্থিতি আলাদা। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট আবাসিক সম্পত্তির তুলনায় খালি ও পরিত্যক্ত বাড়ির অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট।
এদিকে খালি বাড়ির হার কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সরবরাহের সংকট রয়ে গেছে। রিয়েলটর ডটকমের মার্চ মাসে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, দেশটিতে প্রয়োজনের তুলনায় আবাসিক বাড়ির ঘাটতি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণ না হওয়াকে এই সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বাজারে বিদ্যমান বাড়ির সংখ্যা বাড়লেও সামগ্রিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নতুন বাড়ি নির্মাণের সাম্প্রতিক তথ্যেও দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন আবাসিক বাড়ির নির্মাণকাজ শুরুর সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এই পতন ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে নির্মাণ শেষ হওয়া বাড়ির সংখ্যা মাসভিত্তিক ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং বছরভিত্তিক ১৪ শতাংশ কমেছে।
বাড়ির উচ্চমূল্য এবং মর্টগেজের সুদের হারও ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। অনেক বর্তমান বাড়ির মালিক আগে নেওয়া তুলনামূলক কম সুদের মর্টগেজ ধরে রাখতে চাইছেন। ফলে তাঁরা বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়ি কেনার বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন না। অন্যদিকে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের একটি অংশ বর্তমান বাজারদর ও মর্টগেজ ব্যয়ের কারণে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় রয়েছেন।
বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের বয়সের পরিবর্তনেও আবাসন বাজারের চাপের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মধ্যম বয়স ২০২৫ সালে বেড়ে ৪০ বছরে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে এই বয়স ছিল ৩৩ বছর। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রথমবার বাড়ি কেনার মধ্যম বয়স সাত বছর বেড়েছে।
এদিকে কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ খুঁজছেন, এমন ক্রেতাদের কাছে ফোরক্লোজার প্রক্রিয়াধীন বা দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত বাড়ি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। তবে এসব সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। অনেক বাড়িতে বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি মালিকানা নির্ধারণ, বকেয়া প্রপার্টি ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য আইনি জটিলতা সমাধানে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী জেসি ওয়ায়াট রিয়েলটর ডটকমকে জানিয়েছেন, সঠিক ক্রেতার জন্য পরিত্যক্ত বাড়ি সংস্কার করে আবার ব্যবহারযোগ্য করার সুযোগ থাকতে পারে। তবে শুধু কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো বাড়ি খালি পড়ে আছে মানেই সেটি কেনার জন্য উপলব্ধ, ঋণদাতার পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত কিংবা আইনি জটিলতামুক্ত, এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে খালি ও পরিত্যক্ত বাড়ির হার কিছুটা কমেছে। কিন্তু নতুন বাড়ির ঘাটতি, নির্মাণের ধীরগতি এবং বাড়ি কেনার উচ্চ ব্যয় আবাসন বাজারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে ফোরক্লোজার ও খালি বাড়ির সংখ্যায় সামান্য উন্নতি হলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি পাওয়ার সংকট এখনো কাটেনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী ইসরায়েল অ্যান্থেম তার ১৪ মাস বয়সী মেয়ের জন্য 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' খুলতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোর বিরোধী এই বাবা সাফ জানিয়েছেন, তিনি নিজের পকেট থেকে এক হাজার ডলার দেবেন, তবুও মেয়ের নামের সঙ্গে সারাজীবনের জন্য ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে থাকুক তা তিনি কোনোভাবেই হতে দেবেন না। মূলত রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণেই তিনি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামাঙ্কিত এই সরকারি আর্থিক সুবিধা প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৫ সালের কর ও ব্যয় আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য এই 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' চালু করা হয়, যা মূলত শিশুদের একটি বিশেষ ব্যক্তিগত অবসরকালীন তহবিল বা আইআরএ। ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরধারী শিশুদের এই অ্যাকাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন ১,০০০ ডলার অনুদান দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, ইতিমধ্যেই স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় সাত কোটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং আট বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জমা করা হয়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকা ও ব্ল্যাকরকের মতো ৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সন্তানদের এই অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হোয়াইট হাউস এটিকে শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার একটি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করলেও, অ্যান্থেমের মতো অনেক অভিভাবকই ট্রাম্পের এই তথাকথিত 'উদারতা' নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক স্কট রিকের মতে, মানুষের এই ধরনের আচরণের পেছনে 'মেন্টাল অ্যাকাউন্টিং' বা মানসিক হিসাব-নিকাশ কাজ করে। যখন কোনো অর্থকে মানুষ মানসিকভাবে নেতিবাচক বা কলঙ্কিত মনে করে, তখন তারা তা এড়িয়ে চলতে চায়। রিকের ভাষায়, অনেকের কাছেই ট্রাম্পের দেওয়া এই হাজার ডলার অনুদানকে 'বিষাক্ত গাছের ফল' বলে মনে হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শকে দূরে সরিয়ে তারা কেবল সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই অনুদান গ্রহণ করছেন। কিন্তু অ্যান্থেম তার সিদ্ধান্তে অনড়; অভিভাবকত্বের আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি ট্রাম্পের সাথে সম্পৃক্ত কোনো সুবিধা নেওয়ার চেয়ে অন্য কোনো উপায়ে মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করাকেই শ্রেয় মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নারীকে গুলি করে হত্যা, ঘটনাস্থলে মিলল ২৯টি গুলির খোসা
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, ৫০০ ফুট নিচে পড়ে নি হত ব্রিটিশ শিক্ষার্থীসহ ৩
যুক্তরাষ্ট্রে খালি বাড়ির সংখ্যা কমছে, তবু কাটছে না আবাসন সংকট
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অপরাধ, জননিরাপত্তা, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ও প্রতারণার কারণে বাতিল হয়েছে অধিকাংশ ভিসা; বাংলাদেশিদের জন্য দেশভিত্তিক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা যাচাই ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত ২০ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বলেন, ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুত এবং বেশি সংখ্যায় ভিসা বাতিল করেছে বর্তমান প্রশাসন। এর আগে গত ১০ আগস্ট পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে তখন পর্যন্ত এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানে বাতিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার অধিকাংশের পেছনে রয়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, প্রতারণা, আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া কিংবা এমন নতুন তথ্য পাওয়া, যার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর ভিসার যোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেন না। ২০ অক্টোবর রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা একই কারণগুলোর কথা উল্লেখ করেন। দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের আইন ভঙ্গ, প্রতারণা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ছাড় নেই। তবে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিলের প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা সব ভিসার কারণভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যান; ভিসা বাতিলের মোট সংখ্যা তিন লাখ ছাড়ানোর ঘোষণার পর ৩১ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ধারাবাহিক যাচাই কার্যক্রমের আরও কিছু বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কনস্যুলারবিষয়ক ব্যুরোর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ বা ধারাবাহিক যাচাই কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৩ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের আওতায় বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল হামলা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের কারণে, ২২ শতাংশ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায়, ৭ শতাংশ চুরির ঘটনায় এবং আরও ৭ শতাংশ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বা বিতরণের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে। এই পরিসংখ্যান দেখায়, অপরাধ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের ভিসা পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন: ২৩ হাজারের বেশি ভিসার এই হিসাব তিন লাখের বেশি মোট বাতিলের একটি অংশ; অপরাধের ধরনভিত্তিক উল্লিখিত শতাংশগুলোও শুধু ধারাবাহিক যাচাই কেন্দ্রের আওতায় থাকা ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জন্ম পর্যটন ঠেকাতেও বাতিল হয়েছে হাজারো ভিসা: ৩১ অক্টোবরের সরকারি তথ্যের পাশাপাশি জন্ম পর্যটন নিয়েও পররাষ্ট্র দপ্তর উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। দপ্তরের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এ ধরনের ভ্রমণকে সাধারণত ‘জন্ম পর্যটন’ বলা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই শ্রেণিতে বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে সাত শতাধিক ছিল চীনা নাগরিকদের। ট্রাম্প প্রশাসন জন্ম পর্যটনকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে জন্ম পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ভিসা বাতিলের এই সংখ্যা মোট তিন লাখের বেশি বাতিল হওয়া ভিসার একটি নির্দিষ্ট অংশ। এটিকে পুরো ভিসা বাতিলের প্রধান বা একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসায়ও বাড়ছে যাচাই: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুধু আগে ইস্যু করা ভিসা পর্যালোচনা করছে না, নতুন ভিসা আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়িয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দপ্তরের সরকারি নির্দেশনায় জানানো হয়, ১ অক্টোবর থেকে আরও কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি পর্যালোচনার আওতা বাড়ানো হবে। এর আগে থেকেই এফ-১ ও এম-১ শিক্ষার্থী ভিসা, এইচ-১বি কর্মী ভিসা, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটরসহ বিভিন্ন শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের নিয়ম কার্যকর ছিল। নতুন নির্দেশনায় বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত কিছু পেশাজীবীর ভিসাও এই বিস্তৃত যাচাইয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংস উন্মুক্ত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন ভিসা আবেদন যাচাইয়ের এই নীতি এবং আগে ইস্যু করা ভিসা বাতিল—দুটি আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। একটির তথ্য দিয়ে অন্যটির সংখ্যা বা পরিণতি নির্ধারণ করা যায় না। বাংলাদেশিদের জন্য কী অর্থ বহন করছে এই সিদ্ধান্ত? যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, কর্মী, ব্যবসায়ী ও পর্যটক বসবাস ও যাতায়াত করেন। ফলে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিলের ঘোষণায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাতিল হওয়া ভিসার দেশভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। বাংলাদেশি নাগরিকদের কতটি ভিসা বাতিল হয়েছে, কিংবা মোট সংখ্যার মধ্যে তাঁদের অংশ কত—এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশিদের আলাদাভাবে লক্ষ্য করে ভিসা বাতিল করা হচ্ছে, এমন দাবির পক্ষেও প্রকাশিত তথ্য নেই। তাই এই ঘোষণাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বা কর্মীদের বিরুদ্ধে বিশেষ কোনো অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। তবে ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অপরাধে জড়ানো, আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া কিংবা প্রতারণার অভিযোগ যেকোনো দেশের নাগরিকের জন্যই ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পড়াশোনার অনুমোদিত অবস্থা বজায় রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রাখা এবং কাজের অনুমতি-সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। একইভাবে এইচ-১বি বা অন্যান্য কর্মী ভিসাধারীদের অনুমোদিত নিয়োগকর্তা ও কাজের শর্ত অনুসরণ করতে হবে। পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদেরও ভ্রমণের ঘোষিত উদ্দেশ্য এবং অনুমোদিত অবস্থানের সীমা মেনে চলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো বক্তব্যের কারণে ভিসা বাতিলের ঝুঁকি আছে কি না, সে বিষয়ে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রয়োজন। এ কারণে গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভিসা বাতিল মানেই কি তাৎক্ষণিক বহিষ্কার? ভিসা বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অভিবাসন-অবস্থা এক বিষয় নয়। ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য কোনো বিদেশি নাগরিকের আবেদন করার অনুমতি দেয়; দেশটিতে প্রবেশের পর কত দিন থাকা যাবে বা তাঁর অভিবাসন-অবস্থা কী হবে, তা নির্ধারিত হয় আলাদা নিয়মে। সে কারণে কোনো ব্যক্তির ভিসা বাতিল হয়েছে মানেই তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে দেশ ছাড়তে হবে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার করা হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে ভিসা বাতিলের পাশাপাশি যদি ওই ব্যক্তির অবস্থানের অনুমোদন, ভিসার শর্ত কিংবা অন্য কোনো অভিবাসন আইনের সঙ্গে জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে তার আইনি পরিণতি গুরুতর হতে পারে। তাই ভিসা বাতিলের নোটিশ পাওয়া বা নিজের অভিবাসন-অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দ্রুত যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কঠোর নীতির পক্ষে প্রশাসন, ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ: ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিসাধারীদের ওপর ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন। তবে এই নীতির প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের একাংশ ভিসা বাতিল ও বহিষ্কারের উদ্যোগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সম্ভাব্য জাতিগত বৈষম্যের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করা কিছু বিদেশির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও সমালোচকদের বক্তব্য, নিরাপত্তার যুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অধিকার ও ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। সামনে কী নজরে রাখতে হবে? তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিলের ঘোষণা এবং ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ধারাবাহিক যাচাই কেন্দ্রের পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোর যাচাই ও নজরদারির একটি বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই সংখ্যার প্রকৃত প্রভাব বুঝতে হলে ভিসার ধরন, নাগরিকত্ব, বাতিলের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিবাসন-অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। মার্কিন প্রশাসন এখনো মোট বাতিলের পূর্ণাঙ্গ দেশভিত্তিক বা ভিসার ধরনভিত্তিক হিসাব প্রকাশ করেনি। বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যা না থাকায় আতঙ্ক ছড়ানো বা সবাইকে ঝুঁকির মধ্যে আছেন বলে দাবি করা তথ্যসম্মত হবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভিসার শর্ত মেনে চলা, প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা এবং কোনো আইনি জটিলতা দেখা দিলে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত না নিয়ে পেশাদার পরামর্শ নেওয়া। পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী তথ্য ও নীতিগত পরিবর্তন প্রকাশিত হলে পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।
টেক্সাসে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে গাড়ি চাপায় আইসিই এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মাসিক এইচওএ ফি ২৫০০ ডলার, বাড়ি হারানোর শঙ্কায় বাসিন্দারা
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হোমকামিং পার্টিতে গোলাগুলি, আ হত অন্তত ৭ জন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর ভারতীয় বংশোদ্ভূত জ্যাসমিন গিলের (৩০) হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তার স্বামী গুরিন্দর সিং গিলকে গত ১৪ অক্টোবর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই দম্পতির মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানের হেফাজত নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছিল। গুরিন্দর শুরুতে দাবি করেছিলেন যে অভিবাসন কর্মকর্তারা জ্যাসমিনকে তুলে নিয়ে গেছে, তবে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ তার সেই মিথ্যা দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। গত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বিয়ের পর ভারতের লুধিয়ানা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন নার্সিংয়ে স্নাতক জ্যাসমিন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর বাড়ি থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। জ্যাসমিনের মৃত্যুর পর তার আট মাস বয়সী ছেলে জুগাদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফস্টার কেয়ারে (শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রে) রয়েছে। মেয়ের শেষকৃত্য ভারতেই সম্পন্ন করতে তার মৃতদেহ ফেরত আনা এবং একমাত্র নাতির আইনি হেফাজত পেতে জ্যাসমিনের পরিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠি দিয়েছে। সন্তানহারা মা সুখবিন্দর কৌর চরম হতাশা ও শোক প্রকাশ করে বলেন, "আমার মেয়ের পুরো পৃথিবীটাই ছিল ওই ছোট্ট বাচ্চাকে ঘিরে। সে-ই আমার মেয়ের শেষ স্মৃতি। আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে ওর মাঝেই আমার হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে অনুভব করতে চাই।" জ্যাসমিনের পরিবার এখন দুই দেশের সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন তারা দ্রুত তাদের নাতিকে কাছে ফিরে পায় এবং মেয়ের শেষকৃত্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
টেক্সাসে ভাঙা হাতের থেরাপি দিতে গিয়ে ১৪ বছরের ছাত্রীকে যৌ ন নির্যাতন, স্কুল ট্রেনারের ৫ বছরের কারাদণ্ড
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঘানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, নিউইয়র্কে গুলিতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের জ্যাভিটসের