অভিবাসন নীতির শর্তে সরকারি অনুদান বন্ধের চেষ্টা আটকাল আদালত, স্বস্তি পেল ২৩ অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনি বিরোধে নতুন মোড় এসেছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার শর্ত পূরণ না করলে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যকে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা খাতের নির্দিষ্ট সরকারি অনুদান দেওয়া হবে না—এমন শর্ত আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক।
রয়টার্সের ৪ নভেম্বর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল জুনিয়র এ বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষে রায় দেন। ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি কেন্দ্রীয় সরকারের ওই শর্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। নিউ জার্সির নেতৃত্বে এই আইনি লড়াইয়ে অংশ নেয় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য।
বিচারকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নির্দিষ্ট দুটি অনুদান কর্মসূচিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত যেসব শর্ত আরোপ করেছিল, সেগুলো আইনসম্মত নয়। আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে এসব শর্ত কার্যকর করা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিরত রেখেছেন।
বিতর্কের মূল বিষয় ছিল, অঙ্গরাজ্যগুলোকে নির্দিষ্ট ফেডারেল অনুদান পেতে হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এর মধ্যে অঙ্গরাজ্যের হেফাজতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং তাঁদের মুক্তির বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে অবহিত করার মতো শর্তও ছিল।
অঙ্গরাজ্যগুলোর যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের অনুমোদিত অনুদান কর্মসূচিতে বিচার বিভাগ নিজ উদ্যোগে এমন অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করতে পারে না। তাদের দাবি, এ ধরনের শর্ত আরোপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গরাজ্যগুলোকে ফেডারেল অভিবাসন নীতির সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।
নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ডেভেনপোর্ট আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ অর্থকে রাজনৈতিক বা অভিবাসন নীতির শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।
এই অনুদান কর্মসূচিগুলো অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন জননিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করে। এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরঞ্জাম কেনা, মাদক পাচার মোকাবিলা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং শিশু-কিশোরদের বিচারব্যবস্থাসংক্রান্ত কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদানের সঙ্গে অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ওই অনুদানের শর্ত প্রত্যাহার করে প্রশাসন।
এবারের রায় নির্দিষ্ট কিছু ফেডারেল অনুদান কর্মসূচিতে অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত আরোপের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যগুলোর অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এটি আইসিইর অভিযান বা কেন্দ্রীয় সরকারের সব ধরনের অভিবাসন কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞাও নয়। আদালত মূলত নির্দিষ্ট সরকারি অনুদানের সঙ্গে যুক্ত করা শর্তগুলোর বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের জননিরাপত্তা কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় অনুদানের ভূমিকা রয়েছে। তবে এই রায় কোনো ব্যক্তির অভিবাসন মর্যাদা, গ্রিন কার্ড, ভিসা বা নির্বাসনসংক্রান্ত মামলায় সরাসরি পরিবর্তন আনে না।
আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ করা অভিবাসনসংক্রান্ত শর্তের মুখে পড়বে না। অভিবাসন নীতি ও অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিতর্কে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ঘটনা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreপ্রশান্ত মহাসাগরে মাত্র এক ঘণ্টার নৌযাত্রায় বেরিয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছিলেন নয়জন যাত্রী। ঝড়ের কবলে পড়ে পথ হারানোর পর প্রায় তিন মাস সমুদ্রে ভেসে থাকতে হয় তাঁদের। দীর্ঘ এই সময়ে খাবার ও পানির সংকটে চারজনের মৃত্যু হয়। অবশেষে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতির একটি দ্বীপে পৌঁছানোর পর দুই কিশোরসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৩০ জুলাই মাইক্রোনেশিয়ার মুরিলো দ্বীপ থেকে রুও দ্বীপের উদ্দেশে একটি ছোট নৌকায় যাত্রা শুরু করেছিলেন নয়জন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে মাত্র এক ঘণ্টা। কিন্তু যাত্রাপথে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্রোত ও বাতাসের টানে গভীর সমুদ্রে ভেসে যেতে থাকে সেটি। নৌকাটি নিখোঁজ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গুয়ামভিত্তিক মার্কিন কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, টানা ১০ দিন প্রায় ৮৫ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। কিন্তু নৌকা কিংবা যাত্রীদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে গভীর সমুদ্রে দিনের পর দিন বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন নিখোঁজ যাত্রীরা। মাইক্রোনেশিয়ার একজন কর্মকর্তা আর্থার আয়রনস দ্বিতীয় নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, সমুদ্রে ভেসে থাকার সময় যাত্রীরা দূরে কয়েকটি জাহাজ ও উড়োজাহাজ দেখতে পেয়েছিলেন। সাহায্যের আশায় তাঁরা হাত নেড়ে সংকেতও দিয়েছিলেন। কিন্তু দূরত্ব বেশি হওয়ায় তাঁদের বিপদ কারও নজরে আসেনি। দীর্ঘদিন সমুদ্রে ভেসে থাকার কারণে যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে তাঁরা মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েন। এই দুর্বিষহ যাত্রায় এক শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়। বাকি পাঁচজন কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রায় ১০০ দিন পর অবশেষে দূরে একটি দ্বীপ দেখতে পান জীবিত যাত্রীরা। একপর্যায়ে তাঁদের ছোট নৌকাটি কিরিবাতির ফ্যানিং দ্বীপের উপকূলে গিয়ে আটকে যায়। গত সপ্তাহে স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকাটি দেখতে পান এবং পাঁচজনকে নিরাপদে নিয়ে আসেন। উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুই কিশোর রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপে পৌঁছানোর পর গির্জার ঘণ্টাধ্বনি অনুসরণ করে তাঁরা জনবসতির দিকে এগিয়ে যান। দীর্ঘদিনের অনাহার ও শারীরিক দুর্বলতায় তাঁদের হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছিল। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের টলমল করে হাঁটতে দেখে মদ্যপ বলে মনে করেছিলেন। পরে প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে দ্রুত সহায়তায় এগিয়ে আসেন। উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। স্থানীয় নার্সিং কর্মকর্তা পাউকিন তোরোরো অস্ট্রেলিয়ার এবিসিকে জানান, তাঁদের প্রত্যেকেই মারাত্মক পানিশূন্যতা ও অপুষ্টিতে ভুগছিলেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁদের শরীরে শিরাপথে তরল দেওয়া হয়। চিকিৎসা শুরুর পর ধীরে ধীরে তাঁদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তাঁরা হাসতে পারছেন এবং খাবার খাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করছেন। কিরিবাতির আইনপ্রণেতা কাওতিতাকে রাকোরোয়া জানিয়েছেন, দ্বীপটির একজন ধর্মযাজকের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেখাশোনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে মাইক্রোনেশিয়ার চুক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর আলেকজান্ডার নারুহন জানিয়েছেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া পাঁচজনকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে কিরিবাতি সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন কোস্ট গার্ডও পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে অবিশ্বাস্য ও আনন্দের সংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে প্রাণ হারানো চারজনের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সংস্থাটি। মাত্র এক ঘণ্টার একটি সাধারণ নৌযাত্রা এভাবে প্রায় তিন মাসের জীবনমরণ সংগ্রামে পরিণত হওয়ার ঘটনা প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলে নৌযাতায়াতের ঝুঁকিকে নতুন করে সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর পাঁচজনের জীবিত ফিরে আসা স্বজনদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও তাঁদের চার সহযাত্রীর মৃত্যু এই উদ্ধার অভিযানের আনন্দকে শোকের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছে।
এইচএসসিতে জিপিএ-৫ না পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ১২ কোটি টাকার স্কলারশিপ পেলেন নাবিল
অভিবাসন নীতির শর্তে সরকারি অনুদান বন্ধের চেষ্টা আটকাল আদালত, স্বস্তি পেল ২৩ অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে আরও এক মৃত্যু, সাধারণ মানুষের ঝুঁকি কম বলছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখে পৌঁছেছে। মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় জমে থাকা আবেদনের এই বিশাল সংখ্যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নিউজউইকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনের জটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন কার্ডের আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেক অভিবাসীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আবেদনকারীর ক্যাটাগরি, ভিসার প্রাপ্যতা, প্রয়োজনীয় যাচাই এবং মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাজের চাপের ওপর নির্ভর করে অপেক্ষার সময়। ফলে একই সময়ে আবেদন করেও সবাই সমান দ্রুত সিদ্ধান্ত পান না। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। সংস্থাটি পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে, চাকরির মাধ্যমে এবং অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে জমা পড়া বিভিন্ন ধরনের স্থায়ী বসবাসের আবেদন পর্যালোচনা করে। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তথ্যের গুরুত্ব হলো, এর মাধ্যমে দেশের কোন অঞ্চলে কত বেশি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তা বোঝা যায়। তবে কোনো অঙ্গরাজ্যে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে প্রত্যেক আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড পেতে অন্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি সময় লাগবে। আবেদন কোন ক্যাটাগরিতে জমা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কেসের অবস্থা কী, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী পরিবারগুলোর অনেকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে তাঁদের চাকরি, বিদেশ ভ্রমণ, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ বসবাসসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি বিষয় আলাদা করে বিবেচনা করতে হয়। একটি হলো আবেদনকারীর অভিবাসন ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে কি না। অন্যটি হলো আবেদনটি ইউএসসিআইএসের পর্যালোচনার কোন পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মাসিক ভিসা বুলেটিনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসার প্রাপ্যতা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা হয়। যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদন করেন, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রে ফর্ম আই-৪৮৫ ব্যবহার করা হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োমেট্রিকস, অতিরিক্ত ডকুমেন্ট জমা দেওয়া কিংবা ইন্টারভিউয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হতে পারে। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় না। গ্রিন কার্ডের আবেদন অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় অনেক আবেদনকারী যোগ্যতা অনুযায়ী ওয়ার্ক পারমিট এবং অ্যাডভান্স প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এসব সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর বর্তমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এদিকে প্রায় ১৫ লাখ অপেক্ষমাণ আবেদনের তথ্য মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে এই সংখ্যা সব ধরনের গ্রিন কার্ড আবেদন, বিদেশে অপেক্ষমাণ সব অভিবাসী কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ইমিগ্রেশন ব্যাকলগের সমান নয়। কোন ধরনের আবেদন এবং কোন সময়ের হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে, তার ওপর পরিসংখ্যানের পরিধি নির্ভর করে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ হলো, আবেদনকারীদের নিয়মিত নিজেদের কেস স্ট্যাটাস পর্যবেক্ষণ করা, ইউএসসিআইএসের পাঠানো নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়া এবং ঠিকানা পরিবর্তন হলে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করা। দীর্ঘদিন আবেদন অপেক্ষমাণ থাকলে নির্ধারিত প্রসেসিং টাইম অনুযায়ী কেস ইনকোয়ারি করার সুযোগও থাকতে পারে। গ্রিন কার্ডের অপেক্ষমাণ আবেদনের এই চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার স্থায়ী বসবাসের অনুমতির ওপর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ভর করে রেখেছে, তাদের জন্য আবেদন নিষ্পত্তির সময় ও ভিসার প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাড়ির প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র না থাকলে ভাড়া আদায়ে বাধার মুখে পড়তে পারেন বাড়িওয়ালারা
এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর নীতিতে ক্ষুব্ধ ভারতীয় আমেরিকানরা, কমছে রিপাবলিকান সমর্থন
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে জিপ কিনতে গিয়ে জাল চেকে গ্রেপ্তার নারী, জামিন করাতে এসে ধরা সঙ্গিনীও
যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসী পরিবারে বেড়ে ওঠা এক নারীর ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শৈশব থেকেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক জীবনযাপনের মধ্যে বড় হয়েছেন অ্যাঞ্জেলা মুরি। কিন্তু নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন দ্বিধায় ছিলেন তিনি। বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে পড়াশোনা এবং পবিত্র কোরআন অধ্যয়নের পর ইসলামের মধ্যে নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে গভীর মিল খুঁজে পান। সেই উপলব্ধি থেকেই তাঁর মন্তব্য, ‘সারা জীবন মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না।’ ইসলামবিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট অ্যাবাউট ইসলাম গত ১৫ অক্টোবর অ্যাঞ্জেলার ধর্মান্তরিত হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে এটি নতুন কোনো ধর্মান্তরের ঘটনা নয়। ২০১৭ সালের মার্চেও প্রতিষ্ঠানটি তাঁর ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছিল। সেখানে অ্যাঞ্জেলা নিজের শৈশব, ধর্মীয় অনুসন্ধান এবং ইসলাম গ্রহণের দীর্ঘ যাত্রার কথা তুলে ধরেন। অ্যাঞ্জেলা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নেটিভ আমেরিকান রিজার্ভেশন বা আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকায় তাঁর শৈশব কেটেছে। পরিবারের সদস্যরা ছিলেন গভীরভাবে আধ্যাত্মিক। বিশেষ করে দাদা-দাদির কাছ থেকে ছোটবেলা থেকেই সৃষ্টিকর্তা, প্রার্থনা এবং মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে নানা শিক্ষা পেয়েছিলেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপই যেন প্রার্থনার অংশ হয়। এই শিক্ষা তাঁর চিন্তাভাবনা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করেছিল। কিন্তু মাত্র ১০ বছর বয়সে তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। অ্যাঞ্জেলার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকেসহ আদিবাসী সম্প্রদায়ের কয়েকজন শিশুকে একটি ক্যাথলিক আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে দুই বছর পড়াশোনা করেন তিনি। তবে বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষা ও আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিজের বিশ্বাসের মিল খুঁজে পাননি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যরা তাঁর ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারতেন না। কারণ নিজের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় পরিচয় তখনো খুঁজে পাননি। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন অ্যাঞ্জেলা। একসময় একজন মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সেই ব্যক্তির বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুশীলনের কথা শুনে তিনি অবাক হন। কারণ তাঁর নিজের পরিবারের আধ্যাত্মিক জীবনযাপনের সঙ্গে ইসলামের কিছু শিক্ষার মিল খুঁজে পান। এরপর ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াশোনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে ইসলামের একত্ববাদ ও প্রার্থনার ধারণা তাঁর কাছে অর্থবহ হয়ে ওঠে। অ্যাঞ্জেলা জানান, একদিন একটি মুদি দোকানে পুরোনো বই বিক্রির একটি ঝুড়ি দেখতে পান। সেখানকার বই বিক্রির অর্থ দাতব্য কাজে ব্যবহার করা হতো। বইয়ের স্তূপে ইসলামবিষয়ক কয়েকটি বই দেখে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। সবগুলো বই কিনে বাড়িতে নিয়ে যান এবং পড়তে শুরু করেন। পরে পবিত্র কোরআন অধ্যয়নের সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমদিকে কিছু বিষয়ে তাঁর পূর্ববর্তী বিশ্বাসের সঙ্গে পার্থক্য মনে হলেও পড়াশোনা চালিয়ে যান। একসময় উপলব্ধি করেন, ইসলামের অনেক শিক্ষা তাঁর দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে অ্যাঞ্জেলা বলেন, কোরআন পড়ার সময় তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি যেন সারা জীবন ধরেই এসব বিশ্বাস ও অনুশীলনের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, অথচ আগে তা বুঝতে পারেননি। এই অনুভূতি তাঁকে ইসলামের প্রতি আরও আকৃষ্ট করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর কাছে ধর্মান্তরের এই সিদ্ধান্ত ছিল নিজের বিশ্বাস ও আত্মিক পরিচয়ের সন্ধান পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অ্যাঞ্জেলার এই অভিজ্ঞতা প্রথম প্রকাশিত হওয়ার বহু বছর পর আবারও আলোচনায় এসেছে। ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সংবাদপত্র কালের কণ্ঠও তাঁর ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত অনুসন্ধান ও দাদা-দাদির আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রভাব তুলে ধরা হয়। সংবাদসূত্র: অ্যাবাউট ইসলাম ।
মহাকাশে ৫০ হাজার আয়না বসিয়ে রাতে সূর্যের আলো বিক্রির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা
অভিবাসন নীতি ও দ্রব্যমূল্যের চাপে বদলে গেল লাতিনো ভোট, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বড় প্রভাব